Tag: World Cup 2026

  • FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    FIFA World Cup 2026: শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড, লড়াই করে হার মিশরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, মেসিকে আর ১৫ মিনিটের জন্য বিশ্বকাপে দেখা যাবে। ঠিক তখনই লাউতারো মার্তিনেজকে নামালেন স্কালোনি। মেসিও সরে গেলেন একেবারে ডান প্রান্তে। বক্সের মধ্যে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে ছেড়ে দিল মিশরের রক্ষণ। সেরাদের জন্য ওই টুকুই যথেষ্ট। শুরু হল মেসি-ম্যাজিক (Lionel Messi)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও দিন ০-২ পিছিয়ে থেকে খেলা জেতেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি, ড্র পর্যন্ত করেনি তারা। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এটা আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তন। শেষ ১৩ মিনিটের মেসি-ঝড়ে ০-২ পিছিয়ে থাকা ম্যাচ ৩-২ জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মিশরের পিরামিডের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসিই। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড।

    ১৩ মিনিটের ঝর আর্জেন্টিনার

    আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে রক্ষণ, এদিন বার বার ভুল করেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল এক সময়। কিন্তু ১৩ মিনিটের ঝরে হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে মেসির আর্জেন্টিনা। বিতর্ক থাকবে। ফাউল থেকে মিশরের গোল বাতিল, কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিট যে মেসির ছিল, তা অতিবড় সমালোচকও মানবেন। ওই ১৩ মিনিটে লিয়োনেল মেসি ঢেকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার সব ত্রুটি। ৭৯ মিনিট। ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মেসি। হেডে গোল করে আর্জেন্টিনার সেরা প্রত্যাবর্তনের শুরুটা করলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর গোল করার দায়িত্ব মেসি নিজেই নিলেন। তাঁর ক্রসে যে আক্রমণ শুরু, তা শেষ হল তাঁর পায়েই। ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে দিলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত সময়ে এগোচ্ছে। ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল করলেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ।

    কেন এখনও দলের ভরসা মেসি

    আরও এক বার দলের রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন মেসি। হ্যাঁ, তিনি আবার সহজ পেনাল্টি ফস্কেছেন। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। হ্যাঁ, তাঁর ফ্রি কিক পোস্টে লেগে বেরিয়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, ৭২ মিনিট পর্যন্ত তিন মার্কারের দাপটে মিশরের বক্সে ঢুকতে পারছিলেন না তিনি। সেই মেসিই ৭৩ মিনিট থেকে ডান প্রান্তে সরে গেলেন। ব্যস, সেখানেই শেষ মিশর। জায়গা তৈরি করলেন নিজের জন্য। গোল করালেন। গোল করলেন। এই ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা খেলোয়াড় তিনিই। আর সেই কারণেই অসাধ্যসাধনের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অঝোরে কেঁদেছেন। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেছেন। সতীর্থেরা তাঁকে ঘাড়ে তুলে লাফিয়েছেন। মেসির কান্না বুঝিয়েছে, কতটা চাপে ছিলেন তিনি। সতীর্থদের উল্লাস বুঝিয়েছে, মেসি না থাকলে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেত তাঁদের। শুরু থেকে ধীরে চলো নীতি নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এত স্লো বিল্ড আপে মিশরের মতো গতিশীল দলকে চাপে রাখা মুশকিল। সেটাই হল এদিন। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হাসানের ক্রসে হেডে গোল করে মিশরকে প্রথমেই এগিয়ে দিলেন ইব্রাহিম। তারপরেই গোল জিকোর। ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত মাঠে দাপট ছিল মিশরেরই।

