Tag: wb

wb

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    WB Migrant Workers: ট্রেনে টিকিটের জন্য হাহাকার, বঙ্গ-ভোটে মত দিতে ঘরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমাদের ট্রেনের টিকিট সম্ভবত কনফার্ম হবে না। ওয়েটিং লিস্টও খুব বড়। কিন্তু আমি একটা জিনিস জানি, আমরা কালই বেরিয়ে পড়ব। চাকরি চলে গেলেও আমার কিছু যায় আসে না।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন পোদ্দা। পূর্ব দিল্লির দাল্লুপুরায় গৃহকর্মীর কাজ করেন তিনি। পোদ্দা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তিনি এবং তাঁর পরিবারের আরও আট সদস্য বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তাঁদের গ্রামে যাবেন ভোট দিতে। তাঁর মতে, তাঁর মতো শত শত মানুষ বাংলায় নিজেদের ভিটেয় ফিরে যাচ্ছেন স্রেফ ভোট দিতে। ভোট না দিলে পাছে নাগরিকত্ব হারাতে হয়, তাই এবার (SIR) ভোট দিতে মরিয়া তাঁরা।

    ভোট দিতে কাজ খোয়াতেও রাজি পরিযায়ী শ্রমিকরা (WB Migrant Workers)

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হবে দু’দফায় —২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফার নির্বাচন মাত্র এক সপ্তাহ দূরে থাকায়, গৃহকর্মী, আয়া, রাঁধুনি এবং অন্যান্য শ্রমিক-সহ বহু পরিযায়ী শ্রমিক দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহর এবং শিল্পাঞ্চল থেকে বাংলায় ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি করছেন। পোদ্দা বলেন, “দিল্লিতে যেখানে আমি থাকি, সেখানে আমাদের মতো অনেকেই বাড়ি ফিরছে। তারা ভয় পাচ্ছে, এবার ভোট না দিলে তাদের নাম কেটে দেওয়া হবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। কেউ কেউ তো আবার নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কাও করছেন।” দিল্লির পোদ্দার মতোই কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন মুর্শিদা খাতুন। তিনি আয়ার কাজ করেন। তিনিও ভোট দিতেই ফিরছেন বাংলায়। মুর্শিদার মালকিন (SIR) আকাঙ্খা। তিনি বলেন, “উনি (মুর্শিদা) একদম স্পষ্টভাবে বলেছিলেন কেন যাচ্ছেন। তাঁর ভয় ছিল, এবার ভোট না দিলে হয়তো আর কখনও সুযোগ পাবেন না। তিনি আরও ভয় পাচ্ছিলেন এই ভেবে যে, ভোট না দিলে তাঁকে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    নাগরিকত্ব হারানোর ভয়

    গৃহকর্মী এবং আয়াদের মতোই, দেশের বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চলের বহু শ্রমিকও যেন-তেন প্রকারে বাংলায় ফিরে ভোট দিতে চাইছেন।কিছু পরিযায়ী শ্রমিক তাঁদের বার্ষিক বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ফিরছেন যাতে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকে, আশঙ্কা এড়ানো যায় নাগরিকত্ব হারানোরও। যদিও এই ভয়গুলির বাস্তব কোনও ভিত্তিই নেই, তবুও তাঁরা মনে করছেন এটাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারের কিছু শ্রমিক, যাঁরা ট্রেনের টিকিট পাচ্ছেন না, তাঁরা প্রায় ১৯০০-২৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন বাসে।

    এসআইআর

    ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ করতে চালু হয়েছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেড়েছে এই ধরনের প্রবণতা। অনেকেই বলছেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তা এখন ভোট দেওয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তৃণমূল নেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বেরিয়ে বলেছেন, “ইসি, বিজেপি এবং কেন্দ্র সংবিধান মানছে না। তারা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আজ ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, কাল এনআরসি এনে নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই বাংলায় ফিরতে হুড়োহুড়ি করছেন নিজ ভূমে পরবাসীরা (WB Migrant Workers)।

    বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি

    নির্বাচনের আগে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যু বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। বিজেপি সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধিকে অবৈধ অভিবাসনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, যার জেরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ। এই রাজনৈতিক বার্তাগুলি বাংলার বাইরে কাজ করা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাই বেড়েছে বাড়ি ফেরার জন্য হুড়োহুড়ি। এর প্রভাব পড়ছে দিল্লি এনসিআর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরের পরিবারগুলিতে, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বড় শহরগুলির পেশাগত কাঠামো কতটা নির্ভরশীল অসংগঠিত শ্রমিকদের ওপর (SIR)। পোদ্দা বলেন, “যদি কিছুই না হয় (টিকিট কনফার্ম), তাহলে আমরা গাদাগাদি করে সাধারণ বগিতে করেই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে যাব।” তিনি বলেন, “অনেকে ভয় পাচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সুবিধাও হারাতে হতে পারে (WB Migrant Workers)।”

    বাংলায় কাজ নেই, তাই পাড়ি ভিন রাজ্যে!

