Tag: Trinamool Congress

Trinamool Congress

  • TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারের পরে পরেই তৃণমূলের (TMC Posts Loyalty Row) অন্দরে শুরু হয়ে যায় ভাঙন। তার জেরে একের পর এক নেতা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে তৈরি করে ফেলেন তৃণমূলেরই আরও একটি (Chandrima Bhattacharya) গোষ্ঠী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এই গোষ্ঠীই আপাতত নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। তৃণমূলে ‘ভাতিজা’র উত্থানের যে ক্ষোভ সঞ্চিত হচ্ছিল, দল হারতেই তা উগরে দেয় গলিত লাভা। তার জেরে একের পর তৃণমূল নেতা বদলাতে থাকেন শিবির। এবং সেই কারণেই কালীঘাটে শুরু হয় ক্ষয়, আর ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে ঋতব্রতর শিবির।

    মমতা শিবিরে চন্দ্রিমা-ধাক্কা (TMC Posts Loyalty Row)

    এহেন আবহে ফের একবার বড় ধাক্কা খেল মমতা শিবির। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মাত্র এক মাস আগে তাঁকে দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়েওছিলেন। তার পর এদিন সেই পদ-সহ দলের সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। মমতাকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকেই নয়, দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক হিসেবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এহেন পদক্ষেপের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

    বিশ্বাসের বুকে ছুরি!

    সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা ও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের মধ্যে আসল তৃণমূল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই রয়েছে। তার ঠিক আগে চন্দ্রিমার ইস্তফা মমতার শিবিরের পক্ষে বড় অস্বস্তির কারণ। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের যখন ছন্নছাড়া দশা, ঠিক তখনই মমতা নয়া সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে তার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ‘অতি-বিশ্বস্ত’ চন্দ্রিমার ওপর।  পরাজয়ের পরেও দলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্তে আরও চড়েছে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ। চন্দ্রিমার পদত্যাগের নেপথ্যে তাঁর ছেলে সৌরভ বসুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানও অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন সৌরভ। তারপর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয় নানা জল্পনা। অভিযোগ ওঠে, চন্দ্রিমা বাইরে থেকে মমতা-ঘনিষ্ঠ থাকলেও ভেতরে ভেতরে তিনি সাহায্য করছেন বিদ্রোহী শিবিরকে। যদিও এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন চন্দ্রিমা (TMC Posts Loyalty Row)।

    ক্ষোভ উগরে দিলেন চন্দ্রিমা

    ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের ক্ষোভ ও অভিমানের কথা (Chandrima Bhattacharya) প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন চন্দ্রিমা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি নাকি তৃণমূল ভবনের চাবি ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, ‘‘আমি চাবি তুলে দেওয়ার কে? এই অধিকার তো নির্বাচন কমিশন বা আদালতের। যখন আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই পদে আর না থাকাই শ্রেয়। সবাই সঙ্গ ছেড়ে গেলেও আমি মমতাদির সঙ্গ ছাড়িনি। কিন্তু ওঁর মনে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে আমি ওঁর মনকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না।’’

    তৃণমূল ভবনের দখল

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঋতব্রতপন্থী নেতারা তপসিয়ায় অবস্থিত তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই চন্দ্রিমাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত সেই অপবাদই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। শুধু সাংগঠনিক ক্ষোভ নয়, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন চন্দ্রিমা। অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও, আদতে পুরো দায়িত্ব পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। চন্দ্রিমার কথায়, ‘‘আমি ছিলাম হাফপ্যান্ট বা বারমুডা মন্ত্রী। রাজ্যবাসী যে বাজেট একটু পরে জেনেছে, আমি তা জেনেছি (TMC Posts Loyalty Row) একটু আগে। সরকারি আধিকারিকরাই সব জানতেন।’’ এই মন্তব্যে প্রাক্তন মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Chandrima Bhattacharya)।

    চন্দ্রিমার রাজনৈতিক জীবন

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চন্দ্রিমা মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। স্বাস্থ্য, অর্থ ও আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বস্তুত চোখ বুজে তুলে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমার ওপর। ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে দক্ষিণ দমদম কেন্দ্র থেকেও জয়ী হন তিনি। যদিও তীরে এসে তরী ডোবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে। দক্ষিণ দমদম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে গোহারা হারেন মমতার ‘কাছের লোক’ চন্দ্রিমা।

    চন্দ্রিমার পরবর্তী পদক্ষেপ

    নিজের বাহান্ন বছরের রাজনৈতিক জীবনের এই মোড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি চন্দ্রিমা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মনে অভিযোগের চেয়ে অভিমানই বেশি। যদিও তৃণমূলের এই ক্রান্তিকালে চন্দ্রিমার মতো একজন হেভিওয়েট নেত্রী দলের সব সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেওয়ার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক আগে তাঁর এই (Chandrima Bhattacharya) ইস্তফা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেআব্রু করে দিল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (TMC Posts Loyalty Row)।

