Author: ishika-banerjee

  • India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছর ২৪ জুলাই সই হয়েছিল ভারত-ব্রিটেন অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। বুধবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাল, স্বাক্ষরিত হওয়ার এক বছরের মাথায় ১৫ জুলাই থেকে এই চুক্তি (India-UK Free Trade) কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’(CETA)-এর অধীনে দুই দেশে একে অপরের পণ্য কম বা বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট শিল্প। পাশাপাশি, ১৫ জুলাই থেকে দু’দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিও (ডব্‌ল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন) কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চুক্তি কার্যকরের আগে ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলকে প্রস্তুতির জন্য ২৮ দিনের সময় দেওয়া হল।

    ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তিকে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউকে-এর দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের জিডিপি প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে, প্রকৃত মজুরি বাড়বে ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড, এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

    চুক্তির আওতায় কী কী

    চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। নির্দিষ্ট কোটার আওতায় গাড়ির উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হবে। প্রসাধনী সামগ্রীর উপর সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, খাদ্যপণ্যসহ একাধিক পণ্যের উপর যুক্তরাজ্য শুল্ক কমাবে। ফলে ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন কী

    চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন-এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী পেশাদারদের সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত অবদান ও পেনশন সুবিধা সহজতর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’

    যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকরের প্রথম বছরেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের চারটি অঞ্চলে ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’-ও আয়োজন করা হবে।

    ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিষেবা, ওষুধ শিল্প এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বাণিজ্যিক বাধা কমবে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে। এছাড়া ধাপে ধাপে শুল্ক কমার ফলে দুই দেশের ভোক্তারাও আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।

    ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ভারত-যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট কার্যকর হবে জেনে আমি আনন্দিত।”মোদির মতে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই বাণিজ্য চুক্তি নয়াদিল্লি ও লন্ডনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।

    মোদি ও স্টারমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও স্টারমারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় নেতা গত এক বছরে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেন ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এটিই হল কোনও দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। যার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ)। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রক বিবৃতিতে বলেছে, “ভারত এবং ব্রিটেন আজ ঘোষণা করছে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে সিইটিএ কার্যকর হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ভারতের একটি বড় পদক্ষেপ।”

    দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি

    দিল্লিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার লিন্ডি ক্যামেরনও পৃথক ভাবে এই বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন বুধবার। দিনক্ষণ ঘোষণা করে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এ বার প্রহর গোনা শুরু! ব্রিটেন এবং ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।” এই পদক্ষেপকে দু’দেশের সম্পর্কের এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার। তাঁর মতে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি আসবে। এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩,৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বড়সড় অভিযান চালাল নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক বেআইনি চেকপোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মণিপুর পুলিশের বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় তল্লাশি, কম্বিং অপারেশন এবং এলাকা দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়।

    যৌথ অভিযান উদ্ধার অস্ত্র

    অভিযানের মূল কেন্দ্র ছিল কাংপোকপি জেলার লেইমাখং এলাকা। লেইলন ভাইফেই, লেইলন খুনৌ, এল. মুনলুই এবং কনসাখুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৩০টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট এবং কৌশলগতভাবে স্থাপিত ক্যাম্প ভেঙে দেয়। প্রশাসনের দাবি, এগুলি সমাজবিরোধী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহার করা ঘাঁটি ছিল। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১টি ১২-বোর সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (SBBL) বন্দুক, ২৯৪ রাউন্ড জীবন্ত গুলি, ৩৪টি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি গানপাউডারের প্যাকেট এবং ৬টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এছাড়া চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ১৭ জুন কাংপোকপির সাইকুল মহকুমায় অভিযান চালিয়ে থিংফাই ও সি. খোলেন গ্রামে মোট চারটি অবৈধ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চুরাচাঁদপুর জেলায় এস. নাবিল এবং লইলামকোই এলাকায় একটি বাঙ্কার ও একটি বেআইনি চেকপোস্ট অপসারণ করা হয়।

    সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই উদ্দেশ্য

    প্রশাসনের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে অবৈধভাবে তৈরি সুরক্ষিত ঘাঁটি ও চেকপোস্ট সরিয়ে দিয়ে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ১৬ জুন উখরুল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৬টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চলমান উত্তেজনার আবহে প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সমাজবিরোধীরা ওই বাঙ্কারগুলি তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অশান্ত ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সশস্ত্র কার্যকলাপ রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোঁচট খেয়ে শুরু করল পর্তুগাল। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ১-১ ফলে শেষ হল ম্যাচ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না রোনাল্ডোকে। অন্যদিকে, আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। বুধবার রাতে ডালাসে সেই ক্রোয়েশিয়াকেই চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবল খেলেছে তা রোজ দেখা গেলে বিপক্ষ দলগুলির কপালে দুঃখ আছে। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কপালে হারই জুটল। রক্ষণ ডোবাল তাদের।

    মেসির সামনে ম্লান রোনাল্ডো

    লিয়োনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে— এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাঁদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার রোনাল্ডো কী করেন সে দিকে অনেকেরই নজর ছিল। প্রথম দিনই তাঁরা হতাশ হলেন। রোনাল্ডো আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাঁকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়। পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল হবে রোনাল্ডোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনাল্ডো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তাঁর হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না সিআর৭। পর্তুগাল-কঙ্গো ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রোনাল্ডো যখন টানেলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা তাঁকে দেখে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন। মেসির নামে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। রোনাল্ডোদের ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছেন মেসি। সেই কারণেই হয়তো তাঁর নাম করে রোনাল্ডোকে টিটকিরি করেন দর্শকেরা।

    হ্যারি কেনের ঝড়

    চলতি বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বাদে মোটামুটি সব বড় তারকা ফুটবলারই গোল করেছেন। চোখ ছিল হ্যারি কেনের দিকেও। হতাশ করলেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মরসুমটা ভাল গিয়েছে তাঁর। দেশের জার্সিতেও এই ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন। দু’টি গোল এল তাঁর থেকে। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ফেললেন কেন। একটি করে গোল জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস রাশফোর্ডের। ডালাসে প্রথমার্ধেই হয় চার গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। খেলায় ইংল্যান্ডের দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সবেতেই তারা এগিয়ে ছিল। কেন যেখানে সাফল্য পেলেন, সেখানে মদ্রিচ একেবারেই নিষ্প্রভ। তাঁকে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তুলে নিতে হল। বুধবারের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব দেখেছে কী ভাবে ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিষ্প্রভ থেকেছেন। পরের ম্যাচে ৪০-এর মদ্রিচেরও একই অবস্থা হল। বয়স ছুঁয়েছে তাঁর খেলাকেও।

  • US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বাক্ষরিত হল ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি । বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সমঝোতাপত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজ করছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমঝোতাপত্রের নথিতেও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। চুক্তি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে তেহরানও। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের আপাত অবসান ঘটল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্যই হল দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।

    ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর

    মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার দুই রাষ্ট্রনেতার ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর আগে রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছিলেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তির হার্ড কপিতেও স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং এর ছবি ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।”

    জেনেভা বৈঠক থাকলেও হবে না স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

    প্রথমে জানা গিয়েছিল, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে। তবে তার আগেই সমঝোতাপত্রে সিলমোহর পড়ায় জেনেভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেহরানের দাবি, জেনেভার শান্তিবৈঠক আগের সূচি মেনেই হবে। ইরানি কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার বৈঠকের উদ্দেশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা নয়। তারা জানায় যে দলিলটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডে কোনও মুখোমুখি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    তেল রফতানি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি

    ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে বাধাহীনভাবে তেল রফতানির সুযোগ দিতে হবে এবং সেই বিক্রির অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তেহরানকে কোনও পরিবহন বা বিমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই তার তেল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং সেই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি জানান, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলবে।

    ৬০ দিনের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি

    সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন কোনও পক্ষই এমন পদক্ষেপ নেবে না যা চুক্তিকে দুর্বল করতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। বাঘেই এই ব্যবস্থাকে “প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি” বলে উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থান

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির ফারসি ও ইংরেজি উভয় সংস্করণেই একই ধরনের শর্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাতে স্বাক্ষর করেছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে

    ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। বাঘেই বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার জন্য নয়, ব্যবহারের জন্য তৈরি।” প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে চুক্তি কার্যকর হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে।

