Tag: PM Narendra Modi

PM Narendra Modi

  • Bangladesh Election: একসঙ্গে কাজ করার কৌশলী বার্তা! বাংলাদেশে বিপুল জয়ের জন্য তারেককে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Bangladesh Election: একসঙ্গে কাজ করার কৌশলী বার্তা! বাংলাদেশে বিপুল জয়ের জন্য তারেককে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথা মেনেই প্রতিবেশী দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে (Bangladesh Election) বড় ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছে বিএনপি। গণনায় এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই বিভিন্ন দেশ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছোচ্ছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে প্রথমে ইংরেজি এবং পরে বাংলায় একটি পোস্ট করে তারেককে ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আবার একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দিয়েছেন মোদি। দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) ও তার মিত্ররা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ইতিমধ্যেই ২১১টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Two-thirds Majority) নিশ্চিত করেছে।

    অভিনন্দন বার্তায় কী লিখলেন মোদি

    শুক্রবার সকালে সমাজ মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি-র নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্বে দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।” ভারত-বাংলাদেশ বহুমুখী সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে তারেককে একসঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, “আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য এবং অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।” একই সঙ্গে মোদি লেখেন, “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে ভারত তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।” ‘ঐতিহাসিক বিজয়ে’র জন্য তারেককে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। শুক্রবার সকালে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।”

    কৌশলী পদক্ষেপ মোদির

    ২০২৪ সালে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর থেকেই আওয়ামি লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে ‘রাজনৈতিক আশ্রয়ে’ রয়েছেন। গণহত্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন আদালত। বারবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি করলেও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি একেবারে নিশ্চুপ। এমনকী বাংলাদেশে নির্বাচনী আবহেও দিল্লি থেকে নানা রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন হাসিনা। এসবের পর নির্বাচনে বিএনপি-র জয়ের আভাস পেয়েই মোদির বার্তা কৌশলী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

    নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি-র

    প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৯৯টি আসনের সংসদে জাদুসংখ্যা পেরিয়েছে খালেদা জিয়ার দল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। আর বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন তারেক। সংসদে বিরোধী দলের আসনে জামাত-ই-ইসলামি। শুক্রবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশন এই ফল ঘোষণা করেন।নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবারের ভোটে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

    বিপুল ভোটে জয়ী তারেক

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে বৃহস্পতিবার। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য কোনও দল বা জোটকে ১৫১টি আসনে জিততে হতো। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান দু’টি আসনেই (ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬) জয়ী হয়েছেন। ৭৭ হাজার ভোটে বগুড়া-৬ আসনে বিপুল জয় খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯১৩ ভোট। এই আসনে তারেকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মহম্মদ আবিদুর রহমান। ইতিমধ্যেই বিএনপি-র তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে ‘বিপুল সংখ্যক আসনে’ নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। শুক্রবার প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে, দেশবাসীর প্রতি শুভকামনায় বিএনপি-র তরফে বিভিন্ন মজসিদে প্রার্থনা করা হবে। তাদের তরফে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি-র তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা জয় উপলক্ষে কোনও বিজয়মিছিল বা সভা করছে না।

    ভারত-বিরোধিতা কাজে এল না

    লাগাতার ভারত-বিরোধিতা অস্ত্র কাজে এল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি, বিরোধী মন্তব্যের পরও বাংলাদেশ ভোটে জিততে পারলেন না ছাত্রনেতা সারজিশ আলম। নিজের কেন্দ্র পঞ্চগড়-১ আসনে গোহারা হারলেন তিনি। এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। এবারের ভোটে জামাতের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করেছে জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্রদের দল এনসিপি। তাঁদের প্রার্থীরা মোটের উপর ভালো ফল করলেও সারজিশের হারে প্রমাণ, তাঁর আগাগোড়া ভারত বিরোধী মনোভাব অন্তত জনসমর্থন টানতে পারেনি।

    গণভোটের গণনা

    দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সারা দেশ থেকে আসা বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, দলটি ইতিমধ্যেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে চলছে গণভোটের গণনা। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা’র (বাসস) খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৮ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৭টি এবং না ভোট পড়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৬টি। এ বারই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা না হলেও সংসদ নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতা আসতে চলেছে বিএনপি। এ বার গণভোটের যে ইঙ্গিত মিলছে তাতে স্পষ্ট, হ্যাঁ ভোট এগিয়ে অনেকটাই।

