Tag: WB Assembly Election 2026

  • Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন (Assembly Election 2026) হয়েছে শান্তিতেই। দ্বিতীয় দফার ভোট একেবারে ‘ঘটনাবিহীন’ করতে রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হল। আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটে নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে যেটুকু অশান্তি হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় তার সম্ভাবনাও দূর করতে চাইছে কমিশন। সেই কারণে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক

    এ বারের নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন, যা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় দফায় সংখ্যা আরও বাড়ানো হল। এখন মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা প্রত্যেকেই ভিন্‌রাজ্য থেকে আসছেন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকেই। বহু দিন পর পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হচ্ছে। কমিশন ভোট ঘোষণার দিনই জানিয়েছিল, দফা কমানো হলেও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। সেই মতো এবার কার্যত নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন

    প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দফায় কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী এই দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শহর কলকাতা (Kolkata) ছাড়াও ভাঙড়-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া (Howrah), হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু অতি-উত্তেজনাপ্রবণ বুথ (Sensitive Booths) বা এলাকা রয়েছে, যেখানে আরও বেশি পরিকল্পনামাফিক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা বা রাজ্যের পুলিশ অথবা ভিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন।

    দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ছে না

    পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রাজ্যে যে ২৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) রয়েছে, তাদের মধ্যে একাংশকে প্রথম দফা নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় রাখা হচ্ছে। বাকি বাহিনীকে দ্বিতীয় দফার ৮ নির্বাচনী জেলায় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে লাগানো হবে। শুক্রবার থেকেই সিইও দপ্তরে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নিয়ে দফায় দফায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক, ভিডিয়ো কনফারেন্স হয়েছে। সিইও ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, ওড়িশা পুলিশের আইজি তথা পুলিশ পর্যবেক্ষক হীরালাল, সিআরপিএফ কর্তা থেকে ভিন রাজ্যের পুলিশ কর্তারাও। সব মিলিয়ে ভোটের বুথ এবং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বা বুথ সন্নিহিত এলাকাকে শান্তিপূর্ণ রেখে বঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও রেকর্ড ভোটদানের নজির অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘১০ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ টাকা জ্যোতিপ্রিয় পাঠিয়েছেন মমতার বাড়িতে’’, ভবানীপুরে আক্রমণ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘১০ হাজার কোটির রেশন দুর্নীতির ৭৫ শতাংশ টাকা জ্যোতিপ্রিয় পাঠিয়েছেন মমতার বাড়িতে’’, ভবানীপুরে আক্রমণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Bengal Elections 2026) মধ্যে রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, “হাবরার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১০ হাজার কোটি টাকার রেশন দুর্নীতি করেছেন। তার থেকে ৭৫ শতাংশ মমতার বাড়িতে পাঠিয়েছেন।” এই দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি বিশাল অংশ সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। তাঁর নিশানায় ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ভোট আবহে রেশন দুর্নীতিতে তদন্ত

    শনিবার সকাল থেকেই সক্রিয় ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় একাধিক এলাকায় চলছে তল্লাশি অভিযান। ইডি-র কলকাতা জোনাল অফিস আজ প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ২০০২ (পিএমএলএ) আইনকে মাথায় রেখে কলকাতা, বর্ধমান এবং হাবড়ার মোট ১৭টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে। এই অভিযান নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা ও অন্যান্যদের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এই এফআইআর বসিরহাট পুলিশ স্টেশনে দায়ের করেছিলেন ডেপুটি কমিশনার অফ কাস্টমস্ ঘোজাডাঙ্গা এলসিএস। তাতে বলা হয়েছিল, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা রেশনের গম পাচার হয়েছে। সেই নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। সেই মামলাতেই শনিবার এই অভিযান। এর মধ্যেই তৃণমূলকে তোপ দেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    ৭৫ শতাংশ অংশ টাকা গিয়েছে প্রভাবশালীদের কাছে (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “রেশন দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ অংশ নির্দিষ্টভাবে প্রভাবশালী মহলে প্রেরণ করা হয়েছিল। মমতার বাড়িতে টাকা পৌঁছেছে । জেলখাটা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সঠিক পথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গেলেই এই আর্থিক লেনদেনের সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে আসবে।”

