Tag: sir

  • SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    SIR: ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছোচ্ছে তো? স্বচ্ছতা রাখতে বিএলও অ্যাপে নয়া অপশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যে এসআইআরের খসড়া ভোটার তালিকা (SIR)। তালিকা প্রকাশ পেতেই দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মোট আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখ যাঁদের ২০০২-এর এসআইআরের সঙ্গে কোনও লিঙ্কই নেই (BLO APP)। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, প্রাথমিকভাবে এই ৩২ লাখ ভোটারের কাছেই হিয়ারিংয়ের নোটিশ পৌঁছনো শুরু হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন বিএলওরা। তবে, হিয়ারিংয়ের নোটিশ সঠিকভাবে বিএলওরা সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন কি না বা ভোটার সেটি গ্রহণ করছেন কি না, সে সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের তরফে এ বার যোগ করা হল বিএলও অ্যাপে একটি নয়া অপশন।

    নয়া অপশন (SIR)

    সোমবার সকাল থেকেই বিএলও অ্যাপ খুললে দেখা যাচ্ছে এই নতুন অপশনটি। নতুন অপশনটির নাম ‘ডেলিভারি অফ শিডিউল হিয়ারিং নোটিশ’। কমিশন সূত্রে খবর, কোনও বিএলও যখন কোনও ভোটারের বাড়ি হিয়ারিংয়ের নোটিশ নিয়ে যাবেন, তখন তাঁকে একটি কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট ফরম্যাটে থাকা ফর্মে ভোটারকে দিয়ে সই করাতে হবে এই মর্মে যে, সংশ্লিষ্ট ভোটার হিয়ারিংয়ের নোটিশটি গ্রহণ করেছেন। তবে, শুধু ভোটারই নন, ফর্মটিতে সই করতে হবে বিএলওকেও। তারপর নয়া অপশনে আপলোড করতে হবে ওই ফর্মটি। কোনও একজন বিএলও যে বুথের দায়িত্বে রয়েছেন, সেই বুথে কোন কোন ভোটারের ডাক পড়েছে হিয়ারিংয়ে, সেই তালিকা রয়েছে এই নয়া অপশনে। ফলে, ভোটারের ও বিএলওর সইয়ের পর, অপশনটিতে ক্লিক করলে যে ইন্টারফেসটি খুলবে, সেখানে ‘আপলোড রিসিপ্টে’ গিয়ে ওই ফর্মটিকে আপলোড করতে হবে এবং তারপরেই হিয়ারিং সংক্রান্ত সেই তথ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে কমিশনের কাছে।

    ঐক্যমঞ্চের বক্তব্য

    ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল ঘনিষ্ট বিএলওরা নোটিশ না দিয়েই বলতে পারেন, তাঁরা ভোটারের কাছে নোটিশ  পৌঁছে দিয়েছেন। অথবা, এমনটাও হতে পারে কোনও ভোটার নোটিশ পেয়েছেন, অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। এসব সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকবে নয়া এই অপশনের মাধ্যমে। তবে, প্রতিদিন যেভাবে নতুন নতুন অপশন যোগ করছে কমিশন, তাতে অস্বস্তিতে পড়ছেন বিএলওরা। তিনি বলেন, আমরা কী অবস্থায় রয়েছি, সেটা কমিশনের দেখা উচিত (BLO APP)। প্রসঙ্গত, শনিবার রাজ্যের সিইও জানিয়েছিলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে এসআইআরের হিয়ারিং পর্ব। ফলে, হিয়ারিংয়ে ডাক পড়া ভোটারের সংখ্যা কোথায় দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।

    বাংলায় আসছেন ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ ৩ সদস্যের (SIR) প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার আসছেন বাংলায়। বাংলায় এসআইআরের কাজ নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক গাফিলতি ধরা পড়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ প্রতিনিধি দল আসতে চলেছে। এই দলের সদস্যরা একদিকে যেমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন খসড়া তালিকা, তেমনই তাঁরা আসন্ন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজে যাতে আর কোনও গাফিলতি না হয়, তাও জানিয়ে দেবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। বিশেষ এই টিমে থাকবেন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি জোশি ও ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়াল। ২৪শে ডিসেম্বর নজরুল মঞ্চে মাইক্রো অবজ়ারভারদের নিয়ে যে ট্রেনিং হবে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন কমিশনের এই পদস্থ আধিকারিকেরা, এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। যাতে শেষ পর্যায়ে এসে আর কোনও ভুল না হয় সে কথা মনে করিয়ে দিতেই আসছেন তাঁরা (BLO APP)।