    নতুন ব্যবস্থায় খুলবে হরমুজ প্রণালী

    প্রধান আলোচক কালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুললেও তা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই ইরান সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিষেবা ফি নেওয়া হবে।

    ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

    চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কালিবাফ। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রকল্পেও এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

    পাকিস্তানের দাবি

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারককে “ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি” বলা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে বলেও জানান তিনি। শরিফের মতে, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় ভূমিকা নেবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।

    যুদ্ধ উদ্বেগে গোটা বিশ্ব

    গত ১৫ সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ উদ্বেগে রেখেছিল গোটা বিশ্বকে। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা যায়। এর প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতেও। শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে হরমুজ প্রণালীর উপর থেকেও অবরোধ এবং যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই জলপথ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আর কোনও বাধা রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, রবিবারই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত করবে আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, ওই দিনেই ৮০-তে পা দেন ট্রাম্প। আমেরিকা এবং ইরান অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিন ধরে বোঝাপড়া করতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের তরফে অবশ্য বার বারই জানানো হচ্ছিল যে, তারা চুক্তির শর্তগুলি খতিয়ে দেখছে।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন আইন হাতে তুলে নেবেন, তা হবে না। ফলতাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় (Falta Assembly) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে হওয়া নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কঠোর বার্তা, কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা চলতে দেওয়া হবে না।

    রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ

    মঙ্গলবার ফলতার ধৃত তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এক দল লোকজন। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার ফলতায় জলকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি মঙ্গলবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টিভিতে দেখলাম এখানে কিছু লোক এক জন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল।’’ এই ধরনের গুন্ডামি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তার পরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, ভিডিয়োতে যত জনকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাঁদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’ শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য

    ফলতাবাসীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’’ এই সরকার কাউকে ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে। এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যাতে কোনও দিন কোনও পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে না পারেন।’’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ফলতায় হওয়া একাধিক আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,‘‘গত আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি বাড়ির মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও এরা চুরি করেছে। চোরদের সেই সম্পূর্ণ তালিকা আমার হাতে চলে এসেছে, খুব শীঘ্রই তার আইনি ব্যবস্থা হবে।’’ এখানেই শেষ নয়, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রকল্পের নামে ৬০ হাজার টাকা করে প্রায় ৮,০০০ ইউনিটের টাকা কারা তুলে নিজেদের পকেটে পুরেছেন, তা ফলতার সব মানুষ ভাল করেই জানেন। নতুন সরকার এই সমস্ত টাকা চুরির হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • Messi on Arup Biswas: প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের নামে বিধাননগর পুলিশে চিঠি পাঠাল মেসির টিম, কী কী অভিযোগ?

    Messi on Arup Biswas: প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের নামে বিধাননগর পুলিশে চিঠি পাঠাল মেসির টিম, কী কী অভিযোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও বিপাকে অরূপ বিশ্বাস। লিয়োনেল মেসিদের ই-মেল পৌঁছে গেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে। গত ডিসেম্বরে যুবভারতীকাণ্ডের জন্য তাঁরা সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে এই মেল করেছেন মেসির দলের এক জন। তিনি ডিসেম্বরের ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির পরামর্শদাতা হিসেবে এসেছিলেন। সে দিন যুবভারতীতে তিনি নিজেও মেসির সঙ্গে মাঠে ছিলেন। ওই ই-মেলে লেখা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢোকার পরেই যাবতীয় ঝামেলার সূত্রপাত। সরাসরি অরূপের নাম করে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মেসির টিম। বলা হয়েছে, মাঠে ঢুকে অরূপ যে সব কাজকর্ম শুরু করেছিলেন, তা নির্ধারিত সূচিতে ছিল না। এর ফলে ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    অরূপ কী কী করেছিলেন

    ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী বার বার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন, ছবি তোলার জন্য কাঁধে এবং কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। অরূপের সঙ্গে বহু মানুষ সে দিন মাঠে ঢুকেছিলেন, যাঁদের মাঠে ঢোকার অধিকার ছিল না— এটিও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। যেখানে তিন জন আলোকচিত্রীর থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মাঠে ছিলেন। এতেই মেসি বিরক্ত হন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এর পর মেসির পক্ষে আর ইভেন্টে থাকা সম্ভব হয়নি। মেসির দলের পক্ষে এটাও জানানো হয়েছে, ওই ট্যুরের যিনি আয়োজক, সেই শতদ্রু দত্তের নিয়ন্ত্রণে ছিল না বিষয়টি। বলা হয়েছে, মেসির তাড়াতাড়ি যুবভারতী ছাড়ার জন্য শতদ্রু কোনও ভাবেই দায়ী নন। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে সকলে স্পর্শ করতে পারেন না। তাঁকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। তবে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ছবি তুলেছিলেন। কাঁধে-কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, প্রচুর মানুষ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। যার ফলে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নিরাপত্তার গাফিলতিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

    আগেই অভিযুক্ত অরূপ

    কলকাতায় যে দিন মেসি এসেছিলেন তাঁকে দেখার জন্য হাজার-হাজার ভক্তের ভিড় হয়েছিল মাঠে। তবে আগত দর্শকদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে দর্শকরা এই ফুটবলারকে দেখতে পাননি। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে অরূপ এবং মেসির একটি ছবি ভাইরাল। যে ছবিতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফুটবলারের পেটে-কাঁধে হাত দিয়ে রয়েছেন। মেসিকাণ্ড নিয়ে আগেই থানা পুলিশ হয়েছে। এবার খোদ ফুটবলারের টিম থেকে আসল চিঠি। মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছেন শতদ্রু। এই মামলায় অরূপের যে রক্ষাকবচ রয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন তিনি।

  • Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলাপচারিতা ও সৌজন্য বিনিময়ে ব্যস্ত জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। একে অপরের সঙ্গে চলছে করমর্দন। হালকা মেজাজে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই জটলায় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হাজির হতেই মোদি এগিয়ে যান। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটোর আগে দুই নেতাকে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করতে দেখা যায়। সেই সময়েই ঘটে এক মজার মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মেলোনি হাসিমুখে মোদিকে বলেন, “আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর রসিকতার সুরে যোগ করেন, “আমরাই তো ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!” প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিমুখে সেই মন্তব্যের জবাব দেন।

    ফের ‘মেলোডি’

    গত কয়েক বছরে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— দুই নেতার পদবির সংমিশ্রণ থেকেই তৈরি হয়েছে এই নাম। মাসখানেক আগে ইটালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির ‘রসায়ন’ আলোচনায় ছিল। মেলোনিকে এক প্যাকেট মেলোডি চকোলেট উপহার দিয়েছিলেন মোদি। চকোলেট উপহার পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি হালকা মেজাজের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি এবং মেলোনি। একটি মেলোডি চকোলেটের প্যাকেট ধরে রেখেছেন দু’জনে। দু’জনেই হাসছেন।

    মোদি-মেলোনি সম্পর্ক, কূটনৈতিক গুরুত্ব

    মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা একই মঞ্চে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা সেরে নেন। ‘গ্রুপ ফটো’ তোলেন। ছবি তোলার সময় যখন রাষ্ট্রনেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তার ঠিক আগে মোদি-মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। করমর্দন করেন দু’জনে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দু’জনে কিছু কথা বলছেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা খুব স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ, অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট— একের পর এক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কূটনৈতিক জটিল সমীকরণের হিসেবনিকেশের ফাঁকে এক টুকরো চেনা হাসি। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে ঠিক যেমন আগের আড্ডার রেশ থাকে, মেলোনিও সেই সুরে বলে ওঠেন, ‘আবার দেখা হয়ে গেল, খুব ভালো লাগছে।’ মোদি তোলেন ‘মেলোডি’ ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার কথা। সুযোগ হাতছাড়া করেনননি ইটালির প্রধানমন্ত্রী। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’ জি-৭ সম্মেলনের সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিছক ছবি বা ভিডিয়োয় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক ইটালি এবং ভারতের চলমান বিদেশনীতির অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইটালি। উভয় দেশই ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কে বলবে ৩৯-এর কোঠায় তিনি! কে বলবে এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ! যেন পার্কে বেড়াতে বেরিয়েছেন। লিয়োনেল মেসিকে দেখে এমনটাই মনে হচ্ছিল। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারদের মধ্যে কোনও পরিকল্পনাই দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে আটকানোর। তার ফল যা হওয়ার তাই হল। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ৭৮ মিনিট মাঠে থাকলেন মেসি। করলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে প্রথম বার। মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা। মেসি প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন, আরও এক বার চ্যাম্পিয়ন হতেই নেমেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে।

