Author: ishika-banerjee

  • Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি (uniform civil code west bengal) প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে।

    অগাস্টেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল!

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অগাস্ট মাসেই রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হবে। তবে প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতির সম্প্রদায়কে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে দেন যে, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাট মডেলকে অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে বিলে।

    বিলের খসড়া নিয়ে আলোচনা

    আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের খসড়া অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাটের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে একটি ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন চালু থাকার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটিই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।’’ তিনি আরও বলেন, “আমরা কমিটেড। সংকল্পপত্রে যা লিখেছি তা বাস্তবায়ন করব। পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে।”

    সুপারিশ কমিটিতে থাকছেন কারা

    রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, একজন আইন বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব সদস্য হিসেবে থাকবেন। প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ঐ অতিরিক্ত সচিবই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। কমিটির কাজের পরিধিও সোমবার বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে তারা। এ ছাড়াও সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।

  • FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানকে। নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে গেলেন জোসুয়া কিমিচেরা। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্যদিকে শুরুতে জাপানের কাছে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা (Brazil vs Japan Match Report)। কার্লো আন্সেলোত্তির দল ছিটকে যাওয়াটা অঘটন। তাই তাদের জয়ের চেয়েও সামুরাই ব্লুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যেন বেশি করে মনে রাখবেন দর্শকরা। এদিন জার্মানির পর বিদায় হল বিশ্বফুটবলের আরও এক শক্তির। আরও এক বার টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডসও। ২০১৪, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও সেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হল কমলাবাহিনীকে। এগিয়ে গিয়েও মরক্কোর কাছে হারতে হল কোডি গাকপো, ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের।

    ভালো খেলেও ব্রাজিলের কাছে হার মানতে হল জাপানকে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে এশীয় সূর্যের উত্থান মন কেড়েছে ফুটবল দুনিয়ার। গোটা মহাদেশকে বিশ্বমঞ্চে মিরাকলের স্বপ্ন দেখিয়েছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে আটকে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছে শেষ ৩২-এ। কিন্তু নকআউটের প্রথম লড়াইটাই ছিল পাহাড় প্রমাণ কঠিন। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি!তবে জাপানি বোমাকে শক্ত হাতে ব্রাজিল সামাল দিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। জোড়াল হল আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল জয়সূচক গোল। দলের শেষ ষোলোর টিকিট পাকা করে দিলেন মার্টিনেলি। তবে জাপানি গোলকিপার সুজুকির দুরন্ত সেভ আর ভিনির শট বারে লেগে ফিরে না এলে আরও বড় ব্যবধানে জিততেই পারত ব্রাজিল।

    প্যারাগুয়ের কাছে হেরে  বিদায় জার্মানির

    ব্রাজিল জিতলেও নাটক বাকি ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাতে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝ খান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে। এরপর টাইব্রেকার। হাভার্ৎজের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।

    বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নেদারল্যান্ডস-ও

    গত বিশ্বকাপে টাইব্রেকার স্পেনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন। এ বার তাঁর হাতে আটকে গেল ডাচেরা। মরক্কোর রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন সেই ইয়াসিন বোনো। এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। মরক্কোর আল আয়নায়োই প্রথম শট বারে মারেন। ডাচদের হয়ে দ্বিতীয় শট পোস্টে মারেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট। রহিমি গোল করে সমতা ফেরান। নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে দেন উইট উইঘর্স্ট। গোল করেন মরক্কোর তালবিও। চতুর্থ শট মিস্‌ করেন কুইন্টন টিম্বার। মরক্কোর কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আশরফ হাকিমিও গোল করতে পারেননি। সামারভিলের পঞ্চম শট আটকে দেন বোনো। শেষ শটে গোল করতে ভুল করেননি সাইবারি। ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে আফ্রিকার দেশ। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই গুটিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। পাঁচ ডিফেন্ডারে খেলা শুরু করে ডাচেরা। নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে লাগায় মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, সাইবারিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। প্রথমার্ধের গোল পেয়ে যেতে পারত মরক্কো। হাকিমির শট ভাল বাঁচান ভারব্রুগেন। সাইবারির শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে যায়। প্রথমার্ধ গোল শূন্য থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডসকে গোল করে এগিয়ে দেন গাকপো। ৭২ মিনিটের মাথায় গাকপোর সেই গোলের পর মনে হচ্ছিল, নেদারল্যান্ডস জিতে যাবে। কিন্তু সংযুক্তি সময়ে এক ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন দিয়প। সমতা ফেরায় মরক্কো। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্বপ্ন শেষ ডাচদের।

