Tag: West Bengal Health Department

West Bengal Health Department

  • Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জরায়ুমুখ ক্যানসার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচপিভি (Human Papillomavirus, HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এবার সেই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গও।

    প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। সরকারের লক্ষ্য, শহর থেকে গ্রাম—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে ধাপে ধাপে (Phased Expansion Plan) টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কারা এই টিকা পাবে?

    বর্তমান পর্যায়ে এই বিনামূল্যের টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কৈশোরের এই বয়সকে এইচপিভি টিকা নেওয়ার জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। কারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যেসব পরিবারের কন্যাসন্তানের বয়স ১৪ বছর, তারা নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এইচপিভি টিকা?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচপিভির কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইচপিভি ভ্যাকসিন এই ভাইরাসজনিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও গলা, মলদ্বার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    বিধাননগরে উদ্বোধন

    শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভাইক্যাল ক্যানসার) অন্যতম মারাত্মক, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লক্ষ মহিলাকে আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এইচপিভি টিকাকরণ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কিশোরী দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।

  • Suvendu Adhikari: রোগী রেফার! ডাক্তার নেই? সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে চালু কন্ট্রোল রুম-হেল্পলাইন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রোগী রেফার! ডাক্তার নেই? সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে চালু কন্ট্রোল রুম-হেল্পলাইন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র, অপ্রয়োজনীয় রেফার, পরিষেবার গাফিলতি ও রোগী হয়রানির অভিযোগ রুখতে স্বাস্থ্যভবনে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার মান উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এই কন্ট্রোল রুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    রাজ্যের হাসপাতালগুলির উপর নজরদারি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবনে খোলা হওয়া এই কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে। রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে হাসপাতাল সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। হাসপাতালের বেডের অভাব, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা, ওষুধের ঘাটতি, কর্মীদের দুর্ব্যবহার কিংবা অন্য কোনও অনিয়মের অভিযোগও সেখানে নথিভুক্ত করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক উপস্থিত আছেন কি না, রোগীরা যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, কোথাও দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না অথবা অযথা রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে কি না— সেসব বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    ‘‘দালালচক্র যাতে না চলে’’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে কোনও দালালচক্র যাতে না চলে এবং কোনও রোগীকে অকারণে রেফার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা পেশাদার কর্মী নিয়োগ করছি। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।” অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রতি এক মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করার ঘটনায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মানবসম্পদের ঘাটতি দূর করা জরুরি।

    সরকারি হাসপাতাল ঘিরে একাধিক অভিযোগ

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে চিকিৎসা পরিষেবার মান, রোগী পরিষেবা ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। সরকারের দাবি, নতুন এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য। এখন এই কন্ট্রোল রুম কতটা কার্যকরভাবে কাজ করে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কতটা দ্রুত ফল পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Dengue in Bengal: বর্ষা আসতে না আসতেই রাজ্যে ডেঙ্গির চোখরাঙানি! কোথায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    Dengue in Bengal: বর্ষা আসতে না আসতেই রাজ্যে ডেঙ্গির চোখরাঙানি! কোথায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ চড়লেও আকাশে মেঘ জমেছে! মাঝেমধ্যেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। বর্ষা (Monsoon) আসছে! আবহাওয়া দফতর জানান দিয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গেই ডেঙ্গির চোখরাঙানি (Dengue) শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে ফের ডেঙ্গির দাপট (Dengue in Bengal) শুরু হতে পারে। তাই আগাম বাড়তি সতর্কতা জরুরি। রাজ্যবাসীর ভোগান্তি কমাতে এখন থেকেই বাড়তি তৎপরতা (Dengue Precautions) প্রয়োজন। না হলে বিপদ মারাত্মক হতে পারে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

    রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Department) সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় বর্ষা (Monsoon Season) শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা গিয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে প্রকোপ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যে অগাস্ট-সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এই তিন মাসে ডেঙ্গি সবচেয়ে বেশি দাপট দেখিয়েছে। বিশেষত সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তাই অন্তত জুন-জুলাই থেকেই বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Dengue Precautions)। বর্ষার শুরু থেকেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় সক্রিয় হলে, বিপদ মোকাবিলা সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    রাজ্যের কী পরিস্থিতি?

