Author: ishika-banerjee

  • Maithili Thakur: মৈথিলী ম্যাজিকে মাত! সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক, তাঁর হাত ধরেই আলিনগরে প্রথমবার জয়ী বিজেপি

    Maithili Thakur: মৈথিলী ম্যাজিকে মাত! সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক, তাঁর হাত ধরেই আলিনগরে প্রথমবার জয়ী বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৈথিলী ম্যাজিকে বুঁদ হয়ে রয়েছে আলিনগর। প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়েই জিতলেন বিহারের সঙ্গীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur)। তাঁর হাত ধরে আলিনগর কেন্দ্রে প্রথমবার জয়ী হল বিজেপি। ১১ হাজারেও বেশি ভোটে আরজেডি প্রার্থীকে হারিয়েছেন তরুণী গায়িকা। মাত্র ছ’বছর বয়সেই গানের তালিম শুরু করেছিলেন মৈথিলী ঠাকুর। তারপর বিহারের ঐতিহ্যবাহী পল্লিগীতি, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে হারমোনিয়াম ও তবলা বাজানোতেও অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন মধুবনীর এই শিল্পী। এবার রাজনীতিতে ঢুকে প্রথম প্রতিযোগিতাতেই নজর কাড়লেন তিনি। শুধু বিহার নয়, বর্তমানে দেশের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়কও মৈথিলি ঠাকুর। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই জন্ম মৈথিলির। তিনি দেশের প্রথম জেন জি বিধায়ক।

    মৈথিলী ম্যাজিক আলিনগরে

    মুসলিম ভোটের দৌলতে ২০০৮ সাল থেকেই আলিনগর কেন্দ্রে মহাগঠবন্ধন জয় পেয়ে এসেছে। এবার সেই আসনে জয় পেল বিজেপি। আর সেটা উচ্চবর্গীয় ঠাকুর সম্প্রদায়ের মৈথিলীর হাত ধরেই। মৈথিলীকে নিয়ে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। দেশে-বিদেশে নানা অনুষ্ঠানের ডাক তো বটেই, একইসঙ্গে ফেসবুক-ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার লক্ষ ছাড়িয়েছে। এহেন এক জনপ্রিয় শিল্পীকে ভোটের লড়াইয়ে নামিয়ে বিজেপি যে কোনও ভুল করেনি সেটাই প্রমাণিত হল। লোকসঙ্গীতের পরিচিত মুখ মৈথিলী ঠাকুর যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন অনেকেই তাঁকে ‘নতুন মুখ’ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ফলিত ভোটের ধারা বলছে অন্য গল্প। তিনি ২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন এবং আরজেডি–র প্রবীণ নেতা বিনোদ মিশ্রকে ১২ হাজারেও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। তিনিই বিহারের সবচেয়ে কম বয়সি বিধায়ক।

    মৈথিলীর বড় হওয়া

    ২৫ জুলাই ২০০০ সালে বিহারের মধুবনীতে জন্ম মৈথিলীর, সঙ্গীত-সমৃদ্ধ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা। বাবা ও দাদুর কাছে শেখা শাস্ত্রীয় ও লোকসঙ্গীত। মাত্র ১১ বছর বয়সে সা রে গা মা পা জুনিয়র প্রতিযোগিতা ও ১৫ বছর বয়সে ইন্ডিয়ান আইডলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম নজর কাড়েন মৈথিলী। এবার রাজনীতির ময়দানেও তিনি নজর কাড়লেন। ছেলেবেলায় তাঁকে নিয়ে সঙ্গীতের ভালো তালিমের জন্য পরিবার দিল্লির দ্বারকায় চলে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের টিভি রিয়্যালিটি শো ‘রাইজিং স্টার’-এ রানার-আপ হয়ে মৈথিলী পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে এবং তাঁর ভাইকে মধুবনীর অ্যাম্বাসাডরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তিনি আগেই অটল মিথিলা সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২১ সালে তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে তাঁকে লোকমাত সুর জ্যোৎস্না জাতীয় সংগীত পুরস্কার দেওয়া হয়। বিধায়ক হয়ে এবার তাঁর লক্ষ্য মধুবনী শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    গানে গানে উদযাপন

