Tag: women reservation bill

women reservation bill

  • CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    CM Suvendu Initiates Census: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা শুরুতে ছাড়পত্র, আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা (Census) প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অবিলম্বে কেন্দ্রের নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতিও শুরু হবে।

    মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    এই ঘোষণা করতে গিয়েই আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া-র দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে রাজ্যে আসন্ন জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল সরকার সংবিধান এবং রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গে জনগণনা প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছিল, যাতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর না হয়। আজ মন্ত্রিসভা অবিলম্বে ওই বিজ্ঞপ্তি কার্যকর করার অনুমোদন দিয়েছে।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই জনগণনা?

    ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে স্থগিত হয়ে যায়। এরপর এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

    জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যা গণনার বিষয় নয়, এর উপর নির্ভর করে—

    • ● কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা
    • ● খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশন বণ্টন
    • ● স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো পরিকল্পনা
    • ● নগরায়ণ ও আবাসন নীতি
    • ● ভবিষ্যতের নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation)
    • ● মহিলাদের সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক তাৎপর্য
    • ● বিরোধী রাজ্যগুলি এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে!

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে নয়, রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে নতুন সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম অনুযায়ী লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে নতুন জনগণনা এবং পরবর্তী ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এই কারণেই জনগণনা বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী শাসিত কিছু রাজ্য পরোক্ষে এই প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করেছে।

    কী কী প্রস্তুতি শুরু হবে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতর জেলাশাসক, ব্লক প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শুরু করবে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে যে কাজগুলি শুরু হতে পারে—

    • ● প্রশাসনিক সীমানা ও ওয়ার্ড সংক্রান্ত তথ্য আপডেট
    • ● বাড়ি তালিকাকরণ (House Listing)
    • ● তথ্য সংগ্রহের জন্য ফিল্ড স্টাফ ও এনুমেরেটর প্রস্তুতি
    • ● ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের অবকাঠামো গড়ে তোলা
    • ● জেলা ও পুরসভা স্তরে সমন্বয় বৈঠক

    রাজ্য প্রশাসনের একাংশ জানিয়েছে, ক্যাবিনেট অনুমোদনের পর থেকেই বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হবে।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিজেপি সরকারের এটি অন্যতম প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। সরকার ইতিমধ্যেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়ানোর মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল জনগণনা। নতুন সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দিতে চাইছে যে, তারা কেন্দ্রের নীতি ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য স্থাপন করছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় সময়সূচি

    যদিও জনগণনা শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।

    এখনও জানা যায়নি—

    • ● বাড়ি তালিকাকরণ কবে শুরু হবে
    • ● মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কবে হবে
    • ● জনগণনা প্রক্রিয়া শেষ করতে কত সময় লাগবে

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমন্বয়ের পর বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

  • Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    Women’s Reservation Law: মহিলা বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই নারী সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ কার্যকর করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ভারতের রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইন কার্যকর করল মোদি সরকার (Modi Government)। এর মাধ্যমে, বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ আইন, ২০২৩ (Women’s Reservation Law) অবশেষে কার্যকর হল। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই এই আইন কার্যকর হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কী বলছে আইন (Women’s Reservation Law)?

    এই আইন অনুযায়ী—

    • ● লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে
    • ● তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি উপজাতি (ST)-এর জন্য সংরক্ষিত আসনের মধ্যেও একই হারে মহিলাদের জন্য কোটা থাকবে
    • ● ভবিষ্যতে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই সংরক্ষণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে
      কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে—

    • ● দেশের আইনসভায় মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে
    • ● নীতি নির্ধারণে নারীদের মতামত ও নেতৃত্ব আরও গুরুত্ব পাবে
    • ● রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার দিকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে

    গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছিল এই নারী সংরক্ষণ আইন। তবে তখনই এটি কার্যকর হয়নি। আইনের ধারা ১(২)-এ উল্লেখ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা পর্যন্ত আইন কার্যকর হবে না। সেই অনুযায়ী, এবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার দিন ঘোষণা করল। এই বিজ্ঞপ্তি এমন এক সময়ে জারি হয়েছে, যখন সংসদে নতুন করে সংবিধান সংশোধনী নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পেশ করেছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণনার পরবর্তী সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)-এর সঙ্গে যে শর্ত যুক্ত ছিল, তা পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। তবে, এখন পাশ হলেও, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হওয়ার কথা।

    নতুন প্রস্তাবে কী কী পরিবর্তন?

    ২০২৩ সালের আইনে বলা হয়েছিল, পরবর্তী জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সেই প্রক্রিয়া শেষ না হলে সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে এই শর্ত শিথিল করে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হলেই দ্রুত সংরক্ষণ চালুর পথ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বিরোধী দলগুলি নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, পুরনো জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটবে না।

    শুক্রবার লোকসভায় ভোটাভুটি

    আজ, শুক্রবার লোকসভায় এই সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হওয়ার কথা। যেহেতু এটি সংবিধান সংশোধনী বিল, তাই পাশ করাতে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে। পাশ হলে, তা ২০২৯ সালে কার্যকর হবে। এই প্রেক্ষাপটে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হওয়া এবং লোকসভা আসন বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের নতুন পদক্ষেপ, দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ ভারতের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং আগামী দিনে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

LinkedIn
Share