     

     

     

     

     

  • Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধ্বনি ভোটে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল (Control of Anti-Social Activities Bill)। এই বিলের পক্ষে ভোট দিলেন ১৭৬ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪১ জন। আর ভোটদানে বিরত থাকলেন ২০ জন বিধায়ক। সম্পত্তি নষ্ট করলে গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এই আইনে। কড়া ভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Cm Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন,“এই আইনে একবছর কারাবাস করতে হবে। তবে কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হবে না।”

    কাদের বিরুদ্ধে এই বিল

    উত্তরাখন্ড, গুজরাট এবং উত্তর প্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চরম কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হল বহুল চর্চিত ‘অ্যান্টি-গ্যাংস্টার বিল’ বা গুন্ডাদমন বিল। ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশও হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অপরাধ দমনে যে কঠোর আইনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, এই বিল তারই বাস্তব রূপায়ন। প্রস্তাবিত এই খসড়া আইনে সমাজের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে ‘গুণ্ডা’ বা ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে এমন যেকোনো ব্যক্তিকে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যিনি নিজে অথবা কোনো দল বা সিন্ডিকেটের নেতা বা সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজ করেন বা তাতে অর্থায়ন করেন। এ ছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS, ২০২৩)-এর ১১১ বা ১১২ ধারার অধীনে (সংগঠিত অপরাধ) অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধী বা অপরাধে উস্কানিদাতাদেরও এই আইনের আওতায় আনা হবে।

    ফৌজদারি আইনের সঙ্গে নতুন এই আইনের পার্থক্য

    গুন্ডা দমন বিল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। আজ, সোমবার দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলে। এবং সেই আলোচনার পর অবশেষে হয় ভোটভুটি। সেই ভোটাভুটিতে দেখা গেল, সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই বিলে বলে দেওয়া হয়েছে কারা গুন্ডা। চিহ্নিত করা হয়েছে কারা সমাজ বিরোধী। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যদি কোনও ভাঙচুর হয়, অগ্নি সংযোগ হয় বা অন্য কোনও ভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, সেখান থেকে সেই ক্ষতি পূরণ করার প্রভিশনও রাখা হয়েছে। দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফৌজদারি আইনে প্রকৃত দোষীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আর সেই কারণেই এই আইনের প্রয়োজন।

  • Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ‘লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর, শেষ দেখার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যথেষ্ট হয়েছে,আর নয়। হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এ ভাবেই ভরতপুরের বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রেজিনগর এবং শক্তিপুরে যে ভাষণ দিয়েছিলেন হুমায়ুন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কোন কোন ধারায় এফআইআর রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিজের ছেড়ে আসা রেজিনগর আসনে পুত্রকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনতে চান বলেই এ সব বলছেন হুমায়ুন। তবে এ ধরনের কথাবার্তা আর বলা যাবে না। হুমায়ুনকে ‘সংযত’ হতেও বলেন শুভেন্দু।

    ‘এনাফ ইজ এনাফ’

    প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন। এখন এসব চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।

    হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা?

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার, ১৫২, ১৯২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪. ২৯৯,৩৫১ (২), ৩৫২, ৩৫৩ ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে।

    কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?

    ২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?” শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

    কেন এই মন্তব্য হুমায়ুনের?

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুন যে ভাষায় বক্তৃতা করেছেন, তা করার ক্ষমতা তাঁকে কেউ দেয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘আপনাদের নিশ্চিত করছি, এত বড় ক্ষমতা (ওঁকে) কেউ দেয়নি।’’ কেন নওদার বিধায়ক এ সব বলছেন, তার কারণ ব্যাখ্যাও করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘কেন করছেন জানি, রাজনৈতিক কারণ জানি, দু’টি এজেন্ডা ছিল।’’ এর পরেই আরও বিশদে শুভেন্দু জানান, হুমায়ুনের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত, তা সে যে দলেরই হোক, নিজের দলে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু তিনি তা করতে পারছেন না। হুমায়ুনের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটে দু’টি আসনে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ২-৩ মাসে সেখানে ভোট হবে। ওই আসনে আপনি আপনার ছেলেকে জেতাতে চাইছেন।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই আসনে ৭২ শতাংশ মুসলিম রয়েছেন। মুসলিম ভোট কনসোলিডেট (ঐক্যবদ্ধ) করার জন্য আপনি এই খেলা খেলছেন।’’

    ভেবে কাজ করুন

    হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।” আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

    ঢোঁক গিললেন হুমায়ুন!

