Tag: sir

  • SIR Hearing Process: শুভেন্দুর দাবি মানল কমিশন, ওয়েবকাস্টিং-এর নজরদারিতেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব

    SIR Hearing Process: শুভেন্দুর দাবি মানল কমিশন, ওয়েবকাস্টিং-এর নজরদারিতেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৬ ডিসেম্বর। ওই তালিকা স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে ব্লক অফিস এবং ডিইও অফিসে টাঙানো থাকবে। সূত্রের খবর ওই দিন থেকেই শুরু হয়ে যাবে যাচাই ও শুনানি (SIR Verification and Hearing) পর্ব‌। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসকের দফতরেই হবে যাচাই ও শুনানি পর্ব। এরই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই শুনানি পর্বের ওয়েবকাস্টিং এবং ভিডিয়ো রেকর্ডিং করতে হবে। এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা পর্যন্ত সেই সব ভিডিয়ো সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসিআইকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন।

    শুনানি পর্ব- নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন

    বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, এনুমারেশন পর্ব (Enumeration Phase) শেষ হচ্ছে। ঠিক চার দিন পরে, ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপরই শুরু হবে শুনানি পর্ব- এই প্রস্তুতি নিতে আজ থেকেই কমিশন তৎপরতা শুরু করেছে। কমিশনের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ফর্মের ৯৯.৭৫ শতাংশ ডিজিটাইজ করা হয়েছে, অর্থাৎ ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ২৮১টি ফর্ম অনলাইনে রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনও ৯ হাজার ৬৩টি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে। রিপোর্টে দাবি করা হল, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা ৫৭ লক্ষ ১ হাজার ৫৪৮।

    আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে

    কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত আনকালেক্টবল ফর্মের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ আট হাজার ৫৭৪। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৯৩, নিখোঁজ ভোটার ১১ লক্ষ ২৭ হাজার ৬৪৩, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৩২, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৫০ হাজার ৭০৬। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও বেশ কিছু জায়গায় আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    জাল নথি পেশ করলে শাস্তি ভোগ করতে হবে

    অন্যদিকে, ২০০২ সালের পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল না থাকায় এখন রাজ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষ ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অর্থাৎ তাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাদের সবাইকে শুনানির মুখোমুখি হতে হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট ইআরও (ইলেকশন রিটেনিং অফিসার) নোটিস পাঠাতে শুরু করবেন। নোটিস পেলে নির্দিষ্ট দিন ওই অফিসে গিয়ে কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথি-র মধ্যে কমপক্ষে একটি দেখাতে হবে। যারা প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারবেন না, তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে। এছাড়াও, এমন অনেক ভোটার আছেন, যাদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকলেও কমিশন ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদেরকেও শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে তাদের ফর্মে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে এবং কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কমিশন একথাও মনে করিয়ে দিয়েছে, এসআইআরে যদি কেউ জাল নথি পেশ করে, তাহলে আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। তথ্যের জালিয়াতির অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।

    সিসিটিভি-র নজরদারিতে শুনানি পর্ব

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ইসিআইকে চিঠি লিখে এই দাবি জানিয়েছিলেন যে শুনানি পর্ব যেন সিসিটিভি-র নজরদারিতে হয়। সেই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি ছিল যে, সম্পূর্ণ শুনানি পর্ব মাইক্রো অবজার্ভারদের উপস্থিতিতে করতে হবে। প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ সিসিটিভির নজরদারি কমিশন মেনে নিলেও দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে এখনও কমিশন (ECI) কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। কমিশনের দফতর থেকে জেলাগুলিতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘যাচাই ও শুনানি’ পর্ব শুধু এবং শুধুমাত্র জেলাশাসকের দফতরেই করতে হবে। অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি অফিসে এই শুনানি করা যাবে না। সেই সঙ্গে সঙ্গে এটাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে এই পুরো যাচাই এবং শুনানি পর্ব, বিশেষ করে শুনানি পর্বের ওয়েবকাস্টিং ও ভিডিও রেকর্ডিং করতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত এই এসআইআর পর্ব শেষ হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Voter List) প্রকাশ করা হচ্ছে অথবা কমিশন নির্দেশ দিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত এই ভিডিও সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। কমিশন মনে করছে, এভাবে কাজ করলে আশা করা যায় খসড়া থেকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা হওয়া পর্যন্ত পুরো কাজ নির্ভুল হবে।

