Tag: wb

wb

  • SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) নাম না থাকায় বুধবার কার্যত তাণ্ডব চলল মালদার (Malda) কালিয়াচকে। সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। পরে, পুলিশ গিয়ে বিচারকদের উদ্ধার করে।

    সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ (SIR)

    বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলছিল। এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি, বিডিও অফিসের গেট আটকেও দিয়ে চলে বিক্ষোভ। জেলার একাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় বুধবার দুপুর থেকেই। এর মধ্যেই খবর আসে, সাত বিচারক দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েছেন বিডিও অফিসেই। ওই বিচারকরা ট্রাইবুনালের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় উন্মত্ত জনতা ইট-পাটকেল ছোড়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে। পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গাড়ির সিটে পড়ে রয়েছে কাচের টুকরো। জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে ছিলেন বিচারকরা।

    পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় বাঁশ ফেলে চেষ্টা করা হয় পুলিশের কনভয় আটকানোর। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছে শুধু তাই নয়, বিচারকদের যখন উদ্ধার করে আনা হচ্ছিল সেই সময় রাস্তায় বাঁশ ফেলে কনভয় আটকানোর চেষ্টা করা হয়। মহিলা বিচারকদের শারীরিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের উস্কানি (SIR)।”

     রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন

    প্রসঙ্গত, প্রায় একদিন ছাড়া সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বের করছে নির্বাচন কমিশন। এখনও অবধি প্রায় ২২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তারই প্রতিবাদে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, মূলত তাঁরাই প্রথম পথে নামেন। কালিয়াচকের ওই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন (SIR)। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের কাছে গন্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে জেলাশাসকের অফিসে সরানোর জন্য আগেই জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, জানানোর পরেও জেলা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

  • Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    Form 6: ‘অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না’, এসআইআর মামলায় রাজ্যের দাবিকে গুরুত্ব দিল না সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবারের শুনানিতে ওঠে ফর্ম-৬ (Form 6) প্রসঙ্গ। রাজ্যের হয়ে শীর্ষ আদালতে (Supreme Court) সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি বলেন,  “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বের হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?” কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না।” কল্যাণ বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিয়েছেন এক ব্যক্তি। এটা কী ভাবে হতে পারে?”

    কমিশনের বক্তব্য (Form 6)

    কল্যাণের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতিবারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম-৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন, এমন নয়।” নির্বাচন কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়, আইন মোতাবেক মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যায়। যে কেউ তা দিতে পারেন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম-৬ জমা দেওয়া একটি চলে আসা পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়।” এর পরেই ফর্ম-৬ নিয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কমিশনের তরফে জানানো হয়, কারও আপত্তি থাকলে তিনি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন (Supreme Court)।

    কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য

    কমিশনের আইনজীবী বলেন, “অনুচ্ছেদ ২০ দেখুন। সেখানে ফর্ম-৬ নিয়ে স্পষ্ট বলা রয়েছে। কারও কোনও আপত্তি থাকলে ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও, কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না’ (Form 6)। ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রসঙ্গে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। মনে রাখতে হবে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে (Supreme Court)।” ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নাম অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আজ কেউ যদি ১৮ বছরে পা দেন, তাঁরও ভোটার তালিকায় নাম তোলার অধিকার রয়েছে। কারও আইনগত অধিকার থাকলে, তাকে কেউ বাধা দিতে পারে না।”

    কী বললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি 

    এদিকে, এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠিতে আমরা সন্তুষ্ট। প্রায় ৪৭ লাখ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।” তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে (Form 6)। ৬ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৪টেয় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” এই সময় কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক (Supreme Court)। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” তার পরেই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে চলতি মাসের ৬ তারিখে (Form 6)।

     

  • West Bengal Assembly Election: এপ্রিলের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’, কী কী থাকতে পারে?