    শুভেন্দু বিধানসভায় বক্তব্য রাখার পরে এ দিন হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, ‘আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কী করব? রাজনৈতিক ভাবে আমি আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা তিনি স্পষ্ট করুন। যদি সেটা বলার হয়, নিশ্চয়ই বলব।’ ওয়াকিবহাল মহলের মত, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারিতে ততটা আস্ফালন আর দেখাতে পারছেন না হুমায়ুন কবীর, কিছুটা ভয় পেয়েই সুর নরম করেছেন।

  • Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    Shams Iqbal: মুখ্যমন্ত্রীর পা ছুঁয়েও রেহাই মিলল না! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলার শামস ইকবাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে গার্ডেনরিচের তৃণমূল নেতা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ শাম্‌স ইকবালকে। একাধিক জনসভা, কর্মসূচিতে একই মঞ্চে ফিরহাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, গার্ডেনরিচ এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা তুলেছেন এই নেতা। শাম্‌স কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। যোগ দিবসেও মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরে দু’জনের পিছনেই বসে যোগ দিবস পালন করেছিলেন। নাম লিখিয়েছিলেন ঋতব্রত-শিবিরে। কিন্তু তা-ও রেহাই মিলল না। দোষীদের ক্ষমা করা হবে না আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতোই কাজ করছে তাঁর প্রশাসন।

    কী অভিযোগ ইকবালের বিরুদ্ধে

    শামস ইকবালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহম্মদ শাদাব নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শাম্‌স এবং তাঁর ঘনিষ্ঠেরা অভিযোগকারীর কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করেন। জানিয়ে দেওয়া হয়, নির্বিঘ্নে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে তাঁদের টাকা দিতে হবে। মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা হয় তাঁর কাছ থেকে। টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ী এবং তাঁর পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেন কাউন্সিলর। নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে সেই টাকা তখন দিয়ে দিয়েছিলেন অভিযোগকারী। দাবি, ভয়ে এত দিন পুলিশের কাছে যেতে পারেননি। এর পরেও পিস্তল দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় আরও টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ।

    কে এই ইকবাল

    গার্ডেনরিচে পুলিশ কর্মী তাপস চৌধুরী খুনে অভিযুক্ত মুন্না ইকবালের ছেলে শামস ইকবাল। মুন্না ইকবাল, সে সময়কার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। যাঁর বিরুদ্ধেও ছিল সিরিজ অফ্ অভিযোগ। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গার্ডেন রিচের হরিমোহন ঘোষ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর তাপস চৌধুরী। সে সময়ে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্নাকে। বাবার হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে পরবর্তীতে পদাপর্ণ শামসের। ২০২১ সালের কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী শামস ইকবাল, যিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন।

    বিলাসবহুল জীবনযাত্রা

    সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে একাধিক বিদেশ যাত্রার ছবি রীতিমতো তাক লাগানোর মতো। প্রোফাইল দেখা যাচ্ছে, বলিউড অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গেও ছবি রয়েছে শামসের। কোনও রঙিন দুনিয়ার অভিনেতার থেকে কম নন। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। বছর কয়েক আগে কলকাতা পুরসভায় ফেরারি গাড়ি এনে বিতর্কে জড়িয়ে ছিল এই কাউন্সিলর। গাড়ির মূল্য সে সময়ে ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি ছিল। ফিরহাদ হাকিমের ‘পুত্র’ বলা হয় এই কাউন্সিলরকে। কলকাতা বন্দর এলাকায় বিধানসভার যাবতীয় কাজ ইকবাল দেখেন। ২০২৪ সালে ১৭ মার্চ গার্ডেনরিচে যে বহুতল ভেঙে পড়ে ১৫ জনের মতো মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, তাতে নাম জড়িয়েছিল এই শামসের। রাজ্যে পালাবদলের পর এখন এই ইকবালই নাম লিখিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের তালিকায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মডেলে যুক্ত হয়ে প্রতি বৈঠকে হাজির থেকেছেন। সম্প্রতি যোগা দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পা ধরেও প্রণাম করেছিল এই কাউন্সিলর। কিন্ত রেহাই পেলেন না।