    নির্বাচনী মরসুমে এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, “এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও ব্যবহার করা হয়েছে।”

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি

    উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকসহ একাধিক ব্যক্তি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর রেডারে রয়েছেন। বিরোধী শিবিরের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণত এই ধরণের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই অভিহিত করে আসছে। তবে রেশন দুর্নীতি (Bengal Elections 2026) ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ায় প্রচার শুভেন্দুর

    অপর দিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা উপনির্বাচনকে (Bengal Elections 2026)  কেন্দ্র করে ভবানীপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। এই আবহে আজ সকালে এক ভিন্নধর্মী প্রচার কৌশলে অংশ নিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার ভোরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে আলাপচারিতা ও জনসংযোগের মাধ্যমে নিজের প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন।

    সকাল থেকেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শুভেন্দু অধিকারী সেখানে পৌঁছে প্রাতঃভ্রমণকারীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। কোনও বড় মাপের সভা বা মিছিলের পরিবর্তে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই ছিল আজকের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    অভাব-অভিযোগ শুনলেন শুভেন্দু

    জনসংযোগ চলাকালীন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) বলেন, “ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।” তিনি দাবি করেন, “এলাকার সাধারণ ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন চাইছেন এবং তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে দেখা যাবে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বিজেপি শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর এই সকালের জনসংযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনেই এই শান্ত ও সুশৃঙ্খল প্রচার চালানো হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছ।

  • Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে কর্তব্যে গাফিলিতির জন্য ৫ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

    Bengal Elections 2026: ডায়মন্ড হারবারে কর্তব্যে গাফিলিতির জন্য ৫ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Elections 2026) আবহে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং অসদাচরণের অভিযোগে ৫ জন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে কমিশন (Election Commission India)। রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতের জন্য হিঙলগঞ্জের ওসিকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে গতকাল । বসানো হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত।

    অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে পদক্ষেপ (Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন (Bengal Elections 2026) চলাকালীন এই পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছিল। কমিশনের (Election Commission India) পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়মাবলী লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

    • কর্তব্যে গাফিলতি: কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
    • নিরপেক্ষতা: প্রতিটি পুলিশ কর্মীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
    • তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: এই ৫ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হতে পারে।

    কমিশনের সাফ কথা, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনও প্রকার আপস করা হবে না। আধিকারিকদের আচরণে বিন্দুমাত্র ত্রুটি দেখা দিলে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।”

    সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই। এসডিপিও সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ ও উস্তি থানার আইসি শুভেচ্ছা বাগ।

    ২৯ এপ্রিল কোথায় কত বাহিনী?

    দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট (Bengal Elections 2026) হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। সেদিন ১৪২টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। আর এই শেষ দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে আরও কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন । কমিশন বঙ্গে অতিরক্ত ১০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠাবে বলে জানা গিয়েছে। ২৯৪টি আসনের জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন ৮৪ জন। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য আরও ১০ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফার জন্য ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে নিরাপত্তার দায়িত্বে। শুধু কলকাতায় থাকবে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের আগে ও পরের দিন শহরে থাকবে প্রায় ২২ হাজার আধা সামরিক বাহিনী। হিংসা মুক্ত নির্বাচন করাই কমিশনের প্রধান উদ্দেশ্য।

  • Assembly Election 2026: ‘‘বাংলা থেকে মমতা দিদি ধুয়ে মুছে সাফ হবে’’, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শাহী হুঙ্কার

    Assembly Election 2026: ‘‘বাংলা থেকে মমতা দিদি ধুয়ে মুছে সাফ হবে’’, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শাহী হুঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় সরকার গড়বে বিজেপি। হিঙ্গলগঞ্জের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সুন্দরবনের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ও মমতাদির খেলা শেষ হতে চলেছে। কাল ভোট হয়েছে। সেই ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০টি জিতবে বিজেপি।’’ তাঁর সাফ কথা, ‘‘এবার মমতা দিদি আর তৃণমূল দুই-ই বাংলা থেকে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে।’’

    পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডারাজ শেষ হবেই

    হিঙ্গলগঞ্জের সভা থেকে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডারাজ শেষ হবেই। আরজি করের নির্যাতিতার মা এবং সন্দেশখালিতে অত্যাচারিত রেখা পাত্রকে আমরা টিকিট দিয়েছি। তাঁদের বিধানসভায় পাঠিয়ে গুন্ডাদের শিক্ষা দেওয়া হবে।’’ গরু পাচার নিয়ে শাহ বলেন, ‘‘ভাইপোর আশীর্বাদে সারা বাংলায় গরু পাচার বেড়ে গিয়েছে। গরু পাচারকারীরা সাবধান হয়ে যান। ৫ তারিখের পর কেউ গরু পাচারের চেষ্টা করলে জেলে ঢোকানো হবে। আর আপনাদের কাটমানির নামে ভাইপো ট্যাক্স দিতে হবে না।’’ নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বেকার যুবকদের শাহ বলেন, ‘‘মমতাদি এবং তৃণমূলের নেতারা ২৬ হাজার যুবকের নিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকা খেয়েছে, তা সব ফেরত দিতে হবে।’’

    কেন্দ্রের টাকা প্রসঙ্গে শাহ

    শাহ এদিন আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ নিয়ে রাজ্য সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘মোদিজি সুন্দরবনের মানুষের জন্য হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু কাটমানি আর তোলাবাজির চক্করে সেই টাকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।’’ সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘‘বিজেপি সরকার গড়লেই সন্দেশখালির প্রতিটি অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’’ নির্বাচনী হিংসা ও ভোটদানের অধিকার নিয়ে শাহ এদিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারত না। তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘২৯ তারিখ ভোটের দিন মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোলে যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, ৫ তারিখের পর তাদের উল্টো করে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’’ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘বাংলার পবিত্র মাটিতে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ হতে দেব না।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এবার বাংলায় বিজেপি ইতিহাস গড়তে চলেছে এবং ১৫ বছরের ‘কুশাসনের’ অবসান ঘটিয়ে সোনার বাংলা গড়ার পথে মানুষ ইতিমধ্যেই পা বাড়িয়েছেন। শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গে জোড়া জনসভা রয়েছে শাহর। বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ থেকে তিনি চলে যাবেন শ্রীরামপুরে। সেখানে জনসভা করবেন শাহ। তার পরে ব্যারাকপুরে রোড শো করবেন তিনি।

  • PM Modi Election Rally: “যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে”, তৃণমূলকে নিশানা মোদির

    PM Modi Election Rally: “যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেওয়ালে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে”, তৃণমূলকে নিশানা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে (Bengal Elections 2026) পানিহাটির পর বারুইপুর থেকে জনসভা করছেন নরেন্দ্র মোদি। জোরকদমে চলছে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার। পানিহাটি থেকে আরজি করের নির্যাতিতার মাকে পাশে নিয়ে নারীসুরক্ষার বার্তা দিয়েছেন মোদি (PM Modi Election Rally)। বারুইপুরের সভা থেকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। প্রধানমন্ত্রী পৌঁছতেই তাঁকে বারুইপুরের বিখ্যাত পেয়ারা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এত ক্ষণ রোদে অপেক্ষা করেছেন। আপনাদের এই তপস্যা বিফলে যেতে দেব না আমি। প্রতিদান দেব।’’

    সকলে নির্ভয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন (Bengal Elections 2026)

    নির্বাচনী প্রচারে (Bengal Elections 2026) মোদি বলেন, ‘‘বাম্পার ভোটদান হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এমন দেখা যায়নি, যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ করে দেখিয়েছেন। সর্বত্র এটা নিয়েই আলোচনা চলছে যে, বিজেপি কত ভোটে জিতবে। সকলে নির্ভয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন।’’ প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi Election Rally) বলেন, ‘‘কয়েকটি জেলায় তৃণমূল খাতাও খুলতে পারবে না। প্রথম দফা থেকে এটা নিশ্চিত। দ্বিতীয় দফায় এই রেকর্ডও ভেঙে দিতে হবে। তৃণমূলের হারে সিলমোহর লাগাতে হবে।’’

    মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধী তৃণমূল

    বারুইপুর থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নরেন্দ্র মোদি (Bengal Elections 2026) বলেন, ‘‘১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচিতি তছনছ করে দিয়েছে তৃণমূল। অনুপ্রবেশকারীরা এখানকার বাসিন্দাদের রোজগার ছিনিয়ে নিচ্ছেন। এখানকার যুবকদের নিজেদের ঘর ছেড়ে রোজগারের খোঁজে বাইরে পালাতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান তখনই হবে, যখন তৃণমূল পুরোপুরি চলে যাবে আর বিজেপি আসবে।’’ মোদি (PM Modi Election Rally) বলেন, ‘‘সংসদে কী ভাবে তৃণমূল আর তার সঙ্গীরা মিলে মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করল, সকলে দেখেছেন। দেশ চায়, রাজনীতিতে মহিলাদের যোগদান বাড়ুক। তৃণমূল তা চায় না। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধীদের আইন সাজা দেবে। আমরা সেই সাজা দেওয়াব ক্ষমতায় এলে। তৃণমূল অপরাধীদের আড়াল করে। তৃণমূলের শাসনে মহিলারা সুরক্ষিত নন। বিজেপি সব কিছুর হিসাব নেবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।’’

    একই ভাবে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Election Rally) সরব হয়েছেন সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে। তিনি বলেন,‘‘বালি, ইট, সিমেন্টে কাদের রাজত্ব চলে, তা সকলে জানেন। জমি অবৈধ ভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট চলছে। সরকারের সহায়তা ছাড়া এটা চলতে পারে? কেউ নিজের জমিতে বাড়ি বানানোর চেষ্টা করলে তাঁদের সিন্ডিকেটের লোকজনকে টাকা দিতে হয়। এই পরিস্থিতি আমরা বদলাব।’’

    দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে যাদবপুরকে তোপ

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মোদি (Bengal Elections 2026) বলেন, ‘‘যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে দেশবিরোধী কথাবার্তা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র বাঁচাতে পারে না, তারা রাজ্যকে কী বাঁচাবে?’’ মোদি (PM Modi Election Rally) বলেন, ‘‘বাংলায় বিপ্লব আসছে। তার মূলে এখানকার জনতাই রয়েছেন। ভারতের সংবিধান আপনাদের যে ভোটাধিকার দিয়েছে, তা-ই বিপ্লব আনতে সাহায্য করবে। আপনাদের সকলের কাছে তাই আমার বিনম্র আবেদন, বিজেপিকে জেতান। আপনারা আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব। তৃণমূলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, নারীদের উপর অত্যাচার, বেকারত্ব থেকে স্বাধীনতা দেব।’’

    ১১ লক্ষ গ্যাস দিয়েছি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Bengal Elections 2026) উজ্জলা যোজনার গ্যাস নিয়ে তৃণমূলকে তোপ দেগেছেন। তিনি (PM Modi Election Rally) বলেন, ‘‘পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য তৃণমূল কিছুই করেনি। আমরা আপনাদের সেবা করব। ‘উজ্জ্বলা যোজনা’য় এই জেলায় আমরা ১১ লক্ষ গ্যাস দিয়েছি। ৩ লক্ষ গ্যাস তফসিলি জাতি, উপজাতি পেয়েছে। আরও অনেক সহায়তা করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের জন্য কেন্দ্র অনেক প্রকল্প চালাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল নিজেও দলিতবিরোধী। কেন্দ্রের প্রকল্পেও বাধা দিচ্ছে। ৪ মে-র পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। এই রাজ্যের দুর্দশাও দূর হয়ে যাবে। সকলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা পাবেন। পিএম, সিএম একsng, উন্নয়ন হবে দিনেরাতে।’’

  • Assembly Election 2026: “পরিযায়ীদের ঢল, ঐতিহাসিক নির্বাচন” বাংলার ভোটে সন্তোষ প্রকাশ শীর্ষ আদালতের

