Tag: wb

wb

  • TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    TMC Violence: পদ্মের দখলে রাজ্য, তার পরেও বঙ্গে অত্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল! নিহত ২ বিজেপি কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ‘বধ’ হয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বস্তত, গোটা রাজ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৃণমূল। প্রত্যাশিতভাবেই ২০০-এরও বেশি বিধায়ক নিয়ে সরকার গড়ার দাবিদার বিজেপি (BJP Workers Killed)। এহেন আবহে রাজ্যে অশান্তি পাকাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা (TMC Violence)। বিজেপির তরফে প্রথম থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বদলা নয়, বদল চাই। তার পরেও দলনেত্রীর মতোই মাজা ভাঙলেও, মচকায়নি তৃণমূলের জার্সিধারীরা।

    হাওড়ায় বিজেপি কর্মী খুন (TMC Violence)

    রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা চালাতে শুরু করেছে গোহারা হেরে যাওয়া তৃণমূলের লোকজন। মঙ্গলবার সকালে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। স্থানীয় ও বিজেপি সূত্রে খবর, মৃতের নাম যাদব বর। বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে আবির খেলায় মেতেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁকে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির এই কর্মীর বাড়ি উদয়নারায়ণপুর বিধানসভার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪৮ নম্বর বুথ এলাকায়। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, যাদব বিজেপির সমর্থক ছিলেন। বিজেপির জয়ের আনন্দ দলের সতীর্থদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করছিলেন তিনি। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান কয়েকজন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারা হয় বিজেপির ওই কর্মীকে।

    নিউটাউনেও পিটিয়ে খুন, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মঙ্গলবারই নিউটাউনের বালিগড়ি চক পাচুড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (BJP Workers Killed)। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কমল মণ্ডল পলাতক। জানা গিয়েছে, পুনর্গণনার পরে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে ৩১৬ ভোটে জয়ী হন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া (TMC Violence)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এর পরেই মধু দলবল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ওই সময় কমল বাড়িতে ছিলেন না। বিকেলে মধু ফের উজিয়ে কমলের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। মধুর হুমকি শুনে বেরিয়ে আসেন কমল। শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক সময় ওই তৃণমূল নেতা মধুকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান ওই বিজেপি কর্মী। তখন সে মধুর বুকে সজোরে লাথি মারে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান মধু। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে। খবর পেয়ে রাতেই মধুর বাড়িতে যান বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। সব রকমভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিজেপি কর্মী অরূপ মণ্ডল বলেন, “মধুকে বুকে লাথি মেরে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।” অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা (TMC Violence)।

    উত্তরেও অশান্তি হেরো তৃণমূলের

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরেও অশান্তি পাকানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় সেই তৃণমূল-ই। বিধানসভা নির্বাচনে দলের জয়ের পর মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছিলেন একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক (BJP Workers Killed)। আচমকাই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির রংধামালি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ছড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিজেপির অভিযোগ, জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের লোকজনই একাজ করেছে। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ৬ জন বিজেপি কর্মী। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ-হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁরা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণের নেতৃত্বে একদল যুবক লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পথ আগলায়। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শুরু হয় মারধর। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকেই বিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে জখম হন বেশ কয়েকজন।

    উলটপুরাণ!

    খবর পেয়েই এলাকায় যান জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিজেপির দাবি, পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, হেরে গিয়েও বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ওপর তৃণমূল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ (BJP Workers Killed)। যদিও বিজেপির তরফে পাল্টা মার দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, পদ্মশিবিরের ওপরতলার (TMC Violence) নেতাদের নির্দেশেই পাল্টা মারের রাস্তায় হাঁটেনি পদ্মশিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই ফুলের (বিজেপির পদ্মফুল এবং তৃণমূলের ঘাসফুল) রূপ-রস-গন্ধ সবই যে আলাদা, এই সব ঘটনাই তার প্রমাণ।

     

  • Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও গদি ছাড়েননি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরো তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! উল্টে তাঁর এবং তাঁর দল তৃণমূলের (নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, কোম্পানি) হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)। সেই কারণেই হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা ইস্তফা দেননি বুধবার সকাল পর্যন্তও।

    নির্বাচন কমিশনের সাফ কথা (Election Commission)

    যদিও তাদের বিরুদ্ধে মমতার তোলা সব অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না বলা পর্যন্ত গণনা থামানো হয়নি। তারপর তাঁকে জানিয়ে, গাইডলাইন মেনে ফের শুরু হয় গণনা। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, “আমি ৩২ হাজার ভোটে জিতছিলাম। তারপরেই বিজেপির প্রার্থী ২০০-র বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। কাউন্টিং সেন্টারে যাওয়ার সময় আমাকে আটকে দেয়। আমাকে নিগ্রহ করা হয়। তখন সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমি বলেছিলাম যে কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থাকব। কিন্তু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বের করে দেয়। দল কর্মীদের সঙ্গে আছে। আমরা লড়াই করে ফিরব। এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, যেমন অন্য রাজ্যেও হয়েছিল।”

    মমতার তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন

    দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) পক্ষ থেকে দেওয়া রিপোর্টে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভবানীপুরে মমতার তোলা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। কমিশনের সাফ কথা, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম-আইন মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি। ভবানীপুরের প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশন এও জানিয়েছে, প্রার্থীর জেদের কারণে গণনার কাজ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরে নিয়ম মেনে তাঁকে জানিয়েই আবারও গণনার কাজ শুরু করা হয়েছিল (Election Commission)।

    ভবানীপুরে গোহারা মমতা

    প্রসঙ্গত, সোমবার, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন গোটা দেশের (Mamata Banerjee) নজর ছিল হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই দ্বৈরথ হয়েছে মমতা ও তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। গণনা শুরুর পর থেকেই সমানে সমানে টক্কর চলছিল মমতা-শুভেন্দুর। যদিও শেষ দিকে এগোতে থাকেন শুভেন্দু। তার পর আর তাঁর নাগাল পাননি মমতা। হাজার পনেরো ভোটে হেরে যান ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ মমতা। রাজ্যে গোহারা হারে তাঁর দল, তৃণমূলও। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে (Mamata Banerjee) লাগিয়ে ভোট লুঠ করেছে।’ এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি! হারলে পদত্যাগ করতাম (Election Commission)।”

     

  • Kalita Majhi: আউশগ্রামে পদ্ম ফোটালেন গৃহপরিচারিকা কলিতা, এক হার-না মানা মহিলার উত্থানের কাহিনি

    Kalita Majhi: আউশগ্রামে পদ্ম ফোটালেন গৃহপরিচারিকা কলিতা, এক হার-না মানা মহিলার উত্থানের কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেরস্থের ঘর থেকে সটান বিধানসভায় গেলেন পেশায় গৃহপরিচারিকা কলিতা মাজি (Kalita Majhi)। চারটে বাড়িতে কাজ করে মাস গেলে তিনি রোজগার করতেন আড়াই হাজার টাকা (BJP)। সামান্য এই আয়েই সংসার চালাচ্ছিলেন কলিতা। বিধানসভায় তিনিই এখন বিজেপির অন্যতম মুখ। বিজেপির পদ্ম প্রতীকে লড়ে জয়ী হয়েছেন কলিতা। গত বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। আউশগ্রাম কেন্দ্রে সেবার হেরে গিয়েছিলেন কলিতা। সেই তিনিই এবার ওই একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন বিপুল ভোটে।

    হার-না মানার গল্প (Kalita Majhi)