  • FIFA World Cup 2026: গ্রুপ পর্ব শেষ, শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

    FIFA World Cup 2026: গ্রুপ পর্ব শেষ, শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ। চূড়ান্ত হয়ে গেল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সূচি। গ্রুপ পর্বে ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩২টি দল নকআউটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করছে। এশিয়ার দু’টি দলকে দেখা যাবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ। ৩২ দলের এই পর্বে আর ভুলের কোনও সুযোগ নেই। একটি হার মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ২৯ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে রাউন্ড অব ৩২-এর ১৬টি ম্যাচ। এক নজরে দেখে নিন কোন দল কার বিরুদ্ধে খেলবে, কোথায় হবে ম্যাচ এবং ভারতীয় সময় অনুযায়ী কখন শুরু হবে। এবার থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘ডু অর ডাই’। এক ভুল, এক গোল কিংবা এক মুহূর্তের অসাবধানতাই শেষ করে দিতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। তাই রাউন্ড অফ ৩২ থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের আসল লড়াই।

    প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা

    বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল কানাডা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না পেলেও সংযুক্তি সময়ে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ ভাঙতে পারল তারা। সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন অধিনায়ক স্টিফেন এস্তাকিয়ো। ১-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল কানাডা।

    নক-আউটে উঠল কারা

    ১২টি গ্রুপ থেকে মোট ৩২টি দল নক আউট পর্বে উঠল। ১২টি গ্রুপ থেকে ২টি করে সেরা দল – সেই হিসাবে মোট ২৪টি দল রাউন্ড অফ থার্টি টু-তে পৌঁছেছে। বাকি ১২টি তৃতীয় স্থানে থাকা দলের মধ্যে থেকে সেরা আটটি দল নক আউটে গিয়েছে।

    • গ্রুপ এ থেকে নক আউটে গিয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ছিটকে গিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।
    • গ্রুপ বি থেকে নক আউটে গিয়েছে সুইৎজারল্যান্ড, কানাডা ও বসনিয়া হার্জেগোভিনা। ছিটকে গিয়েছে কাতার।
    • গ্রুপ সি থেকে নক আউটে গিয়েছে ব্রাজিল ও মরক্কো। ছিটকে গিয়েছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
    • গ্রুপ ডি থেকে নক আউটে গিয়েছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে। ছিটকে গিয়েছে তুরস্ক।
    • গ্রুপ ই থেকে নক আউটে গিয়েছে জার্মানি, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর। ছিটকে গিয়েছে কুরাসাও।
    • গ্রুপ এফ থেকে নক আউটে গিয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। ছিটকে গিয়েছে তিউনিশিয়া।
    • গ্রুপ জি থেকে নক আউটে গিয়েছে বেলজিয়াম ও মিশর। ছিটকে গিয়েছে ইরান ও নিউজিল্যান্ড।
    • গ্রুপ এইচ থেকে নক আউটে গিয়েছে স্পেন ও কেপ ভার্দে। ছিটকে গিয়েছে উরুগুয়ে ও সৌদি আরব।
    • গ্রুপ আই থেকে নক আউটে গিয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল। ছিটকে গিয়েছে ইরাক।
    • গ্রুপ জে থেকে নক আউটে গিয়েছে আর্জেন্তিনা, অস্ট্রেলিয়া ও আলজিরিয়া। ছিটকে গিয়েছে জর্ডন।
    • গ্রুপ কে থেকে নক আউটে গিয়েছে কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও কঙ্গো। ছিটকে গিয়েছে উজবেকিস্তান।
    • গ্রুপ এল থেকে নক আউটে গিয়েছে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া। ছিটকে গিয়েছে পানামা।

    নজরে থাকবে কোন কোন খেলা

    ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং বেলজিয়াম— ইউরোপের সকলেই একই অর্ধে পড়েছে। ফলে ফাইনালে উঠতে গেলে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতেই হবে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে জার্মানি এবং ফ্রান্সের। ফলে ট্রফির এক দাবিদার আগেই ছিটকে যাবে। পর্তুগাল এবং স্পেনের ম্যাচও হতে পারে প্রি-কোয়ার্টারে। তাদের মধ্যেও কোনও দেশের যাত্রা আগেই শেষ হয়ে যাবে। আপাতত নক আউটে যে খেলাগুলোর দিকে নজর থাকবে সেগুলি হল-

