Tag: Terror Attack

Terror Attack

  • Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত কাশ্মীর (Jammu And Kashmir)। পুলিশবাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা হল জম্মু ও কাশ্মীরে। গোলাগুলিতে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অনন্তনাগের (Attacks in Anantnag) লালচকে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ লালচকে টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। আচমকাই সেই দলের উপর গুলি চলে। পুলিশকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা জঙ্গলের আড়াল থেকে গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হন হেড কনস্টেবল আশিক হুসেন।

    হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত পুলিশকর্মীকে দ্রুত অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (GMC) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আশিক হুসেনের বাড়ি বুদগাম জেলার বীরওয়াহ এলাকায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনন্তনাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে বার বার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি লক্ষ করে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনার দাবি, কঠোর নজরদারির জেরেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দিনচারেক আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের রজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) অনুপ্রবেশ আটকেছে সেনা।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    উল্লেখ্য, অমরনাথ যাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যেই অনন্তনাগে এই জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনীও।

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদ! এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল লস্কর প্রধানের নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মূল চক্রী পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের (Pahalgam Attack) তদন্তে সোমবার অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জম্মুতে এনআইয়ের বিশেষ আদালতে পেশ করা অতিরিক্ত চার্জশিটে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা তথা লস্কর-ই তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নাম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে যুক্ত করেছে। এনআইএ-র তরফে হাফিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, ২০২৩ এবং ইউএপিএ-র একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বলা হয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়েছেন সন্ত্রাসী সংগঠন লস্করের প্রতিষ্ঠাতা।

    সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনআইএ-র দাবি

    এর আগেও একাধিক সংঘঠিত অপরাধে এই পাক জঙ্গি নেতার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়া দিল্লির বিরুদ্ধে পাকবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে আসছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে গত বছর মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়েও পাকিস্তান বিশ্বব্যাপী ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করে। এর আগে গত ডিসেম্বরে এনআইএ’র প্রথম চার্জশিটে পাকিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের নাম থাকলেও মূল ষড়যন্ত্রকারীর বিষয়ে তদন্ত চলমান বলে জানানো হয়েছিল। সোমবার জমা করা অতিরিক্ত চার্জশিটে এনআইএ বলেছে, পাকিস্তানে বসে লস্কর-ই তইবা নেতা পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। তার পরিকল্পনা মত হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যাপারে তদন্তকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত হাফিজ

    এই মামলার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। সোমবার এই মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয় এনআইএ-র তরফে। যেখানে পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ, সেখানে হাফিজ সইদের ভূমিকা-সহ অন্যান্য খুঁটিনাটি তথ্য প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। সেখানে পাক হ্যান্ডেলার সাজিদ জাট, অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে। একইসঙ্গে লস্কর ও তার শাখা টিআরএফ-এর ভূমিকা, হামলার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিচালনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। ওই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। নানা দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে, মুম্বই হামলার মত পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডও সরাসরি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়েছিল। বিশদ তদন্তে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে ওই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ছিল হাফিজ সইদ। ‌পাক জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সহিংতা ছাড়াও ইউএপিএ-র একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

  • Canadian CSIS: কনিষ্কে বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী জঙ্গিরা, কবুল করল কানাডা

    Canadian CSIS: কনিষ্কে বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী জঙ্গিরা, কবুল করল কানাডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (Canadian CSIS) প্রথমবারের মতো কবুল করল যে, ১৯৮৫ সালের ২৩ জুন এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ (কনিষ্ক)-এ বিস্ফোরক বসিয়েছিল কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী (Khalistani) জঙ্গিরা। হামলার ৪০তম বর্ষপূর্তিতে জারি করা এক স্মারক বার্তায় সংস্থাটি জানিয়েছে, সেদিন বিমানটিতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ৩২৯ জন যাত্রী সবাই নিহত হন, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন কানাডার নাগরিক। এটি এখনও পর্যন্ত কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা।

    ভারতের দাবিতে মান্যতা (Canadian CSIS) 

