Author: ishika-banerjee

  • PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলে গেল এক নতুন দিগন্ত! জোহানেসবার্গে জি২০ (PM Modi in G-20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করলেন মোদি। বললেন, “তিন মহাদেশ, তিন মহাসাগর জুড়ে কার্যকর হবে এই পার্টনারশিপ।” আগামী প্রজন্মের জন্য এক উন্নততর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির। তিন দিনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার সকালে নয়া দিল্লিতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থান, জি২০ মঞ্চে উচ্চস্তরের বৈঠক এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ২৪টি বৈঠক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরালো করলেন তিনি।

    সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি

    দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের নেতাদের যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসকে তার সব রূপে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থসংস্থান প্রতিরোধে এফএটিএফ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বৈত মানসিকতা ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে ভারত–ইটালি যৌথভাবে কাজ করবে বলে স্থির হয়। মোদি বলেন, ভারতের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ, বিশেষত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’-এর নীতি, ভবিষ্যতের পথ দেখাতে সক্ষম।

    নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা

    জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত ইবসা শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সবুজ শক্তিতে উদ্ভাবন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন দেশের কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন।

    জি২০-এর মঞ্চে প্রস্তাব

    মোদির প্রথম প্রস্তাব—বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ঐতিহ্যগত জ্ঞানের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণের জন্য গ্লোবাল ট্রেডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি গঠন। তাঁর মতে, প্রাচিনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু প্রচলিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যপী এই ধরণের জ্ঞানের সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন মোদি। বিশ্বের অগ্রগতির জন্য আফ্রিকার উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, এই কারণে ভারত বরাবর আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাব—আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, যার মাধ্যমে আগামী দশ বছরে আফ্রিকার এক মিলিয়ন প্রশিক্ষক তৈরি করা উচিত এবং এভাবে আফ্রিকাবাসীর স্কিল উন্নয়ন সম্ভব। তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। এজন্য জি-২০ সদস্যদের প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে মোদি বলেন, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র ভেঙে ফেলা এখন বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই লক্ষ্যে জি-২০ দেশের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান করেন তিনি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতা

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতার প্রশ্নটিও ফের তুলে দিয়েছেন মোদি। মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। মোদি বলেন, “বহুপাক্ষিকতায় যেন সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারকে কেন্দ্রে রেখে বহুপাক্ষিকতার সংস্কার ঘটলে, তবেই মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে।”

    ১৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সফরে মোদি ১৮টি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত সকল জি৭ দেশও ছিল। তালিকায় ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, অ্যাংগোলা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, জ্যামাইকা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং জাপান। তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে জোরাল বার্তা

    জোহানেসবার্গ জি২০ সম্মেলনে দিল্লি জি২০-এর ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে জি২০ আয়োজন হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনটি মূল সেশনে মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও বার্তা তুলে ধরেন। মোদি বলেন,

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

    জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এটি ছিল মোদির প্রথম সামনাসামনি বৈঠক। তাকাইচি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আয়োজিত এআই সামিট–কে দৃঢ় সমর্থন জানান। দুই নেতা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (FOIP) প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র সফর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

    প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো ভাইরাল

    ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে একাধিক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সঙ্গে ‘ত্রিশক্তি’ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘জোহানেসবার্গে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এই বিশ্বের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে যথার্থ অবদান রাখবে। একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক সারলাম। আমি আশাবাদী, আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকেও অনেক ধন্যবাদ।’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর থেকে বৈঠক, আলাপ, হাত মেলানো, ভাষণ-সহ প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই পোস্ট ঘিরেই দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের উচ্ছ্বাস। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের উচ্ছ্বাস। মোদীর বক্তব্য হোক বা বৈঠক, সবেতেই একটা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

  • IAF Tejas Crash: হৃদয়-বিদারক পোস্ট মার্কিন পাইলটের, দুবাইয়ে ভেঙে পড়া তেজসের উইং কমান্ডারকে শ্রদ্ধা রাশিয়ার

    IAF Tejas Crash: হৃদয়-বিদারক পোস্ট মার্কিন পাইলটের, দুবাইয়ে ভেঙে পড়া তেজসের উইং কমান্ডারকে শ্রদ্ধা রাশিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাইয়ের এয়ার শো-তে ভেঙে পড়েছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস (IAF Tejas Crash)। মৃত্যু হয়েছে পাইলট উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালের। কিন্তু তার পরেও সে দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়নি। এয়ার শো যেমন চলার তেমনই চলেছে। দর্শকদের উৎসাহেও ভাটা পড়েনি। দেখে অবাক মার্কিন বায়ুসেনাদল। প্রতিবাদে তারা সে দিনের চূড়ান্ত পারফরম্যান্স বাতিল করে দেয়। ভারতীয় পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন মার্কিন বায়ুসেনার পাইলট মেজর টেলর হিয়েস্টার।

    বন্ধুর জন্য শ্রদ্ধা মার্কিন পাইলটের

    মেজর হিয়েস্টার জানিয়েছেন, এয়ার শো-র উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ঘটনার এক থেকে দু’ঘণ্টা পরে আমি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, হয়তো জায়গাটা খালি থাকবে। কিন্তু তা ছিল না!’’ এর পরে তিনি লেখেন, ‘‘দুবাই এয়ার শো-র শেষ দিনে যুদ্ধবিমান প্রদর্শনীর সময় দুর্ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের দল সেই সময় নিজস্ব প্রদর্শনীর জন্য তৈরি হচ্ছিল। উদ্যোক্তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাইলট, তাঁর সহকর্মী এবং পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের দল শেষ পারফরম্যান্স বাতিল করে দেয়।’’ মার্কিন পাইলটের অভিযোগ, এয়ার শো-র সঞ্চালক এমন একটা ঘটনার পরেও উৎসাহী ছিলেন। দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনায় খামতি ছিল না কোথাও। এমনকি, সমান উৎসাহে আয়োজক ও প্রদর্শনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সবসময় বলা হয়, ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’। তা কখনও থেমে থাকবে না। তা ঠিকও। কিন্তু একটা কথা মনে রাখা দরকার, আপনি চলে যাওয়ার পরেও কেউ না কেউ একই কথা বলবেন।’’