  • SIR: এসআইআরে জাল তথ্য-নথি দিলেই সাত বছরের জেল! কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

    SIR: এসআইআরে জাল তথ্য-নথি দিলেই সাত বছরের জেল! কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) জাল নথি দিলে সাত বছরের জেল হতে পারে। ভুয়ো ভোটারদের আটকাতে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন মিশন। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতর লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে এসআইআরে কেউ নথি জাল করলে জমা করলে আইন মেনে সাজা হবে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানাও করা হতে পারে। কমিশন এসআইআর-এর কাজে বিএলও-দের সঠিক তথ্য দিয়ে ডিজিটাইজেশনের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে। মৃত, অবৈধ ভোটার বা স্থানান্তরিত হয়েছে এমন নাম যদি নিবিড় তালিকায় থাকে তাহলে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভুল কাজ করলে কমিশন (Election Commission) কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৭ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ

    নির্বাচন কমিশনের (SIR) তরফে বলা হয়েছে, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৭ ধারা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি যদি ভোটার কার্ড, জন্ম, বিবাহ, মৃত্যুর শংসাপত্র, আদালতের নথি, সরকারি অফিসের নথি, কোনও সরকারি কর্মচারীর প্রদত্ত শংসাপত্র, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে জাল প্রমাণপত্র জমা করে থাকেন তাহলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেলা এবং জরিমানা হতে পারে। এসআইআর-এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার থাকবে।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্ক্যান হবে

    এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে রাজ্যের তৃণমূল শাসকের দিকে অভিযোগ তুলে বিজেপি বার বার বলেছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করার ঝাড়াই-বাছাই-এর কাজে সুযোগ বুঝে অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়ো ভোটারদের নাম তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই রাজ্যে বাংলাদেশিরা জাল নথি দিয়ে নিজেদের ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করছেন। এরপর দিব্যি নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্যকে নিজের বাবা-মায়ের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ ব্যবহার করছেন। আবার বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের ব্লক স্তরে সরকারি দফতর থেকে টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ, ওবিসি-র মতো সার্টিফিকেটও নাকি দেওয়া হচ্ছে। তবে ভুয়ো কাগজ নির্মাণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করে ভোটারদের নাম, ছবি যুক্ত যাবতীয় তথ্য নিখুঁত ভাবে স্ক্যান করা হবে, ফলে জাল তথ্য দেওয়া ভোটারদের দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে। অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিনতে সুবিধা হবে।

    প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে

    ১৪ ডিসেম্বর হল এসআইআর-এর (SIR) এনুমারেশন ফর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করার শেষ সময়। এই তালিকায় যদি ভোটারদের নাম ভুল থাকে, কোনও অভিযোগ থেকে বা সংশোধন থাকে তাহলে তা কারেকশন করার শেষ সময় আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা, বিতর্কের সমাধান করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা এবং আলোচনা করে তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাকে দূর করার নানা কাজও করবে কমিশন। তার সময় সীমা সম্পর্কে বলা হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কাজ করা হবে।

    কত নাম বাদ?

    কমিশনের আগে বিএলওদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে। কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকায় না ঢুকে থাকে। আর যদি এ দু’টি কাজ করতে গিয়ে ফাঁক থাকে তার দায় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা কাজের প্রশংসা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অবহেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।

    এসআইআরে (SIR) শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটারের নাম রয়েছে ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি সংখ্যা খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ঠিকানা বদল করেছে বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে বাতিলের তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নামও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য এবং নিবিড় সংশোধনের তালিকা যাতে আরও নির্ভুল হয়, সেই কথা বলে কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে। রাজ্যে এই কাজকে আরও ভালো ভাবে করার জন্য কমিশন ৫ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।

