Author: ishika-banerjee

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সুইডেন থেকে নরওয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সোমবার অনুষ্ঠিত ভারত-নরওয়ে বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। ভারত-ইএফটিএ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (TEPA) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করল নরওয়ে। এদিন নরওয়ের রাজা হারাল্ড (King Harald V) ভি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মান প্রদান করেন। নেতৃত্ব ও ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হল প্রধানমন্ত্রীকে। এটি কোনও নাগরিককে দেওয়া নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট পেয়ে সম্মানিত। ভারতের নাগরিক এবং নরওয়ে ও ভারতের অটুট বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করছি এই সম্মান। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের অগ্রগতিতে আমাদের মিলিত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে।’ ঠিক একদিন আগেই সুইডেনের ঐতিহ্যশালী ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোদিকে এই সম্মান প্রদান করে সুইডেন।

    ৪৩ বছর পর প্রথম

    সুইডেন সফর শেষ করেই সোমবার দু’দিনের সফরে নরওয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর প্রথম নরওয়ে সফর। ৪৩ বছর পর প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এলেন তিনি। অসলোর রয়্যাল প্যালেসে রাজা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদিও। জানান নতুন করনীতির কথাও। অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদি। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।

    ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থা

    এই সামিটে ভারত ও নরওয়ের ব্যবসা ও গবেষণা মহলের ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও নরওয়েজিয়ান বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মূল সম্মেলনের আগে অসলোর বিভিন্ন স্থানে চারটি বিশেষ রাউন্ডটেবল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুতায়ন এবং বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা

    ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা হবে।’

    বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান

    সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদি। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’

    ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

    সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সম্প্রতি ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি দুই দেশের শিল্পমহলকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৃহৎ যুবশক্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নরওয়ের সংস্থাগুলিকে ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, সবুজ জ্বালানি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, হেলথ-টেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যত

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক খাতে কার্বন নির্গমন হ্রাস, সমুদ্র সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

     

     

     

  • Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল (Russian Oil Imports) কেনা বন্ধ করবে না ভারত, মার্কিন চাপ উড়িয়ে স্পষ্ট জানাল মোদি সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সর্বাগ্রে, তাই আমেরিকার ‘ওয়েভার’ থাক বা না থাক, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা চলবে আগের মতোই। সোমবার, ১৮ মে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (মার্কেটিং ও অয়েল রিফাইনারি) সুজাতা শর্মা বলেন, “আমেরিকার ওয়েভার নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, ওয়েভারের আগেও আমরা রাশিয়া থেকে তেল কিনেছি, ওয়েভারের সময়ও কিনেছি, এখনও কিনছি।”

    দেশবাসীর স্বার্থকেই প্রাধান্য

    সুজাতা শর্মা স্পষ্ট করে জানান, ভারতের তেল কেনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাণিজ্যিক যুক্তি, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ওয়েভার থাক বা না থাক, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে তার কোনও প্রভাব পড়বে না।” উল্লেখ্য, মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সমুদ্রপথে রফতানিকৃত তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের একটি লাইসেন্স বা ছাড় দিয়েছিল। পরে সেটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ১৬ মে তা শেষ হয়ে যায়। তবে বাস্তবে ভারত কখনওই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড় মূল্যে রুশ তেল পাওয়া শুরু হলে ভারত বড় পরিমাণে সেই তেল আমদানি করতে শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ২০ শতাংশের বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। কেন্দ্র বারবার জানিয়েছে, কোন দেশ থেকে কত তেল কেনা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।

    বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে তার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে তুলনামূলক সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনার নীতি নিয়েছে নয়াদিল্লি। মজার বিষয় হল, অতীতে মার্কিন প্রশাসন নিজেই স্বীকার করেছিল যে ভারত রাশিয়ার তেল কিনে চলায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছে। গত বছর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছিল, আমেরিকা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে রুশ তেল কেনা চালিয়ে যেতে বলেছিল, যাতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। তবে পরবর্তীতে অবস্থান বদলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ইস্যুতে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

  • RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা সেখানকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি ইডিকে (ED) দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানালেন। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নিদের্শের প্রতিলিপিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের ‘ন্যায় বিচার’-এর লক্ষ্যে এটি একটি ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’ বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ‘বোন অভয়া’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যবাসী ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ধীরগতির করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এবং কোনওভাবেই সত্য চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

    কেন রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন

    যেহেতু সন্দীপ সরকারি কর্মচারী, তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ইডি সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি। এত দিন তা আটকে ছিল। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি সরকারের তরফ থেকে দিয়ে দেওয়া হল। সন্দীপকে দোষী সাব‍্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে কার্যত ইডির সামনে এখন আর কোনও বাধা রইল না। শুভেন্দু আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

    আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি

    আরজি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ‘অভয়া’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত চলাকালীন আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই সন্দীপ ঘোষের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এবার সেই ‘স্যানকশন অফ প্রসিকিউশন’ মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত সন্দীপ

    প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা আছে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার পর, প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্তব্যে গাফিলতি, যা ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২০বি ধারার সঙ্গে পঠিত ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (২০১৮ সালের সংশোধিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন)-এর ৭ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি আর্থিক দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ২(১)(য়)-এর অধীনে নির্ধারিত অপরাধের আওতাভুক্ত। এর ফলেই সন্দীপ-সহ মা তারা ট্রেডার্স, ইশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আরও কারা কারা জড়িত

    পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে, এমন অভিযোগ এবং তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়া সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি

    শাসকদলের দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আরজি কর মামলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতিলিপিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, সহকারী অধিকর্তা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিজিও কমপ্লেক্স, এমএসও এবং ডিএফকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যবাসীর একাংশ এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় দ্রুত বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি উঠছিল।

  • Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    Chaos at Park Circus: ভিড়ে মিশে বহিরাগতরা, আগাম ইন্টেলিজেন্স ছিল, কীভাবে পার্ক সার্কাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করল কলকাতা পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে অশান্ত পার্ক সার্কাস (Chaos at Park Circus) সেভেন পয়েন্ট। বেআইনি জমায়েত, রাস্তা অবরোধের চেষ্টা। রবিবার অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ইটবৃষ্টি করে। পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় জখম হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি ও একটি বাসও। পুলিশ সূত্রে খবর, তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে এই জমায়েত হলেও সেখানে বাইরের লোকও উপস্থিত ছিল।

    কীভাবে চলে হামলা

    পুলিশের দাবি, জমায়েতের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনার জেরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশবাহিনী। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও (Central Forces) ঘটনাস্থলে নামানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনা প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অসীম বিশ্বাস জানান, অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা চলছিল। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পাশেই থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বাসেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।

    কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনল পুলিশ

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ৩ জন আহত হন। ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে। ধৃতদের মধ্যে একজন ফেসবুক লাইভ করে আজ জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে। তিনি আরও জানান, গোটা ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় জড়িত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন পুলিশকর্তা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস এই ঘটনার তাব্র নিন্দা করেন। ঘটনাস্থলে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

    কেন অশান্ত পার্ক সার্কাস

    গত ১২ মে তিলজলা থানা এলাকার জিজে খান রোডের একটি চারতলা বাড়ির দোতলায় থাকা কারখানায় আগুন লাগে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ওই ঘটনায় বেআইনি বাড়ি, বেআইনি কারখানার মতো বিষয় সামনে এসেছে। আগুন লাগার ঘটনার পরেই তিলজলার ওই বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। তবে তার উপর কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, পার্ক সার্কাসে রবিবার দুপুরে বিক্ষোভের মূল কারণ তিলজলায় বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙা। পুলিশের একাংশের দাবি, শনিবার রাতেই পার্ক সার্কাসে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা হয়, তবে সেই সময়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া গিয়েছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে পার্ক সার্কাসে বিক্ষোভ দেখানোর ডাক দেওয়া হয়। এ দিন দুপুর ২টো নাগাদ প্রায় ৪০০ জনের একটি জমায়েত দেখা যায় পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড়ে। ওই বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে ঘণ্টা খানেক রাস্তা বন্ধ ছিল। রবিবার হওয়া সত্ত্বেও ব্যস্ত ওই তল্লাটে স্বভাবতই যানজট হয়