    বিশেষ শ্রদ্ধা রাশিয়ারও

    ভারতীয় বায়ুসেনার বীর পাইলটের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করল রাশিয়ান নাইটস অ্যারোবেটিক টিম। দুবাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে রাশিয়ান নাইটসের একজন সদস্য বলেন, দুর্ঘটনার পরের মুহূর্তগুলি ‘বর্ণনা করা অসম্ভব।’ উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন আকাশে যুদ্ধবিমান নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী করে রুশ নাইটস অ্যারোবেটিক টিম। ভারতীয় বায়ুসেনাও এক্স হ্যান্ডলে নমাংশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি পোস্ট করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, নমাংশ ছিলেন একজন দক্ষ এবং সম্পূর্ণ পেশাদার পাইলট। তিনি তাঁর কাজ খুব নিষ্ঠা সহকারে পালন করে এসেছেন। সাহসের সঙ্গে তিনি দেশের সেবা করেছেন। ভালো ব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সবার কাছ থেকে বিপুল সম্মান অর্জন করেছেন।

    তেজস দুর্ঘটনার সঠিক কারণের খোঁজে

    গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দুবাইয়ে আয়োজিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক এয়ার শো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০০টির বেশি বায়ুসেনার বিমান অংশগ্রহণ করে। এই তালিকায় ছিল হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানও। উইং কমান্ডারের শেষ বিদায়ের সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কর্তা, তাঁর বন্ধু-সহকর্মীরা ও ভারতীয় দূতাবাসের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রবিবার দুবাই থেকে উড়িয়ে প্রথমে তাঁর দেহাবশেষ আনা হয় তামিলনাড়ুর সুলুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেখানে তাঁর উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন দক্ষিণ এয়ার কমান্ডের আধিকারিকেরা। তার পর দেহাবশেষ হিমাচল প্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • SIR: রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় ভোটার তালিকা ‘মায়া’ময়! এসআইআর ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যানে পর্দা ফাঁস

    SIR: রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় ভোটার তালিকা ‘মায়া’ময়! এসআইআর ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যানে পর্দা ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্থান ভেদে পদবি আলাদা, রাজ্যের ৪৪টি জায়গায় ভোটার তালিকা ‘মায়া’ময়। হাওড়ায় তিনি মায়ারানি রায়, বাঁকুড়ায় মায়ারানি মুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে মায়ারানি প্রামাণিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে মায়ারানি নাইয়া! আবার উত্তর ২৪ পরগনায় তিনিই মায়ারানি মণ্ডল, বর্ধমানে মায়ারানি কোঙার। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় একটিমাত্র এনুমারেশন ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই দেখা যায়, একই মহিলার নাম একসঙ্গে ৪৪টি ভিন্ন বিধানসভায় ভোটার তালিকায় যুক্ত রয়েছে। রয়েছে তাঁর স্বামীর নামও। কিন্তু সবক’টির পদবি আলাদা। পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ৪৭ নম্বর বুথে সামনে এসেছে এমনই ভোটার কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা। পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নাম্লম এসের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    কোনও ভয় নেই মায়ারানির

    পেশায় রাঁধুনি মধ্যবয়স্কা মায়ারানিকে নিয়ে শোরগোল পশ্চিম বর্ধমানে। বিজেপির অভিযোগ, এই ভাবে রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢুকিয়েছে তৃণমূল। তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বিধবা মায়ারানি গোস্বামীর বাড়ি পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ডিভিসি পাড়ায়। ৪৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। তাঁর এনুমারেশন ফর্মে কোড স্ক্যান করতে গিয়ে রাজ্যের ৪৪ জায়গায় ভোটার হিসেবে তাঁর নাম পেয়েছেন বিএলও। এমন অভাবনীয় ঘটনায় মায়ারানি অবশ্য বিস্মিত নন। বস্তুত, তিনি এর গুরুত্ব কী তা-ই জানেন না। বাড়ি বাড়ি রান্নার কাজ করে কোনও ক্রমে দিন চলে ওই মহিলার। থাকেন সরকারি প্রকল্পে পাওয়া বাড়িতে। তাঁর কথায়, ‘‘বাবারা, আমি তো কিছুই জানি না। শুরু থেকে আমি বৈদ্যনাথপুর স্কুলে ভোট দিই। র আগের সরকারের সময়কালে বৈদ্যনাথপুরে নাম তুলেছিলাম৷ সেই সময় আগের ভোটার লিস্ট থেকে আমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমি শুধুমাত্র এটুকুই জানি। লোকের বাড়িতে রান্না করে আমি পেট চালাই। আমি কী করব বুঝতে পারছি না৷ এসআইআরের (SIR) ফর্ম পাড়ার সবাই পূরণ করেছে। আমিও করেছি। তার পর জনে জনে আমাকে এসে প্রশ্ন করছেন। তবে অনেকেই বলেছেন, আমার কোনও ভয় নেই।’’

