Tag: Uttarakhand

Uttarakhand

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা হবে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গত ১২ বছরের বিভিন্ন সাফল্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে (UCC) বিজেপির ২৫ বছরের যাত্রার কথাও তুলে ধরেন।

    মুম্বইয়ে ৩০ দিনের ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সূচনা করতে এসেছিলেন শাহ। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সরকারের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)

    শাহ বলেন, ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। ২০২৯ সালের আগে এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যই এই আইন কার্যকর করবে বলে তিনি আশাবাদী। উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন পাস করে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়। গত বছর গুজরাটেও এই আইন পাস হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে অসম উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। সর্বশেষ এই তালিকায় যোগ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশও। জুলাই মাসে বিশেষ বৈঠকে রাজ্য মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে এই বিধি অনুমোদন করে।

    তবে গুজরাট, অসম ও মধ্যপ্রদেশের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ে এই বিধির খসড়া তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    শাহ বলেন, “তিন তালাক প্রথা বিলোপ করা হয়েছে, ফলে মুসলিম মহিলারা সমান অধিকার পেয়েছেন। একাধিক রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিজেপি-এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে।” উল্লেখ্য, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা।

    দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মাধ্যমে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন (UCC) তিনি। তাঁর বক্তব্য, এক বছরে বেশ কয়েকটি রাজ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    তিন বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান শাহ।

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শাহের বক্তব্য

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিলের সময় একটি গুলিও চালাতে হয়নি বা এক ফোঁটা রক্তও ঝরেনি। তাঁর দাবি, কাশ্মীর এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে একীভূত।

    উত্তর-পূর্ব ভারত ও নকশাল সমস্যা নিয়েও সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি, পাঁচ দশকের নকশালবাদের অবসান ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৪টিরও বেশি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শাহ বলেন, “৯ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আজ আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গিয়েছি।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সে’র নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালের ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শরিক দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আমাদের শরিকদের সঙ্গে এবং মণিপুরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করছি। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, আমরা আপনাদের তা জানাব।”

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত

    মুম্বইয়ের মতো শহরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য সরকার যে পদ্ধতি বা উপায় ব্যবহার করছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হবে না। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আপনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইছেন, কী কী উপায়ে তাঁদের শনাক্ত করা হবে তা প্রকাশ করে দিতে। তা হলে আমরা তাঁদের ধরব কী করে? তাঁরাও তো বিষয়টি জেনে যাবেন।”

    দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও ফের স্পষ্ট করেন শাহ। তিনি বলেন, “আমি আবারও আমাদের সংকল্পের কথা বলছি—এই দেশের প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে একে একে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

    মাদকবিরোধী অভিযান

    মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ শুরু করেছেন এবং এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি রাজ্যে যাবেন। আগের দিনই এক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচিটি দেশের তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুরো দিন ধরে একটি বৈঠকও হবে বলে জানান শাহ (Amit Shah)। তাঁর কথায়, “এই অভিযান অবশ্যই তৃণমূল স্তরে পৌঁছবে এবং (UCC) ভারত মাদকের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে।”

     

  • Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    Rahul Gandhi: খাড়গের সভার পর ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক, রাহুলের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হলদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভার পর রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানকে (Purification Controversy) কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, এই ঘটনাকে ঘিরে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও অপমান করা হয়েছে।

    রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর (Rahul Gandhi)

    হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছে হলদ্বানির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে। তিনি ওই শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ও ২৯৯ ধারা এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    অমিত কুমার এবং বিনোদ কুমার আর্য এর আগে রাহুলের মন্তব্য নিয়ে হলদ্বানি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রামলীলা ময়দানে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ নিয়ে রাহুলের মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মামলা রুজু করা হয়।

    খাড়গের সভার পর থেকেই বিতর্ক

    গত ৮ অগাস্ট হলদ্বানির রামলীলা ময়দানে একটি জনসভায় ভাষণ দেন খাড়গে। সভা শেষ হওয়ার পর বিজেপির নেতা ও কর্মীরা ওই ময়দানে শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গোটা চত্বরে গঙ্গাজল ছড়ানো হয় বলেও জানা যায়।

    এই শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির পক্ষে সওয়াল করেন বিজেপির উত্তরাখণ্ড সভাপতি মহেন্দ্র ভট্ট-সহ দলের একাধিক নেতা। এদিকে, কংগ্রেস এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানায়। দলের অভিযোগ ছিল, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার কারণেই তাঁর সভাস্থল শুদ্ধিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় কংগ্রেস।

