SSC Scam: নজিরবিহীন! ৩০ মিনিট ধরে মানিককে হাইকোর্টে জেরা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

PTI10_11_2022_000202B

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট না নিয়েই প্রাথমিকে নিয়োগ করার অভিযোগে বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে তলব করা হয় মানিককে। তাঁর কথায়, ‘আমি সত্যিটাই বলতে চাই। সত্য সহজ, সত্য সুন্দর। আমার বিরুদ্ধে যা পদক্ষেপ করা হোক। আমি মেনে নেব।’ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হঠাতই নরম সুর মানিক ভট্টাচার্যের।

হাইকোর্টে হাজির মানিক

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের তলব পেয়ে বুধবার দুপুরেই কলকাতা হাইকোর্টে হাজির করানো হল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে দুপুর সোয়া ৩টে নাগাদ আদালতে নিয়ে আসা হয়। পুলিশি ঘেরাটোপে মাথা নীচু করেই আদালতের ভিতরে ঢুকে যান মানিক। মুখে মাস্ক, পরনে সাদা শার্ট এবং কালো ট্রাউজার পরে আদালতে ঢোকেন মানিক। জেলবন্দি আসামিদের সাধারণত হাইকোর্টে হাজির করানো হয় না। তাঁদের শুনানি হয় নিম্ন আদালতে। নিয়োগ মামলায় মানিক জেলে যাওয়ার পর তাঁর নানা আবেদনের শুনানি নিম্ন আদালতেই হয়েছে। কিন্তু বুধবার সেই প্রচলিত ধারা ভেঙেই মানিককে হাইকোর্টে হাজির করানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি।

আধ ঘণ্টা ধরে বিচারপতির সঙ্গে কথোপকথন

নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে মানিক এজলাসে পৌঁছলে তাঁকে একের পর এক প্রশ্ন করেন বিচারপতি। আদালতে মানিকের হাজিরা দেখতে এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস ছিল ভিড়ে ঠাসা। বেলা ৩টে ১৬ মিনিটে মানিককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বিচারপতি। জেরা পর্ব চলে বেলা ৩টে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। আধ ঘণ্টা ধরে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত মানিককে নানা প্রশ্ন করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফলপ্রকাশের দায়িত্বে কারা ছিল। কী ভাবে তাদের নির্বাচন করা হয়েছিল এই সংক্রান্ত প্রশ্ন করেন বিচারপতি। বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিলেও, কয়েকটি প্রশ্নে উত্তর দেওয়ার জন্য সময় চাই বলে জানান মানিক। 

প্রশ্নবানে বিদ্ধ মানিক

‘২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কী জানেন?’ বিচারপতির এই প্রশ্নের উত্তরে মানিক বলেন, ‘আদালত ডেকেছে তাই এসেছি। আমি জেলে রয়েছি। আমার কাছে কোনও তথ্য বা নথি নেই। তাই স্মরণে যা আছে, তাই বলতে পারি।’ ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল কে প্রকাশ করেছিল? সেটাও এদিন জানতে চান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। মানিক বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারি না। বিশেষ করে এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে বোধগম্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার মোট নম্বর তৈরি করে বিভিন্ন বিভাগ মিলে।’

আরও পড়ুন: হনুমান জয়ন্তীতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী! শান্তি বজায় রাখতে কী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট?

বাইরের কোন সংস্থাকে রেজাল্ট প্রস্তুত করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল? বিচারপতির এই প্রশ্নের উত্তরে মানিক জানান, একটি সংস্থাকে নিয়োগ করা হয়েছিল, তবে তার নাম এখন আর মনে নেই। বিচারপতি এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির নাম উল্লেখ করাতে, মানিক বলেন, ‘হ্যাঁ ওই ধরনের নাম শুনেছি।’এর পর মানিককে হাইকোর্টে কলকাতার শেরিফের দফতরে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। জানান, মানিকের সমস্ত বক্তব্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেই কাগজে সই করে তবে তিনি আদালত ছাড়তে পারবেন।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share