Author: ishika-banerjee

  • Madvi Hidma: ২৬-এর বেশি নাশকতার মাস্টারমাইন্ড, এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষ নেতা হিডমা

    Madvi Hidma: ২৬-এর বেশি নাশকতার মাস্টারমাইন্ড, এনকাউন্টারে নিহত মাও শীর্ষ নেতা হিডমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে মাও-সন্ত্রাস দমনে ফের বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তাবাহিনী (Security Forces)। এনকাউন্টারে নিহত মাওবাদীদের শীর্ষনেতা মাড়বী হিডমা। অন্ধ্রপ্রদেশের আলুরি সীতারামরাজু জেলায় জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার হিডমার (Madvi Hidma Killed)। জঙ্গল থেকে ছ’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে, যার মধ্যে হিডমার দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে। এখনও এনকাউন্টার চলছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে হিডমার স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কাও রয়েছেন।

    সকাল থেকেই মাওবাদী দমনে অভিযান

    অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও ওড়িশা, এই তিনরাজ্যের সংযোগস্থলের কাছে, মারেডুমিলী জঙ্গলে মঙ্গলবার সকালে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নামে পুলিশ। সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলাকালীনই হিডমা মারা যায় বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিডমা ওরফে সন্তোষ, তার স্ত্রী এবং আরও চার মাওবাদী ছত্তিশগড় থেকে পালানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু জঙ্গল ঘিরে ফেলে পুলিশ। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্ধ্রপ্রদেশ গোয়েন্দা বিভাগের কাছে মাওবাদীদের গতিবিধি নিয়ে খবর আসছিল। অন্ধ্রপ্রদেশ-ছত্তিশগড় এবং ওড়িশা সীমানার দিকে তারা এগোচ্ছে বলে জানা যায়। সেই মতো অভিযানে নেমে সাফল্য পেলাম আমরা।”

    কে ছিল হিডমা

    মাওবাদীদের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি, দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির নেতা ছিল হিডমা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পিপল্‌স লিবারেশন গেরিলা আর্মির ১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের প্রধান এই হিডমা। তার বয়স ৪০ বছর মতো। ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার জনজাতি অধ্যুষিত পুবর্তী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। নব্বইয়ের দশকে যোগ দেন মাওবাদীদের সঙ্গে। মাওবাদী ব্যাটেলিয়নের প্রধান হিসেবে মহিলা-সহ প্রায় ১৮০ থেকে ২৫০ জনের দলকে নেতৃত্ব দিতেন তিনি। কমপক্ষে ২৬টি সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেয় সে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য থেকে সাধারণ মানুষের প্রাণ যায়। সম্প্রতি মাল্লোজুলা বেমুগোপাল রাও ওরফে সোনু আত্মসমর্পণ করার পর থেকে হিডমার উপর নজর ছিল পুলিশের। ৫১ বছর বয়সি হিডমা নকশালপন্থীদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে গণ্য হতো। ১৯৮১ সালে ছত্তিশগড়ের সুকমায় জন্ম হিডমার। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশে চলে যায় সে। ব্যাটেলিয়ন অফ দ্য পিপল’স লিবারেশন গেরিলা আর্মি-কে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি, সেন্ট্রাল কমিটির কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে উঠে আসে। এই কমিটি সিপিআই মাওবাদী-র সিদ্ধান্তগ্রহণের সর্বোচ্চ সংগঠন। সেন্ট্রাল কমিটিতে বাস্তার অঞ্চলের একমাত্র উপজাতি প্রতিনিধিও ছিল হিডমা। তার মাথার দাম রাখা হয়েছিল ৫০ লক্ষ টাকা।

    মাওবাদীদের কাছে জোর ধাক্কা

    একাধিক মাওবাদী হামলায় হিডমার নাম সামনে আসে। তবে তার সাম্প্রতিক কালের কোনও ছবিই নাকি পাওয়া যায় না। ভীম মাণ্ডবী খুনের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ২০১০ সালে দান্তেওয়াড়ায় যে হামলা হয়, যাতে ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারান তার পরিকল্পনাতেও হিডমা যুক্ত ছিল। ২০১৩ সালে ঝিরগ্রাম ঘাটিতে মাওবাদী হামলায় কংগ্রেস নেতা-সহ ২৭ জন মারা যান, তাতেও নাম উঠে আসে হিডমার। ২০২১ সালে সুকমা-বিজাপুরে মাওবাদী হামলায় ২২ জন সৈনিক প্রাণ হারান, যার চক্রীও ছিল হিডমা। এমনিতেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে মাওবাদীদের। লোকজন দলে দলে আত্মসমর্পণের রাস্তাও বেছে নিচ্ছে। এই আবহে হিডমার মৃত্যু মাওবাদীদের কাছে জোর ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের দাবি, সিপিআই (মাওবাদী) দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সব থেকে তরুণ সদস্য এই হিডমা।

    মাওবাদী মুক্ত ভারত

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদকে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে শুরু হয়েছে কাজ। গত কয়েক মাসে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে আত্মসমর্পণ করেন কয়েকশো মাওবাদী। স্পষ্ট ভাষায় শাহ জানিয়েছেন, “যারা হিংসাত্যাগ করে মূল স্রোতে ফিরছেন তাঁদের স্বাগত জানাই। কিন্তু যারা এখনও বন্দুক চালিয়ে যাবে তাঁদের নিরাপত্তা বাহিনীর মারণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।” সম্প্রতি একাধিক মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছে, সেই তালিকায় রয়েছে মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও। নিজের অনুগামীদের অস্ত্র ফেলে মূলস্রোতে ফেরার ডাক দিয়েছে সে-ও। তার বার্তা ছিল, “সক্রিয় মাওবাদীদের হিংসার রাস্তা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করা উচিত। মূলস্রোতে ফিরে মানুষের কাজ করতে হবে।” আর তার পরই এনকাউন্টারে মৃত্যু হল হিডমার।

    সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় সাফল্য

    হিডমার শেষ ঠিকানা পূর্ব গোদাবরীর ঘন ছায়াজঙ্গল। অন্ধ্র পুলিশের ডিজিপি হরিশ কুমার গুপ্তা নিশ্চিত করেছেন, বিশাল এলাকায় এখন চলছে সার্চ অ্যান্ড ক্লিয়ারেন্স অভিযান। বস্তার রেঞ্জ আইজি পি. সুন্দররাজও জানান ১৮ নভেম্বরের এই এনকাউন্টার নকশাল নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা। উদ্ধার হয়েছে একাধিক একে ৪৭ রাইফেল, বিপুল গোলাবারুদ। এই এনকাউন্টার নকশাল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। হিডমার মৃত্যু শুধু এক কমান্ডারের মৃত্যু নয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বস্তার ও আশপাশের এলাকায় মাওবাদী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ভেঙে পড়ল এই এনকাউন্টারের ফলে। অভিযান সফল হওয়ায় গ্রেহাউন্ড ও অন্ধ্র পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলির সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Amit Shah: ‘পাতালের তল থেকেও খুঁজে বের করব’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

    Amit Shah: ‘পাতালের তল থেকেও খুঁজে বের করব’, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করেও শাস্তি দেওয়া হবে। তারা পালাতে পারবে না, দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah)। সোমবার হরিয়ানায় অনুষ্ঠিত নর্দার্ন জোনাল কাউন্সিলের ৩২তম বৈঠকে শাহ বলেন, “দিল্লি বিস্ফোরণের অপরাধীদের আমরা পাতালের তল থেকেও বের করব এবং নিশ্চিত করব যে তারা দেশের আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।” গত ১০ নভেম্বর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা” আখ্যা দিয়ে জানায়— দোষীদের কোনও ভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙতে তৎপর

    সোমবার, এনআইএ এই ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে। কাশ্মীরের বাসিন্দা জাসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিশ-কে শ্রীনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রযুক্তিগত কিছু সাহায্য চক্রান্তকারীদের যুগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। এনআইএ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৭৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আহত প্রত্যক্ষদর্শীরাও রয়েছেন। পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ, উত্তর প্রদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহত্তর চক্রান্ত উদ্‌ঘাটন ও পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এনআইএ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। জঙ্গি যোগের সূত্র মেলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ তদন্ত দল। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার এবং একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ি ছাড়াও আরও দু’টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারীরা।

    দিল্লি বিস্ফোরণে শাহী-বার্তা

    দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের হুঁশিয়ারি দিয়ে এদিন শাহ (Amit Shah) বলেন, ‘‘দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। এই ঘটনার নেপথ্যে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে খুঁজে বার করার নির্দেশ দিয়েছি। তারা এ বার দেখবে আমাদের সংস্থাগুলির ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত যাবে। যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।’’ উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। তদন্তে নেমে শ্রীনগর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁদের বেশিরভাগই কাশ্মীরের। তদন্তকারীদের স্ক্যানারে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়। একে একে সামনে আসছে দেশে ছড়িয়ে থাকা ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর ভয়াবহ তথ্য। এদিন শাহ বলেন, ‘‘দিল্লির এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় যেভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, তা বিশ্বের কাছে বার্তা দেবে— ভারতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ যেন না পায়।’’

    তদন্তে নয়া মোড়

    দিল্লির ভয়াবহ (Delhi Blast) বিস্ফোরণের তদন্তে বড়সড় মোড়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সন্দেহ, জইশ-যোগে আত্মঘাতী হামলাকারী ডাক্তার উমর উন নবি হয়তো ‘শু-বম্বার’ (Shoe Bomber) হিসেবেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। ফরেন্সিক পরীক্ষার নয়া তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। তদন্ত সূত্রের খবর, উমরের আই-২০ গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক জুতোর ভিতরেই মিলেছে বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো ধাতব উপাদান। গাড়ির ড্রাইভারের সিটের নীচে, ডানদিকের সামনের চাকার কাছে পড়েছিল জুতোটি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, জুতো এবং গাড়ির টায়ার দুই জায়গাতেই মিলেছে টিএটিপি (TATP)-র চিহ্ন। অতিসংবেদনশীল এই বিস্ফোরককে দুনিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি চেনে ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামে। বিস্ফোরক মজুত ছিল বলেই নয়, বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রথম ধাক্কা বা ইনিশিয়েশন মেকানিজম সম্ভবত জুতোর মাধ্যমেই চালানো হয়েছিল বলে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

  • SIR: এসআইআর-এর জন্য কোনও ওটিপি চাওয়া হচ্ছে না! ভোটারদের সাবধান করল কমিশন

    SIR: এসআইআর-এর জন্য কোনও ওটিপি চাওয়া হচ্ছে না! ভোটারদের সাবধান করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর (SIR) জন্য কোনও ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দিতে হবে না। সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট ভাবে তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এসআইআর-এর জন্য কারও থেকে ওটিপি চাইছে না। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, কমিশনের নাম ভাঁড়িয়ে বহু মোবাইল ফোনে ওটিপি পাঠানো হচ্ছে এবং ফোন করে বলা হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ওই ওটিপি জরুরি। অনেকেই তা বিশ্বাস করে ওই ভুয়ো ওটিপি নম্বর বলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ জানায় কমিশনের কাছে। মনে করা হচ্ছে, অসাধু উপায়ে টাকা পয়সা হাতানোর জন্যই একটা চক্র এই কাজ করছে।

    কেন এই বিবৃতি

    ওয়াকিবহাল মহল বলছে, সাইবার প্রতারণা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় এনুমারেশন ফর্ম পূরণকে হাতিয়ার করে সাইবার প্রতারকরা যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা না করতে পারে, তার জন্য সতর্ক করল কমিশন। কারণ, ফর্ম ঠিকমতো পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষ বিচলিত থাকবেন। ফলে ফর্মে ভুল রয়েছে জানিয়ে বিএলও কিংবা কমিশনের নাম করে কেউ ফোন করে ওটিপি চাইলে, অনেকে প্রতারকদের ফাঁদে পা-ও দিতে পারেন। তাই রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে সিইও অফিস জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন কিংবা সিইও অফিস এসআইআর সংক্রান্ত কাজের জন্য কখনও কারও মোবাইলে ওটিপি পাঠায় না। এবং ফোন করে ওটিপি জানতে চায় না। সিইও অফিসের এই প্রেস বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে কলকাতা পুলিশও। গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে আসছেন বুথ স্তরের আধিকারিকেরা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা দেখে সেই অনুযায়ী এই ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। তার পর তা জমা নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে এই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করছেন বিএলওরা। রবিবার রাত ৮টার বুলেটিনে কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৯৯ শতাংশের বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে।

