Tag: Strait of Hormuz

  • Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    Modi Pezeshkian Discussion: ‘জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিতই ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার’ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তির বার্তা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মধ্যপ্রাচ্য যখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়েই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন মোদি (Modi Pezeshkian Discussion)। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে পণ্য ও জ্বালানির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করাই এখন ভারতের প্রধান অগ্রাধিকার। ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ওই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সোশ্যাল হ্য়ান্ডেলে সেই আলোচনার কথা তুলে ধরলেন।

    আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হওয়ার বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক দিকটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে উদ্যোগী হতে হবে। মোদি বলেন, “ওই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছি।” পশ্চিম এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যেভাবে একের পর এক হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যেভাবে উত্তেজনার আবহে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”

    ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে জোর

    আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট করে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহণ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সেই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। মোদি নিজেই তাঁর পোস্টে জানান, যুদ্ধের আবহে ভারতের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লক্ষ ভারতীয়র সুরক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে

    ভারত সরকার এই সংকট সমাধানে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার পথেই জোর দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারত যে কোনওভাবেই যুদ্ধ চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী, তা আবারও বিশ্বমঞ্চে মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, “শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের কথা আবারও ওনাকে বলেছি। আলোচনা ও কূটনীতির পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বার্তা আবার প্রমাণ করেছে ভারত শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে।

    মোদিকে বার্তা পেজেশকিয়ানের

    মোদিকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তবে তারা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইরানের স্কুল ছাত্রীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। এদিকে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ব্রিকস গোষ্ঠীর ভূমিকার তাৎপর্য তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। এর আগে ১১ মার্চ রুশ এবং পাক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরে পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, তিন শর্তে ইরান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হবে- আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও হামলা না ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ

    বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির (Abbas Araghchi) সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। এই আলোচনায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ইরানে থাকা ভারতীয়দের সহায়তা

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্র ও তীর্থযাত্রীরা আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংকটের সময় অনেক ভারতীয়কে ইতিমধ্যেই দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তর করার কাজও চলছে। সামগ্রিকভাবে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস যারা দেশ ছাড়তে চান তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে। প্রয়োজনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলপথ ব্যবহার করে সেখান থেকে বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দূতাবাস ভিসা প্রক্রিয়া, সীমান্ত পারাপার এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছে।

    ‘হরমুজ প্রণালী’

    এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই সংকটের আবহে বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রথমে ভারতীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করে, ভারত এবং ইরান, দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্য়ে কথা হওয়ার পর, ভারতের জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। কিন্তু পরে সংবাদসংস্থা রয়টার্স-ই ইরানের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায় যে, ভারতের সঙ্গে ইরানের এরকম কোনও চুক্তি হয়নি। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সম্প্রতি ৩ বার কথোপকথন হয়েছে। শেষ কথা হয়েছে জাহাজ পরিবহণের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। এর বেশি আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” তবে বুধবারই হরমুজ পার করে আসা একটি জাহাজ মুম্বইতে পৌঁছেছে। এর আগে অবশ্য গোটা বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে ইরানের সদ্য় মনোনীত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঙ্কারের সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনওভাবেই ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) খোলা হবে না। এটাকে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, “শহিদদের মৃত্যুর বদলা আমরা নেবই। কারণ, তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

    মোদির বার্তা, ভারত-ইরান যোগ কূটনৈতিক উদ্যোগ

    আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের (US-Iran Conflict) অবিরাম যুদ্ধ চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একের পর এক প্রাণহানি হচ্ছে। এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ যেতে না দিয়ে ইজরায়েল-আমেরিকার পাশাপাশি কার্যত গোটা বিশ্বের মাথাব্য়াথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কারণ এই রুট দিয়েই তেলবহনকারী জাহাজগুলি যাতায়াত করে। একমাত্র রাশিয়া ও চিনকে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতমাসে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তাঁদের কথা হল। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই এবং ইরানের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা দিলেন, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দৃঢ়তাই আরও স্পষ্ট করছে।

  • Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    Russian Oil Imports: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জের, জ্বালানি কৌশলে পরিবর্তন আনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্রুত পরিবর্তন আসছে ভারতের জ্বালানি কৌশলে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের (Middle East War) জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল (Russian Oil Imports) কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে (Russian Oil Imports)

    উপসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আসা অপরিশোধিত তেলের চালান আসতে দেরি হচ্ছে। সেই কারণেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রুড তেল আমদানিকারী দেশ ভারত এখন তার বিশাল চাহিদা পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে মার্চ মাসে ভারতের রুশ অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। আগের মাসের তুলনায় আমদানির পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনেছে। ফেব্রুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল।

    রুশ তেল কেনার পরিমাণ বাড়াল ভারত

    রুশ তেল কেনার এই পরিমাণ বৃদ্ধি এমন একটা সময়ে হয়েছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ৩০ দিনের একটি ছাড় দিয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনতে পারে। এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং ভারত-সহ বড় আমদানিকারী দেশগুলিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ সঙ্কট মোকাবিলায় সাহায্য করতে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল খরচ করে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশই আসে আমদানির মাধ্যমে। এই সরবরাহের বড় অংশই সাধারণত আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সৌদি আরব, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে (Middle East War)। তবে এই তেলবাহী জাহাজগুলির বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এই প্রণালী আদতে একটি সংকীর্ণ জলপথ। বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালীই হয়ে উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    সাধারণত ভারতের জ্বালানি আমদানির একটা বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। প্রতিদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল এই পথে আসে ভারতে। এই পথ দিয়ে ভারতে আসে রান্নার গ্যাসের (LPG) প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর প্রায় ৩০ শতাংশ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন এবং গৃহস্থালির রান্নার জন্য এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া বলেন, “মার্চ মাসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ব্যারেল ক্রুড ওয়েল আমদানির কথা ছিল ভারতের। একই সময়ে রাশিয়া থেকে তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Russian Oil Imports)।” তিনি বলেন, “জাহাজ ট্র্যাকিং ও বাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ক্রুড ওয়েল আমদানির পরিমাণ প্রতিদিন পৌঁছতে পারে ১ থেকে ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল। ফলে হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হতে পারত, তা কমে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনে নেমে এসেছে (Middle East War)।

    বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

    যদিও ক্রুড ওয়েল সরবরাহ বিভিন্ন উৎস থেকে আংশিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব, তবুও বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা- যদি উপসাগরীয় অঞ্চলে অশান্তি অব্যাহত থাকে, তাহলে এলপিজি সরবরাহের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে (Russian Oil Imports)। ভারত প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মোট চাহিদার মাত্র ৪০–৪৫ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৫৫–৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয়, যার অধিকাংশই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে।রিটোলিয়ার মতে, ভারতের ৮০–৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। তাই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল এলপিজি ব্যবহার করে, যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল আমদানি করা হয় (Middle East War)।

     

  • LPG Production: জ্বালানি ঘাটতির আবহে জরুরি বৈঠক মোদির, দেশে বাড়ানো হল এলপিজি উৎপাদন

    LPG Production: জ্বালানি ঘাটতির আবহে জরুরি বৈঠক মোদির, দেশে বাড়ানো হল এলপিজি উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগেই দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে এলপিজি উৎপাদন (LPG Production) ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১০ মার্চ সরকারি এক সূত্রেই এ খবর মিলেছে। সূত্রটি জানায়, “প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ সিলিন্ডার এলপিজি বিতরণ করা হচ্ছে, যা আগের মতোই রয়েছে। দেশের কোনও এলপিজি পরিবেশকের কাছে সরবরাহের ঘাটতি নেই। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল, তা এখন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে (India)।”

    আরও বেশি এলপিজি কার্গো (LPG Production)

    সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে যেখানে তেল বিপণন সংস্থাগুলি রেস্তরাঁ ও বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। সূত্রটির বক্তব্য, “এটি মূলত সরবরাহ ব্যবস্থাপনার বিষয়। কমিটি এখন বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করবে।” সরকারি সূত্র আরও জানায়, “আমরা এখন আরও বেশি এলপিজি কার্গো পাচ্ছি। অন্যান্য দেশ থেকেও এলপিজি এবং এলএনজি আসতে শুরু করেছে। আগে প্রায় ৪০টি ভিএলসিসি (Very Large Crude Carriers) জাহাজের ঘাটতি ছিল, তার প্রায় অর্ধেক এখন পৌঁছতে শুরু করেছে।” পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে জারি করা একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই ইউনিটগুলিকে সরবরাহ করা হবে, যেগুলি এলপিজি উৎপাদনে এটি ব্যবহার করে।

    গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার

    এতদিন পর্যন্ত কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) এবং পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস—এই দু’টি ক্ষেত্রকে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার দেওয়া হত। সোমবার গভীর রাতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে এলপিজিকেও অগ্রাধিকারের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে (LPG Production)। এলপিজি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ থেকে উৎপন্ন হয় এবং এটি অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের একটি উপজাত। প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস পৃথক ও বিশুদ্ধ করে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল অবস্থায় রূপান্তর করা হয়, যাতে সহজে পরিবহণ ও সংরক্ষণ করা যায়। এই গ্যাস সাধারণত ইস্পাতের সিলিন্ডারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ঘরবাড়ি ও রেস্তরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। নতুন বণ্টন ব্যবস্থার অধীনে প্রথমে এলপিজি, সিএনজি এবং পাইপ গ্যাস উৎপাদকদের প্রয়োজন পূরণ করা হবে, তারপর অন্য খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে (India)।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করে এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে পর্যালোচনা করেন (LPG Production)। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার এসেনসিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট (EC Act) প্রয়োগ করে দেশীয় জ্বালানি বাজারকে সম্ভাব্য বিঘ্ন থেকে সুরক্ষিত করতে পদক্ষেপ করে। মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (HPCL) জানায়, মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো এবং গৃহস্থালি গ্রাহক ও গুরুত্বপূর্ণ অ-বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করেছে।

    অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালি গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অন্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের জন্য সরবরাহ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে তেল বিপণন সংস্থার তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে (LPG Production)। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, “অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং উন্নতির দিকে (India)।” তিনি আরও বলেন, “দেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং পরিশোধিত তেল রফতানি বন্ধ করা হবে না। অন্যান্য দেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে আমদানি এখন ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১০ দিন আগেও ছিল ৫৫ শতাংশ। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ভারতীয় রিফাইনারিগুলি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে।”

    এলপিজি খরচ

    প্রসঙ্গত, ভারতে বছরে প্রায় ৩১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ গৃহস্থালি খাতে, অর্থাৎ রান্নাঘরে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি অংশ হোটেল ও রেস্তরাঁ-সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৬২ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয় (LPG Production)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আক্রমণের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পথ দিয়েই ভারত তার প্রায় ৮৫–৯০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করত, মূলত সৌদি আরব-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে (India)।

  • US Iran Conflict: হরমুজ প্রণালী বন্ধ, রাশিয়া থেকে ফের তেলের আমদানি বাড়াতে পারে ভারত

    US Iran Conflict: হরমুজ প্রণালী বন্ধ, রাশিয়া থেকে ফের তেলের আমদানি বাড়াতে পারে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান (US Iran Conflict)। তা সত্ত্বেও ভারতের তেল সরবরাহে (Oil Supply) আপাতত কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ভারতের রিফাইনারিগুলির কাছে বর্তমানে কমপক্ষে ১০–১৫ দিনের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে রিজার্ভ ট্যাঙ্কে থাকা তেল এবং পরিবহণ হচ্ছে যে তেল, দু’টিই রয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি মজুত দিয়ে ৭–১০ দিনের দেশীয় চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডরে স্বল্পমেয়াদি কোনও বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব সামাল দেওয়া যাবে বলে জানান আধিকারিকরা।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ (US Iran Conflict)

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ২৮ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিল, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে আধিকারিকরা যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ধরনের সরবরাহ বন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। কেপলার (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৭ লাখ ব্যারেল তেল, যা ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ, আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। এর বেশিরভাগই ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত থেকে আসে (Oil Supply)।

    এলপিজি আমদানি

    ভারতের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ, মূলত কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের প্রায় সব এলপিজি আমদানিও এই পথ দিয়ে আসে।  ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্নের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। আধিকারিকরা জানান, যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রণালীটি বন্ধ থাকে, তবে ভারত বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ বাড়াতে পারে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকেও কেনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়েছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যে বিঘ্ন ঘটলে আমরা আবার মস্কো থেকে কেনা শুরু করতে পারি (Oil Supply)।”

    রাশিয়া থেকে পাঠানো তেল

    তবে পরিবহণ সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ভারতে পৌঁছতে প্রায় পাঁচ দিন সময় লাগে। কিন্তু রাশিয়া থেকে পাঠানো তেল আসতে সময় লাগতে পারে এক মাস পর্যন্ত। ফলে আগাম পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে (US Iran Conflict)। এছাড়া ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার (Strategic Petroleum Reserves) রয়েছে, যা প্রায় এক সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। স্বল্পমেয়াদে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হলেও, প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে এলএনজির বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। অপরিশোধিত তেলের মতো নয়, এলএনজির বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় থাকে, ফলে স্পট মার্কেটে সরবরাহ সীমিত। ভারত বা চিন যদি বিকল্প এলএনজি উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে বৈশ্বিক দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন (US Iran Conflict)।

