Author: ishika-banerjee

  • Supreme Court on Abortions: ‘আইন বদলান’, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের বিষয়ে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court on Abortions: ‘আইন বদলান’, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের বিষয়ে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও নাবালিকাকে গর্ভপাত না-করানোর জন্য জোর করা যায় না— বৃহস্পতিবার এক মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, কেন্দ্রের উচিত আইন সংশোধন করা, যাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পরেও (বিশেষ ক্ষেত্রে ২৪ সপ্তাহ পরে) স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর অনুমতি পান। চলতি মাসেই শুরুর দিকে ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একজন ১৫ বছরের কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

    গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়

    একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু গর্ভধারণ যখন সাত মাসে পৌঁছে যায়, তখন বিষয়টি কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে জটিল নৈতিক প্রশ্নও। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট একটি ১৫ বছরের কিশোরীকে ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাকে এই গর্ভধারণ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হলে তার মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরী তীব্র মানসিক চাপে ছিল, এমনকী আত্মহত্যার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে। এই রায় সংশ্লিষ্ট পরিবারকে স্বস্তি দিলেও, একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে এমন এক বাস্তবতা, গর্ভাবস্থার শেষের দিকে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনওই সহজ নয়।

    মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছে!”

    আদালতের ওই নির্দেশের পুনর্বিবেচনা করার জন্য আর্জি জানিয়েছিল এমস। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। এমসের ওই আর্জি নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গর্ভপাতের অনুমতি না দিলে ওই শিশুকে সারাজীবন সেই মানসিক ক্ষত বয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে নাবালিকা মায়ের কোনও শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে গর্ভপাত করানো উচিত বলেই মনে করছে আদালত। এমসের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলে, কেউ না চাইলে তাঁর উপর জোর করে গর্ভাবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বেঞ্চের মন্তব্য, “এক বার ভেবে দেখুন, সে তো এখনও ছোট। এখন তার পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা। অথচ আমরা তাকে জোর করে মা বানাতে চাইছি। ভাবুন তো এই গোটা প্রক্রিয়ায় নাবালিকা কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছে!”

    আইনেও সংশোধনী আনা দরকার

    স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর জন্য আইনেও সংশোধনী আনা দরকার বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কেন্দ্রের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে আপনারা আইনটি সংশোধন করুন। ধর্ষণ বা এই ধরনের ঘটনায় কেউ অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ করলে স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের জন্য যেন কোনও সময়সীমা না থাকে।” আইনের আরও প্রগতিশীল হওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দরকার বলে মনে করছে আদালত। কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনকে এমন ভাবে সংশোধন করতে হবে যাতে এই ধরনের আবেদনগুলির এক সপ্তাহের মধ্যেই বিচার হয়ে যায়। এমস-কে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সঠিক কাউন্সেলিং করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ওই নাবালিকারই হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাত কঠিন

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাত আর সাধারণ অ্যাবরশন নয়। এই সময়ে ভ্রূণ অনেকটাই পরিণত হয় এবং মায়ের শরীরের বাইরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। ফলে প্রক্রিয়াটি অনেকটা আগাম প্রসব (প্রিটার্ম ডেলিভারি)-এর মতো হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত এই পর্যায়ে গর্ভপাত করতে হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, এমনকী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়তে পারে। শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি মানসিক অভিঘাতও কম নয়। অন্যদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভপাত করলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবিত শিশুর জন্ম হতে পারে, যাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা (এনআইসিইউ)-এর সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এখানেই তৈরি হয় আরেকটি জটিলতা, একদিকে মায়ের অধিকার ও সুস্থতা, অন্যদিকে ভ্রূণের সম্ভাব্য জীবন। এই দ্বন্দ্বের সমাধান নেই।

    কিশোরী মায়েদের ঝুঁকি বেশি

    ১৫ বছর বয়সে শরীর পুরোপুরি গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। তাই এ সময় গর্ভধারণে রক্তাল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বা প্রসবজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। গর্ভপাত করালেও এই ঝুঁকিগুলো পুরোপুরি এড়ানো যায় না, বরং প্রক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী নতুন জটিলতা যোগ হতে পারে। ১৫ বছরে গর্ভধারণ শুধু শারীরিক নয়, গভীর মানসিক চাপও তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে থাকে ভয়, লজ্জা, সামাজিক চাপ এবং কখনও কখনও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। তারা মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।