    প্রশিক্ষণ পর্ব

    অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ,মালদা, জলপাইগুড়ি, দুই দিনাজপুর, দুই ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানের দায়িত্বে থাকা মাইক্রো অবজারভারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নজরুল মঞ্চে। দুটি পর্বে হবে এই প্রশিক্ষণ। প্রথম পর্ব, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় পর্বের মেয়াদ বেলা আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত (SIR)। জানা গিয়েছে, প্রায় (BLO APP) সাড়ে ৩ হাজার মাইক্রো অবজারভার অ্যাকটিভ রাখবে কমিশন। রিজার্ভ থাকছে আরও এক হাজার জন। সব মিলিয়ে থাকছেন সাড়ে ৪ হাজার মাইক্রো অবজারভার। মেট্রো রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, জীবনবিমা নিগম,  কোল ইন্ডিয়া, ডিভিসি, শুল্ক দফতর-সহ কেন্দ্রীয় সরকারি নানা দফতর থেকে নেওয়া হচ্ছে এই আধিকারিকদের। ভোটার তালিকা ত্রুটি মুক্ত রাখতে প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালাবেন অবজারভাররা। তাঁরা বিএলওদের ডিজিটাইজ করা এনুম্যারেশন ফর্মের যাবতীয় নথি যাচাই করবেন। হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে মাইক্রো অবজারভারদের। হিয়ারিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, নাম তালিকাভুক্ত করার ফর্ম, নাম (BLO APP) সংশোধন করার ফর্মের নথিপত্র যাচাই করবেন তাঁরাই (SIR)।

  • SIR: প্রবীণ ভোটারদের হয়রানি কমাতে বাড়িতেই হবে হেয়ারিং, জানাল নির্বাচন কমিশন

    SIR: প্রবীণ ভোটারদের হয়রানি কমাতে বাড়িতেই হবে হেয়ারিং, জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়স্কদের এখন আর চিন্তা নেই। প্রবীণ ভোটারদের হয়রানি কমাতে বাড়িতেই হবে হেয়ারিং। এই কাজে সাহায্য করবেন নির্বাচন কমিশনের বিএলও এবং এইআরও-রা (SIR)। ৮৫ বছর বা তার বেশি ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স, তাঁরা যদি শুনানির আওতায় পড়েন, তাঁদের ক্ষেত্রে হেয়ারিং-এর জন্য দফতরে যেতে হবে না। বাড়িতে হেয়ারিং করার ক্ষেত্রে ইআরও এবং নির্বাচন আধিকারিক এইআরও এবং বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) সহযোগিতা করবেন। বয়স্ক ভোটারদের যাতে কোনও ভাবেই হয়রানির মুখে না পড়তে হয় তাই কমিশনের (Election Commission) এই সিদ্ধান্ত। খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যে বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম। দেড় কোটির বেশি নামে তথ্যের ভুল রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি হেয়ারিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়েবসাইটে তথ্য আপলোডে একাধিক অভিযোগ আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে।

    বেশ কিছুই এলাকায় গড়মিল (SIR)

    এসআইআর-এর (SIR) খসড়া তালিকায় একাধিক ভুল ধরা পড়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিএলওদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে শোকজ নোটিস জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন বিএলও-দের বিরুদ্ধে শোকজ করা হয়েছে। একই ভাবে হুগলির চণ্ডীতলা, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি, এবং কোচবিহারের দক্ষিণ বিধানসভার মোট তিনজন বিএলওকেও শোকজ করা হয়েছে। কমিশন (Election Commission) ইতিমধ্যে এই কেন্দ্রগুলিতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

    খসড়া তালিকায় জীবিত ব্যক্তি মৃত

    ডানকুনির এক কাউন্সিলরের নিজের নাম খসড়া তালিকায় (SIR) মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের তরফে ইতিমধ্যে বিলওকে শোকজ করা হয়েছে। এই ঘটনায় কমিশন এলাকার বিডিও এবং এইআরওদের কাজের হিসেব চেয়ে নোটশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আপডেট এবং কপির সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। শিলিগুড়িতে এক মৃত ভোটারের নামে গোলমাল হওয়ায় বিএলওকে শোকজ করা হয়েছে। আবার কোচবিহারের দক্ষিণ বিধানসভা ক্ষেত্রেও একই ভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই দুই ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভুল করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কমিশনের (Election Commission) সাফ কথা যেহেতু ভুল হয়েছে তাই ভোটারদের দিয়ে বিএলওকে ফর্ম ৬ পূরণ করতেই হবে।

    বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা ঠিক করে হয়নি

    কমিশন (Election Commission) সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বেলেঘাটা বিধানসভার মোট সাতটি বুথের বিএলও কে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিশন নোটিশ ধরিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি উত্তর না পাওয়া যায় তাহলে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আরও অভিযোগ রয়েছে ফর্ম বিতরণ, তালিকা সংশোধন, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা এবং নথি যাচাই-এর কাজ ঠিক মতো হয়নি। ফর্ম (SIR) জমা পড়লেও তার তথ্য ঠিক করে আপডেট হয়নি। ঠিকানা বা নম্বর সংশোধন ঠিক করে করা হয়নি। আবার বেশকিছু বুথে নিয়মিত পরিদর্শনও করা হয়নি।

    গাফিলতি প্রমাণে বরখাস্ত

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অবশ্য বক্তব্য, সমানেই বিধানসভা নির্বাচন তাই ভোটার তালিকা সংশোধন হওয়া একান্ত জরুরি। নতুন নাম যুক্ত করা, মৃতদের নাম বাদ দেওয়া, ঠিকানা বদল হয়েছে এমন নাম চিহ্নিত করা, একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকা (SIR) থেকে বাদ দেওয়া একান্ত দরকার। বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় অবশ্যই থাকতে হবে। কমিশন এই সংক্রান্ত কাজের কোনও রকম আপোষ করবে না। তবে যদি কাজে গাফিলতি প্রমাণিত হয় তাহলে বরখাস্ত অবধারিত। ভোটের কাজে কোনও রকম আলস্য ভাব দেখালে চলবে না। কাজে গাফিলতি পেলেই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শুনানি নিয়ে কমিশনের নির্দেশিকা