    আজ কলকাতায় কমিশনের টিম

    আজ, মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর কলকাতায় আসছে কমিশনের বিশেষ টিম। এদিন কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক হবে। এরপর বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশনের বিশেষ টিমের প্রতিনিধিরা বৈঠক করবেন। এদিনই কৃষ্ণনগর রওনা দেবে কমিশনের টিম। রাতে সেখানে থাকবে। তারপর ১৯ নভেম্বর নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বৈঠক করবে। ২০ নভেম্বর মালদায় পৌঁছবে কমিশনের টিম। সেখানে বৈঠক করে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে কলকাতায় ফিরে আসবে। কলকাতায় রাতে থাকবে কমিশনের টিম। ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে নিউটাউনে ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং (FLC) নিয়ে একটি কর্মশালায় যোগ দেবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।

  • Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত চায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সোমবার ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’-এর তরফে সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর এই ইস্যুতে মুখ খুলল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ (Bharat Bangladesh Relation) আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেখানকার সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সুষ্ঠু যোগাযোগ রাখবে দিল্লি।

    কী বলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক

    জুলাই অভ্যুত্থানে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকে মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। গুরুতর মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে জুলাই বিপ্লবী ছাত্রদের উপর গুলি চালানো তথা মানবতাবিরোধী অপরাধ, আয়নাঘর সংক্রান্ত অভিযোগ ইত্যাদি। সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপরই সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হাসিনাকে। বাংলাদেশ আদালতে রায় ঘোষণার পর বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। নয়াদিল্লি চায় বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সেই লক্ষ্যে নয়াদিল্লি সব পক্ষের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে যোগাযোগ রাখবে।’

    ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি

    বর্তমানে ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) রয়েছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী হাসিনা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে ভারতের কাছে আবারও চিঠি দেবেন তাঁরা। তবে বিচারের সম্মুখীন হতে ভারত তাঁকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন কেন্দ্রে মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। অন্য দিকে, ঢাকার মসনদে হাসিনাই।

    কখন প্রত্যর্পণ হবে না

    চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অপরাধটির যদি রাজনৈতিক চরিত্র থাকে, তা হলে প্রত্যর্পণ করা হবে না। খুন, গুম করা এবং অত্যাচার (যেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসিনা অভিযুক্ত) রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় রাখা হবে না বলেও চুক্তিতে বলা হয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনও উদ্দেশ্য না-থাকে, তা হলে ভারত বা বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করবে না। হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না-করার জন্য এই যুক্তিগুলি খাড়া করতে পারে ভারত। হাসিনা নিজেও বারবারই তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগও তুলেছেন।

    ভারত হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাধ্য নয়

    বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শর্তের জন্যই ভারত (Bharat Bangladesh Relation) হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সোমবারের রায়ের পর বাংলাদেশে হাসিনার প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি কোনও দেশে কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়। হাসিনার ক্ষেত্রেও এই আইনের কথা তুলে ধরতে পারে ভারত। তাই নানা নিয়ম অনুসারেই ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়। এই প্রসঙ্গে আইনগত দিকও রয়েছে। হাসিনা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু দেশে না-থাকার জন্য হাসিনাকে যদি তা করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) অবস্থান করছেন। মৃত্যুদণ্ডের পরই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ২ জনকে হস্তান্তরের আর্জি জানায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানায় দিল্লি। ইউনুসের শাসনে গোটা বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার হাওয়া তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা সরকার ছিল ভারতের বন্ধু। তবে, ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা যে কোনও পক্ষপাত নয়, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের পাশাপাশি কূটনৈতিক স্বার্থে সে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সমানভাবে যোগাযোগ রাখবে ভারত। অর্থাৎ, ইউনুসের বাংলাদেশ আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করলেও ভারত সেই দলকে যেমন গুরুত্ব দেবে একইভাবে বিএনপি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেবে ভারত। পাশাপাশি এটাও ইউনুস প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ভারত সমর্থন করে না। গণতান্ত্রিক পথে আওয়ামি লিগকে বাকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

  • IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১১ বছরের সম্পর্কে ছেদ। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের ১০টি দল সব মিলিয়ে ৮২ জন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিল। তার মধ্যে ৭৪ জনের দল থাকল না ২০২৬ সালের আইপিএলের আগে। তাঁদের আবার নিলামে নামতে হবে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে এই তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, ফ্যাফ ডুপ্লেসি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রাচিন রবীন্দ্র, রবি বিষ্ণোইয়ের মতো ক্রিকেটার। কেকেআর ছেড়ে দিয়েছে ৯ জন ক্রিকেটারকে। তাঁরা হলেন আন্দ্রে রাসেল, বেঙ্কটেশ আয়ার, কুইন্টন ডি কক, মইন আলি, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, স্পেন্সার জনসন, চেতন সাকারিয়া, লাভনিথ সিসোদিয়া এবং অনরিখ নোখিয়া। এ ছাড়া ময়াঙ্ক মার্কন্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। ফলে আগামী আইপিএলের আগে ৯ জনেরই কোনও দল থাকল না।