    বিষয়টি নিয়ে সরব হন রাহুল

    পরবর্তী সময়ে রাহুলের বক্তব্যেও উঠে আসে রামলীলা ময়দানের শুদ্ধিকরণের প্রসঙ্গ। তিনি শুদ্ধিকরণ কর্মসূচির সঙ্গে দলিতদের মর্যাদার প্রশ্নটি যুক্ত করেন এবং খাড়গের সভার পর কেন এমন কর্মসূচির প্রয়োজন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন (Rahul Gandhi)।

    কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, খাড়গের সভার পর অনুষ্ঠানস্থল শুদ্ধিকরণ করা আসলে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান এবং বৈষম্যের প্রকাশ।

    অন্যদিকে, রাহুলের মন্তব্যকেই অপমানজনক বলে অভিযোগ করেছেন মামলার অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, ওই মন্তব্যে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষদেরও অসম্মান করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা?

    মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ধারায় ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বসবাসের স্থান, ভাষা, জাতপাত বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করা কিংবা তা বাড়ানোর চেষ্টা-সহ সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারা ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণ এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার উদ্দেশ্য কোনও শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা তাদের ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে ক্ষোভ সৃষ্টি করা।

    অন্যদিকে, তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ৩(১)(কিউ) ধারায় কোনও সরকারি কর্মচারীকে মিথ্যা বা জাল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার উদ্দেশ্য সেই কর্মচারীকে তাঁর আইনসিদ্ধ ক্ষমতা ব্যবহার করে তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির কোনও সদস্যের ক্ষতি বা হয়রানি করার দিকে পরিচালিত করা।

    রাজনৈতিক বিতর্ক এবার আইনি লড়াইয়ে

    রামলীলা ময়দানের তথাকথিত শুদ্ধিকরণকে ঘিরে বিজেপি ও কংগ্রেসের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ এবার আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কংগ্রেস যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের মর্যাদা ও বৈষম্যের (Purification Controversy) প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছে, সেখানে মামলার অভিযোগকারী রাহুলের মন্তব্যকেই দলিত সম্প্রদায় এবং শুদ্ধিকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি অপমানজনক বলে দাবি করেছেন (Rahul Gandhi)।

     

  • Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ওই যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলিত সম্প্রদায়েরই এক ব্যক্তি সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন (BJP)।

    অঙ্কিত পাল নামে ওই ব্যক্তি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। সংগঠনটির সদস্যরাই গত ১০ অগাস্ট হালদ্বানির রামলীলা ময়দানে যজ্ঞ ও কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছিলেন। এর দু’দিন আগে, ৮ অগাস্ট ওই একই জায়গায় কংগ্রেসের একটি জনসভা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি আবার দলিত সম্প্রদায়ের নেতা।

    ২৯ অগাস্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অঙ্কিত দাবি করেন, খাড়গে দলিত হওয়ার কারণে ওই যজ্ঞ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের সভার পর রামলীলা আয়োজনের ঐতিহ্যবাহী ওই জায়গাটি নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। সভায় আসা কিছু মানুষ সেখানে প্রস্রাব ভর্তি বোতলও ফেলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

    অঙ্কিত আরও দাবি করেন, ওই কংগ্রেস সভায় হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য ব্যবহৃত মঞ্চ থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই স্লোগান ঠিক কোথা থেকে এবং কী পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও, খবরের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ! (Rahul Gandhi)

    অঙ্কিত বলেন, “শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করা হয়েছিল কারণ ওই মঞ্চে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। প্রথমত, এটি একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং কোনও রাজনৈতিক দলকে ওই মঞ্চ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। ওই মঞ্চ থেকেই ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আমরা যে ভিডিয়োগুলি পেয়েছি তাতে তা দেখা গিয়েছে। তাই জায়গাটির শুদ্ধিকরণের জন্য সেখানে যজ্ঞ করা হয়েছিল।”

    অঙ্কিতের এই বক্তব্য কংগ্রেসের সেই অভিযোগকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে খাড়গে দলিত হওয়ার কারণেই সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে, যজ্ঞের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অঙ্কিত জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন; তিনি ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের অভিযোগ, ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা

    এর আগে কংগ্রেস এই ঘটনাকে দলিত-বিরোধী মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, খাড়গের মতো একজন দলিত নেতা সভায় আসার পর মঞ্চের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা আসলে অস্পৃশ্যতারই একটি রূপ।

    ২৯ অগাস্ট রাহুল এই ইস্যুতে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি সংবিধানবিরোধী এবং বিজেপি-আরএসএসের মানসিকতার প্রতিফলন।

    রাহুল বলেন, “এটি একটি অপরাধ। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অপরাধ।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলিতরা যত বেশি সাফল্য অর্জন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তত বেশি আক্রমণ হয়। তাঁর দাবি, হালদ্বানির ঘটনাটি শুধু খাড়গের বিষয় নয়, দেশের সমস্ত দলিত মানুষের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।

    বিজেপির পাল্টা দাবি

    কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানটি খাড়গের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। হালদ্বানি ময়দানে সভার পর (BJP) পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার পর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল (Rahul Gandhi)।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Tunnel Accident in Chamoli: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে টানেলে আচমকা কাদা-জল ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত ৭, এখনও আটকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক

    Tunnel Accident in Chamoli: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে টানেলে আচমকা কাদা-জল ঢুকে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত ৭, এখনও আটকে বেশ কয়েকজন শ্রমিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আচমকা বালি, পাথর ও জল ঢুকে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে (Uttarakhand Tunnel Accident)। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার জেলার পিপলকোটিতে টিএইচডিসি (Tehri Hydro Development Corporation Ltd)-র একটি নির্মাণাধীন টানেলে আচমকাই প্রবাল বেগে ধ্বংসাবশেষ ও জল ঢুকতে শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় সেখানে অন্তত ২৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। জলের তীব্র স্রোতে অনেকেই টানেলের বাইরে ছিটকে পড়েন। স্টেট ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (SDMA) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ৩ জন শ্রমিক টানেলের ভেতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    শুক্রবার সকালেও চলছে উদ্ধার অভিযান

    শুক্রবার সকালেও সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা তিনজন শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জেলা শাসক গৌরব কুমার জানিয়েছেন, চামোলি জেলার মায়াপুর-পিপলকোটি এলাকায় তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (THDC)-র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ বিপর্যয় ঘটে। নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (HCC)। আচমকাই বিপুল পরিমাণ জল, বালি, পাথর ও কাদা সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেই সময়ে শিফটে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে সুড়ঙ্গের একাংশ কার্যত মরণফাঁদ হয়ে ওঠে। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। এনডিআরএফ (NDRF) এবং এসডিআরএফ (SDRF)-এর দলগুলি পলি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক লাখপত বুটোলা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানান, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা এবং সম্পূর্ণ প্রশাসনিক টিম উদ্ধার কাজে নিয়োজিতদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে উদ্ধারকাজ

    ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি নিজেই প্রবীণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি আহত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে তাঁদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। এছাড়া, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের কথা জানিয়ে ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি, কারণ ওই দুই রাজ্যের বাসিন্দারাও এতে প্রভাবিত হয়েছেন। আটকে থাকা শ্রমিকের কাছে পৌঁছতে জল সরানোর পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভিতরে পৌঁছতে অস্থায়ী ড্রাম-বোটও ব্যবহার করেছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে।

    কী কারণে বিপর্যয়

    চামোলি জেলায় গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি চলছিল। এর আগেও নীতি উপত্যকা এলাকায় নদীর জল বেড়ে একটি সেতু ভেসে গিয়েছিল। পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির ফলে মাটি আলগা হয়ে যাওয়াকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে সুড়ঙ্গের উপরের অংশে একটি গহ্বর তৈরি হয়েছিল। সেই ফাঁক দিয়েই হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ ২ কিলোমিটার দীর্ঘ টেল রেস টানেলে ঢুকে পড়ে। প্রবল জলস্রোতের ধাক্কায় অনেক শ্রমিক সুড়ঙ্গের মুখের দিকে ভেসে এলেও কয়েকজন ভিতরে আটকে পড়েন।

  • Uttarakhand: উত্তরাখণ্ডে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জোয়ারের মূলে মোদি-পুষ্করসিং ধামির ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’

    Uttarakhand: উত্তরাখণ্ডে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জোয়ারের মূলে মোদি-পুষ্করসিং ধামির ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় গত চার বছরে উত্তরাখণ্ডের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো এক অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে। বিজেপির তরফে দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় এবং উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” (Double Engine Government)-এর ধারণাটি বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় রাজ্যে ২ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি (Uttarakhand)

    উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) রাস্তা, রেল এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটছে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” (Double Engine Government)-এর সরকারে। চারধাম যাত্রাকে সহজতর করতে ‘অল-ওয়েদার রোড’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি, দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। সিতারগঞ্জ-তানাকপুর, পাওন্টা সাহেব-দেরাদুন এবং ঋষিকেশ-ভানিয়াওয়ালা সহ একাধিক বাইপাস ও সংযোগকারী রাস্তার কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে।

    রেল ও আকাশপথের উন্নয়ন

    ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের মুখে। এছাড়া, ৪৮,০০০ কোটি টাকার তানাকপুর-বাঘেশ্বর রেললাইনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের ১১টি রেল স্টেশনকে আধুনিক করা হচ্ছে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” (Double Engine Government)-এর মদতে।

    আকাশপথ

    গত চার বছরে জলি গ্রান্ট, পন্তনগড় এবং পিথোরাগড় (Uttarakhand) বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের আওতায় ১৮টি হেলিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১২টিতে ইতিমধ্যে পরিষেবা শুরু হয়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে হেলিপ্যাডের সংখ্যা ছিল ৬০, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৮-তে।

    পর্যটন ও রোপওয়ে

    ‘পর্বতমালা’ প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোপওয়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রানিবাদ-নৈনিতাল, ঋষিকেশ-নীলকণ্ঠ মহাদেব (Uttarakhand) এবং গৌরিকুণ্ড-কেদারনাথ ধাম রোপওয়ে অন্যতম। কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধামের পুনর্গঠনের কাজও দ্রুত চলছে। কুমায়ুন অঞ্চলের মন্দিরগুলোর উন্নয়নে ‘মানসখন্ড মন্দির মালা মিশন’ শুরু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কিচ্ছাতে এইমস (AIIMS) স্যাটেলাইট সেন্টারের (Uttarakhand) কাজ শুরু হয়েছে এবং এইমস ঋষিকেশে ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির জন্য রাজ্যের ২২৬টি স্কুলকে ‘পিএম শ্রী’ (PM SHRI) স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

    শিল্প ও অন্যান্য প্রকল্প

    উধম সিং নগরে (Uttarakhand) একটি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া ভারত-সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্য ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর অধীনে পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” (Double Engine Government)-এর মদতে। যমরানি ও লাখওয়ারের মতো বড় বাঁধ প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে পানীয় জল ও সেচ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উত্তরাখণ্ড উন্নয়নের এক নতুন শিখরে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

  • Badrinath-Kedarnath: বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পথে উত্তরাখণ্ড মন্দির কমিটি

    Badrinath-Kedarnath: বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পথে উত্তরাখণ্ড মন্দির কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বদ্রীনাথ-কেদারনাথ (Badrinath-Kedarnath) মন্দির কমিটি (BKTC) এক ঐতিহাসিক ও বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে বদ্রীনাথ এবং কেদারনাথ ধামে অহিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    নিষেধাজ্ঞা জারি (Badrinath-Kedarnath)

    বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান অজেন্দ্র অজয় জানিয়েছেন, মন্দিরের পবিত্রতা এবং সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই মন্দিরের মূল চত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন।

    পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক

    মন্দিরে (Badrinath-Kedarnath) প্রবেশের আগে ভক্তদের কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের আধার কার্ড বা অন্য কোনও বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করা হতে পারে।

    নিরাপত্তা জোরদার

    মন্দির কমিটি (Badrinath-Kedarnath) স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে যাতে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অ-হিন্দুদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়। বিশেষ করে যারা মন্দির চত্বরে ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত, তাদেরও পরিচয় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আগের বিতর্ক

    এর আগে কেদারনাথ ধামের (Badrinath-Kedarnath) দেওয়ালে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ভিডিও তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার অ-হিন্দুদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

    উদ্দেশ্য

    মন্দির কমিটির (Badrinath-Kedarnath) মতে, চারধাম যাত্রার আধ্যাত্মিক পরিবেশ রক্ষা করা এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ভাবাবেগকে সম্মান জানানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

    উত্তরাখণ্ড সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধর্মীয় সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, একাংশ পর্যটন ও সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