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুনানির জন্য দুটি নোটিস ইস্যু করা হবে। একটি নোটিস সংশ্লিষ্ট ভোটারকে দেওয়া হবে। আর একটি নোটিস বিএলও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর করে নিজের কাছে রাখবেন। নোটিশ পাওয়ার পর শুনানিতে যাওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, বিডিও-র অফিস তথা সরকারি অফিসে এই শুনানি কেন্দ্র হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ জনকে নিয়ে শুনানি করতে পারবেন আধিকারিকরা। উপস্থিত থাকবেন ইআরও, এইআরও-রা। কেন্দ্রে রাখতে হবে বসার জায়গা, জেরক্স করার জায়গা, জলের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট ভোটারকেই হিয়ারিং-এর সময় উপস্থিত থাকতে হবে। যদি কোনও কারণে নির্দিষ্ট দিনে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারেন, তাহলে সেই তারিখ বদলানো যেতে পারে।

  • SIR: খসড়া তালিকায় নাম থাকা দেড় কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি! প্রত্যেককেই কি নোটিশ পাঠাবে কমিশন?

    SIR: খসড়া তালিকায় নাম থাকা দেড় কোটি ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতি! প্রত্যেককেই কি নোটিশ পাঠাবে কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে এসআইআর-এর (SIR) খসড়া তালিকা। কমিশনের (Election Commission) তরফে বলা হয়েছে তালিকায় প্রকাশিত মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জনের ক্ষেত্রে তথ্যে গোলমাল রয়েছে। ফলে তালিকায় অসঙ্গতি থাকলেই যে আবার হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে এমনটাও নয়। কমিশনের আবার জানিয়েছে, অসঙ্গতি থাকলেই নোটিশ যে পাঠানো হবে এমনটাও নয়। তবে অসঙ্গতির প্রেক্ষিত এবং পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার কারণে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে।

    কী কী ক্ষেত্রে অসঙ্গতি (SIR)?

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জনের প্রকাশ (SIR) করা হলেও সংখ্যাটা শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৬ হাজারের আশেপাশে থাকতে পারে। তবে চেক হওয়ার পর কিছুটা কমতে পারে। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে যাদের নাম নেই, এমন ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জনের নামে অসঙ্গতি রয়েছে। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এমন ১৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ জনের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে। বাবার নামে অসঙ্গতি রয়েছে এমন ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জনের ক্ষেত্রে গোলমাল রয়েছে। বাবার বয়স নিয়ে ধন্দ রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা ১৯ লক্ষের বেশি। তার মধ্যে ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৮১ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। একই ভাবে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৫। এগুলিকে তথ্য দিয়ে যাচাই করবে কমিশন।

    সবচেয়ে বেশি কোথায় বাদ পড়েছে?

    কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে হেয়ারিংয়ে (SIR) ডাকা মানে নাম বাদ পড়বে এমন বিষয় নয়। যাদের ডাকা হবে তাদের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য ডাকা হচ্ছে। যাদের নথি সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে পারবে না তাদের নাম বাদ যাবে। একইভাবে যদি কেউ ভুয়ো তথ্য দিয়ে থাকে তাহলে শাস্তির মুখে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম খসড়ায় ভোটার তালিকায় বাতিল হয়েছে। শতাংশের হারে সব থেকে কম বাদ গেছে পূর্ব মেদিনীপুরের। যার শতাংশ ৩.৩১ শতাংশ। আর সব থেকে বেশি নাম বাদ গেছে উত্তর কলকাতায়। যার শতাংশের হার ২৫.৯২ শতাংশ।

  • Suvendu Adhikari: “তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির আর ভোট ব্যবধান নেই”, এসআইআর নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির আর ভোট ব্যবধান নেই”, এসআইআর নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই ময়দানে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর সাফ কথা, “নিবিড় সংশোধনীর খসড়া ভোটার তালিকা (SIR) প্রকাশিত হওয়ার পর তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির খুব বেশি পার্থক্য রইল না। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় আরও বাদ যাবে।” বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। ফলে ভোটের বিচারে তৃণমূলের সঙ্গে ভোটের ফারাক খব কম, ফলে এসআইআরে মৃত, ঠিকানা বদল বা একাধিক জায়গায় নাম এবং জাল ভোটারদের নাম বাদ গেলে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে বিরাট প্রভাব ফেলবে। আর তাহলেই বাজিমাত করবে বিজেপি।