    মিশরের প্রতিবাদ, বিস্ফোরক অভিযোগ হাসানের

    আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও বিশ্বকাপে হেরে গিয়েছে মিশর। বিদায় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের কোচের হোসাম হাসান। জানালেন, মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতেই তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে। প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে। হাসান বলেন, “ফেয়ার প্লে-কে কোনও রকম সম্মান দেখানোই হল না। পেনাল্টি বাতিল করে দেওয়া হল। ভার-ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করল না। দ্বিতীয় গোল অদ্ভুত ভাবে বাতিল করা হয়েছে। সেখানেও ভার পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ আমরা সবাই দেখেছিলাম কী ভাবে পিছন থেকে জার্সি ধরে টানা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রেফারি ভাল ছিলেন না। অবিচার করেছেন আমাদের সঙ্গে। শুরু থেকে আমাদের বিরুদ্ধে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। উনি চাননি আমরা জিতি। এই ম্যাচ চুরি করা হয়েছে। আমাদের দোষ ছিল না।” মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে বা বিশ্বকাপ জেতাতেই ফিফা এই কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তাঁর কথায়, “ওরা বোধহয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চায়। হয়তো চায় মেসি আরও কিছু ক্ষণ খেলুক। ফুটবলে কিছু বাইরের শক্তিও রয়েছে যাদের সামনে কৌশলগত বুদ্ধি কাজে লাগে না। আর্জেন্টিনা সমস্ত বিভাগে ফিফার সাহায্য পাচ্ছে।”

    পেনাল্টি মিস, লজ্জার নজিরও মেসির

    তিনি গোল করছেন। গোল করাচ্ছেন। প্রতি ম্যাচে নেমে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছেন। কিন্তু পাশাপাশি একটি লজ্জার রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে এই রেকর্ড আর কারও নেই। বার বার একটি ভুল করছেন তিনি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি ফস্কেছেন মেসি। মিশরের বিরুদ্ধে ২১ মিনিটের মাথায় নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোকে বক্সের মধ্যে মিশরের ডিফেন্ডার ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট থেকে জঘন্য শট মারেন মেসি। গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন তিনি। সেই শট সহজে বাঁচিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মুস্তাফা বোশের। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি। সে বারও গোলরক্ষকের বাঁ দিক দিয়ে গোল করতে গিয়ে বাইরে মেরে বসেন মেসি। এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি ফস্কেছিলেন মেসি।

    বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোলের নজির

    গত বার থেকে ধরলে বিশ্বকাপে টানা ন’ম্যাচে গোল করলেন মেসি, যে রেকর্ড কারও নেই। বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের সংখ্যায় কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে ফারাক বাড়ালেন মেসি। তাঁর গোলের সংখ্যা ২১। এমবাপের ১৯। চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলও মেসির। ৮টি গোল করেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপের সব ম্যাচে গোল করেছেন মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে লিয়োনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ সুইৎজারল্যান্ড। এদিন কলম্বিয়া-সুইৎজারল্যান্ডের রাউন্ড অফ ১৬-র ম্যাচের নিষ্পত্তি হল টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গোল করতে পারেনি কোনও দলই। সুইৎজারল্যান্ড এবং কলম্বিয়া দু’দলই রক্ষণ আগলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দু’দলই বেশ কিছু গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতাই ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছে টাইব্রেকার পর্যন্ত। প্রায় সমানে সমানে লড়াই হলেও কলম্বিয়ার দাপট তুলনায় বেশি ছিল। কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য কথা। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে সুইৎজারল্যান্ডের কাছে হার মানতে হল কলম্বিয়াকে।

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    FIFA World Cup 2026: অবসর নেইমারের! হালান্ডের জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের, শেষ আটে ইংল্যান্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সেরা ম্যাচ খেলল ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। গোটা ম্যাচ জুড়ে টান টান লড়াই। ৫ গোল। দুই পেনাল্টি। লাল কার্ড। শেষ পর্যন্ত ১০ জনে খেলেই মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। আরও এক বার শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হল মেক্সিকোকে। কানাডার পর বিদায় নিল আরও এক আয়োজক দেশ। এর আগেই এদিন চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গিয়েছিল ব্রাজিলের। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে। আগের দু’টি বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিটকে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। এবার তার থেকে এক রাউন্ড আগেই ছিটকে গেল তারা। ২০০৬ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ২০ বছর সাম্বার তালে নাচতে পারেনি বিশ্ব-ফুটবল। এবারও তার অন্যথা হল না। বরং আরও জঘন্য-দিশাহীন ফুটবল খেললেন সেলেকাওরা। আর নয় তাই, চোখের জলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ব্রাজিলের ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

