মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারের ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদ ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জামিনে মুক্তির পর ফের আলোচনায় দীপক কুমার, যিনি ‘মোহাম্মদ দীপক’ (Mohammad Deepak) নামে পরিচিত। তাঁর দাবি, ভারতে তাঁর পুরনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে অনুরাগীদের উদ্দেশে জানান, পুরনো অ্যাকাউন্ট থেকে আর কোনও ছবি বা ভিডিও আপলোড করতে পারছেন না। তবে তাঁর অ্যাকাউন্ট কেন (Social Media Suspension) বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। নতুন অ্যাকাউন্টে দীপক বলেন, “নমস্কার বন্ধুরা, আমি দীপক কুমার, যাকে মোহাম্মদ দীপক কুমার নামেও চেনেন। আপনারা কিছুদিন ধরে নিশ্চয়ই দেখছেন যে, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার কোনও ভিডিও বা ছবি আপলোড করতে পারছি না। এর কারণ, ভারতে আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ভাবছেন, আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে আমার কণ্ঠস্বর থামিয়ে দেওয়া যাবে, আমার কণ্ঠস্বর নিষিদ্ধ করা যাবে, তাঁরা খুব বড় ভুল করছেন।” দীপক তাঁর অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বক্তব্য থামানোর চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে তাঁর পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে আসে কোটদ্বারের এক শাড়ির দোকানের মালিকের সঙ্গে বিবাদের পর। ওই ঘটনায় ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে দীপককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ১ অক্টোবর গ্রেফতারের পরের দিনই জামিন দেওয়া হয় তাঁকে।
কীভাবে শুরু হয়েছিল বিবাদ? (Mohammad Deepak)
পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটদ্বারের গঙ্গা দত্ত জোশী মার্গের একটি শাড়ির দোকানের মালিক সঞ্জীব টোঙ্কের সঙ্গে দীপকের বিবাদের সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই মন্তব্যকে ঘিরে প্রথমে অনলাইনে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে দীপক ওই ব্যবসায়ীর দোকানে গেলে বিবাদ বাঁধে। ঘটনার একটি ভিডিও পরে ভাইরাল হয়। ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দীপককে আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় আঘাত করা এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে দু’পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে, চলছে তদন্তও।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কি আইনি প্রক্রিয়ায় বন্ধ হতে পারে?
ভারতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনলাইন তথ্য বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়বস্তু বন্ধ করার আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারায় কেন্দ্রীয় সরকার বা সরকারের বিশেষভাবে অনুমোদিত কোনও আধিকারিক নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনও সরকারি সংস্থা বা মধ্যস্থতাকারীকে কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকাশ্য প্রবেশাধিকার বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারেন (Mohammad Deepak)।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু আমলযোগ্য অপরাধে প্ররোচনা ঠেকানোর প্রয়োজন হলে এই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এমন নির্দেশের কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করার বিধানও রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ধারার আওতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য অনলাইন ঠিকানার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে দীপকের ক্ষেত্রে তাঁর পুরনো অ্যাকাউন্ট ঠিক কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এবং কী নির্দিষ্ট কারণে বন্ধ হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জাতীয় স্তরে পরিচিতি
দীপক ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কোটদ্বারের একটি দোকানকে ঘিরে বিতর্কের সময় প্রথম চর্চায় আসেন। মুসলিম ব্যবসায়ী শোয়েব আহমেদের একটি পোশাকের দোকানের নামের মধ্যে ‘বাবা’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় স্তরে আপত্তি ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সময় দীপক হস্তক্ষেপ করেন এবং নিজেকে ‘মোহাম্মদ দীপক’ বলে পরিচয় দেন। ঘটনাটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এই নামেই তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী কালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতের পর রাহুল তাঁকে ‘মোহাব্বতের দোকানে’র সঙ্গে তুলনা করে প্রশংসা করেন। দীপকের কোটদ্বারের ব্যায়ামাগারে সদস্য হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান রাহুল।
দীপককে ঘিরে রয়েছে পুরনো বিতর্কও
দীপককে ঘিরে এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর দুবাই-ভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং শরীরচর্চা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের দাবি করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে দীপকের পুরনো কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় (Social Media Suspension)। বর্তমানে নতুন করে তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার দাবি সামনে আসায় দীপক ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। তবে অ্যাকাউন্টটি সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়েছে, নাকি অন্য কোনও কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে, তা স্পষ্ট (Mohammad Deepak)।

Leave a Reply