    সমালোচকদের জবাব

    ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন। মেসি আদৌ ভাল খেলতে পারবেন তো? কত ক্ষণ খেলতে পারবেন? বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়েছিলেন। সেই চোট কতটা সেরেছে? এমনই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল গত বারের বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে নিয়ে। তিন শটে তার জবাব দিয়ে দিলেন তিনি। আপাতত চুপ করে যাবেন সমালোচকেরা। মেসিকে শুরু থেকেই নামিয়ে দেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তিনি চাইছিলেন, শুরুতেই গোল তুলে নিতে। আর তার জন্য মেসির উপরেই ভরসা রাখেন তিনি। কোচকে হতাশ করেননি মেসি। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেললেন লিয়োনেল মেসি। তাঁর খেলার দেখে বাক্‌রুদ্ধ দলের কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। খেলা শেষে বেশি কথা বলতে পারেননি তিনি। শুধু বলেছেন, “আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। লিয়োকে নিয়ে আর কী বলব। আমি বাক্‌রুদ্ধ। ও দুর্দান্ত।”

    তিন গোল করে তিনটি রেকর্ড মেসির

    • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা: আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে মেসির গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬। বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে তিনি। এত দিন এই রেকর্ড ছিল মিরোস্লাভ ক্লোজের দখলে। পরের ম্যাচেই জার্মানির ফুটবলারকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের মালিক হওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।
    • বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে একাধিক গোল: সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক গোল করলেন মেসি। আগে এই রেকর্ড ছিল ক্যামেরুনের রজার মিল্লার দখলে। ৩৮ বছর ৩৪ দিন বয়সে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে একাধিক গোল করেছিলেন মিল্লা। মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।
    • ছুঁয়ে ফেললেন রোনাল্ডোকে: সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি। মোট পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। সেগুলি হল ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। রোনাল্ডো ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন। এ বারের বিশ্বকাপে গোল করলে অবশ্য মেসিকে ছাপিয়ে যাবেন রোনাল্ডো।

    চোখে জল লিয়োনেল মেসির

    প্রথম গোলের পর কয়েক সেকেন্ডের উল্লাস। তার পরেই দেখা গেল মাথা নিচু। চোখে জল লিয়োনেল মেসির। জার্সি দিয়ে মুছলেন জল। তার পর আবার শুরু করলেন খেলা। খেলার পর মেসি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার নেপথ্যে ফুটবল নয়। মেসি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তবে ফুটবলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন ছিল। কঠিন সময় কাটিয়েছি। জটিল সময় কাটিয়েছি। সেগুলোই মনে পড়ছিল। ফুটবলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।” সেই কঠিন সময়ের কথা বিস্তারিত ভাবে জানাননি মেসি। তবে কঠিন সময়ে কী ভাবে সতীর্থেরা তাঁর পাশে থেকেছেন সেই কথা শোনা গিয়েছে মেসির মুখে। তিনি বলেন, “আমি গোটা দলের কাছে কৃতজ্ঞ। সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভাল রাখার। ওদের এই সাহায্যের কথা ভুলব না।” ৩৯ বছর বয়সেও গোল করে চলেছেন মেসি। এমনকি, বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক এত দিনে এসেছে তাঁর। মেসি জানিয়েছেন, এখন খেলা উপভোগ করছেন তিনি। মেসি বলেন, “এখন খেলা উপভোগ করি। এটা কেকের উপর চেরির মতো বিষয়। দুর্দান্ত একটা দলের হয়ে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। খেলা উপভোগ করছি।”

