Tag: Strait of Hormuz

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

  • PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।” ঠিক এই ভাষায়ই দেশবাসীকে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি এও বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত (West Asia Crisis) বিশ্বজুড়ে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, ব্যাহত করেছে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলিতে চলাচল। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্য পথগুলি প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সার সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের ওপর এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপও করছে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী। সরকার প্রতিটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তিনি বলেন, “এই সঙ্কট ভিন্ন ধরনের এবং এর সমাধানও ভিন্নভাবে খোঁজা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে ধৈর্য, সংযম এবং শান্তভাবে।” এর পরেই দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। তবে সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজও করছে।” প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে কালোবাজারি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। দরিদ্র এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আগাম উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান সঙ্কটেও একই ধরনের ‘টিম ইন্ডিয়া পদ্ধতি’ অবলম্বন করার আহ্বান জানান (West Asia Crisis)। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রণালীতে আটকে রয়েছে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ, সেগুলিতে রয়েছেন ভারতীয় নাবিকরাও। তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে এবং সেগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ক্রু সদস্য রয়েছেন।” তিনি জানান, ভারত কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে যাতে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী চালু করা (West Asia Crisis)।” উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সঙ্কটের সময় দেশে ও বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

    আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক

    তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩,৭৫,০০০-এর বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইরান থেকে ১,০০০-এরও বেশি জন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে মানবজীবনের কোনও হুমকি মানবতার স্বার্থে নয়। ভারত সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তিনি বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে (West Asia Crisis)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড়ের চেষ্টা করছি। এই প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলিতেও চলবে।” তিনি জানান, গত ১১ বছরে ভারত ৫৩ লাখ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল মজুত করেছে।  আরও ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতার ভাণ্ডার তৈরি করার কাজ চলছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হয়েছে। তিনি ৭০,০০০ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই (PM Modi)।”

  • Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    Iran: ‘‘সংঘাত থামাতে ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে ইরানের সঙ্গে’’ দাবি ট্রাম্পের, নস্যাৎ করল তেহরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সংঘাত শেষ করতে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে।’ সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এহেন দাবি নস্যাৎ করে দিল ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। সোমবার ইরানি সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের নামে পরিচালিত এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।” গালিবাফ এই জাতীয় খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন। তিনি লিখেছেন, “ফেক নিউজ আর্থিক ও তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে আটকে রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।”

    ইরানের বার্তা (Iran)

    তাঁর এই মন্তব্য ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, “যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে বার্তা পাওয়া গিয়েছে।” এই আদান-প্রদান এমন একটা সময়ে ঘটছে, যখন আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং উভয় পক্ষই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে ইজরায়েল

    ইজরায়েল জানিয়েছে, তারা সোমবার তেহরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় এই পথেই (Donald Trump)। এই বিঘ্নের জেরে বিশ্বজুড়ে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। উদ্বেগ বাড়ছে বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে।

    ট্রাম্পের দাবি

    তবে ইরান অস্বীকার করলেও, ট্রাম্প দাবি করে চলেছেন যে আলোচনা এগিয়ে চলছে। সপ্তাহান্তে তিনি সতর্ক করে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের (Iran) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।” সোমবার এক পোস্টে অবশ্য ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত বর্তমানে চলা বৈঠক ও আলোচনা সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প (Donald Trump) আরও জানান, রবিবার ইরানের এক শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যদিও তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি (Iran)।

     

  • Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। তাই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফের ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তিনটি রিফাইনিং সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ ও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থপ্রদানের শর্ত-সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র (Iran War)

    এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারী দেশের তুলনায় ভারতে তেলের মজুত কম। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত রাশিয়ান তেল বুকিং করতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবশ্য ভারত সরকারের কোনও মন্তব্য আপাতত মেলেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলিও ইরানি তেল কেনা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে এমন সব তেলের ক্ষেত্রে, যা ২০ মার্চের মধ্যে কোনও জাহাজে তোলা হয়েছে এবং ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হবে। এই তথ্য জানিয়েছে অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল।

    হ্রাস পাচ্ছে জ্বালানি রফতানি

    কেপলারের সিনিয়র ডেটা ম্যানেজার ইম্যানুয়েল বেলোস্ত্রিনোর মতে, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে। এগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগর থেকে শুরু করে চিনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে রয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ১৯ মার্চ জানিয়েছিল, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম। এশিয়া তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রফতানিও হ্রাস পাচ্ছে।

    কেপলারের তথ্য

    ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চিন ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি দৈনিক ১৩.৮ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল এড়িয়ে চলে এবং এতে বড় ধরনের মূল্যছাড় পাওয়া যায়। ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। যেমন, অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া, আগে যারা ইরানি তেল কিনত, তাদের অনেকেরই জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির (NIOC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর ইরানি তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়মনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবাই যত দ্রুত সম্ভব এগোতে চাইবে।” উল্লেখ্য যে, কোম্পানির নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল। চিন ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগে ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক।

     

  • Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও দুই অপরিশোধিত তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ পার করবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অস্থির হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পতাকাবাহী আরও দুইটি এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) এবং ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant)—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে ওই দুই জাহাজ। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই যাত্রার সংকেত পাঠাতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই তারা রওনা দিতে পারে।

    ভারতীয় জাহাজগুলির অবস্থান

    ২ দিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর ‘পাইন গ্যাস’ এবং ভারত পেট্রোলিয়ম-এর (Bharat Petroleum) ‘জগ বসন্ত’ ও রয়েছে। দু’টি জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। সহজ ভাষায় বললে, রান্নার গ্যাস আসছে। জাহাজ দু’টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে রয়েছে। তবে শীঘ্রই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয়। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যেই এলপিজি নিয়ে সেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের সুসম্পর্ক এবং ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ফলেই এই সুযোগ মিলেছে।

    তেল পরিবহণে স্থবিরতা, সীমিত চলাচল

    গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে কোনও ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। ইরানের হুঁশিয়ারির পর বহু জাহাজই নোঙর করে অপেক্ষা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান ওই প্রণালীর উপর ‘দখল’ রেখেছে। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান।

    ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ

    এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার নিরাপদ নৌ-চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল এখনও সম্ভব। এই দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, এটি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কিনা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ইরান থেকে তেল আমদানি!

    আগেই হরমুজ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বারবার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সেদেশ থেকে ফের অপরিশোধিত তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারি। তেল কেনা নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত কিছুটা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায়, সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছিল ভারত। যদিও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো অতিরিক্ত তেলের জোগান এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ইরান থেকে পুনরায় ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু করার বিষয়ে প্ল্যান করছে। তেহরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগেই ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইরানের তেল মন্ত্রকের বক্তব্যই কিছুটা চিন্তার বিষয়। তাদের দাবি, বর্তমানে কোনও ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই।

    ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন

    হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”

    ভারতের জন্য কী বার্তা?

    কয়েকদিন আগেই ভারতের দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে। হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

  • Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    Indian Navy: হরমুজের সামনে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় টহল যুদ্ধজাহাজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ-জর্জরিত পশ্চিম এশিয়া। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত-এর প্রেক্ষিতে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এই আবহে ভারত সরকার দেশের জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) আরও যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গালফ অফ ওমান অঞ্চলে বর্তমানে থাকা তিনটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে আরও কয়েকটি জাহাজ যোগ করা হবে। এতে করে প্রণালীর পূর্ব দিকে মোট যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ছয় থেকে সাতটিতে পৌঁছাতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ

    এই সপ্তাহের শুরুতেই একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হওয়া। এটি ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে নিরাপদে ভারতের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেয়। এর আগে, “শিবালিক” এবং “নন্দা দেবী” নামের দুইটি এলপিজি বাহক জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ প্রণালীর পশ্চিমে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়, ফলে এর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর অপারেশন সঙ্কল্প

    এই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি অপারেশন সঙ্কল্প (Operation Sankalp)-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে আস্থা বজায় রাখা। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে গাল্ফ অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনী নিয়মিত জলদস্যু বিরোধী টহল চালিয়ে যাচ্ছে, যা সমুদ্রপথে ভারতের বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিরাট সাফল্য পেয়েছে ভারত। গত তিনদিনে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের বন্দরে পৌঁছেছে তৃতীয় জাহাজ। সোমবার এবং মঙ্গলবার এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছেছিল ভারতে। জানা গিয়েছে, বুধবার আশি হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি অশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটে পৌঁছে গিয়েছে ভারতের জাহাজ ‘‘জাগ লড়কি’’। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে বিপুল পরিমাণ তেল নিয়ে এসেছে জাহাজটি। গত শনিবার আমিরশাহীর ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল বোঝাই করা হচ্ছিল ভারতীয় জাহাজটিতে। সেসময়েই বন্দরটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। হামলা সামলে তেল বোঝাই জাহাজ আমিরশাহীর বন্দর ছাড়ে রবিবার। কিন্তু হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময়ে সাময়িক ভাবে আটকে পড়ে জাহাজটি। অবশেষে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের মুন্দ্রা বন্দরে এসেছে জাগ লড়কি। অন্তত ৮০ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন অশোধিত তেল রয়েছে এই জাহাজে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ জাহাজটি নিরাপদে মুন্দ্রায় এসে পৌঁছেছে।

    হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    পশ্চিম এশিয়ার উপকণ্ঠে হরমুজ প্রণালীতে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও। তবে নৌবাহিনীকে কী ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা কোন জাহাজ পাহারা দিচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু খোলসা করতে চাননি। হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রক। দেশে এলপিজি মজুত এবং জোগানের পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে যৌথ ভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নিজ নিজ মন্ত্রকের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রতিনিধিরা।

    ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয়

    ইরানে আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্রদের সাহায্যে তৎপর হয়েছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। আর্মেনিয়া বা আজারবাইজানের সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে ওই দেশ ছাড়তে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। দূতাবাস এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিন্‌হা। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম প্রান্তে আটকে থাকা ২২টি জাহাজে ৬১১ জন ভারতীয় আছেন। তাঁরা সকলে সুরক্ষিত। নতুন করে কোনও ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম এশিয়া থেকে জলপথে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে এসেছে ১২৫টি ফোন এবং ৪৫০টি ইমেল।

     দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ

    পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের কারণে দেশে এলপিজি-র জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখনও গ্যাসের ডিলারদের অফিসের সামনে লম্বা লাইন পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিশেষ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এলপিজি পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যদিও অনলাইন বুকিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ৯৩ শতাংশ বুকিং এখন অনলাইনে হচ্ছে। কিন্তু অনেক ডিলারের কাছে এখনও লম্বা লাইন পড়ছে। গ্রাহকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, বুকিংয়ের পর একটু অপেক্ষা করুন। সিলিন্ডার ঠিক পৌঁছে যাবে।’’ যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও দেশে পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়েনি, জানিয়েছেন সুজাতা। বিমান চলাচলের জন্যেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। জ্বালানির ক্ষেত্রে কেন্দ্রের অবস্থান— আগে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো হবে এবং তার পর বাইরে পাঠানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে।

  • LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    LPG Tanker Reached India: শিবালিক-এর পর নন্দাদেবী! পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যে কীভাবে হরমুজ পার করল ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবারই ভারতে এসে পৌঁছেছিল শিবালিক নামক এলপিজি ট্যাঙ্কার (LPG Tanker Reached India)। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সেই জাহাজটি এসে পৌঁছায়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে এটি ভারতের উপকূলে এসে পৌঁছেছে। আর মঙ্গলবার ‘নন্দাদেবী’ নামক আরও একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতে এসে পৌঁছল। এই জাহাজটিও এলপিজি বহন করছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুটি জাহাজকে এসকর্ট করে নিয়ে এসেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পেট্রোলিয়ম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও দুই ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতির ফলে এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে।

    বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ

    সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় নৌবাহিনী তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাটসহ দুটি জাহাজ আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ছিল। তৃতীয় একটি যুদ্ধজাহাজ বিশেষভাবে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে ভারতমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় নৌজাহাজগুলি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগর জুড়ে টহল দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য সম্ভাব্য হুমকিকে প্রতিরোধ করা এবং জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    আসছে আরও একটি জাহাজ

    শিবালিক এবং নন্দাদেবী নামক দুটি ট্যাঙ্কারই ভাড়া করেছিল ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। এবং এই দুটি জাহাজই ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। এদিকে ‘জগ লড়কি’ নামক আরও একটি ট্যাঙ্কার শীঘ্রই ভারতে এসে পৌঁছানোর কথা। এটিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতে আসছে। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে যাওয়ার কথা এই ট্যাঙ্কারের। এই জাহাজটি ৮১ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছে।

    কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই কাজ

    জানা গিয়েছে, ভারত ও ইরানের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনার ফলেই এই দুই জাহাজের নিরাপদ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। তবে সব জাহাজের জন্য একযোগে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি। প্রতিটি জাহাজের যাত্রা আলাদাভাবে আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “এটি কোনও বিনিময়ের বিষয় নয়। ভারত ও ইরানের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে প্রতিটি জাহাজের বিষয় আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে।” এই সংকটকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।

    আমেরিকার অদ্ভুত দাবি

    হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে শ’য়ে শ’য়ে ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ। ইরান বলছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ না থাকা কোনও জাহাজ তারা আটকাবে না। এদিকে আমেরিকা আবার এর ফাঁকেও ব্যবসার ফন্দি এঁটেছিল। মিত্র দেশগুলির কাছে আমেরিকার প্রস্তাব ছিল, টাকা দিলেই মার্কিন নৌসেনা এসকর্ট করে তাদের দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার করিয়ে দেবে। এরই সঙ্গে সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে যেতে দিচ্ছে ইরান। এই আবহে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের নিশ্চয় কোনও চুক্তি হয়েছে এবং বিনিময়ে ইরান ‘কিছু পাবে।’ যদিও মার্কিন কর্মকর্তার এহেন দাবিকে উড়িয়ে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এখনও অধিকাংশ দেশের জন্য খোলা রয়েছে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও তাদের মিত্রদের জাহাজের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর অবস্থান

    পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিশ্ববাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নিরাপত্তা অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিরাপত্তা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কী বললেন বিদেশমন্ত্রী

    হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেল এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সম্পূর্ণ ছাড় দেয়নি ইরান। প্রত্যেক জাহাজ ভিত্তিক আলাদা করে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। এমনটাই জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ভারতের। প্রতিটি জাহাজ নিয়ে আলাদা করে আলোচনা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের আবেদন মেনে হরমুজ প্রণালীকে ইরানের দখলমুক্ত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না ভারত। এ বিষয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক করতে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার উপরই জোর দেবে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, গ্যাস সংকটে বিকল্প পথ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই পিএনজি বা পাইপ দ্বারা সরবরাহ প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের যে সকল এলাকায় পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সকল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এলপিজির পরিবর্তে পিএনজি ব্যবহার করতে হবে।

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

LinkedIn
Share