    ব্যবধান ছিল ২১ লক্ষ (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এদিন বলনে, “২০২৪ এর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোট ব্যবধান ছিল ২১ লক্ষ। আমরা পেয়েছিলাম ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ২৭ হাজার। আর ওরা ২ কোটি ৭৫ লক্ষের আশপাশে। অর্থাৎ ৪১ লক্ষের মতো ভোটারের গ্যাপ ছিল। সরাসরি লড়াইয়ে সিপিএম, কংগ্রেস ভোট কাটার কাজটা করে। মূলত, তৃণমূল ভার্সেস-বিজেপির যে লড়াই বাংলায় হচ্ছে তাতে আমাদের সঙ্গে ওদের তফাৎ ২১ লক্ষ। ৫৮ লক্ষ ভোট বাদ দেওয়ার মধ্যে থেকে প্রমাণ হয়েছে বিজেপির সঙ্গে ওদের কোনও তফাৎ এই মুহূর্তে নেই। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (SIR) বেরলে আরও তালিকা বাদ যাবে। আগে যে বাদ যাওয়ার সংখ্যা বলেছিলাম তার থেকেও বাড়বে।”

    কোথায় কোথায় দেখা যাবে তালিকা?

    গত ২০২৪ সালের লোকসভায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২১ লক্ষ। এখন তা কমে গিয়েছে। এসআইআরের ফলে তৈরি হওয়া খসড়া তালিকা দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বুথ, পঞ্চায়েত অফিস, পুরসভা দফতর, মহকুমা শাসক, জেলা শাসক, বিডিও-র অফিসে। সর্বত্র লিস্ট (SIR) দেখা যাবে। এছাড়াও ন্যাশনাল ভোটার সার্ভিস পোর্টালে ভোটার তালিকায় পাওয়া যাবে। তবে আগামী বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) অবশ্য বিশেষ ভাবে আশাবাদী।

  • SIR: খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে কোনও চিন্তা নেই, কী কী করবেন জেনে নিন

    SIR: খসড়া তালিকায় নাম না থাকলে কোনও চিন্তা নেই, কী কী করবেন জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) খসড়া তালিকায় নাম না থকালে কোনও চিন্তা নেই। কী কী করবেন আগেই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। মঙ্গলবার বের হচ্ছে খসড়া তালিকা। প্রত্যকের মনে মনে একটা চিন্তা ঘুরছে নাম থাকবে তো। আর নাম না থাকলে কী হবে? খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমকে। তিনি সাফ জানান, “খসড়া তালিকায় যদি নিজেদের নাম না দেখেন তাহলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। অনলাইনেই ফর্ম ৬-এ আবেদন করতে পারেন। আবেদনের পর আপনাকে হেয়ারিং-এ ডাকা হবে। এরপর উপযুক্ত কাগজ দেখিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রোলে তুলে দিতে হবে। যদি কেউ এখানকার নাগরিক হন তাহলে ভয়ের কিছু নেই। উপযুক্ত কাগজ দেখালেই নাম উঠে যাবে ভোটার লিস্টে।”

    ৮১ হাজার বুথের ৫৮ লক্ষ নাম বাদ (SIR)

    সুব্রত গুপ্ত বলেন, “এসআইআর (SIR) হল নির্বাচনী ভোটার তালিকার (Election Commission) নিবিড় সংশোধনের কাজ। যে কোনও কাজ অল্প সময়ের মধ্যে করতে হলে সেখানে চাপ একটু বেশিই থাকে। এই রকম চাপে আমরাও আছি। সাধারণ একজন সরকারি কর্মচারি যে রকম চাপে থাকে এই চাপ অনেকটাই বেশি। তবে আবার এটাও নয় যে কাজ চাপের কারণে থমকে গিয়েছে। আর যদি তাই হতো তাহলে ৮১ হাজার বুথের ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিতে হতো না। এই কাজ করতে তো হয়েছে।”

    সুব্রত গুপ্ত আরও বলেন, “কমিশন যখন আমাকে নিয়োগ করেছে তখন সাফ নির্দেশ ছিল, কোনও অবৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকায় না থাকে। আর অপর দিকে কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকার বাইরে না থাকে। আমাদের কাজ এটাই, এই কাজটাই দায়িত্ব নিয়ে করছি। এই জন্যই বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। দুই মাস খসড়া তালিকা থাকবে পোর্টালে। একই সময়ে শুনানিও চলবে। লোকে আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে যদি কোনও ভুল ভ্রান্তি ধরা পড়ে তাহলে মানুষ আবেদন করতে পারবেন। তারপর তাঁর নাম আসবে বলে আমার বিশ্বাস। তবে হেয়ারিং-এ কতজনকে ডাকা হবে তা নিয়ে এখনও কোনও নাম ঠিক হয়নি। ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, নিঃসন্দেহে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে। বাকি আর কাদের ডাকা হবে সেই নির্দেশের অপেক্ষা করছি। কমিশনের নির্দেশ ছাড়া তা বলা সম্ভবপর নয়।”

    কীভাবে চেনা যাবে বাংলাদেশি

    সুব্রত গুপ্ত অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার বা জাল ভোটারদের ক্ষেত্রে বলেছেন, “কেউ অবৈধ ভোটারের লেবেল মাথায় লাগিয়ে ঘুরছে এমনটা নয়। আমি বলতে পারি ১ কোটির বেশি ভুলভ্রান্তি মিলে মিশে রয়েছে। আরও অন্য রকম কিছু ভুলভ্রান্তিও রয়েছে। তবে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শুনানি না হলে আপাতত কিছু বলা সম্ভবপর নয়। কেউ বাংলাদেশি তা হেয়ারিং-এ বলা সম্ভব। কমিশন (Election Commission) উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করবে।”