    উত্তরপ্রদেশের খুরজার সিরামিক শিল্পে কাজ করেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমার কোনও উপায় নেই। আমাকে প্রায় ২০ দিনের জন্য কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরতে হবে।” তিনিও বলেন, “ভোট না দিলে নাম কাটা যেতে পারে, প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে নাগরিকত্বও।” এই কারণেই খুরজার বহু সিরামিক কারখানা প্রায় ২০ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে, দিল্লি, গুরগাঁও, নয়ডা, জয়পুর-সহ বিভিন্ন শহরে গৃহকর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। অনলাইন পরিষেবাগুলিতেও স্লট মিলছে না। মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। এখানকার প্রায় ৬০ শতাংশ কারিগর ইতিমধ্যেই ফিরে গিয়েছেন, আরও অনেকেই যাবেন। বস্তুত, এই গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের কাছে এই নির্বাচন শুধুমাত্র ভোট নয়—এটি তাঁদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি। তাঁরা মনে করছেন, ভোট না দিলে সামাজিক সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই তাঁরা রুজি-রোজগার এবং দীর্ঘ পথযাত্রার ঝুঁকি নিয়েও ভোট দিতে ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের গাঁয়ে। তাঁদের এই ‘দেশে’ ফেরা থেকেই স্পষ্ট, বাংলায় কাজ নেই। পেটের দায়ে তা-ই তাঁদের পাড়ি দিতে হয় ভিন রাজ্যে (sir)।

     

  • West Bengal 2021 Election: বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা, একুশের ভোটের পরে অত্যাচার চরমে তৃণমূলের  

    West Bengal 2021 Election: বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা, একুশের ভোটের পরে অত্যাচার চরমে তৃণমূলের  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে নির্বাচন কেবল একটি গতানুগতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং যাঁরা দলের (Post Poll Violence) আদর্শ সমর্থন করেন না, তাঁদের পক্ষে এটি আদতেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal 2021 Election) হোক বা স্থানীয় কোনও সংস্থার নির্বাচন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-শাসিত এই রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর হিংসা তৃণমূল জমানায় আক্ষরিক অর্থেই একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই যেখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মাস্টারমাইন্ডদের মদতে চালানো গণহত্যার এক নয়া অধ্যায়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হামলা হয়। খুন এবং ধর্ষণের অসংখ্য ভয়াবহ ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো টিএমসি সরকার গঠন করার পর, ২০২১ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার যে ৪০টি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি একবার দেখে নেওয়া যাক।

    বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন (West Bengal 2021 Election)

    টিএমসি কর্মীরা বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন করে। ২০২১ সালের ২ মে, ফেসবুকে দুটি ভিডিও আপলোড করার কয়েক ঘণ্টা পরেই তৃণমূলের গুন্ডারা বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে মারে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে টিএমসি কর্মীরা তাঁর বাড়ি এবং এনজিও অফিসে নির্বিচারে ভাঙচুর চালাচ্ছে। সরকার সারমেয়প্রেমী ছিলেন। দত্তক নিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি পথকুকুর। যাদের মধ্যে একটি আবার পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। টিএমসি সদস্যরা তাঁর কুকুরগুলিকেও রেয়াত করেনি,  নির্মমভাবে পিটিয়েছিল শাবকগুলিকেও। ভারতীয় মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের এক পদাধিকারী সরকার দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দে সাড়া দিয়েছিলেন। এরপর তাঁকে বাইরে টেনে বের করে আনা হয়, নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং একটি কেবল টিভির তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয় মৃতদেহ। সরকারের একমাত্র দোষ ছিল যে তিনি বিজেপির সমর্থক ছিলেন (West Bengal 2021 Election)।

    বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা

    ভাঙচুর করা হয়েছে বিজেপি কর্মী বিশ্বনাথ ধরের বাড়ি। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের ২ মে বেশ কয়েকজন টিএমসি গুন্ডা সক্রিয় বিজেপি কর্মী বিশ্বনাথ ধরের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি পুরসভার ঘোলা মল্লিকপাড়ায় ঘটে। টিএমসি গুন্ডারা ধরের বাড়িতে জোর করে ঢুকে তাঁর জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি নষ্ট করে দেয়। পরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে লুটপাট শুরু করে। তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না চুরি করে। বেরোনোর ​​পথে তারা তাঁর মারুতি গাড়ি এবং একটি রয়্যাল এনফিল্ড (বুলেট) বাইকও ভাঙচুর করে। নিজের বাড়িতেই এক বিজেপি কর্মীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় (West Bengal 2021 Election)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এমনই এক ঘটনায়, শাসক দল টিএমসির কর্মীদের দ্বারা এক বিজেপি কর্মীকে তাঁর নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের ত্রিমোহিনীর কিশমতদাপাত গ্রামে। এলাকাটি বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে (Post Poll Violence)। টিএমসির গুন্ডারা ভুক্তভোগীর বাড়িতে ওত পেতে বসে থেকে সুযোগ বুঝে তাঁকে আক্রমণ করে। বিজেপি কর্মীটির মাথায় আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দুষ্কৃতকারীরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুরও করে। অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন মাতাল ভুক্তভোগী ও তাঁর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। বিজেপি কর্মীটিকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করে সে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারতে শুরু করে। “বিজেপি দেখাচ্ছিস? তোদের কত ক্ষমতা? তোরা কি ভাবিস যে ক্ষমতায় এসেছিস?” এই সব ভাষায় হুমকি দেয় দুষ্কৃতীটি। বিজেপি প্রার্থী (West Bengal 2021 Election) বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাস, টিএমসি গুন্ডাদের হাতে নিজের বাড়িতেই ঘেরাও হয়েছিলেন।

    টিএমসি গুন্ডাদের ‘কীর্তি’