  • US Returns Indian Antiquities: ড্যান্সিং গণেশ থেকে বিরল বুদ্ধ—চুরি যাওয়া ৬৫৭ টি নিদর্শন ভারতকে ফেরত দিল আমেরিকা

    US Returns Indian Antiquities: ড্যান্সিং গণেশ থেকে বিরল বুদ্ধ—চুরি যাওয়া ৬৫৭ টি নিদর্শন ভারতকে ফেরত দিল আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (US Returns Indian Antiquities) রক্ষায় বড় সাফল্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরল ৬৫৭টি চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শন, যার মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতর ভারতে ফিরিয়ে দিল ওই চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলি। আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্তের পর এই বিরল সংগ্রহ উদ্ধার করা হয়। মোট মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই নিদর্শনগুলি হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কুখ্যাত পাচারকারী সুভাষ কপুর এবং দোষী সাব্যস্ত আর্ট ডিলার ন্যান্সি উইনার।

    উদ্ধার হওয়া উল্লেখযোগ্য নিদর্শন

    ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন এল ব্র্যাগ জুনিয়র বলেন, “ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্য করে যে পাচারচক্র কাজ করেছে, তার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এই পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর কাজ এখনও চলবে। ফিরিয়ে দেওয়া সামগ্রীগুলির মধ্যে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম—

    • ব্রোঞ্জ অবলোকিতেশ্বর মূর্তি: মূল্য প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। রায়পুরের মহন্ত ঘাসিদাস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়ে ১৯৮২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়। ২০২৫ সালে একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে উদ্ধার করা হয়।
    • লাল বেলেপাথরের বুদ্ধ মূর্তি: মূল্য আনুমানিক ৭.৫ মিলিয়ন ডলার। সুভাষ কপুরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি গুদাম থেকে উদ্ধার।
    • নৃত্যরত গণেশ মূর্তি: মধ্যপ্রদেশের একটি মন্দির থেকে ২০০০ সালে চুরি হয়। জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি হয়ে ২০১২ সালে ক্রিস্টিজ নিলামে ওঠে। চলতি বছরে এক সংগ্রাহক তা স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দেন।

    আন্তর্জাতিক পাচারচক্রে বড় ধাক্কা

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুভাষ কপুরের পাচারচক্রের (US Returns Indian Antiquities) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ২০২২ সালে ভারতে দোষী সাব্যস্ত হন কপুর এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় প্রধন এই উদ্যোগের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই নিদর্শনগুলি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,২০০টি নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। এগুলি ৩৬টি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হস্তান্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত। ভোটপর্ব (Assembly Election 2026) মেটার পর এমনই দাবি করলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, বিজেপি (BJP) ১৮০-র বেশি আসন জিতে সরকার গড়বে। ভবানীপুর আসন থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন তিনি। তাঁর কথায়,“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব। ভবানীপুরে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। হিন্দু ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।”

    ভয় দেখানোর রাজনীতি মমতার

    শুভেন্দুর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অন্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছি।” জামাত-এ-ইসলামি সমর্থকরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে তাঁকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে একদল দুষ্কৃতী। দ্বিতীয় দফায় হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র। এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বুধবার সকাল থেকেই সেই কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে উত্তেজনার ছবি।

    নিজের বুথেই হারবেন মমতা

    শুভেন্দুর দাবি, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি সমস্ত ওয়ার্ডেই তিনি লিড পাবেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল (TMC) অশান্তি করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তা রুখে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সবথেকে বড় দাবিটি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ নিয়ে। তিনি বলেন, “মিত্র ইনস্টিটিউশন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বুথ, সেখানেই উনি (মমতা) অন্তত ২০০ ভোটে হারবেন।” শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ফলতায় ইভিএমে টেপ আটকে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সিইও-র সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখতে বলেছেন অমিত শাহ।

  • Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সেরা বাংলা। ভোটদানে (Assembly Election 2026) রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘ECINet’ অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলায় মোট ভোট পড়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দাবি, স্বাধীনতার পর যত ভোট হয়েছে এবারই রেকর্ড হয়েছে বাংলায়। ভোটদানের এই হার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সারা দেশে ভোটদানে নজির বাংলার

    প্রথম দফাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে রাত ১২টা পর্যন্ত কমিশন ৯২.৬৩ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানিয়েছে। এখনও কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৩ এপ্রিল। ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল।