    আপৎকালীন প্রভাব তেলের দামে

    তবে সংকটের আপৎকালীন প্রভাব তেলের দামে ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২.৮৭ ডলার হয়, যা দিনভিত্তিক লেনদেনে ৭৩.৫৪ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, ৩০ জুলাই ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১২ ডলারের বেশি বেড়েছে (Oil Supply)। কেপলারের লিড রিসার্চ অ্যানালিস্ট সুমিত রিতোলিয়া বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে হরমুজ-সংক্রান্ত ঝুঁকি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্ণ অবরোধের সম্ভাবনা কম (US Iran Conflict)।” তিনি বলেন, “বহুমুখী উৎস, রাশিয়ার বিকল্প ব্যবস্থা এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার ও বাণিজ্যিক মজুত-সহ বহুস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ঘাটতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। নিকট ভবিষ্যতের প্রধান ঝুঁকি হল দামের অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব, কাঠামোগত সরবরাহ ঘাটতি নয়।” সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কাজ করছে বলেও জানান আধিকারিকরা (Oil Supply)।

     

  • Crude Oil Crisis: ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বিশ্বে তেল সঙ্কট! ভারতে কী প্রভাব? ‘চিন্তা নেই’, আশ্বাস কেন্দ্রের

    Crude Oil Crisis: ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে বিশ্বে তেল সঙ্কট! ভারতে কী প্রভাব? ‘চিন্তা নেই’, আশ্বাস কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাউদাউ করে জ্বলছে ইরানের তেলকূপ। সেই আগুনের লেলিহান শিখা যত ছড়াচ্ছে, ততই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে বিশ্বে। না, কোনও পরিবেশজনিত কারণে এই উদ্বেগ নয়। এই উদ্বেগ বিশ্বের চালিকা শক্তিকে ঘিরে। এই চিন্তা জ্বালানি তেলকে (Crude Oil Crisis) ঘিরে।

    শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘর্ষের (Israel Iran Conflict) মাঝে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের একের পর এক তেলের খনিতে আছড়ে পড়ছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তেহরানও। ফলে, সংঘর্ষ থামার ইঙ্গিত তো নেই-ই, উল্টে তার পরিধি ও প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি চাপা উৎকণ্ঠা (Crude Oil Crisis)।

    দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র ইরান

    কেন? বিশ্বের খনিজ তেলের ভান্ডারের প্রায় ১০ শতাংশ রয়েছে ইরানের হাতে। বিশ্বে তেল রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে রয়েছে ইরান। পেট্রোলিয়াম রফতানিকারী দেশগুলির সংস্থা ওপেক-এর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্র এটি। ইরান সহ বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলির গোষ্ঠী অয়েল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (সংক্ষেপে ওপেক) গড়ে দৈনিক ১২ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদন করে (Crude Oil Crisis)। এর মধ্যে, ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে, যার মধ্যে প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল রফতানি করা হয়। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইরান একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

    তথ্য বলছে, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘর্ষ (Israel Iran Conflict) শুরু হওয়া ইস্তক, বিশ্বের দৈনিক তেল উৎপাদনের পরিমাণ ১২ কোটি থেকে কমে ৯.৭ কোটি ব্যারেল হয়েছে। ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ঘাটতি ইরানের থেকেই উৎপন্ন। ফলে, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব তেলের বাজারে (Crude Oil Crisis)। যুদ্ধ শুরু ইস্তক আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের মানদণ্ড ব্রেন্ট-এর প্রকাশিত দৈনিক মূল্য তালিকা অনুযায়ী, জুন মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০.২ শতাংশ বেড়েছে। গত ১৪টি সেশনে বেড়েছে ৯ বার! অর্থাৎ, সেশন-প্রতি ১.৩২ শতাংশ বৃদ্ধি।

    ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে ভারত

    বিশ্বে তেল আমদানিকারী দেশগুলির অন্যতম ভারত। বর্তমানে, প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলই অন্য দেশ থেকে আমদানি করে ভারত। তবে, বিগত ২ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কমিয়েছে ভারত। এখন এই ৮৫ শতাংশের মধ্যে ৪০ শতাংশ তেলই ভারত কেনে রাশিয়া থেকে। এটা চালু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে। সেই সময় অত্যন্ত সুকৌশল অবলম্বন করে রাশিয়া থেকে সস্তায় বিপুল পরিমাণ অশোধিত তেল আমদানি শুরু করে ভারত। একটা সময় ছিল, যখন ভারত ২৭টি দেশ (মূলত ওপেক গোষ্ঠীভুক্ত) থেকে তেল আমদানি করত। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪০। ফলে, ভারতের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। যার জেরে দেশের তেল সরবরাহ সুরক্ষা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কতটা?