    ব্রাজিল বনাম জাপান – এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো – আফ্রিকার চমকপ্রদ দলকে থামাতে নামবে ইংল্যান্ড।

    স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া – ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের হাইভোল্টেজ লড়াই।

    পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া – রোনাল্ডোদের সামনে মদরিচদের কঠিন পরীক্ষা।

    আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে – মেসিদের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। আর কেপ ভার্দের লক্ষ্য হবে রূপকথা দৌড় অব্যাহত রাখা

    কোন দলের-কখন কার সঙ্গে খেলা

    ২৯ জুন

    প্রথম দিন মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা এবং ব্রাজিল-জাপান। দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডার খেলা ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২৯ জুন রাত সাড়ে ১২ টায়। (দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে পৌঁছে গিয়েছে কানাডা) । ব্রাজিল-জাপান ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২৯ জুন রাত ১০.৩০-এ মাঠে নামবে।

    ৩০ জুন

    মোট তিনটি ম্যাচ এ দিন। রাত ২টো (মঙ্গলবার ভোর রাত) জার্মানির লড়াই প্যারাগুয়ের সঙ্গে। সে দিনই সকাল ৬.৩০-এ নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ এবং রাত ১০.৩০-এ নরওয়ে-আইভোরি কোস্ট লড়াই।

    ১ জুলাই

    এ দিন রয়েছে তিনটি ম্যাচ। রাত ২.৩০-এ মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং সুইডেন। সকাল ৬.৩০-এ মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। রাত ৯.৩০— মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেনদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো।

    ২ জুলাই

    দু’টি ম্যাচ। রাত ১.৩০-এ বেলজিয়াম-সেনেগাল খেলা। ভোর ৫.৩০-এ আমেরিকার মুখোমুখি হবে বসনিয়া এবং হারজ়েগোভিনা।

    ৩ জুলাই

    বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ। রাত ১২.৩০-এ অস্ট্রিয়া-স্পেন। ভোর ৪.৩০-এ পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া এবং সকাল ৮.৩০-এ সুইৎজ়ারল্যান্ড-আলজেরিয়া। এ দিনই রাত ১১.৩০-এ মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া এবং মিশর।

    ৪ জুলাই

    রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ দু’টি ম্যাচ। রাত ৩.৩০-এ এ বারের বিশ্বকাপের চমক কেপ ভার্দের চ্যালেঞ্জ সামলাবে লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সকাল ৭টায় কলম্বিয়া-ঘানা লড়াই।

  • India-Seychelles MoU: ভারত ও সেশেলস মউ স্বাক্ষর, এবার এই দ্বীপরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে সহজেই ইউপিআই পেমেন্ট

    India-Seychelles MoU: ভারত ও সেশেলস মউ স্বাক্ষর, এবার এই দ্বীপরাষ্ট্রে ঘুরতে গেলে সহজেই ইউপিআই পেমেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেশেলস সফরে গিয়ে ইউপিআই নিয়ে মউ স্বাক্ষর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার থেকে এই দ্বীপ রাষ্ট্রে ঘুরতে গিয়ে ভারতীয়রা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা পাবেন। অনলাইনেই পেমেন্ট করতে পারবেন সব কিছুর খরচ। ভারত ও সেশেলসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন । প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আনন্দিত যে ইউপিআই-এর জন্য ভারত ও সেশেলসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি একটি কার্যকর মাধ্যম। আমরা ডিজিটাল গণপরিবহণে ভারতের সফল অভিজ্ঞতা সেশেলসের সঙ্গে ভাগ করে নেব।”

    ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হরাইজন’ পুরস্কার মোদিকে

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেশেলসের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তাঁর উষ্ণ অভর্থ্যনার জন্য। ‘গার্ডিয়ান অব দ্য ব্লু হরিজন’ সম্মানে ভূষিত করার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। দুই দেশের মধ্যে খুব ভালো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার জন্য আলোচনা হয়েছে। দুই দেশেই শিল্পের জন্য নতুন নতুন সুযোগ খোঁজা হবে। ভারত ও সেশেলসের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রচেষ্টাও চলছে।” সেশেলস সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন যে, এই সফরটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের সঙ্গে মিলে গেছে: সেশেলসের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তি। তিনি বলেন, “আমি এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে সেশেলস সফর করছি, যখন দেশটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং আমরা ভারত ও সেশেলসের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি। এই পাঁচ দশকে আমরা বন্ধুত্বকে আস্থায়, আস্থাকে সহযোগিতায় এবং সহযোগিতাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তরিত করেছি।”

