Author: ishika-banerjee

  • Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের (Jharkhand Protest) মূল দাবি, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে। সোমবার আন্দোলনকারীদের ‘বিধানসভা ঘেরাও’ অভিযানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রাঁচীর পথে ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদীরা এগোতে থাকেন বিধানসভার দিকে। পড়ুয়ারা পিছিয়ে যেতে অস্বীকার করলে পুলিশ একাধিক দফায় জলকামান ব্যবহার করে। এরপরও আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

    আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ

    ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকালে ট্রেন, বাস ও নিজস্ব গাড়িতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাঁচিতে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। প্রধান রাস্তা ও সীমানায় তল্লাশি চালানো হয়, বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগোলে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। অভিযানের জন্য পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরেই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাও চালায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই থেকে ধীরে ধীরে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন।

    বিজেপি নেতাদের আটক

    মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। বিধানসভা অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জমায়েত হন পড়ুয়ারা। মিছিল এগোতে শুরু করার পর পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাকের ঠিক আগের দিন, রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর তিন সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তদন্তের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি—সিবিআই তদন্ত। সেই দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। রবিবার রাঁচিতে আন্দোলনরত জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা হাতে ফ্ল্যাশলাইট মিছিল করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন।

    ইস্তফা ৩ জেপিএসসি সদস্যের

    রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। গত তিন দিন ধরে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার পর একাধিক দাবিতে সরকার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু। মন্ত্রী জানান, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, এই বিষয়ে দুটি দিক থেকে তদন্ত এগোনো হবে। অভিযোগের ফৌজদারি দিক খতিয়ে দেখবে সিআইডি। অন্যদিকে আর্থিক অনিয়ম বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইডি তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। সোনুর দাবি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তদন্তের উপর নজরদারি এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগের সমাধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    সিবিআই ছাড়া কোনও সমাধান নয়, বলছেন আন্দোলনকারীরা

    সরকারের ঘোষণায় একাধিক দাবি পূরণ হলেও সিবিআই তদন্তের দাবি না মানায় আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। এই দাবিতে আমরা কোনও আপস করব না।” জেপিএসসি-র তিন সদস্যের ইস্তফাকে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও শুধুমাত্র ইস্তফা দিয়ে দায়বদ্ধতা শেষ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারী অনিশ ফতিমার দাবি, কমিশনের ভিতরে অনিয়মের অভিযোগ যে গুরুতর, তিন সদস্যের পদত্যাগে তারই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর অভিযোগ, সিআইডি তদন্তে শুধু ছোট পর্যায়ের অভিযুক্তরা ধরা পড়তে পারেন, কিন্তু “বড় মাথাদের” সামনে আনতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন। আন্দোলনকারী অর্চনা কুমারীর কথায়, “শুধু পদত্যাগ করলেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। তাঁদের মেয়াদে যে ভুলের কারণে যোগ্য ও সৎ পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।”

    দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি

    ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যুবকদের তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তাঁদের ন্যায়বিচার দেওয়া হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে, আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (JLKM)-র বিধায়ক জয়ারাম মাহতো রাঁচিতে একদিনের অনশনে বসেন। তিনিও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মাহতো অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড শিক্ষামন্ত্রী নীরা যাদবও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের মূল সমস্যার সমাধান না করে সরকার তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি সিবিআই তদন্ত, ইডি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

  • Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ফের এক বড় স্বীকৃতি ভারতের। বিশিষ্ট ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ দীপক ধরকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডিরাক মেডেলে সম্মানিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স (ICTP)। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যায় (Statistical Mechanics) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়। অতীতে এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত বহু বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্টিফেন হকিং-সহ পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক কিংবদন্তি। ২০২৬ সালে দীপক ধর-সহ মোট চার জন বিজ্ঞানীকে ডিরাক মেডেলের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কণার সমন্বয়ে গঠিত জটিল ব্যবস্থাগুলি কীভাবে সম্মিলিতভাবে আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করে যে শাখা, সেটিই পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা। আধুনিক বিজ্ঞানে এই ক্ষেত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জটিল নেটওয়ার্ক এমনকি আর্থিক বাজারের মতো বিষয় বুঝতেও এই গবেষণার বিভিন্ন ধারণা কাজে লাগছে।