    নির্বাচনের পর, পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবর্ধন দাসের গ্রামে টিএমসি গুন্ডারা বিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের বেশ কয়েকজনকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। দাস একজন বিজ্ঞানী। তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকুলার মেডিসিনের অধ্যাপক। ২০২১ সালের ৪ মে, টিএমসি গুন্ডাদের হাতে নিজ বাড়িতে আটকা পড়ার পর দাস এক জীবন-মরণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। দুষ্কৃতীরা তাঁর বাসভবনেও অতর্কিতে হামলা চালায়, যার ফলে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিজের বাড়িতে আটকে পড়েন। টিএমসি গুন্ডারা তাঁর বাড়িতে দেশি (Post Poll Violence) বোমা নিক্ষেপ করে। টিএমসি কর্মীরা বিএসএফ কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। টিএমসির মদতপুষ্ট গুন্ডারা শুধু বিজেপি কর্মীদেরই টার্গেট করেনি, নিরাপত্তা কর্মীদেরও ছাড়েনি, যাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নন। জলপাইগুড়ির রানিপরহাটে টিএমসির গুন্ডারা বিএসএফ জওয়ান কমল সেনের বাড়িতে হামলা চালায়। লুটপাট করার পাশাপাশি ভাঙচুরও করা হয়। ছুটিতে থাকা জওয়ান ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁর বাড়ি, ট্রাক্টর ও বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কোচবিহারে বিএসএফ জওয়ান সুশান্ত বর্মনের ওপরও একই ধরনের হিংসা চালানো হয়। বর্মনের ভাই বিজেপির সমর্থক হওয়ায় টিএমসি কর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর বাড়ি লুট করে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal 2021 Election) টিএমসি বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর, টিএমসির গুন্ডারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে হিসেব মেটাতে নেমে পড়ে। তারা কলকাতায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর কার্যালয়ে হামলা চালায়। টিএমসির ২০ জনেরও বেশি গুন্ডা এবিভিপি কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে এবং এবিভিপির জাতীয় যুগ্ম সচিব-সহ এবিভিপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

    নির্বাচন-উত্তর হিংসার

    নির্বাচন-উত্তর হিংসার আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের জুলাই মাসে বিজেপির বুথ কর্মী সুনীল বক্সির বাড়িতে হামলা চালায় মুসলিম জনতা। তাঁর বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে, তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেয়। অভিযোগ, প্রায় ১৫টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর তারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় (Post Poll Violence)। বক্সি যখন পুলিশের কাছে যান, তখন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় যে অভিযোগ দায়ের করলে তার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের দিয়ে এটাও লেখানোর চেষ্টা করেছিল যে বজ্রপাতের কারণে বাড়িগুলি পুড়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের ৩ মে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত গুন্ডারা বক্সিকে আক্রমণ করে। তিনি জানান, তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাই তাঁকে বাঁচান। তিনি যখন অভিযোগ করতে পুলিশের কাছে যান, তখন তারা তাঁর অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে, পরিবর্তে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সুনীল বক্সি জাতীয় তফশিলি উপজাতি কমিশনেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন (West Bengal 2021 Election)।

    বোমা হামলায় নিহত বিজেপি কর্মী

    বোমা হামলায় বিজেপি কর্মী জয় প্রকাশ যাদব নিহত হন। টিএমসির মদতে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ২০২১ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ায় বোমা হামলায় জয় প্রকাশ যাদব নামে ২৮ বছর বয়সী এক বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়। মাথায় অপরিশোধিত বোমা লাগার আগে দুই ব্যক্তির সঙ্গে জয় প্রকাশ যাদবের তীব্র বাদানুবাদ হয়। তাঁকে হত্যার আগে, ওই দুই ব্যক্তির একজনকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশকে ভুলে যান… আপনারা খুব বেশি বিজেপি, বিজেপি করছেন… ছেড়ে দিন (West Bengal 2021 Election)।” এই ঘটনাটি যাদবের ১৭ বছর বয়সী ভাইঝি স্বপ্না ক্যামেরায় রেকর্ড করে। নিহতের উপর এই মারাত্মক হামলায় তাঁর মা, রাজমতি দেবীও শ্রবণশক্তি হারান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করার আর একটি ঘটনায়, বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য দুই নেতাকে ‘শাস্তি’ হিসেবে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপর, ওই (Post Poll Violence) দুই বিজেপি নেতাই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁদের স্বামীদের খোঁজ জানতে চেয়ে তাঁদের স্ত্রীরা কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদনও করেন।

    নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক

    মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি সিবিআই এবং এনআইএর হাতে তুলে দেয়। আবেদনকারীরা হাইকোর্টকে জানান যে তাঁদের স্বামীরা নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁরা দুটি অভিযোগ দায়ের করেন, প্রথমে মোঠাবাড়ি থানায় এবং পরে কালিয়াচক থানায়। তাঁরা জানান যে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যা থানা গ্রহণ করে, কিন্তু একজন ‘নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক’ সেটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং আবেদনকারীদের জানান যে তাঁদের স্বামীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন (West Bengal 2021 Election)। ২০২১ সালের ৩০শে মে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার আদাবাড়ির সিতাই গ্রামে এক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ রহস্যজনকভাবে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর বাড়ির কাছের একটি বাগানে স্থানীয়রা তাঁর মৃতদেহটি দেখতে পান। বিজেপি তাদের দলীয় কর্মীকে হত্যার জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে অভিযুক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় অনিল বর্মন তৃণমূলের হিটলিস্টে ছিলেন। তারা আরও দাবি করেছে যে এর আগে তৃণমূলের গুন্ডারা মৃতের বাড়িতে ভাঙচুর করেছিল।