  • SIR in Bengal: অপসারণের পরেও কাজ! বারুইপুরে দুই বিএলও-সহ চার জনকে শোকজ কমিশনের

    SIR in Bengal: অপসারণের পরেও কাজ! বারুইপুরে দুই বিএলও-সহ চার জনকে শোকজ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও এমুনারেশন ফর্ম (Enumeration Form) আপলোড করেছেন এক বিএলও (BLO)। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিএলও-র পাশাপাশি অপর আর এক বিএলও এবং তাঁদের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইআরও, এইআরও-কেও শোকজ করল কমিশন (Election Commission)। বারুইপুর পূর্বের ৯৪ নম্বর বুথের দুই বিএলও (বুথ স্তরের আধিকারিক), ইআরও (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার), এবং এইআরও (সহকারী ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-কে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলেছে কমিশন।

    দুই বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-কে শো কজ

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হাড়দহের ৯৪ নম্বর বুথে (Booth Number 94) প্রথম যিনি বিএলও ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের স্থানীয় পদাধিকারী। তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ওই বিএলও-কে নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ায় তাঁকে রিমুভ করে দ্রুত অন্য একজনকে বিএলও (BLO) হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু অভিযোগ, অপসারণের পরেও ওই বিএলও কাজ করে যান। ওই বুথে নতুন যে বিএলও এসেছেন, তিনি নিযুক্ত হয়েও পুরনো বিএলও-কে কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। আগে ওই বুথে বিএলও ছিলেন সোমা সেন। পরে বিএলও হয়েছিলেন দেবী হালদার। পর্যবেক্ষক দুই বিএলও-র সই দেখে চিহ্নিত করেছেন। ওই বুথে ইআরও হলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী। দুই বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-কে শো কজ করেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেই সূত্রে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট অফিসারদের শোকজ করে কারণ দর্শাতে বলেছে কমিশন।

    দোষ প্রমাণিত হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ

    বাংলার এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজ সুস্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে একাধিক রোল অবজার্ভার (Roll Observer) রাজ্যে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। তাঁদেরই একজন সি মুরুগান। সূত্রের খবর, তিনিই এই বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করে স্পেশ্যাল অবজার্ভার (Special Observer) সুব্রত গুপ্তকে জানান। পরে তিনি সিইও দফতরে (CEO Office) রিপোর্ট দেন এবং সিইও দফতর কমিশনকে জানায়। শুধু ওই বিএলও নন, তাঁর জায়গায় যিনি কাজের জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন সেই বিএলও এবং ওই এলাকার ইআরও, ডিইও-র ভূমিকাও খতিয়ে দেখে কমিশন। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় এরপরই কড়া পদক্ষেপ করা হল।

    স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভারের কাজ

    নানা ঘটনার পর ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR West Bengal) পর্বে আরও কঠোর হয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। গত শুক্রবারের বৈঠকেই যার ইঙ্গিত মিলেছিল। সোমবার সকালেই সেই ইঙ্গিতকে বাস্তবায়িত করে কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করে। পাঁচ ডিভিশনে পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইএএস অফিসারকে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার (Special Roll Observer) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যেকেই কেন্দ্রের মন্ত্রকের যুগ্মসচিব। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব থাকবে তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা। কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা দেখাই বিশেষ পর্যবেক্ষকদের প্রধান কাজ। কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় ঢুকতে না পারেন, তা-ও খেয়াল রাখতে হবে। দাবি–আপত্তি থেকে গণনা, নোটিস নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ – প্রতিটি ধাপে কঠোর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এঁরা।

  • SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরকে নির্ভুল করতে বিএলও-দেরকে আরও কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর কাজে (SIR) সময়ের মধ্যে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ শুধরে নিতে বিএলও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সঙ্গে সতর্কবার্তা— যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুলকে ঠিক না করা হয়, তাহলে সেগুলিকে ইচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেক্ষেত্রে বিএলও-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নিয়ে কাজের অতিরিক্ত চাপের জন্য তৃণমূল সমর্থিত বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অপর দিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ, এক শ্রেণির বিএলওরা প্রত্যক্ষভাবে শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন। মৃত, অবৈধ ভোটার এবং স্থানান্তরিত হয়েছে এমন ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভুল কাজ করলে কমিশন (Election Commission) কড়া অবস্থান নেবে বলে এখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

