Tag: Strait of Hormuz

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    US Iran Conflict: ফের বোমাবর্ষণ শুরু আমেরিকার! ইরান সফর স্থগিতের পরামর্শ, সতর্কবার্তা তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে ইরান। তাই আপাতত ইরান সফরের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই নিরাপদ। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ইরানের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের জেরে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পরামর্শে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে অস্থিরতা ও সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ইরান সফর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

    ফের বোমাবর্ষণ আমেরিকার

    ইরানে ফের বোমাবর্ষণ শুরু করেছে আমেরিকা। এই নিয়ে টানা ন’দিন তারা ইরানে হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত আমেরিকান সেনার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। এর আগে ইরানের হামলায় জর্ডনের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। রবিবার সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরাকে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে সেই বোমা ফেটে মৃত্যু হয়েছে আরও এক মার্কিন সেনার। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি। এর পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই হামলা চলছে, জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের একাধিক শহরে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাশাহর এবং বন্দর ইমাম খোমেইনিতে।

    অশান্ত হরমুজ প্রণালী

    সোমবার সকালে একটি বিবৃতি জারি করে পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকান সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে কোনও বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা চালাতে না-পারে, সেই কারণে তাদের ক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে সেখানে নতুন করে আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। তবে কোথায় কোথায় বোমা ফেলেছে আমেরিকা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলার বিশদ কোনও বিবরণ মার্কিন সেনাবাহিনী দেয়নি। আমেরিকার হামলার জবাব দিচ্ছে ইরানও। তাদের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী সিরিয়ায় মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযানের সদর দফতরে আচমকা হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া, কুয়েতের দু’টি ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের নিশানায় রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, জর্ডন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। ইরানে হামলা চালানোর জন্য এই সমস্ত দেশের সেনাঘাঁটিই ব্যবহার করে ওয়াশিংটন।

    দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংসের দাবি

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে।

    বাহরিনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরিনে মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের দাবি, তাদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামার কিছু জায়গায় হামলার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাহরিনে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ

    ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, যেকোনও উদ্দেশ্যে ইরান ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সফর এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যাঁরা আপাতত ইরানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও সামরিক তৎপরতা চলা এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সব নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করার নির্দেশ

    যেসব ভারতীয় এখনও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের অবিলম্বে তা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশিকা নিয়মিত অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    কেন এই সতর্কতা?

    সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের সেতু, লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুয়েত, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এ ধরনের একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর আগেই ভারত সরকারের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাবিকদের হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও তার আশপাশে সংঘটিত হামলায় অন্তত ১৪ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিহত ভারতীয় নাবিক—সংখ্যা ৯। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই ভারত সরকার ও তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

     

     

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

  • Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্বের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে দূষণমুক্ত আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তির এই ট্রেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে ওই পরিবেশবান্ধব ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এর ফলে, হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশগুলির তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। এদিন জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন যাত্রার সূচনা করে এনডিএ সরকারের জমানায় নানা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের সঙ্কট হলেও আমাদের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়নি। ২০১৪-র আগে হরমুজ সঙ্কট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত!’’ পূর্বতন ইউপিএ সরকারের জমানায় জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল— এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন মোদি।

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উদাহরণ

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদর্শ উদাহরণ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মোদির দাবি, তাঁর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের ৯৯ শতাংশ রেলপথেরই বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জিন্দের একলব্য স্টেডিয়াম থেকে কুরুক্ষেত্র অঞ্চলে নির্মিত এলিভেটেড রেলওয়ে ট্র্যাক জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সেই সঙ্গে ১২,৪৭০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভিওয়ানির ‘পণ্ডিত নেকি রাম শর্মা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ’ এবং মহেন্দ্রগড়ের কোরিওয়াসে ‘মহর্ষি চ্যবন মেডিক্যাল কলেজ’ এবং ‘রাও তুলারাম হাসপাতাল’ হরিয়ানাবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ঘটনাচক্রে, আর মাস সাতেক পরেই হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদি শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শিখ ধর্মের ইতিহাস ও গুরুদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ‘শিখ মিউজিয়াম’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

    কী বিশেষত্ব হাইড্রোজেন ট্রেনের?

    গত ২২ মে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল বোর্ড। জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে রেল। হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে এই ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে। এই কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ফসিল ফুয়েলের জায়গায় ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে হাইড্রোজেন জ্বালানি। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

    হাইড্রোজেন ট্রেনে নীল রঙের নকশা

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের। আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

    কোন কোন রুটে চলবে?

    হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

    কত হবে ট্রেনের গতি?

    ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে। তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজ়াইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে। প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলি ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

  • Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    Strait of Hormuz: জলপথে অবরোধ করে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিল আমেরিকা! হরমুজে দু’টি জাহাজে মিসাইল হামলা ইরানের, প্রাণ গেল ভারতীয় নাবিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যে। দুই দেশ আমেরিকা-ইরানের (US Iran Conflicts) মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত। মার্কিন হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। আর এই দুই মহাশক্তির ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Killed), আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা যেমন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনই এক ধাক্কায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

    নিহত ১ ভারতীয়, আহত আরও ৬

    জানা গিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ (Mombasa) ‘আল বাহিয়াহ’ (Al Bahiyah)নামে দুটি আমিরশাহির তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ‘মোমবাসা’ জাহাজেই নিহত ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দু’জন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। যোগাযোগ করা হচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও।

    কড়া প্রতিক্রিয়া আরব আমিরশাহির

    আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করার অধিকার রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির। যেকোনও আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সেনাবাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা ব্যবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রয়েছে।

    কেন হামলা, জানাল ইরান

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, দু’টি ট্যাঙ্কার তাদের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করেছিল। জাহাজগুলি নাকি নিজেদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ‘মাইন পাতা রুট’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই ওই জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। আইআরজিসি-র অভিযোগ, আমেরিকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে একটি ভুল রুট ব্যবহার করতে উৎসাহ দিচ্ছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে আরও দেরি হবে এবং বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা

    হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ঘটনার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক ধাক্কায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮১.৯২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও এটি যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ ১২০ ডলারের চেয়ে কম, তবুও বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আবার মার্কিন হামলা ইরানে

    পরপর তিনদিন ইরানের উপর হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরানও। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা খুব জোরালোভাবে আঘাত করেছি। ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে থাকবে এবং অবরোধও ফের কার্যকর করা হচ্ছে।” এদিকে হরমুজে যাতায়াতকারী জাহাজের উপর করও আরোপ করেছে আমেরিকা।

    হরমুজের রক্ষাকর্তা আমেরিকা!

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্ক উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবার নিজেদের হাতে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। ট্রাম্প মার্কিন প্রশাসনকে এই জলপথের রক্ষাকর্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালীটি পরিচালনা করবে এবং এর নতুন নাম দেবে ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল অব দ্য স্ট্রেট’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক দাবি-পাল্টা দাবি তুঙ্গে উঠেছে।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার পাহারার কারণেই এতদিন এই রুট নিরাপদ ছিল, তাই বিশ্ববাসীর উচিত এর খরচ মেটানো। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া কোনও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা সেনাদল হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও মার্কিন বাহিনীর পাশে না দাঁড়াতে সতর্ক করেছে তেহরান। বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও ধরনের সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বলে গণ্য করা হবে। এই সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলি।

  • Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    Hormuz: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে নতুন করে হামলা আমেরিকার, উত্তেজনা চরমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ (Hormuz) প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে ঘিরে ইরানে তৃতীয় দফার সামরিক হামলা চালাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Launches Fresh Strikes)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আমেরিকার কেন্দ্রীয় কমান্ড।

    বিবৃতিতে যা জানাল আমেরিকা (Hormuz)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের তরফে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’তে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস হামলা চালিয়েছে। এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইঞ্জিন রুম, নিখোঁজ হয়েছেন এক নাবিক। ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাহাজটি আর এগোতে পারেনি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলাগুলির জন্য জবাবদিহির পরে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ ইরানকে দেওয়া হলেও, তারা তা মানেনি। এর জবাবে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী অসামরিক নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান যাতে আর হামলা চালাতে না পারে, তাই এই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এই হামলা চালানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালী!

    কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওই পোস্টের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের তার মূল্য দিতে হবে।” এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়ে দেয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই সময়ে কোনও জাহাজকে আর ওই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের অজুহাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলে থাকা প্রতিপক্ষের আরও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা, ইজরায়েল এবং যেসব আঞ্চলিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, তাদেরই দায়ী করেছে ইরান।

    অব্যাহত কূটনৈতিক তৎপরতা

    অন্যদিকে, সামরিক উত্তেজনার আবহেই কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। উত্তেজনা কমিয়ে (Hormuz) আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফের শুরুর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ইরান ঘুরে গিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। শনিবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ বদর আলবুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাঈদ আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, বৈঠকে বিশেষভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে (US Launches Fresh Strikes) আলোচনা হয়। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা আরও একবার জানিয়ে দিয়েছে (Hormuz) ওমান।

     

  • US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে ফের নতুন করে সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা (US)। বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে নতুন করে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    মার্কিন বাহিনীর কৈফিয়ত (US)

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।” আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানান, বুধবারের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে (US)।এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়ে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং কাছের কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    কী বলছেন ট্রাম্প

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।” এদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরানের) ওপর কঠোর হামলা চালাব (US)।” পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, “গতকালের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আবার এমন কিছু ঘটলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে (Iran)।” এর আগে তিনি বলেন, “যা কিছু ঘটবে, খুব দ্রুতই ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “কাজটি পুরোপুরি শেষও করে দিতে পারে।” অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুবই আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয়, বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের সঙ্গে যদি নতুন কোনও চুক্তিও করি, সেটি টিকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। আমি তাদের খুবই অসৎ বলে মনে করি (US)।”

    একের পর এক জায়গায় হামলা

    তবে ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি আবার পুরোপুরি যুদ্ধের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে কি না, সেটিও এখনও অনিশ্চিত বলেই জানান তিনি। বুধবারের হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বৃহত্তম বন্দর বন্দর আব্বাস। সেখানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরটিতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে (Iran)। এছাড়া উত্তরের আককালা এলাকার একটি রেলসেতুতেও হামলার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    চাবাহার, কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর এবং আবু মুসা দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি বন্দরে ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। চাবাহারে একটি হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (US)। মার্কিন হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শহিদ খামেনি আমাদের শিখিয়েছেন আমেরিকাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এবং মিথ্যা একদিন ধ্বংস হবেই। ইরানিদের কঠোর জবাবের জন্য অপেক্ষা করুন।” ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব স্বীকার করা অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংঘাতের প্রভাব

    মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ইরান বুধবার দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে তারা বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকার তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি (Iran)। এদিকে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৭৯ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের বেশি যে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল, বর্তমান দর এখনও তার ঢের নীচে রয়েছে (US)।

     

  • PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দুদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে আশাবাদী পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস। দেশটির বিদেশমন্ত্রী ব্যারি ফাউরে (Barry Faure) জানিয়েছেন, এই (Cyber Security Pacts) সফরের মাধ্যমে ভারত ও সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলসে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির (Patrick Herminie) আমন্ত্রণে তিনি সে দেশের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাউরে বলেন, “বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেই আশা। শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, মহাকাশ সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আইনি সাহায্যের মতো নতুন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি জানান, ভারত ও সেশেলসের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেশেলসের প্রাকৃতিক সম্পদ ও রফতানি সক্ষমতা যেমন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের বিশাল পর্যটন বাজার ও ভোক্তা অর্থনীতিও সেশেলসের জন্য নয়া সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে (PM Modi)।

    মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

    পর্যটনকে সেশেলসের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে ফাউরে জানান, দেশটির মোট ডিডিপির(GDP) প্রায় ৩০ শতাংশই পর্যটন শিল্প থেকে আসে। বর্তমানে ভারতের মুম্বই থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দিল্লি-সহ ভারতের আরও বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের কারণে তাঁর এই সফর সেশেলসকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও বেশি পরিচিত করে তুলবে। আমরা আশা করছি, ভারত থেকে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (PM Modi)।”

    বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ চালুর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির ভারত সফরের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। এই যোগাযোগ চালু হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের (Cyber Security Pacts)। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফাউরে জানান, এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রত্যাশিতভাবেই জলদস্যুদের উপদ্রব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

    জলদস্যুদের উপদ্রব

    তিনি বলেন, “অতীতে আমরা জলদস্যুদের উপদ্রবের জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। এখনও হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের বিভিন্ন ঘটনাবলি সরাসরি সেশেলসের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ভারত-সেশেলসের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত (PM Modi) মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, পর্যটন, সংযোগ ব্যবস্থা এবং (Cyber Security Pacts) সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব পৌঁছতে পারে নয়া উচ্চতায়।

     

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

LinkedIn
Share