    বোষ্টম পুকুরের কাছে উদ্ধার দেহ

    ২৬ বছর বয়সী বিজেপি সমর্থক কুশ ক্ষেত্রপাল নিখোঁজ হন ২০২১ সালের ৫ মে। দুই দিন পর, বোষ্টম পুকুরের কাছে একটি গণেশ মূর্তির পেছনে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এফআইআর অনুসারে, তাঁর শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর ভাই, শ্রীকান্ত ক্ষেত্রপাল, জানান, টিএমসির গুন্ডারা তাঁকে হত্যা করেছে। খুন করার আগে তারা তাকে তাদের রায়বাঘিনী পার্টির অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। শ্রীকান্ত জানান যে কুশ একটি হোটেলে কাজ করত এবং কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে টিএমসি সদস্য কানন ক্ষেত্রপাল, সুকুমার ক্ষেত্রপাল এবং দিলীপ ক্ষেত্রপাল প্রায়শই তাঁর কাছে আসতেন। তাঁরা কুশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এই বলে যে, তিনি যদি টিএমসিতে যোগ না দেন, তাহলে পরিণতি হবে মারাত্মক (Post Poll Violence)। টিএমসি গুন্ডারা বিজেপি কর্মী রাজীব পোল্ল্যের বাড়িতেও হামলা চালায় (West Bengal 2021 Election)। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই, হাওড়ায় বিজেপি কর্মী রাজীব পোল্ল্যের বাড়িতে কিছু টিএমসি গুন্ডা বোমা নিক্ষেপ করে। তারা নির্যাতিতার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও গয়না লুট করে। তারা বাড়ির মহিলা সদস্যদের শ্লীলতাহানিও করে।

    টিএমসি গুন্ডাদের হাতে খুন হন

    ২০২১ সালের ২ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় টিএমসি গুন্ডাদের হাতে খুন হন বিজেপি কর্মী চন্দনা হালদার। তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর স্বামী গৌতম হালদার জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিজেপি কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন, টিএমসি গুন্ডারা প্রথমে তাঁর চাচাতো ভাই স্বরূপ হালদারকে আক্রমণ করে। যখন তিনি ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, তখন তাঁদেরও নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং এর ফলে তাঁর স্ত্রী মারা যান। টিএমসি-সমর্থিত আর একটি ঘটনায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাধুরঘাট গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি রাজা সমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।

    ধর্ষণ

    এরকমই আর একটি ঘটনায়, ৬০ বছর বয়সী এক মহিলাকে তাঁর ছয় বছর বয়সী নাতির সামনে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী মহিলা জানান, ভোটের ফল ঘোষণার পর টিএমসি কর্মীরা জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। ২০২১ সালের ৪ ও ৫ মে-র মধ্যবর্তী রাতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র দুই দিন পর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, টিএমসি কর্মীরা তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করে নিয়ে যায় (West Bengal 2021 Election)। ২০২১ সালের ১৪ মে, বিজেপির হয়ে প্রচার চালানো পূর্ণিমা মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী ধর্ম মণ্ডলকে চিহ্নিত করে কুড়াল দিয়ে আক্রমণ করা হয়। পূর্ণিমাকে তাঁর স্বামী ও দেবরের ওপর এই আক্রমণ প্রত্যক্ষ করতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে বিবস্ত্র করে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, এই জনতাকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কালু শেখ। তার স্বামী ২০২১ সালের ১৬ই মে আঘাতজনিত কারণে মারা যান (Post Poll Violence)।

    টিএমসি কর্মীদের গণধর্ষণ

    ২০২১ সালের ৯ই মে, তফশিলি জাতিভুক্ত ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে টিএমসি কর্মীরা গণধর্ষণ করে। অসুস্থ বোধ করায় তাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। পরের দিন, টিএমসি নেতা বাহাদুর এসকে তার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ দায়ের না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। তিনি বলেন, অভিযোগ করলে তিনি তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেবেন এবং তাঁদের হত্যা করবেন (West Bengal 2021 Election)। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর, পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম তহশিলের শ্রীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে টিএমসি গুন্ডারা ২২ বছর বয়সী আরএসএস কর্মী বলরাম মাঝিকে নির্মমভাবে মারধর করে। মাঝি সেদিনই আঘাতজনিত কারণে মারা যান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসি বিপুল বিজয় লাভ করায়, টিএমসি কর্মীদের হিংসার ভয়ে বহু বিজেপি কর্মী ও তাঁদের পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য অসমে চলে যান। ৩০০-৪০০ জন উত্তরবঙ্গ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের ধুবড়ি জেলায় প্রবেশ করেন। বিজেপি সমর্থক ও তাদের পরিবারকে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা এই শিবিরগুলিতে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

    কর্মীদের অস্থায়ী সহায়তা

    অসম সরকার ধুবড়িতে থাকা দলীয় কর্মীদের অস্থায়ী সহায়তা দেয়। করোনাভাইরাস অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক গণপলায়ন ঘটায় সরকার কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য একটি কেন্দ্রও স্থাপন করে। আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভাটপাড়ার কাঁকিনাড়া এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমা ছোড়া হয়। বিজেপি কর্মী রাজ বিশ্বাস জানান, তিনজন তাঁর বাড়িতে বোমা ছুড়েছে। আর একটি পৃথক ঘটনায়, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কু নস্করের বাড়িতে হামলা চালায়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুর করতে ঢোকে।

