Tag: Switzerland

Switzerland

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, মেসিকে আর ১৫ মিনিটের জন্য বিশ্বকাপে দেখা যাবে। ঠিক তখনই লাউতারো মার্তিনেজকে নামালেন স্কালোনি। মেসিও সরে গেলেন একেবারে ডান প্রান্তে। বক্সের মধ্যে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে ছেড়ে দিল মিশরের রক্ষণ। সেরাদের জন্য ওই টুকুই যথেষ্ট। শুরু হল মেসি-ম্যাজিক (Lionel Messi)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও দিন ০-২ পিছিয়ে থেকে খেলা জেতেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি, ড্র পর্যন্ত করেনি তারা। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এটা আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তন। শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়ে ০-২ পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ৩-২ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মিশরের পিরামিডের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসিই। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড।

    ১৩ মিনিটের ঝর আর্জেন্টিনার

    আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ, এদিন বার বার ভুল করেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এক সময়। কিন্তু ১৩ মিনিটের ঝরে হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে মেসির আর্জেন্টিনা। বিতর্ক থাকবে। ফাউল থেকে মিশরের গোল বাতিল, কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট যে মেসির ছিল, তা অতিবড় সমালোচকও মানবেন। ওই ১৩ মিনিটে লিয়োনেল মেসি ঢেকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সব ত্রুটি। ৭৯ মিনিট। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মেসি। হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তনের শুরুটা করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর গোল করার দায়িত্ব মেসি নিজেই নিলেন। তাঁর ক্রসে যে আক্রমণ শুরু, তা শেষ হল তাঁর পায়েই। ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত সময়ে এগোচ্ছে। ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করলেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ।

    কেন এখনও দলের ভরসা মেসি

    আরও এক বার দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন মেসি। হ্যাঁ, তিনি আবার সহজ পেনাল্টি ফস্কেছেন। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। হ্যাঁ, তাঁর ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বেরিয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ৭২ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কারের দাপটে মিশরের বক্সে ঢুকতে পারছিলেন না তিনি। সেই মেসিই ৭৩ মিনিট থেকে ডান প্রান্তে সরে গেলেন। ব্যস, সেখানেই শেষ মিশর। জায়গা তৈরি করলেন নিজের জন্য। গোল করালেন। গোল করলেন। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই। আর সেই কারণেই অসাধ্যসাধনের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অঝোরে কেঁদেছেন। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেছেন। সতীর্থেরা তাঁকে ঘাড়ে তুলে লাফিয়েছেন। মেসির কান্না বুঝিয়েছে, কতটা চাপে ছিলেন তিনি। সতীর্থদের উল্লাস বুঝিয়েছে, মেসি না থাকলে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেত তাঁদের। শুরু থেকে ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এত স্লো বিল্ড আপে মিশরের মতো গতিশীল দলকে চাপে রাখা মুশকিল। সেটাই হল এদিন। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হাসানের ক্রসে হেডে গোল করে মিশরকে প্রথমেই এগিয়ে দিলেন ইব্রাহিম। তারপরেই গোল জিকোর। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠে দাপট ছিল মিশরেরই।

    মিশরের প্রতিবাদ, বিস্ফোরক অভিযোগ হাসানের

    আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও বিশ্বকাপে হেরে গিয়েছে মিশর। বিদায় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের কোচের হোসাম হাসান। জানালেন, মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে। প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে। হাসান বলেন, “ফেয়ার প্লে-কে কোনও রকম সম্মান দেখানোই হল না। পেনাল্টি বাতিল করে দেওয়া হল। ভার-ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করল না। দ্বিতীয় গোল অদ্ভুত ভাবে বাতিল করা হয়েছে। সেখানেও ভার পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ আমরা সবাই দেখেছিলাম কী ভাবে পিছন থেকে জার্সি ধরে টানা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রেফারি ভাল ছিলেন না। অবিচার করেছেন আমাদের সঙ্গে। শুরু থেকে আমাদের বিরুদ্ধে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। উনি চাননি আমরা জিতি। এই ম্যাচ চুরি করা হয়েছে। আমাদের দোষ ছিল না।” মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে বা বিশ্বকাপ জেতাতেই ফিফা এই কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তাঁর কথায়, “ওরা বোধহয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চায়। হয়তো চায় মেসি আরও কিছু ক্ষণ খেলুক। ফুটবলে কিছু বাইরের শক্তিও রয়েছে যাদের সামনে কৌশলগত বুদ্ধি কাজে লাগে না। আর্জেন্টিনা সমস্ত বিভাগে ফিফার সাহায্য পাচ্ছে।”