    গুসকরা পুরসভার বাসিন্দা কলিতা। এলাকারই চারটি বাড়িতে কাজ করে টানেন সংসারের জোয়াল। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মীও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে হাজার ১২ ভোটে তৃণমূলের অভেদানন্দ থান্ডারের বিরুদ্ধে লড়ে হেরে যান কলিতা। যদিও হাল ছেড়ে দেননি তিনি। গৃহস্থের বাড়ির কাজ শেষ করে সংসার সামলে কলিতা চালিয়ে গিয়েছেন সংগঠনের কাজও। সেই কারণেই এবারও ওই কেন্দ্রে পদ্মশিবির প্রার্থী করে জীবনযুদ্ধে হার না-মানা কলিতাকে। তবে এবার আর হারেননি, বরং তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে আউশগ্রামের বুকে পদ্ম ফুটিয়ে ছেড়েছেন তিনি।

    বিধানসভায় গিয়ে যা বলবেন কলিতা 

    কলিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। তৃণমূলের প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে হারিয়ে উজ্জ্বল করেছেন বিজেপির মুখ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতার এই উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলার বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতারও প্রতিফলন। কলিতা বলেন, “গুসকরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা রয়েছে। দমকল কেন্দ্র লাগবে। রাস্তাঘাটের সমস্যাও রয়েছে। রয়েছে পানীয় জলের সমস্যাও। এই কাজগুলিই সবার আগে করতে চাই (Kalita Majhi)।”

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা পদ্মময় করে দিয়েছে বিজেপি। ভবানীপুরে খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়ে গেরুয়া ঝান্ডা তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাতারাতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে দিয়েছেন মমতাকে। এই ‘মহাপতনে’র আবহেও লোকমুখে ঘুরছে কলিতার উত্থানের গল্প। যিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে পরিবারের সদস্যদের মুখে তুলে (BJP) দেন অন্ন, সেই তিনিই এবার যাচ্ছেন বিধানসভায়, গণতন্ত্রের মন্দিরে। সমাজের নিচুতলার মানুষও যে বিধানসভায় গিয়ে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরতে পারেন, কলিতার জয় সেটাই প্রমাণ করে ছাড়ল। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে তো এটাই কাম্য। তাই নয় কি (Kalita Majhi)?

     

  • Mamata Banerjee: গোহারা হেরেও সম্বিত ফেরেনি! “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”, বলছেন মমতা

    Mamata Banerjee: গোহারা হেরেও সম্বিত ফেরেনি! “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”, বলছেন মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একই বন্ধনীতে চলে এলেন বঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! কীভাবে? গেল বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গিয়েও পদত্যাগ করতে চাইছিলেন না ট্রাম্প। অথচ, সেবার তাঁকে হারিয়েছিলেন জো বাইডেন (Constitutional Crisis)। বেনজিরভাবে হোয়াইট হাউস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়েছিল ট্রাম্পের অনুগামীদের একাংশ। অনেক ‘নাটকে’র পর অবশ্য বাইডেনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন পরাজিত ট্রাম্প।

    ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণ মমতার! (Mamata Banerjee)

    এদিক থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে একই বন্ধনীতে চলে এলেন মমতা। সোমবার দুপুরেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভাগ্য। জনাদেশে গোহারা হারে তৃণমূল এবং তার প্রধান কান্ডারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতি অনুযায়ী, হেরে গেলে লোকভবনে (রাজ্যপাল ভবনের বর্তমান নাম) গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে দেন শাসক দলের মুখ্যমন্ত্রী। নয়া সরকার গড়ার দাবিতে সেই লোকভবনেই যান বিজয়ী দলের নেতা-নেত্রীরা। এবার এই নিয়মেই সমস্যার সৃষ্টি করতে চাইছেন তৃণমূলেশ্বরী। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না।

    “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি!”

    তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?” তৃণমূল নেত্রীর এহেন পদক্ষেপে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলে কারও কারও অভিমত। যদিও এমন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বেশ কিছু ধারণার কথা বলছেন। যদিও ভোটে হেরে গিয়েও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না-দেওয়ার নজির ভারতে নেই। তাই মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে নয়া নজির সৃষ্টি হবে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে।

    সাংবিধানিক সঙ্কট!

    কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান বিচারপতি জানান, মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘কেয়ারটেকার’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালানোর অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। তিনি নিজেও এক-দু’দিন তদারকি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার সংস্থানও রয়েছে। যদিও সাধারণত এত কম সময়ের জন্য ‘সঙ্কট’ না-হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা না-ও হতে পারে।। অবশ্য এ সবই নির্ভর করছে বিজেপি পরিষদীয় দল শপথের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত করে, তার ওপরে (Constitutional Crisis)। তবে মমতা ইস্তফা না দিলে কোনও সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও (Mamata Banerjee)।

    অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ নিতে পারেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। তবে পদ্মশিবিরের মুখ্যমন্ত্রী যদি ৮ মে শপথ নেন, তাহলে তেমন কোনও সমস্যা হবে না। কারণ মমতা সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ৭ এপ্রিল। তাই ৯ তারিখ বা তার পরের কোনও দিন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে মধ্যবর্তী স্বল্পসময়ের জন্য পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন রাজ্যপাল। অবশ্য তা হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষেই। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত বলেন, “সংবিধানের ১৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল যতদিন চাইবেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা ততদিনই স্বপদে বহাল থাকেন৷ মন্ত্রিসভার মেয়াদ ৫ বছর৷ কমিশন এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন-পর্ব শেষ করে৷ ভোটের ফল বেরনো মাত্রই নতুন সদস্যরা জয়ী হন (Constitutional Crisis)৷ সেই তালিকা রাজ্যপালকে দেয় নির্বাচন কমিশন৷ এর পরেই সরকার গঠনের দাবি জানায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল৷ তাই আগের সরকারের মেয়াদ এমনিতেই শেষ হয়ে যায় (Mamata Banerjee)৷”

    কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবি হওয়া এবং দলের সুপ্রিম কমান্ডারের মহাপতনের পর ইস্তফা দিতে পারতেন মমতা। কারণ সোমবার রাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে জনাদেশ। জনতার রায় মাথা পেতে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারতেন তিনি। কিন্তু মমতা তা করেননি। উল্টে সাংবাদিক বৈঠকে ঘনিষ্ট বৃত্তের লোকজনকে নিয়ে হাত ধরাধরি করে তৃণমূলের ঐক্যের ছবিটাই আরও একবার তুলে ধরলেন হেরো মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যেহেতু মমতা নিজেও হেরেছেন তাই বিধানসভার বিরোধী দলনেত্রীর পদের শিকেটাও ছিঁড়ছে না তাঁর ভাগ্যে। (অবশ্য তৃণমূলের জয় নিশ্চিত জেনে কোনও আসনে উপনির্বাচন করিয়ে বিধানসভায় যেতে পারেন মমতা। এমনিও যেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করিয়ে জিতে আসতে হবে তাঁকে।) যেহেতু এসবের কোনওটাই হচ্ছে না, তাই রীতিমতো চিত্রনাট্য তৈরি করে মঙ্গল-বিকেলে একপ্রস্ত নাটক করলেন তৃণমূলেশ্বরী। কারণ তিনি পিকচারে না থাকলে আর খবর হবেন না। অগত্যা মঞ্চস্থ করতেই হল নয়া নাটক (Constitutional Crisis)।

    বিরোধীদের মতে, সব খুইয়ে কেলেঙ্কারির বোঝা মাথায় নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো পদত্যাগ করলেই বোধহয় ভালো করতেন (Mamata Banerjee)!

     

  • Amit Shah: শাহের ঘাড়ে ‘অমিত’ দায়িত্ব, বঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তিনিই

    Amit Shah: শাহের ঘাড়ে ‘অমিত’ দায়িত্ব, বঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তিনিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁর কূট চালেই বাংলায় বধ হয়েছে তৃণমূল। পদ্ম-ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে ঘাসফুল (Amit Shah)। পরাজিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। অতএব, বাংলায় সরকার গড়ছে বিজেপি (BJP)। গেরুয়া শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে সলতে পাকানোর কাজও। এহেন আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (পড়ুন, বিজেপির চাণক্য) অমিত শাহের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হল ‘অমিত’ দায়িত্ব। বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছেন তাঁকে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব। বিজেপি সূত্রে খবর, এই দুই নেতাই মূলত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তদারকি করবেন। রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই পদ্মশিবিরের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অসমেও ফের ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। সেখানে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে জেপি নাড্ডাকে। সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নবাব সিং সাইনিকে। বিজেপির তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই খবর (Amit Shah)।

