TET-Scam: মানিক-ঘনিষ্ঠের ৩৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে ইডি! জানেন কে এই তাপস মণ্ডল?

TapasMondal

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নয়া সংযোজন তাপস মণ্ডল। মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলই (Tapas Mandal) এখন ইডির (ED) প্রাইম স্লট। কিন্তু কে এই তাপস মণ্ডল? রাজ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক, প্রভাবশালী, উচ্চশিক্ষিত এই তাপসকে এতদিন খুব বেশি লোকে জানতেন না।  এখন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বাড়ি থাকলেও, আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা তাপস। আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৫ সাল রাজ্যে তখন ক্ষমতায় সিপিএম, পাঁশকুড়া স্টেশন বাজার লাগোয়া এলাকায় একটি চিটফান্ড খুলেছিলেন তাপস মণ্ডল। সেই চিটফান্ড কোম্পানির নাম ছিল মিনার্ভা ফাইনান্স লিমিটেড। বাজারের চেয়ে বেশি সুদের লোভ দেখিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছিল এই চিটফান্ড কোম্পানি। জাল ছড়িয়ে পড়েছিল তত্‍কালীন অবিভক্ত মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, এমনকি পড়শি রাজ্যের ভুবনেশ্বরেও। এরপর চিটফান্ড সংক্রান্ত একটি মামলায় ১৯৯০ সালে ওড়িশা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তাপস মণ্ডল। কয়েকমাস জেলও খাটেন। তারপরই চিটফান্ডের ব্যবসা গুটিয়ে নেন তিনি।

আরও পড়ুন: এবার কেষ্টকন্যা সুকন্যাকে দিল্লিতে তলব ইডির

সম্প্রতি তাপস একাধিক ট্রাস্ট চালাতেন। সেই ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মূল প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে মহিষবাথানে। সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। গত শনিবার সেখানে তল্লাশি চালান ইডির তদন্তকারীরা। এ ছাড়াও,কলেজ স্ট্রিটের একটি ঠিকানা ও তাপসের বারাসতের বাড়ি টানা তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। রাজ্য ডিএলএড কলেজ ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন তাপস। এ ছাড়া, ‘অল বেঙ্গল টিচার্স ট্রেনিং অ্যাসোসিয়েশন’ এরও সভাপতি ছিলেন। ইডির অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছে টাকা নিয়েছেন তাপস। এমনকি, উচ্চপ্রাথমিকে চাকরি দেবেন বলেও অনেকের কাছ থেকে ‘অগ্রিম’ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু সেই প্যানেল তৈরি না হওয়ার কারণে চাকরি দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: মানিক ঘনিষ্ঠের টিচার্স ট্রেনিং সেন্টারে ইডি! ভাঙা হল তালা, জানেন কী মিলল?

ইডি সুত্রে খবর,ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজরে রয়েছে মোট ৩৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ৪টি এনজিও, ৮ মোবাইল ফোন ও তাপস মণ্ডলের ৬ সহকর্মী। ইডির তরফ থেকে জানা গিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তাপস মণ্ডলের এক আত্মীয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার পর। সেখানে দেখা গিয়েছিল, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার থেকে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল। সেই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ছিল তাপসের। তারপরেই শুরু হয় তদন্ত।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share