Tag: turkey

turkey

  • Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জাপানি সংস্কৃতি উদ্‌যাপনের একটি উৎসবে হামলার অভিযোগ একদল ইসলামপন্থী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে (Turkey Muslims)। গত ৪ অক্টোবর ‘কোনোহাফেস্ট’ নামের দু’দিনের এই উৎসবে হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মারধর, বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর এবং সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীদের মুখে শোনা যায় ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও হিংসা ও ভাঙচুরের জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎসব বন্ধ করে দিতে (Istanbul) বাধ্য হন আয়োজকেরা। ঘটনায় কয়েক জন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও খবর।

    ইস্তাম্বুলের উমরানিয়ে এলাকায় ৩ ও ৪ অক্টোবর আয়োজিত হয়েছিল এই উৎসব। জাপানের জনপ্রিয় সংস্কৃতি, অ্যানিমে, মাঙ্গা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল উৎসবের মূল আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে বহু দর্শকের পাশাপাশি পরিবার ও শিশুরাও উপস্থিত ছিল। আচমকা হামলার জেরে উৎসবের পরিবেশ দ্রুত বদলে যায় আতঙ্কে।

    আয়োজকদের দাবি (Turkey Muslims)

    আয়োজকদের দাবি, উৎসব শুরুর আগেই এর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়েছিল। ‘উমরানিয়ে এনজিও প্ল্যাটফর্ম’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার ছড়িয়ে উৎসব বাতিলের দাবি তোলে। পরিবারগুলিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রচারপত্রে লেখা হয়েছিল, “আমরা আর নীরব থাকব না! আমরা সমস্ত পরিবারকে আহ্বান জানাচ্ছি।” বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, এই উৎসব শিশুদের কাছে খারাপ উদাহরণ তৈরি করছে এবং তাদের মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

    পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা উৎসবস্থলের কাছে জড়ো হয়ে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের পোশাক, পরিবেশনা এবং সংশ্লিষ্ট জীবনযাপন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তাঁদের আরও দাবি, জাপানি জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে তুর্কি সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ভবিষ্যতেও যাতে এই ধরনের অনুষ্ঠান না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়।

    বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন ব্যানারে তুরস্কের ইতিহাস, শালীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে স্লোগান লেখা ছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—“আদর্শ খুঁজলে নিজের ইতিহাসের দিকে তাকান”, “আমাদের নায়ক সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ”, “প্রদর্শনবাদ নয়, শালীনতার পক্ষে” এবং “আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুকরণের হাতে তুলে দেব না”।

    বিক্ষোভকারীরা তুরস্ক সরকারের ‘পরিবার ও জনসংখ্যার দশক’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচিতে (Turkey Muslims) পরিবারকেন্দ্রিক নীতি ও ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কের ১৫টি প্রদেশে পরিচালিত ‘আমার পরিবার সুরক্ষিত’ অভিযানকেও সমর্থন জানিয়েছিল ওই গোষ্ঠী। এই অভিযানে অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের দাবিতে সরব এলজিবিটিআই-প্লাস গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব

    বিবৃতি পাঠের পর বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে উৎসবের দিকে এগিয়ে যান। এরপর অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্টল ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। কয়েক জন সামান্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। যদিও ততক্ষণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয় উদ্যোক্তাদের।

    এই ঘটনা তুরস্কের জনজীবনে ইসলামি রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের নীতির ফলে কিছু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতি বিরূপ মনোভাব আরও বেড়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা কোনোহাফেস্টের বিরোধিতাকে তুর্কি ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও, অভিযোগ, ঘটনাটি কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উৎসবে উপস্থিত মানুষজন এবং তাঁদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও সরাসরি হামলার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

    এই ঘটনা তুরস্কে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামাজিক টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত। দেশটির তরুণদের মধ্যে জাপানি অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম এবং চরিত্রভিত্তিক পোশাক পরার প্রতিযোগিতা বা কসপ্লের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েছে। বিভিন্ন সম্মেলন, বিষয়ভিত্তিক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আগ্রহ প্রকাশ পায়।

    তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে উদ্বেগ

    রক্ষণশীল ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যেসব গোষ্ঠীর জীবনযাপন ও কার্যকলাপের সংঘাত তৈরি হয়, তাদের প্রতি আচরণ নিয়ে তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বিভিন্ন সময়ে বিরূপ মনোভাবের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ (Turkey Muslims)।

