Abhishek Banerjee: অভিষেকই ‘কয়লা ভাইপো’? মেনে নিচ্ছে তৃণমূল?

suvendu_abhishek

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) একটি ট্যুইট নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

বিষয়টা ঠিক কী? রবিবার বিকেলে ট্যুইটারে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) লেখেন, ‘বিরাট নিরাপত্তা বলয়ে তাজ বেঙ্গলে “কয়লা ভাইপোর” ছেলের জন্মদিন পালন হবে। সেই উপলক্ষে নিরাপত্তা আঁটোসাটো করা হয়েছে। ৫০০-র বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। বসেছে মেটাল ডিটেক্টর।’

নন্দীগ্রামের বিধায়কের কটাক্ষ, ‘এই নিরাপত্তার আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি। ‘মমতা পুলিশের’ এক অফিসার জামালকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থার আয়োজন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লেডি কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উত্তর কোরিয়ার আসল কিম জং উনের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। আভিজাত্য ও বিলাসে অনেক সময় তাকে ছাপিয়েও যাচ্ছেন।’

ট্যুইটে কোথাও কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধুমাত্র কোনও এক তথাকথিত “কয়লা ভাইপোর” ছেলের জন্মদিন পালন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। অথচ, বিরোধী দলনেতার ট্যুইটের পরই, তৃণমূল যুব ও তৃণমূল ছাত্র শাখা সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেওয়া হয়, সোমবার (আজ) থেকে শুভেন্দু অধিকারীর মানসিক সুস্থতা কামনা করে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাবে তারা। থাকবে গোলাপ ফুল, গ্রিটিংস কার্ডও। পাশাপাশি থাকবে একটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ছবি। আর সেই কার্ডেই লেখা থাকবে ‘গেট ওয়েল সুন’ বার্তা। 

এখন তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস কী করে ধরে নিল যে তাদের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Abhishek Banerjee) আসলে “কয়লা ভাইপো”? এটা কি তাহলে স্বীকারোক্তি? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা সম্ভাবনা হতে পারে যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এমন চাপে আছেন যে মাথা কাজ করছে না। তাঁদের মতে, এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা না করে, বিতর্ক উসকে দিলেন তৃণমূল নেতারা। ঠিক যেন— ঠাকুরঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি !!!

কেউ যদি এই ঘোষণায় মনে করা হয়ে থাকে যে এই বার্তা পাঠানোর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে হয়তো রাজ্য রাজনীতিতে ‘মুন্নাভাই’ খ্যাত গান্ধীগিরির আমদানি হবে এবং বিগত কয়েক মাসের কুকথার রাজনীতির অবসান হবে, তাহলে সেই ভুল আজ ভেঙে গেছে। যে সকল যুবকরা আজ সকালে শান্তিকুঞ্জের (শুভেন্দুর বাসভবন) সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁরা অন্তত গান্ধীগিরির ধার ধারেননি। গেরিলা কায়দায় পুলিশের অবরোধ ভেঙে শান্তিকুঞ্জে আক্রমণ করাই তাঁদের লক্ষ্য ছিল।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, আসলে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির বিতর্কিত মন্তব্যে তৃণমূল এখন ব্যাকফুটে। তাই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়ে নজর অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছে। তাই অভিষেককে “কয়লা ভাইপো” স্বীকৃতি দিতে তৃণমূল দল দ্বিধাবোধ করেননি। অভিষেকের গায়ে কয়লার কালি মাখিয়ে যদি অখিল গিরির জ্বালানো কয়লার উনুনের আঁচ কমানো যায়।

আরও পড়ুন: অখিল গিরির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

তবে আজ ১৪ নভেম্বর, শিশু দিবস। এইদিনেই জন্মছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াও বাচ্চাদের প্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে এই দিনটি শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়। নেহরুর কোটে সবসময় গোঁজা থাকত একটি তাজা গোলাপ ফুল। সেই দিনই তৃণমূল গোলাপ ফুল পাঠাচ্ছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এখন দেখা যাক শুভেন্দু গোলাপের কাঁটায় বিদ্ধ হন নাকি পাল্টা বিদ্ধ করেন শাসক দলের কুশীলবদের!

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share