    ছোট শহর থেকে বিশ্বমঞ্চে

    ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপক ধরের। হিন্দি-মাধ্যম পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দীপকের মা চাইতেন ছেলে আইএএস অফিসার হোক। কিন্তু তাঁর বাবার উৎসাহেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা নিয়মিত বাড়িতে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নিয়ে আসতেন। তার মধ্যে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ সায়েন্স’ (Understanding Science) নামের একটি পত্রিকা কিশোর দীপকের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে এমএসসি করেন। এরপর পাড়ি দেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (Caltech)। সেখানে তিনি রিচার্ড ফাইনম্যান ফেলোশিপ পান। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও হয় তাঁর। ফাইনম্যানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে পড়াতেন দীপক ধর। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি।

    বিদেশে কেরিয়ার নয়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

    পিএইচডি শেষ করার পর বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দীপক ধর বেছে নেন অন্য পথ। দেশে ফিরে যোগ দেন টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে (TIFR)-এ। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ভারতেই গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। আইআইএসইআর পুনেতেও (IISER Pune) প্রায় আট বছর অধ্যাপনা করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। টাটা-তে কাজের সময় কোনও আনুষ্ঠানিক গুরুর অধীনে না থেকেও দেশের শক্তিশালী তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের একটি গবেষণা-সমাজের অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কাজ করেছেন।

    ‘দীপক ধরের বার্নিং অ্যালগরিদম’ ও আন্তর্জাতিক সম্মান

    দীপক ধরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল বার্নিং অ্যালগরিদম-এর স্যান্ডপাইল মডেল (Dhar’s burning algorithm। Sandpile model)। জটিল ব্যবস্থার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ডিরাক মেডেলই দীপক ধরের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। ২০২২ সালে তিনি বল্টসম্যান মেডেল (Boltzmann Medal) পান এবং এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় হন। স্ট্যাটিসটিক্যাল পদার্থবিদ্যায় (Statistical Physics) এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় নিজের সাফল্য সম্পর্কে ধর বলেছিলেন, “আমি বল্টসম্যান মেডেল পাওয়া প্রথম ভারতীয়, কিন্তু পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যায় ভালো কাজ করা প্রথম ভারতীয় নই।” ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে।

    ডিরাক মেডেলের বিশেষ মর্যাদা

    প্রখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাক-এর নামে এই পুরস্কার চালু করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মেডেল দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের একটি বিশেষ নিয়ম হল—নোবেল, ফিল্ডস বা উলফ পুরস্কারজয়ীদের ডিরাক মেডেল দেওয়া হয় না। তবে অতীতে বহু ডিরাক মেডেলজয়ী পরবর্তীকালে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলির কোনও না কোনওটি পেয়েছেন। দীপক ধরের সাফল্যের তাৎপর্য তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট শহরে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা পড়ে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া এক ছাত্র পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন, বিদেশে উজ্জ্বল কেরিয়ারের সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে এসেছেন এবং ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় কয়েক দশক ধরে অবদান রেখে চলেছেন। ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল সেই দীর্ঘ যাত্রারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তাঁর গল্প একই সঙ্গে প্রমাণ করে—কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং দেশের মাটিতে থেকে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে ছোট শহর থেকেও বিশ্ববিজ্ঞানের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট

    বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

    ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।

    ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে

    বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

  • Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে হরমুজ প্রণালী ও বসফরাস প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যপথ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি বিকল্প রেলপথ (Russia-India Train Proposal) তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে স্থলপথে ভারত পর্যন্ত সরাসরি পণ্য পরিবহনের নতুন একটি করিডর তৈরি হতে পারে। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে (TASS) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুসনুলিন বলেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ভবিষ্যতে বিকল্প স্থলপথ খোঁজার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

