Author: ishika-banerjee

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত আবারও ইতিহাস গড়লেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার (Fighter Combat Leader – FCL) কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ভাবনা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (TACDE)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে আইএএফ-এর অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ উন্নত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শুধুমাত্র নির্বাচিত ফাইটার পাইলটদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করলে সংশ্লিষ্ট পাইলটরা আকাশপথে কঠিন যুদ্ধাভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

    শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় ভাবনা

    ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টকে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ফাইটার ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্যাদা অনেকটা মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ (Strike Fighter Tactics Instructor Programme)-এর সমতুল্য। এখানে উন্নত যুদ্ধকৌশল, মিশন পরিকল্পনা, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার কৌশল, পাশাপাশি উচ্চ-তীব্রতার সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট ও এয়ার কন্ট্রোলাররা। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় স্থান করে নিলেন ভাবনা।

    কে এই স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত?

    বিহারের দারভাঙার বাসিন্দা ভাবনা কান্ত একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলটদের ব্যাচের সদস্য হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁর সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। সামরিক বিমানচালনায় নারীদের অগ্রযাত্রায় ভাবনা কান্ত একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমোদন পান। প্রথমে তিনি মিগ ২১ বাইসন উড়িয়েছেন, পরে এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ওড়ান। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর এবার ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের নেতৃত্ব ও যুদ্ধক্ষমতার ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাবনা কান্তের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

  • Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ (Mohan Bhagwat on Reservation) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও চলবে।” তবে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছেন, তাঁদের উচিত উদারতার পরিচয় দিয়ে সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ উপকৃত হতে পারেন। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ এক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২,০০০ তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

    ‘আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সংরক্ষণকে দেখতে হবে’

    শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ অনির্দিষ্টকাল চলবে কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভাগবত বলেন, বিষয়টি ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ সামাজিক কারণে চালু হয়েছে। যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও থাকবে। সংরক্ষণের মাধ্যমে যাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় এই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ সুযোগ পান।” তিনি জানান, সংরক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যেই এমন মানসিকতা গড়ে উঠছে যে, সংরক্ষণ কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; এর সুফল নিয়ে নিজেদের উন্নত করার পর অন্যদের জন্য সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    উপ-শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে মত

    সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিন্যাস (Sub-categorisation) নিয়ে ওঠা দাবির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য হল সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও মতামত দিয়েছে। ভাগবতের বক্তব্য, সংরক্ষণকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, তবে দ্রুত সামাজিক বৈষম্য কমবে এবং একসময় সংরক্ষণের প্রয়োজনও শেষ হবে। তার আগে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়।

    ‘রাজনীতিকরণই সমস্যার মূল’

    সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে মোহন ভাগবত বলেন, এটি মূলত সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করায় সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যবস্থাটি ভুল নয়। কিন্তু যারা এটিকে ব্যবহার করছে, তারা ভুলভাবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা না বদলালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সংরক্ষণ নীতির পর্যালোচনা বা সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভের আবহে সংঘ প্রধানের এই মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি রা যদি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে, তাহলে সেটিকে কেবল বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ করলেই নতুন প্রজন্মকে ‘দেশ-বিরোধী’ (Anti-National) দেগে দেওয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আজকের ‘জেন জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তার অর্থ এই নয় যে তারা দেশবিরোধী। ওরা দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে।

    জেন জি ও জেন আলফা দেশের ভবিষ্যৎ

    বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat on Gen-Z) বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের বয়সে ছিলাম, তখন প্রবীণদের কথা চোখ বন্ধ করে শুনে নিতাম। প্রশ্ন করার সাহস বা মানসিকতা ছিল না। কিন্তু আজকের জেন জি যুক্তিসহ উত্তর চায়। তারা না বুঝে কোনও কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যদি জেন জি কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তবে তারা দেশবিরোধী, এমন তো নয়। তারা আমাদেরই পরিবার, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে এই নতুন প্রজন্ম – জেন জি এবং জেন আলফা (Gen Alpha) অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সেবার সৎ বার্তা ওদের ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করে।’’

    সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

    সমাজে মতভেদ বা অসন্তোষের পরিস্থিতিতে সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও তা যেন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে, বরং ঐকমত্য গড়ে তোলার পথে সহায়ক হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর একটি অনুষ্ঠানে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ড. ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন ‘শাস্ত্রার্থ’-এর ঐতিহ্যে বিরোধী মত (পূর্বপক্ষ) এবং তার জবাব (উত্তরপক্ষ)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়

