Tag: tmc

tmc

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশ সালের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে (Sukanta Majumdar) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মনে রাখবেন (Amit Shah), কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং পদ্মফুল প্রার্থী। তাই পদ্মফুলকে জেতাতে হবে। অন্য কিছু দেখলে হবে না।” বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কুরুক্ষেত্র (Sukanta Majumdar)

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনকে তিনি কুরুক্ষেত্র বলেও অভিহিত করেন। মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “আমরা মহাভারতে গল্প শুনেছি, অর্জুন-সহ সবাইকে দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী দেখতে পাচ্ছ। কেউ বলেছিল, আমি গাছে পাতা দেখতে পাচ্ছি। কেউ বলেছিল, পাখির ঠোঁট দেখতে পাচ্ছি। অর্জুনই একমাত্র বলেছিলেন, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বন্ধুগণ, আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু, প্রায় ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির কাজ করার পর আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। কলকাতার চারটি জেলার শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডলের লোককে ডাকা হয়েছে। তার বিশ্বরূপ যদি (Sukanta Majumdar) এটা হতে পারে, তাহলে মনে রাখবেন, এই কুরুক্ষেত্রে আমাদের জয় অর্থাৎ পাণ্ডবদের জয় হবেই।”

    বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল

    তিনি বলেন, “বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের কার্যকর্তা ও কর্মীরাই মূলধন। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি যখন কিছু ছন্নছাড়া হয়ে যায়, তখন কার্যকর্তারা পিঠে কুলো বেঁধে পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অমিত শাহের নাম শুনলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুরো পার্টি থরথর করে কাঁপে।” এদিন সুকান্তের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলকে আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। দলের (Amit Shah) সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, তাহলে যে এ রাজ্যে বিজেপি আসবেই, তাও স্পষ্ট করে দেন শাহ (Sukanta Majumdar)।

  • Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ সফরে এসে ফের একবার ‘২০০ আসন’-এর লক্ষ্যে দলকে নির্বাচনী ময়দানে নামার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত বিজেপির কলকাতা জোনের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি কোনও ভাবেই থামার দল নয়। মঞ্চ থেকে কর্মী ও নেতৃত্বকে উদ্বুদ্ধ করে শাহ বলেন, “আমরা যদি ৩টি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০টি আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।

    চার সাংগঠনিক জেলায় ২০ আসনের লক্ষ্য (Amit Shah)

    এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) এবং যাদবপুর – এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মী ও নেতানেত্রীরা। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকেই শাহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে অমিত শাহ বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন। সেই বৈঠকে বিশেষভাবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র ঘিরে দলের কৌশল নিয়েও কথা হয়।

    দলীয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সায়েন্স সিটির এই কর্মী সম্মেলনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একাধিক প্রাক্তন বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি রাজ্যে বিজেপির সংগঠন পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে নতুন করে গতি পাচ্ছে, তা স্পষ্ট শাহের এই সফর ও তাঁর বক্তব্যে।

     ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে দু’টি বিষয় যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে, এদিন তাও জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে দু’টো জিনিস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, একটা অনুপ্রবেশ, আর একটা দুর্নীতি।” শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নয়, কলকাতার নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। তিনি বলেন, “কলকাতা আর আগের মতো নিরাপদ নয়। অনুপ্রবেশের দাপট ক্রমেই বাড়বে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই বিপদের মুখে পড়বেন।” এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারকে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিজেপি কর্মীদের শাহি নির্দেশ

    ভাষণ দেওয়ার সময়ই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক সাংগঠনিক নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আর এক কর্মীর যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। “সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছনো এখন সবচেয়ে জরুরি”।

    ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ

    তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’কে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি চলছে। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনো এখন বিজেপির দায়িত্ব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। দলীয় কর্মীদের চাঙা করতে আত্মবিশ্বাসের সুরে শাহ বলেন, “কোনও কিছুর সঙ্গে আপোস করা যাবে না। এবারের লক্ষ্য একটাই, বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন।” তিনি বলেন, প্রার্থী যেই হোক না কেন, সবাইকে জেতাতে হবে। লিখে রাখুন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদেরই সরকার হবে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই এখন দলের পাখির চোখ। রাজ্যের শহর ও গ্রাম, দুই জায়গায়ই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের সঙ্গে যে কোনও সমঝোতা নেই, এদিন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শাহ। এদিকে, এদিন বঙ্গ বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষকে নিয়ে আলাদা করে বৈঠকে বসেন শাহ। সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল এবং বিপ্লব দেব।

  • Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নয়, গোটা দেশকেই হুমকি দিচ্ছেন।” বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। আমরা চাইলে আপনাকে হোটেল থেকে বেরোতেই দিতাম না। আমরা আপনাকে বেরোতে দিয়েছি, এটাই আপনার সৌভাগ্য।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” তিনি বলেন, “আপনি অমিত শাহকে হুমকি দিচ্ছেন না, আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”

    বিজেপি কর্মী খুন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তোপ

    সম্বিতের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এর বেশি বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াতেই তাঁর সমস্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন।

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তোপ

    সম্বিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগকেও সমর্থন করেন। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।” এদিন সে প্রসঙ্গ টেনেই সম্বিত বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, অবিচার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজনীতি চলছে। মমতা সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এ রাজ্যে। মঙ্গলবার শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন।

    ভয় ও দুর্নীতি তত্ত্বে তৃণমূলকে শাহি আক্রমণ

    শাহের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হয়ে উঠেছে ভয় ও দুর্নীতি। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি না দেওয়ার বিষয়েও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। মোদি সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে কাটমানি সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়।” তিনি এও বলেছিলেন, “২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই বঙ্গভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই মাটি থেকেই বিজেপির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

    মমতার জবাব

    শাহের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেতাদের মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। মমতা বলেন, “বাংলায় দুঃশাসন এসেছে। ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনের আবির্ভাব হয়। শকুনির শিষ্য দুঃশাসন এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। আজ বলছে, আমি নাকি জমি দিইনি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে পেট্রাপোল বা আন্দালে জমি এল কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, পেট্রাপোল ও আন্দাল, দুই জায়গায়ই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি।” মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় (TMC) এসেছেন তিনি। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক হালহকিকত বুঝতে বঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। এই সফরে মঙ্গলবার বাংলায় যে এবার বিজেপি আসছে, তা জানিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল প্রত্যয়।

    জমি দিচ্ছে না রাজ্য (Amit Shah)

    কেন্দ্রীয় সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, এদিন তারও ফিরিস্তি দেন শাহ। তবে তার সবগুলিরই যে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করেছে, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অনুযোগ করেন শাহ। তাঁর মতে, সেই কারণেই শেষ করা যাচ্ছে না সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ। তাই বেনো জলের মতো এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। পুলিশ-প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ। আর বিএসএফ কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “অসম এবং ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও, এ রাজ্যে কেন হচ্ছে না? আসলে বাংলার জনবিন্যাসে বদল আনতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু বাংলার বিষয় নয়। এটি পুরো দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এমন (Amit Shah) মজবুত সরকার এখানে আনুন, যারা এখানে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

    তোলাবাজির প্রসঙ্গ

    তিনি বলেন, “আগে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হত এই বাংলা থেকেই। আজ তোলাবাজির কারণে এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিল্পপতিরা (TMC)।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে রয়েছে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আজ মমতার নেতৃত্বে পুরো বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। মোদির সব যোজনা পুরো দেশে গরিবের উন্নয়ন করছে, এখানে সিন্ডিকেট চলছে। ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতি বাংলার পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্কল্প, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ এর পর যখন বিজেপির সরকার হবে, তখন বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করব (Amit Shah)।” তিনি বলেন, “দেশের যেখানে যেখানে এনডিএ, বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে গরিবদের উন্নয়নকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেও দেব। বন্ধ করব অনুপ্রবেশ। শুধু তাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে একে একে দেশ থেকে বের করে দেবে বিজেপি (TMC)।”