    স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের (Dengue in Bengal) সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বর্ষা শুরুর আগেই হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হুগলি এবং মুর্শিদাবাদের ডেঙ্গি পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত হাওড়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৯০ জন। উত্তর চব্বিশ পরগনায় কমবেশি ১৬০ জন। হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১৩৫ জন। মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ১২০ জন। ডেঙ্গির চোখরাঙানি থেকে বাদ নেই কলকাতাও। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতাতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ জন। এছাড়াও, বর্ধমান, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া জেলার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ।

    কীভাবে ডেঙ্গি মোকাবিলা করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকারের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সতর্কতা ডেঙ্গি মোকাবিলা সহজ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় এলাকা (Dengue in Bengal) পরিষ্কার সবচেয়ে জরুরি। মশার আঁতুরঘর ভাঙতে না পারলে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়বে। তাই এলাকার পার্ক, রাস্তা এমনকি আবর্জনা ফেলার জায়গাও পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জল জমতে দেওয়া চলবে না। বাড়ির ছাদে, বাগানে কিংবা এলাকার পার্কে আগাছা জন্মালে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষত যারা ছাদে বা বারন্দায় বাগান করেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ, টবে যাতে জল না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্থির জলে ডেঙ্গি মশা বেশি জন্মায়। তাই টব কিংবা ফুলদানির মতো জায়গায় জল জমলে ডেঙ্গির মশার প্রকোপ বাড়ার ঝুঁকিও (Dengue Risks) বেশি। বাড়িতে চৌবাচ্চা থাকলে সেখানেও সাত দিনের বেশি জল যাতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গি মোকাবিলায় নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সংক্রমণ রুখতে ডেঙ্গির উপসর্গ সম্পর্কেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিন দিন লাগাতার জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি (Dengue in Bengal)। ডেঙ্গি হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাহলেই সংক্রমণ রুখতে সহজ হবে। রোগীর দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে বড় বিপদ এড়ানোও সহজ হবে। পরিবারের কোনো সদস্য ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাকে অবশ্যই আলাদা ঘরে রাখতে হবে। মশারি টাঙিয়ে রাখা জরুরি। বাড়ির অন্য সদস্যদের যাতে ডেঙ্গি (Dengue Precautions) না হয়, সেটা খেয়াল রাখতে বাড়তি তৎপরতা প্রয়োজন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Suvendu Adikari: নিয়োগ থেকে টেন্ডার, স্বাস্থ্য দফতরে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি! নথি হাতে নিয়ে সরব শুভেন্দু

    Suvendu Adikari: নিয়োগ থেকে টেন্ডার, স্বাস্থ্য দফতরে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি! নথি হাতে নিয়ে সরব শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে স্বাস্থ্য দফতরের (Swasthya Bhawan) দুর্নীতি নিয়ে ইডি তদন্তের দাবি জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নিয়োগ থেকে টেন্ডার, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি নথি হাতে নিয়ে এই দাবি করেন শুভেন্দু। ২০১৬ সাল থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল খোলার নামে টেন্ডারে বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক কর্তার নামে প্রচুর বেনামি সম্পত্তি রয়েছে।

    শুভেন্দুর অভিযোগ

    বৃহস্পতিবার বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তাঁর দাবি, “এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে এই শাসকদলের নেতা মন্ত্রী দুর্নীতি করেননি।” শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনার পর প্যান্ডোরার বাক্স খুলে গিয়েছে। এদিন শুভেন্দু দাবি করেন, এসপি দাশের হাত সন্দীপ ঘোষের মাথায় ছিল। সে কারণেই একসঙ্গে তিনটি চাকরি পেয়েছিলেন। বিরোধী দলনেতা জানান, আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (নন মেডিকেল) আখতার আলি দীর্ঘদিন এ নিয়ে লড়াই করছেন। 

