Tag: Strait of Hormuz

  • Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। তাই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফের ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তিনটি রিফাইনিং সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ ও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থপ্রদানের শর্ত-সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র (Iran War)

    এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারী দেশের তুলনায় ভারতে তেলের মজুত কম। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত রাশিয়ান তেল বুকিং করতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবশ্য ভারত সরকারের কোনও মন্তব্য আপাতত মেলেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলিও ইরানি তেল কেনা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে এমন সব তেলের ক্ষেত্রে, যা ২০ মার্চের মধ্যে কোনও জাহাজে তোলা হয়েছে এবং ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হবে। এই তথ্য জানিয়েছে অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল।

    হ্রাস পাচ্ছে জ্বালানি রফতানি

    কেপলারের সিনিয়র ডেটা ম্যানেজার ইম্যানুয়েল বেলোস্ত্রিনোর মতে, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে। এগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগর থেকে শুরু করে চিনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে রয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ১৯ মার্চ জানিয়েছিল, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম। এশিয়া তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রফতানিও হ্রাস পাচ্ছে।

    কেপলারের তথ্য

    ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চিন ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি দৈনিক ১৩.৮ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল এড়িয়ে চলে এবং এতে বড় ধরনের মূল্যছাড় পাওয়া যায়। ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। যেমন, অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া, আগে যারা ইরানি তেল কিনত, তাদের অনেকেরই জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির (NIOC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর ইরানি তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়মনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবাই যত দ্রুত সম্ভব এগোতে চাইবে।” উল্লেখ্য যে, কোম্পানির নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল। চিন ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগে ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক।

     

  • Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও দুই অপরিশোধিত তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ পার করবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অস্থির হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পতাকাবাহী আরও দুইটি এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) এবং ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant)—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে ওই দুই জাহাজ। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই যাত্রার সংকেত পাঠাতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই তারা রওনা দিতে পারে।

    ভারতীয় জাহাজগুলির অবস্থান

    ২ দিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর ‘পাইন গ্যাস’ এবং ভারত পেট্রোলিয়ম-এর (Bharat Petroleum) ‘জগ বসন্ত’ ও রয়েছে। দু’টি জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। সহজ ভাষায় বললে, রান্নার গ্যাস আসছে। জাহাজ দু’টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে রয়েছে। তবে শীঘ্রই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয়। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যেই এলপিজি নিয়ে সেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের সুসম্পর্ক এবং ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ফলেই এই সুযোগ মিলেছে।

    তেল পরিবহণে স্থবিরতা, সীমিত চলাচল

    গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে কোনও ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। ইরানের হুঁশিয়ারির পর বহু জাহাজই নোঙর করে অপেক্ষা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান ওই প্রণালীর উপর ‘দখল’ রেখেছে। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান।

    ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ

    এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার নিরাপদ নৌ-চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল এখনও সম্ভব। এই দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, এটি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কিনা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ইরান থেকে তেল আমদানি!

    আগেই হরমুজ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বারবার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সেদেশ থেকে ফের অপরিশোধিত তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারি। তেল কেনা নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত কিছুটা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায়, সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছিল ভারত। যদিও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো অতিরিক্ত তেলের জোগান এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ইরান থেকে পুনরায় ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু করার বিষয়ে প্ল্যান করছে। তেহরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগেই ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইরানের তেল মন্ত্রকের বক্তব্যই কিছুটা চিন্তার বিষয়। তাদের দাবি, বর্তমানে কোনও ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই।

    ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন

    হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”

    ভারতের জন্য কী বার্তা?

    কয়েকদিন আগেই ভারতের দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে। হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ-জর্জরিত পশ্চিম এশিয়া। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত-এর প্রেক্ষিতে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এই আবহে ভারত সরকার দেশের জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) আরও যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গালফ অফ ওমান অঞ্চলে বর্তমানে থাকা তিনটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে আরও কয়েকটি জাহাজ যোগ করা হবে। এতে করে প্রণালীর পূর্ব দিকে মোট যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ছয় থেকে সাতটিতে পৌঁছাতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

    এই সপ্তাহের শুরুতেই একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হওয়া। এটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেয়। এর আগে, “শিবালিক” এবং “নন্দা দেবী” নামের দুইটি এলপিজি বাহক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশন সঙ্কল্প

    এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি অপারেশন সঙ্কল্প (Operation Sankalp)-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে আস্থা বজায় রাখা। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে গাল্ফ অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনী নিয়মিত জলদস্যু বিরোধী টহল চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপথে ভারতের বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিরাট সাফল্য পেয়েছে ভারত। গত তিনদিনে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ। সোমবার এবং মঙ্গলবার এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছেছিল ভারতে। জানা গিয়েছে, বুধবার আশি হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি অশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের জাহাজ ‘‘জাগ লড়কি’’। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে এসেছে জাহাজটি। গত শনিবার আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করা হচ্ছিল ভারতীয় জাহাজটিতে। সেসময়েই বন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। হামলা সামলে তেল বোঝাই জাহাজ আমিরশাহীর বন্দর ছাড়ে রবিবার। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময়ে সাময়িক ভাবে আটকে পড়ে জাহাজটি। অবশেষে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের মুন্দ্রা বন্দরে এসেছে জাগ লড়কি। অন্তত ৮০ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন অশোধিত তেল রয়েছে এই জাহাজে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জাহাজটি নিরাপদে মুন্দ্রায় এসে পৌঁছেছে।

    হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    পশ্চিম এশিয়ার উপকণ্ঠে হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও। তবে নৌবাহিনীকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা কোন জাহাজ পাহারা দিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু খোলসা করতে চাননি। হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। দেশে এলপিজি মজুত এবং জোগানের পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে যৌথ ভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ মন্ত্রকের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রতিনিধিরা।

    ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয়

    ইরানে আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্রদের সাহায্যে তৎপর হয়েছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানের সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে ওই দেশ ছাড়তে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিন্‌হা। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয় আছেন। তাঁরা সকলে সুরক্ষিত। নতুন করে কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়া থেকে জলপথে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে এসেছে ১২৫টি ফোন এবং ৪৫০টি ইমেল।

     দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ

    পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখনও গ্যাসের ডিলারদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যদিও অনলাইন বুকিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৯৩ শতাংশ বুকিং এখন অনলাইনে হচ্ছে। কিন্তু অনেক ডিলারের কাছে এখনও লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, বুকিংয়ের পর একটু অপেক্ষা করুন। সিলিন্ডার ঠিক পৌঁছে যাবে।’’ যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশে পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়েনি, জানিয়েছেন সুজাতা। বিমান চলাচলের জন্যেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। জ্বালানির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান— আগে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হবে এবং তার পর বাইরে পাঠানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।

  • LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবারই ভারতে এসে পৌঁছেছিল শিবালিক নামক এলপিজি ট্যাঙ্কার (LPG Tanker Reached India)। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সেই জাহাজটি এসে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে এটি ভারতের উপকূলে এসে পৌঁছেছে। আর মঙ্গলবার ‘নন্দাদেবী’ নামক আরও একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতে এসে পৌঁছল। এই জাহাজটিও এলপিজি বহন করছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পেট্রোলিয়ম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও দুই ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির ফলে এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে।

    বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ

    সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় নৌবাহিনী তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাটসহ দুটি জাহাজ আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ছিল। তৃতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ বিশেষভাবে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে ভারতমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌজাহাজগুলি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর জুড়ে টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকিকে প্রতিরোধ করা এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    আসছে আরও একটি জাহাজ

    শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামক দুটি ট্যাঙ্কারই ভাড়া করেছিল ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। এবং এই দুটি জাহাজই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। এদিকে ‘জগ লড়কি’ নামক আরও একটি ট্যাঙ্কার শীঘ্রই ভারতে এসে পৌঁছানোর কথা। এটিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসছে। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে যাওয়ার কথা এই ট্যাঙ্কারের। এই জাহাজটি ৮১ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছে।

    কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই কাজ

    জানা গিয়েছে, ভারত ও ইরানের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই এই দুই জাহাজের নিরাপদ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। তবে সব জাহাজের জন্য একযোগে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। প্রতিটি জাহাজের যাত্রা আলাদাভাবে আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “এটি কোনও বিনিময়ের বিষয় নয়। ভারত ও ইরানের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে প্রতিটি জাহাজের বিষয় আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে।” এই সংকটকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আমেরিকার অদ্ভুত দাবি

    হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের নিশ্চয় কোনও চুক্তি হয়েছে এবং বিনিময়ে ইরান ‘কিছু পাবে।’ যদিও মার্কিন কর্মকর্তার এহেন দাবিকে উড়িয়ে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এখনও অধিকাংশ দেশের জন্য খোলা রয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর অবস্থান

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিশ্ববাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নিরাপত্তা অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কী বললেন বিদেশমন্ত্রী

    হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেল এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সম্পূর্ণ ছাড় দেয়নি ইরান। প্রত্যেক জাহাজ ভিত্তিক আলাদা করে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। এমনটাই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভারতের। প্রতিটি জাহাজ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের আবেদন মেনে হরমুজ প্রণালীকে ইরানের দখলমুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না ভারত। এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক করতে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপরই জোর দেবে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, গ্যাস সংকটে বিকল্প পথ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই পিএনজি বা পাইপ দ্বারা সরবরাহ প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের যে সকল এলাকায় পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সকল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহার করতে হবে।