    কংগ্রেস বিগ জিরো

    বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহ বলেন, “ছাব্বিশের বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। এর মজবুত আধার বিজেপির কাছে রয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ও মাত্র ২টি আসন পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর পরে আমরাই ৭৭টি আসনে জিতেছি। আর কংগ্রেস বিগ জিরো হয়েছে। বামফ্রন্টও একটাও আসন পায়নি। এ রাজ্যে আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা (Amit Shah)। ২০২৪ সালে ১২টি আসন পেয়েছি। আর ছাব্বিশে প্রচণ্ড বহুমতের সঙ্গে বিজেপির সরকার হবে। ২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের জন্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং দিল্লিতে বিজেপির সরকার হয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বিজেপি বা এনডিএর সরকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছাব্বিশের ভোটেও বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।”

    মতুয়াদেরও আশ্বাস

    মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই শাহ বলেন, “মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না (TMC)। তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “ছাব্বিশ সালের ভোট হবে মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট।” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। আপনারা বলছেন বাংলায় দুর্নীতি নেই? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুরসভা পর্যন্ত সর্বত্রই কেলেঙ্কারির ছায়া।”

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতি

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “বাংলায় মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে কে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বিধায়ক এবং তৃণমূল নিজে (Amit Shah)।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এটা যে করা ঠিক হয়নি, বাংলার মানুষকে তা বুঝতে হবে।মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে (TMC) সুশাসন দিতে ব্যর্থ (Amit Shah)।”

  • Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    Samserganj Verdict: মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিচারিতা! তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, সামসেরগঞ্জে বাবা–ছেলে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াকফ হিংসার মাঝে পড়ে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জাফরাবাদে বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডে সাজা ঘোষণা করল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। দোষী ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাসের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। সোমবার ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটি দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য এই সাজায় (Samserganj Verdict) অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্য, ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    নিহতদের পরিবারের পাশে বিজেপি

    সামশেরগঞ্জের (Shamsergunj) ঘটনা নিয়ে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত যে রায় শুনিয়েছে তাতে যেমন খুশি নন হরগোবিন্দ দাস (Hargovinda Das) ও চন্দন দাসের (Chandan Das) পরিবার, তেমনই অখুশি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায়ের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) যাবেন। পুলিশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এও বলেন, তাঁদের জন্যই সর্বোচ্চ সাজা হয়নি দোষীদের। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী ও চন্দন দাসের মা পারুল দাস। তাঁদের বক্তব্য, বাড়িতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও পুলিশ (WBP) আধিকারিকরা বলে এসেছিলেন যে ফাঁসি হবে, কিন্তু হল না। তাঁরা ফাঁসি ছাড়া কিছু চাইছেন না। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য, পুলিশের সিট (SIT) সবাইকে একই দোষে দোষী দেখিয়েছিল। আসলে লক্ষ্য একটাই – এদের বাড়ির ভাতের বদলে জেলের ভাত খাওয়ানো। এদের বাঁচিয়ে রাখা। বিরোধী দলনেতা এই ইস্যুতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে পরিবার উচ্চ আদালতে গেলে তাঁরা সর্বোচ্চ আইনি সাহায্য করবেন। দরকারে কলকাতা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করা হবে।

    কীভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা

    ২০২৪ সালের ১২ এপ্রিল ৭২ বছরের হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ৪০ বছরের ছেলে চন্দন দাসকে তাঁদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে উত্তেজিত জনতা জাফরাবাদ এলাকায় হত্যা করে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খুন, দাঙ্গা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট ও মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা হলেন— দিলদার নাদাব, আসমাউল নাদাব ওরফে কালু নাদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, একবাল শেখ, নুরুল শেখ, সাবা করিম, হাজরত শেখ, হাজরত আলি, আকবর আলি ওরফে একবার শেখ এবং ইউসুফ শেখ। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই মামলাটি রাজ্যের অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা। ২৫ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট জমা দেয়।”

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা

    আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের আগে দুই দফা হামলা প্রতিহত করেছিলেন নিহতরা। তবে তৃতীয়বার হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাঁদের হত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা আদালতে ঘটনার বিবরণ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। পরিবারের দাবি, পুলিশের জন্যই দোষীদের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়নি। তাদের যাবজ্জীবন হয়েছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ সময়মতো পৌঁছালে প্রাণহানি এড়ানো যেত। নিহত চন্দন দাসের মা পারুল দাস জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্য দেখে তিনি হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। এসআইটি-র চার্জশিট অনুযায়ী, এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

    মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক দাবি

    ঘটনার সময় রাজ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এই অশান্তির পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির দায়িত্ব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন, এই ধরনের রাজনীতি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে। যদিও বিচারচলাকালীন দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে এই ওয়াকফ হিংসার প্রতিবাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পর্ক না থাকলেও প্রাণ গিয়েছিল স্থানীয় দাস পরিবারের বাবা-ছেলের। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যাওয়ায় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুন করা হয়। এতে আগুনে নতুন করে ঘি পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সিট গড়া হয় জেলা পুলিশের তরফে। একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকে অভিযুক্তরা। শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পর্যন্ত জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে চলে শুনানি। ২২ তারিখ, সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক অমিতাভ মুখোপাধ্যায়। বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জঙ্গিপুর আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(২), ৩১০(২), ৩৩১(৫), ১৯১(৩), ১২৫(২), ১২৬(২) , ৩৩২( এ) এবং ৩(৫) ধারায় মঙ্গলবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন বিচারক।

    রাজ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে

    মুর্শিদাবাদের এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে দোষীদের অপরাধ প্রমাণিত হলেও, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দায় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। রায়ের পর বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংক্রান্ত আন্দোলনের সরাসরি যোগ পাওয়া যায়নি।

  • Donations: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তৃণমূলের অনুদান বেড়েছে ৩ গুণ টাকা, চলতি বছরে জমা পড়েছে ১৮৪.৯৬ কোটি

    Donations: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তৃণমূলের অনুদান বেড়েছে ৩ গুণ টাকা, চলতি বছরে জমা পড়েছে ১৮৪.৯৬ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) ৪৪৮ জন অনুদানকারী ১৮৪.৯৬ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দেখানো গত অর্থবছরের ৬৪.২৪ কোটি টাকার অনুদানের তুলনায় এটি প্রায় তিনগুণ বেশি বলে জানা গিয়েছ। এই দশজন দাতাদের মধ্যে রয়েছেন, দিল্লি ও মুম্বাইয়ের নির্বাচনী ট্রাস্ট, বাংলার লটারি ব্যবসায়ী এবং রাজ্যে উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তৃণমূল পার্টির দফতরের তহবিল এতো ফুলেফেঁপে ওঠার বিষয়টি এখন আলোচনার শিরোনামে।

    টাইগার অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৫০ কোটি টাকা অনুদান (Donations)

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রুডেন্ট ইলেক্টোরাল ট্রাস্ট থেকে ৯২ কোটি টাকা এবং টাইগার অ্যাসোসিয়েটস থেকে ৫০ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দেওয়া হয়েছে। টাইগার অ্যাসোসিয়েটস হল পশ্চিমবঙ্গে নাগাল্যান্ড রাজ্য লটারি, সিকিম রাজ্য লটারি এবং পাঞ্জাব রাজ্য লটারি বিক্রির সংস্থা। লোহা, ইস্পাত, সিমেন্ট কোম্পানি রশ্মি সিমেন্ট লিমিটেড টিএমসিকে (TMC) ৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। মুম্বয়ের প্রোগ্রেসিভ ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের পক্ষে থেকে টাটা গ্রুপ কোম্পানিগুলি ১০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এই গ্রুপের কারখানা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম এবং খড়গপুরে রয়েছে। একই ভাবে কলকাতায়ও একটি কর্পোরেট অফিস রয়েছে।

    স্টেইনলেস স্টিল-শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড

    তৃণমূলকে (TMC) স্টেইনলেস স্টিলের প্রস্তুতকারক এবং রফতানীকারক শ্যাম ফেরো অ্যালয়স লিমিটেড ৩ কোটি টাকা অনুদান (Donations) দিয়েছে। কলকাতার একটি ট্রেডিং এবং মাইনিং কোম্পানি, কেজরিওয়াল মাইনিংও ৩ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনাকারী লোহা ও ইস্পাত প্রস্তুতকারক সুপার স্মেল্টার্স ২ কোটি টাকা দিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বন্দর শহর হলদিয়া এবং পাঞ্জাবের কর্ণালে কারখানা সহ প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক আইভিএল ধানসেরি পেট্রোকেম ইন্ডাস্ট্রিজ সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করেছে।

    কোন তৃণমূল নেতা কত দিয়েছেন?