    শুনানি পর্ব শুরু হবে আগামী সপ্তাহে

    আবার কমিশন (Election Commission) সূত্রে বলা হয়েছে, খসড়া তালিকায় (SIR) নাম থাকলেই যে চূড়ান্ত হবে এমনটা নয়, যদি কোনও অসঙ্গগতি থাকে তাহলে সকলকেই ডাকা হবে। আনম্যাপড থাকা সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। খসড়া তালিকায় নাম থাকলেই সব গেল এমনটাও নয়। সব নথি থাকা সত্ত্বেও তালিকায় যদি নাম না ওঠে তাহলেও ভয় নেই। ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর শুনানি পর্ব শুরু হতে আগামী সপ্তাহ লাগবে। ইতিমধ্যেই সব বুথে এএসডি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। সিইও ওয়েবসাইডে এই তথ্য পাওয়া যাবে।

    ৫৮,২০,৮৯৮ জনের নাম বাদ

    গত ২৭ অক্টোবর এই রাজ্যে এসআইআরের ঘোষণা করেছিল কমিশন। ওই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কমিশন জানিয়েছে মোট ভোটারের নামেই এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছিল। প্রত্যেকের কাছেই ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন বুথ স্তরের অফিসাররা। রবিবার পর্যন্ত মোট ভোটার থেকে নাম বাদ পড়েছে ৫৮,২০,৮৯৮ জনের। বাকিদের নাম খসড়া তালিকায় ওঠার কথা। আজ খসড়া লিস্ট বের হলেই সব স্পষ্ট হবে।

  • Draft Voter List: মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, আপনার নাম আছে কিনা, জানবেন কীভাবে?

    Draft Voter List: মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা, আপনার নাম আছে কিনা, জানবেন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে (SIR)। ১১ ডিসেম্বর ছিল এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন (Draft Voter List)। বিএলওরা এসআইআর ফর্ম সংগ্রহ করে আপলোড করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে। এবার প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। ১৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। এই তালিকায় নাম থাকবে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন বহু মানুষ, বিশেষত ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না যাঁদের।

    এসআইআর (Draft Voter List)

    উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করে তা নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টালে আপলোড করছেন বিএলওরা। এসবের ভিত্তিতেই এবার প্রকাশিত হতে চলেছে খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তা সহজে জানার দু’টি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনের মাধ্যমেও জানা যাবে ওই তালিকায় নাম রয়েছে কিনা কোনও ব্যক্তির।

    অনলাইন পদ্ধতি

    প্রথমে জেনে নেওয়া যাক অনলাইনে কীভাবে খুঁজবেন নাম রয়েছে কিনা? কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের ওয়েবসাইট eci.gov.in, বা voters.eci.gov.in সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গলের ওয়েব সাইট ceowestbengal.wb.gov.in  কিংবা ‘ECI NET’ অ্যাপে গিয়ে (SIR) নিজের নাম এবং এপিক নম্বর দিতে হবে। তাতেই জানা যাবে খসড়া তালিকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম রয়েছে কিনা। সংশ্লিষ্ট ভোটারের জেলার তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটে গিয়েও খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তাও দেখা যাবে (Draft Voter List)।

    অফলাইন পদ্ধতি

    এবার আসা যাক অফলাইনের বিষয়ে। রাজ্যের সব বিএলওকে দেওয়া হবে খসড়া তালিকার হার্ড কপি। ভোটাররা নিজ নিজ বুথের বিএলওর কাছে গিয়ে খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতে পারবেন। কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের সুবিধার জন্য খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন বিএলওদের যতটা সম্ভব বুথে গিয়ে বসতে অনুরোধ করা হবে। এ ছাড়া রাজ্যের স্বীকৃত আটটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাতেও খসড়া তালিকার সফট কপি দেবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জেলাস্তর থেকে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের হাতে খসড়া ভোটার তালিকার হার্ড কপি দেওয়া হবে। তাঁদের (SIR) কাছে গিয়েও ভোটাররা জানতে পারবেন, তালিকায় তাঁদের নাম উঠেছে কিনা (Draft Voter List)।

    খসড়া তালিকা

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়েও আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ এবং দাবি কমিশনে জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা এবং আলোচনার সাক্ষেপে সন্দেহ দূর করার কাজ ইআরওরা করবেন ১৬ ডিসম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সব শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। যাঁদের নাম থাকবে না, তাঁদের অনলাইনে ফর্ম ৬ এবং অ্যানেক্সার ৪ পূরণ হবে।

    এসআইআরের সময়সীমা ফের বৃদ্ধি

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই দেশের সাত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সীমা ফের বৃদ্ধি করেছে নির্বাচন কমিশন। সব চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশকে। যদিও সেই তালিকায় নেই পশ্চিমবঙ্গের নাম। এর অর্থ হল, পশ্চিমবঙ্গে পূর্বের সময়সূচি মেনেই এগোবে এসআইআরের কাজ। কমিশনের যুক্তি, এ রাজ্যে যেভাবে এসআইআরের কাজ এগিয়েছে, তাতে অতিরিক্ত সময় লাগার কথা নয়। এসআইআরের মূল কাজ পশ্চিমবঙ্গে প্রায় শেষ। তা ছাড়া, সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচনও (Draft Voter List)। তাই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। কমিশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে এ রাজ্যে (SIR)।