    দিল্লি গেলেন সুনীল বনসল (Amit Shah)

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার আগে মঙ্গলবার সকালেই দিল্লি চলে যান এ রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। পরিষদীয় দলের বৈঠক, শপথগ্রহণ এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করেন তিনি। কথা বলেন অমিত শাহের সঙ্গেও। রাজ্যের পর্যবেক্ষকের সঙ্গে কথা হবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনেরও। দিল্লি রওনা দেওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমে সুনীল বলেন, “সকলকে ধন্যবাদ।” তবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, শুভেন্দু অধিকারীও দিল্লি যাবেন কি না, এসব প্রশ্নের কোনও জবাবই দেননি সুনীল। বরং সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, হাসিমুখে রওনা দেন সুনীল।

    জোড়া বৈঠকে হয়েছে আলোচনা

    কাঙ্খিত বঙ্গ জয়ের পর বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে সরকার গড়ার তৎপরতা। সরকার গঠন নিয়ে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে হয়ে গিয়েছে দুটি বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক বসে সংসদীয় কমিটির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও যোগ দেন তিনি। দুটি বৈঠকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। দিল্লিতে বৈঠক সেরেই আজ, মঙ্গলবার কিংবা আগামিকাল বুধবার কলকাতায় ফিরবেন বনসল-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজনাথ সিং। বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলায় সরকার গঠন নিয়েও আলোচনা হতে পারে (BJP)।

    শপথ গ্রহণ হবে ব্রিগেডে!

    বিজেপি সূত্রে খবর, শপথগ্রহণের দিনও ঠিক হয়ে যাবে এদিনই। বিজয়ী বিধায়কদের নিয়ে পরিষদীয় বৈঠক হবে। সেখানে পরিষদীয় দলের নেতার নাম প্রস্তাব করা হবে, সমর্থন করবেন বাকিরা। এর পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ,  শুভেন্দু অধিকারীরা যাবেন রাজভবনে, দাবি জানাবেন সরকার গঠনের। কবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে, হবেই বা কোথায়, তাও ওইদিনই ঘোষণা করা হবে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। অসমর্থিত সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে ব্রিগেড ময়দানে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী। কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও (BJP) শপথ নেবেন ব্রিগেডেই। বাকি মন্ত্রীরা শপথ নেবেন পরে (Amit Shah)।

     

  • Scissors Barricade: সরে গেল ‘সিজার্স ব্যারিকেড’, রাতারাতি উধাও মমতার বাড়ির সামনের নিরাপত্তার গেরো

    Scissors Barricade: সরে গেল ‘সিজার্স ব্যারিকেড’, রাতারাতি উধাও মমতার বাড়ির সামনের নিরাপত্তার গেরো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেরে গিয়েও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার রাতেও সিজার্স ব্যারিকেডের (Scissors Barricade) বলয়ে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সাতসকালে গিয়ে দেখা গেল ব্যারিকেড উধাও, অবাধ হয়ে গেল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে সাধারণ মানুষের যাতায়াত। এতদিন ওই রাস্তায় যেতে হলে দিতে হত হাজার একটা প্রশ্নের জবাব। সর্বক্ষণ নজরদারি চালাত নিরাপত্তা রক্ষীদের শ্যেন দৃষ্টি।

    নিরাপত্তার বেড়াজাল উধাও (Scissors Barricade)