    কোন পথে যেতে পারে রেললাইন?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত সম্ভাব্য রুটটি তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছতে পারে। খুসনুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করে এমন যে কোনও বিকল্প পথই বিবেচনা করা যেতে পারে।

    বাধা হতে পারে পাকিস্তান

    এই পরিকল্পনার (Russia-India Train Proposal) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হতে পারে পাকিস্তান। রাশিয়া থেকে প্রস্তাবিত এই স্থলপথ ভারত পর্যন্ত পৌঁছতে গেলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রেলপথ তৈরি ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় এই সহযোগিতা আদায় করা কতটা সম্ভব, সেটিই হতে পারে প্রকল্পটির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    এখনও পরিকল্পনার স্তরেই

    রাশিয়ার এই প্রস্তাব এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রকল্প নয়। এখনও নির্দিষ্ট রুট, নির্মাণ ব্যয় কিংবা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প করিডর নিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ধরনের রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দুই দেশকে সরাসরি স্থলপথে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি বোঝাতে বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী রেলপথগুলির অন্যতম চিন-স্পেনের ইউই-মাদ্রিদ (Yiwu–Madrid) রেলপথের উদাহরণ দেওয়া যায়। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি একাধিক দেশ পেরিয়ে চিন ও স্পেনকে যুক্ত করেছে।

    কেন হরমুজ নিয়ে এত উদ্বেগ?

    রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাতের পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনরিরি গার্ড কোর (IRGC) পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েল-সমর্থক দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি ও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    বসফরাস প্রণালী নিয়েও সমস্যা

    রাশিয়ার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল বসফরাস। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী কৃষ্ণসাগরকে মারমারা সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাশিয়ার পণ্য রফতানি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই পথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই খুসনুলিনের প্রস্তাব শুধু নতুন একটি রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথ বন্ধ বা ব্যাহত হলে যাতে বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, সেই লক্ষ্যেই স্থলপথে এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে মস্কো। অন্য দিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকাও। ৮৬-১১ ভোটে বিল পাশ হয়েছে সেনেটে। সেখানে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়ার সুবিধা অনেক। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে যেমন স্থলপথ ব্যবহার করা যাবে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নির্ভরতা কমবে। নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও এশিয়ার বাজারের বাণিজ্য করতে কোনও অসুবিধা হবে না।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে ভারতের জন্যও তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের করিডর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে যদি সত্যিই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থলপথে রেল যোগাযোগ তৈরি হয়, তাহলে পর্যটকদের যাতায়াতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প স্থলপথ তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন পথ যোগ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো একাধিক দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে এমন বিশাল রেলপথ তৈরি করা প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও কূটনৈতিক—তিন দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন। তাই আপাতত রাশিয়ার প্রস্তাবকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ‘প্ল্যান-বি’ (Plan B) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতমুখী এই বিকল্প রেল করিডরের ধারণা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

  • Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    Har Ghar Tiranga Campaign: স্বাধীনতা দিবসে প্রথম ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি কলকাতায়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পদযাত্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পথে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Independence Day)। তাঁর সঙ্গী কলকাতার প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া। আগামী সোমবার ১০ অগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি (Har Ghar Tiranga Campaign) উপলক্ষে বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাস্তায় নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়া উপস্থিত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে গোটা পরিকল্পনা হলেও কার্যত সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। বিভিন্ন কলেজের সঙ্গে বৈঠক করে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে, শুধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু কলেজ থেকেও পড়ুয়াদের এই মিছিলে আসতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া, কলকাতার প্রায় ২০টি স্কুলের পড়ুয়ারা ওই পদযাত্রায় যোগ দেবে।