  • PM Modi: এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটের প্রাক্কালে মরিশাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা মোদির

    PM Modi: এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটের প্রাক্কালে মরিশাসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে হতে চলেছে এআই-ইমপ্যাক্ট (AI Impact) সামিট। তার আগে সোমবার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলাম। ভারত ও মরিশাসের মধ্যে যে উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের যৌথ অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী রামগুলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘ভিশন মহাসাগর’ (Vision MAHASAGAR), ভারতের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতি অভিন্ন দায়বদ্ধতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মরিশাসের উন্নয়ন অগ্রাধিকারে ভারতের অব্যাহত সমর্থনের কথা ফের তুলে ধরেন।

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা (PM Modi)

    দুই নেতা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বারাণসীতে তাঁদের সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। আলোচনায় উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় দেশবাসীর কল্যাণে ভারত–মরিশাসের উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার বিষয়ে তাঁরা তাঁদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যৌথ লক্ষ্য অর্জনে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দুই নেতা একমত হন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে প্রধানমন্ত্রী রামগুলামকে স্বাগত জানাতে তিনি আগ্রহী। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এই গঠনমূলক আলোচনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারত–মরিশাস সহযোগিতা আরও গভীর করার আশা রাখছি আমি। রামগুলাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে ভারতের প্রতি মরিশাসের সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন (PM Modi)।”

    মোদিকে ধন্যবাদ রামগুলামের

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই গঠনমূলক আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ। উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করতে মরিশাস ও ভারত এক সঙ্গে রয়েছে (AI Impact)। আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠিত এআই-ইমপ্যাক্ট সামিটে এই সহযোগিতা আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” উল্লেখ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভারত সরকার মরিশাসকে ৬৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি বিস্তৃত বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ দেয় এবং একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রসঙ্গত, ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এআই-ইমপ্যাক্ট সামিট আয়োজন করতে চলেছে ভারত। এটি হবে গ্লোবাল সাউথে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন। পাঁচদিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্প ও জনসম্পৃক্ততা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সম্মেলনটি তিনটি মৌলিক স্তম্ভ বা ‘সূত্রে’র ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে – মানুষ (People), পৃথিবী (Planet) ও অগ্রগতি (Progress)। এই সম্মেলনে বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক (AI Impact) ও বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে শাসনব্যবস্থা, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন (PM Modi)।

     

  • India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    India-EU Trade Deal: এক বার্তায় ২৭ দেশের সঙ্গে সংযোগ প্রধানমন্ত্রীর! সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে নিজের ভাষণ ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভবিষ্যতে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের অভিমুখ যে অনেকাংশে ইউরোপের দিকে ঘুরে যেতে পারে, সেই আভাস মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পর এক ব্রিটিশ সংবাদপত্র নরেন্দ্র মোদিকে আখ্যা দিয়েছিল “ভারতের প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে। বারো বছর পর, সেই তকমার যথার্থতা আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সোশ্যাল মিডিয়াকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

    ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি একটিমাত্র বার্তা পোস্ট করেন—কিন্তু সেটি ছিল ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে “বহুভাষিক মাস্টারস্ট্রোক” বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তিকে নিছক অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রূপ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের বাণিজ্য কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ ঘনিষ্ঠতা

    এই চুক্তি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য নীতিতে বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল। ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিতে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্প প্রশাসনের রোষানলে পড়েছে। ট্রাম্পের কৌশল—শুল্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার—বিশ্বের বহু মিত্র দেশকেই প্রভাবিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-ইইউ চুক্তিকে অনেকেই “মাদার অব অল ডিলস” বলে উল্লেখ করছেন।

    আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি

    ব্রিটেনের সঙ্গে আগেই মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে ভারত। দু’দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট)-এর সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। মোদীর কথায়, ভবিষ্যতের পথ কতটা উজ্জ্বল, তারই একটি ঝলক হল ইউরোপের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তি। তিনি বলেন, “এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভারতের চুক্তি। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ প্রজন্মের চুক্তি। আত্মনির্ভর ভারতের চুক্তি।” ইউরোপীয় জোটের সঙ্গে এই চুক্তিকে আগেও ‘সব চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি। বৃহস্পতিবার ফের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে। এখন খুব সস্তায় ভারতীয় পণ্য ইউরোপীয় দেশগুলিতে পৌঁছে যাবে বলেও দেশবাসীকে জানান তিনি।

    ২৭টি দেশের ক্রেতাদের মন জয়

    ইউরোপীয় বাজার যে ভারত একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখতে চাইছে, তা-ও স্পষ্ট মোদীর কথায়। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নির্মাতা এবং উদ্যোগপতিদের উদ্দেশে মোদী পরামর্শ দেন, অনেক বড় বাজার খুলে গিয়েছে, সেখানে সস্তায় পণ্য রফতানি করা যাবে— এই ভেবে বসে থাকলে চলবে না। সেরা মানের পণ্য রফতানির উপরে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “সেরা মানের পণ্যের উপরে জোর দেওয়ার এটাই সুযোগ। সেরার সেরা মানের পণ্য নিয়ে বাজারে আসুন। তা হলে আমরা ইউরোপের ২৭টি দেশের ক্রেতাদের থেকে শুধু টাকাই আয় করব না, গুণমানের জন্য তাদের মনও জয় করতে পারব। কয়েক দশক ধরে যার প্রভাব থাকবে।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বহুভাষিক বার্তা

    চুক্তি ঘোষণার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি ইংরেজিতে লেখেন— “আজ ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উপসংহার আমাদের সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপের সব নেতাদের তাঁদের গঠনমূলক মনোভাব ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই চুক্তি অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, আমাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং এক সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে ভারত-ইউরোপ অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।” এরপর একই বার্তা তিনি ফরাসি, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ানসহ ইইউ-এর ২৪টি সরকারি ভাষায় পোস্ট করেন। এর জবাবে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতিসহ একাধিক ইউরোপীয় নেতা হিন্দিতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন।

    মানবিক ও ব্যক্তিগত কূটনীতি

    ইউরোপীয় কমিশনের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ক্রিস্টিনা ভ্যানবার্গেন এই উদ্যোগকে “২৭টি দেশের প্রতি একসঙ্গে সৌজন্যমূলক শ্রদ্ধা” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রতিটি দেশের ভাষায় কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদি একটি বাণিজ্য চুক্তিকে সাংস্কৃতিক করমর্দনে রূপান্তর করেছেন। এই এফটিএ কাগজপত্রের চুক্তি নয়—এটি মানবিক ও ব্যক্তিগত। একবিংশ শতাব্দীর কূটনীতি ঠিক এভাবেই হওয়া উচিত।” ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মারিওস কারাতজিয়াস একে “ডিজিটাল যুগের সেরা জনকূটনীতি” হিসেবে আখ্যা দেন।

    ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির মূল দিক

    দুই দশক ধরে আলোচনার পর সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে, তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।

    • ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের শ্রমনির্ভর পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্য করবে
    • ভারতের ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর ইইউ শুল্ক প্রত্যাহার করবে
    • ইউরোপের ৯৬ শতাংশ রফতানিপণ্যের ওপর ভারতের শুল্ক কমানো বা তুলে নেওয়া হবে
    • ভারতের অটোমোবাইল বাজার ইউরোপীয় গাড়ির জন্য খুলে দেওয়া হবে
    • গাড়ির ওপর শুল্ক প্রথমে ৩০–৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, পরে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে নামবে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপ—উভয়ের জন্যই লাভজনক। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষাভিত্তিক, লক্ষ্যভিত্তিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। মা সারদার জন্মভিটেয় পৌঁছল রেলের চাকা। জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু আজ, ১৯ জানুয়ারি থেকে বাঁকুড়া ও জয়রামবাটীর মধ্যে আপ ও ডাউন একবার করে চলবে। ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বাঁকুড়া পৌঁছনোর কথা।

    জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ

    মা সারদার পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতিক্ষিত রেলের চাকা। জীবদ্দশায় মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে ছিল রেলপথ নির্মাণের কাজ। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপরে জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরীর কাজ।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ট্রেন চলাচলের সূচনা

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে এসে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মা এর গাঁ হিসেবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে আপাতত একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেল লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও যথেষ্ট বিকাশ ঘটবে। জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরা। ছিলেন জয়রামবাটি-সহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ। বহু গুণীজন ও মা সারদার ভক্তরা স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরী সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে।

  • German Chancellor Visit India: ভারত সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে উঠবে কোন কোন বিষয়?