    কোন রাজ্যের রেকর্ড ভাঙল বাংলা

    এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে‌ ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট তা ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজোরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    ভোটের এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর কেন্দ্রে এবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা এই আসনের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ২০২১ সালে এখানে ৮২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত নির্বাচনে শাসকদল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

    ভোট দানে রেকর্ড গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষ কবে দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ তা ভেবে বলতে হয়। এইভাবে ভোট করানোই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে চ্যালেঞ্জ। ভোটাররা যাতে ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই দিকে বারেবারে নজর রেখেছে কমিশন। ভোট শুরুর অনেক আগেই আস্থা জোগাতে বঙ্গে হাজির করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force)। আর তার ফল মিলল ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল হাতে নাতে।  নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এ বার ৫১ লক্ষ ভোটার কম ছিল। তবে ভোট পড়েছে আগের বারের তুলনায় ৩০ লক্ষেরও বেশি।

    রাজ্যে প্রাণহানি হয়নি, ভয়হীন ভোটদান

    কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, এবারের ভোটে পাঁচ লক্ষ কর্মী কাজ করেছেন। ফলস ভোটিংয়ের অভিযোগ বেশি এসেছে ঠিকই, তবে হিংসা কম হয়েছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, দুই দফা ভোটেই কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল বাংলায়। আবার তারও পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে সাত জন নির্বাচনী হিংসার বলি হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটাই শূন্য। এটা যে কমিশনের বড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার ২০২১ সালে ৬৯টি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এবার একটিও বোমা উদ্ধারের খবর নেই। কমিশন বলছে- একটা সময়ে এক শ্রেণির মানুষ ছিলেন যাঁরা ভোট দানে বিরত থাকতেন। তবে অবাধ ভয়হীন ভোটদানের প্রতি মুহূর্তে প্রচারের জন্য এমন হয়েছে তাঁরাও ভোট দিয়েছেন। বুথ থেকে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া বিশেষ করে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার ঘটনা বাংলায় নতুন কিছু নয়, তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার এমন কিছুই হয়নি। একটাও ঘটনা এমন নয় যেখানে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট

    কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনে যাঁরা যাঁরা সমস্যা তৈরি করতে পারেন, তেমন ৬৮৭ জন-কে প্রিভেন্টিভ গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্যাক টেপ-সেলো টেপ, আতর ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে মোট ৭৭টি বুথ থেকে। পুনরায় নির্বাচন হবে ফলতার ৩২, মগরাহাটে ১৩, ডায়মণ্ডহারবারে ২৯, বজবজ ৩ বুথে। বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হল এই বিপুল উৎসাহকে ‘ভোটের উৎসব, বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    পশ্চিমবঙ্গে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের নজির ছিল ২০১১ সালে। ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ এবং সেই ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ বারের পশ্চিমবঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট কোন পক্ষে যায়, সেটাই দেখার।

  • Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দফায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে নির্বাচন হচ্ছে। ৭ জেলার ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভবানীপুরে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর হাড্ডাহাড্ডি ফাইট। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটদান হয়েছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন। এবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই পর্বে ভোট রয়েছে- পূর্ব বর্ধমান (১৬), হুগলি (১৮), হাওড়া (১৬), কলকাতা (১১), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১) ও নদিয়া (১৭) জেলায়।

    মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াই

    দ্বিতীয় দফার ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট। কারণ, এই আসন থেকে লড়াই করছেন তৃণমূলেনত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁর কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর কাছেই নন্দীগ্রামে পরাস্ত হতে হয়েছিল মমতাকে। কাজেই, এবার কি হয় সেদিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য। শুধু রাজ্য নয় সারা দেশের নজর এখন ভবানীপুর আসনের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কল্পনায় ভবানীপুর এখন আর শুধু দক্ষিণ কলকাতার একটি বিধানসভা আসন নয়। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আশ্রয় ও ঘরের মাঠ। বিজেপির বেছে নেওয়া মনস্তাত্ত্বিক রণক্ষেত্র, যেখানে সেই লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত, যাকে বাংলার অনেকেই ‘সব নির্বাচনী লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র’ বলে অভিহিত করছেন।

    লড়াইয়ে আর কোন কোন হেভিওয়েট প্রার্থীরা

    নদিয়া

    • সোহম চক্রবর্তী: করিমপুরের TMC প্রার্থী।
    • রুকবানুর রহমান: পলাশিপাড়ার TMC প্রার্থী
    • সাবিনা ইয়াসমিন: কালীগঞ্জের CPIM প্রার্থী।
    • সবুজ দাস: কল্যাণীর CPIM প্রার্থী।