    বাইরের লোকও মিশেছিল দাবি পুলিশের

    তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহারের প্রতিবাদে পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্টে উপস্থিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের বক্তব্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের এই অবৈধ জমায়েতে বাইরের লোকও মিশে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইন্টেলিজেন্সের তথ্য পেয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল পুলিশ। সেজন্য বড় ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে জানালেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি অশেষ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করছিল। পুলিশ হঠাতে গিয়েছিল। তখন পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।” ডেপুটি কমিশনার (সাউথ–ইস্ট ডিভিশন বা এসইডি) সৈকত ঘোষ জানান, এ দিনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, বেনিয়াপুকুর থানার ওসি এবং কয়েক জন পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাসচালক ও সাধারণ মানুষ— সব মিলিয়ে জনা দশেক আহত হয়েছেন।

    ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল, বড় কিছু হয়নি

    পুলিশের উপর হামলাকারীদের ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এর পিছনে কারা রয়েছে, আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লোক এসেছিল। আমরা সব খতিয়ে দেখছি। কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা কাউকে ছাড়ব না। কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আমাদের ৩ পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের কাছে ইন্টেলিজেন্সের তথ্য ছিল। আমরা তৈরি ছিলাম। সেজন্য বড় কিছু হয়নি।” বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের উপর হামলা হলে লাঠিচার্জ হবেই। জেন্ডার দেখা হবে না।” রাজ্যের শাসকদল বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র দেবজিত সরকার বলেন, ‘সংবিধান স্বীকৃত আইনের কোনও বিরোধিতা করা যাবে না। সকলকে সংবিধান ও দেশের আইন মেনে চলতে হবে। না–মানলে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে। রাজ্য সরকারের পুলিশ পদক্ষেপ করায় তাদের অভিনন্দন।’

  • Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Chandranath Rath Murder: ‘বিচার হবে’, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে কান্নাভেজা চোখে কথা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রতিটি অন্যায়ের ‘বিচার হবে’। খুন হওয়া আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath Murder) বাড়িতে গিয়ে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সদ্য নির্বাচনের ফলাফল জানা গিয়েছে তখন। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তখনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটানা। মধ্যমগ্রামের কাছে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ভয়ঙ্কর সেই রাতের পর ১১ দিন অতিবাহিত। রবিবার, চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। জলে ভিজল তাঁর চোখও।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে

    রবিবার চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে তাঁর দেশের বাড়ি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে। সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু। আপ্তসহায়কের ছবিতে মালা দিয়ে তিনি কথা বলেন চন্দ্রনাথের মা-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুত্রহারা হাসিরানি রথ। মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথের মা বলেন, ‘‘উনি যে আমার বাড়িতে এসেছেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন উনি। অনেকেই পদ পাওয়ার পর সব ভুলে যান। কিন্তু উনি এসে কান্নাকাটি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন উনি। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে। আশা রাখছি, ছেলের খুনের বিচার হবে।’’

    দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী

    চন্দ্রনাথের খুনের তদন্তে রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে। সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন এবং বক্সার থেকে এক ‘শার্প শুটার’কে গ্রেফতার করে আনে তারা। কিন্তু মূল চক্রী কে, কার ষড়যন্ত্রে এই খুন, তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে। হাসি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন চন্দ্রনাথকে তিনি নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু সে কথায় আমল দেননি তাঁর পুত্র। মহিলার কথায়, ‘‘হয়তো ভবানীপুরের হার মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া। সে জন্য আমার ছেলেকে খুন হতে হল। যাঁরা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের আস্থা আছে। উনিও দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। আমরা বিচার চেয়েছি। সিবিআইয়ের তদন্ত এগোলে সবটা জানতে পারব।’’

  • Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সরকারের নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ সরকারি চাকরির পরীক্ষা। শিক্ষিত, মেধাবী, যোগ্য প্রার্থীদের বয়সও বেড়ে গিয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যে পালাবদলের পর বৃদ্ধি করা হল সরকারি চাকরিতে (Govt Job Age Limit) আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা। ঘোষণা আগেই করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ বার সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গেল নবান্ন থেকে। গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের মুখে হাসি ফুটল।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী জানানো হল

    রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকলে, তাতে কোনও বদল হবে না। গ্রুপ বি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪৪ বছর করা হয়েছে। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে ৪৫ বছর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরির আবেদনের জন্য বয়ঃসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিভিন্ন পদে কত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট পদ বা পরিষেবায় আগে থেকেই যদি ৪১ বছরের বেশি বয়সসীমা কার্যকর থাকে, তাহলে সেই উচ্চতর সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। গ্রুপ ‘বি’ পদে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪৪ বছর। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ার কারণে রাজ্যের বহু যোগ্য যুবক-যুবতী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগই পাননি। তাঁদের বয়স বেড়ে গিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের সামনে ফের একবার নতুন করে আশার আলো জেগে উঠল। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে রাজ্য সরকার, বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। তিলজলার ঘটনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অবৈধ নির্মাণের (Illegal Construction) ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেই সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যত এই ধরনের বিল্ডিং আছে, যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, সেই সব কারখানা, বিশেষ করে তিলজলা, কসবা, মোমিনপুর, একবালপুর-সহ এলাকাগুলিতে দ্রুত ইন্টারনাল অডিট করা হবে। প্ল্যানের অনুমোদন না থাকলে বিদ্যুৎ পরিষেবা ডিসকানেক্ট করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

    পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ

    মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, একদিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য। কলকাতা পুরসভার (KMC) উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তা করা হবে। কেএমসি-কেও বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ, বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন কেটে দেওয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে হাঁটবে সরকার। শুভেন্দুর বার্তা, ‘যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান। যাঁরা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদের আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দিচ্ছি।’ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। আলাদা করে উল্লেখ করেছেন কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো এলাকার কথা।

    কঠোর প্রশাসনিক বার্তা

    উল্লখ্যে, মঙ্গলবার তিলজলায় একটি চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দু’জনের মৃত্যু হয়। তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। মঙ্গলবারের ঘটনার পরেই তড়িঘড়ি রিপোর্ট তলব করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই তিনি জানান, ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। পুরোপুরি অবৈধ ওই কারখানা। কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণ— এই দুই ইস্যুতেই নতুন সরকার শুরু থেকে কঠোর প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছে। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথম কয়েক দিনের সিদ্ধান্ত থেকেই বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    কী বললেন অগ্নিমিত্রা

    রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যে অবৈধ ভবনগুলির ফায়ার লাইসেন্স বা এনওসি নেই, সেগুলিকে নোটিস পাঠানো শুরু হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকদের প্রথমে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তার পরেও নিয়ম না মানলে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক পদক্ষেপ করা হবে। তিনি আরও জানান, তপসিয়ার ওই ভবনটিতে সিঁড়ি এতটাই সরু ছিল যে, সেখান থেকে লোকজন নামতে পারেননি। পিছন দিকে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি থাকা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

     

     

  • CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না, এসএসকেএমে বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, কলকাতার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও চিকিৎসকেরা। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার ১২টি মেডিক্যাল কলেজ সরকারি হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেডিক্যাল সুপারদের সঙ্গে এদিন বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বিজেপির দুই জয়ী ডাক্তার বিধায়ক, বিধাননগর থেকে জয়ী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী ইন্দ্রনীল খাঁও এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপন

    অতীতে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এই অভিযোগের জায়গাগুলিতে কীভাবে উন্নতি করা যায়, কীভাবে ভুলত্রুটি সংশোধন করা যায় এবং এ বিষয়ে সরকারি আধিকারিকদের কী কী করণীয়, সেই নিয়ে কথা বলতেই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in SSKM)। কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্র সরকারের অধীনস্ত চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা। রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। কলকাতার সবকয়টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে।

    দালাল-রাজ মানা হবে না

    হাসপাতাল সূত্রের খবর, বৈঠকে হাসপাতালগুলির বেহাল অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সক্রিয় দালালচক্র এবং রোগী রেফার করে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা নিয়ে কড়া বার্তা দেন তিনি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালরাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত

    রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ জমছিল। রোগী ভোগান্তি, বেডের অভাব, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবার নানা ত্রুটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্যভবনে একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী

    হাসপাতালের সেই ওয়ার রুমের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরাসরি সংযোগ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালগুলির পরিস্থিতি, বেডের অবস্থা, রোগী পরিষেবা এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে অ্যাপ নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে জিপিএস ট্র্যাকার থাকবে।

    হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ

    বাংলায় সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেহাল দশা স্বাস্থ্য পরিষেবার। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক সময় মেলে না বেড। মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা চলে রোগীদের। এই নিয়ে রয়েছে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। এদিনের বৈঠকে হাসপাতালগুলিতে বেড সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি হাসপাতালে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বোর্ডে হাসপাতালের মোট বেড সংখ্যা, কতগুলি বেড খালি রয়েছে এবং কতজন রোগী ভর্তি রয়েছেন, সেই তথ্য রিয়েল টাইমে দেখাতে হবে। প্রশাসনের মতে, এর ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের বিষয়েও খুব শীঘ্রই বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় হসপিটালের বেড নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি হবে।

    হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার

    এছাড়াও সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কর্মীর জন্য আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে কে কর্মরত এবং কে বহিরাগত, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি যে নির্দেশগুলো দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-রোগী কল্যাণ সমিতিতে পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। বৈধ আইডি কার্ড দিতে হবে ৩১ মে’র মধ্যে। এর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সহজ হবে। ডাক্তার ও স্টাফেদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বৈঠকে।

    রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং

    এবার থেকে রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং হবে। রোগী কল্যাণ সমিতি চালু রাখতে হবে। পলিটিকাল লোক রাখা চলবে না। হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত না এমন লোক রাখবেন না। অবৈধ স্ট্রাকচার থাকলে হসপিটাল ভাঙতে হবে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পুনর্গঠন করতে হবে। আর এই রিয়েল টাইম ট্র্যাকিংয়ের সাহায্যে কোথায় কয়টি বেড আছে তা সরাসরি দেখতে পারবেন রোগীর পরিজনরা।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব

    আগামী পাঁচ বছর স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে চলবে, কীভাবে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো যায়, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ, অভিযোগ কমে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই গতিপ্রকৃতিই নির্ধারণ করা হয় বলে অনুমান। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই অবস্থিত রাজ্যের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই শুভেন্দু বলেছিলেন, কথা কম কাজ বেশি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুভেন্দুকে একেবারে দাবাং মুডে দেখা যাচ্ছে। এদিন এসএসকেএম-এর বৈঠকে মূলত ‘দালালরাজ’ নির্মূল করা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

     

     

  • FIR Against Abhishek: উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের, অভিষেকর বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?

    FIR Against Abhishek: উস্কানিমূলক মন্তব্যের জের, অভিষেকর বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ( Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্বে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক সভা থেকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া’, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম করে হুঁশিয়ারি এবং ডিজে বাজানোর রূপক ব্যবহার করে মন্তব্য—এসব নিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই সমস্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এবার বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের (FIR Against Abhishek) করলেন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার।

    কোন ধারায় মামলা?

    রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিংসায় উস্কানি, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর সোমনাথ সিনহা রায়কে। অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে-র মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী জনসভা থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য পেশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, গত ৭ এপ্রিল কলকাতায় আয়োজিত একটি প্রাক-নির্বাচনী সভায় অভিষেকের একটি মন্তব্যকে ঘিরেও মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে তৃণমূল সাংসদকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমি দেখে নেব ৪ মে কে তাঁদের বাঁচাতে আসে। দিল্লি থেকে কোন গডফাদার তাঁদের রক্ষা করতে আসেন, তাও আমি দেখে নেব।”

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা

    অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানিমূলক ও ভয় দেখানোর মতো ভাষণ দিয়েছেন। অভিযোগে আরামবাগ, হরিণঘাটা ও নানুরের সভার উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, ওই ভাষণগুলিতে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং এমন আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল যা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে। আরও দাবি করা হয়েছে, সেই বক্তৃতার ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেই বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ তুলেছিল, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা ও শব্দচয়ন রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা ছাড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক হিংসাকে উসকে দিতে পারে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানোর উসকানি, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা প্রচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

LinkedIn
Share