    তালিকায় রয়েছে ৭৬ টি কলেজ

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, আপাতত ৭৬ টি কলেজকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির বিভিন্ন কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবেন। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ হাজার পড়ুয়াকে জড়ো করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। কলকাতার বাইরের কলেজের ক্ষেত্রে বাসের ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। ওই দিন সকাল ১০ টার মধ্যে আকাশবাণীর কাছে জমায়েত হবে। বেলা ১ টার পরে মিছিল শুরু হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পর্যন্ত। যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকাশ ভবনের তত্ত্বাবধানে সব আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের আকাশবাণী এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কলেজ থেকে একজন নোডাল অফিসার থাকবেন। তাঁর দায়িত্বে থাকবেন সব ছাত্রছাত্রীরা। তিনি যোগাযোগ রাখবেন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে।

    অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে শহরের প্রায় ২০টি স্কুল

    স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, শহরের প্রায় ২০টি স্কুল এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছে। পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ২ অগাস্ট থেকে ১২ অগাস্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষা শেষ করার কথা। সে ক্ষেত্রে যোগদানকারী কোনও স্কুলে যদি ১০ অগাস্ট পরীক্ষার সূচি থাকে, তা পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছেন, ‘‘বিগত সরকার কেন ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি করেনি, জানি না। আমরা এবার ওই কর্মসূচিতে জুড়লাম। এবছর থেকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা তিরঙ্গা যাত্রা করব। যেহেতু এবারই প্রথম, তাই এর বিস্তারিত আমি জানিয়ে দিচ্ছি। ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট তিরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হবে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমা, পৌরসভা, ব্লক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা – সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এই উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক ভবন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা হবে। প্রবন্ধ, অঙ্কন, সচেতনতামূলক মিছিল হবে। এনিয়ে প্রিন্ট, ডিজিটাল ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করব আমরা।”

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বোমা-হামলার লক্ষ্য ছিলেন মেসি! নিশানায় রোনাল্ডোও, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বোমা-হামলার লক্ষ্য ছিলেন মেসি! নিশানায় রোনাল্ডোও, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের লড়াই চলছিল মাঠে। গ্যালারিতে উন্মাদনা, মাঠে তারকাদের ভিড়। কিন্তু সেই উৎসবের আবহেই ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সময় বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল আমেরিকায়। যার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন লিয়োনেল মেসি। বিশ্বকাপ জুড়ে মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক ভয়ঙ্কর হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বারবার তৎপর হতে হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনীকে। মেসি ছাড়াও অন্য ফুটবলার, কর্মকর্তা ও রেফারিরাও লক্ষ্য ছিল বোমা হামলার। পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও নজরে ছিলেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকেও অনলাইনে বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। এমনকী প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি-সহ একটি পুতুল পুড়িয়ে সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

    মেসিকে ঘিরে একের পর এক ভয়ঙ্কর হুমকি

    পুলিশি নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে ফোন করে দাবি করেছিলেন যে তিনি আরও দু’জনকে নিয়ে ডালাসের স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাঁদের কাছে নাকি ঘরে তৈরি বোমা এবং একটি রাইফেল ছিল। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল পুলিশকর্মী এবং দুই দলের ফুটবলাররা। সেই তালিকায় বিশেষ ভাবে মেসির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। আরও একটি ঘটনা ঘটে ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা (Argentina) ও মিশরের (Egypt) ম্যাচের আগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে এক ব্যক্তি দাবি করে, চারটি বোমা নিয়ে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে মেরে ফেলবেন। সেই পোস্টে লেখা হয়েছিল, ‘আমি স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

    এই ধরনের হুমকির পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আটলান্টার স্টেডিয়ামে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল মোতায়েন করা হয়। আরও একটি ফোনে দাবি করা হয়েছিল যে, স্টেডিয়ামের ভিতরে আবর্জনার পাত্রে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। সেই অভিযোগের পর গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিল এফবিআই (FBI) এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের যৌথ নেটওয়ার্ক। সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা, কাউকে অনুসরণ করার ঘটনা, বিভিন্ন হুমকি এবং যে কোনও বিপদের সম্ভাবনা— সব কিছুতেই নজর রাখছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