    এতদিন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়। পরিচয় যাচাই থেকে শুরু করে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন—এমন একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হত পথচারীদের। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মীরা ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। এমনকি, ওই এলাকার বাসিন্দাদেরও বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সঙ্গে রাখতে হত আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র। তবে এক রাতের ব্যবধানে বদলে গিয়েছে সেই চিত্র।  সোমবারই বের হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল। সেখানে জনতার রায় গিয়েছে মমতার দলের বিপক্ষে। তার পরে ঘরবন্দি হয়ে গিয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর মালকিন। প্রত্যাশিতভাবেই উঠে গিয়েছে নিরাপত্তার কড়া বলয়ও। মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। তবে তাঁরা কাউকেই আটকাচ্ছেন না। ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ও খোলা। দক্ষিণ কলকাতার যে গলিতে এতদিন নিরাপত্তার ফোকর গলে মাছিও গলতে পারত না, এদিন সেখানেই মিলল আমজনতার যাতায়াতের অবাধ ছাড়পত্র।

    বিস্তর অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের

    হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাড়ার দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেরোলেও সঙ্গে রাখতে হত আধার কার্ড। শুধু টাকা থাকলেই চলত না, পরিচয়পত্রও ছিল বাধ্যতামূলক। এমনকি নিজের বাড়িতে ফিরতেও অনেক সময় বলতে হত, “ওই যে, ওখানেই আমার বাড়ি।” নাম, বাবার নাম-সহ নানা তথ্য যাচাইয়ের পরেই মিলত প্রবেশের অনুমতি। তবে ফল প্রকাশের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই কড়াকড়ির ছবিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সোম-রাতে জনতার আদালতে ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গেল তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তা।

    ‘সিজার্স ব্যারিকেড’

    জানা গিয়েছে, তৃণমূল গোহারা হেরে যাওয়ায় এবং রাজ্যের সর্বত্র পদ্ম ফোটার জয়ের প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কালীঘাট জুড়ে হয়েছে বিজেপির মিছিল। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরের রাস্তায়ও বাইক নিয়ে হয়েছে মিছিল। তবে সোমবার রাতেও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে ঠায় দাঁড়িয়েছিল ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ (দুটো গার্ডরেলকে কাঁচির মতো করে রাস্তার মুখে দাঁড় করিয়ে রাখার নাম ‘সিজার্স ব্যারিকেড’, কাঁচির মতো দেখতে বলে এই নাম)। ওই গলি দিয়ে কেউ যেতে চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করে (Scissors Barricade) ছাড়পত্র দিতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ফাঁক করা হত ব্যারিকেড। গলিতে ঢুকলেই আবার বন্ধ হত ‘সিজার্স ব্যারিকেড’। এলাকায় থাকতেন সাদা পোশাকের পুলিশও। গলিতে ঢোকা যে কোনও আগন্তুকের দিকে কড়া নজর থাকত তাঁদের। গাড়ি নিয়ে ঢুকলেও বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য যাচাই করে (Mamata Banerjee) তবেই গলি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলত। এই চেনা ছবিটাই বদলে গিয়েছে রাতারাতি। এদিন সেখানেই দেখা গেল ব্যারিকেড একদিকে সরানো। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, এই রাস্তায় যাওয়া-আসায় কোনও বাধা নেই, দেখছি (Scissors Barricade)।

  • Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির (Shuvendu Adhikari) আঁচে শুকিয়ে কাঠ ক্ষমতার দম্ভে মত্ত ঘাসফুল। বঙ্গে (Abhishek Banerjee) তুষ্টিকরণের যে রাজনীতির চল চালু হয়েছিল বাম জমানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে যাতে ফলতে শুরু করেছিল বিষবৃক্ষের ফল, সেই তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটিত করে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। যে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ধরে রেখেছিলেন মমতা, সেই ভবানীপুরেও প্রাক্তন সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারির কাছে গোহারা হেরে কার্যত ঘরে ঢুকে গিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    শুভেন্দুর বাক্য-বাণ (Shuvendu Adhikari)

    এহেন আবহে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “যারা গুন্ডা, চোর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিজেপি সরকার। রাহুল গান্ধী শেষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ। আগামী নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে শেষ হয়ে যাবে অখিলেশ যাদবও।” শুভেন্দু বলেন, “পুরো হিন্দু সমাজ মিলে এক সঙ্গে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খিদিরপুরে ২০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছে, বাকি জায়গায় আমি লিড পেয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল।”