    সিএসআইএস জানিয়েছে, হামলার সময় সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার এক বছরেরও কম সময় পেরিয়েছিল এবং এই মর্মান্তিক ঘটনা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। গত চার দশক ধরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও মতাদর্শগত হিংসা থেকে কানাডাবাসীকে সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতিও জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এতদিন কানাডা সরকার বা সরকারি স্মরণবার্তায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হত না। তবে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিল, এটি ছিল খালিস্তানি জঙ্গিদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি কানাডার গোয়েন্দা সংস্থার বার্তায় সেই অবস্থানেই কার্যত সিলমোহর পড়ল।

    খালিস্তানপন্থী উগ্রপন্থীই বড় হুমকি

    এদিকে, সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে কানাডাভিত্তিক খালিস্তানপন্থী উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকেও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংগঠন কানাডার মাটি ব্যবহার করে সহিংস জঙ্গি কার্যকলাপের প্রচার, অর্থ সংগ্রহ এবং হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে (Canadian CSIS)। খালিস্তান ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-কানাডা সম্পর্কের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে এই বিরোধ তীব্র হয়, যখন তিনি খালিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগে’র কথা বলেছিলেন। তবে তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পর কানাডার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে (Khalistani)। উল্লেখ্য, বাব্বর খালসা জঙ্গি সংগঠনকে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৮২ বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করা হয় এবং ২০০৫ সালে ২৩ জুনকে কানাডা জাতীয় সন্ত্রাসবাদে নিহতদের স্মরণ দিবস হিসেবে পালন করার কথা ঘোষণা করে (Canadian CSIS)।

     

  • Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    Nigeria Massacre: নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের নৃশংস হামলায় নিহত অন্তত ২৯ জন। হামলার দায় স্বীকার করেছে (Nigeria Massacre) ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP)। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে।

    খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা (Nigeria Massacre)

    রবিবার আদামাওয়া (Islamic State) অঙ্গরাজ্যের গোম্বি লোকাল গভর্নমেন্ট এরিয়ার গুইয়াকু কমিউনিটিতে হিংসার ঘটনাটি ঘটে। অঞ্চলটি ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে, দীর্ঘদিন ধরে জেহাদি তৎপরতার জন্য পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা একটি ফুটবল খেলার মাঠে অতর্কিতে হামলা চালায়। সেই সময় বহু তরুণ-তরুণী খেলা দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বন্দুকধারীরা এলাকায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।

    স্থানীয়দের বক্তব্য

    স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাদের লোকজন গুইয়াকু কমিউনিটির ফুটবল মাঠে জড়ো হয়েছিল…। তখন বিদ্রোহীরা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে।” নিহতদের অধিকাংশই যুবক-যুবতী। এর মধ্যে ফুটবল খেলা দেখতে আসা কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, হামলার সময় ঘরবাড়ি, যানবাহন ও গির্জায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর আহমাদু উমারু ফিনতিরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গুইয়াকু কমিউনিটিতে প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দে করে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি (Nigeria Massacre)।

    পোড়া গির্জার ছবি

    জানা গিয়েছে, প্রথমে প্রশাসন বোকো হারাম জঙ্গিদের দায়ী করলেও, পরে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি (Islamic State) দেয় আইএসডাব্লুএপি। তাদের দাবি, অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করা হয়েছে। একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। টেলিভিশন ফুটেজে পোড়া গির্জা ও কয়েকটি পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখা গিয়েছে। কমিউনিটি নেতারা জানান, হামলাকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস করেছে। নিরাপত্তা রক্ষীরা না থাকায় তারা সঙ্গে সঙ্গে কোনও প্রতিরোধের মুখেও পড়েনি (Nigeria Massacre)।

    নিরাপত্তা সঙ্কট

    এই হামলায় নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সঙ্কটকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্রোহ করছে জেহাদিরা। রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে বোকো হারাম ও আইএসডাব্লুএপি সংক্রান্ত হিংসায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। এই সংঘাত প্রতিবেশী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এতে প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করা হয়েছে এবং জনসমাগমে থাকা নিরীহ মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে।

    কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জের

    দেশে সাধারণ নির্বাচন এক বছরেরও কম সময় দূরে থাকায় নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চাপ বাড়ছে। সরকার বিদ্রোহ দমন ও নতুন করে হওয়া হামলা ঠেকাতে বাড়তি চাপে রয়েছে (Nigeria Massacre)। এদিকে, এদিনই ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লামুর্দে এলাকায় আর একটি হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, সেখানে কৃষিজমি নিয়ে বিবাদের জেরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয় (Islamic State)। স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “মানুষের প্রাণ গিয়েছে, সম্পত্তিও নষ্ট হয়েছে।”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গুইয়াকুর হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলির একটি। আইএসডাব্লুএপির দাবি, তারা অন্তত ২৫ জন খ্রিস্টানকে হত্যা করেছে এবং একটি গির্জা ও প্রায় ১০০টি মোটরবাইকে আগুন দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই গোষ্ঠীটি ফের হামলা চালাতে পারে। প্রত্যাশিতভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষ।

     

  • Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    Pahalgam Terror Attack: ‘সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না ভারত’, পহেলগাঁও হামলার বর্ষপূর্তিতে কড়া বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কখনওই কোনও ধরনের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের জঘন্য পরিকল্পনা কখনওই সফল হবে না। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হামলার নিহত পর্যটকদের স্মরণ করে বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘গত বছর এই দিনে পহেলাগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় হারিয়ে যাওয়া নিরীহ প্রাণগুলিকে স্মরণ করছি। তাঁদের কখনওই ভোলা যাবে না। এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির কথা ভাবছি, কী ভীষণ ক্ষতির সঙ্গে যুঝছেন তাঁরা।’’ বুধবার বৈসরণ উপত্যকার একাংশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের পর থেকে সেগুলি বন্ধ ছিল।

    শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ

    নয় নয় করে এক বছর পার পহেলগাঁও হামলার। ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধেছিল, আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলও। এতদিন পরও সেই দিনটি স্মরণ করে শিউড়ে ওঠেন সকলে। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে মোদি লিখেছেন, ‘‘একটি জাতি হিসেবে, আমরা শোক ও দৃঢ় সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কোনও রকমের সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াবে না। জঙ্গিদের চক্রান্ত সফল হবে না কখনও।’’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় স্পষ্ট করেন।

    ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র খুলে দেওয়া হল

    অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সবুজ বিস্তীর্ণ তৃণভূমি বৈসরনে শুধু পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে পৌঁছোনো যায়। যাকে ভালবেসে ভ্রমণপিপাসুরা ‘মিনি সুই‌ৎজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। গত বছর ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে উপত্যকার প্রায় ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টিউলিপ বাগান-সহ ১২টি পর্যটনস্থল খুলে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার আরও ৩৯টি পর্যটনক্ষেত্র উন্মুক্ত করা হল ভ্রমণার্থীদের জন্য। পহেলগাঁও থেকে বৈসরণ উপত্যকাগামী হাঁটাপথে বুধবার কিছু পর্যটক গিয়েছিলেন। তাঁদের সুরক্ষার জন্য গোটা এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিল কেন্দ্রীয় আধাসেনা। চিহ্নিত এলাকার বাইরে পর্যটকদের যাওয়ার উপর ছিল কড়া বিধিনিষেধ।

    পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতীয় সেনার

    পহেলগাঁও হামলা এবং পরবর্তী সিঁদুর অভিযানকে স্মরণ করে মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিল ভারতীয় সেনা। সেনার পোস্টে প্রতিবেশী দেশকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়— কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। তার পরিণতি হয় ভয়ানক। পহেলগাঁওয়ের বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানের নাম না করেই সেনার তরফে দেওয়া হয় কঠোর বার্তা। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে একটি কার্ড পোস্ট করেছে ভারতীয় সেনা। সেখানে লেখা হয়েছে— “কিছু সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।” তার ঠিক নিচেই লেখা, “ভারত কখনও ভুলবে না।” এইসঙ্গে পোস্টের ক্য়াপশানে লেখা হয়েছে— “যখন মানবতার সীমা লঙ্ঘন করা হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ানক। তাই কিছু সীমা কখনওই লঙ্ঘন করা উচিত নয়। বিচার অবশ্যই পাওয়া যায়। ভারত ঐক্যবদ্ধ।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক

    পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের স্মরণে লিডার নদীর তীরে কালো মার্বেল দিয়ে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেই স্মৃতিসৌধে হামলায় নিহতদের নাম খোদাই করা রয়েছে। বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য সভার আয়োজন করা হয়। পর্যটকরাও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সেখানে। হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে সর্বত্র। লিডার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ দেশের কাছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।

    ভারতীয় সেনার হামলায় বিপর্যস্ত জঙ্গিরা

    ২০২৫ সালে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালায়। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে পর্যটকদের খুন করা হয়েছিল পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৫ জন পর্যটক। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী টাট্টুঘোড়াওলা। এই হামলার জবাবে সিঁদুর অভিযানে চালায় ভারতীয় সেনা। পাক ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হয়। এই জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

    অপারেশন মহাদেব

    হামলার পর ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন মহাদেব’। দাচিগাম ও মহাদেব রিজ সংলগ্ন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় টানা ৯৩ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা খতিয়ে দেখা হয়। শেষ পর্যন্ত হামলার মূল তিন জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় সেনা। ভারতীয় সেনা জানায়, “ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও হামলার জবাব নিশ্চিত। ন্যায়বিচার হবেই।” পহেলগাঁও হামলার পর ‘অপারেশন মহাদেব’ ও ‘অপারেশন সিঁদুর’—দুটি পদক্ষেপই দেখিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের কৌশল স্পষ্ট, দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নিখুঁত আঘাত এবং কোনওরকম আপস নয়। ভারত সরকার ও সেনার বার্তা স্পষ্ট,“ভারত ঐক্যবদ্ধ, মানবতার সীমা লঙ্ঘিত হলে জবাব হবে নির্ণায়ক।”

  • Manipur: ফের অশান্ত মণিপুর, ২ শিশুর মৃত্যু, জখম মা

    Manipur: ফের অশান্ত মণিপুর, ২ শিশুর মৃত্যু, জখম মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্তির আগুন জ্বলল মণিপুরের (Manipur) একাংশে। রাজ্যের পাঁচ জেলায় তিনদিনের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করল সরকার। বিষ্ণুপুর জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণে (Rocket Attack) নিহত হয় দুই শিশু, জখম হন তাদের মা। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ (Manipur)

    ৭ এপ্রিল জারি করা স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায়। মঙ্গলবার মধ্যরাতের কিছু পরে যেখানে হামলা হয়, সেই বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো রুখতে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কার্যকলাপ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত বা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন এবং আজ, ৭ এপ্রিল দুপুর ২টা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

    ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত ২

    মোইরাংয়ের ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গি একটি বাড়িতে বিস্ফোরক ছুড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত হয় ৫ বছরের এক ছেলে ও ৬ মাসের এক কন্যাশিশু। জখম হন তাদের মা। প্রসঙ্গত, এই এলাকা মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা উত্তেজনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুটি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় থানার সামনে টায়ার জ্বালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় একটি অস্থায়ী পুলিশ পোস্ট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী (Manipur)।

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে হামলা

    পরে জনতা বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্তের কাছে পি জেলমোল পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) একটি শিবিরে হামলা চালায়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। আধিকারিকরা জানান, গুলিচালনায় অন্তত ১৯ জন জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হিংসার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন সাংবাদিকরাও। একটি খালের পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত কাজ’ এবং ‘মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে নিন্দে করেছেন। তিনি বলেন, “যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধরনের (Rocket Attack) জঙ্গি কার্যকলাপ কোনও অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না (Manipur)।”

    স্থানীয় বিধায়ক এনপিপির টিএইচ শান্তি সিংয়ের অভিযোগ, এই হামলা কুকি মাদক-পাচারকারীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই জঘন্য ঘটনা সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম নয়। এই ধরনের অমানবিক কাজ আমাদের সমাজে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর কঠোর  নিন্দা হওয়া উচিত।” এই ঘটনায় ফের একবার এলাকায় নষ্ট হয়েছে শান্তি, ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় (Rocket Attack)।