    উত্তর ২৪ পরগনা

    • মধুপর্ণা ঠাকুর: বাগদার TMC প্রার্থী।
    • সোমা ঠাকুর: বাগদার BJP প্রার্থী।
    • সুব্রত ঠাকুর: গাইঘাটার BJP প্রার্থী।
    • জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক: হাবরার TMC প্রার্থী।
    • কাশেম সিদ্দিকি: আমডাঙার TMC প্রার্থী।
    • পবন সিং: ভাটপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য: নোয়াপাড়া TMC প্রার্থী।
    • অর্জুন সিং: নোয়াপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • রাজ চক্রবর্তী: ব্যারাকপুরের TMC প্রার্থী।
    • কৌস্তভ বাগচী: ব্যারাকপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবদীপ পুরোহিত: খড়দার TMC প্রার্থী।
    • দেবজ্যোতি দাস: খড়দার CPIM প্রার্থী।
    • চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য: দমদম উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • দীপ্সিতা ধর: দমদম উত্তরের CPIM প্রার্থী।
    • রত্না দেবনাথ: পানিহাটির BJP প্রার্থী।
    • কলতান দাশগুপ্ত: পানিহাটির CPIM প্রার্থী।
    • মদন মিত্র: কামারহাটির TMC প্রার্থী।
    • মানস মুখোপাধ্যায়: কামারহাটির CPIM প্রার্থী।
    • সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: বরানগরের TMC প্রার্থী।
    • সজল ঘোষ: বরানগরের BJP প্রার্থী।
    • সায়নদীপ মিত্র: বরানগরের CPIM প্রার্থী।
    • ব্রাত্য বসু: দমদমের TMC প্রার্থী।
    • ময়ূখ বিশ্বাস: দমদমের CPIM প্রার্থী।
    • তাপস চট্টোপাধ্যায়: রাজারহাট নিউ টাউনের TMC প্রার্থী।
    • সুজিত বসু: বিধাননগরের TMC প্রার্থী।
    • অদিতি মুন্সি: রাজারহাট গোপালপুরের TMC প্রার্থী।
    • তরুণজ্যোতি তিওয়ারি: রাজারহাট গোপালপুরের BJP প্রার্থী।
    • রথিন ঘোষ: মধ্যমগ্রামের TMC প্রার্থী।
    • সব্যসাচী দত্ত: বারাসতের TMC প্রার্থী।
    • রেখা পাত্র: হিঙ্গলগঞ্জের BJP প্রার্থী।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা

    • আরাবুল ইসলাম: ক্যানিং পূর্বের ISF প্রার্থী।
    • বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • জাহাঙ্গির খান: ফলতার TMC প্রার্থী।
    • লাভলি মৈত্র: সোনারপুর দক্ষিণের TMC প্রার্থী।
    • রূপা গঙ্গোপাধ্যায়: সোনারপুর দক্ষিণের BJP প্রার্থী।
    • শওকত মোল্লা: ভাঙড়ের TMC প্রার্থী।
    • ওশাদ সিদ্দিকি: ভাঙড়ের ISF প্রার্থী।
    • জাভেদ খান: কসবার TMC প্রার্থী।
    • বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য: যাদবপুরের CPIM প্রার্থী।
    • ফিরদৌসি বেগম: সোনারপুর উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • অরূপ বিশ্বাস: টালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • পাপিয়া অধিকারী: টালিগঞ্জের BJP প্রার্থী।
    • রত্না চট্টোপাধ্যায়: বেহালা পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়: মহেশতলার CPIM প্রার্থী।কলকাতা
    • ফিরহাদ হাকিম: কলকাতা বন্দরের TMC প্রার্থী।
    • রাকেশ সিং: কলকাতা বন্দরের BJP প্রার্থী।
    • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভবানীপুরের TMC প্রার্থী।
    • শুভেন্দু অধিকারী: ভবানীপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবাশিস কুমার: রাসবিহারীর TMC প্রার্থী।
    • স্বপন দাশগুপ্ত: রাসবিহারীর BJP প্রার্থী।
    • শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়: বালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • রোহন মিত্র: বালিগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়: চৌরঙ্গীর TMC প্রার্থী।
    • সন্তোষ পাঠক: চৌরঙ্গীর BJP প্রার্থী।
    • প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল: এন্টালির BJP প্রার্থী।
    • কুণাল ঘোষ: বেলেঘাটার TMC প্রার্থী।
    • শশী পাঁজা: শ্যামপুকুরের TMC প্রার্থী।
    • শ্রেয়া পাণ্ডে: মানিকতলার TMC প্রার্থী।
    • তাপস রায়: মানিকতলার BJP প্রার্থী।
    • অতীন ঘোষ: কাশীপুর বেলগাছিয়ার TMC প্রার্থী।
    • রিতেশ তিওয়ারি: কাশীপুর বেলগাছিয়ার BJP প্রার্থী।