    রাসেলকে কেন ছাড়ল কেকেআর

    হাতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী মাসেই ২০২৬ আইপিএল (IPL 2026) টুর্নামেন্টের নিলাম অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে এই নিলাম অনুষ্ঠানের আগে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে রিটেনশন তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, কোন কোন ক্রিকেটারকে তারা ধরে রাখতে চায়। আর কাদেরই বা দিতে চায় ছেড়ে! এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে থাকলে নিলাম অনুষ্ঠানও সুষ্ঠভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা দেখে সমর্থকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে। আন্দ্রে রাসেল (১২ কোটি), ভেঙ্কটেশ আইয়ার (২৩.৭৫ কোটি), কুইন্টন ডি কক (৩.৬ কোটি), মঈন আলি (২ কোটি) এবং অনরিখ নোর্খিয়া (৬.৫ কোটি)।তবে এই তালিকায় যে নামটা সবাইকে হতবাক করেছে, তিনি হলেন আন্দ্রে রাসেল। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। গত বছর মেগা অকশনের ঠিক আগে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁকে রিটেনও করেছিল নাইট ব্রিগেড। কিন্তু, গত আইপিএল মরশুমে রাসেল প্রত্যাশা অনুসারে পারফরম্য়ান্স করতে পারেননি। সেকারণে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে শেষপর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    কেকেআর-এর নতুন বোলিং কোচ

    ২০২৬ সালের আগে পুরো কোচিং স্টাফ বদলে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রধান কোচ, সহকারি কোচের পর এ বার নতুন বোলিং কোচের নাম ঘোষণা করল। KKR-এর প্রাক্তন তারকা ও কিউয়ি কিংবদন্তি টিম সাউদিকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ করল। গত বার কেকেআর আইপিএল-এ সপ্তম স্থানে শেষ করে। এর নেপথ্যে ছিল খারাপ বোলিং। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছরেই এই ছবির পর দলে আমূল বদল আনা হয়। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, ভরত অরুণ সরে দাঁড়ান। মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভো অবশ্য দায়িত্বে রয়েছেন। অভিষেক নায়ারকে প্রথমে কোচ হিসেবে আনা হয়। এর পর সহকারি কোচ হন শেন ওয়াটসন আর এবার বোলিং কোচ করা হলো টিম সাউদিকে।

    কে কাকে ছাড়ল

    চেন্নাই সুপার কিংস: সিএসকে ছেড়ে দিয়েছে ১২ জনকে। রবীন্দ্র জাডেজা এবং সাম কারেনকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে। বাকি ১০ জনের দল থাকল না। তাঁরা হলেন রাহুল ত্রিপাঠি, বংশ বেদি, আন্দ্রে সিদ্ধার্থ, রাচিন রবীন্দ্র, ডেভন কনওয়ে, বিজয় শঙ্কর, দীপক হুডা, শেখ রশিদ, কমলেশ নাগরকোটি, মাথিশা পাতিরানা।

    মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: এমআই ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে অর্জুন তেন্ডুলকরকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না মুম্বইয়ের আট ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন সত্যনারায়ণ রাজু, রিসি টোপলে, কেএল শ্রীজিৎ, কর্ম শর্মা, বেভন জ্যাকবস, মুজির উর রহমান, লিজ়াড উইলিয়ামস এবং ভিগনেশ পুথুর।

    রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থান ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনকে বিক্রি করা হয়েছে চেন্নাইয়ের কাছে। নীতীশ রানাকে বিক্রি করা হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে। এ ছাড়া হয়েছে ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ, মাহিশ থিকশানা, ফজ়লহক ফারুকি, আকাশ মাধওয়াল, অশোক শর্মা, কুনাল রাঠোর এবং কুমার কার্তিকেয়। দল থাকল না সাত ক্রিকেটারের।

    পাঞ্জাব কিংস: পাঞ্জাব ছেড়ে দিয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারকে। কাউকেই কোনও দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি। ফলে পাঁচ জনেরই দল থাকল না ২০২৬ আইপিএলের আগে। তাঁরা হলেন জশ ইংলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন হার্ডি, কুলদীপ সেন, প্রবীণ দুবে।

    রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: আরসিবি ছেড়ে দিয়েছে আট জনকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাকল না। গত বারের চ্যাম্পিয়ন দল থেকে বাদ পড়লেন স্বস্তিক চিকারা, ময়ঙ্ক আগরওয়াল, টিম সেইফার্ট, লিয়াম লিভিংস্টোন, মনোজ ভানদাগে, লুঙ্গি এনগিডি, ব্লেসিং মুজ়ারাবানি এবং মোহিত রাঠি।

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: হায়দ্রাবাদ ছেড়ে দিয়েছে আট জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ শামিকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না সাত জনের। তাঁরা হলেন অভিনব মনোহর, অথর্ব তাইদে, সচিন বেবি, উইয়ান মুলডার, সিমরজিৎ সিংহ, রাহুল চাহার এবং অ্যাডাম জ়াম্পা।

    দিল্লি ক্যাপিটালস: দিল্লি ছেড়ে দিয়েছে সাত জন ক্রিকেটারকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাক না ২০২৬ সালের আইপিএলে। নিলামে নাম লেখাতে হবে ফ্যাফ ডুপ্লেসি, জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক, ডনোভান ফেরেরা, সেদিকুল্লাহ অটল, মন্বন্ত কুমার, মোহিত শর্মা এবং দর্শন নালকান্দে।

    গুজরাট টাইটান্স: শুভমন গিলের ছ’জন সতীর্থকে ছেড়ে দিয়েছেন গুজরাত কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে শেরফান রাদারফোর্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। ফলে দল থাকছে না পাঁচ ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন মাহিপাল লোমরোর, করিম জনত, দাসুন শনাকা, জেরাল্ড কোয়েৎজে এবং কুলওয়ান্ত খেজরোলিয়া।

    লখনউ সুপার জায়ান্টস: কলকাতার শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল ছেড়ে দিল ডেভিড মিলার-সহ আট ক্রিকেটারকে। শার্দূল ঠাকুরকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। সব মিলিয়ে এলএসজির সাত ক্রিকেটারের দল থাকল না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার আকাশ দীপও। এ ছাড়া রয়েছেন রবি বিশ্নোই, আরিয়ান জুয়াল, যুবরাজ চৌধুরী, রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারকর এবং শামার জোসেফ।

