Tag: PM Narendra Modi

PM Narendra Modi

  • Constitution Day: দেশবাসীকে খোলা চিঠি, সংবিধান দিবসে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

    Constitution Day: দেশবাসীকে খোলা চিঠি, সংবিধান দিবসে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংবিধান দিবসে (Constitution Day) দেশের উদ্দেশে চিঠি লিখে নাগরিকদের কর্তব্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সেই বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন – দেশকে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর (Viksit Bharat 2047) লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্তব্যের প্রতি অটল থাকতে হবে। ৭৬তম সংবিধান দিবসে দেশবাসীকে খোলা চিঠি দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রধানমন্ত্রী জানান কর্তব্য থেকেই অধিকারের জন্ম হয়। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত আগে নিজের কর্তব্য পালন করা।

    সংবিধানের শক্তিতেই প্রধানমন্ত্রী

    একইসঙ্গে, ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দেশবাসীকে কর্তব্য তথা ভোটদানের অধিকার মনে করিয়ে মোদি বলেন, “আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সংবিধানকে আরও শক্তিশালী করবে। জাতীয় লক্ষ্য এবং স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যদি দেশের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা থাকে, তাহলে কর্তব্য পালন আমাদের ভাবধারার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংবিধান মহৎ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী। এই সংবিধানই আমাকে দেশের প্রধান করেছে। আমি দরিদ্র এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। কিন্তু সংবিধানের শক্তিতেই বর্তমানে আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি।”

    সংবিধান রচনার নেপথ্যে থাকা নায়কদের শ্রদ্ধা

    প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সংবিধানের (Constitution) শক্তিই ভারতের অগ্রগতির প্রেরণা। তাই প্রতিটি কাজ সংবিধানকে আরও সুসংহত করবে এবং জাতীয় স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাবে – এই মনোভাবেই চলতে হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতি থেকেই কর্তব্য পালন স্বভাব হয়ে ওঠে। সেই অনুভূতিই ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যতের দিকে। চিঠিতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন মোদি (Narendra Modi)। সংসদের সিঁড়িতে ২০১৪ সালে প্রণাম করা থেকে ২০১৯ সালে সংবিধান মাথায় তোলার মুহূর্ত – এসবই তাঁর কাছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতীক। সংবিধান রচনার নেপথ্যে থাকা নায়কদেরও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (Dr. Rajendra Prasad), ড. বি আর আম্বেদকর (B R Ambedkar) এবং গণপরিষদের বিশিষ্ট নারী সদস্যদের অবদান বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

    সংবিধান দিবস-এর গুরুত্ব

    এই বছরের সংবিধান দিবসকে অতিরিক্ত তাৎপর্যময় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সর্দার বল্লভভাই পটেল (Sardar Ballavbhai Patel) ও বীরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর এবং গুরু তেগ বাহাদুরের ৩৫০তম শহিদ দিবস – এই সব ঐতিহাসিক মুহূর্ত একযোগে কর্তব্যের গুরুত্বই নতুন করে স্মরণ করায় বলে মনে করান তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভোটদানের (Vote) দায়িত্বকে সর্বোচ্চ বলে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “একজন নাগরিক হিসেবে কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না।” স্কুল-কলেজে প্রতি ২৬ নভেম্বর নবীন ভোটারদের সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। চিঠির শেষে তিনি স্পষ্ট করে দেন – শতবর্ষে পদার্পণ করা স্বাধীনতা (২০৪৭) ও সংবিধান (২০৪৯)-এর জন্য আজকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের ভারতের পথচলা। আজকের দায়িত্ববোধই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবে।

  • PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলে গেল এক নতুন দিগন্ত! জোহানেসবার্গে জি২০ (PM Modi in G-20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করলেন মোদি। বললেন, “তিন মহাদেশ, তিন মহাসাগর জুড়ে কার্যকর হবে এই পার্টনারশিপ।” আগামী প্রজন্মের জন্য এক উন্নততর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির। তিন দিনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার সকালে নয়া দিল্লিতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থান, জি২০ মঞ্চে উচ্চস্তরের বৈঠক এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ২৪টি বৈঠক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরালো করলেন তিনি।

    সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি

    দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের নেতাদের যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসকে তার সব রূপে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থসংস্থান প্রতিরোধে এফএটিএফ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বৈত মানসিকতা ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে ভারত–ইটালি যৌথভাবে কাজ করবে বলে স্থির হয়। মোদি বলেন, ভারতের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ, বিশেষত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’-এর নীতি, ভবিষ্যতের পথ দেখাতে সক্ষম।

    নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা

    জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত ইবসা শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সবুজ শক্তিতে উদ্ভাবন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন দেশের কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন।