     

  • India Rebukes UN Report: রাষ্ট্রসংঘের মায়ানমার সংক্রান্ত রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের

    India Rebukes UN Report: রাষ্ট্রসংঘের মায়ানমার সংক্রান্ত রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মায়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ করল ভারত (India Rebukes UN Report)। নয়াদিল্লির তরফে একে পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি থমাস এইচ অ্যান্ড্রুজের তৈরি ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা (Pahalgam Terror Attack) ঘটেছিল, তা ভারতে থাকা মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে (India Rebukes UN Report)

    মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লোকসভার সদস্য দিলীপ সইকিয়া বলেন, “ওই রিপোর্টে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।” তিনি বলেন, “রিপোর্টটি পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে।” রাষ্ট্রসংঘকে তাঁর অনুরোধ, তারা যেন যাচাই করা হয়নি এমন তথ্য এবং সংবাদমাধ্যমর বিকৃত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়। সইকিয়া বলেন, “আমার দেশ বিশেষ প্রতিনিধির এমন পক্ষপাতদুষ্ট ও সংকীর্ণ বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করছে।” রাষ্ট্রসংঘের ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছিল, পহেলগাঁও হামলার পর ভারতে থাকা মায়ানমারের শরণার্থীরা হয়রানি, আটক এবং দেশান্তর করার হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন।

    তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন

    যদিও ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পহেলগাঁওকাণ্ডের সঙ্গে মায়ানমারের নাগরিকদের কোনও যোগই ছিল না। এই ধরনের যে কোনও দাবি তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন (India Rebukes UN Report)। সইকিয়া বলেন, “রিপোর্টটি প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, রাজনৈতিক পক্ষপাত দ্বারা পরিচালিত হয়েছে বলে মনে হয়। ভারত সব সময় বাস্তুচ্যুত সব মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি বলেন, “ভারতে বর্তমানে ২০ কোটিরও বেশি মুসলমান বসবাস করছেন। এটি বিশ্বের মোট মুসলমান জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। তাঁরা অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছেন (Pahalgam Terror Attack)।”

    ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির উল্লেখ করে সইকিয়া বলেন, “মায়ানমারে স্থায়ী শান্তি ফিরতে পারে কেবলমাত্র রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।” তিনি জানান, ভারত মায়ানমার-নেতৃত্বাধীন ও মায়ানমার-নিয়ন্ত্রিত শান্তি প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে যাচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আসিয়ান (ASEAN) ও রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করছে (India Rebukes UN Report)।

  • Pakistan: পাকিস্তানে জুম্মার নমাজে নির্বিচারে গুলি, জখম বেশ কয়েকজন

    Pakistan: পাকিস্তানে জুম্মার নমাজে নির্বিচারে গুলি, জখম বেশ কয়েকজন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের নমাজের জমায়েতে নির্বিচারে গুলি (Terror Attack) চালাল এক বন্দুকধারী। পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জার প্রদেশের রাবওয়া শহরের ঘটনা। এদিন জুম্মার নমাজ আদায় করতে বাইট-উল-মাহদি আহমদিয়া মসজিদে জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। আচমকাই এক বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এই গুলিবৃষ্টির দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। গুলির ঘায়ে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

    জুম্মার নমাজে হামলা (Pakistan)

    বাইট-উল-মাহদি হল আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র। পুলিশ এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ছ’জন জখম হয়েছেন। জানা গিয়েছে, এদিন এক বন্দুকধারী মসজিদের গেটের দিকে এগিয়ে এসে স্বেচ্ছাসেবক ও প্রহরীদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন মসজিদে জড়ো হওয়া লোকজন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মসজিদের এক প্রহরী পাল্টা গুলি চালান। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বন্দুকধারী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পাক পাঞ্জাবের পুলিশ জানিয়েছে, মসজিদের মেন গেটে পৌঁছানোর পর হামলাকারী কর্তব্যরত আহমদিয়া স্বেচ্ছাসেবক প্রহরীদের ওপর গুলি চালায়। প্রহরীদের একজন হামলাকারীকে হত্যা করে। শনিবার বিকেল পর্যন্তও এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন (Pakistan)।

    কী বলছে আহমদিয়া সম্প্রদায়?

    আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুখপাত্র আমির মাহমুদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানে এমন ঘৃণামূলক প্রচার ও হামলাকে প্রকাশ্যে উৎসাহিত করা হয়।” তিনি এও বলেন, “এমন ফতোয়া রয়েছে যা মানুষকে আহমদিয়াদের হত্যা করতে উৎসাহিত করে, যখনই তারা তাদের মুখোমুখি হয়। নিরীহ ও শান্তিপ্রিয় আহমদিয়াদের সুরক্ষার জন্য আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে।” আহমদিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অন্যতম, যারা ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলা ও অন্যান্য নৃশংসতার শিকার হয়ে আসছে। হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও বারবার নিপীড়ন, জোরপূর্বক গুম ও ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে আসছে (Terror Attack)।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-সহ অন্যান্য সংগঠনও পাকিস্তানে আহমদিয়া সম্প্রদায় এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Pakistan)।

  • Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা আরব মুলুকের, কে কী বলল?

    Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা আরব মুলুকের, কে কী বলল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলার (Pahalgam Terror Attack) তীব্র নিন্দা করেছে আরব বিশ্বের (Arab World) বিভিন্ন দেশ। মঙ্গলবারই দু’দিনের সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিনই দুপুরে পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করা হয়। জঙ্গি হামলায় এক নেপালি-সহ মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

    কুয়েতের প্রতিক্রিয়া (Pahalgam Terror Attack)

    কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সাবাহ খালেদ আল হামাদ আল সাবাহ পহেলগাঁওয়ে মর্মান্তিক প্রাণহানির জন্য বুধবারই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন আহতদের। সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রকও এই হামলার নিন্দা করে জারি করেছে বিবৃতি। তাতে বলা হয়েছে, “সব ধরনের হিংসা, চরমপন্থা এবং অসামরিক নাগরিকদের টার্গেটে পরিণত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরব তার দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করে।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, “ভুক্তভোগীদের পরিবার ও ভারত প্রজাতন্ত্রের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হচ্ছে।”

    সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া

    প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উভয় পক্ষ ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহলেগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।” বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যে কোনও কারণেই হোক না কেন, কোনও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে পারে না। উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদকে কোনও নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম বা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে সন্ত্রাসবাদ এবং সকল ধরণের সহিংস চরমপন্থা মানবতার জন্য সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মধ্যে রয়েছে (Pahalgam Terror Attack)।”

    জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে সকল ধরণের হিংসা ও সন্ত্রাসবাদকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান করছে (Arab World)।” সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ভারত সরকার ও জনগণের পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে (Pahalgam Terror Attack)।

  • Tahawwur Rana: ২৬/১১ হামলার আগে তাহাউর রানাকে ২৩১ বার ফোন করেন ডেভিড হেডলি! বলছে এনআইএ

    Tahawwur Rana: ২৬/১১ হামলার আগে তাহাউর রানাকে ২৩১ বার ফোন করেন ডেভিড হেডলি! বলছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি-আমেরিকান জঙ্গি ডেভিড কোলম্যান হেডলি ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রকারী তাহাউর হুসেন রানার (Tahawwur Rana) সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ২৬/১১ হামলার আগে তিনি ভারতে এসেছিলেন সব মিলিয়ে আটবার। এই সময় তিনি রানাকে ফোন করেছিলেন মোট ২৩১ বার।

    দ্বিশতাধিকবার ফোন (Tahawwur Rana)

    ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতে প্রথমবারের মতো রেইকি করার সময় ডেভিড হেডলি রানাকে ৩২ বারেরও বেশি বার ফোন করেছিলেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয় নাগরিক রানা, কাজ করতেন পাক সেনায়। তিনি ছিলেন ডাক্তার। ২৬/১১ হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হেডলির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। মুম্বইয়ের ওই হামলায় নিহত হয়েছিলেন ১৬৬ জন (Mumbai Terror Attack)। হেডলি তাঁর দ্বিতীয়বার ভারত সফরে রানাকে ২৩ বার ফোন করেছিলেন। তৃতীয়বার সফরের সময় ফোন করা হয়েছিল ৪০ বার। পঞ্চমবার সফরের সময় ফোন হয়েছিল ৩৭ বার। ষষ্ঠ ও অষ্টমবারের সফরে ফোন করা হয়েছিল যথাক্রমে ৩৩ ও ৬৬ বার।

    কী বলেছিলেন ট্রাম্প

    ট্রাম্পের আমন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় মোদির পাশে দাঁড়িয়ে আমেরিকার ৪৭তম প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তার সরকার ভেরি এভিল (খুব দুষ্টু) রানার প্রত্যর্পণ অনুমোদন করেছে। তিনি এও বলেছিলেন, “বিশ্বের অন্যতম শত্রু, যিনি ২০০৮ সালে মুম্বই হামলায় জড়িত, তাঁকে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার জন্য ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যের দু’মাসের মধ্যেই ২৬/১১ হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে পৌঁছাবেন। জানা গিয়েছে, হেডলির জন্য ভিসা জোগাড় করা থেকে শুরু করে তাঁর ঘন ঘন ভারত সফরের সময় তাঁকে শনাক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করা পর্যন্ত সব চেষ্টাই করেছেন রানা। এনআইএ-এর মামলায় এর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। নথিগুলি থেকে জানা গিয়েছে, রানা কীভাবে হেডলিকে ভারতে থাকার ব্যবস্থা করতে এবং জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য জায়গা বাছাই করতে সাহায্য করেছিলেন। রানা ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলা চালানোর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য ডেভিড হেডলি ও অন্যান্য সহ-ষড়যন্ত্রকারীদেরকে লজিস্টিক্যাল, আর্থিক এবং অন্যান্য সাহায্য দিয়েছিলেন।

    ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা

    তাহাউর রানা ডেভিড হেডলি, আবদুর রহমান হাশিম সৈয়দ এবং ইলিয়াস কাশ্মীরির সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ হামলার পরিকল্পনাও ছকে ফেলেছিলেন। তার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। মুম্বই হামলার আগে ডেভিড হেডলির প্ররোচনায় তাহাউর দুবাইতে আবদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছিলেন (Tahawwur Rana)। ২০০৫ সালের শুরুতে, ডেভিড হেডলি লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং হুজির (HUJI) নির্দেশে ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে নরমেধ যজ্ঞ ও সম্পত্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেও একটি ষড়যন্ত্র করেছিলেন। লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সৈয়দ ডেভিড হেডলিকে ভারত ঘুরে জঙ্গি হামলার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (Mumbai Terror Attack)। সৈয়দ আরও নির্দেশ দিয়েছিলেন, ডেভিড হেডলি তাহাউরের সাহায্য নেবেন এবং তাঁর সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে তাঁর যোগাযোগের মাধ্যমগুলি ব্যবহার করবেন।

    ষড়যন্ত্রের নীল নকশা

    ২০০৬ সালের জুন মাসে ডেভিড হেডলি শিকাগো গিয়ে তাহাউরের সঙ্গে পুরো ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ছকে ফেলেছিলেন। ডেভিড হেডলি তাহাউরের সাহায্য নিয়েছিলেন এবং লস্কর-ই-তৈবার দেওয়া দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর ইমিগ্রেশন ফার্ম ‘ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল’-কে কভার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ২০০৬ সালের ৩০ জুন তাহাউর রানার সক্রিয় সমর্থনে ডেভিড হেডলি মুম্বইয়ে ‘ইমিগ্র্যান্ট ল সেন্টার, শিকাগো’র একটি শাখা অফিস স্থাপনের উদ্দেশ্যে ভারতের কাছে মাল্টিপল এন্ট্রি বিজনেস ভিসার আবেদন করেছিলেন। ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ডেভিড হেডলি মুম্বইয়ে পৌঁছেছিলেন। তাঁকে রিসিভ করেছিলেন তাহাউরের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি।

