Tag: tmc

tmc

  • Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? তৃণমূলের অধিকার নিয়ে মমতা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই পক্ষকেই নোটিস দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের মান্যতা দেওয়া হবে সেই প্রসঙ্গে নিজেদের সমর্থনে তথ্য দিয়ে নোটিসের জবাব দিতে হবে। ৬ জুলাই, আগামী সোমবার, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই নোটিসের জবাব জমা দিতে হবে এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে স্বীকৃতি আদায় করতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই কমিশনের তরফে দুই শিবিরকেই চিঠি দেওয়া হয়।

    দুই পক্ষের দাবি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন ধরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫-রও বেশি জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে ঋতব্রত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের যুক্তি, বিধানসভার সংখ্যার চেয়ে সাংগঠনিক শক্তিই দলের কর্তৃত্ব নির্ধারণ করে। দলের সংবিধান বা নিজস্ব আইন রয়েছে। সেই মোতাবেক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখনও দৃঢ়ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তাঁরা সেই সংক্রান্ত নথিও জমা করেছেন কমিশনে।

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি-তে কী বলা হল

    সাম্প্রতিক, কালে তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি নিয়েও জট ক্রমেই বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বৈধতা নিয়ে। এই আবহে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর কোনও অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। অপরদিকে মমতা শিবিরের বক্তব্য, ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা কমিটির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন এর মূলেই যেতে চাইছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারা ‘আসল’ তৃণমূল এবং কাদের হাতে দলের প্রতীক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ও অন্য সাংগঠনিক বিষয় পরিচালনার অধিকার থাকবে- তা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই উত্তর দিতে হবে।

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় চিকিৎসক দিবস-এ রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে দুষলেন বিগত তৃণমূল সরকারকে। একই সঙ্গে ভোল বদলের আশ্বাস দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আজ ১লা জুলাই ২০২৬, প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ (National Doctor’s Day)। এই বিশেষ দিনে সল্টলেকের এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বিধানচন্দ্র রায় -এর নামে হাসপাতাল

    সল্টলেকের বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ভোলবদল ও নতুন নামকরণের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল’। ডক্টর ডে-র মূল মঞ্চ থেকে আজ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কিছু অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।একই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পরিষেবার সূচনা করার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।

    বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ শিক্ষনীয়, জ্যোতি বসুকে স্মরণ

    রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও। চিকিৎসক দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।”

    বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা

    রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৃণমূল সরকারের আমলে ভেঙে পড়েছে, লাগামছাড়া দুর্নীতিও হয়েছে, সেই অভিযোগ উঠেছে। এদিন সেই বিগত সরকারের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও তুলোধনা করেছেন তিনি। বিজেপি আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে উন্নত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমরা-ওরা থাকতে পারে না।” সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা থেকে বহু রোগী ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। এই রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। কুকুর বেড়াল শুয়ে থাকত হাসপাতালের ভিতর। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। “এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে বার করতে হবে।” এদিন এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি চিকিৎসকদের ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশে দেখা যায়। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে জোর দিয়েছেন তিনি।

  • Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথা মতোই কাজ করছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনেই বাংলাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বিজেপিও। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি থেকে অপরাধ, সবকিছুর ফাইল খুলবেন তিনি। সেই মোতাবেক কাজও হচ্ছে। খুলছে একের পর এক দুর্নীতির ফাইল। গ্রেফতরাও হয়েছেন তৃণমূলের বহু নেতা, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন বিধায়ক। আর মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোন কোন প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে, তার তথ্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি

    বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে কীভাবে বছরে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুট হয়ে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে চলে গেছে, এদিন বিধানসভায় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের দাবির সপক্ষে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগের জমানায় বছরে যেখানে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই রাজস্ব ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলবে। আর এই হিসেব কষেই মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে চান যে, প্রতি বছর বাকি ১১০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা পৌঁছে যেত ক্যামাক স্ট্রিট ও দুবাইয়ে।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতি

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়। শুধু মহিলা নয়, পুরুষরাও পেয়েছেন টাকা। তিনি জানান, লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ভুয়ো নামের আড়ালে বছরে ৫৪০০ কোটি টাকা শুধু এই একটি প্রকল্প থেকেই লুট করা হয়েছে। নবান্নের চোদ্দ তলা সব জেনেবুঝেই এই বিপুল পরিমাণ গরিবের টাকা ও সাধারণ মানুষের করের টাকা লুট হতে দিয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছে, কাদের জন্য চালু করেছেন? পুরুষদের পাওয়ার কথা? আপনি কতজন পুরুষকে দিয়েছেন? জঙ্গিপুর ব্লক, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর ব্লক, ডোমকল ব্লক, এখানে ভুয়ো কত দেখুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫৬৮টি অ্যাকাউন্ট। যার মধ্যে ডোমকলে ৫৩৭ আর ৩১ বহরমপুরে।

    আই-প্যাক-এও কোটি কোটি টাকার ‘লুট’

    এদিন আই-প্যাক (I-PAC)-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের সব দফতর থেকেই চুরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই সব কিছুরই তদন্ত হবে।

    স্কলারশিপ-এও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘মাইনোরিটি স্কলারশিপ’-এও দুর্নীতি হয়েছে। ৩০৭৬ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে হয়েছে। এলপিজি বেনিফিট – প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ২৯৮ টি অ্যাকাউন্ট ভুয়ো। এখানেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বার্ধক্যভাতার টাকাতেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। ৪৮ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। শিক্ষাশ্রী এসসি, এসটি-তে ৭১৫ টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। মেধাশ্রী ওবিসি-তে ২০৪ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘তপশিলি বন্ধু’ প্রকল্পের ৬৫৩০ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘জয় জোহর’ (Jai Johar) প্রকল্পে, আদিবাসীদের টাকাও তুলে নিয়েছে এরা। ২২৩৫ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ন্যাশনাল স্কলারশিপ এসসি, এসটি ও ওবিসি-তে ৭৯টি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত।

    পূর্বতন সরকারের আচরণ

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল, বিগত সরকার তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করেছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় মৃত্যু হয়েছিল ৫৭ জনের। এফআইআর হয়েছিল ২০০০-এর বেশি। সেখানে এ বছর পুলিশের করা স্বতপ্রবৃত্ত এফআইআর মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ২৬২। দিনের পর দিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছিল, কত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। পাল্টা ক্ষমতায় এসে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসা নিয়ে তিনি যে কোনও বাধা দেননি, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন।

    বণিকসভাতেও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা সংক্ষেপে ফিকিকে (FICCI) নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘‘বিজিবিএসের নথি দেখলেই বোঝা যাবে, সরকার ফিকিকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দিয়েছে। প্রয়োজনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষরও দেখা যেতে পারে। তবে এটি পুরো ঘটনার কেবলমাত্র হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’’ একইসঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগগুলির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস কে জয়রামন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এই কমিশনের সামনে জমা পড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

    অনু্প্রবেশ নিয়ে ফের সরব শুভেন্দু

    মঙ্গলবার ফের অনুপ্রবেশ রোধে নিজের সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। বিএসএফ-কে কত জমি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন। এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘সিএএ-র আওতায় যাঁরা আসেননি, বাকি যাঁরা ঢুকে পড়েছেন, এখনও অবধি আমি ১০ হাজার জনকে বার করেছি। আমার কাছে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষা করছেন। রোজ ও পারে পাঠাচ্ছি। থাকবে না কেউ।’’ তিনি আরও জানান যে, সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের প্রচারপর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে যে স্লোগান শোনা গিয়েছিল যে, মঙ্গলবার শুভেন্দুর মুখেও শোনা গেল সেই কথা, ‘সবকা সাথ, সব কা বিকাশ’।

  • Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘অধিবেশনের শেষ দিনই আসছে আইন’! দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে বিল আনার বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় শুভেন্দু-সরকার। বিধানসভায় জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলামের জন্যও নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যপালের ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবে বক্তৃতা করতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনের শেষ দিনেই দুর্নীতি রোধে আরও কড়া আইন আনা হচ্ছে। সেই আইন কার্যকর হলে দোষীদের শুধু জেল হবে না, দুর্নীতিকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে।

    তৃণমূল আর ফিরবে না

    নাম না-করে এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকার তাঁর সঙ্গে কী কী করেছিল, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সেই সঙ্গে নিজের ভাষণে বার বার তিনি বলতে ছাড়েননি যে, ‘‘তৃণমূল আর ফিরবে না।’’ আমতলায় তৃণমূলের প্রাসাদোপম পার্টি অফিস। কিংবা কালীঘাটে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। বিভিন্ন সময় আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছে। এবার নাম না করে বিধানসভায় ওই ‘প্রাসাদগুলি’ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় তিনি বলে দিলেন, “ওই প্রাসাদগুলোতে কলকাতার রাস্তায় যাঁরা রাতের বেলা ফ্লাইওভারে নিচে থাকেন, তাঁদের রাখাব।”

    ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই!