    বিহারে (Bihar Election Result) সুনামি এসেছে। গেরুয়া সুনামি। আরও শক্তি বাড়িয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি-জেডিইউ জোট। আর সেই পালে ভর দিয়েই প্রথমবার জিতলেন মৈথিলী। সঙ্গীত জীবনে একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করার পর মৈথিলী ঠাকুর এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রতিশ্রুতিময় পথচলার দিকে এগোচ্ছেন। ভোটের ময়দানে তিনি নবজাতক। জয়ের পর মৈথিলী বলেন,  ‘এটা স্বপ্নের মতো। আমার কাছ থেকে মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে। বিধায়ক হিসাবে এটি আমার প্রথম মেয়াদ হবে এবং আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমি আমার এলাকাবাসীর ঘরের মেয়ে হয়ে তাঁদের সেবা করব। আমি এই মুহূর্তে শুধু আলিনগরকেই দেখতে পাচ্ছি এবং কীভাবে সেখানে কাজ করব সেই ভাবনাচিন্তা করছি’।  মৈথিলী নিজে গায়িকা। ভজন গান। তাই গানে গানে এখন তাঁর জয় সেলিব্রেট করছে বিহার।

  • Jammu Kashmir: লালকেল্লার বিস্ফোরক পরীক্ষা করতে গিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের থানায় বিস্ফোরণ! নিহত ৯

    Jammu Kashmir: লালকেল্লার বিস্ফোরক পরীক্ষা করতে গিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের থানায় বিস্ফোরণ! নিহত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত উপত্যকা (Jammu Kashmir)! দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের কয়েক দিন কয়েক যেতে না যেতেই এবার কাশ্মীরে বিস্ফোরণ! শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরের নওগাঁও থানা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ আহত অন্তত ৩২ জন। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন ৷ তাঁদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রের খবর, দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি বিশেষ দল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে।

    কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফরিদাবাদ থেকে যে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল দিন কয়েক আগে, সেই ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক এনে রাখা হয়েছিল নওগাঁও পুলিশ স্টেশনে, যেহেতু এই থানাতেই প্রথম এফআইআর দায়ের হয়েছিল। শুক্রবার রাতে যখন পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম এই বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন, সেই সময়ে হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে আশেপাশের বিল্ডিংগুলিও কেঁপে উঠল। থানা থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের জেরে থানাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০০ ফুট দূরে ছিটকে যায় দেহাংশ। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই আরও পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে আসে। আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁও থানার ঘটনায় আহতদের ভারতীয় সেনার ৯২ বেস হাসপাতাল এবং শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ভর্তি করানো হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ৯ জন। শ্রীনগরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দেহগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে

    পুলিশ দুটি বিষয় অনুমান করছে। এক, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যখন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সিল করা হচ্ছিল, সেখান থেকে কোনও কারণে বিস্ফোরণ হয়। দুই, এটাও সন্ত্রাসবাদী হামলা। বাজেয়াপ্ত করা একটি গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরক লাগানো ছিল। ইতিমধ্যেই জইশ-ই-মহম্মদের ছায়া সংগঠন প্যাফ (PAFF) এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। বিস্ফোরণের পরই গোটা চত্বর সিল করে দেওয়া হয়েছে। আনা হয়েছে স্নিফার ডগ। থানার অন্দরভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে বিস্ফোরক সামগ্রী, ভেঙে পড়ে দেওয়ালের অংশ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রসঙ্গত, এই ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল ফরিদাবাদের ডঃ মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে। মুজাম্মিল আল ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিল। তার সঙ্গে ডঃ শাহিন শাহিদ ও ডঃ উমর নবির যোগাযোগ ছিল। এরাও আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজেই কর্মরত ছিল। সকলেই জইশের হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের সদস্য বলে অনুমান।