    বিএলওরা ভুল প্রসঙ্গ কানে দেননি

    কাজের চাপ এবং স্বচ্ছতার কথা ভেবে (Election Commission) এনুমারেশন ফর্ম (SIR) দেওয়া এবং সংগ্রহের জন্য এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সময়ে কাজ করতে না পারার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিএলও অসুস্থ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তাই সকল বিষয়কে মাথায় রেখে ফর্ম জমা করার কাজকে ৪ ডিসেম্বর থেকে ৭ দিন বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসআইআর-এ যদি কোনও ভুল ধরা পরে, তাহলে এই ভুলকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ধরা হবে। সময়ের মধ্যে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগও পাবেন বিএলও-রা। কিন্তু, তার পরে হলে, তা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে ধরা হবে। কমিশন কোনও ভাবেই কাজের ভুলকে সাধারণ ভুল হিসেবে গ্রহণ করবে না। তবে আগেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল অবজার্ভাররা বহু বিএলও-কে নিজেদের ভুল ঠিক করে নিতে বলেছিলেন। প্রয়োজনে রিপোর্টও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএলওরা কোনও ভাবেও কানে দেননি। এই অবস্থায় কমিশনের তরফ থেকে সরাসরি বার্তা এসেছে। অপর দিকে বাংলার এসআইআর কাজকে আরও গতি দিতে পাঁচজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।

    খসড়া বের হলে কমিশনের পদক্ষেপ

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল পর্যবেক্ষকরা (SIR) একাধিক বিএলওকে সতর্ক করেছে। কিন্তু কোথাও কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভুল কাজের কোনও রকম সংশোধন করা হয়নি। এরপর অনিচ্ছাকৃত ভুল শুধরে নেওয়া হয়নি। আগামী ১১ ডিসেম্বর খসড়া লিস্ট প্রকাশ হলে কমিশন কী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাই এখন দেখার।

  • SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ১৬ ডিসেম্বর এসআইআর-এর (SIR In Bengal) খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৬ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। সোমবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে।

    ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায়

    নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৩২। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান।

    মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২ টিতে

    অন্যদিকে, রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই বলে জানা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটারের খোঁজ মেলেনি। তার ফলে পূরণ করা সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম ফেরত আসে। এই অবাক করা তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। রিপোর্ট চায় তারা। এরপর ২২০৮টি যে বুথ ছিল সেটা কমতে কমতে এসে দাঁড়াল ২টি বুথে। প্রথমে ২,২০৮, দ্বিতীয়বার ৪৮০, তৃতীয়বার ২৯, চতুর্থবার ৭ ৭-এর পর এবার মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২টিতে! শুধুমাত্র হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেই এই বুথ রয়েছে। যেখানে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত হওয়া, ডুপ্লিকেট ভোটার নেই। অর্থাৎ, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশন যে ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কথা বলছিল বারবার, সেই প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক প্রমাণিত

    ২২০৮টি বুথে কোনও ‘আন-কালেক্টবল’ ফর্ম নেই, এ বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যের শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, “আমি শুধু একটা কথাই বলব, যদি কেউ মরতে না চান, যদি সারাজীবন বেঁচে থাকতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসুন। নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকবেন। ২০০০-এর উপর বুথে কোনও মৃত্যু হয়নি, কেউ অন্য কোথাও যায়নি, এটাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। অদ্ভুত এক ভূতুড়ে জায়গা। আর জেলা প্রশাসন হচ্ছে গেছো ভূত।” বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা আমাদের পিসি সরকারের ম্যাজিক। আমাদের যে পিসির সরকার…অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওই সমস্ত এলাকায় কেউ মারা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে বলব ওই এলাকাতেই, সবাই নিজের নিজের জেলায় যে বুথে কেউ মারা যায়নি, সেই বুথে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। যাতে কেউ মারা না যান। ওখানে গেলে আপনারা অমরত্ব লাভ করবেন।” এনিয়ে পাল্টা দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দেখা গেল বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক হলো।

  • SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR) কাজকে আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পাঁচ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই পর্যবেক্ষকরা রাজ্যের ৫ ডিভিশনে কাজ করবে। এগুলি হল— প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদা, এবং জলপাইগুড়ি। উল্লেখ্য, আগেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করেছিল। একই ভাবে রাজ্যে রয়েছে ১২ জন এসআইআর পর্যবেক্ষক। বিভিন্ন জেলায় তাঁদের নিযুক্ত করা হয়েছে। এবার আরও ৫ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন, কুমার রবিকান্ত সিংহ, নীরজ কুমার বানসোড়, আলোক তিওায়ারি, পঙ্কজ যাদব এবং কৃষ্ণকুমার নিরালা।

    মৃত ভোটার ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯ (SIR)

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে (SIR) শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটারের নাম রয়েছে ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি সংখ্যা খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ঠিকানা বদল করেছে বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে বাতিলের তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নামও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য এবং নিবিড় সংশোধনের তালিকা যাতে আরও নির্ভুল হয়, সেই কথা বলে কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে। এই কাজকে আরও ভালো ভাবে করার জন্য কমিশন ৫ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।

    কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি এমন বুথ কত?