    হেডলির জন্য অভ্যর্থনা

    তাহাউর ওই ব্যক্তিকে ডেভিড হেডলির জন্য অভ্যর্থনা, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং অফিস-সহ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাহাউরের পরিচিত ওই ব্যক্তি প্রথমে হেডলিকে মুম্বইয়ের হোটেল আউট্রামে রাখেন। পরে তিনি আর একজন পরিচিতির বাড়িতে পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতে শুরু করেন। ২০০৭ সালের জুন মাসে তাহাউরের সাহায্যে ডেভিড হেডলি তাঁর ভারতীয় ভিসা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে তাঁকে দশ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এক্সটেনশন দেওয়া হয়। তাহাউরের হস্তক্ষেপে ভিসা এক্সটেনশনের প্রক্রিয়াটি অনায়াস হয়েছিল (Tahawwur Rana)।

    নিয়মিত যোগাযোগ

    ডেভিড হেডলি এবং তাহাউর ভারত সফরের সময় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। যখন ডেভিড হেডলি মার্কিন (Mumbai Terror Attack) যুক্তরাষ্ট্রে তাহাউরের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তাঁরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। যেহেতু রানা একজন সেনা ডিজার্টার ছিলেন, তাই ডেভিড হেডলি তাঁকে মেজর ইকবালের মাধ্যমে সাহায্যের আশ্বাস দেন। ২৬/১১ হামলার ঠিক আগে ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বরের মধ্যে তাহাউর ফের ভারত সফরে আসেন। তাঁর এই সফর বেশ কয়েকজন লস্কর-ই-তৈবার সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা হয়েছিল। তাঁর ভারতে থাকাকালীন সময়ে, তাহাউর তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছিলেন, যার মধ্যে ছিল হাপুড়, দিল্লি, আগ্রা, কোচিন, আহমেদাবাদ, মুম্বই প্রভৃতি জনবহুল শহর।

    প্ররোচনায় লস্কর-ই-তৈবা

    ডেভিড হেডলি এবং তাহাউরের সক্রিয় সাহায্য ও প্ররোচনায় লস্কর-ই-তৈবা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে নাশকতা চালাতে পেরেছিল (Tahawwur Rana)। প্রসঙ্গত, ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সম্প্রতি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন রানা। সেই আবেদন নাকচ করে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (Mumbai Terror Attack) সুপ্রিম কোর্ট। বছর চৌষট্টির রানা অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে মার্কিন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের বেঞ্চে গত ৪ এপ্রিল রানার আবেদন বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সোমবারই জানানো হয়েছে, সেই আবেদন নাকচ হয়ে গিয়েছে। তাঁকে ভারতে ফেরাতে আমেরিকা পৌঁছে গিয়েছে এনআইএর একটি দল।

    তিহাড় জেলে ঠাঁই!

    জানা গিয়েছে, ভারতে পৌছনোর পর তিহাড় জেলের চূড়ান্ত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে একটি ওয়ার্ডে রাখা হতে পারে রানাকে। তাঁকে ভারতে নিয়ে আসার আগেই জেলে সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে বলেও খবর। তাঁকে সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের জন্য এনআইএর হেফাজতে রাখা হবে। এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তারা যাবতীয় ব্যবস্থা করে ফেলেছেন বলে খবর (Tahawwur Rana)।

    প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ১০ জন পাক জঙ্গির একটি দল আরব সাগর দিয়ে মুম্বইয়ে ঢোকে। এরপর একটি রেলস্টেশন, দুটি বিলাসবহুল হোটেল এবং একটি ইহুদি কেন্দ্রে একযোগে হামলা চালায় তারা। হামলা চলে প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে। মৃত্যু হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬৬ জন নাগরিকের। এই হামলারই মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ডেভিড হেডলি। তাঁকে বিভিন্ন তথ্য ও নথি দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তাহাউর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বন্দি ছিলেন মার্কিন জেলে (Mumbai Terror Attack)। বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর শেষমেশ তাঁকে ফেরানো হচ্ছে ভারতে (Tahawwur Rana)।

LinkedIn
Share