    German Chancellor Visit India: ভারত সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে উঠবে কোন কোন বিষয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ (German Chancellor Visit India)। বার্লিনের মসনদে বসার পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। দু’দিনের ভারত সফরে ১২ জানুয়ারি আমেদাবাদে পা রাখবেন তিনি। সেখানেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তির পাশাপাশি আলোচনা হবে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে মার্জের এই সফর। তিনি বেঙ্গালুরুতেও যাবেন ।

    আমেদাবাদে স্বাগত

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, জার্মান চ্যান্সেলরের (German Chancellor Visit India) এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। শুধু তাই নয়, একে অপরকে সাহায্যের জন্য দু’দেশের যে অভিন্ন অঙ্গীকার তা-ও আরও দৃঢ় হবে। ভারত-জার্মানির দূরদর্শী অংশীদারিত্ব বৃহত্তর আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিদেশমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ১২ জানুয়ারি জার্মান চ্যান্সেলরকে আমেদাবাদে স্বাগত জানাবেন মোদি। সফরের অংশ হিসেবে দুই নেতা সবরমতি আশ্রম পরিদর্শন করবেন এবং সবরমতি রিভারফ্রন্টে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেবেন। এরপর গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রেডরিখের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে? সূত্রের খবর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে আলোকপাত করা হবে বৈঠকে। এছড়াও নিরাপত্তা, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন মোদি-ফ্রেডরিখ। অন্যদিকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে যে পূর্ব চুক্তিগুলি হয়েছে, সেগুলির অগ্রগতিও এই বৈঠকে পরিমাপ করা হবে বলে সরকারি সূত্রের খবর।

    প্রতিরক্ষা সহায়তা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এই চুক্তিকে ভারতের সামরিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জার্মানির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করাকে উভয় দেশই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। চ্যান্সেলর মার্জের এই সফর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক জোরদার করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেও মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও যৌথ আগ্রহের প্রতিফলন।

    ভারতের বাজারে নজর

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জার্মানি ভারতের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে জার্মান বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারতের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উভয় দেশই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    ভারত সফর বিশেষ অর্থবহ

    সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি চলাকালীন, দুই দেশের সরকারই আশাবাদী যে এই বৈঠকের ফলাফল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এই সফর আধুনিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত–জার্মানি সম্পর্কের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে আসার কথা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। তার আগে জার্মান চ্যান্সেলরের ভারত সফর বিশেষ অর্থবহ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

  • PM Narendra Modi: ১৭, ১৮ জানুয়ারি ফের রাজ্যে আসছেন মোদি, মালদা-হাওড়ায় করবেন জোড়া জনসভা

    PM Narendra Modi: ১৭, ১৮ জানুয়ারি ফের রাজ্যে আসছেন মোদি, মালদা-হাওড়ায় করবেন জোড়া জনসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর আবহে শুনানি পর্ব চলছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন তাই রাজনৈতিক প্রচারে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতেই ২ দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এই সময়ে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে (Malda-Howrah) জোড়া সফর করবেন মোদি। আগামী ১৭ জানুয়ারি উত্তর মালদায় সভা করবেন।  পরের দিন, ১৮ জানুয়ারি দক্ষিণবঙ্গের হাওড়ায় সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিধানসভার আগে মোদির সভাকে ঘিরে বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ এবং উন্মাদনা।

    ভোট ব্যাঙ্ক হারাতে বসেছে তৃণমূল (PM Narendra Modi)

