মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই এ যে অন্য অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। উধাও পরিচিত দাপট। দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার চোখে জল। উধাও একসময়ে পুলিশকে বোমা মারার নিদান দেওয়া ‘বাহুবলী’ নেতার পরিচিত বচন। এখন নেতার মুখে কুলুপ। যাকে বলে ‘স্পিক্-টি নট’। হঠাৎ কী হল কেষ্টর?
বৃহস্পতিবার সকালে গরুপাচার মামলায় বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রতকে গ্রেফতার করে সিবিআই। বোলপুরে তাঁর বাড়ির সামনে ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষ করেন অনেকেই। বীরভূমের এই ‘বেতাজ বাদশা’-কে যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানেই ‘চোর, চোর’ রব উঠেছে। তাঁকে যখন নিয়ে আসানসোল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় অনুব্রতর গাড়ি দেখে জনতা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওঠে ‘গরু চোর’ স্লোগান। এরপর অনুব্রতকে আদালতে পেশ করা হলে, সেখানেও জুতো হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলে। আসানসোল কোর্টের বাইরে বাম-বিজেপির একযোগে বিক্ষোভ। তাঁদের মুখেও ছিল ‘চোর, গরু চোর’ স্লোগান।
আরও পড়ুন: একসময় বেচতেন মাগুর, সেখান থেকে কীভাবে তৃণমূলের ‘মুগুর’ হয়ে উঠলেন কেষ্ট?
এরপর ১০ দিন হেফাজতে নেওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যেবেলা অনুব্রতকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় সিবিআইয়ের কনভয়। মাঝে পালসিটের একটি পেট্রল পাম্পে থেমেছিল অনুব্রতের গাড়ি। সেখানেই কনভয়ের পিছনে থাকা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কেষ্ট। সেই সময় তাঁকে দৃশ্যতই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। তাঁর চোখের কোণে জল দেখা যায়। বেশ কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর দিকে। যদিও কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি তিনি। গাড়ির মধ্যই চুপ করে বসেছিলেন। কেষ্ট পুরো সময়টা কিন্তু নির্লিপ্ত ছিলেন।
এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত বীরভূম দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। বলা হতো, রাজ্যের নয়, বীরভূমে অনুব্রতর শাসন চলে। এতটাই ছিল তাঁর প্রতাপ, প্রতিপত্তি ও প্রভাব। লোকে বলত, কেষ্টর দাপটে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়। আজ, গরুচুরির দায়ে সিবিআই হাজতে কেষ্ট। সিবিআই হাজিরা এড়াতে আগামী ১৫ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবসে বাড়িতে যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন কেষ্ট। কিন্তু, তাঁর আগেই সিবিআই হেফাজতে গেলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বন্যেরা বনে সুন্দর, চোরেরা জেলে, অনুব্রতর গ্রেফতারিতে প্রতিক্রিয়া সুকান্তর
অনুব্রত সম্ভবত দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনওদিনও তাঁকে এদিন দেখতে হবে। নিজের বাড়ির সামনে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনতে হবে। তাই কি চোখে জল? তৃণমূলের অন্দরে খবর যে, বেশ কিছুদিন ধরেই কেষ্ট দিদিকে ফোনে ধরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, পারেননি। অনেকটা এসএসসি কাণ্ডে (SSC scam) ধৃত দলের আরেক হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) মতো। তিনিও জানিয়েছিলেন, দিদিকে ফোন করে পাননি। তাঁর দুর্দিনে দল তাঁকে ঝেড়ে ফেলেছে, তা বুঝতে পেরে কেষ্টর এই আক্ষেপ? তাঁর চোখে জল? এত কিছু চেষ্টা করেও, শেষ রক্ষা হল না! কী ভাবছেন কেষ্ট?
Leave a Reply