    অভিষেককে জেলে ঢোকাবে বিজেপি

    তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই থাকুক, এত চুরি করেছে যে আগামিদিনে তাঁকে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে বিজেপি সরকার।” তিনি বলেন, “এই আসন না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না। বাংলায় এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান। হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস-সহ যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করছি।”

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ঢের আগেই শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন (Shuvendu Adhikari), দল যদি তাঁকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী করেন, তিনি তাঁকে প্রাক্তন করে ছাড়বেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কথা রেখেছেন শুভেন্দু। ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে মমতাকে হারিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার অন্যতম ভরকেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের পবিত্র করকে (Abhishek Banerjee) প্রায় ১০ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর কলজের জোর (Shuvendu Adhikari)!

     

  • BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি (BJP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ এবং পর্দার আড়ালে থাকা কলা-কুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় পদ্ম শিবিরের প্রচার অভিযান শান দিয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলেও। তার জেরেই বিজেপির জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়াটা হয়েছে (Key Leaders) অনায়াস।

    কোন অঙ্কে বাজিমাত? (BJP)

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এসআইআরের (SIR) আওতায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর পরাজয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সূক্ষ্ম সংগঠনমূলক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিজেপির প্রচারে জাতীয় বার্তা ও স্থানীয় সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। ঝালমুড়ির মতো বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার, চাকরির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি এবং মা কালীর মন্দিরে প্রার্থনা—এই সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন এক প্রচার গড়ে তুলেছিলেন যা স্থানীয় সংযোগ ও জাতীয় বার্তার মিশ্রণ। বড় বড় জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আবেগের স্তরেও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—কর্মসংস্থান, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতীক, ধর্মীয় সংযোগ এবং অর্থনৈতিক আশ্বাস—সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

    ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির প্রচারের মুখ। এর সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছে অমিত শাহের ‘চাণক্যসুলভ’ কৌশল। যার জেরেই দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের একের পর  শক্ত ঘাঁটিও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সবচেয়ে সক্রিয় প্রচারক ছিলেন শাহ। তিনি এ রাজ্যে ৬৬টি সভা ও রোডশো করে ৬৩টি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন (Key Leaders)। শাহের ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্যই ছিল বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা। তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। “কাটমানি” সংস্কৃতি, দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার—এসব প্রতিশ্রুতিও দেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    নেপথ্যের কারিগরেরা

    এ রাজ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। প্রার্থী নির্বাচন, জোট ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি (BJP)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কর্মী সংগঠন এবং বুথ প্রস্তুতি তদারকি করেন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর অবদানও কম নয়। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবেই উঠে আসেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর রাজনীতির জ্ঞান প্রখর (Key Leaders)। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। নিজেকে বিজেপির প্রধান বাঙালি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুভেন্দু নির্বাচনে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র এই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বিজেপির বাজি ছিলেন শুভেন্দুই। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার বিষয় তুলে ধরে তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার বিজেপির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের মাঝেও শুভেন্দু ছড়িয়ে দেন দলীয় বার্তা। চাঙা করে তোলেন হতাশ বিজেপি কর্মীদের। শুভেন্দুকে পেয়ে নিষ্ক্রিয় বিজেপি কর্মীরাও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি শুধু প্রচারকই নন, বরং একজন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন (BJP)। জাতীয় নেতৃত্ব ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটিও করেছিলেন তিনিই (Key Leaders)।

     

  • PM Modi: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, তাই বদলা নয়, বদল”, বঙ্গজয়ের পর বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, তাই বদলা নয়, বদল”, বঙ্গজয়ের পর বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। তাই এবার বদলা নয়, বদল।” দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে ভাষণ দিতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রীতিমতো বাঙালি পোশাক (ধুতি-পাঞ্জাবি) পরে দফতরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার বঙ্গ-ভোটের ফল পরিষ্কার হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ‘‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে, আর জয়ী হয়েছে বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই।’’