    জি২০-এর মঞ্চে প্রস্তাব

    মোদির প্রথম প্রস্তাব—বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ঐতিহ্যগত জ্ঞানের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণের জন্য গ্লোবাল ট্রেডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি গঠন। তাঁর মতে, প্রাচিনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু প্রচলিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যপী এই ধরণের জ্ঞানের সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন মোদি। বিশ্বের অগ্রগতির জন্য আফ্রিকার উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, এই কারণে ভারত বরাবর আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাব—আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, যার মাধ্যমে আগামী দশ বছরে আফ্রিকার এক মিলিয়ন প্রশিক্ষক তৈরি করা উচিত এবং এভাবে আফ্রিকাবাসীর স্কিল উন্নয়ন সম্ভব। তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। এজন্য জি-২০ সদস্যদের প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে মোদি বলেন, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র ভেঙে ফেলা এখন বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই লক্ষ্যে জি-২০ দেশের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান করেন তিনি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতা

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতার প্রশ্নটিও ফের তুলে দিয়েছেন মোদি। মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। মোদি বলেন, “বহুপাক্ষিকতায় যেন সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারকে কেন্দ্রে রেখে বহুপাক্ষিকতার সংস্কার ঘটলে, তবেই মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে।”

    ১৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সফরে মোদি ১৮টি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত সকল জি৭ দেশও ছিল। তালিকায় ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, অ্যাংগোলা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, জ্যামাইকা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং জাপান। তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে জোরাল বার্তা

    জোহানেসবার্গ জি২০ সম্মেলনে দিল্লি জি২০-এর ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে জি২০ আয়োজন হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনটি মূল সেশনে মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও বার্তা তুলে ধরেন। মোদি বলেন,

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

    জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এটি ছিল মোদির প্রথম সামনাসামনি বৈঠক। তাকাইচি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আয়োজিত এআই সামিট–কে দৃঢ় সমর্থন জানান। দুই নেতা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (FOIP) প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র সফর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

    প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো ভাইরাল

    ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে একাধিক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সঙ্গে ‘ত্রিশক্তি’ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘জোহানেসবার্গে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এই বিশ্বের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে যথার্থ অবদান রাখবে। একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক সারলাম। আমি আশাবাদী, আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকেও অনেক ধন্যবাদ।’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর থেকে বৈঠক, আলাপ, হাত মেলানো, ভাষণ-সহ প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই পোস্ট ঘিরেই দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের উচ্ছ্বাস। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের উচ্ছ্বাস। মোদীর বক্তব্য হোক বা বৈঠক, সবেতেই একটা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

  • PM Modi on INS Vikrant: ‘পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়েছিল আইএনএস বিক্রান্ত’, নৌসেনার সঙ্গে গোয়ায় দীপাবলি মোদির

    PM Modi on INS Vikrant: ‘পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়েছিল আইএনএস বিক্রান্ত’, নৌসেনার সঙ্গে গোয়ায় দীপাবলি মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত।’ দীপাবলির সকালে গোয়ায় আইএনএস বিক্রান্তে (PM Modi on INS Vikrant) বসে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ভারতের সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি (Diwali 2025) পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম গর্ব আইএনএস বিক্রান্তে দাঁড়িয়ে শত্রু পাকিস্তানকে আবারও মনে করিয়ে দিলেন, ভারতের এই যুদ্ধজাহাজ কীভাবে পাক বাহিনীর ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছিল। এখনও সমুদ্রের তরঙ্গের মাধ্যমে পাকিস্তানে আতঙ্ক ধরায় বিক্রান্ত, হুঙ্কার মোদির (PM Narendra Modi)।

    সশস্ত্র বাহিনীকে আত্মনির্ভরতার বার্তা

    প্রতি বছরই দীপাবলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) সঙ্গে কাটান প্রধানমন্ত্রী। এবার নৌবাহিনীর (Indian Navy) সঙ্গে কাটালেন। গোয়া ও কারওয়ার উপকূলে আইএনএস বিক্রান্ত-এ (INS Vikrant) রবিবার রাত্রিযাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সেখান থেকেই দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন। বিশেষ এই অনুষ্ঠানের জন্য সোমবার সকালে সেনার পোশাকেই দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। সঙ্গে ভারতের তিন সশস্ত্র বাহিনীকে আত্মনির্ভরতার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ থেকে মাত্র কয়েক মাস আগে আইএনএস বিক্রান্ত-এর নাম শুনেই গোটা পাকিস্তানের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল।’’ ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘ভারতের তিন সশস্ত্রবাহিনীর সমন্বিত শক্তিই সে সময় পাকিস্তানকে নতজানু হতে বাধ্য করেছিল। ব্রহ্মস এবং আকাশের মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলিও অপারেশন সিঁদুরের সময় নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল।’’