    গত ১০ ডিসেম্বর নদিয়ার তাহেরপুরে সভার জন্য বাংলায় এসেছিলেন মোদি। দৃশ্যমানতা কম থাকায় তাঁর হেলিকাপ্টার তাহেরপুরে নামতে পারেনি। হেলিকাপ্টার ফিরে আসে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকেই ভারচুয়ালি বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। এই রাজ্যেও পরিবর্তনের ডাক দেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও বাংলায় ভোটের পারদ ব্যাপক ভাবে চড়ছে। যদিও শাসক দল এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকার বারবার নিশানা করেছে। অপর দিকে বিজপির দাবি, রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া হচ্ছে। তৃণমূল তাদের ভোট ব্যাঙ্ক হারাতে বসেছে তাই এতো ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    লক্ষ্য মাত্রা ২০০-২২০ আসন

    গত ২৯ ডিসেম্বর রাজ্যে এসেছিলেন মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বিজেপি কর্মী সমর্থক এবং নেতাদের স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, এবার ক্ষমতায় বিজেপি আসছে। মোট আসনের দুই তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। বাংলায় পরিবর্তন সুনিশ্চিত। বিজেপির নেতাদের লক্ষ্য মাত্রা দিয়েছেন ২০০ আসনের। একই ভাবে শুক্রবার মালদার চাঁচলে সভা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “রাজ্যের সনাতনীরা এক জোট হলে ২২০টি আসন পাবে বিজেপি। হিন্দু সমাজকে বাঁচতে এবং বাঁচাতে বিজেপিই একমাত্র সম্বল।”

    ইতিমধ্যে অপারেশন সিঁদুরের পর বঙ্গ সফরে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, দমদম এবং কৃষ্ণনগরে (ভার্চুয়াল) সভা করেছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জমে থাকা জনরোষকে বিজেপি কতটা ভোট বাক্সে প্রতিফলিত করতে পারে তাই এখন দেখার।

  • PM Narendra Modi: “দক্ষ সংগঠক নবীন”, বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    PM Narendra Modi: “দক্ষ সংগঠক নবীন”, বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির নাম ঘোষণা করল বিজেপির সংসদীয় বোর্ড। দলের নতুন সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Working President Nitin Nabin)। তিনি বিহারের এনডিএ জোটের বিজেপি বিধায়ক। একই ভাবে তিনি বিহার সরকারের মন্ত্রী সভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। দিল্লির সদর দফতর থেকে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে বিহারের একনিষ্ঠ কর্মী নিতিন নবীন। এরপর তাঁকে সামাজিক মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)।

    ভালো কাজের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন (PM Narendra Modi)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) দলের তরফ থেকে একটি পোস্ট করে বলেন, “নিতিন নবীন একজন পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তিনি সাংগঠনিক ভাবে অনেক দক্ষ। বিহারে একাধিকবার বিধায়ক হিসবে নির্বাচিত হয়েছেন। দলের বিধায়ক হিসেবে ভালো কাজের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। নিতিনের বিনয়ী স্বভাব, মানুষের সঙ্গে মেলা মেশার ক্ষমতা এবং জনসংযোগের কাজে বিরাট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি তাঁর উদ্যম এবং নিষ্ঠা আগামী দিনে আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিতিন জি (Working President Nitin Nabin) দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    বাংলাকেও জয় করব

    বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি হিসেবে এতোদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডা। নবীন (Working President Nitin Nabin) বিহারের নির্বাচনে বাঁকিপুর আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। আরজেডি রেখা কুমারীকে ৫১ হাজার ভোটে পরাজিত করেছেন। তিনি দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন কার্যনির্বাহী সভাপতি হওয়াদের মধ্যে। বছর ঘুরলেই ২০২৬ সালের বঙ্গ নির্বাচন। নতুন দায়িত্ব পেয়েই বাংলা মিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন নিতিন নবীন। তিনি বলেন, “অগ্রাধিকার হল দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করা। একটি সর্বব্যাপী নেতৃত্ব যেমনটি কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের রাজ্যে আস্থা রেখেছেন। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কারণেই আজ আমি এখানে এসেছি। আমরা বসে সব কিছুকে ঠিক করব। সংগঠনের নিচ থেকে উওর পর্যন্ত এতটাই শক্তিশালী যে আমরা এবার বাংলাকেও জয় করব।”

  • PM Narendra Modi: “নাটক অন্য জায়াগায় করুন”, শীতকালীন অধিবেশনের আগে বিরোধীদের তোপ মোদির