    আর একটি ঘটনায়, পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর বিজেপি কর্মী গণেশ ঘোষ রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হন। তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা তাঁর রিসর্টে তাণ্ডব চালানোর পর তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। দুষ্কৃতীরা শান্তিনিকেতনের খোয়াই হাটের শকুন্তলা গ্রামে ঘোষের রিসর্টে হামলা চালায়। রিসর্টটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত (West Bengal 2021 Election)।

     

  • West Bengal Assembly Election: ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বন্ধ করবে বিজেপি”, হলদিয়ার জনসভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    West Bengal Assembly Election: ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বন্ধ করবে বিজেপি”, হলদিয়ার জনসভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাঁচ বছর আগে পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল নন্দীগ্রাম। এ বার তার পুনরাবৃত্তি হবে ভবানীপুরেও। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হবে।” বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় আয়োজিত জনসভায় এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন তিনি প্রচার শুরু (West Bengal Assembly Election) করেন হলদিয়া থেকেই। আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় সভায় পৌঁছতে খানিক দেরি হয় প্রধানমন্ত্রীর। শুভেন্দু অধিকারী-সহ ১৪ পদ্ম প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করেন তিনি।

    তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ঝড় (West Bengal Assembly Election)

    এদিনের মঞ্চে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি পরিবর্তনের ঝড়, তৃণমূল সরকারের বিদায়ের ঝড়। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল। এ বার তার পুনরাবৃত্তি হবে ভবানীপুরে। গোটা পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হবে।” সভায় ‘বিকশিত বাংলা’র আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পশ্চিমবাংলার নির্বাচন সামান্য নয়, বাংলার বৈভব স্থাপনের নির্বাচন। নির্মম সরকারের বিদায় হলেই বিকশিত বাংলা হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উন্নয়ন হচ্ছে ভারতে। অনেক রাজ্য উন্নতির পথে চলছে, কিন্তু তৃণমূলের নির্মম সরকার বাংলাকে ক্রমশ নীচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর তাই হলদিয়ার কারখানায় তালা ঝুলছে।’’

    রোজগার মেলা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি-শাসিত রাজ্যে রোজগার মেলা হয়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পরে এ রাজ্যেও শুরু হবে রোজগার মেলা।” তিনি বলেন, “যার যা অধিকার, সেটাই দেবে বিজেপি। এটাই মোদির গ্যারান্টি।” বিজেপি সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা কেন প্রয়োজন, এদিন সেই কৈফিয়তও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী এক সঙ্গে কাজ করলেই বাংলার লাভ। তাই রাজ্যে চাই ডাবল ইঞ্জিন সরকার।” রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূলের সরকার শুধু অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বাড়িয়েছে। তৃণমূলের নির্মম সরকার শুধু নকল নথি বানিয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি শুধু ভয়ের ওপর নির্ভরশীল। মা-বোনেদের জীবন এবং মানসম্মানের ওপর আর কিছুই হতে পারে না। আর এই গ্যারান্টিই দেয় বিজেপি।”

    ‘পিএম’ শব্দে আপত্তি তৃণমূলের!

    মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর নয় বাংলা। সে প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় মাছের এত চাহিদা, কিন্তু এই রাজ্য মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর (West Bengal Assembly Election) নয়। চাহিদা মেটাতে অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হয়। গত ১৫ বছরে মৎস্য উৎপাদনে তৃণমূল সরকার কোনও উদ্যোগই নেয়নি।” তৃণমূলের ‘চিটিংবাজি’ও বন্ধ করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘তৃণমূলের চিট ও চিটিংবাজি বিজেপি বন্ধ করবে। সরকারি চাকরি নির্দিষ্ট সময়ে হবে। সব চাকরি হবে দুর্নীতিমুক্ত। চাকরির জন্য কোনও কাটমানি নয় (PM Modi)। এটা হবে বিজেপির আমলে।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইংরেজিতে ‘প্রাইম মিনিস্টার’ শব্দের দুই আদ্যক্ষর ‘পিএম’ শব্দে আপত্তি রয়েছে তৃণমূলের। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আগে ‘পিএম’ লেখা থাকলে তৃণমূল সরকার তা রাজ্যে চালু করে না। পিএম শব্দটিও পছন্দ করে না তৃণমূল। তাই পিএম নাম বাদ দিয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত, পিএম জনআরোগ্য যোজনার মতো প্রকল্প এখানে চালু হতে দেয়নি।”

    ‘ছয় গ্যারান্টি’

    হলদিয়ার জনসভায় ‘ছয় গ্যারান্টির’ কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১) ভয়ের জায়গায় ভরসা দেওয়া হবে (West Bengal Assembly Election)। ২) সরকার মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে। ৩) দুর্নীতি এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের সব ফাইল খোলা হবে। ৪) রাজ্যের যে-ই দুর্নীতি করুন, তাঁর জায়গা হবে জেলে। মন্ত্রিসান্ত্রী হলেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে। তৃণমূলের কোনও গুন্ডাকে ছাড়া হবে না। পয়সা খেতে দেওয়া হবে না। ৫) যাঁরা শরণার্থী, তাঁদের সব অধিকার মিলবে। দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে অনুপ্রবেশকারীদের। ৬) বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে চালু হবে সপ্তম পে কমিশন।”