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট। কেউ কেউ জ্ঞান দিচ্ছিলেন, টাকা আসবে কোথা থেকে। টাকা কোথা থেকে আসবে জানেন? বীরভূমে পাথরে কী করেছেন জানেন? এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রাজস্ব দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা একমাসে রাজস্ব দিয়েছি ৮৩ কোটি। এটা ১০০ কোটি হবে। এক বছরে ১২০০ কোটি টাকা। আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তহবিলে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে যেত দুবাই।”

    অধিবেশনের শেষ দিন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বিল

    মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে তোলাবাজি, মাফিয়ারাজ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, সংগঠিত অপরাধ এবং আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনেই এমন একটি বিল আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি কাঠামো (Property Seizure Bill) তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সেই সম্পত্তি নিলামের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “সবার হিসেব হবে। আমার দফতর স্বরাষ্ট্র দফতর এই অধিবেশনেই বিল আনছে। বিধানসভায় বিএ (বিজনেস অ্যাডভাইসরি) কমিটি অনুমোদন দিলেই অধিবেশনের শেষ দিন বিল আসবে। অনেকেই ভাবছেন, ২ মাস থাকলাম (জেলে)। তারপর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম। বিল আসছে। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তির নিলাম করব।”

    কোনও চোরকে ছাড়া হবে না

    এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনি যা যা পদক্ষেপ করছেন, পূর্ণ সমর্থন করছি। কিন্তু, যাঁরা যাঁরা হঠাৎ তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তাঁদের একটাকে বাঁচতে দেবেন না।” তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। একটাও গুণ্ডা মাফিয়া জেলের বাইরে থাকবে না। স্বরাষ্ট্র দফতর আমার। আপনারা যদি ওদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তির কোনও তথ্য থাকে, লিখিতভাবে দেবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কথা দিলাম।”

    আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মুখ্যমন্ত্রী

    ভাষণ দিতে গিয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান, শওকত মোল্লাদের কোনও ভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তের প্রসঙ্গও। সব্যসাচীর সোনা-কেনা প্রসঙ্গ নিয়ে বলেন, ‘‘সমস্ত সোনা কেনা হয়েছে ২০২১ সালের পরে।’’ প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, সব্যসাচীর মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ছ’কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেড় কেজি রুপো বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ও আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।

    নাম না করে মমতাকে নিশানা

    নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনে ফিকিকে ৩২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল নিয়ম বহির্ভূত ভাবে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজিবিএস দেখবেন? সরকার ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা ফিকি (ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডিস্ট্রি)-কে দিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই দেখবেন নাকি? ৩২৪ কোটি টাকা। এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র!’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘‘আপনি কি এটা করতে পারেন?’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘একটা কমিশন হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং মেম্বার সেক্রেটারি, যাঁর নাম শুনলে অনেকেই আপনারা ভয় পান, এডিজি র‍্যাঙ্কের আইপিএস কে জয়রামনকে নিয়ে। যত চুরি করেছেন, মনরেগার চুরি, আবাসের চুরি, জল জীবন মিশনের চুরি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের চুরি— যত চুরি করেছেন, এই কমিশনে অভিযোগ পড়বে এবং তাঁদের শ্রীঘরে যেতে হবে।’’

    ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ

    তার পরেই শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, এ বার থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ভাবেই পক্ষপাতদুষ্টতা থাকবে না, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে। কোনও রাজনীতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। ইউপিএসসি-র মতো নিয়োগ হবে। বাজেটেও সে কথা জানিয়েছে সরকার। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। তাঁর বক্তব্য, জনস্বার্থ রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। তদন্তকারীদের আতশ কাচের তলায় একাধিক রাজনৈতিক নেতা। এমন (Ritabrata Banerjee) পরিস্থিতিতেই সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল (TMC)। অন্তত, রাজনৈতিক মহলের দাবি তো তেমনই।

    কোর্ট পেপারে সই (Ritabrata Banerjee)

