Tag: Strait of Hormuz

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

  • US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে ফের নতুন করে সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা (US)। বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে নতুন করে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    মার্কিন বাহিনীর কৈফিয়ত (US)

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।” আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানান, বুধবারের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে (US)।এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়ে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং কাছের কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    কী বলছেন ট্রাম্প

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।” এদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরানের) ওপর কঠোর হামলা চালাব (US)।” পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, “গতকালের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আবার এমন কিছু ঘটলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে (Iran)।” এর আগে তিনি বলেন, “যা কিছু ঘটবে, খুব দ্রুতই ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “কাজটি পুরোপুরি শেষও করে দিতে পারে।” অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুবই আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয়, বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের সঙ্গে যদি নতুন কোনও চুক্তিও করি, সেটি টিকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। আমি তাদের খুবই অসৎ বলে মনে করি (US)।”

    একের পর এক জায়গায় হামলা

    তবে ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি আবার পুরোপুরি যুদ্ধের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে কি না, সেটিও এখনও অনিশ্চিত বলেই জানান তিনি। বুধবারের হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বৃহত্তম বন্দর বন্দর আব্বাস। সেখানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরটিতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে (Iran)। এছাড়া উত্তরের আককালা এলাকার একটি রেলসেতুতেও হামলার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    চাবাহার, কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর এবং আবু মুসা দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি বন্দরে ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। চাবাহারে একটি হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (US)। মার্কিন হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শহিদ খামেনি আমাদের শিখিয়েছেন আমেরিকাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এবং মিথ্যা একদিন ধ্বংস হবেই। ইরানিদের কঠোর জবাবের জন্য অপেক্ষা করুন।” ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব স্বীকার করা অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংঘাতের প্রভাব

    মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ইরান বুধবার দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে তারা বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকার তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি (Iran)। এদিকে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৭৯ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের বেশি যে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল, বর্তমান দর এখনও তার ঢের নীচে রয়েছে (US)।

     

  • PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দুদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে আশাবাদী পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস। দেশটির বিদেশমন্ত্রী ব্যারি ফাউরে (Barry Faure) জানিয়েছেন, এই (Cyber Security Pacts) সফরের মাধ্যমে ভারত ও সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলসে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির (Patrick Herminie) আমন্ত্রণে তিনি সে দেশের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাউরে বলেন, “বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেই আশা। শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, মহাকাশ সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আইনি সাহায্যের মতো নতুন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি জানান, ভারত ও সেশেলসের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেশেলসের প্রাকৃতিক সম্পদ ও রফতানি সক্ষমতা যেমন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের বিশাল পর্যটন বাজার ও ভোক্তা অর্থনীতিও সেশেলসের জন্য নয়া সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে (PM Modi)।

    মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

    পর্যটনকে সেশেলসের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে ফাউরে জানান, দেশটির মোট ডিডিপির(GDP) প্রায় ৩০ শতাংশই পর্যটন শিল্প থেকে আসে। বর্তমানে ভারতের মুম্বই থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দিল্লি-সহ ভারতের আরও বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের কারণে তাঁর এই সফর সেশেলসকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও বেশি পরিচিত করে তুলবে। আমরা আশা করছি, ভারত থেকে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (PM Modi)।”

    বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ চালুর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির ভারত সফরের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। এই যোগাযোগ চালু হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের (Cyber Security Pacts)। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফাউরে জানান, এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রত্যাশিতভাবেই জলদস্যুদের উপদ্রব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

    জলদস্যুদের উপদ্রব

    তিনি বলেন, “অতীতে আমরা জলদস্যুদের উপদ্রবের জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। এখনও হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের বিভিন্ন ঘটনাবলি সরাসরি সেশেলসের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ভারত-সেশেলসের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত (PM Modi) মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, পর্যটন, সংযোগ ব্যবস্থা এবং (Cyber Security Pacts) সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব পৌঁছতে পারে নয়া উচ্চতায়।

     

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বাক্ষরিত হল ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি । বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সমঝোতাপত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজ করছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমঝোতাপত্রের নথিতেও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। চুক্তি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে তেহরানও। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের আপাত অবসান ঘটল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্যই হল দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।

    ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর

    মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার দুই রাষ্ট্রনেতার ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর আগে রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছিলেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তির হার্ড কপিতেও স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং এর ছবি ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।”