    তবে, ভারতের আশঙ্কা কি একেবারেই নেই? না, অবশ্যই রয়েছে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের (Israel Iran Conflict) জেরে যদি হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে একটা আশঙ্কা (Crude Oil Crisis) তৈরি হতে পারে। কী এই হরমুজ প্রণালি? কোথায় অবস্থিত? কেন এতটা তাৎপর্যপূর্ণ? হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংযুক্ত হয় এবং পরে এর মাধ্যমে তা আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়।হরমুজ প্রণালি মাত্র ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত। এই হরমুজ প্রণালির উত্তরে রয়েছে ইরান, দক্ষিণে রয়েছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। সবচেয়ে বড় কথা, এর নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ইরানের হাতে।

    কতটা প্রভাব পড়বে ভারতে?

    মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেল মূলত হরমুজ প্রণালি রুট দিয়ে ভারতে আসে। শুধু ভারত নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি তেল আমদানির অন্যতম পথ। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল (১ কোটি ৭০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি) প্রতিদিন এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো উৎপাদক দেশগুলি থেকে জ্বালানির রফতানির অন্যতম প্রধান জাহাজপথ হল এই প্রণালি। আবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির জলপথ দিয়েই যায়। এর ৮৩ শতাংশই এশিয়ার বিভিন্ন বাজারের জন্য নির্ধারিত।

    ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৩৩ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। এই রাস্তা বন্ধ হলে ইরাক, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী থেকে আসা তেলের সরবরাহ (Crude Oil Crisis) বাধাপ্রাপ্ত হবে। এর ফলে অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হতে পারে ভারতকে, যার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে তেলের দামে। শুধু তেল নয়, এই পথেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ভারত। তাই এই প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিও বন্ধ হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়।

    বিকল্প পথ তৈরি ভারতের

    তাহলে ভারতের সামনে উপায় কী? পশ্চিম এশিয়ায় সম্ভাব্য টালমাটাল পরস্থিতির (Israel Iran Conflict) কথা চিন্তা করে আগাম বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে ভারত। এখন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকা থেকেও তেল কেনে ভারত। যেগুলি ভারত মহাসাগর হয়ে আসে। তাই এগুলোই বিকল্প হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়। তবে এই দেশগুলি থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা হয় তা অনেকটাই কম। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে, সেই পরিমাণ বাড়াতে হবে। তবে, তাতে অর্থ ও সময় দুই বেশি ব্যয় হবে। ফলে, বাড়বে তেলের দাম। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রতিটি ভারতবাসী এর প্রভাব অনুভব করতে পারবে। পেট্রোলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মাসে সাংসারিক খরচও প্রতিটি পরিবারকে বেঁধে দিতে হবে, বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতিও।

    ‘চিন্তা নেই’, আশ্বাস কেন্দ্রের

    যদিও, দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে সঙ্কট তৈরি হবে না বলে অভয় দিচ্ছে ভারত সরকার। কেন্দ্রের মতে, দাম বাড়লেও, সরবরাহের কোনও ঘাটতি হবে না। তৈরি হবে না দেশে তেলের ভান্ডারগুলিতে যে পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, তাতে কোনও সঙ্কট তৈরি হবে না বলেই আশ্বাস দিচ্ছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। তারা জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৫৬ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার হয় ভারতে (Israel Iran Conflict)। এর মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০ লক্ষ ব্যারেল পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। বাকিগুলি এখন আসে অন্য রুট দিয়ে। বেশ কিছুদিন ধরে এই রুটের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনেছে দিল্লি। উপরন্তু, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, সারাদেশে বর্তমানে ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে এবং কৌশলগত মজুতও রয়েছে ১০ দিনের তেল।

    ফলে, এখনই ভারতের চিন্তার কিছু নেই (Crude Oil Crisis)।

  • Strait of Hormuz: ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি! কেন ভারতের জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?