    নজরে রোনাল্ডো

    শুধু মেসিই নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে লক্ষ্য করেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে পুলিশ নথিতে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশকে সতর্ক করে দেয় এই বলে যে এক ব্যক্তি রোনাল্ডো কোথায় উঠেছেন তার বিশদ জানতে চাইছেন। হিউস্টন পুলিশ সেই ব্যক্তিকে ১৬ জুন গ্রেফতার করে রোনাল্ডো যে হোটেলে ছিলেন সেই হোটেল থেকে। টরন্টোতেও আর এক ব্যক্তি রোনাল্ডোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করায় তাঁকে আটক করা হয়। যদিও ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ফুটবল তারকার সঙ্গে একটি সেলফি তোলা।

  • Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হানিট্র্যাপ’-এর (Honey Trap) ফাঁদে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) কর্মরত এক উইং কমান্ডারকে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট-এর আওতায় তদন্ত চলছে। পুলিশ ও বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার গোয়েন্দা শাখা প্রথমে ওই অফিসারের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। এরপর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করে বায়ুসেনা। পরে সেই তথ্য ও নজরদারির উপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তাঁকে গ্রেফতার করে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের অভিযোগ

    দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই উইং কমান্ডারকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এক মহিলা পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তি আসলে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়কে কাজে লাগিয়েই ওই অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়। প্রথমে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হয়। পরে ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে সামরিক সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ, ওই অফিসারের কাছ থেকে সামরিক গতিবিধি, সেনা মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষা ইউনিট সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যও পাঠিয়েছিলেন।

    সহকর্মীর ফোনে সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টলের নির্দেশ

    তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই মহিলার পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি ওই উইং কমান্ডারকে তাঁর এক সহকর্মীর ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ফোনের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ অথবা যোগাযোগে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। দিল্লি পুলিশ মনে করছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র একজন বায়ুসেনা অফিসারকে ঘিরে নয়; এর পিছনে আরও বড় একটি গুপ্তচর চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়ো পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বায়ুসেনার অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সচেতনতা প্রশিক্ষণের গুরুত্বও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত যত এগোবে, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের পরিধি এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh Map Update) বিভিন্ন এলাকার নাম বারবার বদলে দেওয়ার চিনা (India China) প্রচেষ্টার পাল্টা জবাব দিল ভারত। গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও মানচিত্র-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানকে ভারতের মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শুক্রবার অরুণাচল সরকারের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করে, সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মানচিত্রগুলিতে এই ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে মানচিত্রে যোগ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিগত নামকরণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলোর সঠিক ভৌগোলিক স্বীকৃতিকে উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই ২৭টি স্থানের মধ্যে ২১টি স্থলভাগ, ৪টি গিরিপথ, ১টি হ্রদ এবং ১টি স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল সেগুলিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

    চিনকে জবাব ভারতের

    অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার চিনা পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এ ধরনের নামকরণ “অর্থহীন ও হাস্যকর” এবং এর মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—অরুণাচল প্রদেশ “ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে।” অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চিনের দেওয়া নামকে বরাবরই “কাল্পনিক” ও “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চিন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের জন্য তথাকথিত ‘মানক’ নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে আরও ১৫টি স্থানের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নামের তালিকা প্রকাশ করে বেজিং। চিন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ (Zangnan) নামে অভিহিত করে। তবে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে, নাম পরিবর্তন করে কোনওভাবেই অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অংশ হওয়ার ঐতিহাসিক ও বাস্তব সত্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা

    সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলির আনুষ্ঠানিক নামকরণ, বহুদিন ধরে ঘটে চলা আঞ্চলিক নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের কড়া জবাব। জাতীয় মানচিত্রের মধ্যে আদিবাসী, ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত নামগুলিকে আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করল। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষামূলক উপকরণ, সরকারি নথি, জনযোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্র সংক্রান্ত তথ্যে সরকারি ভারতীয় নামকরণই উল্লেখিত হবে।