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

  • UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    UAE: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ ভারতীয়-সহ ৩৫জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ ইউএইর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর বা জাল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ১৯ জন ভারতীয়-সহ (Indians) মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। গত মাসের শেষ দিকে মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর  শুরু (UAE) হয় এই যুদ্ধ। ইউএইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিকৃত ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়েছে, যা বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত বিচার করা হবে। এই পদক্ষেপ করা হয়েছে দু’টি ধাপে। সর্বশেষ তালিকায় বিভিন্ন দেশের ২৫ জন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ভারতীয়। এর আগে শনিবার ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়।

    ইউএইর অভিযোগ (UAE)

    ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামস জানান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তৈরি ভুয়ো তথ্য ও কৃত্রিম কনটেন্ট ছড়ানো রুখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়ামের (WAM) উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তদন্তে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছে। এর মধ্যে ছিল বর্তমান ঘটনাবলীর আসল ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা, আই ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা, এবং সামরিক আগ্রাসনে জড়িত একটি রাষ্ট্রের প্রশংসা করে প্রচার করা।

    প্রথম দলের ১০

    জানা গিয়েছে, প্রথম দলের ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন ৫ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালি, ২ জন ফিলিপিনো এবং ১ জন মিশরীয়। তাঁরা দেশের আকাশসীমায় মিসাইল চলাচল ও প্রতিরোধের আসল ভিডিও প্রচার করেছিল। এসব ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হওয়া মানুষের ভিডিও করে তাতে এমন মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এতে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল এবং দেশ বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত (UAE)। দ্বিতীয় দলে ৭ জন ছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জন ভারতীয়, ১ জন নেপালি এবং ১ জন বাংলাদেশি (Indians)।

    এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও

    তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও বা দেশের বাইরের ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে দাবি করেছিলেন যে এগুলি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ঘটেছে। এসব ভিডিওয় বিস্ফোরণ ও মিসাইল হামলার কৃত্রিম দৃশ্য দেখানো হয়েছিল এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সেখানে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ যুক্ত করা হয়েছিল। আর তৃতীয় দলে ৬ জন ছিলেন। এঁর মধ্যে ৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন পাকিস্তানি। অভিযোগ, তাঁরা ইরানের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন, যেখানে সেই দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক সামরিক কর্মকাণ্ডকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ

    সরকারের বক্তব্য, এতে শত্রুপক্ষের প্রচারকে শক্তিশালী করা হয়েছে, ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থ। এছাড়া আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সরকারি কৌঁসুলির দফতর তাঁদের আটক করে রাখার নির্দেশ দেয় (Indians)। অ্যাটর্নি জেনারেল আল শামস বলেন, “তাঁরা এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়েছিল, যেখানে ইউএইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা বা বড় অগ্নিকাণ্ড দেখানো হয়েছিল (UAE)। ইউএই আইনে এই ধরনের অপরাধের শাস্তি হল, কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১,০০,০০০ দিরহাম জরিমানা। তিনি বলেন, “এসব ঘটনার উদ্দেশ্য ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা দুর্বল করা।”

    নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণা

    কিছু ভিডিওতে শিশুদের আবেগকে ব্যবহার করে নিরাপত্তা হুমকির মিথ্যে ধারণাও তৈরি করা হয়েছে। কিছু ভিডিওয় আবার দেশের সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বা বিদেশের ঘটনাকে ইউএইয়ের ঘটনা হিসেবে দেখানো হয়েছে। রবিবার সকালে উপসাগরীয় দেশগুলি, যার মধ্যে ইউএইও রয়েছে, নতুন করে হামলার খবর জানায়। এর একদিন আগে ইরান ইউএইয়ের তিনটি বড় বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশের অ-মার্কিন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিল (Indians)। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউএইয়ের বন্দর, ডক ও ঘাঁটি ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এই দ্বীপেই রয়েছে ইরানের প্রধান তেল রফতানি টার্মিনাল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি ইরান (UAE)। এদিকে, যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি আশা করেন মিত্র দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

     

  • Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    Kharg Island: ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খার্গ দ্বীপে হামলা আমেরিকার, ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের তেলের বাজারে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় শুক্রবার ইরানের খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) বড় ধরনের হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক টার্গেট ধ্বংস করে (Global Oil Crisis)। এই দ্বীপটিকে ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ বলা হয়। কারণ এটি দেশের তেল রফতানি নেটওয়ার্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কী বললেন ট্রাম্প? (Kharg Island)

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কেবল সামরিক পরিকাঠামোগুলিকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে এবং দ্বীপের জ্বালানি পরিকাঠামো এড়িয়ে চলা হয়েছে।” তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি তেহরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে থাকে, তাহলে দ্বীপে থাকা তেলের মজুত ভবিষ্যতে টার্গেট হতে পারে।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি যদি দিন দিন এভাবে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে তা বড় ধরনের সংঘাতের রূপ নিতে পারে। কারণ তখন তারা আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা করা আঞ্চলিক তেল কোম্পানিগুলির জ্বালানি পরিকাঠামোকেও টার্গেট করতে বাধ্য হবে।

    খার্গ দ্বীপ কোথায়?

    ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে এবং হরমুজ প্রণালীর প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ। এটি পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি কৌশলগত তেল টার্মিনাল। এই দ্বীপকে বলা হয় ইরানের ‘তেলের জীবনরেখা’। ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে দ্বীপে তেল নিয়ে আসে এবং সেখান থেকে তা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)। এই দ্বীপে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে গেলে, তা ব্যাপক প্রভাব ফেলবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অর্থনীতিতে।

    কেন খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    ১৯৮৪ সালের একটি গোপন নথি থেকে প্রাপ্ত সিআইএ নোট অনুযায়ী, দ্বীপটির তেল পরিকাঠামোগুলি ইরানের পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির অর্থনীতি ও ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত পাইপলাইনগুলি সমুদ্রপথে ইরানের বড় বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত (Global Oil Crisis)। জানা গিয়েছে, সমুদ্রের তেলক্ষেত্র আবুজার (Aboozar), ফোরুজান (Forouzan) এবং দোরুদ (Dorood) থেকে অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনালে আসে। এরপর জলের নীচের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা স্থলভাগের পরিশোধনাগারে পৌঁছয়। সেখানে প্রক্রিয়াকরণ করার পর তেল সংরক্ষণ করা হয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয় (Kharg Island)।

    প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে তেলের দামে

    এই দ্বীপে ইরানের তেল মন্ত্রক পরিচালিত তিনটি বড় জ্বালানি পরিকাঠামোও রয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম বড় হল ফালাত ইরান অয়েল কোম্পানি (Falat Iran Oil Company)। এই কোম্পানি প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দ্বীপটিতে খার্গ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি-সহ একটি বড় পরিকাঠামো রয়েছে, যা তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ ও রফতানির জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বীপের ওপর কোনও সামরিক হামলা, যেখানে সাধারণ নাগরিকরাও বসবাস করেন (Global Oil Crisis), বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Kharg Island)।

     

  • Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    Iran: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতগামী দু’টি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran)। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালির বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরেই মিলেছে এই খবর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈশ্বিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই পেতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার  পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য। এই সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নজর রাখছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রদূতকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ভারত কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তখনই তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভবিষ্যতেই আপনি তা দেখতে পাবেন। আমার মনে হয় দুই বা তিন ঘণ্টার মধ্যেই।” ফাথালি বলেন, “ভারত ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই অঞ্চলে দুই দেশেরই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারতের এই অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।” ইরানি রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। এই সম্পর্ককে তিনি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও ভারত বন্ধু। আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, রয়েছে অভিন্ন বিশ্বাসও।” কঠিন সময়ে ইরানকে যে ভারত সাহায্য করেছিল, তাও এদিন মনে করিয়ে দেন ফাথালি। তিনি বলেন, “ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি বলতে পারি, যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছে।”

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয় (Iran)। এই পথে চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। কারণ দেশটি তার বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এই অঞ্চল থেকেই আমদানি করে (Hormuz Strait)। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন সরকার ও শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির ওপর নিরন্তর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের জন্য নিরাপদ পথের ইঙ্গিত দেন ফাথালি।

    ভারতে আসছে একের পর এক জাহাজ

    যে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কারকে হরমুজ পার করার অনুমতি দিয়েছে ইরান, সেগুলি হল— শিবালিক ও নন্দাদেবী। এরমধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক ভারতীয় নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালী পার করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে। দ্বিতীয় জাহাজ নন্দাদেবী আজ, শনিবার ভোরের দিকে ওই প্রণালী অতিক্রম করবে বলেই খবর। মেরিনট্র্যাফিকের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ শিবালিকের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূল থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে, তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের মধ্যেই ছিল। অন্যদিকে, নন্দাদেবীকে শুক্রবার ইরানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে দেখা গিয়েছে বলে মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাস লাফান নোঙরস্থলে অবস্থান করেছিল এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জলসীমার দিকে যাত্রা করে। এছাড়াও, আরও একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের শনিবার ভারতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই জাহাজে আসছে সৌদি আরবের তেল। লাইবেরিয়া পতাকাবাহী স্মিরনি সুয়েজম্যাক্স ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার (সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ লাখ ব্যারেল), অচিরেই ভারতের একটি বন্দরে পৌঁছবে বলেও আশা করা হচ্ছে (Hormuz Strait)। এই তেল নেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (Iran)।

LinkedIn
Share