    কিষাণ গোপাল মোহতা নামে একজন ধনবান ব্যক্তি ৩ কোটি টাকা তৃণমূলকে (TMC) দিয়েছেন। ২০২৪ সালে নির্বাচনী বন্ডের তথ্য প্রকাশের সময় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এপ্রিল ২০১৯ থেকে জানুয়ারী ২০২৪ এর মধ্যে ১,৬০৯ কোটি টাকা অনুদান (Donations) গ্রহণ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের ২১৩ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ১৯৯ জনের কাছ থেকে মাথা পিছু ২২,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার অনুদান নিয়েছে। এই বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাত্য বসু, বাবুল সুপ্রিয়, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমের মতো মন্ত্রীরাও। এছাড়াও, চল্লিশজন বর্তমান এবং প্রাক্তন সাংসদ একইভাবে অনুদান দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে হলেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ১.২ লক্ষ টাকা, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান ৩.৮ লক্ষ টাকা, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ১ লক্ষ টাকা এবং কলকাতার দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় ৬.১২ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। গত কয়েক বছর সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলে বিপুল পরিমাণে টাকা জমা পড়ার তথ্য এখন রাজনীতির আঙ্গিনায় বহুল চর্চিত বিষয়।

  • Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    Humayun Kabir: ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়া লক্ষ্য! মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’ বিতর্কের পর নতুন দল গড়লেন হুমায়ুন কবীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সোমবার বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সূচনা করলেন। ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক জনসভায় দলের পতাকা উন্মোচন করে তিনি জানান, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলটি অংশ নেবে। সভায় হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তিনি সর্বোচ্চ ২০০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন এবং নির্বাচনের পরে নিজেকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিয়ে রাজনীতি করাই তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য।

    ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন

    নতুন দল তৈরির দিনই বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করে দিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজে বিধানসভা নির্বাচনে ২টি আসন থেকে লড়াই করবেন হুমায়ুন। প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) বহিষ্কার করা হয়। ১১ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরেই এই পদক্ষেপ বলে জানা যায়। নতুন দলের ঘোষণা মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর তৃণমূল নেতৃত্ব, বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও তিনি খোলা রাখছেন। সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীর নিজে রেজিনগর ও বেলডাঙা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক।

    কোন কোন কেন্দ্রে প্রার্থী, ব্রিগেডের ডাক

    সোমবার দুপুর ১টায় নিজের রাজনৈতিক দলের নাম এবং রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। প্রকাশ করা হয় দলের পতাকাও। দলের পতাকায় রয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। দলের সভাপতির নামও ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। জানান আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রথম প্রার্থীর নামও। হাজী ইবরার হোসেনকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁকেই খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। মালদার বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী হচ্ছেন মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী করা হচ্ছে মনীষা পাণ্ডেকে। এরআগে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে যিনি লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা, যেখানে উপনির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়াই করবেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। অর্থাৎ শুধু মালদা-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রেও ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা দিলেন। সেইসঙ্গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, ৯০ আসন জিততে পারলে তাঁর দল রাজ্যে সরকার গঠনের কাণ্ডারি হবে ৷ পাশাপাশি এদিন মঞ্চ থেকে হুমায়ুন জানিয়ে দেন আগামী জানুয়ারি মাসে ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি।

  • Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    Amit Shah on SIR: ‘বিদেশিদের ভোট হারানোর ভয়েই কি এসআইআর-এর বিরোধিতা?’, নাম না করে মমতাকে তোপ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে দু’দিনের আলোচনার শেষে জবাবি ভাষণে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে সরব হলেন অমিত শাহ (Amit Shah on SIR)। কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্ব অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা কবচ দিতেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সরব। এমনই দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘একজনও বিদেশিকে ভোট দিতে দেব না। আমাদের নীতি হল, ডিকেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।’’ একই সঙ্গে ২২১৬ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এখনও ৫৬৩ কিলোমিটার বেড়া না হওয়ায় দায়ী করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই।

    ভিনদেশিরা কেন ভোট দেবেন?