  • SSC Scam: তালিকায় অযোগ্যরা? ফল বেরোতেই ফের এসএসসি নিয়ে মামলা বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে

    SSC Scam: তালিকায় অযোগ্যরা? ফল বেরোতেই ফের এসএসসি নিয়ে মামলা বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে বসেই তোলাবাজি করছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে অডিও পোস্ট করে শুভেন্দুর অভিযোগ, এখনও চাকরির জন্য টাকা তুলছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। অবিলম্বে এই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করুক ইডি। অপরাধী প্রমাণিত হলে নিয়োগ দুর্নীতির সব মামলা রাজ্য থেকে সরানো হোক। ইডির কাছে এমনই আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু। সম্প্রতি এসএসসি ২০২৫-এর একাদশ-দ্বাদশের ফল প্রকাশ হয়েছে। তবে তা নিয়েও এক গুচ্ছ বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানার অভিযোগে ফের মামলা দায়ের হয়েছে।

    জেলে বসেই চাকরি বিক্রি করছেন জীবনকৃষ্ণ 

    জেলে বসেই চাকরি বিক্রি করছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনশট ও অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এটাই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সততার প্রতীক’? প্রশ্ন তুলে কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য ইডি-র কাছে আর্জি জানিয়েছন তিনি। শুভেন্দু বলেন, এক্সামের রেজাল্টেও যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন, জেলে উনি ফোন ব্যবহার করছেন। জেলে গিয়ে কিছু হবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে। এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো চোরেরা, জীবনকৃষ্ণ সাহাদের মতো চোরেদের ইডি ধরে পাঁচ দিন, দশ দিন পিসি-তে রাখছে, তারপর তো জেলে পাঠাতে হচ্ছে। জেলে তো ফাইভ স্টার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-এর পর ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এদিন তৃণমূল বিধায়কের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে, একাধিক অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে, শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন, ইডি-কে অনুরোধ করছি, এই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করে দেখুন এবং দোষী প্রমাণিত হলে, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির মামলাগুলি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সরানোর চেষ্টা করুন।

    নতুন তালিকাতেও অযোগ্যদের নাম 

    শনিবর রাতেই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য, কল ফর ভেরিফিকেশন তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। সেই তালিকা ঘিরেও নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। ভয়ঙ্কর অভিযোগ, এবারেও তালিকাতে অনেক অযোগ্যের নাম রয়েছে। এখন প্রশ্ন আবারও, কীভাবে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারলেন? সুপ্রিম কোর্ট যেখানে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, অযোগ্যদের সবার আগে বাদ দিতে হবে, তাঁরা যেন কোনওভাবেই পরীক্ষায় না বসতে পারেন। সেখানে মামলাকারীর বক্তব্য, একাদশ দ্বাদশের ফলপ্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন অযোগ্যের নাম তালিকায়। এমনকি তাঁদের কয়েকজন ইন্টারভিউতেও ডাক পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের নামেক তালিকায় নাম রয়েছে ক্লার্কদেরও। এই নিয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। মামলা গ্রহণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

    আদালতমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত

    কাট অফ’ যেখানে ৭০ শতাংশের বেশি, সেখানেই থমকে নতুনরা। পূর্ণ নম্বর ৬০ পেয়েও চাকরি হয়নি একাধিক প্রার্থীর। মোট ২০ হাজারের সামান্য বেশি প্রার্থী ডাক পেয়েছেন। আবার ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃত্বের অনেকেই ডাক পেলেন না। তবে এখনই আন্দোলন বা আদালতমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না তাঁরা। তবে এহেন পরিস্থিতিতে রবিবারই একটি চাঞ্চল্যকর নাম প্রকাশ্যে আসে। নীতীশ রঞ্জন প্রামাণিক! তাঁর নাম রয়েছে অযোগ্যদের তালিকায়। কিন্তু তাঁর নাম রয়েছে একাদশ দ্বাদশের পাশ করা চাকরিপ্রার্থীদের তালিকাতেও। ইন্টারভিউয়ের জন্যও ডাক পেয়েছেন তিনি। অর্থাৎ চিহ্নিত অযোগ্যই ডাকা পেয়েছেন ইন্টারভিউয়ের জন্য। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই SSC-র নতুন ফল নিয়ে নতুন বিতর্ক তুঙ্গে। ধীরে ধীরে আরও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।

    বিশেষভাবে সক্ষম, তাই আবেদন

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করেছিল এসএসসি। এরপর চিহ্নিত অযোগ্যদের কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসার জন্য আবেদন জানালেও তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, বিশেষভাবে সক্ষম চাকরিহারারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। নীতীশের পরিবার দাবি করছে, বিশেষভাবে সক্ষম, তাই আবেদন করতে পেরেছেন । কিন্তু যাঁদের নাম ‘দাগীদের’ তালিকায়, তাঁরা আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবেন কিনা, তা স্পষ্ট বলা ছিল না সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারকপিতে। এবার এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই নতুন করে মামলা হল হাইকোর্টে।

     বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা গ্রহণ করেন

    সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ এক পার্টটাইম শিক্ষক। মামলাকারীর দাবি, অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর পাবেন না পার্টটাইম শিক্ষকরা বলে জানায় এসএসসি। যদিও তার অনেক সহকর্মী অভিজ্ঞতার জন্য নম্বর পেয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর নাম ইন্টারভিউ তালিকায় থাকার কথা নয়। তবে তা সত্ত্বেও তালিকায় রয়েছেন বহু ‘অযোগ্য’। ফিরদৌস শামিম বলেন, “ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে সুবিধা পেয়েছেন ‘অযোগ্য’রা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও ‘অযোগ্য’ প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু ইন্টারভিউ তালিকায় বহু ‘অযোগ্য’র নাম রয়েছে। এটা অসম্ভব বিষয়।” বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা গ্রহণ করেন। আগামী বুধবার মামলা শুনানি সম্ভাবনা।

  • Red Fort Blast: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে বড় সাফল্য! জালে আই-২০ গাড়ির বর্তমান মালিক উমর-ঘনিষ্ঠ রশিদ