    পেনাল্টি মিস, লজ্জার নজিরও মেসির

    তিনি গোল করছেন। গোল করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচে নেমে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন। কিন্তু পাশাপাশি একটি লজ্জার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে এই রেকর্ড আর কারও নেই। বার বার একটি ভুল করছেন তিনি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি ফস্কেছেন মেসি। মিশরের বিরুদ্ধে ২১ মিনিটের মাথায় নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে মিশরের ডিফেন্ডার ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট থেকে জঘন্য শট মারেন মেসি। গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। সেই শট সহজে বাঁচিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশের। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি। সে বারও গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করতে গিয়ে বাইরে মেরে বসেন মেসি। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোলের নজির

    গত বার থেকে ধরলে বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোল করলেন মেসি, যে রেকর্ড কারও নেই। বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের সংখ্যায় কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে ফারাক বাড়ালেন মেসি। তাঁর গোলের সংখ্যা ২১। এমবাপের ১৯। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলও মেসির। ৮টি গোল করেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপের সব ম্যাচে গোল করেছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে লিয়োনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড। এদিন কলম্বিয়া-সুইৎজারল্যান্ডের রাউন্ড অফ ১৬-র ম্যাচের নিষ্পত্তি হল টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গোল করতে পারেনি কোনও দলই। সুইৎজারল্যান্ড এবং কলম্বিয়া দু’দলই রক্ষণ আগলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দু’দলই বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতাই ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। প্রায় সমানে সমানে লড়াই হলেও কলম্বিয়ার দাপট তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য কথা। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে সুইৎজারল্যান্ডের কাছে হার মানতে হল কলম্বিয়াকে।

  • Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরের (New Year) আনন্দ মুহূর্তেই শোকের ছায়া পড়েছে সুইৎজারল্যান্ডের (Switzerland Fire) বিলাসবহুল স্কি রিসর্ট শহর ক্রঁ-মন্তানায়। বর্ষবরণের রাতে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। আহত হয়েছেন শতাধিক। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। জানা গিয়েছে, সুইস পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ষবরণের সময় ওই পানশালায় পার্টি চলছিল। ঠিক সেসময় আচমকাই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ষবরণের রাতে অগ্নিকাণ্ড

    সুইস পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ ক্রঁ-মন্তানার (Crans-Montana) ‘ল্য কঁস্তেলাশিওঁ’ (Le Constellation) নামে একটি বারে আগুন লাগে। সেই সময় নববর্ষ (Happy New Year) উপলক্ষে বারটির ভিতরে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের মুখপাত্র গায়েতাঁ লাথিয়ঁ জানান, “ভবনের ভিতরে বহু মানুষ ছিলেন। অনেকেই আহত, বহু মৃত্যুর খবর মিলছে। আগুন (Fire Incident) লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একটি রিসেপশন সেন্টার এবং হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

    ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র

    সুইস আল্পসের কোলে অবস্থিত ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি পর্যটনকেন্দ্র। স্কি, স্নোবোর্ডিং ও গলফের জন্য সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। রাজধানী বার্ন থেকে এই শহরের দূরত্ব প্রায় দু’ঘণ্টার পথ। ম্যাটারহর্নের উত্তর দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই শহর। প্রায় ৮৭ মাইল দীর্ঘ স্কি ও হাইকিং ট্রেল, নয়টি হ্রদ, আলপাইন অরণ্য ও তৃণভূমি— সব মিলিয়ে ক্রঁ-মন্তানা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ। শীতে বরফঢাকা ঢালে স্কি, টোবগানিং, ক্রস-কান্ট্রি স্কির সুযোগ রয়েছে। রয়েছে বড়সড় স্নো পার্ক ও শহরের কেন্দ্রস্থলে সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ আইস রিঙ্ক। নিউইয়ার্স ইভের (New Year’s Eve) রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Blast) ঘটে দেশের জনপ্রিয় এই শহরে।

    কীভাবে লাগল আগুন

    স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের জেরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ‘লে কঁস্টেলাসিওঁ বার অ্যান্ড লাউঞ্জ’-এ। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (Viral Videos) দেখা যাচ্ছে, বারের ভিতর থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুইস সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, কনসার্ট চলাকালীন আতশবাজির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে পুলিশ সেই সম্ভাবনা নিশ্চিত করেনি। এর পিছনে নাশকতা বা কোনও সন্ত্রাস রয়েছে কি না তা-ও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • India in UNHRC Meet: ‘শেখাতে এলে, আয়না দেখিয়ে দেব’! সুইৎজারল্যান্ডকে কড়া বার্তা ভারতের, জবাব পাকিস্তানকেও

    India in UNHRC Meet: ‘শেখাতে এলে, আয়না দেখিয়ে দেব’! সুইৎজারল্যান্ডকে কড়া বার্তা ভারতের, জবাব পাকিস্তানকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে সুইৎজারল্যান্ডকে কড়া জবাব দিল ভারত (India in UNHRC Meet)। সুইৎজারল্যান্ড রাষ্ট্রসংঘে বলেছিল, “ভারতকে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।” এরই পাল্টা ভারত জবাব দিল, “আমরা চাইলে সুইৎজারল্যান্ডকে সাহায্য করতে পারি রেসিজম, সিস্টেমেটিক ডিসক্রিমিনেশন আর জেনোফোবিয়া মোকাবিলায়।” ভারত সরাসরি আঘাত করল সেই জায়গায় যেটা নিয়ে পশ্চিমি দেশগুলো চুপ করে থাকে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এটাই নতুন ভারতের কূটনীতি— “তুমি আমাকে শেখাতে এলে, আমি তোমায় আয়না দেখিয়ে দেব”।

    ভারতকে কী বলেছিল সুইস দূত

    রাষ্ট্রসংঘে মানবাধিকার পরিষদের ৬০ তম অধিবেশন চলছে। সেখানে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের (India in UNHRC Meet) বিরুদ্ধে সরব হয় সুইৎজারল্যান্ড (India’s Reply to Switzerland)। শুধু তাই নয়, ভারতে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই বলেও অভিযোগ করেন সুইশ কূটনীতিকরা। ভারতকে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন সুইস দূত। মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘে সুইস প্রতিনিধি সংখ্যালঘুদের রক্ষা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমকে সমুন্নত রাখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। এর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ করতে বলা হয় ভারতকে। এর জবাবে ইউরোপীয় দেশটিকে তাদের নিজের মাটিতে ‘বর্ণবিদ্বেষ, পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং জেনোফোবিয়া (বিদেশিদের প্রতি আতঙ্ক)’ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন ভারতীয় কূটনীতিক। অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের সমস্যারর দিকে মনোনিবেশ করার জন্য সুইৎজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানায় ভারত।