    নওগাঁও থানাই প্রথম খুঁজে বার করে ফরিদাবাদ ‘টেরর মডিউল’

    দিল্লির বিস্ফোরণের (Delhi Blast) সঙ্গে যে জঙ্গি-যোগ পাওয়া গিয়েছে, নওগাঁও থানার পুলিশই তা প্রথম খুঁজে বার করে। শ্রীনগরের রাস্তায় এক চিকিৎসককে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটতে দেখা গিয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘেঁটে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর লকার থেকে উদ্ধার হয় একটি অ্যাসল্ট রাইফেলও। সেই চিকিৎসক আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফরিদাবাদে মজুত বিস্ফোরকের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। জানা যায়, উচ্চশিক্ষিত, পেশাদার তরুণ, ডাক্তার সহ একাধিক টেরর ডাক্তারদের কথা। তাঁদের পাকিস্তান সহ বিভিন্ন বিদেশি জঙ্গি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে দাবি পুলিশের।

    হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক

    সোমবার ফরিদাবাদের অভিযানে জইশ এবং আনসার গজওয়াতুল হিন্দের বড় চক্র গুঁড়িয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ধরা পড়ে পুলওয়ামার চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল ওরফে মুসাইব-সহ কয়েক জন। তদন্তকারীদের মতে, এরা সকলেই উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ‘হোয়াইট কলার জঙ্গি নেটওয়ার্ক’-এর সদস্য—যারা আর্থিক সংগ্রহ, রিক্রুটমেন্ট এবং সন্ত্রাস-পরিকল্পনার মুখ্য দায়িত্বে ছিল। সূত্রের খবর, ফরিদাবাদ মডিউলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—চিকিৎসক মুজফ্‌ফর রাথর—এখনও অধরা। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। অন্যদিকে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে শুক্রবার ভোররাত থেকেই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত ২১টি ডিজিটাল ডিভাইস—মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ—ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সিআইকে-র বিভিন্ন দফতরে।

  • Narendra Modi: “গঙ্গা বিহার হয়েই বাংলায় যায়”, বিহার জয়ের পর বঙ্গবাসীকে আশ্বাস মোদির

    Narendra Modi: “গঙ্গা বিহার হয়েই বাংলায় যায়”, বিহার জয়ের পর বঙ্গবাসীকে আশ্বাস মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গা বিহার হয়েই বাংলায় যায়। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে একছত্র আধিপত্যের পর এবার পশ্চিম বাংলা জয়ের পালা। শুক্রবার বিহারের জয় নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণেও উঠে এল পশ্চিমবাংলার কথা। বললেন, “আমি বলতে চাই, গঙ্গা কিন্তু বিহার থেকেই বাংলায় যায়। বিহার বাংলা জয়ের রাস্তা বানিয়ে দিয়েছে।” এখানেই না থেমে মোদি বলেন, “বাংলার মানুষকে আশ্বাস দিচ্ছি, আপনাদের সঙ্গে নিয়েই রাজ্য থেকে জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলব।” বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই এবার শুরু হয়ে গেল বাংলার ভোটের কাউন্টডাউন।

    বিহার জয়ে বার্তা মোদির

    বিহারে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। রাত পর্যন্ত প্রায় ৯০টি আসনে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি, জেডিইউ ৮৪-র বেশি আসনে এগিয়ে। এনডিএ-র সরকার গঠন নিশ্চিত হওয়ার পরই বাংলায় নজর দেওয়ার ইঙ্গিত মোদির। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপির হেডকোয়ার্টারে উপস্থিত হয়ে বিহারের মানুষকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিহারে আর কখনও জঙ্গলরাজ ফিরবে না। এই জয় বিহারের সেই মা-বোনদের জয়, যারা দিনের পর দিন জঙ্গলরাজ সহ্য করেছে। বিহার দেখাল মিথ্যার হার হয়, মানুষের বিশ্বাসের জয় হয়।” বক্তব্যের শেষে বিজেপির কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি বলেন, “কর্মীরাই দলের এই সাফল্যের কারণ।”