    হাওড়া

    • অরূপ রায়: হাওড়া মধ্যর TMC প্রার্থী।
    • রুদ্রনীল ঘোষ: শিবপুরের BJP প্রার্থী।
    • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: উলুবেরিয়া পূর্বের TMC প্রার্থী।
    • হিরণ চট্টোপাধ্যায়: শ্যামপুরের BJP প্রার্থী।

    হুগলি

    • শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: উত্তরপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার CPIM প্রার্থী।
    • শুভঙ্কর সরকার: শ্রীরামপুরের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • বেচারাম মান্না: সিঙ্গুরের TMC প্রার্থী।
    • ইন্দ্রনীল সেন: চন্দননগরের TMC প্রার্থী।
    • দেবাংশু ভট্টাচার্য: চুঁচুড়ার TMC প্রার্থী।
    • স্নেহাশিস চক্রবর্তী: জাঙ্গিপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • করবী মান্না: হরিপালের TMC প্রার্থী।
    • অসিমা পাত্র: ধনেখালির TMC প্রার্থী।
    • নির্মল মাজি: গোঘাটের TMC প্রার্থী।

    পূর্ব বর্ধমান

    • সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী: মন্তেশ্বরের TMC প্রার্থী।
    • কলিতা মাঝি: আউশগ্রামের BJP প্রার্থী।
  • Gujarat Local Body Polls: গুজরাটে গেরুয়া সুনামি! ১৫-র ১৫ পুরসভা দখল করে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

    Gujarat Local Body Polls: গুজরাটে গেরুয়া সুনামি! ১৫-র ১৫ পুরসভা দখল করে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের (Gujarat Local Body Polls) স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনে কার্যত গেরুয়া ঝড়—১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনই দখল করল বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। মঙ্গলবার ফলাফল প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে, শহর থেকে গ্রাম—সব ক্ষেত্রেই বড়সড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে একতরফা জয় পেয়েছে তারা। রবিবার ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, ৮৪টি পৌরসভা, ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েত এবং ২৬০টি তালুকা পঞ্চায়েতে। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। প্রায় ৯,২০০টি আসনের জন্য ৪.১৮ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের মতামত দিয়েছেন।

    শহর থেকে গ্রাম দাপট বিজেপির

    শহরাঞ্চলে বিজেপির (BJP in Gujarat) দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। আমেদাবাদে ১৯২টির মধ্যে ১৫৮টি আসন, সুরাটে ১১৫টি আসন দখল করেছে তারা। সুরাটে আপ (Aam Aadmi Party) পেয়েছে মাত্র ৪টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র (Indian National Congress) ১টি আসন। রাজকোটে ৭২টির মধ্যে ৬৫টি এবং বরোদায় ৭৬টির মধ্যে ৬৯টি আসন জিতে নিয়েছে বিজেপি। শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও প্রভাব বিস্তার করেছে গেরুয়া শিবির। ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েতের মোট ১,০৯০টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৫৬৮টি আসন। সেখানে কংগ্রেস পেয়েছে ৭৭টি এবং অন্যান্যরা ৩০টি আসন। একইভাবে, ২৬০টি তালুকা পঞ্চায়েতের মোট ৫,২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ২,৩৯৭টি। কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৫৯১টি আসন, অন্যরা পেয়েছে ৩২৯টি।

