India VS Pakistan: বিরাটের দুরন্ত পারফরম্যান্সে শেষ বলে জয় টিম ইন্ডিয়ার

1666527765_match

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেলবার্নে বিরাট দীপাবলী পালন করছে ভারতীয়রা। ভারত পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা সাক্ষী রইল মেলবোর্নের ৯০ হাজারের বেশি দর্শক। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত। কোহলীর চওড়া ব্যাটে ভারত পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচটি জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল রোহিতরা।

গত কয়েক বছর ধরেই বিরাটকে সইতে হয়েছে অবজ্ঞা, অপমান, উপেক্ষার জ্বালা। হাত থেকে গিয়েছে জাতীয় দলের নেতৃত্ব । এমনকি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার কথাও শুনতে হয়েছে। ‘ফুরিয়ে গিয়েছেন,’ ‘বুড়ো হয়ে গিয়েছেন’ শব্দ বন্ধনী আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে তাঁকে। এর আগে এশিয়া কাপেই নিজের ফর্মের ঝলক দেখিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও ব্যাটে রান পেয়েছিলেন দুবাইয়ে।

তবে এই তাঁর মহারাজকীয় প্রত্যাবর্তনের জন্য আরও বড় মঞ্চ তৈরি রেখেছিলেন। যে বিশ্বকাপ থেকে লজ্জার বিদায়ে ক্যাপ্টেন হিসাবে এক বছর আগে মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছিল, সেই বিশ্বকাপ প্ল্যাটফর্মেই অতিমানবীয় ইনিংস খেললেন বিরাট। সম্মোহিতের মত এতে আত্মসমর্পণ করে ছাড়া যাতে উপায় ছিল না পাকিস্তানের।

[tw]


[/tw]

কোহলি যে সময় ব্যাট করতে নেমেছিলেন ভারত তখন অথৈ জলে হাবুডুবু খাচ্ছে। রবিবার ১৬০ স্কোরকেও এক সময় টিম ইন্ডিয়ার কাছে পাহাড়-প্রমাণ ঠেকাচ্ছিল। দ্রুত একের পর এক উইকেট খুঁইয়ে ইনিংসের শুরুতেই ভারতের হার প্রায় নিশ্চিত হতে চলেছিল।

ভারতের টপ অর্ডার কিন্তু নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। যার চাপ পড়ে টিমের মিডল অর্ডারে। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই দুমড়ে মুচড়ে একাকার হয়ে যায় ভারত টপ অর্ডার । কেএল রাহুল, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব আউট হয়ে যাওয়ার পরে লোয়ার অর্ডারকে বাঁচাতে সাত-তাড়াতাড়ি নামানো হয় অক্ষর প্যাটেলকে। তিনিও দ্রুত রান আউট হয়ে যাওয়ার পর মাত্র ৩১ রানে দাঁড়ায়। ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ১০ ওভারে ৪ উইকেট খুইয়ে মাত্র ৪৫ জোটে। সেখান থেকে ভারতকে ম্যাচে ফেরানো অকল্পনীয় মনে হচ্ছিল।

তবে লক্ষ্য কঠিন হলেও তবে অসম্ভব ছিল না। কেন না, ক্রিজে বিরাট-হার্দিক জুটি। ব্যাটে-বলে টাইম করতে গোটা ইনিংস জুড়েই হার্দিক সমস্যায় পড়লেও  ৩৭ বলে ৪০ রানের দাঁত কামড়ে থাকা হার্দিকের সঙ্গেই কোহলি পঞ্চম উইকেটের পার্টনারশিপে তুললেন ১১৩ রান। হঠাৎ যে ম্যাচ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, সেই ম্যাচেই পাল্টা লড়াই জমিয়ে দেন দুজনে।

[tw]


[/tw]

শেষ ওভার যেন কমেডি অফ এরর। রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ । বাঁ হাতি স্পিনার মহম্মদ নওয়াজকে আক্রমণে আনেন বাবর। হার্দিক পান্ডিয়া বরাবর স্ট্রাইক করতে সমস্যায় পড়ছিলেন। তিনি শেষ ওভারের প্ৰথম বলেই হাঁকাতে গিয়ে সোজা ক্যাচ তুলে বিদায় নিলেন। বিরাট ও হার্দিকের জুটি ভাঙ্গে। পরের দুই বলে উঠল মাত্র ৩ রান। তবে চতুর্থ বলেই নাটকীয় ঘটনা। হাই ফুলটসে কোহলি মাঠের বাইরে বল পাঠানোর পরে আম্পায়ার উচ্চতার জন্য নো দেন। ফ্রি-হিটে কোহলি বোল্ড হলেও দৌঁড়ে তিন রান নেন বিরাট। শেষ ২ বলে ২ রান। পঞ্চম বলে স্টাম্পড দীনেশ কার্তিক।শেষ বলে ২ রান। ক্রিজে অশ্বিন। অশ্বিন মিড অফের উপর দিয়ে খেলে সিঙ্গল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এই মুহূর্তের আগে অবধি ভারতীয় সমর্থকদের যেন হৃদযন্ত্র খুলে বসতে হয়েছিল। জয় নিশ্চিত হতেই বিরাট নিজের আবেগকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন বিরাট । উইকেটের মধ্যে মারেন ঘুসি।হেলমেট খুলে বার বার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন। মাঝে মধ্যে হাঁফ ছাড়তে দেখা যাচ্ছিল। সত্যিই তো, মেলবোর্নের মাঠে ইনিংসের শুরুতে যে ভাবে তিনি দু’রান, তিন রান নিয়েছেন তাতে ক্লান্তি আশা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্লান্তির থেকেও অনেক বেশি স্বস্তি দেখা যাচ্ছিল কোহলির মুখে।

আজীবনের চেজ মাস্টার বিরাট পুনরায় ফর্ম ফেরায় ইনিংস জুড়ে আরও কিছু রেকর্ডের অপেক্ষা করছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।

দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share