    কোন কোন জায়গা চিহ্নিত

    সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে লং জু (Long Ju)। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-এর কাছে অবস্থিত এই এলাকা ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ওই সময় চিনা বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছিল। উপরের সুবনসিরি জেলার লং জু-এর কাছে অবস্থিত মাজা (Maja) গ্রামকেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিসা (Bisa) গ্রাম এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা (Dzo La), রিজা লা (Riza La) এবং পুকুর লা (Pukur La)। সরকারি মানচিত্রে স্থান পেয়েছে উচ্চ পার্বত্য হ্রদ সাম্ভো সরোবর (Sambho Sarovar), পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের বড়া কুন্ডুন ও ছোট কুন্ডুন, পাশাপাশি ধানবাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর এবং জশবন্ত গড়।

    ১৯৬২ সালে ভারত-চিনের সংঘাতের জায়গার নামও ম্যাপে

    একইভাবে তাওয়াং জেলার নামকা চু উপত্যকার টেগ লা’ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মানচিত্রে। ১৯৬২ সালে ভারত এবং চিনের যুদ্ধের শুরুটা প্রথম যে জায়গাগুলিতে শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল থাগ লা (Thag La)। আবার পূর্ব সীমান্তের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর, বৈশাখী, যশবন্ত গড়ের (১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে শহিদ জওয়ান যশবন্ত সিং রাওয়াতের মেমোরিয়াল) মতো জায়গাকে মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জয়রামপুর (Jairampur)-ও। চাংলাং জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রটি পূর্ব অরুণাচল এবং মায়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

    কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

    জশবন্ত গড়ে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা জওয়ান জশবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। তাওয়াং যাওয়ার পথে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি ভারতীয় সেনার বীরত্বের অন্যতম প্রতীক। ২৭টি স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামের নাম। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর ত্রিলোক সিং থাপা-র স্মৃতিতে নির্মিত শের-এ-থাপা মেমোরিয়াল-কেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ছোট রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কামলাং নগর এবং বুদ্ধমন্দির-ও। কামলাং অভয়ারণ্যের কাছে অবস্থিত কামলাং নগরেরও কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তিনটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। উত্তরে ও উত্তর-পূর্বে তিব্বতের মধ্য দিয়ে চীন, পশ্চিমে ভুটান এবং পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমার। তাই এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরেও বার্তা দিল ভারত।

  • FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill, 2026) আগামী ১২ অগাস্ট সংসদে আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হবে। তবে বিলটি পূর্ববর্তী সময় (Retrospective Effect) থেকে কার্যকর করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। বৈঠকে তাঁরা প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। লালদুহোমা বলেন, “আমরা নতুন এফসিআরএ বিল নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিল অতীত থেকে কার্যকর হবে না।” তিনি আরও জানান, অমিত শাহ তাঁদের বলেছেন যে ১২ অগাস্ট সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।

    বিলে কী কী প্রস্তাব রয়েছে

    প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হবে, স্বেচ্ছায় জমা দেবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদ প্রথমে একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’-র অধীনে অস্থায়ীভাবে ন্যস্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নতুন লাইসেন্স না পায় বা লাইসেন্স পুনর্বহাল না হয়, তাহলে সেই সম্পদ ও বিদেশি অনুদান স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে।

    প্রতি বছর হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

    বিদেশি অনুদান (এফসিআরএ) সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান গ্রহণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সেই অর্থ কোথা থেকে এল, কীভাবে খরচ হল এবং তার হিসেব যাতে স্পষ্ট থাকে, সেটাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংস্থাগুলিকে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নিতে হবে। প্রতি বছর নিরীক্ষিত হিসেব জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

    বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে

    ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা কোন ধরনের কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কাজ করবে, তা আগে থেকেই জানাতে হবে। নিবন্ধন নবীকরণের জন্য গত দুই বছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্পে খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু দেশেও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

LinkedIn
Share