    Strait of Hormuz: ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি! কেন ভারতের জন্য এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল মধ্যে যুদ্ধ ক্রমশই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। এই আবহে দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি তেল আমদানির অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ইরান বন্ধ করে দিতে পারে হরমুজ প্রণালি। এই হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) উত্তরে রয়েছে ইরান, দক্ষিণে রয়েছে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।

    ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত হল হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)

    হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর সংযুক্ত হয় এবং পরে এর মাধ্যমে তা আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত হয়। হরমুজ প্রণালি মাত্র ২১ মাইল বা ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত, তবে জাহাজের জন্য প্রকৃত নাব্য চ্যানেলটি মাত্র কয়েক কিলোমিটারই প্রশস্ত রয়েছে। এই কারণেই এই অঞ্চল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। এগুলি হল—ইরানের আব্বাস বন্দর, এই বন্দর মূলত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র। হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি রয়েছে ওমানের সোহার বন্দর, এই বন্দর বাণিজ্য তথা জাহাজের রুট বদলের জন্য ব্যবহৃত হয়। হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর, এই বন্দরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণ এবং জাহাজ বন্দর হিসেবে পরিচিত।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যায় বিশ্বের পাঁচ ভাগের একভাগ তেল

    হরমুজ প্রণালির (Strait of Hormuz) মাধ্যমেই আশেপাশের বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশ তেল ও গ্যাস রফতানি করে। এই কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল প্রতিদিন (১ কোটি ৭০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি) এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। সৌদি আরব, ইরাক, ইরান, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো উৎপাদক দেশগুলি থেকে জ্বালানির রফতানির অন্যতম প্রধান জাহাজপথ হল এই প্রণালি।

    ভারতের ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (EIA) যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির জলপথ দিয়েই যায়। এর ৮৩ শতাংশই এশিয়ার বিভিন্ন বাজারের জন্য নির্ধারিত। ভারতের (India) ৮৫ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল আসে এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই। তাই বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সমুদ্রপথ বন্ধ হলে তা দেশের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ। বিপুলভাবে বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম। এই হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বন্ধ হলে ইরাক, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী থেকে আসা তেলের সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হবে। এর ফলে অন্য দেশ থেকে তেল আমদানি করতে হতে পারে ভারতকে, যার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়বে তেলের দামে। শুধু তেল নয়, এই পথেই কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ভারত। তাই এই প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানিও বন্ধ হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের রফতানি (Strait of Hormuz)

    অন্যদিকে, এই পথ (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারত রফতানিও করে অনেক কিছু। যেমন যন্ত্রপাতি, বস্ত্র, গয়না, রাসায়নিক ইত্যাদি। যার ফলে এই সমুদ্রপথ বন্ধ হলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি হতে পারে। একইসঙ্গে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয় এবং তার সঙ্গে তেলের দাম বাড়ে, তাহলে বিমান সংস্থা ও টায়ার শিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের টাকাও ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়বে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে তখন আর্থিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে হবে, বিশেষ করে বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রতিটি ভারতবাসী এর প্রভাব অনুভব করতে পারবে। পেট্রোলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মাসে সাংসারিক খরচও প্রতিটি পরিবারকে বেঁধে দিতে হবে, বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতিও।

    বিকল্প কী রয়েছে ভারতের কাছে?

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকা থেকেও তেল কেনে ভারত, তাই এগুলোই বিকল্প হতে পারে যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়। তবে এই দেশগুলি থেকে যে পরিমাণ তেল আমদানি করা হয় তা অনেকটাই কম। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত এপ্রিল মাসে ভারত আফ্রিকার দেশগুলি থেকে ১২ শতাংশ তেল আমদানি করেছিল, গত মে মাসে সেটা কমে দাঁড়ায় ৫ শতাংশে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত শুরু হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যদি হরমুজ প্রণালি সত্যিই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দেশগুলি থেকে তেল কেনার কথা ভারত (India) ভাববে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এখান থেকে তেল নিয়ে তেলের ঘাটতি কতটা মেটানো যাবে, সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে দেশের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে সারাদেশে বর্তমানে ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে এবং কৌশলগত মজুতও রয়েছে ৯.৫ দিনের তেল। তবে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল নিয়ে ভাবতে হবে ভারতকে।

LinkedIn
Share