    বাংলা জয়ের হুঙ্কার

    আগামী বছরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটকে সামনে রেখে এবার হুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিহারের এই ফলাফলে কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরী, অসম, পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ দেবে বলে জানান মোদি। এরপর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বার্তা দিয়ে মোদি বলেন, “বাংলার ভাই-বোনদের আশ্বস্ত করছি। আপনাদের সঙ্গে মিলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ থেকেও জঙ্গলরাজ সরিয়ে দেবে।” বিহার জয়ের পর এ বার তাঁর এবং তাঁর দলের লক্ষ্য যে বাংলা, তা বুঝিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদি। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বাংলা জয়ের পথ প্রশস্ত করে দিল বিহার। এ-ও বললেন, ‘‘বিহার হয়েই গঙ্গা যায় বাংলায়!’’

    মোদির নিশানায় কংগ্রেস

    বিহারে বিরাট জয় পেয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরছে নীতীশ কুমার এবং বিজেপির জোট। নির্বাচনে ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০০-র বেশি আসনে জিততে চলেছে তারা। ধরাশায়ী হয়েছে লালু যাদব-তেজস্বী যাদবের দল আরজেডি এবং কংগ্রেসের জোট। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিজয়োৎসবের কর্মসূচিতে ভাষণ দেন মোদি। বিহারে জয়ের পর মোদির নিশানায় যতটা না আরজেডি ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল কংগ্রেস। মোদির মন্তব্য, ‘‘জঙ্গলরাজ নিয়ে কিছু বললে আরজেডি-র চেয়ে কংগ্রেসের বেশি গায়ে লাগত।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এক সময়ে বিহারে ভোটকেন্দ্রে প্রকাশ্যে হিংসা হত। আগে বহু জায়গায় পুনর্নির্বাচন হত। আগে বিহারে মাওবাদীরাজও ছিল। নকশাল এলাকায় ৩টের পর আর ভোট করা যেত না। কিন্তু জঙ্গলরাজ সরতেই বিহার স্বাভাবিক হয়েছে। এবার বিহারের ভোটে কোনও হিংসা হয়নি।’’

    কংগ্রেস আর কখনও ফিরবে না

    কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, “উত্তর প্রদেশে চার দশক, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ দশকেও কংগ্রেস ফেরেনি। গত তিন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তিন অঙ্কেও পৌঁছতে পারেনি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর ৬ রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়েছে। একটাতেও ১০০ পার করতে পারেনি কংগ্রেস। বিহারে বিজেপির যত প্রার্থী জিতেছে, গত ৬টা ভোটেও কংগ্রেসের অত প্রার্থী জেতেনি। কংগ্রেসের রাজনীতির আধার হল নেগেটিভ পলিটিক্স। কখনও বলছে চৌকিদার চোর। কখনও সংসদের সময় নষ্ট করছে। সব প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করছে। মানুষকে জাতির নিরিখে ভাগ করা। কংগ্রেসের কাছে দেশের জন্য কোনও ইতিবাচক ভিশন নেই। কংগ্রেস একটা বোঝা হয়ে গিয়েছে।”

    কংগ্রেস থেকে সাবধান

    মোদি আরও বলেন, “আজ কংগ্রেস মুসলিম লিগ মাওবাদী কংগ্রেস তৈরি হয়েছে। এটা এমএমসি। এই কংগ্রেসের অ্যাজেন্ডা এর উপরেই চলে। আজ কংগ্রেসের অন্দরেও আলাদা ভাগ তৈরি হচ্ছে, যারা নেতিবাচক রাজনীতিতে বিরক্ত। আমার আশঙ্কা, আগামিদিনে কংগ্রেসের একটা বড় বিভাজন তৈরি হবে। আর কংগ্রেসের যারা সহযোগী দল, তারাও বুঝতে পারছে কংগ্রেস নিজেদের নেতিবাচক রাজনীতিতে সবাইকে একসঙ্গে ডোবাচ্ছে।” আরজেডি প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “কংগ্রেস পরজীবী দল। এরা সহযোগীদের ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে জিততে চায়। কংগ্রেসের থেকে সাবধান থাকুন। আজ বিহারে আরজেডির শিক্ষা হয়েছে। বিহারের ভোটের সময় বলেছিলাম, আরজেডি আর কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব শীঘ্রই সামনে আসবে।”