    ভারতের পাল্টা জবাব

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে সুইৎজারল্যান্ডকে ভারতীয় (India in UNHRC Meet) কূটনীতিক ক্ষিতীশ ত্যাগী স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দিকে আঙুল তোলার আগে, নিজের দেশকে শোধরান। বর্ণবিদ্বেষ, পদ্ধতিগত বৈষম্য আর বিদেশিদের উপরে হামলার ঘটনায় গোটা সুইশ সমাজ বিব্রত।’ এখানেই থামেননি তিনি। সঙ্গে কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম এবং বহুমাত্রিক গণতন্ত্র হিসেবে চিরকাল বহুত্ববাদকে হৃদয়ে ধারণ করা ভারত, সুইৎজারল্যান্ডকে এই সব সমস্যায় সাহায্য করার জন্য সদা প্রস্তুত।’ সুইস প্রতিনিধির মন্তব্যকে ‘আশ্চর্যজনক, অগভীর এবং ভুল তথ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন ত্যাগী। দেশটিকে তাদের নিজস্ব ইস্যুতে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে সুইৎজারল্যান্ড ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে অবগত নয়। ভারতীয় দূত বলেন, ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অংশীদার সুইৎজারল্যান্ডের বিস্ময়কর, অগভীর ও ভুল মন্তব্যের জবাব দিতে চাই। যেহেতু তারা ইউএনএইচআরসির (রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন) সভাপতিত্বে রয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডের পক্ষে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ যাতে তারা মিথ্যা এবং আবাস্তব এমন কোনও আখ্যান দিয়ে কাউন্সিলের সময় না নষ্ট করে। বরং বর্ণবিদ্বেষ, পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং জেনোফোবিয়ার মতো নিজস্ব চ্যালেঞ্জগুলির দিকে মনোনিবেশ করা উচিত তাদের।’

    পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের (India in UNHRC Meet) সভায় এদিন পাকিস্তানকেও একহাত নেন ক্ষিতীশ। ‘আন্তর্জাতিক খয়রাতির উপরে টিকে থাকা এক দেশ’ বলে সরাসরি কটাক্ষ করেন ইসলামাবাদকে। তাঁর কথায়, ‘আমরা নিজেদের রক্ষা করতে জানি। জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক কোনও দেশ যেন আমাদের নৈতিক শিক্ষা দিতে না আসে। সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার করা একটা রাষ্ট্র, যার নিজেরই কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ ৯/১১ হামলা এবং পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন হামলায় নিহত আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় দূত ত্যাগী বলেন, ‘আমাদের ৯/১১ হামলার কথা ভুলে গেলে চলবে না। আগামিকাল সেই হামলার বর্ষপূর্তি। আর আজ আমরা তাদের ভণ্ডামি প্রত্যক্ষ করছি যারা সেই আক্রমণের মাস্টারমাইন্ডকে আশ্রয় দিয়েছিল। যারা সেই জঙ্গি নেতাকে শহিদ হিসাবে গৌরবান্বিত করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলওয়ামা, উরি, পাঠানকোট, মুম্বইয়ের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তালিকাটা অন্তহীন।’

    উপদেশ নেব না

    এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনেই পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে তোপ দেগেছিলেন ক্ষিতীশ। সোজাসুজি বলেছিলেন, ‘সেনা এবং জঙ্গিদের বানানো মিথ্যা কথাই বলে চলেছেন পাকিস্তানের তথাকথিত নেতা এবং প্রতিনিধিরা।’ কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের দাবিকেও ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এবারও পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে ভারতীয় দূত বলেন, “পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের মাপা ও যথাযথ প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমরা আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় কোনও আপস করব না। সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক, সংখ্যালঘু নিপীড়ক এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো একটি রাষ্ট্র থেকে আমরা উপদেশ নেব না।”

  • Geneva: অপহৃত নাবালিকার জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন সিন্ধি ফাউন্ডেশনের! দাবি স্বাধীন তদন্তের

    Geneva: অপহৃত নাবালিকার জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন সিন্ধি ফাউন্ডেশনের! দাবি স্বাধীন তদন্তের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া প্রিয়া কুমারীর (priya kumari) উদ্ধারের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC) কাছে সহায়তা চাইল সিন্ধি ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার জেনেভা (Geneva) থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিন্ধি ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুফি মুনাওয়ার লাঘারি এই ঘোষণা করেন। 

    কে এই প্রিয়া কুমারী? (priya kumari)