    কমিশনের (Election Commission) তথ্যে আরও জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটার একজনকেও (SIR) পাওয়া যায়নি এমন বুথের সংখ্যা হল ৭। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে প্রথমে যে রিপোর্ট জমা পড়েছিল, সেই অনুসারে এই রকম বুথের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। তাতে বলা হয়েছিল ২২০৮টি বুথে গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি। এমনকি সেখান থেকে অন্যত্র হস্তান্তর হয়নি। এই বিষয় নিয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় ব্যাপাক চর্চা এবং পর্যালোচনা হয়েছিল, পরে অবশ্য সংশোধন করা হয়েছে।

    ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে

    এদিকে এসআইআর-এর (SIR) কাজের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার মুখে বিশেষ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কাজের গতিপ্রকৃতি দেখতে, ভোটার তালিকায় ঝাড়াই-বাছাই করে আরও নিখুঁত করতে করা হয়েছে বৈঠক। জাল ভোটারদের খোঁজ করতে তৎপর হয়েছে কমিশন। একই নামে একাধিক ভোটার, আলাদা আলদা ব্যক্তি কিনা এই নাম নিশ্চিত করতে বিএলওদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার থেকে পোর্টালে বিশেষ অপশন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ তারিখের মধ্যে ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে। তবে কাজকে আরও নিখুঁত করতে কমিশন প্রথম পর্যায়ের কাজে সমীক্ষা করতে বসেছে। ডিজিটাইজেশন পর্বে বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে। এবার বিস্তারিত তথ্য জানতে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়েছে। রাজ্যের এখনও জমা না পড়া এনুমারেশন ফর্মের সংখ্যা হল প্রায় ৫৬ লক্ষ। যার মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৬৫।

    কাজের পরিসর আরও ৭ দিন বাড়তে পারে

    গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর (SIR) কাজ শুরু হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এনুমারেশন ফর্ম নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। ৯ ডিসেম্বর ছিল খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়কাল। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে সময়কে ৭ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে ১১ ডিসেম্বর, ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। এরপর নাম সংশোধন, অভিযোগ, আপত্তি বিষয়ে কমিশনকে (Election Commission) জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে প্রয়োজন আনুযায়ী কমিশন আরও বেশকিছুদিন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    ভোটের আগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

    এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী প্রথম থেকেই আপত্তি তুলেছেন। ওপর দিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এবং ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ করে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। তবে তৃণমূল, মুখে কমিশনশনকে (Election Commission) বারবার হুমকি দিলেও তালিকা সংশোধনের কাজে সহযোগিতা এবং ক্যাম্পেরও আয়োজন করেছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের যেমন নাম ঢোকানোর কাজ করছে তৃণমূল। আবার একই ভাবে তৃণমূল বেঁছে বেঁছে হিন্দুদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক পারদ এখন চরম শিখরে।

  • SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) কাজে তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল হলে কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবে না। বিএলওদের কড়া বার্তা দিল মুখ্য নির্বাচনী দফতরের আধিকারিক সিইও। রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাতিল প্রসঙ্গে আর কোনও আপস নয়। তাই কমিশনের তরফে তোড়জোড় নির্দেশ। বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর থেকেই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের কাজ শুরু হয়েছে। ইআরওদের নতুন সফটঅয়্যার দিয়েছে কমিশন (Eelection Commission)। বিএলও উদ্দেশে চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল । রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহে কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দফতরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    মনোজ আগরওয়ালের চিঠি (SIR)  