    বাংলায় বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    বিহার নির্বাচনের ফল (Bihar Assembly Election Result 2025) ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানও উত্তপ্ত। গেরুয়া শিবিরে উৎসবের আবহ-মোদির কুশপুতুল, ব্যানার নিয়ে কর্মীদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, “একসময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ এক ছিল। অঙ্গ (বিহার) জয় হল, কলিঙ্গ (ওড়িশা) জয় হয়েছে। এবার বঙ্গ দখল হবেই।” তারপরে মোদির বক্তব্যে বাংলার কথা উঠে আসায় পদ্ম শিবিরের কর্মীরা বাড়তি উৎসাহ পেয়েছে।

  • India vs South Africa: টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য দেখাল ভর্তি ইডেন, প্রথম দিনের শেষে চালকের আসনে ভারত

    India vs South Africa: টেস্ট ক্রিকেটের মাহাত্ম্য দেখাল ভর্তি ইডেন, প্রথম দিনের শেষে চালকের আসনে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটের উন্মাদনা যে এরকম হতে পারে, তা ইডেন না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। একেবারে হাউসফুল গ্যালারি বলা চলে। মধ্যাহ্নভোজের পর তো গ্যালারির কোথাও সেভাবে ফাঁকা দেখাই গেল না। টেস্ট ক্রিকেটেও ইডেনের গ্যালারি যেন টি-টোয়েন্টির মেজাজ দেখাল। বুমরা, সিরাজ, কুলদীপদের জন্য দর্শকদের চিৎকার আর চেনা মেক্সিকান ওয়েভ। ইডেন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের প্রথম দিন গ্যালারিতে উপস্থিত ৩৫০২২ দর্শক। প্রথম দিনের শেষে ২০ ওভারে ভারতের স্কোর ৩৭/১। কে এল রাহুল ১৩ রানে ও ওয়াশিংটন সুন্দর ৬ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় দিন শনিবারও গ্যালারি ভরবে বলার অপেক্ষা রাখে না। একে ছুটির দিন, তার উপর ব্যাট করবেন গিল-রাহুলরা।

    বুমরার বাউন্সে কাহিল

    ইডেনে তেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টস হারেন ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন প্রোটিয়া ক্যাপ্টেন বাভুমা। শুরুটা খারাপ করেননি দুই ওপেনার এডেন মার্করাম এবং রায়ান রিকেলটন। দিনের শুরুতে তাঁদের আগ্রাসী মেজাজে দেখে মনে হচ্ছিল টস জিতে প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একদম ঠিক করেছেন বাভুমা। কিন্তু বুমরা-কুলদীপদের দাপট শুভমন গিলের টস-হতাশা উধাও করে দিল প্রথম দু’ঘণ্টাতেই। বুমরার লাইন-লেংথে বার বার ঠকে গেলেন প্রোটিয়া ব্যাটারেরা। নিখুঁত জায়গায় বল রেখে গেলেন। খেলার অযোগ্য ইয়র্কার দিলেন। ২৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে নিলেন অনায়াসে। তাঁকে সঙ্গ দিলেন কুলদীপ যাদব। কয়েক দিন পরই তাঁর বিয়ে। ভাল ফর্মে রয়েছেন। ২ উইকেট নিলেন ৩৬ রান খরচ করে। প্রথম দিনের ২২ গজ থেকে যে স্পিনারেরা দারুণ সাহায্য পেয়েছেন, তা নয়। তবু কুলদীপের বল পড়তে পারলেন না টেম্বা বাভুমা, উইয়ান মুলডারেরা। দুটি উইকেট নিলেন সিরজাও আর একটি নিলেন অক্ষর প্যাটেল। দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও ব্যাটারই দলকে ভরসা দিতে পারলেন না। টেস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রথম ইনিংস শেষ হল ১৫৯ রানে। ৫৫ ওভার ব্যাট করলেন তাঁরা।