    Red Fort Blast: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে বড় সাফল্য! জালে আই-২০ গাড়ির বর্তমান মালিক উমর-ঘনিষ্ঠ রশিদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের (Red Fort Blast) ঘটনায় জোড়া সাফল্য। একদিকে, তদন্তাকারীদের জালে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির বর্তমান মালিক তথা উমর ঘনিষ্ঠ আমির রশিদ আলি। অন্যদিকে, আর এক মহিলা চিকিৎসককে আটক করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

    পুলিশের জালে আই২০ গাড়ির বর্তমান মালিক

    দিল্লিতে লালকেল্লায় বিস্ফোরণের পর থেকেই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে নাম এসেছিল উমর নবি ঘনিষ্ঠ আমির রশিদ আলির। এবার এনআইএ-র জালে ধরা পড়েছে আমির রশিদও। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ধৃত আমির রশিদ আলির নামে দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ হওয়া গাড়িটি রেজিস্টার্ড রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বোরার পোম্পোরার বাসিন্দা আমির রশিদ। জানা যাচ্ছে, যে গাড়িটি দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহার হয়েছে আমির দিল্লিতে এসেছিল ওই গাড়িটি কিনতে। এনআইএ-র সঙ্গে একযোগে ফরিদাবাদ বিস্ফোরক উদ্ধার কাণ্ডে তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। দিল্লি পুলিশ যে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করেছিল, তা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আদিলকে জেরা করে প্রিয়ঙ্কার নাম

    অন্যদিকে, ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত আদিলের সূত্র ধরে হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা, কাশ্মীরের অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা শর্মাকে আটক করা হয়েছে। এই মুহূর্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে। কাশ্মীরের অনন্তনাগ থেকে তাকে আটক করা হয়।  আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রিয়ঙ্কার নাম উঠে আসে। নাশকতাচক্রে আরও বেশ কয়েক জন যুক্ত রয়েছে, কেউ লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট জোগায়, কেউ আবার অর্থনৈতিক, এমনটা তদন্তকারীদের জানায় আদিল। এর পর কল রেকর্ড চেক করে প্রিয়ঙ্কার নাম হাতে পান তদন্তকারীরা। অনন্তনাগে প্রিয়ঙ্কা যেখানে থাকে, সেখানে হানা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফরেন্সিকদের একটি দলও পৌঁছেছে সেখানে। প্রিয়ঙ্কার ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখতে হরিয়ানার রোহতকেও তদন্তকারীদের একটি দল পৌঁছচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

    ২০০ কাশ্মীরি ডাক্তারি পড়ুয়ার উপর নজর

    কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশেও ইতিমধ্যে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ কাশ্মীরি ডাক্তারি পড়ুয়ার উপর নজর রয়েছে বলে খবর। সন্ত্রাসদমন শাখার তরফে কানপুর, লখনউ, মেরঠ, সাহারনপুর-সহ বিভিন্ন শহরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের খবর নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আল-ফালাহ্ ইউনিভার্সিটির আরও দুই চিকিৎসহ-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দুই চিকিৎসকের নাম মহম্মদ ও মুস্তাকিন, তারা উমর নবীর পরিচিত। লালকেল্লা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আই-২০ গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর। মহম্মদ ও মুস্তাকিনের সঙ্গে চিকিৎসক মুজাম্মিলেরও যোগাযোগ ছিল। যাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

    নজরে সার ও চা বিক্রেতা

    দীনেশ ওরফে ডাব্বু নামের হরিয়ানার আর এক বাসিন্দাকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। দীনেশ বেআইনি ভাবে সার বিক্রি করত বলে অভিযোগ। বিস্ফোরক কেনার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হাওয়ালা মাধ্যমে ২৬ লক্ষ টাকা এসেছিল বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে এনপিকে সার কিনতে খরচ করা হয় ৩ লক্ষ টাকা। দীনেশ ওই সার সরবরাহ করেছিল কি না, বেআইনি কারবারের বাইরে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে সে যুক্ত ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়াজিরপুর শিল্পতালুকে এক চা বিক্রেতাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে সেখানে নেমেছিল উমর। ১৪০টি মসজিদে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। ৪০টি সার ও বীজের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। ২০০ গেস্টহাউসেও তল্লাশি চলে। উপত্যকায় ৫০০ জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

  • Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। আজ, সোমবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলায় রায় ঘোষিত হবে। রায় শোনাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগের রাতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশে। রবিবার রাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার বাড়ির কাছে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ হয়েছে ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি -র কার্যালয়ের সামনেও।কে বা কারা এই ককটেল হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি

    রবিবার থেকে দু’দিন ব্যাপী বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছে হাসিনার দল আওয়ামি লীগ। বর্তমানে এই দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। শুরু হয়েছে ধরপাকড়ও। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করেছে। দফায় দফায় অশান্তির খবর আসছে বাং। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাড়ি, বাস, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এমনকি, অ্যাম্বুল্যান্সেও ককটেল হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সন্ধ্যায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা পুলিশ। বলা হয়েছে, কোথাও কাউকে মানুষ, গাড়ি বা পুলিশের উপর অগ্নিসংযোগ বা ককটেল ছুড়তে দেখলেই গুলি করতে হবে। কিন্তু তার পরেও একাধিক জায়গা থেকে এই ধরনের হামলার খবর এসেছে।

    সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু

    গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের চাপে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ইস্তফা দেন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও। সেই থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্রযুবদের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রায় ঘোষণা করবেন। আজ প্রথম মামলার রায়দান। সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু হবে। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে হাসিনার বিরুদ্ধে রায়দান।

    রায়দানের বিরোধিতা বাংলাদেশ জুড়ে

    শুধু শেখ হাসিনা নন, এই মামলায় বাকি দুইজন অভিযুক্ত হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। যদিও প্রাক্তন পুলিশকর্তা এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের সাজার দাবি করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল দেশ ছাড়ার পরই। আজ আদালত কী রায় দেয়, তার দিকেই নজর। তবে তার আগে থেকেই জ্বলছে বাংলাদেশ। রবিবার, রাতভর বিক্ষোভ, হামলা চলে। এমনকী বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাড়ির সামনেও ককটেল বোমা ছোড়া হয়। শ্যামপুর, গাবতলী, মহাখালী সহ একাধিক জায়গায় ককটেল বোমা ছোড়া হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। ককটেল বোমায় আহত হয়েছেন কয়েকজন।