    PM Narendra Modi: “নাটক অন্য জায়াগায় করুন”, শীতকালীন অধিবেশনের আগে বিরোধীদের তোপ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার, ১ ডিসেম্বর সংসদে (Parliament) শীতকালীন অধিবেশন বসেছে। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদে এবারের দৃষ্টিকোণ ঠিক করে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সংসদ ভবনের সামনে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সহ বিরোধীদের তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi) বলেন, “পরাজয়ের হতাশা থেকে উর্ধে উঠে সকলকে দেশের কাজের জন্য দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করতে হবে। অযথা বিশৃঙ্খলা করে নিজেদের পরাজয়কে আরও একবার প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। হারের হতাশাকে কোনও ভাবেই সংসদে টেনে আনবেন না। সরকারের নীতিকে বাস্তবায়নে সকলকে মনোযোগী হতে হবে।”

    দেশ দ্রুত অগ্রগতির পথে (PM Narendra Modi) 

    ১৮ তম লোকসভার ষষ্ঠ অধিবেশন এবং ২৬৯ তম রাজ্যসভার অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের একটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) বলেন, “সংসদে শীতকালীন অধিবেশন শুরু হলে তা যেন কোনও ভাবেই নাটকে পরিণত না হয়। নাটক করার অন্য অনেক জায়গা রয়েছে, সেখানে করুন। সংসদে এই রকম আচরণ চলবে না। সংসদের কাজকর্ম অবশ্যই যেন গঠনমূলক ফলাফল কেন্দ্রিক ও বিতর্কমূলক হয়। সংসদের অধিবেশন কেবলমাত্র কোনও আচার অনুষ্ঠান নয়। আলাপ, আলোচনা এবং দেশকে দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলকে একযোগে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আর তা সম্ভব হলেই আমাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি হবে। সাংসদদের আচরণ এমন হতে হবে যাতে দেশের জন্য কী করতে চান তা যেন স্পষ্ট হয়। গোটা বিশ্ব আমাদের দেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনীতির প্রভাবকে খুব কাছ থেকে দেখছে। বিহারের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন এবং ফলাফল আমাদের দেশের শক্তিশালী গণতন্ত্রকেই প্রতিফলিত করেছে। মা ও বোনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নতুন আশার সঞ্চার করেছে।”

    নতুন সাংসদদের অনুপ্রেরণা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিরোধীদের হারকে সমালোচনা করে বলেন, “পরাজয়ের পর থেকেই অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এখনও কৃতকর্মের ফলে পরাজয়কে হজম করতে পারছেন না। তাই পরাজয়কে হাতিয়ার করে অধিবেশন (Parliament) পর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। একই ভাবে নির্বাচনের বিজয়কেও অহংকার ভাবে দেখা উচিত নয়। ফলে সকল হতাশা থেকে বেড়িয়ে এসে কাজ করার জন্য সাংসদদের আহ্বান জানাই। যারা অল্প বয়সী সাংসদ তাদের বলার সুযোগ দিতে হবে। নতুন সাংসদদের বলাবার জন্য অনুপ্রেরণা দিতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার জন্য গোটা দেশের বহু ফাঁকা জায়গা রয়েছে, সেখানে গিয়েও দিতে পারেন। কিন্তু সংসদ একটি বিশেষ কাজের ক্ষেত্র এটা ড্রামা করার জায়গা নয়, এখানে শুধু ডেলিভারি করতে হবে। আমি গতকাল এক নেতার ভাষণ শুনলাম, তিনি নির্বাচনী পরাজয়ে ব্যাপক ভাবে হতাশাগ্রস্থ। নির্বাচনে জয় পরাজয় আছে, তবে দেশের কাজের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাই শীতকালের অধিবেশনকে যেন হারের শোক বা জয়ের উল্লাসে পরিণত না হয়, সেটাও ভালো করে ভাবতে হবে। সকল সাংসদকে দেশের জন্য কি করতে পারি আর কি করতে পেরেছি সেই কথাই যেন বলতে শোনা যায়।”