    পাকিস্তানে বসবাসকারী এক হিন্দু মেয়ে প্রিয়া কুমারী (priya kumari), যার বয়স মাত্র ৬ বছর, বিগত ৩ বছর ধরে নিখোঁজ সে। পাকিস্তানের সুক্কুর সিন্ধুর কাছে সাংঘারায় নিজের বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় প্রিয়া। এই ঘটনায় তাঁর বাবা এক মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছেন। জানা গিয়েছে, প্রিয়াকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ৩ বছর আগে, ১৯ আগস্ট মহরমের দিন। প্রিয়া তাঁর বাবার সঙ্গেই বাড়িতে বসে ছিল, তাঁর বাবা জল আনতে ঘরের ভিতরে যান। বাইরে এসে দেখেন, মেয়ে নেই। এবার সেই নিখোঁজ প্রিয়ার খোঁজেই জাতিসংঘের কাছে আবেদন করল সিন্ধি ফাউন্ডেশন। 

    স্বাধীন তদন্ত শুরুর অনুরোধ 

    এ প্রসঙ্গে মুনাওয়ার লাঘারি জানান, নিখোঁজ হওয়া নাবালিকা মেয়েটি (priya kumari) পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা সমর্থিত সিন্ধুর শক্তিশালী শাহদের অবৈধ হেফাজতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুধু প্রিয়া নয়, বিগত দেড় বছর ধরে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ থেকে নিখোঁজ রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন মহিলা। যা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট উদ্বেগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বিষয়টির ওপর একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন তদন্ত শুরু করার জন্য অবিলম্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের অনুরোধ করা হয়েছে। 

    আরও পড়ুন: বৈদেশিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বিদেশী সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিল ভারত

    যুবতী মহিলাদের অপহরণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি 

    মুনাওয়ার লাগারি জানান যে সিন্ধি ফাউন্ডেশন 8ই জুলাই প্রিয়া কুমারী এবং অন্যান্য সিন্ধি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে এবং যুবতী মহিলাদের অপহরণ এবং সেইসাথে তাদের জোর করে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছে৷ জেনেভায় (Geneva) ইউএনএইচআরসি ভবনের সামনে ব্রোকেন চেয়ার ভাস্কর্যের চারপাশে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে তিনি ইউএনএইচআরসির কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করবেন, যেখানে সিন্ধুতে সিন্ধিদের বিরুদ্ধে সংগঠিত নৃশংসতা সম্পর্কে অবহিত করবেন। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • UEFA Euro 2024: শেষ মুহূর্তের গোলে কোনও মতে মানরক্ষা জার্মানির! ইউরো থেকে ছুটি স্কটল্যান্ডের

    UEFA Euro 2024: শেষ মুহূর্তের গোলে কোনও মতে মানরক্ষা জার্মানির! ইউরো থেকে ছুটি স্কটল্যান্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে জার্মানি-সুইৎজারল্যান্ড (Germany vs Switzerland), আর অন্যদিকে হাঙ্গেরি-স্কটল্যান্ড। রবিবার ছিল ইউরো কাপের (UEFA Euro 2024) জমজমাটি দুই ম্যাচ। একদিকে ইউরো কাপে লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেল আয়োজক দেশ জার্মানি। আর অন্যদিকে স্কটিশদের হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা প্রস্তুত করল হাঙ্গেরি৷ এদিনের ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে সংযুক্ত সময়ের গোলে কোনও মতে সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হার এড়াল জার্মানি। ম্যাচ শেষ হল ১-১ অমীমাংসিত অবস্থায়। আর স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয়ী হল হাঙ্গেরি। 

    জার্মানি বনাম সুইৎজারল্যান্ড (UEFA Euro 2024) 