    টেন্ডার দুর্নীতি

    এদিন স্বাস্থ্যভবনে টেন্ডার দুর্নীতি প্রসঙ্গে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন,  “২০১২ সালের পর থেকে অনেক ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটা পবন অরোরা, মেনকা গম্ভীরদের কোম্পানি রয়েছে। যাঁরা ভাইপোর আত্মীয়। মূলত পাঁচটা কোম্পানি সমস্ত টেন্ডারগুলো পেয়েছে। ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে টেন্ডার দুর্নীতি হয়েছে। টেন্ডার পেয়ে যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানিগুলো। ২০১৬ সালে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালতেও টেন্ডার দুর্নীতি হয়েছে। ভাইপোর আত্মীয়ের কোম্পানির নামে এই টেন্ডারগুলো ইস্যু করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামেও প্রচুর বেনামি সম্পত্তি রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া প্রথমে দেবাশিস বসু শুরু করেন। পরবর্তী কালে এই কাজ করেছেন মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি এখন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান। মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৩ সালে আট কোটি টাকা দিয়ে পাঞ্জাব থেকে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স কিনেছেন। মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়ের নামে নিউটাউনে ফ্ল্যাট কিনেছেন। এসবই কাটমানির টাকা।

    করোনার সময় দুর্নীতি

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “নারায়ণস্বরূপ নিগম ও সঞ্জয় বনসালের নামে প্রচুর বেনামি সম্পতি রয়েছে। বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট ট্রিটমেন্টের টেন্ডারও জোন ভাগ করে করে বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে টেন্ডার ছাড়াই এগুলো দেওয়া হয়েছে। করোনার সময়ও পিপিই কিট, এন-৯৫ মাস্ক সহ বিভিন্ন জিনিস নারায়ণ স্বরূপ নিগম, মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় ও সঞ্জয় বনসাল বেআইনিভাবে পবন অরোরার কোম্পানিকে দিয়েছে। এছাড়া তন্তুজের অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডায়রেক্টর রবীন রায়কে সামনে রেখে আগের মুখ্যসচিব তথা অধূনা রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা তিনি এই সমগ্র দুর্নীতি অর্গানইজ করেছেন। আমাদের কাছে সব নথি রয়েছে।” 

    আরও পড়ুন: নিলামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার, রোজগারের টাকা ব্যয় হবে নমামি গঙ্গে প্রকল্পে

    জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের টাকা নয়ছয়

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) দাবি, স্বাস্থ্যভবনে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে। তা নিয়ে তিনটি এফআইআরও হয়েছে। ইডি যার তদন্ত শুরু করেছে। আখতার আলির পাশাপাশি কৌস্তভ বাগচীও একটি অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি নিয়েও লেদার কমপ্লেক্স থানায় দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কোভিডকালেও বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের টাকা নয়ছয়েরও অভিযোগ তোলেন তিনি। এছাড়া স্বাস্থ্য ভবনে নিয়োগেও এনআরআই কোটায় চরম দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শাসকদলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর ছেলের ডাক্তারিতে সুযোগ পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: থিসিসে সই পেতে হলে দিতে হবে ‘বাড়তি’ মূল্য! রাজি ছিলেন না নির্যাতিতা, তাই কি ‘শাস্তি’?

    RG Kar: থিসিসে সই পেতে হলে দিতে হবে ‘বাড়তি’ মূল্য! রাজি ছিলেন না নির্যাতিতা, তাই কি ‘শাস্তি’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘটনার পরে কেটে গিয়েছে সাত দিন! কিন্তু একের পর এক প্রশ্ন উঠছেই! আর বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে‌ কলেজ কর্তৃপক্ষ! আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক বার উঠে আসছে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল, সেই প্রশ্ন! জুনিয়র চিকিৎসক, বিশেষত ইন্টার্ন এবং স্নাতকোত্তর ট্রেনিদের একাংশের অভিযোগ, নানান অবৈধ লেনদেনে অংশ নিতে না চাওয়ার জেরেই এই পরিণতি (Punishment) ঘটতে পারে! বিশেষত, হাউজস্টাফ এবং স্নাতকোত্তর ট্রেনিদের রেজাল্ট এবং সার্টিফিকেট দেওয়া নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে যে ধরনের দুর্নীতি হয়, তা নিয়ে নির্যাতিতা একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর নানান সময়ে বচসাও হয়েছিল। এমনটাই জানাচ্ছে স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের একাংশ।