    West Bengal Assembly Election: এপ্রিলের শুরুতেই আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্র’, কী কী থাকতে পারে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য তৈরি নির্বাচনী (West Bengal Assembly Election) সঙ্কল্পপত্র এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করতে চলেছে বিজেপি (BJP)। নবান্নের ১৪ তলায় বিজেপি এলে কী কী করতে চায়, তা বিশদে ঘোষণা করা হবে ইস্তাহারে, যার পোশাকি নাম সঙ্কল্পপত্র। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, ওই সঙ্কল্পপত্রে সাতটি মূল বিষয়কে তুলে ধরা হচ্ছে অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে। সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনকালে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে বিজেপি। এবার করা হবে সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ। এই সঙ্কল্পপত্রে কী কী থাকতে পারে, তার একটা আভাস মিলেছে।

    দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ (West Bengal Assembly Election)

    • ক) গত ১৫ বছরে তৃণমূলের অপশাসন ও দুর্নীতির বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। শেষ করা হবে মাফিয়া-শাসন। কয়লা, বালি, পাথরের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের অবাধ লুটও বন্ধ করা হবে।
    • খ) পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যকে দুষ্কর করে তুলেছে যে সব মাফিয়া সিন্ডিকেট, তাদের প্রতি নেওয়া হবে জিরো টলারেন্স নীতি।
    • গ) তৃণমূল সরকারের ভ্রান্ত সংরক্ষণ নীতি বদলানো হবে। অবৈধভাবে যেসব সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে, তাদের সংরক্ষণের আওতায় আনা হবে।
    • ঘ) ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে দেওয়া হবে ৩,০০০ টাকা করে।
    • ঙ) ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বেকার যুবক-যুবতীদের।
    • চ) ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হবে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ।
    • ছ) রাজ্য সরকারের সব শূন্য পদ পূরণ করা হবে স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে (West Bengal Assembly Election)।
    • জ) বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ওপরে বেকারদের নির্ভরতা কমাতে এমন কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে এবং নীতি প্রণয়ন করা হবে, যা নতুন সংস্থা এবং সুযোগ তৈরি করবে।
    • ঝ) প্রত্যেক বছর রাজ্যের নানা প্রান্তে মোট চারটি করে ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ করতে শিবির করা হবে।
    • ঞ) সেনাবাহিনীতে বেঙ্গল রেজিমেন্ট তৈরির বিষয়ে সক্রিয় হবে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার।
    • ট) ‘রামসর কনভেনশন’ মেনে রাজ্যের জলাভূমি এবং বনভূমি রক্ষা করা হবে।

    মহিলা সুরক্ষায় জোর

    • ক) মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে করা হবে সব রকমের পদক্ষেপ। পুলিশের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি, ফাস্ট ট্র্যাক আদালতগুলিকে সক্রিয় করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
    • খ) সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করে বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ।
    • গ) জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গকে করা হবে জেহাদি-মুক্ত (West Bengal Assembly Election)।
    • ঘ) পাহাড়ে ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ করা হবে।
    • ঙ) সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে।

    আসবে উন্নয়নের জোয়ার

    অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উন্নয়নকেই।

    • ক) ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলেই পশ্চিমবঙ্গে বানানো হবে গভীর সমুদ্রবন্দর।
    • খ) দামোদর, রায়ডাক, ভাগীরথীর মতো নদ-নদী এবং গঙ্গাসাগরে সেতু তৈরি করে আন্তঃজেলা যাতায়াতের গতি বাড়ানো হবে।
    • গ) সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পাহাড় পর্যন্ত গোটা রাজ্যকে জাতীয় সড়কের মাধ্যমে জোড়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই দূরত্ব যাতে সাত-আট ঘণ্টায় অতিক্রম করা যায়, তার জন্য তৈরি করা হবে উন্নত সড়ক পরিকাঠামো।
    • ঘ) উত্তরবঙ্গে উন্নতি করা হবে কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনের (BJP)।
    • ঙ) মালদা এবং বালুরঘাটের বিমানবন্দরগুলি থেকে যাত্রী পরিবহণ শুরুর ব্যবস্থা করা হবে।
    • চ) জমিজটের গেরো কাটিয়ে রেল প্রকল্পগুলিকে ত্বরান্বিত করা হবে।
    • ছ) বিধানচন্দ্র রায়ের পরম্পরাকে সম্মান জানিয়ে রাজ্যে চারটি নতুন নগরী তৈরি করা হবে।
    • জ) শহরাঞ্চলে বস্তিবাসীদের জীবন যাতে ভালোভাবে কাটে, সেজন্য পরিকাঠামো বাড়ানো হবে বস্তি এলাকায়।

    সঙ্কল্পপত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করার। জীবন-জীবিকার তাগিদে যাঁরা ভিন রাজ্যে কাজে যান, তাঁদের যাতে ফের যেতে না হয়, তার ব্যবস্থা করা হবে।