    ঐতিহাসিক খ্রিস্টান উপাসনালয় হায়া সোফিয়া এবং চোরা কমপ্লেক্সকে মসজিদে রূপান্তরিত করার বিষয়ে এরদোয়ান সরকারের সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এই সিদ্ধান্তগুলি তুরস্কের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনোহাফেস্টে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। গ্রেফতার বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনও তথ্য মেলেনি।

    পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিংসার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের সহনশীলতা এবং ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনযাপনের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (Istanbul)।

    একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতেই এই হামলার অভিযোগ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিপজ্জনক দিকটি সামনে এনেছে। ধর্মের চরমপন্থী ব্যাখ্যা যখন অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেয়, তখন তা সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে (Turkey Muslims) বলেই মত সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে জম্মু ও কাশ্মীর (Kashmir Remark) প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল (UNGA) ভারত। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।

    মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভারতের এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে যে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।”

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (UNGA)

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা বুঝতেই পারছেন, এটি ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের কোনও অধিকার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

    এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোয়ান দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি-সহ, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও এরদোয়ানের ২০২৬ সালের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়ও নয়াদিল্লি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ২০২১ সালেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে তাঁর ভাষণে জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ ছিল (UNGA) না।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের পক্ষে (Kashmir Remark) অবস্থান নিয়েছে। ভারত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে থাকে। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত (UNGA) হয়েছিল।

     

  • Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    Turkey Buys Diesel From India: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের নজর ভারতের ডিজেলে, কেন বদলাচ্ছে জ্বালানি সরবরাহের সমীকরণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র তুরস্ক এবার রেকর্ড পরিমাণ ডিজেল (Turkey Buys Diesel From India) আমদানি করল ভারত থেকে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কের ডিজেল আমদানি ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিনেরও বেশি হয়েছে বলে পণ্যবাজার সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার জানিয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এটিই তুরস্কে ভারতীয় ডিজেল রফতানির সর্বোচ্চ মাসিক স্তর। তুরস্কের জ্বালানি বাজারে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এতদিন রাশিয়াই ছিল দেশটির ডিজেলের প্রধান সরবরাহকারী। কিন্তু রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের শোধনাগারগুলিতে যুদ্ধজনিত বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে তুরস্ককে বিকল্প উৎসের দিকে তাকাতে হচ্ছে। সেই জায়গাতেই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভারত।

    রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে বড় ধাক্কা

    তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার আধিপত্য ছিল। ২০২৫ সালে তুরস্কের মোট ডিজেল আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এসেছিল রাশিয়া থেকে। তুরস্কের এনার্জি মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (EMRA)-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষ ৮১ হাজার ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর মস্কো ডিজেল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে তুরস্কে রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ জুলাইয়ে কমে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেল এবং আগস্টে প্রায় ৮০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন হয়েছে। আগস্টে তুরস্কের ডিজেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশও নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে।

    ভারতের ডিজেল রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    এই ঘাটতি পূরণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ভারত থেকে তুরস্কে প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি ডিজেল গিয়েছে। অন্য একটি সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টস অবশ্য এই পরিমাণ প্রায় ৭৪ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন বলে অনুমান করেছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট। ডালাসের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, আগস্টে তুরস্কে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সরবরাহের বড় অংশ এসেছে রিলায়েন্সের কাছ থেকে। ২০২৫ সালে ভারত তুরস্কে মোট ৫ লক্ষ ৬২ হাজার ৪২১ টন ডিজেল রফতানি করেছিল। রাশিয়া ও মিশরের পর ভারত ছিল তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম ডিজেল সরবরাহকারী।

    শুধু ভারত নয়, আমেরিকাও বাড়িয়েছে সরবরাহ

    তুরস্কের বিকল্প জ্বালানি উৎসের তালিকায় শুধু ভারতই নেই। আগস্টে আমেরিকা থেকেও তুরস্কে ডিজেল সরবরাহ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে তুরস্কে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল ডিজেল এসেছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের হিসাব কিছুটা কম—প্রায় ৭০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন। তবুও ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহ। অর্থাৎ রাশিয়ার সরবরাহ কমতেই তুরস্ক একাধিক বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল সংগ্রহ শুরু করেছে।

    ভারত কীভাবে এত ডিজেল রফতানি করছে?