    গুলি চালানোর নির্দেশ ইউনূসের

    রোষ আছড়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্ট মহম্মদ ইউনূসের তৈরি করা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উপরও। একাধিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছ কেটে রাস্তা অবরোধও করা হয়। ছাত্রলিগও রাস্তায় নেমে মশাল মিছিল করেছে ঢাকা-বরিশালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। পুলিশ ও সেনাও পথে নামানো হয়েছে। যদি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয় বা সরকারি দফতরে হামলা করা হয়, তাহলে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

  • India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্টে অপরাজিত রইল বাভুমার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা (India Vs South Africa)। ভারতের মাটিতে ১৫ বছর পর টেস্ট ম্যাচে জয় পেল প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল ভারতীয় দল। ইডেন গার্ডেন্সে ৩০ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শেষে দলের ব্যর্থতা মেনে নিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। জানালেন, পিচ নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর। ভারতীয় দলের হেড কোচের কথায়, ‘আমরা এই পিচই চেয়েছিলাম। আমরা যে পিচ চেয়েছি সেই পিচই পেয়েছি। এখানকার কিউরেটর আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। আমার মনে হয় না এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। এই উইকেট মানসিক কাঠিন্যের পরীক্ষা নেয়। যারা ভালোভাবে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে পেরেছে, তারা রান করেছে।’

    পিচ নয়, দল পারেনি মানলেন গম্ভীর

    শনিবার খেলার শেষে পুজারা বলেছিলেন, ইডেন গার্ডেন্সের এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ১২০ রান তাড়া করাও কঠিন হতে পারে। তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিলেন ঋষভ পন্থেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস ১৫৩ রানে শেষ হওয়ায় ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রান। সেই রান তুলতেই কেঁপে গেল শুভমন গিলহীন ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। ৯৩ রানে শেষ হয়ে গেল ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। নিজেদের পছন্দের পিচে ৩০ রানে হেরে গেল গৌতম গম্ভীরের দল। পিচ নিয়ে তিন দিন ধরে নানা কথা হলেও গম্ভীর ম্যাচ হেরে কোনও অভিযোগ করলেন না। বরং নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিলেন। গম্ভীর মানতে চাননি ইডেনের ২২ গজ স্পিন সহায়ক ছিল। জোরে বোলারদের বেশি উইকেট পাওয়ার তথ্যকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না। খেলার উপযোগী ছিল। টেম্বা বাভুমা তো রান করল। ওয়াশিংটন সুন্দরও ভাল ব্যাট করল। অক্ষরও তো খেলল। খেলা যাবে না, এমন উইকেট তো ছিল না। জানি না কেন বার বার স্পিন সহায়ক পিচ বলা হচ্ছে! জোরে বোলারেরাই বেশি উইকেট পেয়েছে এই টেস্টে। ব্যাটারদের টেকনিক, মানসিক শক্তি এবং ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হয় এ রকম পিচে। আমরা পারিনি।’’

    ভারতের কাঁটা বাভুমা

    ভারতের (India Vs South Africa) লক্ষ্য ‘কঠিন’ করে দিলেন টেম্বা বাভুমা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে আউট করতেই পারলেন না জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, রবীন্দ্র জাদেজারা। ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন চোট সারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ব্যাটার। ম্যাচের প্রথম দিনই ইডেনের ২২ ব্যাটারদের বধ্যভূমি হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিল। সেই পিচেই অপ্রতিরোধ্য দেখাল বাভুমাকে। ১৩৬ বলের ইনিংসে নিজের দলকে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে দিলেন বাভুমা। একমাত্র ব্যাটার হিসাবে ইডেন টেস্টে অর্ধশতরান করলেন। ৫০ রান করতেই ইডেনের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁকে। বাভুমার লড়াই ছাড়া রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভাল ব্যাট করলেন করবিন বসও (২৫)। তিনি আউট হওয়ার পর অবশ্য ভারতকে বেশি বেগ পেতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল আউট করতে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম জাদেজা ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন। ২ রানে ২ উইকেট সিরাজের। ৩০ রানে ২ উইকেট কুলদীপ যাদবের। ১টি করে উইকেট নেন অক্ষর এবং বুমরা।

    কেমন খেলল ভারত

    ওয়াশিংটন সুন্দর (৩১) ছাড়া ভারতের আর কারও মধ্যে বাভুমাসুলভ লড়াই দেখা গেল না। প্রথম ওভারেই মার্কো জানসেনের বলে আউট হয়ে যান যশস্বী জয়সওয়াল (০)। তৃতীয় ওভারে জানসেন তুলে নেন লোকেশ রাহুলের (১) উইকেট। ১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন এবং ধ্রুব জুরেল। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়ার পর সাইমন হারমারকে অযথা ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলেন জুরেল (১৩)। এর পর হারমারের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে দলকে খাদের কিনারায় পৌঁছে দেন পন্থ (২)। লাভ হয়নি জাদেজার (১৮) আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও। ২২ গজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে গেলেন ওয়াশিংটন। তাঁকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে পারলেন না কেউ। অক্ষর শেষবেলায় আগ্রাসী ব্যাটিং করে চেষ্টা করেছিলেন একটা। কিন্তু হারমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন ২৬ রান করে। বাউন্ডারির দিকে মুখ করে দৌড়ে দুরন্ত ক্যাচ নিলেন বাভুমা। তাঁর ওই ক্যাচই ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট জয় নিশ্চিত করে দেয়। স্পিন সহায়ক উইকেটে সাইমন হারমারের বল খেলতে সমস্যা পড়লেন ভারতীয়েরা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিলেন। খরচ করলেন ২১ রান। ১৫ রানে ২ উইকেট মার্কো জানসেনের। ৩৭ রানে ২ উইকেট কেশব মহারাজের।

