মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট
বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ
বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।
ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে
বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

Leave a Reply