    এদিন এ রাজ্যে আরও দুটি সভা করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। একটি সভা হবে আসানসোলে, অন্যটি সিউড়িতে (PM Modi)। এদিকে, শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা এবং  খড়গপুর সদরে সভা করার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। শনিবার ফের একবার পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি জনসভা করবেন (West Bengal Assembly Election) কৃষ্ণনগর, জিয়াগঞ্জ ও কুশমণ্ডিতে।

  • EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন (EC)। তার আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কড়া সতর্কবার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সাফ (Violence Less Vote) জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণভাবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। কমিশন এও জানিয়েছে, কোনও ধরনের নির্বাচনী অনিয়ম—যেমন বুথ দখল, বুথ জ্যামিং, এবং ‘সোর্স জ্যামিং’ (অর্থাৎ ভোটারদের সংগঠিত হওয়া বা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোয় বাধা)—সহ্য করা হবে না। নির্বাচন হতে হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত এবং কোনও প্রলোভন বা জোরজবরদস্তি ছাড়াই।

    ভয়মুক্ত ভোটের বার্তা কমিশনের (EC)

    এক্স হ্যান্ডেলে নির্বাচন কমিশন লিখেছে, “এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন অবশ্যই হবে—ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত এবং কোনও রেড, বুথ জ্যামিং বা সোর্স জ্যামিং ছাড়াই।” কমিশনের এহেন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দলের নেতারা। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এই সতর্কবার্তাকে একপ্রকার আল্টিমেটাম বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তৃণমূলের আর এক সাংসদ সাকেত গোখলে মুণ্ডপাত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানতে চান, একই ভাষা কি বিজেপির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে?

    পশ্চিমবঙ্গে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো। বাম জমানা তো বটেই, তৃণমূলের আমলেও নানা স্তরের নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের উৎসব শেষ হয়েছে শোকের আবহে। তাই কমিশনের এই সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল) ১,৩০০-এরও বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ২৫ জনের। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন। এনিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছিল অভিযোগ (Violence Less Vote)। বস্তুত, গত দু’দশক ধরে নির্বাচনী সংঘর্ষ ও ভীতি প্রদর্শন এ রাজ্যে একটি বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (EC)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    অগ্নিপরীক্ষা

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে দু’দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা কড়া হওয়ায়, আসন্ন  নির্বাচন শাসক দল ও নির্বাচন কমিশন—উভয়ের পক্ষেই হয়ে উঠেছে আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিপরীক্ষা। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল কমিশনের। সেই বৈঠকও বেশ উত্তপ্ত হয়েছিল বলে খবর। যার জেরে দু’পক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে (Violence Less Vote)।তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে ৪৮৩ জন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে  বদলি করা হয়েছে। এটি প্রভাবিত করতে পারে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে। কমিশন অবশ্য এই বদলিকে সমর্থন করে জানিয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং হিংসা বা পক্ষপাত এড়ানোর জন্য এটি প্রয়োজনীয়। আরও একটি বড় বিতর্কের বিষয় হল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (EC)। তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অসমভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে বিজেপিকে। তৃণমূলের দাবি, পর্যালোচনার জন্য থাকা ৬০ লাখ নামের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখেরই নাম বাদ গিয়েছে। তাই রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

     

  • West Bengal Assembly Election: বন্দর কেন্দ্রে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি রাকেশ সিং

    West Bengal Assembly Election: বন্দর কেন্দ্রে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি রাকেশ সিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা বন্দর কেন্দ্রে তৃণমূলের বাজি সেই ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বিরুদ্ধে জবরদস্ত প্রার্থী দিল বিজেপি। সদ্য জামিনে মুক্ত রাকেশ সিংকে (Rakesh Singh) ওই কেন্দ্রের টিকিট দিয়েছে পদ্মশিবির (West Bengal Assembly Election)। রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে কেবল এই কেন্দ্রেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা বাকি ছিল বিজেপির। রাকেশের নাম ঘোষণা করে প্রার্থিতালিকা সম্পূর্ণ করল পদ্মশিবির।

    রাকেশ সিংকে গ্রেফতার (West Bengal Assembly Election)

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতার ট্যাংরা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে বিজেপি নেতা রাকেশকে। কংগ্রেসের অফিস বিধান ভবনে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। বিহারে রাহুল গান্ধীর মিছিলে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ প্রতিবাদে কংগ্রেসের অফিসে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার পর পরেই গা-ঢাকা দেন দক্ষিণ কলকাতার এই বিজেপি নেতা। পরে পুলিশ গ্রেফতার করে রাকেশ-সহ চারজনকে। রাকেশের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় রুজু হয়েছিল মামলা।

    জামিনে মুক্তি পেতেই মিলল টিকিট

    সোমবার রাকেশের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই দিনই গাড়িতে বসা অবস্থায় একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন এই বিজেপি নেতা। ক্যাপশনে লেখেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে’। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘‘১৬৩ দিনের সংগ্রামের পর আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৬টি মিথ্যা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে (West Bengal Assembly Election)।’’ প্রসঙ্গত, বুধবারই ষষ্ঠ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। তাতেই ছিল রাকেশের নাম। রাকেশকে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়া হল। জানা গিয়েছে, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কোমর বেঁধে পুরো দমে প্রচারে নেমে পড়েছেন রাকেশ। এদিন সকাল থেকেই কলকাতা বন্দরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শুরু করে দেন জনসংযোগও (Rakesh Singh)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ফিরহাদ হাকিমের মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিকের বিরুদ্ধে রাকেশের মতো পরিচিত ও লড়াকু নেতাকে দাঁড় করিয়ে বিজেপি এক মস্ত চাল দিল। বন্দর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের গড় হিসেবে পরিচিত। সেখানেই রাকেশকে প্রার্থী করে পদ্ম শিবির বুঝিয়ে দিল ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ (West Bengal Assembly Election)!