    কী অভিযোগ আরজি কর হাসপাতালের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের? (RG Kar)

    নির্যাতিতার মৃত্যুর পরেই একাধিক অভিযোগ নিয়ে সামনে এসেছে আরজি কর হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। ওই হাসপাতালের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের একাংশ জানাচ্ছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমডি কিংবা এমএস কোর্সে থিসিস খুব জরুরি। চিকিৎসক-পড়ুয়া পাশ করবেন‌ কিনা, তার অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর থিসিসের ওপরেই। আর এই থিসিস হাসপাতালে করতে হয়। দরকার হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সই।‌ বিভাগীয় প্রধান ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সাহায্য ছাড়া এই ধরনের থিসিসের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। আর এখানেই চলে নানান দুর্নীতি। জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, আরজি কর হাসপাতালের সদ্য প্রাক্তন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ ও হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক কার্যত একটি চক্র চালাতেন। বাড়তি অর্থ দাবি করতেন। সেই অর্থ দিলে তবেই স্নাতকোত্তর পড়ুয়ার থিসিসে সই হবে। শুধু স্নাতকোত্তর পড়ুয়া নয়, হাউজস্টাফ এবং ইন্টার্নদের থেকেও অর্থ দাবি করা হত। দাবি মতো অর্থ না দিলে এমবিবিএস কোর্সের ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না, এমন হুমকিও দেওয়া হত বলে অভিযোগ উঠছে।

    কেন সমস্যা হয়েছিল?

    জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, নির্যাতিতা এই অসাধু লেনদেনে নারাজ ছিলেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলেজের (RG Kar) একাধিক বেআইনি কাজ নিয়ে তিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পাশপাশি, থিসিসে সই পেতে বাড়তি অর্থ দেওয়ায় তিনি অসম্মত হয়েছিলেন। এই নিয়ে বিভাগীয় প্রধান এবং অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গেও তাঁর মতান্তর হয়েছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই অনৈতিক লেনদেন তিনি মানতে নারাজ ছিলেন। আর তার জেরেই শাসক দলের একাংশের তাঁর প্রতি রাগ ছিল। এমনই অভিযোগ করছে ওই হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ।

    কী বলছে চিকিৎসক মহল? (RG Kar)

    রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে,‌ আরজি কর হাসপাতালের এই দুর্নীতি কোনও ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যের একাধিক সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এই অসাধু চক্র চলছে। প্রশাসন সব কিছু জানার পরেও অধিকাংশ সময়েই কোনও পদক্ষেপ করে না। এমবিবিএস কোর্সে কে ইন্টার্ন হওয়ার সুযোগ পাবে, কোন‌ বিভাগে‌ কে হাউজস্টাফ হিসেবে কাজ করবে কিংবা স্নাতকোত্তর কোর্সে থিসিসে সই কিংবা নম্বর কতখানি‌ দেওয়া হবে, সব কিছু মেধার দ্বারা নির্ধারিত হচ্ছে না। বরং, এই সব কিছুর জন্য নির্দিষ্ট ‘দাম’ নির্ধারণ করা হচ্ছে। অভিযোগ জানানোর পরেও অনেক সময়েই কাজ হচ্ছে না। বরং যাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন, তাঁদের প্রাপ্য হচ্ছে ‘শাস্তি’ (Punishment)। অনেক সময়েই রাজ্যের স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বহু পড়ুয়া মাঝপথেই পড়া ছেড়ে দিচ্ছেন। পাড়ি দিচ্ছেন ভিন রাজ্যে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Organ Transplantation: করোনা-পরবর্তী পর্বে নেই সক্রিয়তা, অঙ্গ প্রতিস্থাপনে ছুটতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে!

    Organ Transplantation: করোনা-পরবর্তী পর্বে নেই সক্রিয়তা, অঙ্গ প্রতিস্থাপনে ছুটতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার এমনকি ত্বক প্রতিস্থাপনের (Organ Transplantation) পরিকাঠামো রয়েছে কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতেও গড়ে উঠেছে পরিকাঠামো। তার পরেও স্বাস্থ্য দফতরের ঢিলেঢালা মনোভাবের জন্য রোগীদের অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! তাই ভরসা হচ্ছে ভিন রাজ্য! আর স্বাস্থ্য ভবনের এই গড়িমসির জন্য এবার কড়া বার্তা দিল কেন্দ্রীয় সরকারের অরগ্যান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন!

