মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। বিপর্যয়ের সময়ে ফ্রিজ (TMC Account Freeze) হয়ে গেল দলের অ্যাকাউন্ট। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের মোট ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। জয়নগরের বিধায়ক সহ অন্তত ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা বেসরকারি ব্যাঙ্কে চিঠি দেয়। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন, কাটমানি থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। আর তার ভিত্তিতেই তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্ট তিনটি ফ্রিজ করার আবেদন জানানো হয়। ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করায়, সেখান থেকে আর কোনও টাকা তোলা যাবে না।
সাইবার সেলকে অনুরোধ করে চিঠি
সম্প্রতি, নিজেকে কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন বন্ধের জন্য এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক-এর সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস৷ এরপর তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অনুরোধ করে বিধাননগর পুলিশের সাইবার সেলকে অনুরোধ করে চিঠি লেখেন৷ পুলিশের তরফে বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়৷ তার পরই ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কথা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ পুলিশকেও জানিয়ে দিয়েছে৷ তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের দিনে ‘ফান্ড’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হয়ে উঠছিল। গত দু’দিনে তৃণমূলের ফান্ডে কাদের অধিকার, তা নিয়ে বিস্তর চর্চা চলেছে ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে মমতাপন্থীদের। অরূপ বিশ্বাস গত ১২ জুন তৃণমূলের ফান্ড বন্ধের আর্জি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন। যদিও সেই চিঠি গৃহীত হয়নি। কারণ ৫ জুনই তৃণমূল অরূপকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছে। তাও সমস্ত আইনি পদ্ধতি মেনেই। গত দুদিনে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিস্তর চর্চা চলে।
অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন
অরূপ বিশ্বাসকে সমর্থন জানিয়ে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্টে কাটমানি, চুরির টাকাও থাকতে পারে৷ ফলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাজ্য সরকার এই অভিযোগের তদন্ত করে দেখুক৷ তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা সন্দীপন সাহা বলেন, ‘অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ ছিলেন৷ তিনিই বিষয়টি প্রথমে সবার নজরে আনেন৷ আমাদেরও মনে হয় যে এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কিছু লেনদেন হয়ে যেতে পারে৷ এখন যা পরিস্থিতি, তাতে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও লেনদেন হওয়া উচিত নয়৷ সেই মর্মেই স্বীকৃত বিরোধী ব্লকের বিধায়করা পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলেন৷ তার পরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়েছে৷ এটাই তো কাম্য ছিল৷ তদন্ত হোক, তদন্তে দেখা যাক ওই অ্যাকাউন্টে যে টাকা ঢুকেছে তার উৎস কী৷ সেই উৎস যথাযথ কি না৷ হতেই পারে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে অবৈধ টাকা আছে৷ আমরা চাইছি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক৷’
আগুনে ঘৃতাহুতি: অভিষেকের চার্টার্ড ফ্লাইট বিতর্ক
একইসঙ্গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে চার্টার্ড বিমানের ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক দানা বাঁধে। যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দলের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ যে কাটমানি, তোলাবাজি, ডাকাতি বা অন্য কোনও দুর্নীতির মাধ্যমে আসেনি, তা প্রমাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এমনও হতে পারে যে, চার্টার্ড ফ্লাইটের খরচও ওই অর্থ থেকেই মেটানো হচ্ছে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের তহবিলের উৎস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সরব হন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।

Leave a Reply