    বিক্রান্ত-এর নাম শুনে ভয়ে কাঁপে শত্রুরা

    প্রধানমন্ত্রীর কথায়, আইএনএস বিক্রান্ত যে দিন থেকে ভারতীয় নৌসেনার হাতে এসেছে, সে দিন থেকেই নতুন বল পেয়েছে তারা। শুধু তা-ই নয়, আত্মনির্ভর ভারত এবং মেড ইন ইন্ডিয়ার প্রতীকও হয়ে উঠেছে এই রণতরী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহাসাগরের বুক চিরে এগোনো স্বদেশি এই রণতরী ভারতীয় বাহিনীর শক্তির প্রতীক, যার নাম শুনেই শত্রুরা ভয়ে কাঁপে।’’ মোদি বলেন, ‘‘সেনার আত্মনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। বীর জওয়ানেরাও এই দেশের মাটিতেই জন্মেছেন। যে দিন আমাদের সমস্ত অস্ত্র, যানও দেশের মাটিতে তৈরি হবে, তখনই সেনা আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাবে।’’ তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন সশস্ত্রবাহিনীর বেশির ভাগ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভারতেই তৈরি হয়। গত ১১ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে উৎপাদন ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। প্রতি ৪০ দিনে একটি করে যুদ্ধজাহাজ কিংবা সাবমেরিন ভারতীয় নৌসেনায় যোগদান করছে। মোদির দাবি, এই হারে চলতে থাকলে অচিরেই বিশ্বের শীর্ষ প্রতিরক্ষা রফতানিকারকদের অন্যতম হয়ে উঠবে ভারত।

    শক্তির প্রতীক আইএনএস বিক্রান্ত

    প্রসঙ্গত, ‘ব্রহ্মস’ও ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে গত মে মাসে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নির্দিষ্ট কিছু জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে যে আক্রমণ চালিয়েছিল ভারত, তাতে নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছিল ব্রহ্মস। আইএনএস বিক্রান্ত-এর বুকে দাঁড়িয়ে নৌসেনার সাহস ও শৃঙ্খলাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একদিকে সীমাহীন আকাশ, অন্যদিকে অন্তহীন সাগর – তার মাঝে দাঁড়িয়ে আমাদের শক্তির প্রতীক আইএনএস বিক্রান্ত।” মোদির সংযোজন, “এই রণতরীতে কাটানো সময় আমাকে শিখিয়েছে বাঁচার গুরুত্ব। তোমাদের নিষ্ঠা এত গভীর যে আমি তার সামান্যই অনুভব করতে পেরেছি। কিন্তু বুঝতে পেরেছি, প্রতিদিন এইভাবে দায়িত্ব পালন করা কতটা কঠিন।”

    গভীর সমুদ্রের নিস্তব্ধতা আর ভোরের সূর্যোদয়

    প্রধানমন্ত্রী জানান, গভীর সমুদ্রের নিস্তব্ধতা আর ভোরের সূর্যোদয়ের দৃশ্য এই বছরের দীপাবলিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে তাঁর কাছে। নৌসেনার সদস্যদের দেশপ্রেমের সঙ্গীত ও সিঁদুর অভিযানের মঞ্চায়ন দেখে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সৈনিকের মনের অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আজ তোমাদের চোখে সেই জেদ, সেই গর্ব দেখলাম।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরকে কেন্দ্র করে নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে উৎসবের আবহ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দেশের প্রথম স্বদেশী রণতরীতে প্রধানমন্ত্রীকে দীপাবলিতে স্বাগত জানানো তাদের কাছে গর্বের বিষয়। দীপাবলি উপলক্ষে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিশেষ গান লিখে তা প্রধানমন্ত্রীকে শোনান আইএনএস বিক্রান্তের জওয়ানরা। সেই গান শুনে মুগ্ধ মোদি।

  • PM Modi on Unstoppable Bharat: “ভারতকে আর থামানো যাবে না, ভারত সব চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে” দাবি প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi on Unstoppable Bharat: “ভারতকে আর থামানো যাবে না, ভারত সব চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে” দাবি প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন থামার মেজাজে নেই। পথে অনেক ধরনের বাধা রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভারতের অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৫-এ “অপ্রতিরোধ্য ভারত: বর্তমানের শক্তি” (Unstoppable Bharat: The Force of Now) শীর্ষক বক্তৃতায় এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, একসময়ের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর অংশ থাকা ভারত আজ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি অর্থনীতির একটি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের বিশ্বে নানা অনিশ্চয়তা ও সঙ্কট থাকলেও, ভারত থেমে নেই। ১৪০ কোটির বেশি ভারতবাসী দৃঢ় সংকল্পে এগিয়ে চলেছে।”