    অভিযোগ কী (Organ Transplantation) 

    করোনা মহামারির শেষে ফের স্বাভাবিক হচ্ছে সব কিছু। স্বাস্থ্য পরিষেবাও আবার আগের রূপে ফিরছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গ প্রতিস্থাপন (Organ Transplantation) কর্মসূচি যেন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। করোনা পরবর্তী কালে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজে দেখা দিচ্ছে ব্যাপক ঢিলেঢালা মনোভাব। 
    সূত্রের খবর, করোনা মহামারি পর্বে রোগীর স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়েই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচার এড়িয়ে চলা হচ্ছিল। কারণ, এই ধরনের গুরুতর রোগীর যে কোনও সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, করোনা পর্ব মিটলেও প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদনকারীদের বিশেষ সাড়া দিচ্ছেন না স্বাস্থ্য ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তারা। ফলে, ঠিকমতো গ্রহীতা না পাওয়ার জেরেই আবেদনকারীদের চিকিৎসা হচ্ছে না। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। 
    আর এই গড়িমসির জেরেই অধিকাংশ রোগীকে ভরসা করতে হচ্ছে ভিন রাজ্যের উপরে। কারণ, অতিরিক্ত দেরি হলে রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হবে। তাই অন্য রাজ্যে বিশেষত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোয় উন্নত পরিকাঠামো ও সরকারি তৎপরতা দ্রুত হওয়ার জেরে পরিষেবাও দ্রুত পাওয়া যায়। তাই রাজ্যে নয়, ভিন রাজ্যে গিয়ে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    রোটোর কড়া বার্তা কী (Organ Transplantation)? 

    সম্প্রতি রিজিওনাল অরগ্যান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশনের (রোটোর) তরফে স্বাস্থ্য দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য কর্তাদের জানানো হয়েছে, এ রাজ্যের বহু রোগী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটছে। ঠিকমতো সমন্বয় ও কাউন্সেলিংয়ের অভাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপন হচ্ছে না। বহু রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপন সময় মতো না হওয়ার জেরে সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে পারছেন না। তাই করোনা পরবর্তী পর্বে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজে আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। রোটোর তরফে জানানো হয়েছে, সরকারির পাশপাশি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়ানো দরকার। কোনও রোগীর মস্তিষ্কের মৃত্যু বা ব্রেন ডেথ হয়েছে কিনা, তা দ্রুত স্বাস্থ্য ভবনের জানা জরুরি। দরকার সেই রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা, প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করা এবং তাদের অঙ্গ দানে (Organ Transplantation) আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব স্বাস্থ্য দফতরের। কিন্তু এই কাজে যথেষ্ট সক্রিয়তার অভাব রয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো নোটিশে এমনি জানিয়েছে রোটো।

    স্বাস্থ্য কর্তারা কী বলছেন (Organ Transplantation)? 

    স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের একাংশ অবশ্য মেনে নিচ্ছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের (Organ Transplantation) কাজের গতি শ্লথ হয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, হৃদপিণ্ড থেকে কিডনি কিংবা লিভার, ত্বক প্রতিস্থাপনের যে গতি গত করোনার আগে ছিল, মহামারি পরবর্তী পর্বে সেই গতি কমেছে। সচেতনতার অভাব তার অন্যতম কারণ বলেও তাঁরা জানাচ্ছেন। তবে, সেই দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, স্কুল স্তর থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা তৈরি হচ্ছে। যাতে তাঁরা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। পাশপাশি, হাসপাতালগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, দ্রুত সমস্যা কমবে। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য রাজ্যবাসীকে ভিন রাজ্যের উপরে নির্ভর করতে হবে না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।
  • Dengue: ডেঙ্গি-মৃত্যু নিয়ে ফের চাপানউতোর, রাজ্যের বিরুদ্ধে তথ্য চেপে যাওয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের! 