    উন্নত গ্রামীণ অর্থনীতির পোক্ত ভিত

    উন্নত করা হবে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিতও।

    • ক) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
    • খ) সীমান্ত এলাকায় এমন কিছু বাজার তৈরি করা হবে, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দু’পারের মানুষই উপকৃত হন।
    • গ) কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়টিও মাথায় রাখা হবে।
    • ঘ) ধানচাষিরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে। ফসল কেনাবেচায় দালালরাজ নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ করা হবে।
    • ঙ) আলুচাষিদের স্বার্থরক্ষার্থে পদক্ষেপ করা হবে।
    • চ) আইসিএআরের আলু গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গে একই রকমের সংস্থা তৈরি করা হবে। এটি রাজ্যের আলুচাষিদের কাজে লাগবে।
    • ছ) পশুপালন ও রেশম চাষ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া হবে।
    • জ) রাজ্যে হিমঘরের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • ঝ) মৎস্যচাষ ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থরক্ষা এবং উপার্জন বৃদ্ধির লক্ষ্যেও গুচ্ছের পদক্ষেপ করা হবে।

    রাজ্যে শিল্পের ভবিষ্যৎ

    সঙ্কল্পপত্রে থাকতে পারে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণের কথাও।

    • ক) সিঙ্গুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করার লক্ষ্যে স্থানীয় জমি মালিকদের অনুমতি নিয়ে ১,০০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
    • খ) রাজ্যে উন্নত পরিকাঠামো সম্বলিত চারটি বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হবে।
    • গ) খনি-সহ যে কোনও শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হবে (BJP)।
    • ঘ) রাজ্যের বিজেপি সরকার দুর্গাপুর এবং বার্নপুরে ইস্পাত কারখানার উন্নয়নে সক্রিয় হবে।
    • ঙ) আসানসোল, দুর্গাপুর, ব্যারাকপুর, হাওড়া এবং তারাতলার শিল্পতালুকগুলির পুনরুজ্জীবনে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • চ) চা এবং পাট শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটানো হবে।
    • ছ) প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা হবে। ইছাপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স যাতে জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হবে।
    • জ) পশ্চিমবঙ্গে একটি সংহত সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা আবার ফেরানো হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • ঝ) মহিলা ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বাসে নিখরচায় যাতায়াতের বন্দোবস্ত হবে।
    • ঞ) কলকাতা-হাওড়া, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং শিলিগুড়িতে ‘লজিস্টিক হাব’ তৈরি করা হবে।
    • ট) বিড়ি শ্রমিক উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের উন্নয়ন করা হবে।
    • ঠ) বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরব ফেরাতে সচেষ্ট হবে বিজেপি সরকার। সিনে-জগতের ওপরে মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণ শেষ করে ছবির নির্মাতা, অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের উপহার দেওয়া হবে সৃজনশীলতার আবহ।
    • ড) পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি জগতকে রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

    শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন

    সঙ্কল্পপত্রে শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    • ক) পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাদীক্ষার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা হবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শিক্ষকের অভাব, নিম্নমানের পরিকাঠামো এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের ছবি বদলে দেওয়া হবে।
    • খ) বামেদের দ্বারা হওয়া অতি রাজনৈতিকীকরণ এবং তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যকলাপের জেরে পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করায় ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
    • গ) পশ্চিমবঙ্গে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’ কার্যকর করা হবে।
    • ঘ) স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সব শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
    • ঙ) উত্তরবঙ্গে আইআইটি এবং আইআইএম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে (West Bengal Assembly Election)।
    • চ) রাজ্যে আরও একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হবে।
    • ছ) মেডিক্যাল পড়ার সুযোগ বাড়ানো হবে। সেজন্য কয়েকটি জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ করে তোলা হবে।
    • জ) বাল্যবিবাহ রুখতে তৈরি হবে প্রশাসনিক বন্দোবস্ত।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

    উন্নয়ন হবে স্বাস্থ্য পরিষেবা খাতেরও (BJP)।

    • ক) প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় চিকিৎসক ও নার্স রাখা নিশ্চিত করা হবে। সুনিশ্চিত করা হবে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশের।
    • খ) স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
    • গ) রাজ্যে এমন স্বাস্থ্যনীতির প্রবর্তন করা হবে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দেবে।
    • ঘ) বিজেপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করা হবে, যাতে বঙ্গবাসী ভারতের যে কোনও প্রান্তের হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ পান।
    • ঙ) বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা হবে।

    উল্লেখ্য যে, এই সঙ্কল্পপত্র কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনের আলো দেখবে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে এপ্রিলের শুরুতেই কোনও একটি দিনে এটি প্রকাশ করা হতে পারে বলে একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর।