    সুপরিকল্পিত জালিয়াতি চক্রের কাজ

    বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির দাবি, এসআইআর-এর (SIR) জন্য সত্য সামনে এল৷ এসআইআর চেক না হলে এমন ঘটনা ধরা পড়তই না। কত অসহায় মানুষের নাম ব্যবহার হয়েছে তা ভাবলে শিউরে উঠতে হয়, তাই বড়সড় তদন্ত হওয়া জরুরি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধবা মায়ারানি গোস্বামী খুব অসহায়৷ লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করে দিন গুজরান করেন৷ অভিযোগ, তাঁর এসআইআর ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই দেখা যায়, উত্তর দিনাজপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় তাঁর নাম তোলা হয়েছে ভোটার হিসেবে। তবে প্রতিটি তালিকায় নাম ‘মায়ারানি’ রাখা হলেও বারবার বদলে দেওয়া হয়েছে পদবি। কোথাও তিনি মণ্ডল, কোথাও রায়, আবার কোথাও ঘোষ বা নাইয়া। এইভাবে তাঁর পরিচয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ভোটার হিসাবে তাঁর বয়সও বিভিন্ন জায়গায় কমিয়ে দেখানো হয়েছে। ঘটনার খবর মিলতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, একটি ফর্ম স্ক্যান করতেই ৪৪টি ভুয়ো পরিচয় উঠে আসা কোনও সাধারণ ভুল হতে পারে না। এটি যে একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি চক্রের কাজ, তা স্পষ্ট।

  • India Vs South Africa: লাঞ্চের আগে চা বিরতি! ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টে কেন ঘটল এমন ঘটনা?

    India Vs South Africa: লাঞ্চের আগে চা বিরতি! ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টে কেন ঘটল এমন ঘটনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাঞ্চের আগে চা বিরতি! অবাক লাগছে, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা (India Vs South Africa) দ্বিতীয় টেস্টে ঘটল এমন ঘটনা। ১৮৭৭ সাল থেকে টেস্ট ক্রিকেটের যে ছন্দ চলে আসছে, এ বার তা উল্টে গেল। এটি নিছক কোনও অদ্ভুত ফুটনোট নয়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম বার, একটি নিয়মিত দিনের খেলায় বিরতির ক্রম পাল্টে গেল। সাধারণত ধারা থাকে— টস → লাঞ্চ → চা → স্টাম্পস। কিন্তু গুয়াহাটিতে এ বার হলো— টস → চা → লাঞ্চ → স্টাম্পস। গুয়াহাটির বরষাপাড়া স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের খেলার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৭/৬।

    কেন লাঞ্চের আগে চা

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেশের অন্য অংশের তুলনায় অনেক আগে হয়। গুয়াহাটি, প্রায় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত, যেখানে সূর্য ওঠে এবং অস্ত যায় মুম্বই বা দিল্লির চেয়ে অনেক আগে। তবুও এই শহর অনুসরণ করে ভারতীয় সময় (IST), যা নির্ধারিত ৮২.৫° পূর্ব দ্রাঘিমায়। ফলে বিকেল ৪:৩০-এর মধ্যেই এখানে সন্ধ্যার আবহ তৈরি হয়— ৯০ ওভার শেষ করতে তখন বড় সমস্যা হয়। খেলার সময় বাঁচাতে, বিসিসিআই ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা সম্মত হয়েছে গুয়াহাটি টেস্ট সকাল ৯টায় শুরু করার বিষয়ে, যা সাধারণ ভারতীয় টেস্ট টাইমিংয়ের আধঘণ্টা আগে। দিনের কাঠামো হল, প্রথম সেশন: সকাল ৯টা – ১১টা, চা বিরতি: ১১টা – ১১:২০, দ্বিতীয় সেশন: ১১:২০ – ১:২০, লাঞ্চ বিরতি: ১:২০ – ২:০০, তৃতীয় সেশন: ২:০০ – ৪:০০ (সর্বোচ্চ ৪:৩০ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে)।

    ব্যাটে-বলে লড়াই

    নেতৃত্বের ব্যাটন শুভমন গিলের হাত থেকে ঋষভ পন্থের হাতে গেলেও টস ভাগ্য বদলাল না। টস জিতে অজানা পিচে প্রথমে ব্যাটিং নিতে ভুল করেননি বাভুমা। ব্যাট করতে নেমে ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারেরাও। দুই ওপেনার এডেন মার্করাম এবং রায়ান রিকলটন ধীরে শুরু করেন। প্রথম উইকেটের জুটিতে তাঁরা তোলেন ৮২ রান। ৩৮ রান করে বুমরার বলে আউট হন মার্করাম। তার আগে পর্যন্ত প্রায় নিখুঁত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার। যদিও শুরুর দিকে মার্করামের দেওয়া সহজ ক্যাচ স্লিপে ফেলে দেন লোকেশ রাহুল। এ দিন অধিনায়ক হিসাবে বাভুমা ১০০০ টেস্ট রান পূর্ণ করলেন। বাভুমাকে (৪১) আউট করেন রবীন্দ্র জাদেজা। এদিন ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার কুলদীপ ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন। ৩০ রানে ১ উইকেট জাদেজার। ৩৮ রানে ১ উইকেট বুমরার। দিনের শেষবেলায় ১টি উইকেট পান মহম্মদ সিরাজ।

  • Delhi Blast: দু’বছর ধরে হামলার ছক, বোমা তৈরিতে খরচ লক্ষাধিক! দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে জেরায় দাবি ধৃতের