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সমস্ত বিএলওদের (SIR) স্পষ্ট ভাবে  নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “এসআইআর-এর দায়িত্ব পুরোপুরি বিএলও-দের। ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা পড়লে কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি হল ভোটার তালিকা। এই তালিকার নিবিড় সংশোধন একান্ত প্রয়োজন। খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা নির্মাণে একচুল পরিমাণ ঢিলেমি মেনে নেওয়া চলবে না।”

    বিএলও-দের পাঠানো চিঠিতে কমিশনের (Eelection Commission) তরফে বক্তব্য ছিল— কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে। কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকায় না ঢুকে থাকে। আর যদি এ দু’টি কাজ করতে গিয়ে ফাঁক থাকে তার দায় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই। একইসঙ্গে কমিশনের তরফে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন যেসব বিএলওরা। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা কমিশনের যে কাজের প্রশংসা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অবহেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। দেশের সুরক্ষা এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

    বিএলওরা বিএলএদের সঙ্গে এলাকায় বৈঠক করবেন

    নির্বাচন কমিশন (Eelection Commission) দফতরে খবর কোনও ভোটার একের বেশি এনুমারেশন ফর্ম (SIR) জমা দিলে এই প্রযুক্তিতে তথ্য ধরা পড়বে। এরপর শুরু হবে চিহ্নিত করণের কাজ। ইআরও-রা বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রযুক্তিতে কাজ করবেন। এর পরে জাল ভোটার পাকড়াও করতে ডিইও, সিইও এবং কমিশন এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। বিএলওরা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা এবং মতামত গ্রহণ করা হবে। তবে কমিশনের সাফ নির্দেশ এলাকা বা বুথের বাইরে কোনও বৈঠক করা যাবে না।

    খসড়ায় নেই ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জন

    কমিশন (Eelection Commission) সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR)  কারণে বাদ যেতে চলেছে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। শেষ পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জনের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না। তার মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে এমন, ঠিকানা বদল হয়েছে এমন নাম এবং জাল ভোটারদের নাম। তবে এখনও পর্যন্ত মৃত ভোটারের সংখ্যা হল ২৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫ জন, এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। বি এলওরা খুঁজে পাননি এমন সংখ্যাটাও ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬২ জন।

    জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে

    বিহারের পর বাংলা সহ দেশজুড়ে ১৩ টি রাজ্যে নিবিড় সংশোধনের (Eelection Commission) কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বিএলওদের মৃত্যু এবং আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যুর অজুহাত খাড়া করে বারবার কমিশনকে নিশানা করেছেন। অপর দিকে এসআইআর শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা নিউটাউন, মধ্যমগ্রামের, গুলশান কলোনীর বস্তিগুলিকে খালি করে সীমান্তের বর্ডারে ভিড় করছে। পাশাপাশি এসআইআর-এর কাজ ফাঁকি দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। আর তাই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তালিকার কাজ সরেজমিনে দেখার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে খোদ বাংলায় এসে কাজের সমীক্ষা করার দাবি করেছেন। এখন কমিশন কতটা পরিমাণে এসআইআর নির্ভুল করে তাই এখন দেখার।

  • Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুধবার দিল্লি গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও (Election Commission) যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে।

    অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাত

    বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। সংসদে অমিত শাহের অফিসে তাঁদের বৈঠক হয়। মিনিট ২৫ কথা হয়। তবে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু

    সেইসঙ্গে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, কমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান তিনি। দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিরোধী দলনেতা জানান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে যেভাবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম ডিজিটাইজড করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক গতিবিধি। অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বাবার নাম, মায়ের নাম পাল্টে দিয়ে এটা করা হয়েছে। একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এটা দেখবেন।”

    কমিশনকে চিঠিতে শুভেন্দুর দাবি

    এসআইআর এর প্রথম দফার কাজকর্মে বাংলায় বুথ লেবেল অফিসারদের নানাভাবে তৃণমূল ম্যানেজ করেছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় দফা প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশনকে মঙ্গলবার চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন, “এই পর্যায়ে কোনও আপস হলে চিরস্থায়ী ক্ষতি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সততায়।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় ধাপ পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, এই ধাপেই দাবি-আপত্তি, নথি জমা ও খতিয়ে দেখার কাজ হয়। সেই কাজেই নাকি ‘অতিমাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব’ খাটানো হচ্ছে বলে “নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্ট” পাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অভিযোগগুলির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এসআইআর-এর নিরপেক্ষতা।