    Dengue: ডেঙ্গি-মৃত্যু নিয়ে ফের চাপানউতোর, রাজ্যের বিরুদ্ধে তথ্য চেপে যাওয়ার অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রকের! 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষার মরশুম শুরু হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে ডেঙ্গির (Dengue) দাপট। জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যার হার বর্ষার শুরুতেই বদলে যায়। জুলাই মাসে ডেঙ্গি আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। সেই একই ধারা বজায় রয়েছে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহেও। তার সঙ্গে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মৃত্যু। একের পর এক ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, মৃত্যু অস্বীকার করছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের কাছে ঠিকমতো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।

    কী বলছে তথ্য (Dengue)? 

    রাজ্যে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা ছিল আড়াই হাজার। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত হন ৭০০ জন। অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে আরও প্রায় দেড়শো জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। তবে, স্বাস্থ্য দফতর সরকারি ভাবে কিছুই জানাতে রাজি নয়। পাশপাশি ডেঙ্গি মৃত্যু নিয়েও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ১২ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে কোনও ডেঙ্গি মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। এমনকি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কাছেও নিয়মিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। কিন্তু এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট মহল।

    উদ্বেগ (Dengue) বাড়ছে কেন? 

    বিশেষজ্ঞ মহল জানাচ্ছে, ২০২২ সালে দেশে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত রাজ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি হিসেবেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজারের বেশি। দেশের মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত রাজ্য হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিহার। তবে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের কাছকাছি। প্রথম ও দ্বিতীয় রাজ্যের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার ফারাক অনেকটাই ছিল। এ বছরেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হবে বলেই আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, তাদের আশঙ্কা, ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু নিয়ে জটিলতা বিপদ বাড়াবে। কোনও ডেঙ্গি আক্রান্তের মৃত্যু হলে, সেই এলাকায় বিশেষ প্রশাসনিক তৎপরতা জরুরি। কারণ, সেই এলাকায় আর কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা প্রশাসনের জানা দরকার। পাশাপাশি এলাকার পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজরদারি জরুরি। সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায় সে দিকেও নজর দিতে হবে। কিন্তু সরকারি তরফে মৃত্যু স্বীকার না করলে সেই কাজ করা মুশকিল। এলাকার কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, তা এলাকাবাসীর জানা দরকার। কিন্তু সরকারের তরফে তা প্রকাশ না করলে, সচেতনতা প্রসার মুশকিল। যা ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের মূল সমস্যা। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিস্থিতি কতখানি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সে নিয়েই উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     
    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।
  • Dengue: ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে! ডেঙ্গি রুখতে ফিভার ক্লিনিক কি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে?

    Dengue: ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে! ডেঙ্গি রুখতে ফিভার ক্লিনিক কি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষার শুরুতেই বেড়েছে ডেঙ্গির (Dengue) দাপট। কলকাতার পাশপাশি নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি চিন্তা বাড়াচ্ছে। ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার গতানুগতিক ধারায় ফিভার ক্লিনিক খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সরকারি হাসপাতালের ভিড় প্রশ্ন তুলছে, ফিভার ক্লিনিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে তো?

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট? 

    স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই মাসে ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭০০ জন। গত কয়েক দিনের মধ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৮ জন। তার মধ্যে দশ বছরের পড়ুয়াও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। বেলেঘাটা আইডি-তে ইতিমধ্যেই রোগী ভর্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আরজিকর, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো প্রথম সারির সরকারি হাসপাতালে জেলা থেকে আসা মানুষের ভিড় বাড়ছে। অধিকাংশ জ্বরের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। রোগীরা জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসছেন। ফলে, কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে বেড দেওয়া যাচ্ছে না। ডেঙ্গির জন্য যে বাড়তি শয্যার পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। ফলে, ভোগান্তি বাড়ছে।

    রোগী ও পরিজনদের সমস্যা কোথায়? 

