One Nation One Election: ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা! ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবের পক্ষে যৌথ সংসদীয় কমিটি

one nation one election india could save rs 7 lakh crore says jpc chief

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন চালু হলে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। এর ফলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে দাবি করলেন যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরী। সম্প্রতি, গান্ধীনগরে গুজরাট সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) প্রস্তাবের পক্ষে এই বক্তব্য রাখেন। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সমকালীন আয়োজন নিয়ে গঠিত ৪১ সদস্যের সংসদীয় কমিটি বর্তমানে সংবিধানের ১২৯তম সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল খতিয়ে দেখছে। গুজরাট সফরের তৃতীয় দিনে কমিটির সদস্যরা মুখ্যসচিব এম কে দাস, বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি

বৈঠকের পর পিপি চৌধুরী জানান, গুজরাট সরকার এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মতামত দিয়েছে, যা আগে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছি, যা ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলির জন্যও আদর্শ মডেল হতে পারে।” চৌধুরীর মতে, ওই রিপোর্টে শিল্প, শ্রমিকদের স্থানান্তর, কর্মসংস্থান, জিএসটি সংগ্রহ, পর্যটন, শিক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির উপর একসঙ্গে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতিবিদদের মতে, একযোগে নির্বাচন হলে দেশের জিডিপি ১.৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সেই অর্থ পরিকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্রকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।”

নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে জেপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “নির্বাচনী সংস্কার দেশের উপকারে আসা উচিত— এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য। সেই কারণেই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিও একসঙ্গে নির্বাচন করার সুপারিশ করেছে।” তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক কাঠামো বা ফেডারেল ব্যবস্থার উপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেই মত দিয়েছেন দেশের ছয়জন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। চৌধুরীর কথায়, “তাঁরা জানিয়েছেন, এতে মৌলিক অধিকার, ফেডারেল স্ট্রাকচার বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কোনও লঙ্ঘন হবে না।”

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন

চৌধুরী আরও জানান, কোবিন্দ কমিটির প্রায় ১৮ হাজার পাতার রিপোর্ট সরকার গ্রহণ করেছে। ওই রিপোর্টে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বারবার নির্বাচনের চক্র কমলে সরকার উন্নয়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক কাজে আরও বেশি সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে পারবে।” এর আগে আমেদাবাদে পৌঁছে তিনি বলেন, আইন কমিশন, নীতি আয়োগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। এই বিষয়ে মতামত সংগ্রহের জন্য জেপিসি ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও কর্নাটক সফর করেছে। চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সব পক্ষের মতামত শোনা এবং সর্বসম্মত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা।”

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share