Tag: SFI

SFI

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari on Jadavpur) নির্দেশ মতো যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) থাকা একাধিক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি (Jadavpur University Graffiti) মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিতর্কিত কিছু দেওয়াল লিখন নিজেদের উদ্যোগে মুছে দিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল (আর্টস হস্টেল) চত্বরে থাকা এই ধরনের বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    রাখিবন্ধন উৎসবে যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী!

    সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযান পুরোদমে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেই সরকারি কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার অলক্ষ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঢেকে ফেলা হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবিত সাফাই অভিযানে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে স্থান পাওয়া যাবতীয় ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি একে একে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট ও তর্কের মাঝে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সশরীরে পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আপত্তিকর গ্রাফিতি

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ও আশেপাশের দেওয়ালে চরম বিতর্কিত একাধিক স্লোগান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ (অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য)। এই সমস্ত বিতর্কিত বার্তা ও লেখা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র আপত্তি উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় জরুরি বৈঠক ডাকে। সেই বৈঠকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সব আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে অভিযোগ এবিভিপির। ঠিক কীভাবে এবং কার মদতে এই কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ‘এনআইএ’ (NIA)-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি- ABVP)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘জুটা’ (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম বা প্রতীকচিহ্ন ভাঙার নেপথ্যে হাত রয়েছে ওই অধ্যাপকেরই, আর সেই অপরাধে রাজ্যের থানায় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপি

    ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’ (FETSU)-র জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে আচমকাই তেতে ওঠে যাদবপুর ক্যাম্পাস। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে নামলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম। সাংবাদিক বৈঠক ডাকে এসএফআই। ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য। সেই বিক্ষোভের ঘটনার রেশ টেনেই রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেয় এবিভিপি নেতৃত্ব।

    এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপির নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আস্তানা বানিয়ে এক শ্রেণির সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজ করছে। তাই বিষয়টি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে না রেখে সরাসরি উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি, সংঘর্ষের দিন তাঁদের একাধিক ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন ক্যাম্পাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেমটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, এই ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমের নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং নন্দলাল বসু। দুই পক্ষের মারামারির মধ্যেই শিল্পাচার্যের আঁকা সেই এমব্লেমের পদ্মের পাপড়ির বলয়টি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।

    মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ

    এবিভিপির দাবি, এমব্লেম ভাঙার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও কর্মী জড়িত নন। বরং এর পেছনে রয়েছেন জুটার সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা। এবিভিপি নেতৃত্ব জানান, এবিভিপির কেউ যে প্রতীকচিহ্ন ভেঙেছে, তার কোনও ছবি বা ভিডিও প্রমাণ নেই। তাই মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে সংগঠনের কোনও সদস্য যদি নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    Shamik Bhattacharya: এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত! যাদবপুরের ঘটনায় কী বললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর কাণ্ডে এবিভিপি-র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের আশঙ্কা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অশান্তি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীকটি ভেঙে পড়ে। শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজেও যাদবপুরের আঁচ দেখা যায়। ক্যাম্পাসের মধ্যেই এসএফআই-এবিভিপির সংঘর্ষ হয় বলে অভিযোগ। এই আবহে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর বিরুদ্ধে চক্রান্ত

    অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সরাসরি বিজেপির কোনও ছাত্র সংগঠন নয়। এটি একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি কলেজে চলা গন্ডগোল এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক লোগো বা শতদল প্রতীক ভেঙে ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, এবিভিপি-র মূল লক্ষ্য, আদর্শের সঙ্গে লোগো ভাঙচুরের মতো ঘটনা কখনওই মেলে না। এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি। এছাড়া, যাদবপুরের সাম্প্রতিক ছাত্র সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে বিজেপির এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা সাফাই দেন। তিনি জানান, গেটের বাইরে বা সংলগ্ন এলাকায় কোনও গন্ডগোল বা পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। কোচবিহার হোক কিংবা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত—জনপ্রতিনিধিরা প্রয়োজনে যেতেই পারেন।

    জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু হবে

    সাংবাদিকদের সামনে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে শমীকবাবু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একমাত্র কাজ হল প্রতি পদে কেবল বিরোধিতা করে যাওয়া। এ রাজ্যেও ঠিক একই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, শিক্ষানীতি নিয়ে অতীতে বহু বুদ্ধিজীবী ও পন্ডিত মানুষ নানা সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘গৈরিকীকরণ’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেই সমস্ত বিতর্ক এবং অপপ্রচারকে উপেক্ষা করেই নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের সরকারে জায়গা করে দিয়েছে। তাই রাজ্যে এই নীতি রূপায়ণের ক্ষেত্রে আর নতুন করে বলার কিছু নেই বলেই তাঁর মত। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি অবশ্যই লাগু হবে এবং এই নিয়ে বিরোধীরা যে বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে, তা কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে।

  • Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ, ২১ অগাস্ট কমিটির ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর। বৃহস্পতিবার সকালেও এবিভিপি (ABVP) ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনারই তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কী কী কাজ হবে, কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে, সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)।

    কী কী জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য?

