Jharkhand Protest: পুলিশের লাঠিচার্জ, আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান! পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিধানসভা অভিযান ঘিরে উত্তাল ঝাড়খণ্ড

jharkhand protest govt announces cid-ed probe protesters stick to cbi demand for jpsc-jssc crisis

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের (Jharkhand Protest) মূল দাবি, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের জন্য সিবিআই তদন্ত করতে হবে। সোমবার আন্দোলনকারীদের ‘বিধানসভা ঘেরাও’ অভিযানে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। রাঁচীর পথে ব্যারিকেড টপকে প্রতিবাদীরা এগোতে থাকেন বিধানসভার দিকে। পড়ুয়ারা পিছিয়ে যেতে অস্বীকার করলে পুলিশ একাধিক দফায় জলকামান ব্যবহার করে। এরপরও আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যেতে থাকায় তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ

১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকালে ট্রেন, বাস ও নিজস্ব গাড়িতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী রাঁচিতে পৌঁছন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। প্রধান রাস্তা ও সীমানায় তল্লাশি চালানো হয়, বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগোলে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। অভিযানের জন্য পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার দিকে এগোতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এরপরেই পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টাও চালায়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই থেকে ধীরে ধীরে তীব্র হচ্ছে আন্দোলন।

বিজেপি নেতাদের আটক

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি আদিত্য সাহু-সহ একাধিক বিজেপি নেতাকে আটক করা হয়েছে। বিধানসভা অভিমুখে রওনা হওয়ার আগে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জমায়েত হন পড়ুয়ারা। মিছিল এগোতে শুরু করার পর পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিধানসভা ঘেরাওয়ের ডাকের ঠিক আগের দিন, রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর তিন সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইডি তদন্তের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারের এই পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি—সিবিআই তদন্ত। সেই দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। রবিবার রাঁচিতে আন্দোলনরত জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকা হাতে ফ্ল্যাশলাইট মিছিল করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অনিয়মের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন।

ইস্তফা ৩ জেপিএসসি সদস্যের

রাজ্য সরকারের সুপারিশের পর জেপিএসসি সদস্য অজিতা ভট্টাচার্য, অনিমা হাঁসদা এবং জামাল আহমেদের ইস্তফা গ্রহণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার। গত তিন দিন ধরে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার পর একাধিক দাবিতে সরকার সম্মতি জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু। মন্ত্রী জানান, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ব্যাকলগ নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য, এই বিষয়ে দুটি দিক থেকে তদন্ত এগোনো হবে। অভিযোগের ফৌজদারি দিক খতিয়ে দেখবে সিআইডি। অন্যদিকে আর্থিক অনিয়ম বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইডি তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। সোনুর দাবি, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশের চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তদন্তের উপর নজরদারি এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগের সমাধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার কাঠামোগত সংস্কারের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

সিবিআই ছাড়া কোনও সমাধান নয়, বলছেন আন্দোলনকারীরা

সরকারের ঘোষণায় একাধিক দাবি পূরণ হলেও সিবিআই তদন্তের দাবি না মানায় আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড়। এই দাবিতে আমরা কোনও আপস করব না।” জেপিএসসি-র তিন সদস্যের ইস্তফাকে আন্দোলনকারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও শুধুমাত্র ইস্তফা দিয়ে দায়বদ্ধতা শেষ হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারী অনিশ ফতিমার দাবি, কমিশনের ভিতরে অনিয়মের অভিযোগ যে গুরুতর, তিন সদস্যের পদত্যাগে তারই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁর অভিযোগ, সিআইডি তদন্তে শুধু ছোট পর্যায়ের অভিযুক্তরা ধরা পড়তে পারেন, কিন্তু “বড় মাথাদের” সামনে আনতে সিবিআই তদন্ত প্রয়োজন। আন্দোলনকারী অর্চনা কুমারীর কথায়, “শুধু পদত্যাগ করলেই দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। তাঁদের মেয়াদে যে ভুলের কারণে যোগ্য ও সৎ পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।”

দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যুবকদের তাঁদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তাঁদের ন্যায়বিচার দেওয়া হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে, আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা (JLKM)-র বিধায়ক জয়ারাম মাহতো রাঁচিতে একদিনের অনশনে বসেন। তিনিও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মাহতো অভিযোগ করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড শিক্ষামন্ত্রী নীরা যাদবও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের মূল সমস্যার সমাধান না করে সরকার তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি সিবিআই তদন্ত, ইডি তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share