Tag: UN Reform

  • Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    Jaishankar on UN Reform: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারে বাধা দেওয়া দেশগুলি বিশ্ব সংস্থাকে ‘ব্যবহার করে’, গুরুত্ব দেয় না! বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশই ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar on UN Reform)। তাঁর অভিযোগ, যে দেশগুলি রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের পথে বাধা দিচ্ছে, তারা এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, কিন্তু আদতে রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ নেই।

    রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।” তাঁর মতে, গুরুতর সংস্কার করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত খসড়া বা ‘টেক্সট-বেসড নেগোশিয়েশন’। কারণ, কোনও লিখিত প্রস্তাব ছাড়া প্রকৃত অর্থে আলোচনা সম্ভব নয়। ‘Ruptures & Ramparts: Building Bridges for a Changing World’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করেছিল অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF), রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, রাষ্ট্রসংঘের ভারতীয় দফতর এবং রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন। অনুষ্ঠানে আলোচনা পরিচালনা করেন অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি সমীর সরণ। উপস্থিত ছিলেন জামাইকার বিদেশমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ, সুরিনামের বিদেশমন্ত্রী মেলভিন বুভা, ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেটো আব্লাকওয়া এবং ইস্ট-ওয়েস্ট সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও সেলেস্ট কনর্স।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই

    জয়শঙ্কর বলেন,“প্রতি বছরই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এবার সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের হতাশা বাড়ছে। কারণ, কোনও লিখিত খসড়া ছাড়া আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু সময় নষ্ট করার জন্য আলোচনা চলতে পারে না।” রাষ্ট্রসংঘ সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আপনি সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সংস্কার করতে পারবেন না।’’ তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতপার্থক্য থাকবেই এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত। তবে তার আগে প্রত্যেক পক্ষকে নিজেদের মতামত পেশ করার সুযোগ দিতে হবে।

    সংস্কারের জন্য খসড়া তৈরি জরুরি

    জয়শঙ্কর বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের জন্য একটি খসড়া তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই খসড়ায় সব দেশের মতামত ও প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সমাধানে পৌঁছতে হবে। রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়েও সরব হন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বের বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় রাষ্ট্রসংঘ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবি তোলা মানেই রাষ্ট্রসংঘ-বিরোধী হওয়া নয়। বরং যারা রাষ্ট্রসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই চিন্তিত, তারাই সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তুলতে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে

    গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে পুরনো নির্ভরতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বও আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে একজন মহিলাকে নির্বাচিত করার ভাবনা কোনও উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি নিচ থেকে উঠে আসা একটি ধারণা।

    কেন নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার প্রয়োজন

    এদিকে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে নিজের শেষ ভাষণেও মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে এবং এর বৈধতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিতে সরব ভারত। ১৯৪৫ সালে গঠিত ১৫ সদস্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ একবিংশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না বলে ভারতের বক্তব্য। তাই স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের সদস্যপদই সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবিও ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে ভারত। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্যও ভারত প্রার্থী হয়েছে। আগামী বছর জুনে এই পদের নির্বাচন হওয়ার কথা।

    জয়শঙ্করের কূটনৈতিক তৎপরতা

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বৃহস্পতিবার পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী ইরুথিশাম আদমের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাকের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি ভারত ও ইরাকের অর্থনৈতিক এবং জ্বালানি সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

    আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রী মার্গুস তসাখনার সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও এস্তোনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর জানান, চলমান ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতাও আলোচনায় উঠে আসে। ঘানার বিদেশমন্ত্রী স্যাম ওকুজেতো আব্লাকওয়ার সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। ব্রিটেনের বিদেশসচিব এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকে সংঘাতের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। তাজিকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী সিরোজিদ্দিন মুহরিদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভারত-তাজিকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও বার্বাডোসের বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টোফার পিটার সিনকলেয়ার, আর্মেনিয়ার বিদেশমন্ত্রী আরারাত মির্জোয়ান এবং সিঙ্গাপুরের বিদেশমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ধারাবাহিক এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেন সংঘাত, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

LinkedIn
Share