    • ১. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ২১ অগাস্টের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
    • ২. ১৯ অগাস্ট রাতে এবং ২০ অগাস্টের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশ অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
    • ৩. ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
    • ৪. ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা বাইরের ব্যক্তি-সহ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
    • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur Chaos) একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রাথমিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ চলে প্রায় সারা রাত। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি। দক্ষিণপন্থী ছাত্রদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন যাদবপুর এলাকার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী দাবি করেন, “অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে।” তাঁদের অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

  • RSS: আরএসএস শাখার ওপর হামলা, কাঠগড়ায় অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা

    RSS: আরএসএস শাখার ওপর হামলা, কাঠগড়ায় অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আরএসএস (RSS) শাখার ওপর হামলার অভিযোগ। সোমবার শাখা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা তাতে অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনাটির পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং এবিভিপি ও বিজেপি অন্ধ্রপ্রদেশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো (ABVP) হয়।

    এবিভিপি নেতার বক্তব্য (RSS)

    সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এবিভিপির এক নেতা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাখা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। শাখা যখন শেষের দিকে, তখন প্রায় ২০ জন এসএফআই-সমর্থিত শিক্ষার্থী সেখানে এসে ‘আরএসএস গো ব্যাক’, ‘ভিসি ডাউন ডাউন’ এবং ‘হিন্দুরা সন্ত্রাসবাদী’—এই ধরনের আরএসএস-বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিতে শুরু করে। এনিয়ে দু’পক্ষই বচসায় জড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা শাখায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। এরপর এবিভিপির শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন এবং স্থানীয় থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটির বিবরণ ও অভিযুক্তদের নাম জমা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। আহত শিক্ষার্থীদের কেজিএইচ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

    পরিকল্পিতভাবে হামলা

    এবিভিপির ওই নেতা সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, বিশাখাপত্তনমে চলমান ‘নেভি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ ২০২৬’—যেখানে ৭২টি দেশ অংশ নিচ্ছে—সেখান থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এসএফআই এবং এআইএসএফ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে (RSS)। বুধবার এবিভিপির তরফে অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। উপাচার্য উপস্থিত না থাকায় কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পিভিএন মাধব হামলার নিন্দা করেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “একটি শান্তিপূর্ণ আরএসএস শাখা এবং এবিভিপি কর্মীদের ওপর এসএফআই এবং এআইএসএফের মার্কসবাদী দুষ্কৃতীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষার্থীরা যখন তাদের মতাদর্শ ও পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করে, তখন তারা হতাশ হয়ে এই ধরনের নৃশংস হামলা চালায় জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির ওপর। আমরা (ABVP) নিশ্চিত, দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে তাদের (RSS)।”

     

  • Ram Navami: রামনবমী পালনে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, ইফতার পার্টি কেন, প্রশ্ন হিন্দু ছাত্রদের

    Ram Navami: রামনবমী পালনে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, ইফতার পার্টি কেন, প্রশ্ন হিন্দু ছাত্রদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) বিরুদ্ধে। মুসলমানদের রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল ইফতার পার্টির। সেখানেই রামনবমীর (Ram Navami) উৎসব পালন করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামনবমী পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। যার জেরে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হিন্দু ছাত্র সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, মাত্র কয়েকদিন আগেই একই ক্যাম্পাসে ইফতার পার্টির অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল?

    রামনবমী পালনের অনুমতি নয় (Ram Navami)

    বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি নোট জারি করে জানানো হয়, “উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে রামনবমী পালনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।” প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাসে হিংসা রোধে ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অন্তর্বর্তী উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে অপসারণ করেছেন। তাই আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ে শূন্য উপাচার্যের পদ। সেই যুক্তি দেখিয়েই হিন্দু ছাত্র সংগঠনগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামনবমী পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও অন্য আয়োজকরা এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে একে সুস্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব বলে অভিযোগ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামনবমী পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হিন্দু ছাত্র সংগঠনগুলি।

    রামনবমী পালন হবেই!