    মৃত ভোটারদের নাম বাদ

    কমিশন সূত্রে খবর, এনুমারেশন ফর্ম যাঁরা ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা করবেন না, তাঁদের নাম ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হতে চলা খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে। খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে মৃত ভোটারদের নামও। এনুমারেশন ফর্ম বাড়ি বাড়ি গিয়েও যাঁদের কোনও ঠিকানায় পাওয়া যায়নি, যাঁদের ফর্ম দেওয়া যায়নি, তাঁদের নাম থাকবে না খসড় তালিকায়। ডাবল এন্ট্রি থাকা ভোটারদের নামও বাদ যাবে। অর্থাৎ একই ভোটারের নাম দু’টি বুথ কিংবা দু’টি কেন্দ্রে পাওয়া গেলে, তাঁদের নাম বাদ পড়বে তালিকা থেকে।

    নাম বাদ পড়লে কী করবেন

    নাম বাদ পড়লে প্রাথমিকভাবে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। সেখানে নির্বাচন কমিশন যেসব তথ্য নিয়ে যেতে বলেছে, সেগুলি নিয়ে যেতে হবে। তাঁরা সেই ডকুমেন্টস দেখে সন্তুষ্ট হলে কোনও সমস্যা নেই। আপনার নাম উঠে যাবে ভোটার লিস্টে। কোনও বাড়তি পদক্ষেপ করতে হবে না। একান্তই যদি সেই হিয়ারিংয়ের সন্তুষ্ট না হয় কমিশন, তাহলে নাম বাদ যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে (SIR) আপনাকে নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হবে (Draft Voter List)।

  • SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    SIR In Bengal: রাজ্যে ৮৫ লক্ষের বাবার নামে গলদ! দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ে নামছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হয়েছে এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এনুমারেশন ফর্মের তথ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে কমিশনের। কোথাও ভোটারের চেয়ে তাঁর বাবা বা মা মাত্র ১৫ বছরের বড়। কোথাও আবার ঠাকুরদা বা ঠাকুরমার চেয়ে ভোটার ৪০ বছরেরও ছোট নয়। মাঝে এক প্রজন্ম ব্যবধানের পরেও বয়সের ফারাক ৪০ বছরের কম। কোথাও ভোটারের সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক ৫০ বছরেরও বেশি। আবার অনেক জায়গায় বদলে গিয়েছে বাবার নামই। দেখা গিয়েছে রাজ্যে ৮৫ লক্ষ ভোটারের বাবার নামে গলদ। সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের বাবা-মায়ের নাম এক।

    বাবার নামে গলদ

    কমিশন সূত্রে খবর, মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্যে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ওই তথ্যগুলি যাচাই করে দেখা হবে। যেমন, বহু ক্ষেত্রে ৬ জনেরও বেশি ভোটার এনুমারেশন ফর্মে বাবার নাম একই উল্লেখ করেছেন। এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজারেরও বেশি ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। বর্তমান সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে এনুমারেশন ফর্মের তথ্যগুলি সন্দেহজনক ঠেকছে কমিশনের। ১৫ বছরের কম বয়সে বাবা হয়েছেন, এরকম সংখ্যা ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার। ৪০ বছরেরও কম বয়সে ঠাকুরদা হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার। বিস্তারিত যদি তথ্যগুলো যাচাই করা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে সাড়ে ১৩ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম বাবা – মা হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ পরিবারে একজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম যা ওই পরিবারে, আরেকজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম মায়ের জায়গায় এসেছে। এরা প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।

    ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই কেন

    কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে এমন বহু ভোটার রয়েছেন যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি, অথচ ২০০২ সালের তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। এমনও ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এই ভোটারদের বয়স এখন যদি ৪৫ বছরও হয়, তা-ও ২০০২ সালে তাঁদের বয়স হওয়ার কথা অন্তত ২২ বছর। সে ক্ষেত্রে তাঁদের নাম কেন ওই সময়ের ভোটার তালিকায় ছিল না, তা খতিয়ে দেখতে চায় কমিশন। যদিও কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, নামের বানান ভুল থাকলে সেগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যে সব ফর্মে উল্লেখ্যযোগ্য বদল দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকেই মূলত যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের এক বুথে কোনও এক ভোটারের বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় ছিল নিরঞ্জন। এখন তা বদলে হয়ে গিয়েছে নিরাপদ। এই ধরনের বদলগুলিকেই বেশি করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    লিঙ্গের তথ্যেও অমিল

    ১৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের লিঙ্গের তথ্যেও অমিল ধরা পড়েছে এনুমারেশন ফর্মে। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১১ ভোটারের তথ্য যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন নিযুক্ত বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এরা এই তথ্য যাচাই করার জন্য পুনরায় সন্দেহের তালিকায় থাকা এই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবেন। সূত্রের খবর, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরেও কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকলে ওই ভোটারদের কমিশনের শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে রোল অবজারভারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সরব বিরোধীরা