    ম্যাচের শুরু থেকে আধিপত্য ছিল জার্মানিরই। তিন মিনিটের মাথায় জামাল মুসিয়ালা ডিফেন্সচেরা পাস দিয়েছিলেন ইলকাই গুন্ডোয়ানকে। কিন্তু সেই আক্রমণ ক্লিয়ার করে দেয় সুইস রক্ষণ। তবে জার্মানির আক্রমণ তাতে কমেনি। বলের লড়াইয়ে তারাই এগিয়েছিল। মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ ইচ্ছামতো জায়গা বদল করে খেলে সুইসদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর খেলার ১৭ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। জার্মানির আক্রমণের সামনে ভালই খেলছিল সুইস রক্ষণ। ২৮ মিনিটের মাথায় আচমকাই এগিয়ে যায় তারা। এনডোয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। তারপর বেশকিছু সুযোগ তৈরি হলেও আর কোনও গোল হয়নি। অতএব প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ফলাফল নিয়েই।

    এরপর খেলার (UEFA Euro 2024) দ্বিতীয়ার্ধে বাড়তি উদ্যম নিয়ে মাঠে নামে জার্মানি। খেলার ৪৯ মিনিটে, মুসিয়ালার জোরালো শট রুখে দেন সুইস গোলরক্ষক সমার। অন্যদিকে, পরিবর্ত হিসেবে নামা ডেভিড রাউমের শট একটুর জন্য বাইরে যায়। এরপর ম্যাচের ৭০ মিনিটে, দুরন্ত ব্লকিং করেন সুইস ডিফেন্ডাররা। ফলে, গোলের একেবারে কাছ থেকে ফিরে আসতে হয় জার্মানিকে। কিন্তু খেলার শেষদিকে লাগাতার আক্রমণ তুলে আনে জার্মানি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে, নিকলাস ফুলক্রাগের হেডে সমতা ফেরায় জার্মানি (Germany vs Switzerland)। বলা যেতে পারে, খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে শেষপর্যন্ত, খেলা শেষ হয় ১-১ ফলাফল নিয়ে।

    আরও পড়ুন: নয়া সরকার গঠনের পর আজ শুরু লোকসভার প্রথম অধিবেশন, কী হবে সারাদিন?

    হাঙ্গেরি বনাম স্কটল্যান্ড (Hungary vs Scotland) 

    এদিন ম্যাচের (UEFA Euro 2024) প্রথমার্ধে তুলনামূলকভাবে স্কটল্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে হাঙ্গেরি৷ বিপক্ষ গোলরক্ষক অ্য়াঙ্গাস গুনকে ব্যস্ত রাখে তাঁরা৷ তবে গোল কিছুতেই আসছিল না৷ শেষমেশ খেলার ১০০ মিনিটে গিয়ে গোল তুলে নেয় হাঙ্গেরি৷ প্রতি-আক্রমণ থেকে রোলান্ড সালাইয়ের বাড়ানো বল ধরে গোল করে যান সবথ৷ এর ফলে গ্রুপ ‘এ’তে তৃতীয়স্থানে ম্যাচ শেষ করল হাঙ্গেরি৷ যদিও পরের পর্বে যাওয়ার জন্য অন্যান্য গ্রুপের ফলাফলের উপর নির্ভর করতে হবে তাঁদের৷  

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Euro 2024: প্রথম দল হিসেবে ইউরোর নক আউটে জার্মানি, জেতা ম্যাচ ড্র করল ক্রোয়েশিয়া

    Euro 2024: প্রথম দল হিসেবে ইউরোর নক আউটে জার্মানি, জেতা ম্যাচ ড্র করল ক্রোয়েশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপ্রতিরোধ্য জার্মানি। উদ্বোধনী ম্যাচে বিপক্ষকে পাঁচ গোলে দুরমুশ করার পর হাঙ্গেরির বিরুদ্ধেও জয় জামাল মুসিয়ালাদের। এদিন তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইউরো কাপে (Euro 2024) এ বারের সংস্করণে প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল আয়োজক জার্মানি (Germany)। অন্যদিকে বুধবার জেতা ম্যাচ ড্র করল ক্রোয়েশিয়া। সুইৎজারল্যান্ড ও  স্কটল্যান্ড ম্যাচও রয়েছে অমীমাংসিত।