    বেলিংহ্যামের ঝড়, হ্যারিকেন-এর দাপট

    এই ম্যাচে নামার আগে আজতেকায় পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। মেক্সিকোয় তারা কোনও দিন মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। শেষ বার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের স্মৃতি এখনও টাটকা ইংরেজ সমর্থকদের মনে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৫০০ ফুটের বেশি উচ্চতা। তার উপর ৮০,০০০ দর্শকের সিংহ ভাগই মেক্সিকোর। ইংল্যান্ড জানত, তাদের সামনে কী আসতে চলেছে। ম্যাচের আগে থেকে মেক্সিকোর সমর্থকদের উগ্র আচরণ বা কোচের হুমকি হালকা ভাবে নেননি টমাস টুখেল। তিনি জানতেন, এই ম্যাচে কেনকে নড়তে দেবেন না মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই কারণে কেনের বদলে তিনি গোল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন জুড বেলিহ্যামকে। নিজের কাজ ভাল ভাবে পালন করলেন বেলিংহ্যাম। প্রথম ৩০ মিনিট মেক্সিকো দাপট দেখায়। ঘরের মাঠে সেটাই স্বাভাবিক। ইংল্যান্ডকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, চাপ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। বেলিংহ্যামকে শুরু থেকেই ছটফটে লাগছিল। ৩৬ মিনিটের মাথায় খেলার গতির বিপরীতে গোল ইংল্যান্ডের। বল জালে জড়ান বেলিংহ্যাম। সেই গোলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আবার গোল বেলিংহ্যামের। ৯৮ সেকেন্ডের মধ্যে। মেক্সিকোর ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কেনকে পাস দেন গর্ডন। কেনের মাইনাস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর সমর্থকদের দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছেন না। বিশ্বাস হচ্ছিল না টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শকদেরও।

    অ্যান্থনি গর্ডন-পিকফোর্ডও দুরন্ত

    এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের তিন ফুটবলার সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেন। বেলিংহ্যামের পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত খেললেন। আগের ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে ইংল্যান্ডের দু’টি গোলেই তাঁর অবদান ছিল। ফলে এই ম্যাচে শুরু থেকে তাঁকে খেলান টুখেল। কোচের ভরসা রাখলেন তিনি। তৃতীয় নাম গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ড। তিনি না থাকলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। রাউল হিমেনেজের হেড দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। গোটা ম্যাচে বেশ কয়েক বার ইংল্যান্ডের পতন রোধ করেন তিনি। বিরতির আগে ফ্রি কিক থেকে ফিরতি বলে এক গোল শোধ করেন জুলিয়ান কিনোনেস। মেক্সিকো প্রাণ ফিরে পায়। পরের কয়েক মিনিট ইংল্যান্ডের রক্ষণে ত্রাহিরব তোলে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবার টান টান ফুটবল। কেউ কাউকে জমি ছাড়ছিল না। কিন্তু ৫৪ মিনিটের মাথায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রেফারি আলি রেজা ফাঘানি। ভার রিপ্লে দেখে ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন তিনি। এই মাঠে আধ ঘণ্টার বেশি সময় এক জন কম খেলে মেক্সিকোকে আটকে রাখা কঠিন ছিল। বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদলালেন টুখেল। রাইসকে নীচে নামালেন। সাকাকে তুলে নামিয়ে দিলেন জন স্টোন্সকে। দুই অভিজ্ঞ ফুটবলার ইংল্যান্ডের রক্ষণ সামলালেন। ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রমণ থামায়নি ইংল্যান্ড। তার ফলও পায় তারা। বক্সের মধ্যে গর্ডনের গতি বুঝতে পারেননি মেক্সিকোর গোলরক্ষক। ফাউল করে বসেন। পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। গোল করতে ভুল করেননি কেন।

    দিশাহীন ফুটবল ব্রাজিলের

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধেই দুর্বলতা বোঝা গিয়েছিল। শেষ ৩২-এ জাপান দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। তা থেকে শিক্ষাই নিল না ব্রাজিল। সঙ্গত কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছুটি হয়ে গেল ব্রাজিলের। ছুটি করে দিলেন আর্লিং হালান্ড, যিনি সাত গোল করে বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশ্বকাপের নকআউটে কোনও না কোনও দলকে হারতেই হবে। সেটাই নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় সেই হারেও থাকে গর্ব। যেমন কিছু দিন আগে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কাবো ভার্দে হারলেও মন জয় করে নিয়েছিল। কিন্তু এ দিন ব্রাজিল যে ফুটবলটা খেলল, তাকে জঘন্য, দিশাহীন, লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। গোটা ম্যাচে এক বারও দেখে মনে হয়নি তারা জিততে পারে। পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। এই কি সেই ব্রাজিল, যেখানে খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো, রিভাল্ডো, রোনাল্ডিনহোর মতো ফুটবলার? তিন জনেই এ দিন নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। অবসর ভেঙে তারা ফিরে এলে বোধহয় কাসেমিরো, ব্রুনোদের চেয়ে ভাল খেলতেন। অন্তত এ ভাবে মাথা নিচু করে, লজ্জা নিয়ে ফিরতে হত না। নরওয়ের কাছে আগেই নিজেদের সমর্পণ করে দিয়েছিল ব্রা‌জিল। শুরু থেকেই ভয় নিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। ভাবটা এমন, যেন সামনে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার মতো দল খেলছে। এত রক্ষণাত্মক ফুটবল ব্রাজ়িল কবে খেলেছে তা মনে পড়া দুষ্কর।