    সংসদে ঠান্ডা মাথায় কাজ

    সংসদের শীতকালীন এই অধিবেশনে (Parliament) কেন্দ্রীয় সরকার মোট ১৪টি নতুন বিল পেশ করতে পারে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অধিবেশনের শুরুতেই এসআইআর ইস্যুতে সংসদ অচল করতে পারেন বিরোধীরা। রবিবার অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলগুলি এসআইআর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার দাবি তুলেছে। তবে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালানোর জন্য সকল বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলবে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “শীতকালীন অধিবেশন মানে ঠান্ডা মাথায় কাজ করা।” আবার কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ বেশ কয়েকটি দল দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড ও এসআইআর ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বায়ুদূষণ, বৈদেশিক নীতি, কৃষকের সমস্যা, বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোটের ভরাডুবি হয়েছে। একক ভাবে এনডিএ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন নীতিশ কুমার। এই নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে একক ভাবে সবচেয়ে বেশি আসন। ফলে ভোটের হারার চরম হতাশা লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশনে দেখা যায় কিনা তাই এখন দেখার।

  • Constitution Day: দেশবাসীকে খোলা চিঠি, সংবিধান দিবসে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

    Constitution Day: দেশবাসীকে খোলা চিঠি, সংবিধান দিবসে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংবিধান দিবসে (Constitution Day) দেশের উদ্দেশে চিঠি লিখে নাগরিকদের কর্তব্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সেই বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন – দেশকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর (Viksit Bharat 2047) লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্তব্যের প্রতি অটল থাকতে হবে। ৭৬তম সংবিধান দিবসে দেশবাসীকে খোলা চিঠি দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রধানমন্ত্রী জানান কর্তব্য থেকেই অধিকারের জন্ম হয়। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত আগে নিজের কর্তব্য পালন করা।

    সংবিধানের শক্তিতেই প্রধানমন্ত্রী

    একইসঙ্গে, ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশবাসীকে কর্তব্য তথা ভোটদানের অধিকার মনে করিয়ে মোদি বলেন, “আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সংবিধানকে আরও শক্তিশালী করবে। জাতীয় লক্ষ্য এবং স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যদি দেশের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকে, তাহলে কর্তব্য পালন আমাদের ভাবধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংবিধান মহৎ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এই সংবিধানই আমাকে দেশের প্রধান করেছে। আমি দরিদ্র এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু সংবিধানের শক্তিতেই বর্তমানে আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি।”

    সংবিধান রচনার নেপথ্যে থাকা নায়কদের শ্রদ্ধা

    প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সংবিধানের (Constitution) শক্তিই ভারতের অগ্রগতির প্রেরণা। তাই প্রতিটি কাজ সংবিধানকে আরও সুসংহত করবে এবং জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাবে – এই মনোভাবেই চলতে হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতি থেকেই কর্তব্য পালন স্বভাব হয়ে ওঠে। সেই অনুভূতিই ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যতের দিকে। চিঠিতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন মোদি (Narendra Modi)। সংসদের সিঁড়িতে ২০১৪ সালে প্রণাম করা থেকে ২০১৯ সালে সংবিধান মাথায় তোলার মুহূর্ত – এসবই তাঁর কাছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক। সংবিধান রচনার নেপথ্যে থাকা নায়কদেরও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (Dr. Rajendra Prasad), ড. বি আর আম্বেদকর (B R Ambedkar) এবং গণপরিষদের বিশিষ্ট নারী সদস্যদের অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

    সংবিধান দিবস-এর গুরুত্ব

    এই বছরের সংবিধান দিবসকে অতিরিক্ত তাৎপর্যময় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সর্দার বল্লভভাই পটেল (Sardar Ballavbhai Patel) ও বীরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর এবং গুরু তেগ বাহাদুরের ৩৫০তম শহিদ দিবস – এই সব ঐতিহাসিক মুহূর্ত একযোগে কর্তব্যের গুরুত্বই নতুন করে স্মরণ করায় বলে মনে করান তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভোটদানের (Vote) দায়িত্বকে সর্বোচ্চ বলে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “একজন নাগরিক হিসেবে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না।” স্কুল-কলেজে প্রতি ২৬ নভেম্বর নবীন ভোটারদের সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। চিঠির শেষে তিনি স্পষ্ট করে দেন – শতবর্ষে পদার্পণ করা স্বাধীনতা (২০৪৭) ও সংবিধান (২০৪৯)-এর জন্য আজকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ভারতের পথচলা। আজকের দায়িত্ববোধই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবে।

LinkedIn
Share