    জেনেভা বৈঠক থাকলেও হবে না স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

    প্রথমে জানা গিয়েছিল, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে। তবে তার আগেই সমঝোতাপত্রে সিলমোহর পড়ায় জেনেভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেহরানের দাবি, জেনেভার শান্তিবৈঠক আগের সূচি মেনেই হবে। ইরানি কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার বৈঠকের উদ্দেশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা নয়। তারা জানায় যে দলিলটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডে কোনও মুখোমুখি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    তেল রফতানি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি

    ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে বাধাহীনভাবে তেল রফতানির সুযোগ দিতে হবে এবং সেই বিক্রির অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তেহরানকে কোনও পরিবহন বা বিমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই তার তেল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং সেই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি জানান, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলবে।

    ৬০ দিনের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি

    সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন কোনও পক্ষই এমন পদক্ষেপ নেবে না যা চুক্তিকে দুর্বল করতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। বাঘেই এই ব্যবস্থাকে “প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি” বলে উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থান

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির ফারসি ও ইংরেজি উভয় সংস্করণেই একই ধরনের শর্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাতে স্বাক্ষর করেছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে

    ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। বাঘেই বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার জন্য নয়, ব্যবহারের জন্য তৈরি।” প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে চুক্তি কার্যকর হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে।

    নতুন ব্যবস্থায় খুলবে হরমুজ প্রণালী

    প্রধান আলোচক কালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুললেও তা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই ইরান সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিষেবা ফি নেওয়া হবে।

    ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

    চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কালিবাফ। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রকল্পেও এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

    পাকিস্তানের দাবি

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারককে “ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি” বলা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে বলেও জানান তিনি। শরিফের মতে, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় ভূমিকা নেবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।

    যুদ্ধ উদ্বেগে গোটা বিশ্ব

    গত ১৫ সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ উদ্বেগে রেখেছিল গোটা বিশ্বকে। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা যায়। এর প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতেও। শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে হরমুজ প্রণালীর উপর থেকেও অবরোধ এবং যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই জলপথ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আর কোনও বাধা রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, রবিবারই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত করবে আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, ওই দিনেই ৮০-তে পা দেন ট্রাম্প। আমেরিকা এবং ইরান অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিন ধরে বোঝাপড়া করতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের তরফে অবশ্য বার বারই জানানো হচ্ছিল যে, তারা চুক্তির শর্তগুলি খতিয়ে দেখছে।

     

     

     

     

     

  • US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানের পথে। যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। রবিবার, ১৪ জুন তিনি ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সম্মত হয়েছে। লেবানন সহ সমস্ত জায়গায় মিলিটারি অপারেশন বন্ধ করা হবে অবিলম্বে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালীও খুলে গিয়েছে (Strait of Hormuz Re-Opening)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও জাহাজকে টোল বা ট্যাক্স দিতে হবে না। ট্রাম্প বলেন যে এই শান্তিচুক্তি ওই এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরাতে বিরাট বড় পদক্ষেপ। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রথম এই ঘোষণা করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিচ্ছি। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।” এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধের “তাৎক্ষণিক সমাপ্তি” ঘটছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে নতুন আলোচনা শুরু হবে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে?

    • হরমুজ প্রণালী: প্রথমেই ট্রাম্প জানান যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা কর মুক্ত হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবে শান্তিচুক্তি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে চুক্তির নিয়মে।
    • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়: আমেরিকা ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসার যে পথগুলি বন্ধ করে রেখেছিল, তাও তুলে নেবে ৩০ দিনের মধ্যে। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহার করা হবে।
    • ইরানকে আর্থিক সাহায্য: খসড়া প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করবে। ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বিদেশি ভাঁড়ারে। সেই টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। শান্তিচুক্তিতে সই করার আগেই এই তহবিলের অর্ধেক টাকা দাবি করা হয়েছে।
    • ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাকি এই চুক্তিতে আপত্তি করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা ফাঁস করে দেন সাংবাদিক বৈঠকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকলেও, এই চুক্তি ইজরায়েলকে সম্ভাব্য বিরাট বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনাও হবে এই শান্তিচুক্তিতে, তা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু শক্তি নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের মিলিটারি অভিযান শুরু হবে।

    আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি

    চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের পথে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

    বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

    শান্তিচুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতেই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “এই চুক্তির ফলে শুধু এখনই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও জ্বালানির দাম কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলবে।”

    যুদ্ধের অবসান!

    গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে দুই দেশ এগোলেও, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত বিশ্ববাসীর নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

    শান্তিচুক্তি না হলে কী হবে?

