Author: ishika-banerjee

  • FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

    মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

    সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।

    ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর

    ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।

    শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা

    মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

     

     

  • Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বুধবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বিষ্ণুপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাসপাতালের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করতে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তদন্তের কথা জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ যখন এসেছে, তখন পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।’’

    সেবাশ্রয় কী

    পুরো ডায়মন্ড হারবার জুড়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘সেবাশ্রয়ে’ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভিড় করতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ। মাঝেমধ্য়েই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সে সব ছবি পোস্ট করা হত তৃণমূল ও অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই এবার উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে খবর, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অননুমোদিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভুয়ো নথি ব্যবহার, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াদের এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রচারপত্র, নথি, ছবি, ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছে। ববির আরও অভিযোগ, ওই ক্যাম্পগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ড, পোর্টেবল এক্স-রের মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বিধি ভাঙা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে বিভিন্ন মেশিনপত্র সেবাশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত।

    কী কী অভিযোগ?

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে আলট্রাসনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্সরে-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। বিজেপি নেতার দাবি, অযোগ্যদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হত ‘সেবাশ্রয়ে’। অভিযোগ, ওই শিবিরে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হত। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ওই স্বাস্থ্যশিবিরে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। এ ছাড়াও, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথাও রয়েছে অভিজিতের অভিযোগপত্রে। তাঁর আরও দাবি, সরকারি প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিয়ো যাচাই করে এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগ করা হয়েছে।

    তদন্তে অনেক কিছু বেরোবে

    সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক ছিল, ৯০ শতাংশই হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা করানো হত। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ববি। তাঁর অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”

    তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি, এখানে এসপি আছেন, তিনি তদন্ত করবেন। জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের যা সাহায্য লাগবে, তা করা হবে। ইটস আ ক্রাইম। আর ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যা করার করা হবে।’’ জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাশে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যাবেলা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়-এ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা অভিযোগকারীদের

    বিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের জোরাল দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে সেবাশ্রয় শিবির বিতর্ক ইসুতে ‘এটা ক্রাইম’ বলে পুলিশি তদন্তের কথা বলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর মুখে এদিন পুলিশি তদন্তের বিষয়টি উঠতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে পুলিশের তদন্তে আরও গতি পাবে বলেও মত অনেকেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্সের নীতিতে সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগকারীরাও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে।’’ বলছেন অভিযোগকারীরা।

     

     

     

     

  • West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি থেকে দক্ষতা- সবদিক দিয়ে রাজ্যের পুলিশকে (West Bengal Police) আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এবার রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rashtriya Raksha University – RRU)সঙ্গে মউ (MoU) স্বাক্ষর করল রাজ্য পুলিশ। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উপস্থিতিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রাজ্য পুলিশের (State Police) সার্বিক উন্নয়নের জন্যই এই চুক্তি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে জানান তিনি। বুধবার নবান্নে এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গে ‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে দায়বদ্ধ।

    তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’কে কটাক্ষ

    এদিন পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিগত তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’ ও খামতিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব প্রথম এসেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি এবং ফাইল আটকে রেখেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অতীতে কলকাতা পুলিশের তুলনা করা হত স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে। কিন্তু আগের সরকার পুলিশকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল না দেওয়ায় সেই গৌরব হারিয়েছিল। আমরা সেই হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনব।”

    সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী হবে পুলিশ

    শুভেন্দু বলেন, “আমরা সরকারে আসার পরে এই মউ স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিই। তদন্তের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পাশপাশি আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। এই কোর্স করার জন্য পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর থেকে শুরু করে আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারেরা এবং যাঁরা সন্ত্রাস-বিরোধিতায় কাজ করতে চান, তাঁরা এই কোর্স করতে পারবেন। এতে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের তদন্ত, সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে সাহায্য করবে।” শুভেন্দু এদিন উল্লেখ করেন, আগে এ রাজ‍্যের পুলিশের বিশেষ সুনাম ছিল গোটা বিশ্বে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পুলিশি ব্যবস্থাই তলানিতে চলে গিয়েছে। পুলিশকে সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী করা হবে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কী কী আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবে পুলিশ?