    লোকসভায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) আলোচনা-পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ- প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা কেন এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা করছেন? ভিনদেশি ভোটারদের কি ভারতের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার আছে? কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে? বিরোধীদের কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ‘‘এসআইআর আর কিছু নয়, এটা স্রেফ ভোটার তালিকার সংশোধন। আমি মেনে নিচ্ছি যে এটার কারণে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের ঘা লাগবে। ওই দলগুলির প্রতি একদিক থেকে আমার সহানুভূতিও আছে। কারণ দেশের ভোটাররা তো ভোট দেন না। কয়েকটি ভোট বিদেশিরা দিয়ে দিতেন, সেটাও চলে যাবে। কিন্তু ভারতীয় হিসেবে আমাদের ঠিক করতে হবে যে এই দেশের সাংসদদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে, রাজ্যের বিধায়কদের নির্বাচনের জন্য বিদেশিদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত কি? আমাদের মতে, সেটা দেওয়া উচিত নয়।’’

    ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ কেন?

    নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শাহ। তিনি বলেন যে বিজেপিও নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু ভোটে হারলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করেনি। এখন মমতা, হেমন্ত সোরেন, এমকে স্টালিনরাও কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। আগে শুধু কংগ্রেস সেই কাজটা করত। কিন্তু বন্ধুত্বের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে ইন্ডি জোটের দলগুলিতেও। তারইমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপরে চটে যান শাহ। বুধবার লোকসভায় শাহ অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধীরা এসআইআর নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। বুধবার লোকসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় শাহ বাংলার সীমান্তে অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তোলেন। রাজ্যের দিকে অনুপ্রবেশকারী তোষণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন শীঘ্রই পূর্ণ হবে

    পাশাপাশি, ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের’ স্বপ্ন খুব শীঘ্রই পূর্ণ হবে বলেই এদিন বার্তা দিলেন শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত হয়ে এদেশে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ছে। আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে মোট ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্য়ে ১ হাজার ৬৫৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু ৫৬৩ কিলোমিটার এখনও বাকি। অসম, ত্রিপুরায় কাজ শেষ। শুধু বাংলা এখনও বাকি।’ এই কাঁটাতার না বসানোর নেপথ্যে অনুপ্রবেশকারী তোষণকেই দায়ী করেছেন শাহ। তাঁর দাবি, ‘রাহুলের মতো অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তৃণমূলেরও ওদের মতোই অবস্থা হবে। বিজেপি জয় ছিনিয়ে নেবে।’ অবশ্য শুধু অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই থেমে থাকেননি শাহ। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে আলোচনায় রাজ্য থেকে তৃণমূলকে ‘সাফ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের কথায়, ‘এসআইআর বিরোধিতা করলে বিহারের মতো বাংলা-তামিলনাড়ুতেও সাফ হয়ে যাবে।’

    রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র বিতর্ক

    এর পাশাপাশি বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর অতীতে করা অভিযোগেরও এদিন জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস সাংসদ হরিয়ানায় ভোটচুরির অভিযোগও করেছিলেন। এই নিয়ে রাহুল ও শাহের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হয়। রাহুল সংসদে দাঁড়িয়ে শাহকে সাংবাদিক বৈঠক করা নিয়ে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহ বলেন, ‘‘সংসদ এভাবে চলবে না। আমি যে ক্রমে কথা বলব তা আমি সিদ্ধান্ত নেব। আমি এটি পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ৩০ বছর ধরে বিধানসভা এবং সংসদে নির্বাচিত হয়েছি। সংসদীয় ব্যবস্থা নিয়ে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।’’

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা শাহের

    নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিশানা করে ভোটচুরি প্রসঙ্গে এদিন শাহ বলেন, ‘‘আপনার পরিবার ভোটচোর। স্বাধীনতার পরে কংগ্রেসের অন্দরে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন, যেখানে নেহরু পেয়েছিলেন মাত্র দু’টি। কিন্তু প্যাটেলের বদলে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু। এটিই ছিল দেশের প্রথম ভোটচুরি।’’ নেহরু প্রসঙ্গের পরে জরুরি অবস্থার কথা টেনে শাহ নিশানা করেন ইন্দিরাকে। তিনি বলেন, ‘‘এলাহাবাদ হাইকোর্ট ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচন বাতিল করে দিয়েছিল। তখন তিনি গদি বাঁচাতে সংবিধান সংশোধন করেছিলেন। এটি ছিল গণতন্ত্রের উপর আঘাত এবং ভোটচুরির দ্বিতীয় নির্লজ্জ উদাহরণ।’’ তাঁর নিশানা থেকে বাদ পড়েননি রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধীও। শাহ অভিযোগ করেন, ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিলেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘‘সোনিয়া গান্ধী ভারতের নাগরিক হওয়ার আগে কী ভাবে ভোটার হয়েছিলেন? ভোটচুরির এই তৃতীয় উদাহরণটি সম্প্রতি দেওয়ানি আদালতেও গিয়েছে।’’

  • SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    SIR In Bengal: মৃত্যুহীন বুথ ২২০৮ থেকে নামল ২টিতে! বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের সংখ্যা বাড়ল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ প্রায় শেষের পথে। ১৬ ডিসেম্বর এসআইআর-এর (SIR In Bengal) খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের আবহে এখনও পর্যন্ত বাদ যেতে পারে ৫৬ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম। সোমবার পর্যন্ত এই তথ্যই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এই সংখ্যাটা বাড়ছে।

    ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায়

    নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫। এছাড়া স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬২৯, নিখোঁজ ভোটার ১০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭১০, ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২১৫, এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮৩২। এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা আপলোড করা হয়নি। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে আনকালেক্টবল ফর্মের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান।

    মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২ টিতে

    অন্যদিকে, রাজ্যের মোট দু’হাজারেরও বেশি বুথে কোনও ‘মৃত’ ভোটার নেই বলে জানা গিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ডুপ্লিকেট ভোটারের খোঁজ মেলেনি। তার ফলে পূরণ করা সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম ফেরত আসে। এই অবাক করা তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। রিপোর্ট চায় তারা। এরপর ২২০৮টি যে বুথ ছিল সেটা কমতে কমতে এসে দাঁড়াল ২টি বুথে। প্রথমে ২,২০৮, দ্বিতীয়বার ৪৮০, তৃতীয়বার ২৯, চতুর্থবার ৭ ৭-এর পর এবার মৃত্যুহীন বুথ নামল মাত্র ২টিতে! শুধুমাত্র হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেই এই বুথ রয়েছে। যেখানে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত হওয়া, ডুপ্লিকেট ভোটার নেই। অর্থাৎ, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশন যে ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার কথা বলছিল বারবার, সেই প্রক্রিয়া চলছে।

    বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক প্রমাণিত

    ২২০৮টি বুথে কোনও ‘আন-কালেক্টবল’ ফর্ম নেই, এ বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যের শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, “আমি শুধু একটা কথাই বলব, যদি কেউ মরতে না চান, যদি সারাজীবন বেঁচে থাকতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসুন। নিশ্চিতভাবে বেঁচে থাকবেন। ২০০০-এর উপর বুথে কোনও মৃত্যু হয়নি, কেউ অন্য কোথাও যায়নি, এটাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। অদ্ভুত এক ভূতুড়ে জায়গা। আর জেলা প্রশাসন হচ্ছে গেছো ভূত।” বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা আমাদের পিসি সরকারের ম্যাজিক। আমাদের যে পিসির সরকার…অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ওই সমস্ত এলাকায় কেউ মারা যায় না। পশ্চিমবঙ্গের সব মানুষকে বলব ওই এলাকাতেই, সবাই নিজের নিজের জেলায় যে বুথে কেউ মারা যায়নি, সেই বুথে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। যাতে কেউ মারা না যান। ওখানে গেলে আপনারা অমরত্ব লাভ করবেন।” এনিয়ে পাল্টা দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দেখা গেল বিজেপি-নেতৃত্বের কথাই ঠিক হলো।

  • Election Commission: “শুধু ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়”, তৃণমূলকে সাফ জানিয়ে দিল কমিশন

    Election Commission: “শুধু ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়”, তৃণমূলকে সাফ জানিয়ে দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কেবলমাত্র ভারতীয়রাই ভোট দেবেন, অনুপ্রবেশকারীরা নয়।” ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশন এও জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু এসআইআর (SIR) নিয়ে যাতে কোনও ভুল প্রচার করা না হয়, বিএলওদের কোনও হুমকি না দেওয়া হয়। রাজ্যের শাসকদলের প্রতিনিধি দলকে কমিশন এও জানিয়েছে, নির্বাচন আইন মেনে পুরো প্রক্রিয়া হয়। সেই আইন মেনেই যাতে সবটা হয়, সেটা দেখতে হবে সবাইকে।