    রামনবমী উৎসব পালনের অন্যতম প্রধান আয়োজক সোমসূর্য ব্যানার্জি বলেন, “আমরা এ বছর ক্যাম্পাসের ভেতরেই রামনবমী পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গতবার প্রথমে অনুমতি মিললেও, পরে প্রতিবাদের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এবার আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়েছি। কোনও অবস্থায়ই পিছু হটব না।” তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে যদি ইফতার পার্টির আয়োজন করা যায়, তাহলে আমরা কেন রামনবমী পালন করতে পারব না? আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। যদি কেউ আমাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তার মোকাবিলা করব।” প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করার অভিযোগও করেন সোমসূর্য। তিনি বলেন, “প্রশাসনের দুটি সম্প্রদায়ের জন্য দুটি আলাদা নিয়ম কেন? আমরা এই বৈষম্য মেনে নেব না।” বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা থাকা উচিত। উৎসব পালনের অধিকার সকলেরই থাকা প্রয়োজন (Jadavpur University)।

    বাধা এসএফআই-ও

    হিন্দু ছাত্র সংগঠনগুলি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রামনবমী (Ram Navami) পালন করতে উদ্যোগী হলেও, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআইও। সংগঠনের তরফে এক সদস্য বলেন, “এবিভিপি এই অনুষ্ঠানের পিছনে আছে। তবে আমরা তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে রামনবমী পালন করতে দেব না। আমরা বাইরের লোকদের প্রবেশ করতেও দেব না। ক্যাম্পাসে গুন্ডামি করতে দেব না।” এসএফআইয়ের এই বক্তব্যের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হিন্দু ছাত্ররা এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের ধর্মীয় অধিকার দমন করার অভিযোগ তুলেছে। যদিও তারা অন্য ধর্মের উৎসব পালনকে সমর্থন করছে। হিন্দু ছাত্র সংঘের এক নেতা বলেন, “এটি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের পুরানো ভণ্ডামি। তারা মুখে সমন্বয়ের কথা বলে, কিন্তু হিন্দু উৎসব বন্ধ করতে যে কোনও পর্যায়ে নামতে পারে।”

    এবিভিপির বক্তব্য

    এবিভিপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার ট্রাস্টি বোর্ডের রাজ্য সভাপতি শান্তনু সিংহ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে বামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে চিত্রিত করা হয়, কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলে। এদের উন্নতি বা অগ্রগতিতে কোন আগ্রহ নেই। এদের একমাত্র লক্ষ্য হল অরাজকতা সৃষ্টি করা এবং তাদের মতাদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন কোনও কণ্ঠস্বরকে দমন করা। আমরা আর তাদের শর্ত চাপিয়ে দিতে দেব না। আমরা (Jadavpur University) প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মোকাবিলা করব।” গত কয়েক মাসে নানা সময় অশান্ত হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মার্চ মাসে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সফরের (Ram Navami) সময়ও ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। মন্ত্রীকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ। মন্ত্রীকে ঘেরাও করার পাশাপাশি তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এর পরেই সরিয়ে দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে।

    এখানেও সেই তুষ্টিকরণের রাজনীতি‍!

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রামনবমী পালনের জন্য ছাত্রদের দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করে নেন। ১৫ এপ্রিল অনুমতি দেওয়া হলেও, ঠিক তার পরের দিনই কোনও কারণ না দর্শিয়েই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ, সেবারও উৎসব পালনে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। উৎসব বন্ধের দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের বাইরে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছিল (Ram Navami)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে তুষ্টিকরণের রাজনীতির সেই ধারা। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের স্বার্থেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ইফতার পার্টির আয়োজনের। আর সেই একই কারণে (Jadavpur University) বাধা দেওয়া হচ্ছে রামনবমী (Ram Navami) পালনে।

  • Arif Mohammed Khan: নিষিদ্ধ পিএফআই-এর সঙ্গে অলিখিত জোট রয়েছ বামেদের, বিস্ফোরক কেরলের রাজ্যপাল

    Arif Mohammed Khan: নিষিদ্ধ পিএফআই-এর সঙ্গে অলিখিত জোট রয়েছ বামেদের, বিস্ফোরক কেরলের রাজ্যপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের রাজ্যপাল (Arif Mohammed Khan) আরিফ মহম্মদ খান বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং বেআইনি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে সম্পর্ক থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন। এদিনই সাংবাদিক সম্মেলনে তিরুবনন্তপুরমে গভর্নর বলেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এটা প্রমাণ দিচ্ছে যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে যথেষ্ট যোগাযোগ রেখে চলেছেন বামপন্থী ছাত্র নেতারা। এ প্রসঙ্গে ২৭ জানুয়ারি তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি (Arif Mohammed Khan)। এবং দাবি করেন যে ৭ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারা গেছে যারা ওই বিক্ষোভে হাজির  ছিল এবং তারা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