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    সমাজমাধ্যমে তিনি আরও লেখেন, ‘‘জনগণ বিজেপির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাঁদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’’ এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহার, ওড়িশার মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এনডিএর ওপর ভরসা রেখেছেন।” এর আগেই তিনি বলেন, “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এ বার বদলা নয়, বদল।” তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বার ভয় নয়, লোকতন্ত্র জিতল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।”

    গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়

    পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ। একে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই পদ্ম ফুটেছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিহারে ভোটের ফলের দিনই তিনি বলেছিলেন যে, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। বিজেপির কোটি কোটি কর্মীকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী। এদিন প্রধানমন্ত্রীর আসার আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বঙ্গ জয়ের (BJP) জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

    ‘কোটি কোটি প্রণাম’

    পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘‘এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব।’’ তাঁর দাবি, বিজেপির এই জয় তৃণমূলের ভয়ের ঊর্ধ্বে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয় (PM Modi)। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার মতো প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। যে গঙ্গোত্রীতে মা গঙ্গার উৎস, সেখান থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির গেরুয়া পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’’

    ‘সোনার বাংলা’

    তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ফল। সেই সমস্ত পরিবারের ধৈর্যের জয়, যারা হিংসা সহ্য করেও গেরুয়া পতাকা ছাড়েনি। শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছোনোর এই কঠিন যাত্রায় যে কর্মীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি, সেই সকল কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে প্রণাম জানাই। বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বিজেপির সেই সকল শহিদ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন (BJP)।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহাপুরুষের পবিত্রভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে (PM Modi)।’’

     

  • BJP: “‘গভীর ফাটল’, ইন্ডি জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই”, বলল বিজেপি

    BJP: “‘গভীর ফাটল’, ইন্ডি জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই”, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একের পর এক রাজ্যের রশি যাচ্ছে বিজেপির (BJP) হাতে। ক্রমেই রাজপাট হারাচ্ছে বিজেপি-বিরোধী  ‘ইন্ডি’ জোটের (INDI Alliance) বিভিন্ন শরিকদল। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমেও বিপুল ভোটে জিততে চলেছে বিজেপি। তার পরেই পদ্ম-শিবিরের ভবিষ্যদ্বাণী, ইন্ডি জোটে গভীর ফাটল। এই জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। বলেছে, জোটকে ঠিকঠাকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল। ভোট গণনার দিনেও তিনি ফের অনুপস্থিত।

    ‘ইন্ডি’ জোটে ফাটল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে সম্ভাব্য জয়ের পথে রয়েছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৪টিতে। অসমেও এগিয়ে যাচ্ছে গৈরিক পার্টি। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা জানান, এই নির্বাচনের ফল বিরোধী জোটের মধ্যে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল ‘ইন্ডি’ জোট পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে এবং অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। রাহুল গান্ধী জোটকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুরো নির্বাচনে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি ‘ইন্ডি’ জোট সামলাতে পারেননি।”

    বিজেপির বিস্তারের কৃতিত্ব মোদির

    তিনি আরও বলেন, “আজ (সোমবার) নির্বাচনের ফল বেরোচ্ছে, অথচ রাহুল গান্ধী ফের বিদেশে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। জোটের শরিকদের মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না।” বিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, “এখন দেশে ‘ইন্ডি’ জোট বলে কিছু নেই। এর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ‘ইন্ডি’ জোটের ইতি (BJP)।” পুনাওয়ালা বিজেপির বিস্তারের কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তিনি বলেন, “দেশে টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও নতুন নতুন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হচ্ছে, শতাংশের হিসেবেও বাড়ছে ভোট, মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হচ্ছে—মোদিজির জন্য।” বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ জানান। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তিনি বলেন, “যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জন্মেছিলেন, সেই বাংলা আমাদের (INDI Alliance)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন (BJP)।”

     

LinkedIn
Share