    অধিকাংশ রোগী ও পরিজনরা জানাচ্ছেন, রোগী ভর্তি নিয়ে হয়রানি শুরু হয়েছে। বিশেষত, আরজি কর এবং বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। তাই ভোগান্তি বাড়ছে। উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া থেকে বহু রোগী রেফার হয়ে আসছেন। রোগীদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বরের উপসর্গের সঙ্গে মাথা ব্যথা বা অন্য কোনও শারীরিক জটিলতা তৈরি হলেই রেফার করা হচ্ছে। জেলা হাসপাতাল জানিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আবার কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলোতে বেডের আকাল। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। যদিও সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ডেঙ্গি (Dengue) রোগীকে রেফার করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবের অভিজ্ঞতা অনেকটাই অন্যরকম, এমনই জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীদের একাংশ। ডেঙ্গি আক্রান্ত হাসপাতাল চত্বরেই বসে থাকছেন। তাই শুধু আক্রান্ত নন, ঝুঁকি বাড়ছে অন্যদের।

    কী বলছেন স্বাস্থ্যকর্তারা? 

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ অবশ্য জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি (Dengue) মোকাবিলায় ফিভার ক্লিনিক যে যথেষ্ট নয়, তা গত কয়েক বছরে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই ফিভার ক্লিনিক খোলা হয়, কিন্তু তারপরেও রোগী ভোগান্তি থাকে। জেলা থেকে রেফার কমানোর দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ। জেলার ডেঙ্গি রোগী কলকাতার হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হওয়া ও তারপরে তার চিকিৎসা শুরু করা, একদিকে যেমন সময় বহুল, তেমনি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই জেলা হাসপাতাল ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। পাশপাশি, ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে না পারলে ডেঙ্গি মোকাবিলা কঠিন হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ। স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি পুর ও পঞ্চায়েত দফতর এক যোগে ডেঙ্গি মোকাবিলায় সক্রিয় না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ। তবে স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী বলেন, “পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলার প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এখনই চিন্তার কিছু নেই।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।
  • Dengue: দশ হাজারের নিচে নামলে তবেই প্লেটলেট! ডেঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের নয়া নির্দেশিকায় বিতর্ক

    Dengue: দশ হাজারের নিচে নামলে তবেই প্লেটলেট! ডেঙ্গি নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের নয়া নির্দেশিকায় বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গি আতঙ্ক ফের জাঁকিয়ে বসেছে। একের পর এক ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের মৃত্যু, পরিস্থিতির ভয়াবহতা জানান দিচ্ছে। আর তার মধ্যেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নেমে পড়েছে স্বাস্থ্য ভবন। অন্তত স্বাস্থ্য ভবনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার পর এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন? 

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের প্লেটলেট কখন দিতে হবে, তা ঠিক হবে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা মেনে। রাজ্যে ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লেই, তার সঙ্গে প্লেটলেটের চাহিদা বাড়ে। বিশেষত, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস, যখন প্রত্যেক বছর হাজার-হাজার মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হন, তখন প্লেটলেটের আকাল তৈরি হয়। আর এই সঙ্কট রুখতে, এবার প্লেটলেট নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া হতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর। তাই স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ, ডেঙ্গি আক্রান্তের প্লেটলেট ১০ হাজারের কম না হলে, তাকে প্লেটলেট দেওয়া যাবে না। 
    আর এই নির্দেশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

    কী বলছেন চিকিৎসক মহল? 

    স্বাস্থ্য দফতরের এই ধরনের পদক্ষেপ ডেঙ্গি (Dengue) পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তারা জানাচ্ছে, কোন রোগীর কখন প্লেটলেটের প্রয়োজন হবে, তা সেই রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। গাইডলাইন মেনে প্লেটলেট দিতে হলে, অনেক ক্ষেত্রেই শারীরিক ঝুঁকি বাড়বে। 
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, থাইরয়েডের মতো নানা কো-মরবিডিটি থাকলে, ডেঙ্গি আক্রান্তের শারীরিক জটিলতা বাড়ে। তখন প্লেটলেটের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও শিশু বা বয়স্ক কিংবা গর্ভবতীর ক্ষেত্রেও নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। দশ হাজারের নিচে প্লেটলেট নামার আগেও প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক কিংবা রোগীর পরিজন কী করবেন, সে সম্পর্কে এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। আর এই ফাঁকগুলো বাড়তি জটিলতা তৈরি করবে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই ধরনের পদক্ষেপের জেরে প্লেটলেটের আকাল কমবে না। বরং রোগী ভোগান্তি বাড়বে।

    বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা কী? 

    রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের একাংশের মতে, যেভাবে প্লেটলেটের (Dengue) নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য দফতর করতে চাইছে, তা একেবারেই অযৌক্তিক। চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত থাকলে, রক্তের জোগান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। কারণ, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর রোগীর চিকিৎসায় জটিলতা তৈরি হবে না। 
    বিশেষজ্ঞ মহল জানাচ্ছে, উৎসবের মরশুম শুরু হলেই রক্তের সঙ্কট দেখা যায়। তাই স্বাস্থ্য দফতর এবং রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরের দায়িত্ব, সেই সঙ্কট আটকানোর জন্য রক্তদান শিবির করা। যাতে প্লেটলেটের জোগান থাকে। কিন্তু রোগীর কখন প্লেটলেটের প্রয়োজন হবে, তা ঠিক করবেন চিকিৎসক। নির্দেশিকা জারি করে প্লেটলেট দেওয়া বন্ধ রাখলে, জোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য করা যাবে না। বরং পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হবে। এমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Adeno Virus: অ্যাডিনো-আতঙ্ক! অযথা কলকাতায় রেফার নয়, জেলা হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ

    Adeno Virus: অ্যাডিনো-আতঙ্ক! অযথা কলকাতায় রেফার নয়, জেলা হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অ্যাডিনো ভাইরাসের (Adeno Virus) দাপটে একের পর এক হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর। চিন্তার ছাপ অভিভাবকদের চোখে -মুখে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, গত দুদিনে সরকারি হাসপাতালে নিউমোনিয়া, অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বেডের সঙ্কট প্রকট। প্রায় সব হাসপাতালেই পেডিয়াট্রিক আইসিইউয়ের জন্য হাহাকার। কলকাতার হাসপাতালগুলিতে রোগীর চাপ সামলানো দায় হচ্ছে প্রতিদিন। তাই অ্যাডিনো ভাইরাস (Adeno Virus) রোগীদের পরিষেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ করার জন্য জেলাগুলিকে পরামর্শ দিল স্বাস্থ্য ভবন।

    অ্যাডিনো-দাপট ঠেকাতে নয়া নির্দেশিকা

    সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য ভবনে শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যকর্তারা। মূলত অ্যাডিনো ভাইরাস (Adeno Virus) মোকাবিলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা করাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। বৈঠকে স্বাস্থ্য ভবনের দাবি, কলকাতার তুলনায় এই মুহূর্তে জেলাগুলিতে অ্যাডিনো ভাইরাসের (Adeno Virus) দাপট অনেকাংশেই কম। তাই জেলা থেকে কলকাতার হাসপাতালগুলিতে ইচ্ছামতো কোনও রোগীকে রেফার করা যাবে না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী ওই রোগীদের রেফার করতে হবে। জেলা থেকে রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতায় অথবা যেখানে তার বন্দোবস্ত রয়েছে, সেখানে পাঠাতে হবে। এ ছাড়া, জ্বর বা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু হলে তার কারণ বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। 

    আরও পড়ুন: শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও কি অ্যাডিনোয় আক্রান্ত? নয়া ভ্যারিয়েন্ট চিন্তা বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের

    অ্যাডিনো ভাইরাসের জেরে শিশুদের নয়া ওয়ার্ড

    অ্যাডিনো (Adeno Virus) সংক্রমণ নিয়ে কলকাতার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে, শিশু ভর্তির সংখ্যা হাজারেরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে এদিন স্বাস্থ্যভবনে জরুরি বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেলেঘাটা আইডিতে শিশুদের নতুন ওয়ার্ড করা হবে। বিসি রায় হাসপাতালের চাপ কমাতে বেলেঘাটা আইডিতে ৫০ বেডের ওয়ার্ড খুলবে স্বাস্থ্য ভবন। শিশু বিভাগ থাকা হাসপাতালগুলিকে আরও ২ সপ্তাহ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে হাসপাতালগুলিকে। কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসকদের জেলাগুলিতে পরিদর্শনে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share