    ড. ভাগবতের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়। তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং আচরণ যেন মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজি আম্বেডকরও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সঠিক নীতির ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনও আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের উদ্দেশ্যেই আন্দোলন হওয়া উচিত। এদিন আনুমানিক দুই হাজার জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ভাগবত। ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুবসমাজের ভূমিকা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’’ শীর্ষকর্ষ এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ কেন

    সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তিতর্তি রোল মডেল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মোহন ভাগবত। সংঘ প্রধানের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই সমস্যার সমাধান নয়; বরং সমাজের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাই প্রকৃত পথ। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই আসল বিষয়। নিয়ম তৈরি করা এবং শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনর্ত না হলে শুধু আইন করে কোনও লাভ হবে না। সমাজই প্রকৃত আইন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি যুগে রোল মডেল পরিবর্তিত হয়। তবে যাঁদের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করেন, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যদি আমার দশ লক্ষ অনুসারী থাকে, তাহলে আমার দায়িত্ব তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত না করা। এটিই প্রকৃত প্রজ্ঞা।’’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার

    সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই যে কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। ড. ভাগবত বলেন, ‘‘নতুন যুগের এই মাধ্যম ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। শুধুজেন জি নয়, গোটা সমাজকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড়রা নিজেরা তা মেনে চললে তবেই তরুণ প্রজন্মও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।’’ সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু নিষিদ্ধ করলে তা কালোবাজারে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়। এর সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না।’’

  • WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটঅ্যাপ (WhatsApp) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের কাজ…সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স (WhatsApp Age Restriction) বাধা হতে পারে। সম্প্রতি, ব্যবহারকারীর কাছে একটি নোটিফিকেশন আসছে। সেখানে তাঁদের জন্মতারিখ দিতে বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বয়স যাচাই (Age Verification) ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন বয়স যাচাই

    হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হতে চলা ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন মেনে চলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তবে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তাদের তথ্য ব্যবহারের আগে অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি নেওয়া সম্ভব হবে।

    ডিপিডিপি আইনে কী বদলাবে?

    নতুন আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ সমস্ত বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে—

    শিশুদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করা যাবে না।
    ১৮ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো নিষিদ্ধ হবে।
    ব্যবহারকারী নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে।

    তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এই বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিপিডিপি আইনের প্রস্তুতির অংশ। আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে।

    মেটার উপর বাড়ছে সরকারি নজর

    বয়স যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে মেটা বর্তমানে কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচার চালু হলে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক দিক থেকে এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ‘রিভিউ’-তে, ব্যাখ্যা হোয়াটসঅ্যাপের

    সম্প্রতি ভারত-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘Account in review’ অবস্থায় চলে যায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনেকেই বার্তা পাঠানো বা কল করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তায় জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ ও ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তাঁরা কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। এর জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অপব্যবহার রোধে তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে। তবে কখনও কখনও সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ভুল হতে পারে। সংস্থার দাবি, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা হয়েছে।

    শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন অধ্যায়

    এর মধ্যে রয়েছে—উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,টিকটক,স্ন্যাপচাট,এক্স,ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত যদি এ ধরনের নিয়ম আনে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম,সিগনাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে, এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ, কোনও পক্ষই এমন কোনও নতুন নিয়মের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ডিপিডিপি আইন কার্যকর হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি সংগ্রহ এবং শিশুদের তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ভারতের নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

  • Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS in Assam) ও সংঘ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১,৯১২ জন স্বয়ংসেবক ৩৭৮টি গ্রামের মোট ৪০,১৬৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও এবং জোরহাট জেলা। বন্যার জেরে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিভিন্ন জেলায় সহায়তা শিবির

    আরএসএসের (RSS in Assam) বিবৃতি অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বয়ংসেবকেরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শিবসাগর জেলার বেতবাড়ি এলাকার কাকতি গাঁও, ২ নম্বর কনওয়ার গাঁও, নেপালি খুঁটি, বিহুবার এবং চেতিয়া কৈবর্ত গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুন্দর পুখুরি, বামুন পুখুরি, গেলেকি এবং রাজাবাড়ি এলাকার দুর্গতদের রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জোরহাট জেলার এলেংমোরা, কাটিরাম চুক, কুলাই চুক, নালিয়া চুক, শেনচোয়া চুক এবং চারিঘোরিয়া চুক এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাল, চিনি, পোরিজ, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, বিস্কুট, লবণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আলু, পোশাক, বিছানাপত্র, মোমবাতি, সাবান, ফিটকিরি, ওষুধ এবং মশা প্রতিরোধক কয়েল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ৫০টিরও বেশি স্বাস্থ্য শিবির