    সূত্রের খবর, সোমবার নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত গোপন বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেককে একটি কোর্ট পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বলা ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, গোটা বৈঠকের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সই সংক্রান্ত কোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ৬০ থেকে ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। হাজির ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক জাভেদ খান, জুঁই বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতানেত্রী। ঋতব্রতর পাশাপাশি কিছু বিধায়কও অংশ নেন সোম-সন্ধ্যার ওই বৈঠকে।

    নেপথ্য কথন

    প্রসঙ্গত, সই জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভায় পাঠানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, যে রেজ্যুলিউশন বুকে ৭০ জন বিধায়কের সই দেখানো হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন বিধায়ক বাস্তবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর ছিল। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতর দাবি, ওই রেজ্যুলিউশন বুকে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা স্পিকারের কাছেও এ ব্যাপারে অভিযোগ জানান। এরপরেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, এবং (Ritabrata Banerjee) যার অনিবার্য পরিণতিতে কার্যত দুটুকরো হয়ে যায় তৃণমূল- একটি ঋতব্রত শিবির এবং অন্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের নয়া কর্মসমিতির তালিকা

    এদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও সাংগঠনিক কর্তৃত্বের বার্তা দিতে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের পরিমার্জিত কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা। কালীঘাট সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত ৫ জুন কালীঘাটে দলের নয়া কর্মসমিতি গঠন করেছিলেন মমতা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলত্যাগী নেতাদের অবস্থান বদলের পর সেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে বলেই অনুমান। নতুন কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া একাধিক নেতা। যুব সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি সায়নী ঘোষ এবং মহিলা সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি মালা রায় বর্তমানে (TMC) ঋতব্রত শিবির-ঘনিষ্ঠ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত। একই কারণে নয়া তালিকায় ঠাঁই হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদেরও।

    পৃথক কর্মসমিতি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরেরও 

    অন্যদিকে, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরও নিজেদের পৃথক কর্মসমিতি ঘোষণা করেছে (Ritabrata Banerjee)। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ঋতব্রত, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সহ-সভাপতি করা হয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সই জালিয়াতি বিতর্কের তদন্ত, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব— এই দুইয়ের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে। তৃণমূলের যুযুধান মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের উপুর্যপরি কর্মসমিতি গঠন (TMC) অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে (Ritabrata Banerjee) বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

     

  • Sabyasachi Dutta: পার্থর পরে সব্যসাচী! ধৃত তৃণমূল নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার কেজি কেজি সোনা

    Sabyasachi Dutta: পার্থর পরে সব্যসাচী! ধৃত তৃণমূল নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে উদ্ধার কেজি কেজি সোনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে কোটি কোটি টাকা নগদের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছিল পাঁচ কিলো সোনা! চার বছর পরে তারই একটি ঝলক দেখা গেল রাজ্যে। এবার সল্টলেকের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সব্যসাচী দত্তের (Sabyasachi Dutta) বান্ধবীর বাড়িতে বিপুল সোনার খোঁজ পেল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সব্যসাচীকে নিয়ে নদীয়ার করিমপুরের কিশোরপুরে টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, সেখানে মোট ৩ থেকে সাড়ে তিন কিলো সোনার গয়না মিলেছে। যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে। ইতিমধ্য়েই সামনে এসেছে উদ্ধার হওয়া সোনার ছবি।

    কীভাবে নজরে এল সোনা

    গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন সব্যসাচী দত্ত। আজ, মঙ্গলবার তাঁর পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর এরই মধ্য়ে নতুন তথ্য সামনে এল। জানা গিয়েছে, সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়ার তেহট্ট ও করিমপুরে তল্লাশি চালায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তল্লাশি চলে তৃণমূল নেত্রী তথা সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ টিনা ভৌমিক সাহার বাপের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়িতে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে উঠে এসেছে যে সব্যসাচীর টাকাতেই ওই সোনা কিনে রাখা ছিল টিনার বাড়িতে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই ধৃত সব্যসাচীর বাড়ি থেকে ৫০ কেজি সোনা কেনার রশিদ মিলেছে। তারপরই শুরু হয় তল্লাশি। টিনার দুই বাড়ি থেকে তিন কেজি অর্থাৎ ৪ কোটি টাকা বেশি মূল্যের সোনা উদ্ধার করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, শাঁখা বাঁধানো, পলা বাঁধানো, চওড়া হার, চুড়ি, লকেট, চূড় সবই রয়েছে। এছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু জমির কাগজপত্র। বৃহস্পতিবার টিনাকে বিধাননগর থানায় সশরীরে হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়।

    তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য টিনা

    নদিয়া তৃণমূল জেলা পরিষদের সদস্য টিনা সাহা ভৌমিক। এছাড়া নদিয়া জেলায় তৃণমূলের বঙ্গজননীর সভানেত্রী ছিলেন তিনি। সব্যসাচীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। বিধায়ক তাপস সাহার সঙ্গে টিনার দ্বন্দ্ব ছিল বলেও চর্চা রয়েছে। বিধায়কের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বেশ কয়েকজনকে চাকরি দিয়েছিলেন এই টিনা। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, রাজনৈতিক কারণে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক ছাড়া সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে তাঁদের আর কোনও সম্পর্ক নেই। ২০২৫ সালে পরিচয় বলে জানান টিনা। বার চারেক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েছেন সব্যসাচী দত্ত। টিনার অভিযোগ, তাঁর মা, ভাইয়ের স্ত্রী সহ পরিবারের সাত মহিলার সব গয়না বাজেয়াপ্ত করেছে। তিনি আইনি পথে হাঁটবেন।

    রাতভর তল্লাশি, কী বলছে পুলিশ

    পুলিশ সূত্রে খবর, রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে টিনার বাড়ি থেকে তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, যে বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধার হয়েছে, সেটি টিনার বাবা কাঞ্চন ভৌমিকের। সোমবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ ওই বাড়িতে যায় বিধাননগর উত্তর এবং করিমপুর থানার পুলিশের একটি দল। ওই দলে ছিলেন ৭ জন পুলিশ আধিকারিক। ২১ জন পুলিশকর্মী গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেন। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটি লাল স্করপিও গাড়িতে করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় সব্যসাচীকে। এত পরিমাণ সোনা কিভাবে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা কেনার রসিদ পেয়েছিল পুলিশ। মোট কত টাকার সোনা কিনেছেন, সেই টাকার উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ফ্ল্যাট থেকে ৭০-৮০ গ্রাম সোনার গয়নাও উদ্ধার হয়। এরাব বিপুল সোনা মিলল তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে।

    তোলাবাজির টাকা দিয়ে সোনা কিনতেন সব্যসাচী

    গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচীকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। তার পর তৃণমূল নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। এর আগে সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্কের লকার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনার সন্ধান পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, তোলাবাজির টাকা দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন সব্যসাচী। এর আগে সব্যসাচী এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত (ফ্রিজ়) করেছে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়, ওই পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মেয়াদি আমানত (ফিক্সড ডিপোজ়িট), নগদ মিলিয়ে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল টাকার উৎস কী, তা জানতে তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ।

    টিনার সব সম্পত্তি খতিয়ে দেখার আর্জি

    তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলায় এর আগে সব্যসাচী-‘ঘনিষ্ঠ’ টিনাকে তলব করেছিল পুলিশ। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। তার মধ্যে তাঁর পৈতৃক বাড়়িতে তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ। টিনার বাবা কাঞ্চন নাজিরপুর বাজারে একটি কাপড়ের দোকান চালান। স্থানীয়দের দাবি, এই বিপুল সোনার মালিক টিনা। যদিও এই বিষয়ে টিনার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে কাঞ্চন বলেন, “এগুলি আমাদের পরিবারের গয়না। এর মধ্যে মেয়ের কিছু গয়না থাকলেও থাকতে পারে। সেটা ওর মা ভাল বলতে পারবে।” এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা সৌমেন সরকার বলেন, “সব্যসাচীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন টিনা। শুধুমাত্র সোনা নয়, নদিয়ার নাজিরপুর এলাকা জুড়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি আছে। কলকাতায় চারটি ফ্ল্যাট আছে। সব বিষয়সম্পত্তি তদন্তের আওতায় এনে খতিয়ে দেখা হোক।”

  • TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল (TMC)! পার্টি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বুয়া-ভাতিজাকে! সোমবার দলের বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা তৃণমূলের পুরনো জাতীয় কর্মসমিতি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করেছে (Ritabrata Banerjee)। দল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি বিদ্রোহী নেতাদের।

    বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক (TMC)

    সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসে বিদ্রোহী শিবির। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রায় ৬০ বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার জনা সত্তর প্রাক্তন কাউন্সিলর। এই বৈঠকেই ৩০ সদস্যের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্রোহীদের ঘোষিত নতুন কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক রথীন ঘোষ।সাধারণ সম্পাদকের পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। কার্যকর করা হয়েছে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো।

    বিদ্রোহীদের দাবি

    বিদ্রোহীরা তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করে (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ২০২২ সালের পর আর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়নি। এই যুক্তিকে সামনে রেখেই তাঁরা পুরনো জাতীয় কর্মসমিতিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতেই নয়া নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহীদের (TMC)। নিউ টাউনের বৈঠকে এদিন যে ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, সেটি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ওই ব্যানারে মহাত্মা গান্ধী, বিআর অম্বেডকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজি নজরুল ইসলামের ছবি থাকলেও, আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূল গড়ার কারিগর মমতা স্বয়ং। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বিদ্রোহী শিবিরের তরফে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

    কতদূর গড়াল সই জালিয়াতিকাণ্ডের জল?

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারে তৃণমূল। তার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে শুরু করে অসন্তোষ। তবে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় তথাকথিত সইকাণ্ডকে ঘিরে (Ritabrata Banerjee)। বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের জন্য বিধায়কদের সই ‘করা’ চিঠি পাঠানো হয়েছিল স্পিকারের কাছে। অভিযোগ ওঠে, সেই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল (TMC)। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরে। তার পর থেকেই একের পর এক বিধায়ক নাম লেখাতে থাকেন বিদ্রোহী শিবিরের খাতায়। প্রথম দফায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপর দলের ভাঙন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।

    তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা

    শুধু বিধানসভা নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা লাগে। লোকসভার একসঙ্গে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় যোগ দেন বলে দাবি করা হয়। রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবও পদত্যাগ করেন। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠে (Ritabrata Banerjee)। দলের ভাঙন শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব বা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জেলা এবং ব্লক স্তরেও বহু নেতা-কর্মী দল ছাড়তে শুরু করেন। বিভিন্ন জেলায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে শুরু হয় দড়ি টানাটানি (TMC)। সোমবারের বৈঠকে বিদ্রোহী শিবির সাফ জানিয়ে দেয়, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নবগঠিত রাজ্য কমিটির সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌরভ বসুও। বিদ্রোহীদের এহেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূলের মমতা শিবির। তাদের সাফ কথা, তৃণমূলের যে সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে, তাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও এক্তিয়ার বিদ্রোহীদের নেই (Ritabrata Banerjee)।

     

  • Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বালু। সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগ। চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অন্য দিকে, শুক্রবারই শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    বিপদে দলনেত্রীর হাত ছাড়লেন কেন

    সূত্রের খবর, চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক লিখেছেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে দলের কর্মসমিতির সদস্য করেছিল তৃণমূল। এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ ছে়ড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রথম দিকের ‘সৈনিক’ জ্যোতিপ্রিয়। তবে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। তৃণমূলের শুরু থেকে, মমতার লড়াইয়ের দিনগুলিতে দলের অন্যতম সৈনিক হিসেবে মমতার পাশে ছিলেন তিনি। বালুর দুর্দিনে তাঁর হাত ছাড়েননি মমতাও। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র জেলযাত্রার পরেও তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জ্যোতিপ্রিয়কে ফাঁসানো হয়েছে বলেও জোর গলায় দাবিও করেছিলেন। কিন্তু, দলের দুর্দিনে, মমতার দুর্দিনে সেই বালুও সঙ্গে থাকলেন না।

    মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম

    জ্যোতিপ্রিয়ের পদত্যাগ তৃণমূলের অনেককে বিস্মিত করলেও গৌতম যে মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন পুরসভা এবং পুরনিগমের চেয়ারম্যান এবং মেয়রেরা পদত্যাগ করছেন। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। এ বার রাজ্যের আর এক পুরনিগম শিলিগুড়ির মেয়রও পদত্যাগ করলেন। অর্থাৎ, শিলিগুড়ির পুরবোর্ডও ভেঙে গেল। বৃহস্পতিবারই পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন গৌতম। ওই বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলে মেয়র পারিষদদের একাংশ তাঁকে বাধা দেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের আরও এক বছর কাজের মেয়াদ ছিল। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাননি। তবে গৌতম সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, তৃণমূলনেত্রী চাইছেন গৌতম দলীয় সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন।

LinkedIn
Share