    লম্বা রেসের ঘোড়া হালান্ড

    বিশ্বকাপ তাঁকেই মনে রাখে, যিনি বড় ম্যাচে কাজের কাজ করে দেখাতে পারেন। ঠিক সেটাই করে দেখালেন হালান্ড। প্রথম গোলটি করলেন হেডে। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতায় হওয়ায় এমনিই বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজ়‌িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধাই হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজ়‌িলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিন জন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাঁদের পিছনে ছিলেন ব্রাজিলের গোলকিপার। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটি ঘেষা শট মারলেন তিনি। সকলকে টপকে বল জালে জড়িয়ে গেল। ম্যাচের শেষে সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করতেও দেখা গেল তাঁকে। হালান্ড বোঝালেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

    বিশ্বকাপ স্পর্শের স্বপ্ন অধরা নেইমারের

    ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। রবিবার রাতে যেন সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখানেই ইতি টানলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার (Neymar)। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে হেরে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে নেইমারের এই ঘোষণায় আরও ভেঙে পড়েছেন ব্রাজিল ভক্তরা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এ বার সব শেষ। এখানেই যাত্রা শুরু করেছিলাম আমি। এখানেই শেষ করলাম।’ ১৬ বছরের কেরিয়ার শেষ হলো হার দিয়ে। ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের যেন অবসান ঘটল রবিবার। চোটসমস্যা, ফর্মের ওঠাপড়া, মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্ক পেরিয়েও নেইমার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে খেলার। তবে শেষটা হলো বেদনাদায়ক। জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০১০ সালে অভিষেক হয় জাতীয় দলের জার্সিতে। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। তবুও ব্যর্থ নায়ক নেইমার।

  • FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হল ১২০ মিনিট পর্যন্ত! দু’বার এগিয়ে গিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা (FIFA World Cup 2026)। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল জয় নিশ্চিত করে। ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই জয়ে মেসিদের খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রি-কোয়ার্টারে তারা খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে। এদিনই পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মিশর। শেষ দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশটি ১-০ ব্যবধানে হারাল ঘানাকে।

    ভারতের কাছেও প্রেরণা কাবো ভার্দে

    বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। তবে যে ভাবে তাদের জয় ‘অর্জন’ করে নিতে হল, তা কোনও ভাবেই খুশি করবে না সমর্থক থেকে ফুটবলারদের। এ বারের বিশ্বকাপে উজবেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল কাবো ভার্দের। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম বারেই কাবো ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কাবো ভার্দে। আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কাবো ভার্দের লড়াই। এমনকী ভারতের মতো ফুটবল পাগল দেশের কাছেও। সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশের কাছে বিশ্বকাপ খেলাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু বিপক্ষ আর্জেন্টিনা বলে আবেগে ভেসে যাননি কোনও ফুটবলার। বাড়তি কোনও সমীহ দেখাতে চাননি মেসিদের। মাঠেও সেটাই দেখা গেল।

    কাবো ভার্দের ‘টাফ’ ফুটবল

    বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ খেলেছে। তার মধ্যে ৯টি দেশ উঠেছিল নকআউটে। এখনও পর্যন্ত মরক্কো এবং মিশর বাদে ৬টি দেশ ছিটকে গিয়েছে। তার মধ্যে কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল গোল খেয়েছে একদম শেষের দিকে। কাবো ভার্দে সেখানে এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। শেষ দিকে যেখানে আফ্রিকার বেশির ভাগ দলের দম শেষ হয়ে আসছে, সেখানে কাবো ভার্দে আরও বেশি লড়াই করছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে দু’বার সমতা ফেরানো সাম্প্রতিক কালে কেউ করতে পারেনি। শারীরিক হোক বা মানসিক, আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ‘টাফ’ ফুটবল খেলেছে কাবো ভার্দেই। তাদের হাল না ছাড়া মনোভাব বাকিদের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    মেসি ম্যাজিক জাল বুনছে