    অনেক পিছিয়ে কংগ্রেস

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের নির্বাচনে প্রথমবার ভোটগ্রহণ হয়েছে ৯টি নতুন মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে—নভসারি, গান্ধিধাম, মোরবি, ভাপি, আনন্দ, নাডিয়াদ, মেহসানা, পোরবন্দর ও সুরেন্দ্রনগর। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সংশোধিত ওবিসি সংরক্ষণ নীতির ভিত্তিতে, যার ফলে একাধিক জেলায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও সীমা নির্ধারণ করা হয়। বিজেপি, কংগ্রেস, আপ ছাড়াও এআইএমআইএম (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen) কয়েকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, তবে সামগ্রিকভাবে বিজেপির প্রাধান্যই স্পষ্ট হয়েছে গোটা রাজ্যে। কংগ্রেস সামগ্রিক ভাবে এই নির্বাচনে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কর্পোরেশনগুলিতে কার্যত তারা খাতা খুলতে পারেনি বললেই চলে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পকেটে তারা সাফল্য পেয়েছে।

  • Assembly Election 2026: মাত্র ৬ জনের নাম ‘ডিলিট’! দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, ভোটাধিকার পেলেন কতজন?

    Assembly Election 2026: মাত্র ৬ জনের নাম ‘ডিলিট’! দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, ভোটাধিকার পেলেন কতজন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত যতজনের নাম নিষ্পত্তি হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রথম দফার পর এবার দ্বিতীয় দফার আগেও প্রকাশ হল আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত যত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই সব নাম প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে প্রকাশ হয়েছে সেই তালিকা। দ্বিতীয় তালিকায় জুড়ল ১৪৬৮ জনের নাম। বাদ পড়ল মাত্র ৬ জনের নাম।

    কীভাবে নাম চেক করবেন?

    আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ভোটার তালিকা আগেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৭ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বুধবার। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ১৪৭৪ জনের। সেখান থেকে মোট ৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আপনার নাম লিস্টে রয়েছে কি না দেখতে গেলে এক্ষেত্রে https://ceowestbengal.wb.gov.in/-এ যান। সেখানে সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট বলে একটি অপশন পাবেন। সেই অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে নিজের জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভাষা বেছে নিয়ে ক্যাপচা দিয়ে দিন। তাহলেই দেখতে পাবেন সেই লিস্টে নাম রয়েছে কি না। এভাবে নাম দেখতে না চাইলে নিজের ভোটার কার্ডের নম্বর দিয়েও নাম সার্চ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ‘সার্চ ইওর নেম ইন ইলেক্টোরাল রোল’ অপশনে ক্লিক করুন। তারপর সব তথ্য দিয়ে ক্যাপচা লিখে করুন সাবমিট। আপনার নাম ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে তথ্য চলে আসবে।

    আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ

    বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রয়েছে। সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ (Assembly Election 2026)। কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ভোট রয়েছে। নতুন প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় দ্বিতীয় দফার ভোটকেন্দ্রগুলির যে ভোটারদের নাম জুড়ল, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষাধিক নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেই বিবেচনাধীন তালিকার নামগুলির নিষ্পত্তি করেন। তাতেও অনেক ভোটার ‘অযোগ্য’ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এ অবস্থায় আদালত জানিয়েছিল, চাইলে ওই ভোটারেরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তার পর থেকে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে সোমবার সকালে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার তথা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেফতারি বা জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে প্রার্থী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপরই জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। তিনি বলেন, “ওর বাড়ির লোককে বলে দেবেন, উনি যা করছেন, তাতে পরে যেন কাঁদতে না হয়।”

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া। পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়া। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে তল্লাশি শুরু হলেও বাড়িতে খোঁজ মেলেনি খোদ প্রার্থীর। বাড়ির সামনে তাঁর ব্যবহৃত লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকলেও জাহাঙ্গির খান কোথায়, সে বিষয়ে পরিবারের তরফে সদুত্তর মেলেনি। এদিন প্রচারেও দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। সম্ভবত তিনি বেপাত্তা, এমনই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।

    আইপিএস অফিসারের কড়া হুঁশিয়ারি

    তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চলাকালীন মেজাজ হারাতে দেখা যায় আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের পরিবার ও অনুগামীদের উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওর খবর আমরা ভালোভাবেই নেব। ওকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেবেন যে, বারবার লোকজনকে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ আসছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যেন কান্নাকাটি না করে।” এই অভিযানকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের আগে প্রার্থীকে মানসিক চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূল যাই বলুক, জাহাঙ্গিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই এলাকার সাধারণ মানুষ অবশ্য পুলিশি তৎপরতায় একটু নিশ্চিন্তে। জাহাঙ্গিরকে সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির অমিত মালব্যও। এক্স মাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। বলেছেন ‘ কমিশনের বার্তা পরিষ্কার: জেলায় বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়, দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।’

    কে এই জাহাঙ্গির

    জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী জাহাঙ্গির। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১৪ সালে অভিযেক ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাহাঙ্গিরের উত্থান শুরু হয়ে জেলার রাজনীতিতে। ফলতা, বজবজ পুরসভা এলাকায় ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ে। জাহাঙ্গির ফলতার যুব তৃণমূলের সভাপতি হন। বজবজ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষকও হন তিনি। অভিষেকের নির্দেশেই জাহাঙ্গিরের উত্থান। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ নতুন নয়। আগেও একাধিক ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    কে এই অজয় পাল শর্মা?