    এই তথ্য সামনে আসার পরই স্বাভাবিকভাবে সরব বিরোধীরা। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “পুরোটাই আসলে ভেজাল। ভোটে জেতার জন্য বিভিন্ন সময়ে বামেরা, তারপর তৃণমূল সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। আসল ভোটারদের ভোট দিতে দেননি। ১৫ বছরে যারা বাবা হয়েছে, তারাই আসলে ভূতুড়ে ভোটার হয়ে এইসব লোকদের জিতিয়ে এসেছে।” কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, রাজ্যে অনুপস্থিত, মৃত, স্থানান্তরিত বা একাধিক স্থানে তালিকাভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষের বেশি। আপাতত এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটার তথ্য যাচাই শেষ হওয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখার জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সকল তথ্য খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

  • SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হল এনুমারেশন প্রক্রিয়া। রোজই একটু একটু করে লম্বা হচ্ছিল তালিকাটা। বাড়তে বাড়তে এবার ৫৮ লক্ষ ছাপিয়ে গেল রাজ্য়ে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ডিজিটাইজেশনও হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি।

    বাদ পড়া ভোটারের কে কোন বিভাগে 

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এনুমারেশন পর্ব শেষে মোট ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। খসড়া তালিকাতে এই পরিসংখ্যানে সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কমিশন সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। এ ছাড়া, ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোনও ভোটারের খোঁজে সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) যদি তাঁর বাড়ি থেকে তিন বার বা তার বেশি ঘুরে আসেন, কিন্তু ওই ভোটারের খোঁজ যদি তার পরেও না-পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গের খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল আগেই। মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেল। এ ছাড়া, এ রাজ্যে মোট ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। ফলে একটি জায়গায় রেখে বাকি জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জন ভোটারকে কমিশন ‘ভুয়ো’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় থাকবে না। এ ছাড়া, আরও ৫৭ হাজার ৫০৯ জনকে রাখা হয়েছে ‘অন্যান্য’ তালিকায়। তাঁরাও বাদ পড়তে চলেছেন।

    কীভাবে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে

    সূত্রের খবর, ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে কমিশন— নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজেনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (রাজ্যে শেষ বার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে) যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। এমন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না-থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজেনি ম্যাপিং তালিকায় রয়েছেন। রাজ্যে তেমন ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। এ ছাড়া, ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তৃতীয় তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে শুনানিতে ডাকা হবে। তাঁদের তথ্যপ্রমাণ, নথি যাচাই করে দেখা হবে। এ ছাড়া, প্রথম দুই তালিকার ভোটারদের মধ্যে কারও তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে। সব দেখে শুনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

  • Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে দু’দিনের আলোচনার শেষে জবাবি ভাষণে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে সরব হলেন অমিত শাহ (Amit Shah on SIR)। কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা কবচ দিতেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব। এমনই দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘একজনও বিদেশিকে ভোট দিতে দেব না। আমাদের নীতি হল, ডিকেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।’’ একই সঙ্গে ২২১৬ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এখনও ৫৬৩ কিলোমিটার বেড়া না হওয়ায় দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই।

    ভিনদেশিরা কেন ভোট দেবেন?

    লোকসভায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) আলোচনা-পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ- প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা কেন এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করছেন? ভিনদেশি ভোটারদের কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে? বিরোধীদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘এসআইআর আর কিছু নয়, এটা স্রেফ ভোটার তালিকার সংশোধন। আমি মেনে নিচ্ছি যে এটার কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঘা লাগবে। ওই দলগুলির প্রতি একদিক থেকে আমার সহানুভূতিও আছে। কারণ দেশের ভোটাররা তো ভোট দেন না। কয়েকটি ভোট বিদেশিরা দিয়ে দিতেন, সেটাও চলে যাবে। কিন্তু ভারতীয় হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে এই দেশের সাংসদদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে, রাজ্যের বিধায়কদের নির্বাচনের জন্য বিদেশিদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি? আমাদের মতে, সেটা দেওয়া উচিত নয়।’’

    ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ কেন?

    নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন যে বিজেপিও নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেনি। এখন মমতা, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্টালিনরাও কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। আগে শুধু কংগ্রেস সেই কাজটা করত। কিন্তু বন্ধুত্বের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে ইন্ডি জোটের দলগুলিতেও। তারইমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপরে চটে যান শাহ। বুধবার লোকসভায় শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। বুধবার লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় শাহ বাংলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের দিকে অনুপ্রবেশকারী তোষণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন শীঘ্রই পূর্ণ হবে

    পাশাপাশি, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে বলেই এদিন বার্তা দিলেন শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত হয়ে এদেশে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ছে। আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্য়ে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু ৫৬৩ কিলোমিটার এখনও বাকি। অসম, ত্রিপুরায় কাজ শেষ। শুধু বাংলা এখনও বাকি।’ এই কাঁটাতার না বসানোর নেপথ্যে অনুপ্রবেশকারী তোষণকেই দায়ী করেছেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘রাহুলের মতো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তৃণমূলেরও ওদের মতোই অবস্থা হবে। বিজেপি জয় ছিনিয়ে নেবে।’ অবশ্য শুধু অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই থেমে থাকেননি শাহ। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে আলোচনায় রাজ্য থেকে তৃণমূলকে ‘সাফ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের কথায়, ‘এসআইআর বিরোধিতা করলে বিহারের মতো বাংলা-তামিলনাড়ুতেও সাফ হয়ে যাবে।’

    রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র বিতর্ক

    এর পাশাপাশি বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর অতীতে করা অভিযোগেরও এদিন জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস সাংসদ হরিয়ানায় ভোটচুরির অভিযোগও করেছিলেন। এই নিয়ে রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। রাহুল সংসদে দাঁড়িয়ে শাহকে সাংবাদিক বৈঠক করা নিয়ে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ বলেন, ‘‘সংসদ এভাবে চলবে না। আমি যে ক্রমে কথা বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেব। আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ৩০ বছর ধরে বিধানসভা এবং সংসদে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’’

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা শাহের

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে ভোটচুরি প্রসঙ্গে এদিন শাহ বলেন, ‘‘আপনার পরিবার ভোটচোর। স্বাধীনতার পরে কংগ্রেসের অন্দরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন, যেখানে নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র দু’টি। কিন্তু প্যাটেলের বদলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু। এটিই ছিল দেশের প্রথম ভোটচুরি।’’ নেহরু প্রসঙ্গের পরে জরুরি অবস্থার কথা টেনে শাহ নিশানা করেন ইন্দিরাকে। তিনি বলেন, ‘‘এলাহাবাদ হাইকোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছিল। তখন তিনি গদি বাঁচাতে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন। এটি ছিল গণতন্ত্রের উপর আঘাত এবং ভোটচুরির দ্বিতীয় নির্লজ্জ উদাহরণ।’’ তাঁর নিশানা থেকে বাদ পড়েননি রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধীও। শাহ অভিযোগ করেন, ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘‘সোনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিক হওয়ার আগে কী ভাবে ভোটার হয়েছিলেন? ভোটচুরির এই তৃতীয় উদাহরণটি সম্প্রতি দেওয়ানি আদালতেও গিয়েছে।’’

  • SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ। এসআইআর-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মৃত, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত বা নিখোঁজ ভোটারের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টের হাতে তুলে দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, এনিউমারেশন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের কাজও শেষ হচ্ছে এ দিন।

    রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার রাজ্যের সিইও দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে কোন বুথে কত মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও ভুয়ো ভোটার রয়েছেন তার তালিকা তৈরি করছেন বিএলও-রা। কাজ শেষ হয়ে গেলেই তাতে বিএলও ও বিএলএ স্বাক্ষর করবেন। তার পরে বিএলও অ্যাপের নতুন অপশন ‘BLO-BLA MOM’-এ সেই তালিকা আপলোড করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কমিশন।

    বিহারের নিয়মেই বাংলায় এসআইআর

    বিহারের এসআইআরে যে নিয়ম মানা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা মানতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজদের তালিকা বিএলএ-দের দেখাতে হবে। প্রতি রাজনৈতিক দল যে কর্মীদের এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে, তাঁদের হাতে তালিকা তুলে দেওয়া হবে। যাঁরা একাধিক বার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, একটি জায়গার তালিকায় তাঁদের নাম রেখে বাকি জায়গা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, যাঁদের বাড়িতে তিন বার বা তার বেশি গিয়েও বিএলও ফিরে এসেছেন, যাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাঁদেরও নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না।

    বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন তাই বৈঠক

    পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। মোট পাঁচ লক্ষ বিএলও এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এ ছা়ড়া, বিভিন্ন দলের বিএলএর সংখ্যা ১২ লক্ষেরও বেশি। কমিশন জানিয়েছে, বুথ স্তরে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএলওরা। তাতে প্রাথমিক ভাবে খসড়ায় কোনও ভুল থাকলে তা ধরা পড়বে এবং সংশোধন করে নেওয়া যাবে। কোনও বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই বিএলও-বিএলএ বৈঠক প্রয়োজন, জানিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে আনকালেক্টেবল এনিউমারেশন ফর্মের সংখ্যা প্রায় ৫৭ লক্ষ। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ

    প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকা ত্রুটিভুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। কাজে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে তা নিশ্চিত করতে বারবার বৈঠক করছে কমিশন। বাংলা-সহ যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হচ্ছে সেখানে অবর্জাভার পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছে পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩,৭৪,৪৬০ জন অনুপস্থিত ভোটারের একটি তালিকা বিএলও-দের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজও প্রায় শেষ। এর পরে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

    তালিকা কোথায় দেখবেন?

    নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং বুথ ভিত্তিক মৃত-ভুয়ো-স্থানান্তরিত-অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা দেখা যাবে ডিইও-এর ওয়েবসাইটে। পাশাপাশি রাজ্যের সিইও-এর ওয়েবসাইটেও তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। কোনও ভোটার চাইলে নিজের এপিক নম্বর দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকার পরে আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই সংক্রান্ত দাবিদাওয়া এবং অভিযোগ জানানো যাবে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

     

     

     

     

LinkedIn
Share