    মাইক্রো অবজার্ভারের তত্ত্বাবধানে স্ক্রুটিনি

    শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দু’টি ব্যবস্থা নিতে হবে। এক, পুরো প্রক্রিয়াই রাখতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারের কঠোর তত্ত্বাবধানে। এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হওয়া জরুরি। দুই, দাবি-আপত্তি শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ সিসিটিভি–র আওতায় রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এসআইআর-এর শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর দাবি, এটা না হলে কারচুপি আটকানো অসম্ভব। চিঠিতে আরও লেখা আছে, ভোটার তালিকা দ্রুত ত্রুটি মুক্ত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে “অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নজরদারি” নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

  • Digital Survey: দেশে শুরু হবে জনগণনা, কবে থেকে জানেন?

    Digital Survey: দেশে শুরু হবে জনগণনা, কবে থেকে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে দেশে চলছে এসআইআর। এই পর্বের শেষেই শুরু হয়ে যাবে জনগণনার (Census) কাজ। অন্তত এমনই জানাল (Digital Survey) কেন্দ্র। ২০২৭ সালে হবে জনগণনা। শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন সংসদে এমনই ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। যদিও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে চলতি বছরের ১৬ জুন। মোট দু’দফায় হবে এই সেনসাসের কাজ। প্রথম পর্যায়ে হবে গৃহ তালিকাভুক্তি ও আবাসন জনগণনা। এটি চলবে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনগণনা। এটি হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে যেহেতু তুষারপাত হয়, তাই সেই সব জায়গায় জনগণনা হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।

    কী বললেন মন্ত্রী? (Digital Survey)

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, “দেশের সর্বত্র গণনার জন্য ২০২৭ সালের ১ মার্চকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বরফ-ঢাকা অঞ্চলগুলির জন্য জনগণনা হবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর রেফারেন্স তারিখ গণ্য হবে। এই প্রক্রিয়াটিতে পূর্ববর্তী অনুশীলনগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

    প্রশ্নপত্র তৈরি

    প্রশ্নপত্র তৈরির বিষয়ে জনগণের মতামত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে এমএইচএ জানিয়েছে (Digital Survey), জনগণনার প্রশ্নাবলী কেবল মাত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক, ব্যবহারকারী সংস্থা এবং বিষয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পরেই চূড়ান্ত করা হয়। জনগণনা ২০২৭ সালের মধ্যে দেশব্যাপী একটি প্রি-টেস্ট গত ৩০ নভেম্বরে শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত প্রশ্নাবলী শীঘ্রই বিজ্ঞাপিত হবে বলেই মন্ত্রক জানিয়েছে। জনগণনা বিধি, ১৯৯০ সালের ৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী, জনগণনার প্রশ্নাবলী এবং তফশিলগুলি আইনের ধারা ৮-এর উপধারা (১) এর অধীনে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপিত হয় সরকারি গেজেটের মাধ্যমে। প্রশ্নাবলী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনারের কার্যালয়।

    আগামী জনগণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হবে ৭০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো জাতিভিত্তিক গণনা অন্তর্ভুক্ত করা। এটি হবে ভারতের প্রথম ডিজিটাল জনগণনাও। এখানে তথ্য সংগ্রহ করা হবে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। তবে যেসব অঞ্চলে এই সুবিধা নেই, সেখানে কাগজ-ভিত্তিক ফর্মও (Census) পাওয়া যাবে। প্রসঙ্গত, জনগণনা হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে। তবে করোনা অতিমারির কারণে সেই সময় হয়নি (Digital Survey)।

  • Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআরের (SIR) কথা ঘোষণা হতেই ফুঁসে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। সৌজন্য তো বটেই, হেটো রাজনীতি করতে গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে (বিরোধীদের অভিযোগ) এসআইআরের প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন (Suvendu Adhikari), ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের বাঁচিয়ে রেখে দিব্যি গদি আঁকড়ে পড়ে রয়েছে তৃণমূল। এসআইআর হলে বাদ পড়বে এদের নাম। স্বাভাবিকভাবেই গদি খুইয়ে পথে বসতে হবে তৃণমূলেশ্বরীকে। রাজ্যের বিরোধী দল প্রথম থেকেই এই দাবিটাই করে আসছে।