    অজয় পালের প্রোফাইল ঘাঁটলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। তিনি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় আসলে একজন ডাক্তার। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস (BDS) পাশ করেন। কিন্তু সেই পেশা ছেড়ে তিনি তুলে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অপরাধী দমনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। কড়া মেজাজ আর নির্ভীক দাপটের জন্যই তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ উপাধি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভোটে দুষ্কৃতীদের বুকে ত্রাস তৈরি করতে যোগীরাজ্য থেকে আনা হচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এই আইপিএস অফিসারকে। দ্বিতীয় দফার (West Bengal Election Second Phase) হাইভোল্টেজ ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছেন অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma Police Observer)। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে যাঁর পরিচয় ‘সিংহম’ হিসেবে।

    কমিশনের নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা

    গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা আগামী ২৯ তারিখ। ওই দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর এই দফার অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড় থেকে ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তী – এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট নিয়ে বরাবরই নালিশ জানায় বিরোধীরা। অভিযোগ ওঠে দেদার ছাপ্পা ও রিগিংয়ের। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে এবার অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে এখানে পাঠানো হয়েছে। এর অর্থ হল, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই চরম ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা।

  • Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:পাকিস্তানের মাটিতে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলা। এবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রহস্যজনক আততায়ীর গুলিতে খুন হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি (Sheikh Yousuf Afridi)। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং লস্কর জঙ্গি সংগঠনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ইউসুফকে দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন ধরেই টার্গেটে (Lashkar Commander Died) রাখা হয়েছিল, বলে খবর।

    ছক কষে কীভাবে গুপ্তহত্যা

    প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। আত্মরক্ষার কোনও সুযোগই পায়নি সে। গুলির আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পাক নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত গুপ্তহত্যা। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন পাক তদন্তকারীরা। এই মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    টার্গেট লস্করের শীর্ষ নেতারা

    বিগত কয়েক বছর ধরে একেবারে বেছে বেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্করের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যা করছে দুষ্কৃতীরা। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাফিজ সইদের শ্যালক তথা লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মৌলানা কাশিফ আলিও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে খবর, শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্করের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাথা ছিল। পাকিস্তানে গত এক বছরে একাধিক শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যু ঘটেছে। শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্কর প্রধানের অনুগামী ছিল। পাঠান অধ্যুষিত খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে মুজাহিদকে প্রস্তুত করার কাজ করত সে। এখান থেকে জঙ্গিদের দলে নিয়ে কাশ্মীর এবং অন্যান্য জায়গায় পাঠাত আফ্রিদি। লস্করের খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রধান হিসাবে বিবেচনা করা হত এই আফ্রিদিকে। হফিজ সইদের সঙ্গে একাধিকবার প্রকাশ্যে হাজির হয়েছে আফ্রিদি। এহেন লস্কর কমান্ডারের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি অটোতে করে দুই বন্দুকধারী রাস্তায় নেমে একটি সাদা এসইউভি গাড়ির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং তারপর তারা ফের সেই অটোতে চড়ে পালিয়ে যায়। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম

    ভারতবিরোধী জঙ্গি-নিধন!

    সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানে মাঝেমাঝেই অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ভারতবিরোধী জঙ্গিদের খতম করে চলেছে। এই সব জঙ্গি নেতাদের জামাই আদর করে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনা। আর তাদের মৃত্যুতে বারংবার ইসলামাবাদের কান্নাকাটি দেখা গিয়েছে। স্বভাবতই, প্রতিবার এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটার পরই পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতের দিকে আঙুল তোলা হয়। যদিও আজও পর্যন্ত একটি ঘটনাতেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাকিস্তান দিতে পারেনি। ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, তারা কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে না বা কোনও মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়।

LinkedIn
Share