     

  • West Bengal Assembly Election: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়ল হাইকোর্ট

    West Bengal Assembly Election: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন প্রাক্তন বিচারপতির কমিটি গড়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এই কমিটি গঠনের কথা সোমবারই জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো গড়া হল কমিটি। সোমবারই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল (West Bengal Assembly Election), ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালেরই প্রয়োজন একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্যই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্ট (Calcutta High Court) জানিয়েছে, কমিটিতে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার দেব। ট্রাইবুনালের ১৯ জন বিচারপতি কোন পদ্ধতি মেনে কাজ করবেন, সেটাই নির্ধারণ করবে এই কমিটি।

    এসআইআরের তালিকা প্রকাশ (West Bengal Assembly Election)

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানে ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীনের তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সব ভোটারের তথ্য যাচাই নিষ্পত্তির কাজ করেছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সোমবার রাতেই সেই কাজ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের (West Bengal Assembly Election)।

    ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ

    এই বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ১৯ জন বিচারপতি আপিল ট্রাইবুনালে ‘বিচার’ করবেন। কোন পদ্ধতিতে বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করবেন ওই  বিচারপতিরা, তা ঠিক করার জন্যই গড়া হল কমিটি। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ট্রাইবুনাল চালু হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দিনে তা চালু না হলেও, পরে হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের আবেদনেরও নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইবুনাল। উল্লেখ্য যে, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতেই (Calcutta High Court) তাঁদের সমস্যার নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইবুনাল। যদিও সাধারণ মানুষের কোনও সুরাহা হয়নি। তাই বাদ পড়া ভোটাররা এবারের নির্বাচনে আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়ে গিয়েছে সংশয় (West Bengal Assembly Election)।

    প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে নির্বাচন হবে দুদফায়। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। পরের দফায় ভোট গ্রহণ হবে ওই মাসেরই ২৯ তারিখে। তার মধ্যে যাতে সমস্যার নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তারই চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন।

     

  • Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুধু তা-ই নয়, ওইদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জল গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানেই তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হন নারিয়ালা। প্রসঙ্গত, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন নারিয়ালা।

    রিপোর্ট পেশ এনআইএর (Supreme Court)

    গত বুধবার কালিয়াচকের ঘটনায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। এনআইএর টিম যে তদন্ত করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মুখবন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলেও খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ মেলে, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ আদালতে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতে।

    এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের যাবতীয় কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতেও বলা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন কমিশন (Chief Secretary)। এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে দেওয়া হয়েছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ মুখ্যসচিব জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি (Supreme Court)। এরপর প্রধান বিচারপতি ফের বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”

    হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” এই সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “নিষ্ক্রিয়তারও একটা লিমিট থাকা উচিত।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গায়ও তাঁদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিফলন। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কী ধরনের ক্রেডিবিলিটি (Chief Secretary)?”

    ‘নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন’

    আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না। এই ধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি (Supreme Court)।” প্রধান বিচারপতি মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ নগণ্য মানুষরা অন্তত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”

    এদিন শুনানি হয়েছে ভার্চুয়ালি। সেই সময় আধিকারিকদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্য আধিকারিকরা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আদালতের তরফে এনআইএকে (Chief Secretary) পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল (Supreme Court) ।

     

  • West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেলিকপ্টারে করে তৃণমূলের প্রচারে যাচ্ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সময় তাঁর সেই কপ্টার ওড়ার সময় একটি উড়ন্ত ড্রোন দেখা যায় (West Bengal Assembly Elections)। এর পরেই ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা বিহারের বাসিন্দা বলে খবর। রবিবার হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় উপস্থিত ছিলেন ওই তিনজন। ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজই করছিলেন।

    কপ্টারের আগে আগে ড্রোন (West Bengal Assembly Elections)

    শনিবার মালদায় দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সময় সামসিতে মমতার হেলিকপ্টারের আগে আগে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মমতা। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্টে ধ্বংস হয়ে যেত। কারা করছে এসব? পুলিশের নজর রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের আইডেন্টিফাই করা দরকার।” এটি ছাড়াও আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে দেখা যায়, কপ্টারে ওঠার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মমতা। আকাশে উড়ন্ত ড্রোনটিকে নিরীক্ষণ করছেন তিনি। সেই সময়ই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই ভিড়ের মধ্যে থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার।

    ‘আমরা ড্রোন উড়িয়েছি’