    এই চুক্তির আওতায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সাব-ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর, ডব্লিউবিপিএস এবং আইপিএস অফিসাররা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক। ডার্ক ওয়েব নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পুলিশিং। সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা। মানবপাচার বিরোধী অভিযান, ড্রোন পুলিসিং এবং কে-নাইন ডগ স্কোয়াড প্রশিক্ষণ।

    পুলিশে আরও নিয়োগ

    এদিন পুলিশে আরও নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ হাজার কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন। তাঁদের জন্য নিয়োগ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন এদিন। মেয়েদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি থানাকে ধাপে ধাপে ‘১১২’ জরুরি পরিষেবার আওতায় আনা হবে এবং তৈরি করা হবে কুইক রেসপন্স টিম। রাজ্যপাল স্বয়ং এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলেন বলে জানান তিনি।

    পুলিশেরও রক্ত ঝড়বে না!

    রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। নতুন পরিকাঠামোয় আমাদের পুলিশ কর্মীদের আর অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরবে না, হাসপাতালে যেতে হবে না। পুলিশ কর্মীদের অন ডিউটি নিরাপত্তা ও সম্মান সুনিশ্চিত রাখাটাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাজ্যে অপরাধ দমন ও পুলিশি ব্যবস্থার ভোলবদল করাই তাঁর উদ্দেশ্য। ফলতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিককালে ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ-এর সুফল

    মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ, অসম, হরিয়ানা-সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের যে বিপুল প্রয়োজন রয়েছে, এই মউ-এর মাধ্যমে তা এবার এ রাজ্যে অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ – দুই বাহিনীই প্রভূতভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari on Pink Card: ‘যে মহিলারা ফ্রি টিকিট চান না তাঁদের কুর্ণিশ’, বাকিদের জন্য পিঙ্ক কার্ড, জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari on Pink Card: ‘যে মহিলারা ফ্রি টিকিট চান না তাঁদের কুর্ণিশ’, বাকিদের জন্য পিঙ্ক কার্ড, জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার (Suvendu Adhikari on Pink Card) ৷ কিন্তু এই পরিষেবাকে স্বাগত জানিয়েও অনেক মহিলাই এই পরিষেবা নিতে চান না বলে সমাজমাধ্যমে মত দিয়েছেন৷ কারণ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী অনেক মহিলাই যুক্তি দিয়েছেন, বাস ভাড়া দিতে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই৷ মহিলাদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, যে মহিলা যাত্রীরা চাইবেন, ভবিষ্যতে তাঁরাই বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন৷ সেই উদ্দেশ্যেই মহিলা বাস যাত্রীদের জন্য চালু হচ্ছে পিঙ্ক কার্ড৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে মহিলারা বিনামূল্যে বাস যাত্রার সুবিধা নিতে চান, তাঁরাই এই পিঙ্ক কার্ড সংগ্রহ করবেন৷

    বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’

    বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে তিনি জানান, মহিলাদের জন্য খুব শীঘ্রই চালু করা হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমেই সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন রাজ্যের মহিলারা। একইসঙ্গে যাঁরা নিজের খরচে বাসভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের প্রতিও বিশেষ সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বাসে ইতিমধ্যেই ‘শূন্য মূল্যের টিকিট’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেক মহিলা এই সুবিধা নিতে চান না। কারণ তাঁরা নিজের উপার্জনে যাতায়াত করতে স্বচ্ছন্দ। সেই সমস্ত মহিলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা বলছেন তাঁরা পর্যাপ্ত বেতন পান এবং বিনামূল্যের টিকিট নিতে চান না, তাঁদের আমি নতমস্তকে প্রণাম জানাই।”

    সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প কার্যকর করতে সরকারের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। যদিও রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এর আগেই মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় এই খাতে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়। বর্তমানে রাজ্যের একাধিক সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। ডব্লিউবিটিসি, এসবিএসটিসি এবং এনবিএসটিসি-র বাসে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। শুধু সাধারণ বাস নয়, সরকারি এসি বাস, দূরপাল্লার বাস, এমনকি ভলভো ও দ্রুতগামী বাসেও এই সুবিধা মিলছে। তবে নতুন করে ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু হওয়ার ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই কার্ড পাওয়া যাবে? কারা আবেদন করতে পারবেন? প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই কার্ডের জন্য মহিলাদের নতুন করে আবেদন করতে হতে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন বিডিও অফিস, এসডিও অফিস এবং পুরসভাগুলির মাধ্যমে এই কার্ড বিলির সম্ভাবনা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রসূতি মায়েদের জন্য ১০২ নম্বর যুক্ত ২০০টি অ্যাম্বুল্যান্সের আজ উদ্বোধন হয়েছে৷ স্বাস্থ্য দফতর থেকে এই অ্যাম্বুল্যান্সগুলি সমস্ত জেলার হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হবে৷

  • Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় চিকিৎসক দিবস-এ রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে দুষলেন বিগত তৃণমূল সরকারকে। একই সঙ্গে ভোল বদলের আশ্বাস দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আজ ১লা জুলাই ২০২৬, প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ (National Doctor’s Day)। এই বিশেষ দিনে সল্টলেকের এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বিধানচন্দ্র রায় -এর নামে হাসপাতাল

    সল্টলেকের বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ভোলবদল ও নতুন নামকরণের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল’। ডক্টর ডে-র মূল মঞ্চ থেকে আজ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কিছু অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।একই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পরিষেবার সূচনা করার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।

    বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ শিক্ষনীয়, জ্যোতি বসুকে স্মরণ

    রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও। চিকিৎসক দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।”

    বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা

    রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৃণমূল সরকারের আমলে ভেঙে পড়েছে, লাগামছাড়া দুর্নীতিও হয়েছে, সেই অভিযোগ উঠেছে। এদিন সেই বিগত সরকারের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও তুলোধনা করেছেন তিনি। বিজেপি আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে উন্নত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমরা-ওরা থাকতে পারে না।” সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা থেকে বহু রোগী ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। এই রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। কুকুর বেড়াল শুয়ে থাকত হাসপাতালের ভিতর। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। “এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে বার করতে হবে।” এদিন এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি চিকিৎসকদের ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশে দেখা যায়। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে জোর দিয়েছেন তিনি।

  • Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    Kolkata Police: ধর্মতলা চত্বরে মিছিল-ধর্না নয়! ব্যস্ত রাস্তায় জমায়েত বন্ধে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের অনুমতি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিল লালবাজার। এমনকী, ধর্মতলা চত্বরে আগামী ৬০ দিনের জন্য কড়া নিষেধাজ্ঞা (Ban At Dharmatala) জারি করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সম্ভাব্য বিক্ষোভ, অশান্তি এবং জনশৃঙ্খলা ভাঙনের আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় এই নির্দেশ জারি করেছেন।

    পুলিশের নির্দেশে কী বলা হল

    পুলিশের (Kolkata Police) নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ধর্মতলার একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে মিছিল, সভা, ধর্না, বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে যে, ওই এলাকায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তার জেরে জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে বউবাজার থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং সদর ট্র্যাফিক গার্ডের অন্তর্গত নির্দিষ্ট অংশ। কেসি দাস মোড় থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস তথা সিইএসসি দফতর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এমন কোনও কাজ করা যাবে না, যাতে শান্তিভঙ্গ, জনদুর্ভোগ বা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    প্রশাসনের বক্তব্য, ধর্মতলা (Gathering in Dharmatala) কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই পথ ব্যবহার করেন। সেখানে রাজনৈতিক জমায়েত বা বিক্ষোভ থেকে বড়সড় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এত সংখ্যক মানুষের কাছে আলাদা করে নোটিস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার উপধারা অনুযায়ী একতরফা ভাবে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, কলকাতা পুলিশ গেজেট এবং বিভিন্ন থানার নোটিস বোর্ডের মাধ্যমে এই নির্দেশ প্রকাশ করা হবে।

  • FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নিখুঁত টোটাল ফুটবলের (FIFA World up 2026) সামনে দাঁড়াতে পারল না সুইডেন। এমবাপে, বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেল সুইডিশরা। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। সুইডেনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোয় জায়গা পাকা করে নিল দিদিয়ের দেঁশর ছেলেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে, একটি গোল করলেন বার্কোলা। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ৫ জুলাই রবিবার রাত আড়াইটের সময়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছোল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের দাপটে আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গেলো জয় পেল নরওয়ে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। রাউন্ড অফ ৩২-এর অপর ম্যাচে মেক্সিকো-ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়।

    ফ্রান্সের রেকর্ড

    ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। এ বার তারা ট্রফির জয়ের জন্য দুর্দান্ত ছন্দে ছুটে চলেছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক নজির গড়েছে গতবারের রানার্স আপরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি গোল যোগ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স। ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে তিন গোল করার পর চলতি বিশ্বকাপে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষেও তিন বা তার বেশি গোল করে তারা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল সুইডেনের বিপক্ষেও।

    বেগ পেতে হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকেও

    নকআউট পর্বের ফ্রান্স আলাদা। যে কোনও দলকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার দিদিয়ের দেশঁর দলকে হারাতে হলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। লিয়োনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই ফ্রান্সকে রুখতে পারবেন না। নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত ফুটবল খেলল ফ্রান্স। দেশঁ যেন কম্পিউটার পোগ্রামিং করে দল নামিয়ে ছিলেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ— ফুটবলের তিন বিভাগেই নিখুঁত ছিল ফ্রান্স। মাঠের সব প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছেন ফরাসি ফুটবলারেরা। নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় নিখুঁত পাস খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছেন। পায়ে অযথা বল রাখেননি। সবচেয়ে ভাল জায়গায় থাকা সতীর্থকে মুহূর্তে খুঁজে নিয়েছেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন।

    জোড়া গোল এম বাপের

    ফ্রান্সের প্রথম গোল সেটপিসের ফসল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে সুইডেনের দু’জন ফুটবলারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধথে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক দেখিয়েছে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তাঁর দুরন্ত ফিনিশিংও মনে রাখার মতো। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপে। এই গোলেও ওলিসের অবদান। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাস থেকে গোল না করে উপায় ছিল না এমবাপের! ছ’নম্বর গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা হল ১৮। শুধু নকআউটেই রেকর্ড ১০টি।

    নজির ওলিসের

    দিনটা ছিল আসলে ওলিসের। তিনিই সুইডেনকে সবচেয়ে বিব্রত করেন। খেলা তৈরি করলেন, গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ালেন, নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পেলেন না। তবে নজির গড়লেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। যা সর্বোচ্চ। ওলিসেই হলেন দেশঁর দলের ব্যান্ড মাস্টার। সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি।

    দাপট দেখিয়েই ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

    এদিন ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল নরওয়ের। একের পর আক্রম‌ণ তৈরি করেছেন হালান্ডেরা। যত আক্রমণ তৈরি হয়েছে, তত সুযোগও নষ্ট হয়েছে। হালান্ড একাই নষ্ট করেছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কখনও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কখনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মেরেছেন। নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রম‌ণে উঠে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দু’দলই। খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রেই হোক বা আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে, দু’দল পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতা উচিত ছিল তাদের। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েক বার দলের পতন আটকেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত।

    শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা পরে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ থাকে। ইউলিয়ান কুইনোনেনেস-রাউল খিনেমেস যুগলবন্দিতে ৩১ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে গেল মেক্সিকো। ২২ মিনিটে গোল করেন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান রাউল। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

  • WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার চালু করছে। মেটা-অধীন এই সংস্থার দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আর নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার না করেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই এটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে ভারতে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা।

    দ্রুত ইউজারনেম সংরক্ষণ

    হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যবহারকারী একটি স্বতন্ত্র ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন। প্রয়োজনে সেই ইউজারনেম পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ মুছেও ফেলা যাবে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে তাদের প্ল্যাটফর্মে তিনশো কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফলে পছন্দের ইউজারনেম অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার আগে দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার নতুন সিইও কুনাল শাহও ইতিমধ্যেই নিজের ইউজারনেম সংরক্ষণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “সঠিক সময়টাই সবকিছু। ফিচারটি সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই আমি আমার ইউজারনেম নিশ্চিত করেছি। আপনিও দ্রুত নিজেরটি সংরক্ষণ করুন।”

    সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগ

    হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই ফিচারের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই সুবিধাই আবার প্রতারকদের জন্য নতুন অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জনপরিচিত ব্যক্তিদের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা, ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পে যুক্ত করা কিংবা প্রতারণামূলক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমন্ত্রণ জানানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    অনকুর ওয়ারিকুর কড়া সতর্কবার্তা

    উদ্যোক্তা ও জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার অনকুর ওয়ারিকু এই ফিচার নিয়ে সরব হয়েছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ভারতে যদি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার রোধের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এই ফিচার বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “ভারতের মতো দেশে সঠিক অ্যান্টি-অ্যাবিউজ সিস্টেম ছাড়া এই ফিচার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রতারকরা খুব সহজেই জনপরিচিত ব্যক্তিদের মতো দেখতে ইউজারনেম তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে।” ওয়ারিকু আরও দাবি করেন, অতীতে তাঁর মুখ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়ো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টানার ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণে তিনি মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি নিজে দেখেছি এই ধরনের প্রতারণা কত বড় আকার ধারণ করেছে এবং আমাদের দেশে কত সহজে তা পরিচালিত হয়। তাই একজন জনপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে এই ফিচার নিয়ে আমার উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    ওয়ারিকুর পোস্টের পর বহু ব্যবহারকারী একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম ফিচারের প্রয়োজন ছিল কি না। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “হোয়াটসঅ্যাপ তো শুধুই একটি মেসেজিং অ্যাপ হওয়ার কথা ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়। অপ্রয়োজনীয় ফিচার যোগ করতে গিয়ে অ্যাপটির মূল চরিত্রই বদলে যাচ্ছে।” আরেকজনের মতে, “গোপনীয়তার কথা বলে এই ফিচার আনা হলেও বাস্তবে যদি সত্যিই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার কথা ভাবা হতো, তাহলে এমন ব্যবস্থা করা উচিত ছিল যাতে শুধুমাত্র কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরাই কল বা মেসেজ করতে পারেন।”

    হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    সমালোচনার জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, পরিচয় জালিয়াতি রোধে বিশিষ্ট জনপরিচিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণা রুখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার কথাও সংস্থা জানিয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র পরিচিত ব্যক্তিদের ইউজারনেম সংরক্ষণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই রকম বানান, অতিরিক্ত অক্ষর বা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ইউজারনেম তৈরি করা এখনও সম্ভব হতে পারে। তাই শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার কার্যকর প্রযুক্তি প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

    নজর নিরাপত্তার দিকে

    হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী এই ফিচার চালুর সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

  • Cricket Returns in Olympic: ঐতিহাসিক মুহূর্ত! অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগ বিহ্বল আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

    Cricket Returns in Olympic: ঐতিহাসিক মুহূর্ত! অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগ বিহ্বল আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১২৮ বছর পর অলিম্পিক্সের মঞ্চে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনকে (Cricket Returns in Olympic) এক ঐতিহাসিক “মাইলফলক” বলে মনে করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর চেয়ারম্যান জয় শাহ। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স ২০২৮ (LA28)-এর জন্য ক্রিকেটের যোগ্যতা অর্জনের (Qualification Pathway) আনুষ্ঠানিক কাঠামো ঘোষণা করেছে আইসিসি ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো আইসিসি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। জয় শাহ বলেন, এই যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতি সদস্য দেশগুলিকে অলিম্পিক্সে খেলার একটি স্পষ্ট ও প্রতিযোগিতামূলক পথ দেখাবে। তাঁর মতে, অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করবে। নতুন নতুন দেশে ক্রিকেটের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ছয়টি দল খেলবে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে

    লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগের টি-২০ ক্রিকেটে অংশ নেবে ছয়টি করে দল। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া—এই চারটি মহাদেশের অন্তত একটি করে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের পাঁচটি দল নির্ধারিত হবে আইসিসির বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। ষষ্ঠ ও শেষ দলটি নির্বাচিত হবে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আইসিসি অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার (ICC Olympics Qualifier) থেকে। ২০২৬ সালের আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC Women’s T20 World Cup) ফলাফলের ভিত্তিতে মহিলাদের বিভাগে প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ডের মাধ্যমে), ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিটি মহাদেশ থেকে সর্বোচ্চ একটি দল সুযোগ পাবে। পুরুষদের বাকি দলগুলি নির্ধারিত হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর আইসিসি টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী। প্রতিটি মহাদেশের সর্বোচ্চ যোগ্য দল সুযোগ পাবে।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলিম্পিক্সে সরাসরি অংশ নিতে পারবে না, কারণ তারা একক আইওসি-স্বীকৃত জাতীয় অলিম্পিক্স কমিটির প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে ২০২৬ সালের শেষে পুরুষ বা মহিলা দল যদি শীর্ষ আটটি অযোগ্য দলের মধ্যে থাকে, তাহলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য আলাদা বাছাই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগেই অংশ নিতে পারবে, যদি ২০২৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দল আইসিসি টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকে। এই শর্ত পূরণ না হলে তাদের কোটা পরবর্তী যোগ্য দলের কাছে চলে যাবে।

    প্রতিযোগিতার ফরম্যাট

    প্রতিটি দল ১৫ জনের স্কোয়াড নিয়ে খেলবে। ছয়টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে তিনটি দল। গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা দুই দল খেলবে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানাধিকারী দল খেলবে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ২৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সব ম্যাচই ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনা শহরে নির্মিত বিশেষ ক্রিকেট ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন খেলাটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া মঞ্চে তুলে ধরবে। এর ফলে নতুন বাজারে ক্রিকেটের প্রসার ঘটবে এবং বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে অলিম্পিক্সের আবেদন আরও বাড়বে। তিনি জানান, নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সেজে উঠবে বইপাড়া। ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া অর্থাৎ কলেজ স্ট্রিটের (College Street Make Over) এবার ভোলবদল করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এক আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এই বদল হবে। এবার আর যানজট বা হর্ন-এর শব্দ নয়, লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এই এলাকাকে। এমনকী, বইয়ের দোকানগুলিকেও নতুন থিমে সাজানো হবে। আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে এসে এই অত্যন্ত অভিনব ও মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    কেন এই উদ্যোগ

    আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে এনে ফের বইমুখী করতেই বইপাড়া হিসেবে পরিচিত কলেজ স্ট্রিটকে নতুন ভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু কলকাতাই নয়, মন্ত্রীর এই মেগা ভাবনার ছোঁয়া পেতে চলেছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলও। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে ফের বইমুখী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কীভাবে সাজবে কলেজ স্ট্রিট

    নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার অংশে সাধারণ কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিছুটা দূরে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে, যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। বয়স্ক মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। শহরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলেজ স্ট্রিটে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্রাম চালানোর ইচ্ছা রয়েছে মন্ত্রীর। তিনি জানান, সম্পূর্ণ বইপাড়ার ফুটপাত ও রাস্তা সেজে উঠবে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে। চারপাশের বইয়ের দোকানগুলোকে একই রকম থিমে সাজানো হবে। পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট, বসার বেঞ্চ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে বা হেডফোন নিয়ে গান শুনতে পারে। হেরিটেজ রেলিংগুলোকে সংস্কার করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

    আসানসোলেও অক্সফোর্ড স্ট্রিট!

    কলকাতার এই মডেলের অনুপ্রেরণায় আসানসোলেও একটি আন্তর্জাতিক মানের পড়ার জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রীর। তাঁর নিজস্ব বিধানসভা এলাকা আসানসোল দক্ষিণে দামোদর নদের অববাহিকায় ভূতাবেরিয়া থেকে ছটঘাট পর্যন্ত যে দীর্ঘ এলাকা রয়েছে, সেটিকেও বিশেষভাবে উন্নত করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানেও অক্সফোর্ড স্ট্রিটের থিম মাথায় রেখে কোলাহলমুক্ত, শান্ত একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ডিজিটাল যুগে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই তাদের আসল লক্ষ্য।”

LinkedIn
Share