    দেশঁর চালে ফ্রান্সের বাজিমাত

    মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হচ্ছিল ফ্রান্স ও সেনেগাল। আগের বারের স্মৃতি ফ্রান্সের জন্য সুখকর ছিল না। পাপা বৌবা দিওফের নাম জিদান অন্তত কোনও দিন ভুলবেন না। ২৪ বছর আগে সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। কিন্তু এবার তা হল না। ফ্রান্সের এই দলের কোচের নাম দিদিয়ের দেশঁ। বিরতিতে দেশঁর একটি চালে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। সেনেগাল জানতে ফ্রান্সের সব আক্রমণের লক্ষ্য থাকবেন এমবাপে। তাই তারা রক্ষণ সে ভাবেই সাজিয়েছিল। এমবাপের সঙ্গে জোঁকের মতো লেগেছিলেন কৌলিবালি। ব্যস, প্রথমার্ধে সেখানেই ঢাকা পড়ে গেলেন এমবাপে। প্রথমার্ধে খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ বার বল পেয়েছেন এমবাপে। তা-ও রাখতে পারেননি। প্রথম টাচ দেখে মনে হচ্ছিল, এমবাপের মুখোশ পরে হয়তো অন্য কেউ খেলছেন।

    জোড়া গোল এম-বাপের

    বিরতিতে একটিই বদল করেন দেশঁ। প্রথমার্ধে দলের নম্বর ১০ পজিশনে খেলছিলেন এমবাপে। ফলে তাঁকে বল দিতে হলে সেন্টার অফ দ্য পার্ক দিয়ে খেলতে হচ্ছিল। সেই কারণে এমবাপে বল পেলেই কৌলিবালি তাঁকে আটকে দিচ্ছিলেন। দ্রুত তিন থেকে চার জন ঘিরে ধরছিলেন ফরাসি ফুটবলারদের। ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিলেন না তাঁরা। দেশঁ এমবাপেকে প্রান্তে আনলেন। কখনও ডান, কখনও বাঁ প্রান্ত থেকে উঠলেন তিনি। নম্বর ১০ পজিশনে নিয়ে গেলেন ওলিসেকে। প্রথমার্ধে এমবাপেকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন সেনেগালের সেন্টার ব্যাক কৌলিবালি। কিন্তু এমবাপে প্রান্তে চলে যাওয়ায় কৌলিবালির নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। ওলিসের গতি কৌলিবালিকে সমস্যায় ফেলল। এই এক চালেই খেলার ছবি বদলে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা ফাঁকা জায়গায় বল পেতে শুরু করলেন এমবাপে। দেখা গেল তাঁর পরিচিত দৌড়। ৬৬ মিনিটের মাথায় ওলিসের পাস ধরে মেন্ডির পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপে। এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এমবাপে অবশ্য বরাবরই দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবলার। বিশ্বকাপে করা তাঁর ১৪ গোলের মধ্যে ১৩টিই দ্বিতীয়ার্ধে করা। এদিনও দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের লড়াই জমিয়ে দিলেন এমবাপে।

  • Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি-৭-এর মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সামিটে (G7 Summit) মঙ্গলবার নজর কাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারে বসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি সেখানে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেন। করমর্দনের পর দু’জনকে পাশাপাশি বসে কথোপকথন করতেও দেখা যায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— এই সব বিষয়ই জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    পারস্পরিক বিশ্বাস, সবচেয়ে দামি

    এদিন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, কার্যত তাঁর সমালোচনাও করেন মোদি। জি-৭ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ বিশ্ব আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধুমাত্র তার সীমানার মধ্যেই নির্ধারিত হয় না। তথ্য, পুঁজি এবং প্রযুক্তি—এই সবই আমাদের সংযুক্ত করে। ফলে এই বিশ্বে পার্টনারশিপের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পার্টনারশিপ তখনই সফল হয় যখন তার মূলে থাকে বিশ্বাস। আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ খনিজ, প্রযুক্তি বা বাজার নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস।’’

    পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসের উপরই নির্ভরশীল

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। উন্নয়নের সুযোগ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সকল দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। গত শতাব্দীতে মানবজাতি দুটি বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেছে। বহু ত্যাগের পর, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্ব। এই ব্যবস্থাগুলোও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু বহু প্রজন্মের অবদানের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশ্বাস আজ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কোভিড আমাদের দেখিয়েছে, বিশ্বাস এবং সংহতির দাবিগুলো কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল। আজ বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বরং বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে এবং আমাদের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এই বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করছে।’’

    ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের মিত্র দেশগুলোর জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নাবিকদের নিরাপত্তা, যাঁরা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সমস্ত দেশকে সংযুক্ত করেন, তা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাঁদের কাজ করতে পারেন।’’

    ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা হল। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পরে এটাই মোদি ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শ্ববৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যুতে নজর

    এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

LinkedIn
Share