    ডিজিটাল কো-অপারেশনের উল্লেখ

    দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল কো-অপারেশনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন যে প্রযুক্তি বা টেকনোলজি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করতে আরও সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্টাকচারের অভিজ্ঞতা সেশেলসের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে সেশেলসে ইউপিআই চালু করার জন্য মউ স্বাক্ষর হয়েছে।” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই একাধিক দেশে ভারতের ইউপিআই চালু হয়েছে। ভুটান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, কাতার ও কম্বোডিয়ায় ইউপিআই চালু রয়েছে।

  • India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল  সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    India-Venezuela: ভেনেজুয়েলার জন্য ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’, পৌঁছল সেনার ‘মেডিক্যাল টিম’ ও ‘ভীষ্ম কিউব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াল ভারত। ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে ভারত শুরু করেছে ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ (Operation Amistad)। স্প্যানিশ ভাষায় আমিস্তাদ শব্দের অর্থ ‘বন্ধুত্ব’। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এর মধ্যে দিয়ে ভারত-ভেনেজুয়েলার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষামন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) দু’টি সি-১৭ বিমান ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। ওই বিমানে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

    মানবিক সহায়তা ভারতের

    মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল। বিখ্যাত ‘৬০ প্যারা ফিল্ড হসপিটাল’-এর ৪১ জন সেনা-মেডিক্যাল কর্মী রয়েছেন এই দলে। এর মধ্যে ৯ জন অভিজ্ঞ মিলিটারি মেডিকেল অফিসার (ডাক্তার)। এই দল দুর্যোগ কবলিত এলাকায় আপৎকালীন চিকিৎসা, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং অস্ত্রোপচারের মতো জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা দেবে। উল্লেখ্য, বুধবার মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। একাধিক বিল্ডিং ও পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ‘অপারেশন আমিস্তাদ’ -এর বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তা করতেই বিশেষ অপারেশন শুরু করেছে ভারত। লেখেন, “ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি C-17 বিমান জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছে। রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দুটি ভীষ্ম কিউব। এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ভারতীয় সেনার এই মানবিক মিশন আরও একবার বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করল, যে কোনও আন্তর্জাতিক সংকটে বন্ধু দেশের পাশে সবার আগে দাঁড়াতে প্রস্তুত ভারত।

    উপহার অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে পাঠানো প্রায় ৬ টন জরুরি ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে বায়ুসেনার বিমান দুটি। তবে এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক মোবাইল হাসপাতাল ‘ভীষ্ম কিউব’ (BHISHM Cube – Bharat Health Initiative for Sahyog, Hita & Maitri)। ভারতের ‘আরোগ্য মৈত্রী প্রজেক্ট’-এর অধীনে এই মডিউলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। যেকোনও বড় বিপর্যয় বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যেখানে স্থায়ী হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যায়, সেখানে এই ‘ভীষ্ম কিউব’ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। একে খুব কম সময়ের মধ্যে খোলা জায়গায় একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়। এই মিনি হাসপাতালে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটর, ল্যাবরেটরি ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, নিজস্ব জেনারেটর এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সিস্টেম রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন গুরুতর আহত রোগীকে ট্রমা কেয়ার ও জরুরি অস্ত্রোপচারের সুবিধা দিতে পারে এই ভীষ্ম কিউব।

    বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই উদ্যোগ ভারতের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’ (সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার) নীতির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ভারতের অন্যতম দূরপাল্লার মানবিক ত্রাণ অভিযান বলে জানানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে এবং লাতিন আমেরিকায় মানবিক সহায়তা প্রদানে নিজের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “মানবতার সেবায় ভারতের এই জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। ভীষ্ম কিউব মোতায়েন শুধু একটি পেশাগত সাফল্য নয়, এটি মানবসেবার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।” সরকারের মতে, অপারেশন অমিস্তাদ প্রমাণ করেছে যে, সংকটের সময় ভারত একটি নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সামরিক দক্ষতা, কূটনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সমন্বয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