    Delhi Blast: দু’বছর ধরে হামলার ছক, বোমা তৈরিতে খরচ লক্ষাধিক! দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে জেরায় দাবি ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ (Delhi Blast) ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গিগোষ্ঠীর। আর সেই ছক প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০২৩ সালে। দীর্ঘ দু’বছর ধরে দিল্লিতে হামলার ছক করেছিল জইশের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিরা। বোমা তৈরিতে খরচ হয়েছিল লক্ষাধিক টাকা। আত্মঘাতী জঙ্গি উমর মহম্মদের সহযোগী ‘জেহাদি চিকিৎসক’ মুজাম্মিল শাকিলকে জেরা করে এমনই তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। এনআইএ-র সূত্র বলছে, গত দু’বছর ধরে ধীরে ধীরে বিস্ফোরকের মশলা জোগাড় করেছেন অভিযুক্তেরা।

    হামলার ছক দীর্ঘ দু’বছর ধরে

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে (Delhi Blast) এই হামলার ছক দীর্ঘ দু’বছর ধরে করা হয়েছিল, তা স্বীকার করে নিয়েছে শাকিল। বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক, রিমোট এবং অন্যান্য সামগ্রীও এই সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গোটা এই কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে ছিল শাকিল। মুজাম্মিলের দায়িত্ব ছিল ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জোগাড় করার। সূত্রের খবর, হরিয়ানার নুহ এবং গুরুগাঁও থেকে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনেছিল শাকিল। অন্যান্য বিস্ফোরক দ্রব্যগুলি কেনা হয়েছিল নুহ থেকে। ফরিদাবাদের বাজার থেকে কেনা হয়েছিল ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বোমা তৈরির রাসায়নিকগুলি সংরক্ষণের একটি ফ্রিজও কিনেছিল শাকিল। এগুলির সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্য সরঞ্জাম মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরি করা হয়।

    ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন জঙ্গিরা

    সূত্রের খবর, সেই সার থেকে ইউরিয়া তৈরির দায়িত্ব ছিল উমরের উপরে। যে চারটি মিলে সার পেষাই করে ইউরিয়া তৈরি করেছিলেন উমর, সেগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। দিল্লি বিস্ফোরণে যে খরচ হয়েছিল, তা জুগিয়েছিলেন অভিযুক্তেরাই। এমনটাই বলছে এনআইএর সূত্র। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সদস্যেরা বিস্ফোরকের সরঞ্জাম কিনতে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন। সূত্র বলছে, সেই টাকা উমরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। উমর নিজে দিয়েছিলেন ২ লক্ষ টাকা, এমনটাই জেনেছেন গোয়েন্দারা। সূত্রের দাবি, মুজাম্মিল দেন ৫ লক্ষ টাকা। গোষ্ঠীর অন্য সদস্য আদিল রাথের দেন আট লক্ষ টাকা। মুজফ্‌ফর রাথের দেন ৬ লক্ষ টাকা। লখনউয়ের শাহীন শাইদ দিয়েছিলেন ৫ লক্ষ টাকা। উমর বিস্ফোরণে আত্মঘাতী। বাকিরা এখন এনআইএ-র হেফাজতে।

    হ্যান্ডলারের নামও জানিয়েছেন মুজাম্মিল

    তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, জেরায় মুজাম্মিল স্বীকার করেছেন, সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল কিনেছিলেন তিনি। পরে আদিলের লকার থেকে তা উদ্ধার হয়। নিজের হ্যান্ডলারের নামও জানিয়েছেন মুজাম্মিল। তাঁর হ্যান্ডলারের নাম মনসুর। উমরের হ্যান্ডলারের নাম হাশিম। সূত্র বলছে, এই দুই হ্যান্ডলারই ইব্রাহিম নামে একজনের অধীনে কাজ করতেন। গোয়েন্দারা আরও জানতে পেরেছেন, শাকিল, আদিল, মুজফ্‌ফর ওকাসার নির্দেশে তুরস্কে গিয়েছিলেন। এই ওকাসা তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের সদস্য। আফগানিস্তানে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু হ্যান্ডলারেরা সাহায্য করেননি বলে তা আর হয়ে ওঠেনি। উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। তদন্তে নেমে শ্রীনগর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা বেশিরভাগই কাশ্মীরের।

  • Odisha: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা! ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

    Odisha: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা! ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল রাজ্য সরকার। জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক ও জাজপুরসহ উপকূলীয় ও অন্তর্দেশীয় একাধিক জেলায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নজরদারি, পরিচয় যাচাই ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও গোয়েন্দা সতর্কবার্তার পর এই অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে।

    জগৎসিংহপুরে উচ্ছেদ অভিযান

    জগৎসিংহপুর জেলায় শুক্রবার সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধ বসতি উচ্ছেদে প্রশাসন জোরালো অভিযান চালায়। বিভিন্ন স্থানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক কুঁড়েঘর ও অস্থায়ী নির্মাণ। বেহেরামপুরের কাছে বেশ কিছু পরিবার সম্ভাব্য পুলিশি তৎপরতার ভয়ে নিজেরাই ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তারা বহু বছর ধরে সরকারি জমি দখল করে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ। তবে তারা কোথায় গিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। জেলাপ্রশাসন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পর্যায়ক্রমে ডোর-টু-ডোর যাচাই অভিযান চলবে।