    লজ্জার রেকর্ড

    দেশের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটি ভারতের (India Vs South Africa) সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রানে অল আউট হয়েছিল ভারত। সেই রেকর্ড এ দিন ভেঙে গেল। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বার্বাডোজে ১২০ রান তাড়া করতে পারেনি ভারত। দেশের মাটিতে এটিই ভারতের সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। গত বছর স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলতে গিয়ে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ় হেরেছিল গম্ভীরের ভারত। এ বার হার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। একই ভাবে। দু’টেস্টের সিরিজ় জেতার আর সুযোগ নেই ভারতের সামনে। গুয়াহাটিতে জিতে খুব বেশি হলে ড্র করতে পারেন শুভমনেরা।

  • India vs South Africa:  সব ছাপিয়ে প্রশ্নের মুখে ইডেনের ২২ গজ, রবিতেই শেষ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ?

    India vs South Africa: সব ছাপিয়ে প্রশ্নের মুখে ইডেনের ২২ গজ, রবিতেই শেষ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডেন টেস্ট শুরু হওয়ার আগে থেকেই পিচ নিয়ে প্রচুর জল্পনা হয়েছে। খেলা শুরু হতেই পিচ নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে উঠল। ম্যাচের যা পরিস্থিতি, তাতে রবিবার তৃতীয় দিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। ইডেন গার্ডেন্সের ২২ গজে ব্যাটারদের ‘অসহায়তা’ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পিচের মান নিয়ে। অনিল কুম্বলে, চেতেশ্বর পুজারাদের মতো বিশেষজ্ঞেরা বিরক্ত। ম্যাচের প্রথম দিনের খেলার পরই পিচের সমালোচনা করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ। দু’দিনে পড়ল ২৬ উইকেট, সর্বোচ্চ রান ৩৯।

    ইডেনের পিচ নিয়ে বিরক্ত প্রাক্তনরা

    ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি এমন উইকেট তৈরি করেছেন, যেখানে খেলা পাঁচ দিনই গড়াবে। কিন্তু ম্যাচ বলছে অন্য কথা। সুজন দাবি করেছিলেন, স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করেছেন। ব্যাটার-বোলার সকলেই কিছু না কিছু সাহায্য পাবেন। দর্শকেরা উপভোগ্য টেস্ট ক্রিকেট দেখতে পাবেন চার-পাঁচ দিন ধরে। যদিও খেলার গতিপ্রকৃতি তা বলছে না। অসমান বাউন্স থাকা পিচকে বিপজ্জনক বললেন পুজারা। শনিবার চা বিরতির সময় পিচ নিয়ে আলোচনার সময় কিছুটা বিরক্ত মনে হল ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারকে। তিনি বলেছেন, ‘‘এই পিচ ব্যাটারদের সাহায্য করছে না। আউটগুলো দেখলেই ব্যাটারদের অসহায়তা বোঝা যাবে। তাদের বিশেষ কিছু করার থাকছে না। বল কোন উচ্চতায় আসবে বোঝা যাচ্ছে না। কোনও বল লাফিয়ে উঠছে। আবার কোনওটা নেমে যাচ্ছে। পিচে বেশ কিছু ছোট ফাটল তৈরি হয়েছে। বল পড়ে প্রত্যাশার থেকে বেশি ঘুরছে।’’

    পিচ নিয়ে বিরক্তি দু’শিবিরেই

    পিচ নিয়ে বিরক্তি রয়েছে দু’শিবিরেই। প্রথম দিন চা বিরতির পর থেকেই ধুলো উড়তে শুরু করেছিল ইডেনের পিচে। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই ফাটল দেখা গিয়েছে। অসমান বাউন্সের সমস্যা তো রয়েছেই। খুশি নন কুম্বলেও। শনিবার বুমরার হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা একটা বলে জোর বেঁচে যান দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার রায়ান রিকেলটন। বড় আঘাত পেতে পারতেন তিনি। তা দেখে কুম্বলে বলেন, ‘‘পিচ কেমন আচরণ করবে বোঝাই যাচ্ছে না। এমন পিচ প্রত্যাশিত নয়। ভারতকে এখানে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে হবে। আমার তো মনে হচ্ছে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করাই কঠিন হবে বেশ। জয়ের লক্ষ্য ১৪০-১৫০ রানের বেশি হলে ভারতীয় দলকেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’’

    ইডেনের পিচে সমস্যায় ব্যাটাররা

    ঘরের মাঠে ভারতীয় দল কোনও সুবিধা পাচ্ছে না। ইডেন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে গেল ভারতীয় দল। গতকাল টেস্টের প্রথম দিনে বল হাতে জাদু দেখিয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরা। আর শনিবার বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন সাইমন হার্মার। তিনি মাত্র ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারছেন না প্রোটিয়া ব্যাটারেরাও। জাডেজা, কুলদীপ, অক্ষরেরা বল ঘোরাচ্ছেন। বাউন্সও পাচ্ছেন! বল পিচে পড়ার পর কেমন আচরণ করবে বোঝা যাচ্ছে না। বাভুমা ছাড়া কেউ লড়াই করতে পারলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক দিনের শেষে অপরাজিত রয়েছেন ২৯ রানে। ৭৮ বলের ইনিংসে প্রমাণ করে দিলেন তাঁর রক্ষণ কতটা মজবুত।

    দায় এড়াতে পারবেন না সৌরভও

    দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে ৬৩ রানে। তাদের হাতে রয়েছে ৩ উইকেট। বাভুমারা সুবিধাজনক জায়গায় নেই ঠিকই। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে এই রানটা তোলাও কঠিন হতে পারে। শুভমন ব্যাট করতে না পারলে আরও কঠিন। স্বাভাবিক ভাবেই পিচের মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে সিএবিকে। নিশ্চিত ভাবে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (ICC)। সিএবি-র সভাপতি হিসেবে দায় এড়াতে পারবেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। এখন একমাত্র ভারতের জয়ই ইডেনের মান বাঁচাতে পারে।

LinkedIn
Share