    Assembly Election 2026: “পরিযায়ীদের ঢল, ঐতিহাসিক নির্বাচন” বাংলার ভোটে সন্তোষ প্রকাশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় প্রথম দফা ভোট (Assembly Election 2026) হিংসামুক্ত, শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ায় আনন্দিত দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানির আগে এনিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant)। তিনি বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বাংলায় ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি।” প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের আরেক বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এনিয়ে আনন্দিত। বাংলার নির্বাচন পর্বের প্রশংসা করেছেন সলিসিটর জেনারেল তথা কমিশনের আইনজীবী তুষার মেহতাও।

    বাংলার ভোট দেখে খুশি শীর্ষ আদালত

    শুক্রবার শুনানি শুরু হতেই রাজ্যের প্রথম দফা ভোট (West Bengal Assembly Election) নিয়ে আলোচনা করেন সকলে। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবার ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা এসেও ভোট দিয়েছেন।” তাতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি।” এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভোটদানের বেশি হার দেখে আমি খুবই খুশি। মানুষ যখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে।” প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ভোটাররা যদি নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের শক্তি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে তাঁরা হিংসায় জড়ান না। প্রথম দফার ভোট প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচীও মন্তব্য করেন, কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।” কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বঙ্গে প্রথম দফার ভোট নিয়ে মন্তব্য করেন, ৯২ শতাংশ ভোট পড়া ঐতিহাসিক। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজের প্রশংসা করেন।

    ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আপত্তি

    শুনানির ফাঁকে এক হালকা মুহূর্তও তৈরি হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৪ মে কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডুকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। এ নিয়ে রসিকতা করে বিচারপতি বাগচি বলেন, আগে হলে তিনি নিজেই এই দায়িত্ব নিতেন। এসআইআর মামলার শুনানিতে এদিন মূলত ট্রাইব্যুনালের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ২৭ লক্ষ মামলার মধ্যে মাত্র ১৩৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে, যা অত্যন্ত ধীরগতি। তিনি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে পারেন। তিনি বলেন, আগের নির্দেশে বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনে জরুরি শুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা যেতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: “৪ তারিখ ভাবনীপুরের গণনা টেবিলে বসব”, প্রথম দফার ১৫২-তে ১২৫ হবে, প্রত্যয়ী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: “৪ তারিখ ভাবনীপুরের গণনা টেবিলে বসব”, প্রথম দফার ১৫২-তে ১২৫ হবে, প্রত্যয়ী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অঞ্চলে একটি জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি রাজ্যের শাসক দল এবং বিশেষ করে স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “৪ তারিখ ভবানীপুরের গণনা টেবিলে বসবো, তৃণমূল নেত্রী এবার ব্যাগ গুছিয়ে নিন। আমি আজ বদলা নিয়ে নিয়েছি।”

    লোক ওখানে ছিল, বডি ওখানে, মন এখানে (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর ভাষণে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুরসভার বিভিন্ন কাজে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের করের টাকা সঠিক পথে ব্যয় না হয়ে বিশেষ কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর স্পষ্ট কথায় বলেন, “ভোট (West Bengal Elections 2026) হয়ে গেছে আজকে। আপনিও মাঠে নেমেছেন, মিছিল করেছেন। প্রতিটি ভিডিও আছে। কিছু লোক ওখানে ছিল, বডি ওখানে, মন এখানে। আর একটি লোক আছেন বন্দর থেকে, ভালো লোক সাপ্লাই দিয়েছেন৷ মাননীয়া জানেন, ১৫০ জন সিনিয়র সিটিজেন ভোট দিয়েছেন। ৭৭ এর কয়েকটা মুসলমান ছাড়া বাকি সবাই শুভেন্দুকে টিক লাগিয়েছে। আপনাকে আমি হারাব হারাব হারাব। কাল বিকেল থেকে ধরব৷ ২৯ এভিএম সিল করে বেরব। ৪ তারিখ নিজে গণনার টেবিলে বসব।”