    বিপর্যয়ের সাক্ষী ভেনেজুয়েলা

    গত বুধবার প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে ভেনেজুয়েলা (Venezuela Earthquake)। সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। এক মিনিটেরও কম ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ। এই যমজ ভূমিকম্পের (Twin Earthquakes) জেরে এ পর্যন্ত ৯০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি। উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Photos) ধরা পড়েছে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের বুক কাঁপানো দৃশ্য, যেখানে মাইলের পর মাইল জুড়ে কেবলই ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি আর উপড়ে যাওয়া রাস্তার ছবি দৃশ্যমান। ভেনেজুয়েলার এই চরম মানবিক সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই তাদের বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল (Search-and-Rescue Teams) কারাকাসে পাঠাতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে সরাসরি নেমেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN)। একটি বৈশ্বিক জরুরি তহবিলের মাধ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের সামগ্রিক সমন্বয় সাধন করছে তারা। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষদের সংখ্যা। স্থানীয় সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সংখ্যক মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা ভেঙে পড়া বাড়িঘর এবং চাঙড়ের নিচে চাপা পড়ে রয়েছেন বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

  • Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের রাজধানী বেজিংয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা (Beijing Plane Crash)। শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং সিআইটিআইসি টাওয়ারে শনিবার ভেঙে পড়ে একটি বিমান। ওপর থেকে নিচে পড়তে পড়তে সোজা ওই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায় বিমানটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এদিনের ঘটনার একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিমানটির সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ের ধাক্কা লাগার পরেই মাটিতে পড়ছে ধ্বংসাবশেষ। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ছোট বিমান বেজিংয়ের সর্বোচ্চ অট্টালিকা ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ আছড়ে পড়েছে। সংঘর্ষের জেরে ওই অট্টালিকার দুটি জানালা ভেঙে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চিনের অন্যতম উঁচু বিখ্যাত এই টাওয়ারে দুর্ঘটনার ঘটনায় হইচই বিশ্বজুড়ে৷ ভাইরাল ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১,৭০০ ফুট উঁচু বাড়িটির উপর থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। টাওয়ারের নীচের তলায় ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের ভাঙা অংশ। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর গোটা ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    ভেঙে পড়ল চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমান

    বিমানের গায়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০১ অরোরা’ নামের একটি লাইট স্পোর্ট বিমান। এই বিমানটি তৈরি করে থাকে স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন সংস্থা। ওই সংস্থার তরফে মূলত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত জেট এবং আকাশপথে ছবি তোলার মতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা চিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। চিনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হলেও, সেগুলি দ্রুত অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি গাড়ির আকারের একটি ছোট বিমান।

     

     

     

     

     

     

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম জেলার হাটনারা গ্রামে মহররমের (Muharram Tazia Accident) মিছিলের সময় একটি তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বড় বিপত্তি ঘটল। সূত্রের খবর, মহরমের মিছিলটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাজিয়ার একেবারে উপরের অংশ হাই-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে আসায় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ-এর সংস্পর্শে আসতেই ইলেকট্রিক শক লাগে তাজিয়া বহনকারী মানুষদের। জ্বলে ওঠে তাজিয়াটি। প্রায় ১২ জন আগুনে ঝলসে যান। আহতদের সবাইকে দ্রুত রতলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি নয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত ৩ জনের নাম হল রশিদ খান, সাদ্দু হুসেন ও আরবাজ খান।

    দুর্ঘটনার কবলে মহরমের তাজিয়া

    শুক্রবার পালিত হয়েছে মহরম। ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসই হল মহরম। দেশ জুড়ে বহু রাজ্যে পালিত হয়েছে দিনটি। তারই মধ্যে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে হাটনারা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহররমের মিছিলটি প্রতি বছর একই পথ দিয়ে যায় এবং মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের (এমপিইবি) কর্মীরা মিছিলের সঙ্গে থাকেন। যাতে তাজিয়াটি ওভারহেড লাইনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাদের দাবি, এ বছরও লাইনম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, যার ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বিষয়টি তদন্তাধীন

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ১১ কেভি হাই-ভোল্টেজ লাইনটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিচু দিয়ে গেছে, যার ফলে এর নিচ দিয়ে বাস ও ট্রাকেরও চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তাঁরা বিদ্যুৎ লাইনটি স্থানান্তর অথবা এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার লাল বলেছেন, আহতদের রতলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিবেক কুমার আরও জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

LinkedIn
Share