    হাতে গরম প্রমাণ (Suvendu Adhikari)

    তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের কার্ড কাজে লাগিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে চাইছে তৃণমূল। তাই এই বিরোধিতা। বিরোধীদের এহেন দাবি যে নিছক গল্পগাছা নয়, তার ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি ছবিও দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিডিওদের দিয়ে অপকর্ম করানো হচ্ছে। প্রশাসনকে অপব্যবহার করে প্রভাবিত করা হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়াকে। শুভেন্দুর দাবি, “কুলতলি, জয়নগর বিধানসভা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিএলওদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।”

    কথোপকথনের নমুনা

    কুলতলির বিডিও যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রয়েছেন তার কথোপকথন নমুনা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মৃত ব্যক্তিদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিধেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। যে ভোটাররা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের তথ্যও অপরিবর্তিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে (SIR)।” বিধায়কের (Suvendu Adhikari) প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অমান্য করে প্রশাসন আদৌ কি এই রকম নির্দেশ দিতে পারে?” এই ইস্যুটি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের পোস্টের পর এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

    আইপ্যাককে নিয়ে প্রশ্ন

    সোমবারই সিইও অফিসে গিয়ে মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন শুভেন্দু। সিইও-র সঙ্গে বৈঠকের সময় আইপ্যাককে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আইপ্যাকের সাহস হয় কীভাবে, ডেটা এন্ট্রিতে ঢুকছে?” এজন্য সিবিআই তদন্তও দাবি করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। আইপ্যাককে নিয়ে আগেও বোমা ফাটিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আইপ্যাকের সাহায্য নিয়ে ভোটার তালিকায় ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নাম রাখছে (SIR)। তাঁর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশন কি এই প্রশাসনিক অন্তর্ঘাত উপলব্ধি করতে পারছে না?”

    দলদাস প্রশাসনের কীর্তি

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “দলদাস প্রশাসনের কীর্তি দেখুন। এই ভয়েস ক্লিপিং ফলতারই একজন বিএলওর যিনি পরিষ্কার অভিযোগ করেছেন, ফলতার বিডিও এবং এআরও গতকাল বিকেল তিনটের পর সব বিএলওদের ফোন করে নির্দেশ দেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও মৃত ব্যক্তির নাম কাটা যাবে না। অথচ পরিবারের লোক মৃতদের এনুমারেশন ফর্মে ডিক্লিয়ারেশন স্বাক্ষর করেছেন (Suvendu Adhikari)। বিএলওদের বলা হচ্ছে, ফর্মগুলি আপলোড না করে, অ্যানিম্যাপিং করে ছেড়ে দিতে, কেন যাতে পরে জোচ্চুরি করা যায়!” শুভেন্দু বলেন, “ফলতা নিয়ে অডিও ট্যুইট করেছি। তার পরে কুলতলিতে স্ক্রিনশট দিয়েছি। বলছে, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া মৃত ভোটারের নাম কাটা যাবে না। অথচ তাঁর বাড়ির লোক লিখে দিচ্ছেন ডেড। তবুও রাখতে হবে। এরা হাইকোর্ট, কাউকে মানে না। এদের কপালে অনেক দুঃখ আছে (SIR)।”

    অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও

    এদিকে, মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল। এমন মারাত্মক অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও (Suvendu Adhikari)। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক্স হ্যান্ডেলে একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করে কার্যত একই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এই অডিও ক্লিপে একটি কণ্ঠস্বর এক বিএলওর। যিনি ফলতার বিডিও এবং এআরওর নামে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করছেন। সোমবার সিইওর দফতরে সিপিএমের তরফে যে অডিও ক্লিপ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও শোনা গিয়েছে, মৃতদের নাম ভোটার লিস্টে রেখে দিতে, ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ার প্রসঙ্গ।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে ১০০ শতাংশ পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম ফেরত এসেছে। অর্থাৎ এই পোলিং স্টেশনগুলিতে না কোনও মৃত ভোটার আছে, না কোনও স্থানান্তরিত ভোটার। এমনটা কি আদৌ সম্ভব? এই পরিসংখ্যান নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই বারংবার প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভোটার তালিকায় মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে রাখার মরিয়া (SIR) চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল (Suvendu Adhikari)?

LinkedIn
Share