    আরএসএস এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন (এনএমও)-এর সহযোগিতায় বন্যাকবলিত (Assam Floods) এলাকায় ৫০টিরও বেশি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দুর্গতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছেন। সংগঠনের দাবি, প্রথমদিকে ছোট নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। পরে প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তর অসম প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা দুর্গত পরিবারগুলিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি গবাদি পশুর জন্য খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং কৃষকদের ধান রোপণে সহায়তার কাজও চলছে। আরএসএস ও সেবা ভারতীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য।

  • Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র শহর বারাণসীতে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যার নকশার মূল অনুপ্রেরণা ভগবান শিব ও কাশীর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে নির্মীয়মাণ এই স্টেডিয়াম শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, স্থাপত্যশৈলী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণেও দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো হয়ে উঠতে চলেছে। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের নকশায় আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর সঙ্গে কাশীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভগবান শিবের প্রতীকী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে দেশের অন্যান্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে আলাদা পরিচিতি দেবে।

    শিব-প্রেরণায় অনন্য স্থাপত্য

    আরও এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে বেলপাতার আদলে। বারাণসী, যা কাশী বা মহাদেবের শহর নামেও পরিচিত, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই স্টেডিয়ামের নকশা তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি শিবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতীককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্টেডিয়ামটি কেবল একটি ক্রীড়া ভেন্যু নয়, বরং কাশীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ডমরু আকৃতির মিডিয়া সেন্টার

    স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ হবে ডমরু-আকৃতির মিডিয়া সেন্টার। ভগবান শিবের অন্যতম প্রতীক ডমরুর আদলে তৈরি এই ভবন সাংবাদিক, সম্প্রচার সংস্থা এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে এটি স্টেডিয়ামের স্থাপত্যে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করবে।

    ত্রিশূলের আদলে ৬৫ মিটার উঁচু ফ্লাডলাইট

    স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট টাওয়ারগুলিও বিশেষভাবে নজর কাড়বে। প্রায় ৬৫ মিটার উঁচু এই টাওয়ারগুলি ত্রিশূলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে। রাতের ম্যাচে আলোকিত অবস্থায় এই টাওয়ারগুলি স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং কাশীর আধ্যাত্মিক আবহকে ফুটিয়ে তুলবে।

    গঙ্গার ঘাটের অনুপ্রেরণায় ৩২ হাজার আসন

    প্রায় ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারির নকশা গঙ্গার বিখ্যাত ঘাটগুলির আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এতে দর্শকরা ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি কাশীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের অনুভূতিও পাবেন। সব মিলিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে খরচ ৪৫১ কোটি টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করতে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের খরচ হয়েছে ১২১ কোটি টাকা। স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বরাদ্দ করেছে ৩৩০ কোটি টাকা।

    বর্ষাতেও দ্রুত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত

    আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বৃষ্টির পর মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই মাঠকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। বর্ষাকালে ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি বড় সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ১৪টি পিচ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির পর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মাঠ খেলার জন্য প্রস্তুত করার মতো আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে।

    পর্যটন ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক মানের এই স্টেডিয়াম চালু হলে বারাণসীতে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমী, পর্যটক, সম্প্রচার সংস্থা এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়বে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন, হোটেল, পরিবহণ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানপুর এবং লখনউয়ের পর এই স্টেডিয়াম হবে উত্তরপ্রদেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। উপর থেকে ওই স্টেডিয়াম দেখতে লাগবে অর্ধচন্দ্রের মতো। যেমন মহাদেবের জটায় থাকে অর্ধচন্দ্র।

    ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নতুন প্রতীক

    গঙ্গার ঘাট, প্রাচীন মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত বারাণসীতে এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম আধুনিক ভারতের নতুন প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। শিব-অনুপ্রাণিত স্থাপত্য, বিশ্বমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম দর্শনীয় ক্রীড়া স্থাপনা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি উত্তরপ্রদেশকে ক্রীড়ার পাওয়ার হাউস বানানোর একটি নিদর্শন হতে চলেছে।