    জার্মানির দাপট

    প্রথম ম্যাচে (Euro 2024) জার্মানির (Germany) গোলের খাতা খুলেছিলেন রিৎজ। ১৯ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা গোল করেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও নজর কাড়লেন তরুণ স্ট্রাইকার জামাল মুসিয়ালা। এ দিন হাঙ্গেরিকে ২-০ ব্যবধানে হারাল জার্মানি। গোলের খাতা খোলেন জামাল মুসিয়ালই। তেকাঠির সামনে হাঙ্গেরির রক্ষণভাগকে কার্যত দর্শক বানিয়ে ২৩ মিনিটে গোল করেন মুসিয়ালা।  বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পায়ের জাল ঘিরে রাখলেও গোল করতে ভুল করেননি জার্মান তারকা। ১-০ ফলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করলেও আক্রমণের ঝাঁজ এতটুকু কমায়নি জার্মানি। হাঙ্গেরি সেই অর্থে সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্থে আরও একটি গোল। এ বার ইকে গুন্ডোয়ান। ৭৪ মিনিটে ২-০ করে জার্মানি। বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গুন্দোগানকে নিখুঁত পাস দেন মুসিয়ালা। গোলে বল ঠেলতে ভুল করেননি গুন্দোগান। 

    ক্রোয়েশিয়ার ভুল

    এদিন জেতা ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছাড়ল ইউরো কাপের (Euro 2024) আরেক শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়া। এদিন আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে নেমেছিলেন লুকা মদ্রিচরা। মাত্র ১১ মিনিটের মাথায় লাসির গোলে এগিয়ে যায় আলবেনিয়া। বিরতির পরে দীর্ঘক্ষণ লিড ধরে রেখেছিল তারা। ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরান ক্র্যামারিচ। দুমিনিটের মধ্যেই গাসুলার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। তবে অতিরিক্ত সময়ে তিনিই গোল করে ম্যাচ ড্র করেন। 

    দুরন্ত গোল শাকিরির

    চলতি ইউরোয় (Euro 2024) স্কটল‌্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র করে শেষ ষোলোর দৌড়ে জার্মানির (Germany) পর দ্বিতীয় দল হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে গেল সুইৎজারল‌্যান্ড। স্কটিশদেরও আশা একেবারেই শেষ না হয়ে সরু সুতোর উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিন ম‌্যাচের ১৩ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্কটল‌্যান্ড। ক‌্যালাম ম‌্যাকগ্রেগর বক্সে ঢুকে পিছনে পাস বাড়ান স্কট ম‌্যাকটমিনেকে। তিনি ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে থেকে জোরালো শট নেন। তা ফ‌্যাবিয়ান স্কারের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়।

    ২৬ মিনিটে সমতা ফেরান সুইৎজারল‌্যান্ডের বহু যুদ্ধের নায়ক শাকিরি। রালসনের ভুল পাস থেকে বল না থামিয়েই বাঁ পায়ের বাঁক খাওয়ানো দুরন্ত ইনসুইঙ্গারে জাল কাঁপান। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি ইউরোয় এখনও পর্যন্ত সেরা গোল এটি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Fifa World Cup: দুরন্ত ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের শেষ আটে পর্তুগাল, মরক্কো! টাইব্রেকারে হেরেই বিদায় স্পেনের

    Fifa World Cup: দুরন্ত ফুটবল খেলে বিশ্বকাপের শেষ আটে পর্তুগাল, মরক্কো! টাইব্রেকারে হেরেই বিদায় স্পেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছকের বাইরে বেরিয়েই বাজিমাত পর্তুগালের। সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে পর্তুগালের প্রথম একাদশে নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কোচ ফার্নান্ডো স্যান্টোসের এমন সিদ্ধান্ত অবাক করেছিল অনেককেই। কিন্তু রোনাল্ডোকে ছাড়াই অনবদ্য শুরু করল পর্তুগাল। অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে চমকে দিল গঞ্জালো রামোস। ৬-১ ব্যবধানে সুইৎজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল। অন্য ম্যাচে টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল স্পেন।