    বিক্ষোভকারীদের দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন রাজ্যপাল

    কালো পতাকা নিয়ে এসএফআই-এর সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকলে, সে সময় রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান গাড়ি থেকে নেমে পড়েন এবং বিক্ষোভকারীদের (Arif Mohammed Khan) সামনাসামনি হন। এসময় উত্তেজনা যথেষ্ঠ বেড়ে যায়। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নও তুলতে দেখা যায় সেদিন আরিফ মহম্মদ খানকে। এছাড়াও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন রাজ্যপাল। প্রসঙ্গত, পিএফআই এবং এসএফআই-এর হাতে কেরলের অসংখ্য বিজেপি-আরএসএস কর্মী খুন হয়েছেন। সমাজে বিভাজন, উস্কানি, জঙ্গি কার্যকলাপের কারণে পিএফআইকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্র।

    রাজভবনের সঙ্গে কেরল সরকারের সংঘাত চলছেই

    সাম্প্রতিক সময়ে কেরলের রাজভবনের (Arif Mohammed Khan) সঙ্গে কেরল সরকারের সংঘাত সামনে এসেছেবিভিন্ন ইস্যুতে। কেরালা ত্রিশূরে গভর্নর আরিফ মহম্মদ খান সমালোচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পীনারাই বিজয়নের। এবং তাঁকে ভন্ড বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিচ্ছেন বামপন্থী ছাত্র নেতাদের তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য। এবং একই সঙ্গে নিজের (মুখ্যমন্ত্রীর) নিরাপত্তার বিষয়টিও ভালোমতো বন্দোবস্ত করছেন তিনি।

    আরও পড়ুন: প্রয়াত জৈন সন্ত আচার্য বিদ্যাসাগর মহারাজ, শোকজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • College: এই কি শিক্ষার পরিবেশ? কলেজ চত্বরে বসেই গাঁজায় সুখটান তৃণমূল ছাত্রনেতার!

    College: এই কি শিক্ষার পরিবেশ? কলেজ চত্বরে বসেই গাঁজায় সুখটান তৃণমূল ছাত্রনেতার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রের রহস্যমৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে। বহু ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গাঁজা চাষ, হস্টেলের মধ্যে মদ্যপান করার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। এই সব ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই পূর্ব বর্ধমানের একটি কলেজ (College) চত্বরে প্রকাশ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে মাদক সেবন করতে দেখা যাচ্ছে। তা যথারীতি ভাইরালও। যদিও সেই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি ‘মাধ্যম’।

    ভিডিওতে কী দেখা যাচ্ছে? (College)

    শক্তিগড়ের হাটগোবিন্দপুর ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের (College) টিএমসিপি-র কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিতেশ শেঠ। কলেজ ক্যাম্পাসে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গাঁজা সেবন করছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও-তে সেটাই দেখা যাচ্ছে। অন্য কোথাও নয়, কলেজ চত্বরে বসে মাদক নিচ্ছেন কয়েকজন ছাত্র, এমনই একটি ভিডিও বুধবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    অভিযোগ নিয়ে কী সাফাই দিলেন টিএমসিপি নেতা?

    যদিও ভিডিও-তে যাঁর ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই টিএমসিপি-র কলেজ (College) ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিতেশ শেঠ বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছবিটি ভুয়ো। মুখ্যমন্ত্রী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট হবে ঘোষণা করেছেন। তার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে টিএমসিপিকে কালিমালিপ্ত করতে ছবি এডিট করে এসএফআই এই চক্রান্ত করছে। এসব আমরা কেউ করিনি। ওরা আমাদের ছাত্র সংগঠনকে বদনাম করার জন্যই এসব করছে।

    কী বললেন এসএফআই নেতৃত্ব?

    এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক অনির্বাণ রায়চৌধুরী বলেন, শুধু এই কলেজ (College) বলে নয় রাজ্যের সমস্ত কলেজেই শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে তৃণমূল ছাত্র সংগঠন। অধিকাংশ কলেজেই এই ধরনের মাদক সেবন চলে। প্রতিবাদ করলেই ওদের রোষের মুখে পড়তে হয়। এসব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কারণ, এসব কাজের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্রনেতারা জড়িত থাকে। তিনি আরও বলেন, ওই ছেলেটিই টিএমসিপি হাটগোবিন্দপুর কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। সে ওই কলেজেরই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আমরা এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share