মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেল মন্ত্রকের অধীনে থাকা ভারতীয় রেলওয়ে (Indian Railways) এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও বিস্তৃত বিদ্যুতায়িত রেল নেটওয়ার্ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতীয় রেলের প্রায় ৯৯.২% ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক বিদ্যুচালিত হয়েছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী “মিশন ১০০% বিদ্যুতায়ন” উদ্যোগটি দেশের পরিবহণ ব্যবস্থার মেরুদণ্ডটিকে ডিজেল-নির্ভর নেটওয়ার্ক থেকে একটি দ্রুত, কার্যকর এবং পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় আরও উন্নত মাধ্যমে রূপান্তরিত করেছে। আধুনিকীকরণের পাশাপাশি, এই প্রকল্প দূষণ কমায়, জ্বালানি সুরক্ষা জোরদার করে এবং দ্রুত, পরিবেশবান্ধব ও নির্ভরযোগ্য ট্রেন (Electrified Rail System) চলাচল নিশ্চিত করে। যোগাযোগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যই প্রধান বিষয়।
এক শতাব্দীর বিদ্যুতায়ন: বম্বে থেকে দেশব্যাপী (Indian Railways)
ভারতে বিদ্যুচালিত ট্রেনের (Indian Railways) যাত্রা শুরু হয় ১৯২৫ সালে, তখন বম্বে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস এবং কুরলা হারবারের মধ্যে প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়। স্বাধীনতার সময় পর্যন্ত এটি মাত্র ৩৮৮ রুট কিলোমিটার (RKM) ছিল। কয়েক দশক ধরে বৈদ্যুতিক প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চললেও, গত দশকে এর গতি এখন দারুণ ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১.৪২ কিলোমিটার হারে বৈদ্যুতিককরণের কাজ হয়েছিল। কিন্তু, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই গতি প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬৯,৪২৭ রুট কিলোমিটার বৈদ্যুতিক (Electrified Rail System) প্রক্রিয়ার কাজ হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ৪৬,৯০০ রুট কিমি যুক্ত হয়েছে।
চূড়ান্ত ভাবে ইলেকট্রিক তার লাগানো
ভারতীয় রেলের (Indian Railways) মোট ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক প্রায় ৭০,০০১ রুট কিমি। এর মধ্যে, ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এখন সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুতায়িত হয়েছে, যেখানে আর কোনও কাজ বাকি নেই। শুধুমাত্র পাঁচটি রাজ্যে রাজস্থান, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, অসম এবং গোয়ায় সামান্য কিছু অংশ বৈদ্যুতিককরণের কাজ বাকি আছে। মোট নেটওয়ার্কের মাত্র ০.৮% অর্থাৎ ৫৭৪ কিমি বাদ।রেলের এই মিশন ১০০% বিদ্যুতায়ন কয়েক দশকের বিনিয়োগ, পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত গ্রহণের প্রতিনিধিত্ব করে। সেই সঙ্গে, দ্রুত এবং আরও সংযুক্ত ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে শক্তিশালী করে।
বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের অবস্থান
রেল (Electrified Rail System) নেটওয়ার্কের ৯৯.২% বৈদ্যুতিককরণ করার মাধ্যমে ভারত এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রেল ব্যবস্থাগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বেজুড়ে নানা দেশগুলির মধ্যে যেমন সুইৎজারল্যান্ড ১০০%, চিন ৮২%, স্পেন ৬৭%, জাপান ৬৪%, ফ্রান্স ৬০%, রাশিয়া ৫২%, এবং যুক্তরাজ্য ৩৯% -এর মতো আধুনিকীকরণ এবং টেকসই বৈদ্যুতিককরণের (Indian Railways) কাঠামো গড়ে তুলেছে।
কেন বিদ্যুতায়ন গুরুত্বপূর্ণ: পরিচ্ছন্ন, দ্রুত, স্মার্ট
পরিবেশ ও অর্থনীতির প্রেক্ষিতে ইলেকট্রিক (Electrified Rail System) ট্র্যাকশন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমায়, পরিচালনার খরচ হ্রাস করে এবং আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি সুরক্ষাকে জোরদার করে। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ডিজেলের তুলনায় প্রায় ৭০% বেশি সাশ্রয়ী। ফলে যাত্রীরা দ্রুত, মসৃণ এবং অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা উপভোগ করেন এবং পণ্য পরিবহন (Indian Railways) আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে।
সৌরশক্তির সংযুক্তি: ট্র্যাকগুলিতে আলো
বৈদ্যুতিককরণের (Electrified Rail System) পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটছে ভারতীয় রেলে। ভারতীয় রেলের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০১৪ সালের ৩.৬৮ মেগাওয়াট থেকে বহু গুণ বেড়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৮৯৮ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৬২৯ মেগাওয়াট (প্রায় ৭০%) সরাসরি ইলেকট্রিক ট্রেনের (Indian Railways) ট্র্যাকশন পাওয়ারে ব্যবহৃত হয়। দেশের ২,৬২৬টি স্টেশনে এখন সৌরবিদ্যুৎ ইনস্টল করা হয়েছে।
আধুনিক নির্মাণ কৌশল
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ইলেকট্রিক (Indian Railways) প্রকল্পগুলিকে আরও দ্রুত বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমনির্ভর পদ্ধতির পরিবর্তে এখন বেলনাকৃতি যান্ত্রিক ভিত্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও, স্বয়ংক্রিয় ওয়্যারিং ট্রেন (Electrified Rail System) একই সঙ্গে ক্যাটেনারি এবং কন্ট্যাক্ট তারগুলি সুনির্দিষ্ট টেনশনে স্থাপন করে কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং কাজের গুণমান নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে।

Leave a Reply