    ১৫২-তে ১২৫ হবে

    চেতলা এলাকাটি রাজ্যের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ববি হাকিমের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত। নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেই নেতৃত্বকে ইঙ্গিত করে বলেন, “পেশিশক্তি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যেন ২০২১ রিপিট করতে পারি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে পারি৷ উনি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘একটা ভোটেও জিতব’। রাজ্যের প্রচার বন্ধ করে এখন কেবলমাত্র ভবানীপুর ৷ কাউন্সিলর দু-হাতে টাকার ব্যাগ নিয়ে নেমেছে। আর একটা বড় ব্যবসায়ী অংশকে ধমকানি শুরু হয়েছে। বলছে, ৪ তারিখের পর দেখে নেব ৷ আরে তোমরা থাকলে তো দেখবে। মালদা থেকে আলিপুরদুয়ার সাফ সাফ সাফ। ১৫২-তে ১২৫ হবেই। ঝাড়গ্রামে ৪ এ ৩। মেদিনীপুর পশ্চিমে ১০, পূর্বে ১৬/১৬। মুর্শিদাবাদে ২ জায়গায় ৮। বীরভূমে ১ এর জায়গায় ৭। তোমরা কোথায় যাবে? এখন থেকে ব্যাগ গোছাও।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভারতীয় জনতা পার্টি এই ধরণের চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না।

    সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার

    প্রথম দফায় নির্বাচনের পর শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “হিন্দুরা এবং মহিলারা একজোট হয়ে ভোট দিচ্ছেন। আমি কখনও দেখিনি বেলা ১২টার মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে যেতে। বেঙ্গালুরু, কর্নাটক থেকে মানুষ এসে ভোট (West Bengal Elections 2026) দিচ্ছেন।” শুভেন্দু অধিকারীর এই সভা মূলত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মীদের চাঙ্গা করা এবং শাসক দলের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরার একটি কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং সরাসরি অভিযোগ ঘিরে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে।

  • Bengal Elections 2026: “তৃণমূলের জঙ্গলরাজ মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে”, অভয়ার মা-র সমর্থনে পানিহাটিতে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    Bengal Elections 2026: “তৃণমূলের জঙ্গলরাজ মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে”, অভয়ার মা-র সমর্থনে পানিহাটিতে তোপ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারও পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির জোড়া কর্মসূচি (Bengal Elections 2026) রয়েছে। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে জনসভা করেন আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের সমর্থনে। দ্বিতীয় জনসভাটি করবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলায়। সব মিলিয়ে দিনভর টানটান কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Election Rally)। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটে পরিবর্তনের ঝড় বইয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভাবে বিজেপি সরকার গঠন করে আরজিরক হত্যা মামলায় ন্যায় বিচার করবে বলে জনসাধারণকে আশ্বাস দিয়েছেন। সন্তান হারা মায়ের জন্য তৃণমূলকে পরাস্ত করে বিজেপির সরকার গঠনের জন্য আবেদন করেন তিনি।

    তৃণমূল নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছে (Bengal Elections 2026)!

    রাজ্যে যে পরিবর্তনের ঝড় বইছিল, তার প্রথম সিলমোহর পড়েছে বৃহস্পতিবার, প্রথম দফার নির্বাচনে। পানিহাটির সভায় এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় দাঁড়িয়ে শুক্রবার মোদি (PM Modi Election Rally) বার্তা দিলেন, বিজেপির বিজয়-ঘণ্টা বেজেছে। তিনি বলেন, “এতদিন ধরে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, গতকাল তাতেই সিলমোহর পড়েছে।” নরেন্দ্র মোদি বললেন, “গত কাল ভোট (Bengal Elections 2026) দেখে তৃণমূল নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছে। তার পর তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে গুন্ডাদের উস্কানি দিচ্ছে। আসলে প্রদীপ নেবার আগে জ্বলে ওঠে। তৃণমূলেরও সেই অবস্থা হয়েছে।”

    নারীশক্তি নতুন কাহিনি লিখতে চলেছে

    আরজি করে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi Election Rally)। নির্যাতিতার মায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মা মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা তাঁর মাকে প্রার্থী (Bengal Elections 2026) করেছি।” তৃণমূলকে ‘নারীবিরোধী দল’ বলে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, “বাংলার নারীশক্তি নতুন কাহিনি লিখতে চলেছে। তৃণমূল মহিলাদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। বলা হয়, ধর্ষণ থেকে বাঁচতে, সুরক্ষিত থাকতে চাইলে সন্ধের পর না বেরতে! এটা আমি নই, তৃণমূল বলে। চার তারিখের পর সব অত্যাচারের হিসাব হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে ধ্বংস করেছে ত্রিনমূল