    মূল অভিযুক্ত সিকন্দর পলাতক

    জগৎসিংহপুরে বাংলাদেশিদের সংগঠিতভাবে বসতি স্থাপন করানোর মূল সন্দেহভাজন সিকন্দরকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। তার বাড়িতে দুই ঘণ্টার তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে পুরনো ভোটার কার্ডসহ কয়েকটি নথি। পুলিশের ধারণা, সিকন্দরই বহু বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিতে ও বিভিন্ন অঞ্চলে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন। তার অর্থ লেনদেন খতিয়ে দেখতে কলেজ চকের কাছে একটি স্থানীয় ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে যে কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বইয়ের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও তিনি লেনদেন করতেন। সিকন্দর সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন, বলে আশঙ্কা পুলিশের। জগৎসিংহপুরের এসপি অঙ্কিত কুমার ভার্মা জানিয়েছেন, লুক-আউট নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়া চলছে। রঘুনাথপুর এলাকায় কুয়ামঙ্গায় সিকন্দরের নতুন বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

    মানবপাচার চক্রের সন্ধান

    পুলিশ সূত্রে খবর, সিকন্দর ও তার ভাই আব্দুলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে আনার মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল। আনীত ব্যক্তিদের কম মজুরিতে কাজ করানো-সহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া একটি অবৈধ মাদ্রাসা পরিচালনা ও বিদেশি অর্থায়নের সন্দেহে একটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিকন্দরের বাংলাদেশ, কাতারসহ কয়েকটি দেশের লোকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

    জাজপুরে ডোর-টু-ডোর যাচাই অভিযান

    ব্রাহ্মবরদা থানার রসুলপুর ব্লকসহ জাজপুরের কয়েকটি এলাকায় পরিচয় যাচাই শুরু হয়েছে। রাজ্যের বাইরে বা অন্য জেলা থেকে আসা মেসন, হকার, খাবার বিক্রেতা ও শ্রমিকদের নথি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে পুরো এলাকাজুড়ে ভাড়াবাসা, কর্মস্থল ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলবে। ভদ্রকের বসুদেবপুর ব্লকের কাসিয়া মেরিন পুলিশ স্টেশন এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে কড়া নজরদারি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেআইনি বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও আটক করতে এই অভিযান রাজ্যজুড়ে চলবে। অন্যান্য উপকূলীয় জেলাতেও একই ধরনের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি জগৎসিংহপুরে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতারের পরই নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • India Russia Relation: মার্কিন চাপ নয়, ব্যবসায়িক বাস্তবতা! রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের ব্যাখ্যা রিলায়েন্সের

    India Russia Relation: মার্কিন চাপ নয়, ব্যবসায়িক বাস্তবতা! রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের ব্যাখ্যা রিলায়েন্সের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের ২০ নভেম্বর রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরআইএল) জানিয়েছে যে, তারা গুজরাটের জামনগরস্থিত শোধনাগারের জন্য রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আপাতত কিনবে না। আরআইএলের শোধনাগারের দুটি ইউনিট রয়েছে। সেটির একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসইজেডে অবস্থিত। সেখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভুক্ত (ইইউ) একাধিক দেশ এবং আমেরিকায় পেট্রোপণ্য সরবরাহ করে ওই সংস্থাটি। কিন্তু সম্প্রতি রুশ তেলের উপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রফতানি বাণিজ্য ঠিক রাখতে আপাতত মস্কোর থেকে ‘তরল সোনা’ আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিলায়েন্স। এর পিছনে মার্কিন চাপের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই।

    ব্যবসায়িক ঝুঁকি এড়াতে সিদ্ধান্ত

    জামনগর এসইজেড রিফাইনারি ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে। এই পণ্যের বড় অংশ যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে, যেখানে রিফাইন্ড ফুয়েলের দাম তুলনামূলক বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রাশিয়ান ক্রুড থেকে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রুশ তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নতুন সময়সীমা ঘোষণা করেছে। ফলে রিলায়েন্স আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রফতানিমুখী ইউনিটে রাশিয়ান তেল বাদ দিচ্ছে, যাতে বাজার হারানো বা সেকেন্ডারি স্যাংশনের ঝুঁকি না থাকে। ইউরোপীয় বাজার যাতে হাতছাড়া না হয় তাই এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিলায়েন্স। রফতানির জন্য এসইজেড শোধনাগারে ব্যবহৃত তেল রুশ সংস্থা ‘রসনেফ্ট’-এর কাছ থেকে আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিলায়েন্স। মুকেশের সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের দাবি, নিষিদ্ধ সংস্থাগুলির কাছ থেকে তেল কিনলে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে পারবে না রিলায়েন্স। ক্রেমলিনের তেল পরিশোধন করে পেট্রোপণ্য ইউরোপের বাজারে বিক্রি করে তাদের ঘাড়েও নিষেধাজ্ঞা চাপলে ব্যবসার পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি রাশিয়া চুক্তি অটুট

    রিলায়েন্স পূর্বে রসনেফ্টের সঙ্গে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল রাশিয়ান তেল ক্রয়ের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে। তবু, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বদলালে কর্পোরেট কৌশলও বদলাতে হয়। কোম্পানি জানিয়েছে, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিশ্রুত কার্গো গ্রহণ করা হয়েছে, এবং শেষ রুশ তেল-কার্গো ১২ নভেম্বর লোড হয়েছে। সরকারি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি “পিছু হটা” নয়—বরং বাস্তববাদী সামঞ্জস্য। ভারত রাশিয়ার সাথে তার কৌশলগত জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রেখেছে, আবার বেসরকারি খাতকে নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। রাশিয়ার রসনেফ্ট নয়ারা এনার্জির ভাদিনার রিফাইনারিতে প্রায় ৪৯% অধিকার রয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় সরকারি সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ রয়েছে ভ্যাঙ্কর্নেফট, তাস-ইউরিয়াখ এবং সাখালিন-১ প্রকল্পে। অতএব, রিলায়েন্সের আংশিক কৌশলগত সমন্বয় ভারতের রাশিয়া-সম্পর্কের ওপর কোনও মৌলিক প্রভাব ফেলছে না।

    অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক

    রিলায়েন্সের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এসইজেড রফতানি ইউনিটে প্রযোজ্য। দেশের অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক ট্যারিফ এরিয়া) রিফাইনারিগুলো এখনো বিভিন্ন উৎসের তেল—রাশিয়া থেকেই ক্রয় করছে। এতে সরকার একদিকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখেছে, অন্যদিকে রফতানি বাজারকেও রক্ষা করেছে। সস্তা রাশিয়ান তেল আমদানির ফলে দেশীয় জ্বালানি খরচ কম এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকার কোথাও রাশিয়ান তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলোকেও তা বন্ধ করতে বলেনি। অতএব, এটি সরকারি নীতি পরিবর্তন নয়—একটি কর্পোরেট ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা পদক্ষেপ। রিলায়েন্সের এই সিদ্ধান্ত সরকারের কাছে বরং ইতিবাচক—কারণ এটি রফতানি আয় রক্ষা করে।

    ভারত এখনও রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার

    সূত্রের খবর, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ আপাতত স্পট মার্কেট থেকেই তেল কেনার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তেল পরিশোধনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার রাশিয়ার থেকে তেল কেনাবেচার পরিসংখ্যান কিন্তু ভিন্ন। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এক রিপোর্ট বলছে, এখনও দেশে অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। গত পাঁচ বছরে তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ২০২১-’২২ সালে ৪০ লক্ষ টন তেল কেনা হয়েছিল। গত অর্থবর্ষে তার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৮ কোটি টন। চলতি অর্থবর্ষে এপ্রিলের পর থেকে অগস্টের শেষ পর্যন্ত তেল কেনা হয়েছে ৪ কোটি টন। ফলে চলতি অর্থবর্ষে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞমহলের। শুধু অক্টোবরেই মস্কোর তেল কিনতে ২৫০ কোটি ইউরো (প্রায় ২৬,২৫০ কোটি টাকা) খরচ করেছে ভারত। উপদেষ্টা সিইআরএ-র দাবি, সেপ্টেম্বরে একই মূল্যের আমদানি হয়েছিল। তবে গত মাসে পরিমাণে ১১ শতাংশ বেশি কিনেছে দেশীয় সংস্থাগুলি। ফলে ভারত এখনও রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার।

    বাজারভিত্তিক কৌশলগত পুনর্বিন্যাস

    রিলায়েন্সের পরিবর্তন কেবল “রফতানি নোড”-এ সীমাবদ্ধ। ভারতের সামগ্রিক রাশিয়ান তেল আমদানি এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে। কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারত–রাশিয়া সহযোগিতা আগের মতই চলছে। মোদি সরকারের নীতি হলো— “যেখানে দরকার সমন্বয়, যেখানে সম্ভব স্বায়ত্তশাসন”—যা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব বোঝা যাচ্ছে, রিলায়েন্সের রফতানি ইউনিটে রাশিয়ান তেল বন্ধের সিদ্ধান্তটি মার্কিন চাপের ফল নয়—এটি একটি বাজার-চালিত, ঝুঁকি-সচেতন কর্পোরেট সিদ্ধান্ত, যেখানে ভারত সরকার সীমিত হস্তক্ষেপ করে কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় নীতি-স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চিত বিশ্বে নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক চাপের সময় এটি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রয়োগ।

  • Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই দুবাইয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes), এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, বায়ুসেনার তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুবাইয়ে এয়ার শো চলাকালীন শুক্রবার ভেঙে পড়েছে ভারতের তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস। মৃত্যু হয়েছে পাইলট উইং কমান্ডার নমনশ স্যায়ালের। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও তেজসের ইঞ্জিন এসেছে আমেরিকার সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক থেকে। মনে করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে তেজসের ইঞ্জিনটিতে কোনও কারণে আগুন ধরে গিয়েছিল। পাইলট তাই আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    শুক্রবার দুবাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ৮ মিনিটে তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) ভেঙে পড়ার পর বায়ুসেনা বিবৃতি জারি করে পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আকাশে উড়তে উড়তে আচমকা নীচে নামতে শুরু করছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সজোরে আছড়ে পড়ছে মাটিতে এবং তাতে আগুন জ্বলে উঠছে। পুরু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল দুবাইয়ের ওই এলাকার আকাশ। আগুনে বিস্ফোরণও চোখে পড়েছে বহু দূর থেকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ ভিডিয়ো দেখে জানিয়েছেন, শূন্যে তেজস নিয়ে একটি বিশেষ কৌশল দেখানোর পরিকল্পনা ছিল পাইলটের। যা ‘ব্যারেল রোল’ নামে পরিচিত। এই কৌশলে জেট এক বার উল্টে গিয়ে আবার সোজা হয় এবং গোলাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। যুদ্ধবিমানের পক্ষে এটি খুব একটা কঠিন কৌশল নয়, মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এতে পাইলটকে সামান্য সময়ের জন্য বিমানের মধ্যে উল্টে থাকতে হয়। অর্থাৎ, তাঁর মাথা নীচে এবং পা উপরে চলে যায়। এই সময়েই তেজসে গোলমাল হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

    তেজস নিয়ে ভুয়ো খবর

    সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) একটি লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্‌ট। এর ব্যর্থতার হার অত্যন্ত কম। ২৪ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দু’বার তেজস ভেঙে পড়ল। প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার এক দিন আগেই তেজস নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো কিছু খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত সরকার। সমাজমাধ্যমে রটে গিয়েছিল, দুবাইয়ের এয়ার শো-তে ভারত থেকে যে তেজস এমকে১ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে, তার জ্বালানি লিক করছে। বক্তব্যের সপক্ষে কিছু ছবি এবং ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, তেজস থেকে তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়ছে। পিআইবি-র তরফে জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। ভিডিয়োতে যে তরল দেখা গিয়েছে, তা আদৌ তেল নয়। জল। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই জল ছাড়া হচ্ছিল। এটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া।