     

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    TMC July 21 Rally: ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি নয়, মমতা-ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই ধর্মতলায় ‘শহিদ দিবস’ উপলক্ষে রাজনৈতিক সমাবেশের (TMC July 21 Rally) অনুমতি দেওয়া হবে না বলে কালীঘাট এবং ঋতব্রত— তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল (Dharmatala) কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের বক্তব্য, ধর্মতলার মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ করে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

    ধর্মতলায় সভা নয় (TMC July 21 Rally)

    এ বছর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি করার জন্য পুলিশের কাছে আলাদা করে আবেদন জানিয়েছিল দুই পক্ষই। অনুমতির সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই রবিবার সেখানে ফিতে দিয়ে জায়গা মাপতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের কুণাল ঘোষ ও দোলা সেনকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। পরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে মাপজোক করার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কলকাতা পুলিশ। তার পরের দিনই ধর্মতলায় সভার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।

    মমতা শিবিরের বক্তব্য

    মমতা শিবিরের তরফে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, “এখনও পুলিশের তরফে কোনও চিঠি আমরা পাইনি। তাই এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” ঋতব্রত শিবিরের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক তথা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, “আমরা আমাদের শহিদ দিবস পালন করবই। তবে তা কখনও মানুষের কোনও অসুবিধা করে হবে না। আমরা সবাই মিলে বসে এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”

    তৃণমূলে মুষল পর্ব 

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরে যাওয়ার পরেই মুষল পর্ব শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূলে। এক শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আর অন্য গোষ্ঠীর নেতা মমতা স্বয়ং। দলের অন্দরে এই বিভাজনের জেরে এ বছর ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মমতা জানিয়েছিলেন, ধর্মতলায়ই শহিদ দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর কলকাতার এক কর্মসূচিতে কুণালের মোবাইল ফোন থেকে (TMC July 21 Rally) তাঁর বার্তাও শোনানো হয়। সেখানে মমতা বলেন, “২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।” এরপরই দুই শিবির পৃথকভাবে একই জায়গায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।

    ২১ জুলাই

    ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ২০১১ সালে কর্মসূচি পালিত হয়েছিল ব্রিগেড ময়দানে। ২০১৩ এবং অতিমারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে ধর্মতলায় সভা হয়নি। বাকি প্রায় প্রত্যেক বছরই এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে ধর্মতলায়ই। ২১ জুলাইয়ের এই কর্মসূচির সূচনা ১৯৯৩ সালের ঘটনাকে ঘিরে। সেই সময় যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন মমতা। সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিল মহাকরণের দিকে এগোতে শুরু করলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড করে তা রুখে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইট-পাথর বর্ষণ, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো এবং উত্তেজনার মধ্যে গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয় (Dharmatala), জখম হয়েছিলেন বহু কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক। এই দিনটিকেই শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে তৃণমূল (TMC July 21 Rally)।

     

  • OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে বিল দুটির পক্ষে ১৮৬ জন বিধায়ক সমর্থন জানান, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছ’জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পর কক্ষত্যাগ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

    দুটি সংশোধনী বিল পেশ

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিল দুটি হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ও ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল। তাঁর দাবি, প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

    নতুন সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল থাকছে। তবে ২০১২ সালের আইনে যুক্ত হওয়া ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠী-সংবলিত তফসিল আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সাধারণ নাগরিকদের জন্যেও নতুন সুযোগ

    সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার, তবে তা করতে হবে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের শতাংশ পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও মোট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে পৃথক বিভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনীতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার আবেদন, অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ— সবই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

    কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল

    আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিব, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মরত আধিকারিক, তাঁর দায়িত্বকাল কতদিন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে ওঠে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের পর। বামফ্রন্ট আমলে অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’— এই দুই ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার সেই আইনে সংশোধন এনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পৃথক তালিকা যুক্ত করে। সদ্য পাশ হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল।

  • TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    TMC: তৃণমূলে বড় ভাঙন! ‘মমতাকে অপসারণ’ দাবি বিদ্রোহীদের, অরূপ রায় চেয়ারম্যান, সরানো হল অভিষেককেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল (TMC)! পার্টি থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বুয়া-ভাতিজাকে! সোমবার দলের বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা তৃণমূলের পুরনো জাতীয় কর্মসমিতি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করেছে (Ritabrata Banerjee)। দল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি বিদ্রোহী নেতাদের।

    বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠক (TMC)

    সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বৈঠকে বসে বিদ্রোহী শিবির। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রায় ৬০ বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার জনা সত্তর প্রাক্তন কাউন্সিলর। এই বৈঠকেই ৩০ সদস্যের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদ্রোহীদের ঘোষিত নতুন কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক রথীন ঘোষ।সাধারণ সম্পাদকের পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। কার্যকর করা হয়েছে নয়া সাংগঠনিক কাঠামো।

    বিদ্রোহীদের দাবি

    বিদ্রোহীরা তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার উল্লেখ করে (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ২০২২ সালের পর আর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকা হয়নি। এই যুক্তিকে সামনে রেখেই তাঁরা পুরনো জাতীয় কর্মসমিতিকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিতেই নয়া নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্রোহীদের (TMC)। নিউ টাউনের বৈঠকে এদিন যে ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, সেটি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ওই ব্যানারে মহাত্মা গান্ধী, বিআর অম্বেডকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজি নজরুল ইসলামের ছবি থাকলেও, আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিলেন তৃণমূল গড়ার কারিগর মমতা স্বয়ং। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বিদ্রোহী শিবিরের তরফে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

    কতদূর গড়াল সই জালিয়াতিকাণ্ডের জল?

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারে তৃণমূল। তার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে শুরু করে অসন্তোষ। তবে প্রকাশ্য বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় তথাকথিত সইকাণ্ডকে ঘিরে (Ritabrata Banerjee)। বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের জন্য বিধায়কদের সই ‘করা’ চিঠি পাঠানো হয়েছিল স্পিকারের কাছে। অভিযোগ ওঠে, সেই চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল (TMC)। উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা প্রথম এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে প্রবল বিতর্ক শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরে। তার পর থেকেই একের পর এক বিধায়ক নাম লেখাতে থাকেন বিদ্রোহী শিবিরের খাতায়। প্রথম দফায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। এরপর দলের ভাঙন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।

    তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা

    শুধু বিধানসভা নয়, তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বড়সড় ধাক্কা লাগে। লোকসভার একসঙ্গে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় যোগ দেন বলে দাবি করা হয়। রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবও পদত্যাগ করেন। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক সঙ্কট প্রকট হয়ে ওঠে (Ritabrata Banerjee)। দলের ভাঙন শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব বা জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জেলা এবং ব্লক স্তরেও বহু নেতা-কর্মী দল ছাড়তে শুরু করেন। বিভিন্ন জেলায় সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে শুরু হয় দড়ি টানাটানি (TMC)। সোমবারের বৈঠকে বিদ্রোহী শিবির সাফ জানিয়ে দেয়, তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের নবগঠিত রাজ্য কমিটির সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে তথা কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌরভ বসুও। বিদ্রোহীদের এহেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূলের মমতা শিবির। তাদের সাফ কথা, তৃণমূলের যে সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে, তাতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও এক্তিয়ার বিদ্রোহীদের নেই (Ritabrata Banerjee)।

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গা থেকে খসে পড়ছে একের পর এক রক্ষাকবচ। ক্রমেই শিরঃপীড়া বাড়ছে তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। খারিজ করে দিয়েছে তাঁর আবেদনও (Defamation Case)।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা (Abhishek Banerjee)

    জানা গিয়েছে, ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। তবে এবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের ভাতিজা।

    স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

    এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোপাল আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এবং তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর (পড়ুন, অভিষেকের) পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। এরপরই আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে ভোপাল আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় (Abhishek Banerjee)।

    আদালতের এহেন নির্দেশের ফলে আইনিভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পথ ফের খুলে গেল বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ (Defamation Case)। রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Abhishek Banerjee)।

  • TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    TMC Rebels Split: ভেঙে তিন খান তৃণমূল! এবার বিদ্রোহী শিবিরেও দুই মেরু, কাকলিদের এনসিপিআই-তে কেন অনীহা ঋতব্রতদের?

    সুশান্ত দাস

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ যখন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন বিদ্রোহী বিধায়কদের শিবির সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে চলেছে বলে স্পষ্ট করে দিলেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কী বলেছেন ঋতব্রত?

    সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজস্ব বিষয় এবং তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একীভূত হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। “লোকসভার ২০ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। আমাদের গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এমন কোনও ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কদের এনসিপিআই-এ মিশে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এই মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে ৬৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থন রয়েছে,” দাবি করেন ঋতব্রত।

    বিদ্রোহী শিবিরে দুটি আলাদা রাজনৈতিক মেরু

    ঋতব্রতর এই মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম গোষ্ঠীতে রয়েছেন সেই বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র কাছাকাছি বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি গড়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই শিবির আপাতত নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রেখে বিধানসভার ভেতরে শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল নিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী শিবিরের মধ্যেও ঐক্য নেই। বরং ক্ষমতার ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কেন এনসিপিআইতে অনীহা ঋতব্রতর?