    জনতার কাছে আশীর্বাদরূপী ভোট (Bengal Elections 2026) চাইলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Election Rally)। তিনি বলেন, নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত তোমায়, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। আমি বলছি, আপনারা আমাদের ভোটরূপী আশীর্বাদ দিন। কথা দিচ্ছি, তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি দেবো।” প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে রাজ্যের বেকার যুবকরা চাকরি পাবেন না! গত ১৫ বছরে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে ধ্বংস করেছে! পানিহাটির সভায় এমনই অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • Election Commission India: ‘শাসক দলের হয়ে কাজ’! হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসিকে সাসপেন্ড, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ কমিশনের

    Election Commission India: ‘শাসক দলের হয়ে কাজ’! হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসিকে সাসপেন্ড, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রাক্কালে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) সন্দীপ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গাফিলতির চরম শাস্তি।

    পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রশাসনিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের সময় কোনও পুলিশ আধিকারিকের (OC) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা কর্তব্য গাফিলতির অভিযোগ উঠলে কমিশন এই ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

    মুখ্যসচিবকে নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার এবং সন্দীপ সরকারের জায়গায় যোগ্য কোনও আধিকারিককে নিয়োগ করার বার্তা দিয়েছে।  ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনকে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট বা কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    অমিত শাহের সভার আগেই পদক্ষেপ

    হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সফরের ঠিক আগেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বারবার পুলিশের (OC) একাংশের বিরুদ্ধে শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হচ্ছিলই। এইবার কমিশনের (Election Commission India) সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটে বাড়তি গুরুত্ব যোগ করেছে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন যে আপোষহীন মনোভাব নিচ্ছে, এই সাসপেনশন অর্ডার তারই একটি প্রতিফলন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

  • PM Modi at Ganga: ‘বাংলার আত্মা দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা’, ভোরে নৌকাবিহারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিলেন উন্নত বাংলা গড়ার শপথ

    PM Modi at Ganga: ‘বাংলার আত্মা দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা’, ভোরে নৌকাবিহারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিলেন উন্নত বাংলা গড়ার শপথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা (PM Modi at Ganga)। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। শুক্রবার সকালে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারের পর এমনই অনুভব ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন গঙ্গায় নৌকাবিহারের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নৌকায় বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পিছনে দেখা যাচ্ছে হাওড়া এবং বিদ্যাসাগর সেতু। এ-ও দেখা যাচ্ছে যে, চোখে রোদচশমা পরে ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলছেন প্রধানমন্ত্রী। নৌকাবিহারের একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেন মোদি।

    মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম

    দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রচারে বৃহস্পতিবার বঙ্গে আগমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। শুক্রবারও দু’টি কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তার আগে এ দিন সকালেই চমক মিলল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সকাল বেলা গঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গোয়ালিয়র ঘাটে যান তিনি। সেখান থেকে একটি নৌকায় গঙ্গার বুকে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন তিনি । হাতে থাকা ক্যামেরায় নিজের জন্য ফ্রেমবন্দিও করেন কলকাতা ও হাওড়ার স্কাইলাইন। এর পরে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সকালের গঙ্গায় ঘোরার বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে বাংলার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পোস্টে তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালির কাছে গঙ্গার মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরেন। লেখেন, “প্রতিটি বাঙালির কাছে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এটা বলাই যায় যে, গঙ্গা বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।” সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে মোদি এ-ও লিখেছেন যে, “আজ সকালে কলকাতায় আমি হুগলি নদীর বুকে কিছু ক্ষণ সময় কাটালাম। মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর একটা সুযোগও পেলাম। পবিত্র গঙ্গা জল সমগ্র সভ্যতার চিরন্তন চেতনা বহন করে চলেছে।”