  • Uttarakhand: মিলল রাজ্যপালের সম্মতি, আইনে পরিণত হল উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা বিল

    Uttarakhand: মিলল রাজ্যপালের সম্মতি, আইনে পরিণত হল উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মিলল রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) গুরমিত সিংয়ের সম্মতি। আইনে পরিণত হয়ে গেল উত্তরাখণ্ড সংখ্যালঘু শিক্ষা বিল, ২০২৫। রাজ্যপালের অনুমোদন মেলায় রাজ্যের (Uttarakhand) সংখ্যালঘু শিক্ষা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলে গেল। এর ফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৬ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বীকৃতি বিধিগুলির বদলে একটি একক ও ঐক্যবদ্ধ আইন কার্যকর হবে (Madrasa Board)।

    লোপ পাবে মাদ্রাসা ব্যবস্থা! (Uttarakhand)

    বর্তমান মাদ্রাসা-নির্দিষ্ট ব্যবস্থা লোপ পাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে। এরপর একটি আরও সরল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও একীভূত শাসনব্যবস্থার পথ প্রশস্ত হবে, যা উত্তরাখণ্ডের সব সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে। জানা গিয়েছে, নয়া আইনে রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি তদারকির জন্য একটি একক কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। এই সংস্থা সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেওয়া, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, এবং উত্তরাখণ্ড স্কুল শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশিকা মেনে চলা নিশ্চিত করবে। এই কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হবে, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা, এবং সংখ্যালঘু স্কুলগুলির পরিচালনায় দায়বদ্ধতা জোরদার করা।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী  

    মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী রাজ্যপালের অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই নয়া কাঠামো রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানোন্নয়নকেন্দ্রিক করে তুলবে। আইনটি সরকারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা দিয়েছে, যাতে শিক্ষার উৎকর্ষতা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা যায়।” এই বিলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্বীকৃতির পরিসর মুসলিম প্রতিষ্ঠানের বাইরেও সম্প্রসারণ করা। ঐতিহাসিকভাবে, উত্তরাখণ্ডে কেবল মুসলিম-পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলিই সরকারিভাবে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু সংখ্যালঘু শিক্ষা বিল, ২০২৫ এখন শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং পারসি সম্প্রদায় পরিচালিত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকেও একই নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনেছে (Madrasa Board)।

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সমান অধিকার

    এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সমান অধিকার, স্বীকৃতি ও মান নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড নিশ্চিত (Uttarakhand) হচ্ছে, যা শাসন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি ও ঐক্যকে উৎসাহিত করবে। বিলটি পূর্ববর্তী আইনে থাকা বৈষম্য ও সীমিত স্বীকৃতির সমস্যাগুলির সমাধান করে একটি আরও সুষম ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলে, যা উত্তরাখণ্ডের বহুসাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। পূর্ববর্তী মাদ্রাসা-কেন্দ্রিক কাঠামোটি বেশ কিছু কার্যকরী ও প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ধামি জানান, কেন্দ্রীয় বৃত্তি বিলিতে অনিয়ম, মিড-ডে মিল প্রকল্পে অসঙ্গতি, এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাবের মতো বিষয়গুলি বারবার সামনে এসেছে। এই সব সমস্যা মাদ্রাসাগুলির পরিচালনাকে ব্যাহত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে (Madrasa Board)।নয়া আইনটি এই ঘাটতিগুলি পূরণ করতে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সরকার সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও ভালোভাবে তদারকি করতে পারে। ক্ষমতা কেন্দ্রীয়করণ ও নিয়মকানুনের স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের মাধ্যমে এই বিলটি অনিয়ম রোধ, সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েছে (Uttarakhand)।

    বিল পাশ হয়েছিল বাদল অধিবেশনে

    প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু শিক্ষা বিল, ২০২৫ উত্তরাখণ্ড বিধানসভার বাদল অধিবেশনে পাশ হয়। তার আগে সেটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। এখন এটি সারা রাজ্যে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি অভিন্ন আইন হিসেবে বাস্তবায়িত হবে। জানা গিয়েছে, এই রূপান্তর পর্বে ধীরে ধীরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন, ২০১৬ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বীকৃতি বিধি ১ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে। এই সময়ে (Madrasa Board) নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে যাতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, অ্যাকাডেমিক সময়সূচির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রতিষ্ঠানগুলির স্বীকৃতি সুরক্ষিত থাকে (Uttarakhand)।

LinkedIn
Share