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সম্মতি না দেয়, তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। আর যদি এই চুক্তিই ভেঙে যায়, তাহলে তিনি হয় তেহরানে ফের হামলা শুরু করবেন, নয়তো আমেরিকাকে মধ্য প্রাচ্যের অভিভাবক (Guardian of the Middle East) করে তুলবেন। এর বিনিময়ে তাদের ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া রাজস্বের ২০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে।

  • Indian Seafarers Dead: হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, শোক প্রকাশ কেন্দ্রের, পাশে থাকার বার্তা সোনোয়ালের

    Indian Seafarers Dead: হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, শোক প্রকাশ কেন্দ্রের, পাশে থাকার বার্তা সোনোয়ালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মৃতদেহ ভারতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীর কাছে পালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি সেট্টেবেলোতে হামলার ঘটনায় (Settebello Tragedy) নিহত হন ওই তিন ভারতীয় নাবিক।

    সর্বানন্দ সোনোয়ালের বক্তব্য (Indian Seafarers Dead)

    বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে সোনোয়াল জানান, প্রথমে নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত তিন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতের সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সোনোয়াল জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং মৃতদের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। জানা গিয়েছে, হামলার সময় এমটি সেট্টেবেলো জাহাজে মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁদের পরিবারে।

    মৃত নাবিকদের পরিবারে কান্নার রোল

    উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা নিহত নাবিক শিবানন্দ চৌরাসিয়ার বাড়িতে কান্নার রোল। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিবানন্দের ভগ্নিপতি সঞ্জয় চৌরাসিয়া জানান, ঘটনার আগের সন্ধ্যায়ই তাঁর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি ইরানের একটি জাহাজে থাকার কথা বললেও, কোনও বিপদের কথা জানাননি। শিবানন্দের বাবা রামজি চৌরাসিয়া বলেন, “শেষবার রাত ৯টার দিকে কথা হয়েছিল এবং ছেলে জানিয়েছিল সব কিছু ঠিক আছে। পরে খবর আসে জাহাজে বোমা হামলা হয়েছে।” প্রতিবেশীদের দাবি, শিবানন্দই ছিলেন চৌরাসিয়া পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। তাঁর আয়েই ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থার।

    উদ্বেগ প্রকাশ রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের

    এদিকে, ফরওয়ার্ড সিম্যানস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, হামলার পর থেকেই জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তখনই ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও যাচাই করা হয় (Settebello Tragedy)।অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, ফেলবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব। এতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলিই। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছিল, ওমানের উপকূলের কাছে এমটি সেট্টেবেলো জাহাজে হামলার ঘটনায় তারা নজর রাখছে, এবং ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানের তদারকি করছে। এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। শুধু তা-ই নয়, জোর দিয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর (Settebello Tragedy)।

     

  • Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিচুক্তি জলে। ইরান ও আমেরিকার (Iran-US Conflicts) মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz)। বুধবার রাতভর ইরানে গোলাবর্ষণ করেছে আমেরিকা। পালটা জবাব দিয়েছে তেহরানও। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার নিন্দা করেছে বাহারিন সেনা। কুয়েত ও জর্ডনও এই হামলার বিরোধিতা করেছে। অসামরিক নাগরিকদের উপর এই হামলা চালোনো হয়েছে বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি।

    ইরানের একাধিক শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র

    ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আগেই। সেই মতো বুধবার ইরানে আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করে মার্কিন সেনা। বুধবার রাতভার সিরিক, মিনাব-সহ ইরানের একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানি সেনা। যদিও এই হামলায় হতাহতের খবর এখনও জানা যায়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কেবল সিরিক এবং মিনাব শহরেই নয়, বন্দর আব্বাস, কাশেম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পালটা জবাব দেয় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তারা। ইরানের ইসলামিক রিভ্যালুশিনারী গার্ডের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাঘাত করে তেহরান। কুয়েত, বাহরিন-সহ একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, পাল্টা ইরানের

    বুধবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকা গত কাল জোরালা হামলা চালিয়েছে। আজ আবার ওদের (ইরান) উপর হামলা চালাতে চলেছে। ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।” ট্রাম্পের কথার সূত্র ধরেই মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ পরে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। আমেরিকাকে জবাব দিয়েছে ইরানও। সে দেশের পার্লামেন্টের জাতীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজির হুঁশিয়ারি, “যুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।” মনে করা হচ্ছে, এই মন্তব্য করে ইরান ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেই সমস্ত দেশে হামলা চালাবে তারা।

    ফের অশান্ত হরমুজ, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    আমেরিকার পাল্টা কৌশলে হরমুজ প্রণালী ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ইরান। তেহরানের হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোনও জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকার যদিও দাবি, হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়, ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সক্রিয় আমেরিকা। তব, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরান সেটি ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা চলছে।