    এসআইআরের নান্দীমুখ (Election Commission)

    বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নান্দীমুখ হয়ে গিয়েছে এসআইআরের। কোনও গন্ডগোল ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এই প্রক্রিয়া। এর পর পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর। আর তার পরেই হইচই পড়ে গিয়েছে বাংলায়। বাকি ১১টি রাজ্যের কোথাও কোনও উচ্চবাচ্য না থাকলেও, চিল-চিৎকার জুড়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বিরোধীদের অভিযোগ, নানা অছিলায় তারা এসআইআর নিয়ে হাওয়া গরম করে চলেছে এই প্রক্রিয়া ঘোষণা হওয়ার দিন থেকেই। শুধু তাই নয়, এসআইআর নিয়ে রাজনীতি করতে (নিন্দকরা বলছেন) পথে নেমে পড়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। দেশে তো নয়ই, স্বাধীন ভারতেও যা বিরলতম ঘটনা বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে তৃণমূল

    শুক্রবার, সটান নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে হাজির হন তৃণমূলের ১০ জন প্রতিনিধি (Election Commission)। সূত্রের খবর, সেখানেই তাঁদের কার্যত আইনের পাঠ পড়িয়ে দিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিএলওদের ওপর প্রভাব খাটানো যাবে না। কোনওরকম চাপ ছাড়াই মৃত, স্থানান্তরিত এবং একই ভোটারের একাধিক জায়গায় থাকা নাম বাদ দিতে হবে। তৃণমূলের তোলা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৯ ডিসেম্বরের পর এসআইআর সংক্রান্ত দাবি এবং আপত্তি জমা দিতে বলা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা তাঁদেরও দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। ততদিন পর্যন্ত বিএলও, ইআরও এবং ডিইওদের কাজে যাতে শাসক দল হস্তক্ষেপ না করে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।

    বিএলওদের চাপ

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে কমিশন। সেই অফিস আরও নিরাপদ জায়গায় (Election Commission) স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে বলা (SIR) হয়েছে, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিএলওদের চাপ বা ভয় দেখানোর বিষয়টি দেখার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে। এদিন দিল্লিতে কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ১০জনের একটি প্রতিনিধি দল। কমিশন তাঁদের জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কোনও বক্তব্য কিংবা মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে যাতে কোনও ভুল কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না হয়, তা দেখতে হবে। সূত্রের খবর, ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে তৃণমূলকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা।

    অতিরিক্ত ভাতা

    যেহেতু বিএলও এবং ইআরও বাড়তি কাজ করছেন, তাই তাঁদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই বিষয়টিও স্মরণ (Election Commission) করিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে। কমিশনের আধিকারিকরা জানান, অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানানোও হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনও টাকা এই ভাতার জন্য (SIR) বরাদ্দ করা হয়নি। দেরি না করে যাতে অবিলম্বে এই ভাতার টাকা বিএলও এবং ইআরওদের দিয়ে দেওয়া হয়, তা-ও জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। রাজ্যের শাসক দলের বাধার প্রাচীর ডিঙিয়েও যে এ রাজ্যে এসআইআরের কাজ মসৃণ গতিতে চলছে, তা মনে করিয়ে দিয়েছে বিজেপি। তারা জানিয়েছে, ৮৫ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড করে ফেলেছেন বিএলওরা। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ফর্ম আপলোড হয়েছে সব চেয়ে বেশি। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ফুল বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলকে বলে দিয়েছে যে নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা করুন। তৃণমূলকে লাইনে আসতে বলেছে।”

    এদিকে, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে আসছেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। জেলায় জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ খতিয়ে দেখবেন তিনি। অবশ্য (SIR) তিনি একা নন, আরও ১১ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিকও আসবেন তাঁর সঙ্গে। এসআইআর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠানো হবে বিশেষ পর্যবেক্ষককে (Election Commission)।

LinkedIn
Share