    প্রসঙ্গত, এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ তৈরি করতে বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ নিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। নিজেদের রাজ্য দফতরে এবং প্রতিটি জেলায় ‘ড্রপ বক্স’ বসিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও লিখিত পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। সব ধরনের পরামর্শ দেখে এবং বিবেচনা করেই এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ তৈরি করা হয়েছে বলেই দাবি পদ্ম-নেতৃত্বের (West Bengal Assembly Election)।

     

  • West Bengal Assembly Election: “একটাই রাস্তা বাকি…”, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে কোন দিশা দেখালেন অমিত শাহ?

    West Bengal Assembly Election: “একটাই রাস্তা বাকি…”, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে কোন দিশা দেখালেন অমিত শাহ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের বিরুদ্ধে (West Bengal Assembly Election) ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসন নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে এই চার্জশিটের মাধ্যমে। মোট ৩৫ পাতার ওই চার্জশিটে তুলে ধরা হয়েছে মমতা জমানায় ওঠা একাধিক অভিযোগের কথা। তৃণমূলকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আদিবাসী, মহিলা রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে আপনারা অপমান করতে পারেন? দেশের প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে অপমান করতে পারেন?’’

    হা-শিল্প দশা প্রসঙ্গে শাহের বক্তব্য (West Bengal Assembly Election) 

    বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে নানা সময় অভিযোগ করেছে তৃণমূল। নিউটাউনের হোটেল থেকে সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন শাহ। বলেন, ‘‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। এ রাজ্যের কাউকে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বের করবই।’’ রাজ্যের হা-শিল্প দশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কাটমানি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতির কারণে এ রাজ্যে শিল্প অন্ধকারে। তাই এখানে চাকরি নেই। কম রোজগার, অল্প বেতনের চাকরির কারণও সেই অনুপ্রবেশ।’’ বঙ্গে মহিলাদের সুরক্ষা নেই বলেই অভিযোগ বিরোধীদের (West Bengal Assembly Election)। বঙ্গ-ললনাদের রাত আটটার পরে বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শও দিয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। কে অপরাধ করছে, সেটা দেখা হয় না। আমাদের শাসন আছে, এমন সব রাজ্যেই এটা আমরা করে দেখিয়েছি। মহিলারা যাতে নিজেদের কথা নিজেরাই বলতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করবে বিজেপি সরকার (Amit Shah)।’’

    বদলি প্রসঙ্গে কী বললেন শাহ

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার পরেই রদবদল করা হয়েছে প্রশাসনের আধিকারিকদের। এনিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সে প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘সারা দেশেই ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন অফিসারদের বদলি করে। এটা নতুন কিছু নয়। এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) সব আধিকারিক সরকারের হয়ে কাজ করেন। তাই এখানে বেশি পরিবর্তন হচ্ছে। অফিসারদের পরিবর্তন হয়েছে বলেই এ বার রামনবমীতে এই রাজ্যে হিংসা কম হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘১৫ বছরে (তৃণমূল জমানায়) কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন।’’ শাহ এও বলেন, ‘‘আজকের বাংলা কবিগুরুর বাংলা আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’

    প্রসঙ্গ যখন অনুপ্রবেশকারী

    অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন‍্য প্রয়োজনীয় জমি কেন্দ্রকে দেবে এ রাজ্যের বিজেপি সরকার।’’ তিনি বলেন, “মমতা যা খুশি অভিযোগ আনতে পারেন, তবে অনুপ্রবেশকারীদের আমরা দেশ থেকে বের করবই।” তৃণমূল সুপ্রিমো ‘ভিক্টিম কার্ডে’র রাজনীতি করেন (West Bengal Assembly Election) বলে অভিযোগ শাহের। তাঁর দাবি, ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের সহানুভূতি চান। এ বার আর তা হবে না।” এ রাজ্যে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শাহ। তিনি বলেন, ‘‘অনেক বছর পরে বাংলা বিহার ওড়িশায় (অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ) একই দলের সরকার হতে চলেছে।’’

    ভয় থেকে মুক্তির ভোট

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ভয় থেকে মুক্তির ভোট বলে অভিহিত করেন শাহ। বলেন, ‘‘এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন‍্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট (Amit Shah)।’’ চার্জশিট প্রকাশ করতে গিয়ে রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন শাহ। বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গোটা পশ্চিমবঙ্গ সফর করে বাংলার বেহাল দশার কথা জনতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।’’ তাঁর দাবি, এবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি।