    কেন হামলা,জানাল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে বাহরিনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরান দাবি করেছে, গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় ইরানের দাবি

    বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বিষয়টিকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে ইরান। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বাহরিনে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোটা কতটা জরুরি ছিল, তা বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদকে উপেক্ষা করেছে— এমন অভিযোগও এনেছে তেহরান। পাশাপাশি, বিষয়টি আমেরিকার পরিকল্পিত আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়, এমনটাও দাবি করেছে ইরান।

    ইরানি হামলার নিন্দা বাহরিন-কুয়েত-সৌদি-মিশরের 

    বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন, আরব-আমিরাত ইরানের হামলার নিন্দা করেছে। জর্ডান, বাহরিন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের হামলার ঘটনায় ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে মিশরও। একই সঙ্গে এই তিন দেশের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই অস্থিরতায় জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের পাশে আছে মিশর। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলার ঘটনা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। এতে বিপজ্জনক ভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাহরিন দাবি করেছে, অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা কখনওই কাম্য নয়। বাহরিন সেনা এর জবাব দিতে প্রস্তুত। সৌদি আরব ইরানের এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

  • Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    Iran: ২১ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা ইরানের, বাহরিনে ইউএস ফিফথ ফ্লিট সদর দফতরকেও টার্গেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের (Iran) চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাত (Drone Attack) আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২১টি মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস এবং বাহরিনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার।

    ইরানের দাবি (Iran)

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে জর্ডনের আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এছাড়া জর্ডনের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে, ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কুয়েত এবং বাহরিনেও নতুন করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ওই দুই দেশেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি এও জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটে নাগাদ বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম অঞ্চলের কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়।

    ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় সিরিকে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দু’টি জলের ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী বাহরিনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা (Drone Attack) চালায়। ইরানের (Iran) এহেন দাবির কিছুক্ষণ পরেই বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, দেশজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং কাছাকাছি কোনও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শুরু করেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    সেন্টকমের জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান শুরু হয়েছে, যা আগের দিনের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে টহলরত একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে। তিনি জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আমেরিকা এর উপযুক্ত জবাব দেবে। অন্যদিকে, ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও হুমকির জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কোনও হামলার জবাব দিতে ছাড়বে না।” উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে (Drone Attack)। যার বড় ধরনের প্রভাব পড়তে (Iran) পারে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

     

  • LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভারতের সাধারণ মানুষ বিশ্বের উন্নত দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস (LPG) পাচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকা ভর্তুকি (LPG)

    মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে রবিবার থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পরেও ভারতের সাধারণ মানুষকে সিলিন্ডার প্রতি বাজারের প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম টাকা দিতে হচ্ছে। দিল্লিতে বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র (PMUY) সুবিধাভোগীরা সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি (DBT) পাওয়ায় আদতে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন মাত্র ৬৪২ টাকায়। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কটের জেরে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের প্রকৃত সরবরাহ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অর্থাৎ সরকার সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকার বিপুল আর্থিক বোঝা নিজে বহন করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

    ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ভারতের চেয়ে অনেক বেশি।

    • ভারত: ৬৪২ টাকা (উজ্জ্বলা গ্রাহক), ৯৪২ টাকা (সাধারণ গ্রাহক)
    • পাকিস্তান: ১,০৪৬ টাকা
    • নেপাল: ১,২০৭ টাকা
    • বাংলাদেশ: ১,২২৫ টাকা
    • শ্রীলঙ্কা: ১,২৪১ টাকা
    • আমেরিকা (USA): ১,৭৫৫ টাকা
    • অস্ট্রেলিয়া: ১,৭৬৫ টাকা
    • কানাডা: ২,৪১১ টাকা

    পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর চ্যালেঞ্জ

    ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরামকো নির্ধারিত রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্য (Saudi CP) ছিল টন প্রতি ৫৪৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুন মাসে এই দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টন প্রতি ৭৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৫৪ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমেই দেশে আসে। এই সঙ্কটের মধ্যেও ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার নিজস্ব পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলির মাধ্যমে এই প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি করে চলেছে। তাই দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

    সরকারি ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ

    বর্তমানে দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,১১৩.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে সরাসরি দর পরিবর্তিত হলেও, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গত অর্থবর্ষের শেষে ঘরোয়া এলপিজিতে তেল সংস্থাগুলির মোট আন্ডার-রিকভারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দাম ও খুচরো দামের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৬০,০০০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি ১০.৫৮ কোটিরও বেশি উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহককে বছরে প্রথম ৪টি রিফিলের জন্য ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং রান্নার ক্ষেত্রে শক্তি-দক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

LinkedIn
Share