    ভারত নিজে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। কিন্তু দেশের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন ক্ষমতা। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে তা শোধন করে ডিজেল, পেট্রল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করে ভারতীয় সংস্থাগুলি বিদেশে রফতানি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পরিকাঠামো ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলির উৎপাদিত ডিজেলের জন্য নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের সামগ্রিক পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৮.৮ শতাংশ এবং অ-তেল পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৪.৪ শতাংশ। টানা তিন বছর পতনের পর ভারতের পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।

    রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের যোগসূত্রও

    ভারতের বাড়তে থাকা ডিজেল রফতানির সঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল আমদানিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে ভারতীয় শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। সেই অপরিশোধিত তেল ভারতে শোধন করে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরপর সেই পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ভারত রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৭.৩ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২৫.৭ লক্ষ ব্যারেল প্রতিদিন। অর্থাৎ ভারত একই সময়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক। তবে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত ডিজেলকে একই পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। ভারতে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল শোধনের পর উৎপাদিত ডিজেল একটি পৃথক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য। কোন দেশে সেটি বিক্রি হবে, তা নির্ধারিত হয় চাহিদা, দাম, পরিবহণ খরচ এবং সরবরাহের পরিস্থিতির উপর।

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও কি রয়েছে?

    তুরস্কের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের পিছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বাড়ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026-এ রুশ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা কিছু দেশের পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল ক্রেতা ভারত। নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানিয়েছেন, দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর এর প্রভাব ভারত পর্যালোচনা করবে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের পক্ষেও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতের দিকে তাকাচ্ছে তুরস্ক?

    সমীকরণটি আপাতদৃষ্টিতে সরল। তুরস্কের ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহও বিভিন্ন কারণে বাধাগ্রস্ত। অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার কাছে অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি রয়েছে। ভারতের বিশাল শোধন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে তা ডিজেলে রূপান্তরের সক্ষমতা দেশটিকে এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। ফলে আগস্টে তুরস্কে ভারতীয় ডিজেলের রেকর্ড রফতানি মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরবরাহের পরিবর্তিত সমীকরণেরই প্রতিফলন। রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় তুরস্ক নতুন উৎস খুঁজছে, আর সেই সুযোগে ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কের ভারত থেকে রেকর্ড ডিজেল কেনার ঘটনাটি তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়; রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    Holy Jihad Battle: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ‘পবিত্র জেহাদ যুদ্ধে’র (Holy Jihad Battle) অংশ হিসেবে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান চালাল ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এই হুথিরাই (Yemens Houthis) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধে এখনও অবধি সর্বশেষ অংশগ্রহণকারী।

    হুথির বিবৃতি জারি (Holy Jihad Battle)

    এক বিবৃতিতে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, “আমাদের বাহিনী পবিত্র জেহাদ যুদ্ধের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে দক্ষিণের দখল করা প্যালেস্তাইনে জায়োনিস্ট শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। এই অভিযান ইরানে আমাদের মুজাহিদিন ভাইদের এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আল্লাহর রহমতে এটি সফলভাবে তার লক্ষ্য পূরণ করেছে।” প্রসঙ্গত, এই বিবৃতিটি জারি করা হয় ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেওয়ার মাত্র একদিন পর। ওই বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা প্রথম সামরিক হামলায় ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইজরায়েলের সামরিক টার্গেটে আঘাত হেনেছে। এই আক্রমণ ইরান ও লেবাননের মিত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়েছে।

    আরও ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ!

    হুথিদের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জেরে আরও প্রসারিত হল ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের পরিধি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। হুথিরা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের ভাষায় “আগ্রাসন” বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে। এ থেকে স্পষ্ট, এটি এককালীন কোনও পদক্ষেপ নয়, বরং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা বাড়তে পারে (Holy Jihad Battle)। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। হাজার হাজার মেরিন ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছে এবং আরও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করতে চায় এবং স্থলযুদ্ধ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে, তবুও এই সামরিক প্রস্তুতি সর্বোচ্চ কৌশলগত নমনীয়তা নিশ্চিত করতে করা হয়েছে।” বস্তুত, এই ঘটনাটি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে (Yemens Houthis)।

    যুদ্ধের ক্ষত

    একই সময়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সামরিক ঘটনার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, যার মধ্যে (Holy Jihad Battle) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাও রয়েছে। ইসলামাবাদ তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো। তবে দ্রুত কোনও সমাধানের লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুল (Yemens Houthis) সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা (Holy Jihad Battle)।

     

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

LinkedIn
Share