    ভারত সব চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালের পূর্ববর্তী সময়কে স্মরণ করে বলেন, “আগে বিশ্ব ভাবত, ভারত এই দুর্যোগ সামলাতে পারবে তো? নীতি স্থবিরতা, দুর্নীতি, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসবাদ ও মূল্যবৃদ্ধি ছিল দেশের বড় সমস্যা। কিন্তু গত ১১ বছরে ভারত সব চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, কোভিডের পর বিশ্ব যখন মন্দায় পড়েছিল, তখনও ভারত ৭.৮% গড় হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। তাঁর কথায়, “কোভিড, যুদ্ধ, বৈশ্বিক সঙ্কট — সবকিছুর মধ্যেও ভারত এগিয়ে গিয়েছে। আজ মূল্যস্ফীতি ২%–এর নিচে, আর প্রবৃদ্ধি ৭%–এর উপরে।”

    আত্মনির্ভর ভারত

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিপ থেকে জাহাজ পর্যন্ত, সর্বত্রই রয়েছে আত্মনির্ভর ভারত। আজ ভারত আত্মবিশ্বাসী, সক্ষম, এবং সারা বিশ্বে একটি নির্ভরযোগ্য, দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল অংশীদার।” প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা নিয়েও মোদি বলেন, “ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম দেশ যারা নিজেদের ৪জি স্ট্যাক তৈরি করেছে, এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিচ্ছে।” তিনি জানান, গুগলসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের শক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিনিয়োগ করছে। জিএসটি ও আয়কর সংস্কারের ফলে নাগরিকদের ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও মোদি বলেন, “আজকের দিনে বিশ্বজুড়ে হওয়া ডিজিটাল লেনদেনের ৫০ শতাংশই ভারতে হচ্ছে, ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে।”

    সন্ত্রাসবাদের যোগ্য জবাব

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান নিয়েও এদিন মোদি বলেন, “আজকের ভারত আর নীরব থাকে না, প্রত্যুত্তর দেয় সার্জিকাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে।” নকশাল সন্ত্রাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নকশালবাদ ভারতের যুব সমাজের সঙ্গে এক ভয়ানক অবিচার, এক গর্হিত পাপ।” দেশজুড়ে মাওবাদী দমন অভিযানে ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ অর্জনের দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার রাতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৫-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৩ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ‘দেশীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান’ নিয়েছে এবং ‘রক্তপাতের যে দীর্ঘ ইতিহাস’, তা শেষ করার প্রয়াস চলছে। মোদি বলেন, “গত ৫০-৫৫ বছরে হাজার হাজার মানুষ মাওবাদী সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন। এই নকশালরা স্কুল-হাসপাতাল গড়তে দিত না, চিকিৎসকরা যাতে গ্রামে যেতে না পারেন, তার জন্য হামলা চালাত, প্রতিষ্ঠান উড়িয়ে দিত। মাওবাদী সন্ত্রাস যুবসমাজের প্রতি এক ভয়ঙ্কর অন্যায় ছিল।”তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বহুবার ভিতরে ভিতরে ক্ষুব্ধ হতাম। আজ প্রথমবার সেই বেদনা আমি প্রকাশ করছি।” তিনি জানান, গত এক দশকে নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১২৫ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ১১-তে। তিনি বলেন, “এক সময়ের খবর ছিল — বস্তারে বিস্ফোরণে উড়ে যাওয়া গাড়ি, শহিদ জওয়ান। আজ সেখানে হচ্ছে ‘বস্তার অলিম্পিক’। এটি এক বিশাল পরিবর্তন।”

    ব্যাঙ্কিং সেক্টর থেকে গ্যাসের সংযোগ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমরা ব্যাঙ্কিং সেক্টরে সংস্কার করেছি। আজ গ্রামে গ্রামে ব্যাঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০১৪ সালের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে গ্যাসের সংযোগ জন্য মানুষকে হয়রান হতে হত। তখন সাংসদরা কুপন পেতেন, যার ভিত্তিতে গ্যাস কানেকশন পাওয়া যেত। সাংসদদের বাড়ির সামনে মানুষ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। আজ বিজেপি সরকার ১০ কোটি গরিব মানুষকে বিনামূল্যে গ্যাস কানেকশন দিয়েছে।” সমাপ্তিতে মোদি বলেন, “বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তার কিনারায় দাঁড়িয়ে, ভারত তখন সুযোগের দ্বারে। আমরা ঝুঁকিকে রূপান্তর করেছি সংস্কারে, সংস্কারকে রূপ দিয়েছি স্থিতিতে, আর স্থিতিকে এক বিপ্লবে।” এই সামিটে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনী অমরসূরিয়া উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

LinkedIn
Share