    বাঙালির উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

    এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi at Ganga) গঙ্গা ও বাংলার উন্নয়নের শপথের কথাও লিখেছেন। তাঁর কথায়, ‘হুগলির তীরে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং মহান বাঙালি সমাজের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার আমাদের অঙ্গীকার আবারও নিচ্ছি।’ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে নদীর দু’ধারে ভিড় জমে যায়। গোয়ালিয়র ঘাটে আসা প্রাতর্ভ্রমনকারী ও নৌকাচালকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল পোস্টে সে কথা জানিয়ে নৌকাচালকদের প্রশংসাও করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার হাওড়া থেকে ফেরার পথেই ব্রিজ ধরে গঙ্গা পার হওয়ার সময়েই সেই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মনভরানো দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন তিনি।

    বেলুড় মঠে স্বামীজির ধ্যানকক্ষে প্রধানমন্ত্রী

    বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসে মথুরাপুর এবং কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর রোড শো করেন হাওড়ায়। প্রধানমন্ত্রী রাত্রিবাস করেন রাজভবন (অধুনা লোকভবন)-এ। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সভা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী সভা থেকে কিছু ক্ষণ বিরতি নিয়ে বেলুড় মঠে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মহারাজদের প্রণাম সেরে স্বামী বিবেকানন্দের ধ্যানস্থানের সামনে কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটান। পরে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যে স্থানে স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) ধ্যান করতেন, আজ সেখানে যেতে হতে পেরে আমি অভিভূত। নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দ।”

    রাজনীতি নয়, আত্মার যোগ! বেলুড় মঠে একাকী মোদি

    শৈশব থেকেই রামকৃষ্ণ মঠ তথা সঙ্ঘের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন মোদি। সন্ন্যাস নেওয়ার বাসনায় একাধিক বার মঠের একাধিক শাখায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীদের পরামর্শেই সন্ন্যাস না-নিয়ে সামাজিক কাজে মন দেন। আরএসএস হয়ে বিজেপিতে যান। গুজরাটে ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু সে দীর্ঘ যাত্রাপথেও রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখেন। ফলে মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার শপথ নেওয়ার আগে বেলুড় মঠ থেকে প্রসাদী ফুল গিয়েছিল মোদির কাছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে এর আগেও একাধিকবার বেলুড় মঠে গিয়েছেন মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঠে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। ঘুরে দেখেন মঠের নানা অংশ। গঙ্গার ধারের বারান্দাতেও কিছুটা সময় কাটান। তবে এই মঠ সফরকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির স্পর্শ থেকে দূরে রাখার বিষয়েও মোদি যত্নশীল ছিলেন। নিজের দলের কাউকে তিনি সঙ্গে নেননি। একাই গিয়েছিলেন বেলুড় মঠে।

    শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে

    ঝালমুড়ি পর্বের পরে শুক্রের সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদির গঙ্গা বিহারে জোর শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে। গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়ে বাংলার উন্নয়নের অঙ্গীকারের বার্তা রাজ্যের শাসকদলকে চিন্তায় ফেলেছে। আগেই রাজ্যের ভোট-পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে পরিবর্তনের ঝড় বইছে। প্রথম দফার ভোটে মহিলা ও যুব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকেই তিনি সেই পরিবর্তনের বড় দৃষ্টান্ত বলে তুলে ধরেন। মোদির কথায়, “আজ পশ্চিমবঙ্গের রেকর্ড ভোটিংই বলে দিচ্ছে, ভয় হারছে, ভরসা জিতছে। ১০ দিন পরে যখন গণনা হবে, নিশ্চিত ভাবে সবদিকে পদ্মফুল ফুটবে।” তিনি নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এখনই সময় পশ্চিমবঙ্গের নির্মম সরকারকে উপড়ে ফেলার। তাঁর দাবি, রাজ্যের মা-বোনেদের উপস্থিতিই তৃণমূলের ঘুম কাড়ছে। মহিলা নিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আর জি কর হাসপাতাল ও সন্দেশখালির ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল গুন্ডাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মহিলা বিরোধী চেহারা সামনে এসে গিয়েছে। মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিল সংসদে পেশ করেছিল, কিন্তু তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহিলাদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের কোনও চিন্তা নেই। ১৫ বছর ধরে মানুষ অত্যাচার সহ্য করেছে, এখন বদল চাই।”

LinkedIn
Share