    পিছনে কোনও অন্য কারণ

    শুক্রবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আগেই তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোয় সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এর পিছনে কোনও চক্রান্ত কাজ করছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন দুবাইয়ে বিশেষ কৌশল উপস্থাপনের জন্য তেজস যুদ্ধবিমানটিকে প্রথমে বেশ খানিকটা উপরে তুলেছিলেন পাইলট। তার পর উল্টেও যান। উল্টে যাওয়ার পরেই বিমানটি নীচের দিকে নামতে শুরু করে। আর সোজা হয়ে উপরে উঠতে পারেনি। ওই সময় পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারান। মনে করা হচ্ছে, মাটির সঙ্গে বিমানের দূরত্ব অনেকটা কমে এসেছিল। তাই কৌশলটি সম্পূর্ণ করা যায়নি।

  • Amit Shah on SIR: ‘কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষায় সরব…’, নাম না করে মমতাকে নিশানা শাহের

    Amit Shah on SIR: ‘কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষায় সরব…’, নাম না করে মমতাকে নিশানা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও দল বা নেতা-নেত্রীর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে শাহ অভিযোগ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল এসআইআর প্রক্রিয়ায় (SIR) বাধা দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

    নিরাপত্তার জন্য অনুপ্রবেশ রুখতে হবে

    শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অমিত শাহ লেখেন, “ভারতের নিরাপত্তার জন্য অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূষিত হওয়া থেকে বাঁচাতে এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অথচ দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষায় সরব, এবং নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।” এর আগে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি কড়া ভাষার চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর অভিযোগ, গোটা প্রক্রিয়া অপরিকল্পিত, বিশৃঙ্খল এবং বিপজ্জনকভাবে চালানো হচ্ছে, যা শুরু থেকেই প্রশাসনকে অচল করে দিয়েছে।

    মমতার দাবি, বিজেপির যুক্তি

    মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, এসআইআর-এর ফলে বিএলও-রা অতিরিক্ত চাপে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তিনি সতর্ক করেন যে, এভাবে ৩ ডিসেম্বরর মধ্যে সঠিকভাবে তালিকা আপলোড সম্ভব নয়। সেই প্রেক্ষিতে রাজ্যে এসআইআর স্থগিত করার আবেদন জানান মমতা। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি দাবি করে যে, তিনি বৈধ ও আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে খর্ব করতে চাইছেন।

    কেন কমিশনের বিরোধিতা

    শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমাজমাধ্য়মে একটি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টের বার্তা যে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া, তা সেখানে উল্লেখিত রয়েছে। এদিন শাহ জানিয়েছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার খাতিরেই যে শুধু অনুপ্রবেশ রুখতে হবে এমনটা নয়। গণতান্ত্রিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখেও এই অনুপ্রবেশ বন্ধ করা প্রয়োজন।’ কিন্তু কেউ কেউ তাতে রাজি নয় বলেই অভিযোগ শাহের। অনুপ্রবেশকারীদের তাঁরা ‘সুরক্ষা প্রদান’ করছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এদিন তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপত্তা প্রদানে উদ্য়ত্ত হয়েছে। তাঁরা কমিশনেরও বিরোধী। ভারতের নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের কাজ চালাচ্ছে, তা তাঁরা চায় না।’

    কমিশনের পাশেই সরকার

    আগামী ২৫ তারিখ ঠাকুরনগরে মিছিল করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সেখানেই করবেন মিটিং। সেই পদযাত্রা এবং মিটিংয়ের বিষয় অবশ্যই এসআইআর বিরোধিতা। আর এই কারণেই শাহ চটেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাতে এটা একবারেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে কোনওভাবেই এসআইআর থেকে পিছু হটবে না কেন্দ্রীয় সরকার। বরং ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পাশেই রয়েছেন তাঁরা।

    দেশের মানুষ অনুপ্রবেশ পছন্দ করেন না

    বিহারের পর ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর করার কাজ শুরু করেছে। তার মধ্যে পাঁচ রাজ্য— পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে আগামী বছরই। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এসআইআর করা হচ্ছে। তাই ফের একবার বিরোধীদের সতর্ক করে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করে এমন কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষেই থাকেন না দেশের নাগরিকেরা। অমিত শাহ বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল টেনে আনেন। তাঁর দাবি, বিহারের ফলই প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ অনুপ্রবেশ পছন্দ করেন না।

    অনুপ্রবেশ রুখতে সতর্ক বিএসএফ

    শুক্রবার গুজরাতের ভুজে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শাহ একহাত নিলেন বিরোধীদের। তিনি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অহরহ কাজ করছে বিএসএফ। ভারতে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা কেবল দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই প্রয়োজন তা নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দূষিত হওয়া থেকে রক্ষার করাও এর উদ্দেশ্য।’’ তাঁর অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল সরকারের অনুপ্রবেশ-বিরোধী অভিযানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। শাহের কথায়, ‘‘এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকার শুদ্ধকরণের যে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন, তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে তারা (বিরোধী শিবির)।’’

    মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন দেশের নাগরিকরাই

    শাহের কথায়, ‘‘কোন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন— তা ঠিক করার দায়িত্ব একমাত্র দেশের নাগরিকদেরই। অনুপ্রবেশকারীদের সেই অধিকার নেই।’’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘যে সব রাজনৈতিক দল এসআইআরের বিরোধিতা করছে, আমি তাদের সতর্ক করতে চাই। ওরা অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চাইছে। কিন্তু তা হবে না কখনওই।’’

  • Kashmir Times Office Raid: ‘দেশ-বিরোধী’ প্রচার! কাশ্মীরে সংবাদপত্রের অফিসে পুলিশি অভিযানে মিলল একে-৪৭-র গুলি

    Kashmir Times Office Raid: ‘দেশ-বিরোধী’ প্রচার! কাশ্মীরে সংবাদপত্রের অফিসে পুলিশি অভিযানে মিলল একে-৪৭-র গুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবিরোধী কাজে উৎসাহ দেওয়া, অস্ত্র মজুত করা সহ নানা অভিযোগে কাশ্মীর টাইমসের (Kashmir Times Office Raid) জম্মুর দফতরে তল্লাশি চালাল সে-রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা এসআইএ। সূত্রের খবর, সংবাদপত্রের অফিসে তল্লাশি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সঙ্গে একে-৪৭-এর কার্তুজ, পিস্তলের গুলি এবং গ্রেনেডের তিনটে লিভার উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে আরও ৪ অভিযুক্তকে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এখনও পর্যন্ত এনআইএ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    ‘কাশ্মীর টাইমস’ এর অফিস থেকে উদ্ধার অস্ত্র

    দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে জম্মুতে ‘কাশ্মীর টাইমস’ সংবাদপত্রের (Kashmir Times Office Raid) অফিসে হানা দিয়েছে এসআইএ (স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি)। দিল্লির লাল কেল্লায় গাড়ি বিস্ফোরণ এবং জইশ-ই-মহম্মদের ‘ডাক্তার জঙ্গি’ নেটওয়ার্কের তদন্তে বৃহস্পতিবার জম্মুর রেসিডেন্সি রোডে কাশ্মীর টাইমস সংবাদপত্রের অফিসে তল্লাশি চালায় রাজ্য তদন্ত সংস্থা (এসআইএ)। সম্প্রতি এই সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছে। এই এফআইআর-এর কারণেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। এদিন কাশ্মীর টাইমসের অফিসে থাকা নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইসগুলিতে অনুসন্ধান চালানো হয়। এসআইএ-র তল্লাশি চলাকালীন উদ্ধার হয় একে-৪৭-এর কার্তুজ, পিস্তলের গুলি এবং গ্রেনেডের তিনটে লিভার। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, ‘আমরা মনে করছি যে, এই সব কিছুই বেআইনি ভাবে রাখা হয়েছিল যা দেশ-বিরোধী বা চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত করছে। আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।’

    ভারত-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ -এর অভিযোগ 

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশে সন্ত্রাস-দমন শাখা এসআইএ-র অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে লেখা ভারত-বিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এই সংবাদপত্রে। এই সব প্রতিবেদন লেখকের নামও উল্লেখ থাকে। দেশবিরোধী কার্যকলাপ প্রচারের অভিযোগে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এসআইএ। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা ভাসিনের নামও এফআইআর-এ রয়েছে। বছর চারেক ধরে বন্ধ শ্রীনগরের প্রেস এনক্লেভে ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর অফিস। ২০২১-২২ থেকে বন্ধ প্রকাশনাও। বর্তমানে পুরোটাই অনলাইন। সেই বন্ধ অফিসেই বৃহস্পতিবার সাতসকালে হানা দেয় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)।’ পুলিশ ‘কাশ্মীর টাইমস’–এর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করেছে, সেখানে বলা হয়েছে — এই নির্দিষ্ট মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ভাবধারা প্রচার করছিল। পাশাপাশি উস্কানিমূলক মন্তব্য, সাজানো ও মিথ্যে বক্তব্য তুলে ধরা, জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ প্রজন্মকে মৌলবাদে উৎসাহিত করা, জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাব, শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করা এবং সর্বোপরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে তাদের প্রকাশিত সংবাদ ও ডিজিটাল কনটেন্ট-এর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

    এর পরে কী?

    এর আগে, ২০২০-এর অক্টোবরে জম্মু ও কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ ‘কাশ্মীর টাইমস’-এর শ্রীনগর অফিস সিল করে দেয়। পরে অবশ্য মেন গেট-সহ দু’একটা রুমে যাওয়ার অনুমতি ছিল। তার প্রায় পাঁচ বছর পরে ফের তল্লাশি চলল এই সংবাদমাধ্যমের অফিসে। এর পরে কী? তা নিয়ে অবশ্য কিছু জানায়নি পুলিশ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব কিছু ফরেন্সিকে পাঠানো হবে। তা হলেই বোঝা যাবে কোন উদ্দেশ্যে, কেন, কোথায় এই সব ব্যবহার করা হতো এবং কোনও জঙ্গি সংগঠন বা সন্ত্রাসবাদ-সহমর্মী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ রয়েছে কি না।

    দিল্লি বিস্ফোরণে শ্রীনগর থেকে ধৃত আরও ৪

    দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে শ্রীনগর থেকে আরও চার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গণাই, অনন্তনাগের চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথের, উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের চিকিৎসক শাহিন সাঈদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে। পাটিয়ালা হাউস কোর্টের নির্দেশে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। এনআইএ জানিয়েছে, হামলার পরিকল্পনা, অর্থসংস্থান, প্রযুক্তিগত সহায়তা, সব দিকেই বড় ভূমিকা ছিল এই চার জনের।

LinkedIn
Share