    কোনও রাজনৈতিক দলের একীভূতকরণ (মার্জার) বৈধ হতে গেলে সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় সেই দলের আইনসভার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও কাকলি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজ্যেও এনডিএকে সমর্থন করে, তাহলে তিনি বিরোধী দলনেতার পদ হারাবেন। কারণ সেক্ষেত্রে তাঁর গোষ্ঠী শাসক জোটের অংশ হয়ে যাবে।

    ঋতব্রতরা এনডিএ-তে গেলে কী হবে?

    আবার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দলকে বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়ার জন্য আইনসভার মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয়। বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি করা ৬৫ সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে যদি তাঁর গোষ্ঠী এনডিএ-তে যোগ দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে ১০ শতাংশেরও কম বিধায়ক থাকবে। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে শাসক দলের সদিচ্ছার উপর নির্ভর করবে।

    ৬৫ বিধায়কের সমর্থনের দাবি

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেছেন যে, তাঁদের গোষ্ঠীর পাশে বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। যদিও সেই বিধায়কদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে। সেই চিঠিতে সমর্থনকারী বিধায়কদের বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। “আমরা স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছি। সেই নামগুলি যদি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে তা বিধানসভার বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের সামিল হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে যে তৃণমূলের আরও বহু বিধায়ক গোপনে বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

    সাংসদদের এনসিপিআই-এ যোগদান

    রবিবার দিল্লিতে নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা সংসদে পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানান এবং নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। এরপর বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে তাঁদের গোষ্ঠী এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে এনসিপিআই। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের ফলে দলটির সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ঋতব্রতদের নিয়ে ভাবছেন না বিদ্রোহী সাংসদরা

    ঋতব্রত, তথা বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের গোষ্ঠীর মুখ কাকলি সাফ জানিয়ে দেন, ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর “কোনও সম্পর্ক নেই”। বারাসতের সাংসদ বলেন, “ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ও বিধানসভায় আছে, আর আমি সংসদে। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন একাই এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলাম। এখন আরও ১৯ জন আমার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলে বাংলার জন্য কাজ করব।”

    দিল্লির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিদ্রোহী নেতা

    এই রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জোরালো হয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ, যার মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপই তাঁদের পৃথক সংসদীয় ব্লক হিসেবে কাজ করার ইঙ্গিত বহন করে।

    তৃণমূলের সামনে দীর্ঘ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে দলের সাংসদদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার পথে হাঁটছে, অন্যদিকে বিধায়কদের একটি অংশ রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার কৌশল নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদ ও বিধায়কদের এই পৃথক রাজনৈতিক পথ ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির চেহারা বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি, বিধানসভায় অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ— সবকিছুর উপরই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বিদ্রোহী বিধায়কদের অবস্থান, স্পিকারের ভূমিকা এবং এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক বিস্তার—এই তিনটি বিষয়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর ৩টার কিছু পরে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং শালবনি থানার একাধিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতেই পুলিশের একাধিক গাড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। শালবনি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। তবে কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, তা নিয়ে সকাল পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, পরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়িতে প্রবেশের আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজায় ডাকাডাকি করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রথমে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তালা ভাঙার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পরে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে অবস্থান করেন। এদিকে বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ আরও বাড়ে। সকাল ৭টার পর কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের ভিতরে প্রবেশ করেন। শেষ পর্যন্ত সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুলিশি তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ার পর তিনিও সেখান থেকে চলে যান। মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি।

    একের পর এক তদন্তের মুখে অভিষেক

    উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি তাঁকে বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জেরা। রাত সাড়ে ১১টার পরে তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। এই মামলায় গ্রেফতারি বা কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পরে হবে। ততদিন পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    শুক্রবারও গিয়েছিল সিআইডি

    শুক্রবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিআইডির একটি দল। তবে সেবারের তদন্ত ছিল অন্য একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সল্টলেক সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামনে আরও একাধিক হাজিরা

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার মধ্যে আগামী কয়েকদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা আরও বাড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ১৫ জুন তাঁকে তলব করেছে।

    কোন মামলায় অভিযান…

    শনিবারের অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শালবনি থানার পুলিশের উপস্থিতি। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার আধিকারিকরা কেন পৌঁছেছিলেন, কোন মামলার সূত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করতে এসেছিল শালবনী থানার পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। সেই সূত্রেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। শালবনির পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি এবং মামলার প্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর— সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে তদন্তকারী সংস্থাগুলি কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

LinkedIn
Share