    কাজ প্রায় শেষের পথে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের শহর আমেদাবাদে তাঁরই নামাঙ্কিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে। এবার তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, ক্রিকেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সংযোগ স্থাপন হচ্ছে। অনেক দেশ নতুন করে ক্রিকেট খেলা শুরু করছে। এই স্টেডিয়াম হচ্ছে মহাদেবের শহরে। মহাদেবকেই এই স্টেডিয়াম উৎসর্গ করা হচ্ছে। কাশীতে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হলে এখানকার ক্রীড়াবিদদের উপকার হবে। বারাণসীর (বেনারস) গঞ্জারিতে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এই প্রজেক্টের ডিরেক্টর সরোজ শুক্লা জানান, ট্রায়াল বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে এটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে চালু হতে পারে। শীতের সময়ে ডিসেম্বরে এখানে একটি পরীক্ষামূলক ম্যাচ খেলার কথা চলছে। ২০২৭ সালে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইসিসি তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সব নিয়ম মেনেই এই অভিনব স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে।

     

     

     

     

     

  • Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন মেটা। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্ন’-এর মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং ডিপফেক মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র চাপে পড়ে মেটা। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে বাড়ে সংস্থার। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

    ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা-র জন্যই নতি স্বীকার!

    সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকেরবার্গ এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র মেটাকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা কেবলমাত্র একটি নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে না। বরং কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বেছে দেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী যে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা ইন্টারমিডিয়ারিদের দেওয়া হয়, তা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

    বুধবার মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। বৈঠকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেটা। মেটার তরফে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রান্কেল, আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়। কেন্দ্রের তরফে মেটাকে কঠোরভাবে বলা হয় আইন-নিয়ম মেনে চলতে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আইন মেনে চলতে হবে। সূত্রের খবর, মেটার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও ফ্যাক্ট চেকিং মেকানিজম আগে থেকেই রয়েছে।

    কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় মেটাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনও ইন্টারমিডিয়ারির কাজ নয়, বরং প্রকাশকের (Publisher) মতো আচরণ। তাই তিন দিনের মধ্যে মার্ক জুকেরবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। দুবে বলেন, “সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করছে। যদি এই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়, তবে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য সরাসরি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফেসবুকে অনুপস্থিত ছিল। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ

    শুধু ভিডিও বিতর্ক নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, মেটা এবং ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই ধরনের কনটেন্ট রয়ে যায়, যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্বেগ একাধিকবার জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্সটাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন নিয়ে ভিডিও দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরদারিতে এসেছে মেটা। সরকারের তরফে গত মাসে এই ইস্যুতে নোটিসও পাঠানো হয়।

    ভুলস্বীকার জুকেরবার্গ-এর

    পরিচালনগত ত্রুটি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেটা-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মেটা-র সিইও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (সিএসএএম) এবং ডিপফেক কন্টেন্ট (মূলত ভিডিও) ছড়ানোর বিষয়ে তাঁদের ভুলস্বীকার করেছেন। জুকেরবার্গ বলেছেন যে, তাঁদের কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তাঁরা আরও সতর্ক থাকবেন। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের সঙ্গে আবার একপ্রস্ত আলোচনা হতে পারে মেটার।

    কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

    প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ভিডিওটি ছিল নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলা ৩৬ দিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম সরাসরি বার্তা। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র পরীক্ষা (Prevention of Unfair Means) সংশোধনী বিল ২০২৬ অনুমোদন করে এবং বিলটি সংসদের উভয় কক্ষেই পাস হয়। গত ২৮ জুলাই মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

  • Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল ১৭ অগাস্ট সংসদে পেশ হতে পারে। এর জন্য তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে এই সংক্রান্ত বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, কংগ্রেস জানিয়েছে, দলে এবং অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত জানাবে তারা। এর আগে বাজেট অধিবেশনে এই বিল সরকার পাশ করাতে পারেনি। কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না।

    রাজনৈতিক সমীকরণে জোর

    সূত্রের খবর, বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলেও সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতবি (Prorogue) না-ও করা হতে পারে। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা সম্ভব হবে। তবে এই সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই সমর্থন নিশ্চিত করার জন্যই সরকার রাজনৈতিক সমীকরণে জোর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল-এর অংশ হিসেবে ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাব আনা হলেও, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় বিলটি পাস করা সম্ভব হয়নি। সে সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভা—কোনও কক্ষেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল না।

    সংসদে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর সংসদে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাসের জন্য লোকসভায় ৩৬০ জন এবং রাজ্যসভায় ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে বলে সূত্রের দাবি। এদিকে, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণও কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর, ডিএমকে-র ২২ জন লোকসভা সাংসদের সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার দিকেও নজর রেখেছে বিজেপি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বিশেষ অধিবেশনেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

LinkedIn
Share