    একটাই রাস্তা বাকি, বললেন শাহ

    বঙ্গের নির্বাচনের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘অসমে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। এখন একটাই রাস্তা বাকি অনুপ্রবেশের (West Bengal Assembly Election)। তাই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন গোটা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে দেশের সুরক্ষা জড়িত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের যে অরাজকতা এবং অপশাসন, তার কী সমাধান, তা-ও বলব। আগে চার্জশিট প্রকাশ করা হল। এর পরে আমরা জানাব যে, আমরা (Amit Shah) এর অবসানের জন‍্য কী করব।’’ প্রসঙ্গত, শুক্রবার গভীর রাতে ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছেন শাহ। উঠেছেন নিউ টাউনের একটি হোটেলে। আজ, শনিবারই ফিরে যাওয়ার কথা তাঁর (West Bengal Assembly Election)।

     

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, রামনবমীর (Ram Navami) শোভাযাত্রার জেরে গেরুয়াময় কলকাতার ভবানীপুর। এই শোভাযাত্রার পুরোভাগে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। সেখানেই দেখা যায়, একেবারে সামনের সারিতে হাঁটছেন গৈরিক পাগড়ি পরা শুভেন্দু। শোভাযাত্রায় ছিল খোল, করতাল, কীর্তনিয়ার কীর্তন এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান।

    ভবানীপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    শোভাযাত্রা শুরু হতেই দলে দলে লোকজন পা মেলান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে শোভাযাত্রার কলেবর। শুভেন্দুকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমে যায় রাস্তার দু’পাশে। বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে পড়তেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। ভবানীপুরবাসীর এমন উৎসাহ দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও পড়েন তিনি। শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতেই শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ হবে। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যুবক-যুবতীরা কাজ পাবেন এই বাংলায়ই। ভিন রাজ্যে আর কাজের খোঁজে যেতে হবে না তাঁদের।”

    শোভাযাত্রায় হাঁটলেন শুভেন্দু

    এবারের রামনবমীতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা শুভেন্দুর। তবে তিনি শুরুটা করলেন ভবানীপুর থেকেই (Suvendu Adhikari)। কারণ, এই কেন্দ্রেই বিজেপির বাজি তিনি। ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ঘাসফুল শিবিরের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে প্রচারে বেরিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশ্য কলকাতায় নেই তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর সভা করার কথা পাণ্ডবেশ্বর এবং দুবরাজপুরে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ফাঁকেই রামনবমীর শোভাযাত্রার (Ram Navami) সঙ্গে সঙ্গে কৌশলে ভবানীপুরে একপ্রস্ত জনসংযোগ কর্মসূচিও সেরে নিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

     

  • West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। শেষমেশ সেই জল্পনাই সত্যি হল বুধ-সন্ধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হলেন ‘অভয়া’র মা। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’কে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ২০২৪ সালে। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও, সুবিচার মেলেনি। সেই কারণেই এবার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন অভয়ার মা।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা (West Bengal Assembly Election)

    ফেরা যাক খবরে। এদিন তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। তাঁর মধ্যে অভয়ার মা-ও একজন। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের কলতান দাসগুপ্ত। অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন কলতানও। সেই কলতানের সঙ্গেই দ্বৈরথে নামছেন বিজেপির তরফে অভয়ার মা। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে অভয়ার মা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তৃতীয় দফায় বিজেপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর নামও রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পানিহাটির মানুষের জন্য জয়। পানিহাটির মানুষের জন্যই জয়ও হবে। এখানকার মানুষ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছেন (West Bengal Assembly Election)। এখানে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার – সরকার এসবই কেড়ে নিয়েছে। মহিলা হলেও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মেয়েরা রাতে বাইরে বেরবে কেন? এসব (BJP) নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে চাই।”

    পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা

    পানিহাটিতে অভয়ার মা এবং কলতান ছাড়াও, লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের ছেলে। অভয়ার মা জানান, তিনি মনে করেন বিজেপিই তাঁর মেয়ের বিচার দিতে পারবে। তাই বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অভয়ার মা ছাড়াও এদিন আরও ১৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন পদ্ম-নেতৃত্ব। এঁরা হলেন, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (উত্তরপাড়া), অম্লান ভাদুড়ি (ইংরেজবাজার), রবীন্দ্রনাথ বসু (কোচবিহার দক্ষিণ), দীনেশ সরকার (রায়গঞ্জ), চিত্রজিৎ রায় (ইসলামপুর), হরিপদ বর্মণ (হেমতাবাদ), স্বপন দাস (শান্তিপুর), বিপ্লব মণ্ডল (হাওড়া), অরূপ কুমার দাস (সিঙ্গুর), দীপাঞ্জন কুমার গুহ (চন্দননগর), সুবীর নাগ (চুঁচুড়া), মধুমিতা ঘোষ (হরিপাল), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শঙ্কর গুছাইত (মেদিনীপুর), প্রাণকৃষ্ণ তপাদার (পূর্বস্থলী দক্ষিণ), কৃষ্ণ ঘোষ (কাটোয়া), কৃষ্ণকান্ত সাহা (সাঁইথিয়া) এবং অনিল সিং (নলহাটি) (West Bengal Assembly Election)।

  • West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে, তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাঁকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে (Calcutta High Court)।’

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি (West Bengal Assembly Election)

    রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্য প্রশাসনের একধিক আইএএস-আইপিএসকে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবকে। ভিন রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে একাধিক আধিকারিককে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

    ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ’

    এদিন শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ। কেউ অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চালাচ্ছে।’ জনস্বর্থের ওই মামলায় আইনজীবী তথা তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইনসভা যে আইন তৈরি করে তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)।” তাঁর প্রশ্ন, “যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, মর্জিমাফিক বদলি করা হয়, তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কীভাবে?” কল্যাণ বলেন, “নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সেই রাজ্য থেকেই নিতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে নিতে হলে রাজ্যের সম্মতি লাগে। ২০২৬-এ আমাদের রাজ্যে কোনও নিয়মই মানছে না কমিশন।” তাঁর প্রশ্ন, “রাজ্য থেকে সব আমলা নিয়ে চলে গেলে, রাজ্যটা চলবে কীভাবে?” লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বদলি করা হয় কিনা, এদিন তাও জানতে চান তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতা। তিনি বলেন, “৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিশ্বস্ত আধিকারিকদের ছাড়া কীভাবে কাজ করবেন তিনি? এটা ব্যাঘাত (Calcutta High Court) ঘটানোর চেষ্টা।” উল্লেখ্য যে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা শুক্রবার (West Bengal Assembly Election)।

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

  • West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দফায় বঙ্গে হবে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। এই নির্বাচন যাতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হয়, তাই চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। শুক্রবার রাজ্যের সদ্য নিয়োজিত ডিএম, এসপি, ডিজি এবং সিপির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এই বৈঠকে তাঁদের দ্রুত দায়িত্বভার গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলায় গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, ডিএম-এসপিদের বাংলো এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক ব্যবস্থাও যথা শীঘ্র সম্ভব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলোর দখল নিন (West Bengal Assembly Election)

    জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিদায়ী আধিকারিকরা বাংলো ছাড়তে দেরি করে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ঠিকঠাক হস্তান্তর করেন না। কখনও কখনও এই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছে করে দেরি করার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেই জন্যই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। বৈঠকে কমিশনের তরফে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিল্ড পর্যায়ের কাজ, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, সদ্য বদলি হওয়া ডিএম এবং এসপিরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বাংলোগুলি তাড়াতাড়ি খালি করে দিতে হবে। প্রশাসনিক বৈঠক, সমন্বয় এবং অন্যান্য সরকারি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামোও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য ২২ মার্চের মধ্যেই আবিশ্যকভাবে বাংলোগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বদলি হওয়ার পরেও বাংলো আটকে রেখেছেন জেলাশাসকরা। তাঁদের দ্রুত বাংলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনওভাবেই দখল করে রাখা যাবে না বাংলো।

    ৬টি মূল লক্ষ্য স্থির করে দিল কমিশন

    আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ৬টি মূল লক্ষ্যও স্থির করেছে কমিশন (West Bengal Assembly Election)। এগুলি হল বুথ দখল রোধ করা, ভুয়ো ভোট প্রতিরোধ করা, অশান্তিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, কোনও প্রভাব ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং রাস্তা আটকানো, ভোটারদের বেরতে বাধা বা ভয় দেখিয়ে বুথে যাওয়া থেকে আটকানো রোধ করা। এদিকে, এদিনই জানা গিয়েছে, দিন কয়েকের মধ্যেই দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্বাচন (ECI) সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (West Bengal Assembly Election) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

LinkedIn
Share