    পর্তুগাল-সুইৎজারল্যান্ড

    ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে কী ভাবে আটকাতে হবে তার পরিকল্পনা করেছিল সুইসরা। কিন্তু প্রথম একাদশে রোনাল্ডোকে রাখলেনই না পর্তুগালের কোচ ফার্নান্ডো সান্টোস। রোনাল্ডোর বদলে তিনি মাঠে নামালেন ২১ বছরের গঞ্জালো রামোসকে। বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলতে নেমে ছটফট করলেন রামোস। তাঁকে আটকাতে পারল না সুইৎজারল্যান্ডের রক্ষণ। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন রামোস। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে চমকে দিলেন নয়া তারকা। একটি করে গোল করলেন পেপে, গুয়েরেরো ও লিয়াও। সুইৎজারল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন আকাঞ্জি।  ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হীন পর্তুগাল ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। সুইৎজারল্যান্ডও খুব একটা নিজেদেরকে গুটিয়ে রাখেনি। লুসেইল স্টেডিয়ামে আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে চলে খেলা। তবে গোলের মুখ খুলতে বেশি সময় নেয়নি ফার্নান্ডো স্যান্টোসের দল। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই থ্রু থেকে প্রথম পোস্ট দিয়ে রকেট গতির শট জালে জড়িয়ে দেন গঞ্জালো রামোস। প্রথম গোল করার পর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায় পর্তুগাল। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়ে শেষ আটে চলে গেল পর্তুগীজরা।

    আরও পড়ুন: শেষ আটে পৌঁছে ‘ফুটবল সম্রাট’ পেলেকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য নেইমারদের

    স্পেন-মরক্কো

    টাইব্রেকারে ফের হারল স্পেন। এনরিকের আশঙ্কা সত্যি করে আবারও টাইব্রেকারে ব্যর্থ হলেন বুসকেটসরা। এর আগে বিশ্বকাপের টাইব্রেকারে চার বারের মধ্যে তিন বারই হেরেছিল স্পেন। সেই তালিকায় যোগ হল ২০২২ সালটাও। কাতার বিশ্বকাপের (Qatar World Cup 2022) মঞ্চে দ্বিতীয়বার টাইব্রেকারে গড়াল ম্যাচ। গতকাল ক্রোয়েশিয়া বনাম জাপানের পর এদিন স্পেন বনাম মরক্কো। টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপের (World Cup 2022) কোয়ার্টার ফাইনালে (Quarter Final) পৌঁছে গেল মরক্কো (Morocco)। স্পেনের মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে শেষ আটে পৌঁছে গেল মরক্কো। এর আগে ক্যামরুন ১৯৯০ সালে, সেনেগাল ২০০২ সালে ও ঘানা ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল।  প্রথমার্ধ, দ্বিতীয়ার্ধ ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ছিল ম্যাচ। এরপর টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে স্পেনকে হারিয়ে দেয় মরক্কো। অন্যদিকে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে এসে শেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচেই হারতে হয়েছে স্পেনকে। এর মধ্যে গত বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল্টিতে হারতে হয়েছিল। এবার মরক্কোর বিরুদ্ধেও পেনাল্টিতে হারতে হল।  গত ইউরোতে টাইব্রেকারে হারতে হয়েছিল স্পেনকে। তাই দলকে ১হাজারের বেশি পেনাল্টি অনুশীলন করিয়েছেন স্পেনের কোচ। তবু শেষ রক্ষা হল না। এ দিন স্পেন টাইব্রেকারে একটি শটও গোলে মারতে পারেনি। মরক্কো একটি মিস করলেও বাকি তিনটি শট গোলে মেরে ম্যাচ জিতে যায়। মরক্কো আফ্রিকার প্রথম দেশ যারা বিশ্বকাপের মঞ্চে পেনাল্টিতে জয় পেল। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share