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বেশ কয়েকটি নজির গড়লেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। এ বারের বিশ্বকাপে সাতটি গোল হয়ে গেল মেসির। তাতেই হয়েছে নজির। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দু’টি বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন। টপকে গেলেন পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপেকে। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ২৯ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝ মাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দেওয়া পাস ধরে গোল করেন। এই গোল এ বারের বিশ্বকাপে তাঁর সাত নম্বর গোল। বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের ফুটবলারের মোট গোলের সংখ্যা বেড়ে হল ২০। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাতটি গোল করেছিলেন মেসি। এ বারও সাত গোল হয়ে গেল তাঁর। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে সাতটি বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

    পেলে-মারাদানার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১২টি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। নিজে করেছেন ছ’টি গোল। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ছ’টি গোল। গত ৬০ বছরে বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এতগুলি গোলের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে মেসি টপকে গেলেন পেলে এবং এমবাপেকে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁদের দু’জনেরই অবদান রয়েছে ১১টি করে গোলে। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনার একটি নজিরও টপকে গিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে মারাদোনা সতীর্থদের দিয়ে মোট আটটি গোল করিয়েছিলেন। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর মেসি মোট ন’টি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। অর্থাৎ এক ম্যাচে পেলে এবং মারাদোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।

    গোল-মেশিন মেসি

    আরও একটি নজির গড়েছেন এলএম টেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টানা পাঁচটি ম্যাচে গোল করলেন মেসি। এ ক্ষেত্রেও তিনি হলেন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার। এমন কীর্তি আর কারও নেই। ৩৫ বছর বয়স হওয়ার পর বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা এখন ১৪। আর কোনও ফুটবলার ৩৫ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপে এত গোল করতে পারেননি। বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসাবেও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড রয়েছে মেসির দখলে। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা হল ১৯। বিশ্বকাপে ১৪টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করা হয়ে গেল মেসির। বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপে এতগুলি দেশের বিরুদ্ধে গদোল করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিন প্রাক্তন ফুটবলার। য়ুরগেন ক্লিন্সম্যান, রোনাল্ডো নাজ়ারিয়ো এবং মিরোস্লাভ ক্লোজ ১০টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করেছেন।

    ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ!

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ৩০তম ম্যাচ খেললেন মেসি। আর কোনও ফুটবলারের বিশ্বকাপে এতগুলি ম্যাচ খেলার নজির নেই। আরও একটি নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিলেরমো স্ট্যাবিল আট গোল করেছিলেন। কোনও একটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এটিই। এ বারের বিশ্বকাপে মেসি আর একটি গোল করলে স্ট্যাবিলের ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করবেন।

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্লাব ফুটবলে তাঁরা দীর্ঘদিন সতীর্থ ছিলেন। সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছে তাঁদের যুগলবন্দি। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ আর আক্রমণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেই বোঝাপড়ার ফসল ছ’বছর তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তাঁদের ক্লাব আলাদা হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। তাদের লড়াই দেখতে শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটেয় (ভারতীয় সময়) টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা (FIFA World Cup 2026)। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে টরন্টোয় মুখোমুখি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অন্যদিকে প্রায় একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।

    রোনাল্ডো বনাম মদ্রিচ

    রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনেরই বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে, এই প্রথম দুই চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হলেন। সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

    রোনাল্ডোর গোলে সমতা

    পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই জয়সূচক গোল করেন রামোস।

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি সি আর সেভেনের

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন। টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসিকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। এদিন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

    একপেশে জয় স্পেনের

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে, তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।

    বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন

    যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। এদিন জোড়া গোল করে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। ওয়ারজাবালে গোল করলেও এদিন স্পেনের হয়ে গতিতে মাতালেন ইয়ামাল। এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা।

     

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

    মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

    সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।

    ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর

    ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।

    শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা

    মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

     

     

LinkedIn
Share