    ধৃতেরা হল অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং নুর আখতার। হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় যোগ দিয়েছিল তারা। ধৃতদের একজন বলে, “হ্যাঁ আমরা ড্রোন উড়িয়েছি।” পাশের জনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে সে বলে, “এ ওড়াচ্ছিল। জানত না। আমরা কাজ করছি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য। বারণ করেছিলাম (Mamata Banerjee)। আইডিয়া ছিল না। তাও বেস্ট ফুটেজের জন্য ড্রোন উড়িয়ে ফেলে।” ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন। তবে দলের তরফে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি (West Bengal Assembly Elections)। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। গত ২৬ মার্চ দুর্যোগে আটকে পড়েছিল মমতার বিমান। প্রচার সেরে কলকাতায় নামার সময় আটকে পড়ে বিমানটি। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দুর্যোগ এত তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে অবতরণ করতে না পেরে আকাশে চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে সেই অবস্থায় আকাশে চক্কর কেটে শেষ পর্যন্ত মাটি ছোঁয় মমতার (Mamata Banerjee) বিমান।

    কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি

    সেবার দুবরাজপুরে প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে ছোট আকারের বিমানটিতে সওয়ার হন মমতা। কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি দেখা দেয়। পরে দুই পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা। জানান, পাইলটরাই বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সেই ঘটনার পরই কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে মমতার নিরাপত্তা নিয়েই (West Bengal Assembly Elections)।এদিকে, ধৃত তিনজন জানান, হরিশচন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের হয়ে প্রচার করেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই ড্রোন উড়িয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ‘গরিবের বন্ধু’ বলে ফেসবুকে পরিচিত মতিবুর একজন ইনফ্লুয়েন্সারও। প্রচুর (Mamata Banerjee) ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মিউজিক ভিডিও পাবলিশ হয় প্রতিদিনই। সেই মতিবুরের জন্য ভিডিও তৈরিতে ভালো শটের আশায় ড্রোন উড়িয়েছিল বলে স্বীকার করে ধৃতেরা।

    ‘আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না’

    যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলতেই ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের সভায় মমতা বলেন, “আমি যখন মিটিং করে আসছিলাম মালদা থেকে। আমার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ধাক্কা খেলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কাড়ার জন্য? কেড়ে নিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে থাকব, আপনাদের বিরুদ্ধে গলা ফাটাব। আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।” প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে এ রাজ্যে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার (Mamata Banerjee) চেষ্টা করেন। তবে এই ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছেন। এভাবে কমিশনের বিরুদ্ধ গালিগালাজ করা বাংলার সংস্কৃতি নয় (West Bengal Assembly Elections)।”

     

  • West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আগেই। তার পর বৃহস্পতিবার দুুপুরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন রাসবিহারী ও  বালিগঞ্জ কেন্দ্রের কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও। মনোনয়নপত্র (West Bengal Assembly Election) জমা দিয়েই শাহকে প্রণাম করে এই কেন্দ্রে জয়ের জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নেন শুভেন্দু৷

    হাজরা মোড় থেকে শুরু রোড-শো

    এদিন শুভেন্দুর মনোনয়নপত্র পেশ উপলক্ষে রোড-শো শুরু হয় হাজরা মোড় থেকে। রোড-শোয়ের গাড়িতে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ-ও। তার আগে, হাজরা মোড়ে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দেন শাহ। ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাতজোড় করে আপনাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।” বক্তৃতার পর হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিজেপির এই মেগা রোড শো৷

    বিজয় সংকল্প সভা

    শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বিজয় সংকল্প সভা৷ বিরাট ট্যাবলো গাড়ি করে তাতে সওয়ার হন শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর পাশে আগাগোড়া ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাঁরা গোলাপ ফুল ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে যান আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে৷ ট্যাবলোয় ছিলেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত এবং বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রর বিজেপি প্রার্থী শতরূপাও৷ শুভেন্দু অধিকারীর এই মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড়ে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ গেরুয়া ঝান্ডায় ছেয়ে যায় এলাকা৷ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান সহযোগে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রোড শো এগিয়ে যায়৷

    কালীঘাটে রোড-শো পৌঁছোতেই উত্তেজনা 

    শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আলিপুর ও ভবানীপুর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল র‍্যাফ ও প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী (West Bengal Assembly Election)। তা সত্ত্বেও, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপির মিছিল যাওয়ার সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। বিজেপির রোড শোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল পুলিশ৷

    প্রচারগাড়ি থেকে নেমে পড়েন অমিত শাহ

    বিজেপির দাবি, অমিত শাহ-শুভেন্দুর রোড-শো যে পথ দিয়ে এগোনোর কথা, কালীঘাটে সেই পথের ধারে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে জমায়েতও করেন তাঁরা। মুহুর্মুহু দেওয়া হয় স্লোগান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের  সঙ্গে বচসা, তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। হাতাহাতিও হয়। তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রোড শোয়ের প্রচারগাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে চেপে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন শাহ এবং শুভেন্দু। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এর পর সার্ভে  বিল্ডিংয়ের কাছে মাইক বাজানো নিয়েও শুরু হয় বিবাদ। জানা গিয়েছে, এদিন সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে জড়ো হওয়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আচমকাই হামলা চালায় বিজেপির মিছিলে। জখম হন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর চোখে আঘাত লেগেছে।  সেখানেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে এই কেন্দ্রে লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই (West Bengal Assembly Election) লড়ছেন শুভেন্দু। তিনি কি আরও একবার ‘জায়ান্ট কিলারে’র তকমা পাবেন? উঠছে প্রশ্ন।

LinkedIn
Share