    সাবধানী ভারত

    ভারতের ব্যাটারেরা ২২ গজে বেশ সাবধানী। দক্ষিণ আফ্রিকার হাল দেখে লোকেশ রাহুলেরা ঝুঁকি নিয়ে হাল (পড়ুন ব্যাট) চালাতে চাইছেন না। যশস্বী জয়সওয়াল (১২) রান পেলেন না। মার্কো জানসেনের বলের লাইন বুঝতে পারলেন না। রাহুল দুর্গ আগলাচ্ছেন ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে। দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল এক উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান করেছে। কেএল রাহুল ১৩ এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ৬ রানে ব্যাট করছেন। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দল ১২২ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টের ২২ গজ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলেছে। গৌতম গম্ভীরের পছন্দ হয়নি ২২ গজ। সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নিজের আপত্তি জানান ভারতীয় দলের কোচ। সুজন অবশ্য পিচের চরিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা করেননি। তবু যতটা পেরেছেন শেষ তিন-চার দিনে ২২ গজকে গম্ভীরের পছন্দ মতো করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাতে সমস্যা কিনা, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ইডেনের ২২ গজে আপাতত সাবধানী ভারতও।

    কড়া নিরাপত্তা ইডেনে

    দীর্ঘ ৬ বছর পর কলকাতায় টেস্ট (Test Cricket)। তাও আবার টেস্ট বিশ্বজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে খেলছে শুভমন গিলের ভারত (India)। ইডেন জুড়ে এবারে নিরাপত্তা বেশ জোরদার করা হয়। রাজধানীতে বিস্ফোরণের জেরে আরও টাইট সিকিউরিটি শহরের একাধিক জায়গায়। টেস্টের প্রথম আধঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও দেখা গেল একাধিক গেটের বাইরে লম্বা লাইন। কড়া চেকিংয়ের পরই গ্যালারিতে ঢুকতে পারছেন দর্শকরা। গ্যালারিতেও দেখা গেল পুলিশের কড়া নজরদারি।

     

     

     

  • Bihar Election Results: রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ স্লোগানে সাড়া নেই, ২০২০-র তুলনায় আরও নিচে নামল কংগ্রেস

    Bihar Election Results: রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’ স্লোগানে সাড়া নেই, ২০২০-র তুলনায় আরও নিচে নামল কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি বিরোধিতায় ব্যর্থ কংগ্রেস, আরও একবার প্রমাণিত গেরুয়া ঝড়ে মুখ থুবড়ে পড়ল ‘হাত’। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Election Results) আবারও কোনও ছাপ ফেলতে ব্যর্থ হল কংগ্রেস। প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ট্রেন্ডে দেখা যাচ্ছে, তারা লড়াই করা ৬০টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫টিতে এগিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ রূপান্তর হার ১০ শতাংশেরও নিচে—২০২০ সালের তুলনায় আরও বড় ধাক্কা। ২০২০ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৭০টি আসনে লড়াই করে ১৯টি আসনে জয় পেয়েছিল।

    ‘ভোট চুরি’ স্লোগানে কাজ হল না

    লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর আক্রমণাত্মক প্রচার—যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তথাকথিত “ভোট চুরি”—এবারও ভোটে পরিণত হয়নি। একাধিক জনসভা, ভোটার অধিকার যাত্রা, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কেন্দ্র ও ইসি-কে নিশানা করেও তিনি ভোটারদের মন জিততে পারেননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় ইস্যুর তুলনায় বিহারের ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সমস্যা, জাতপাত সমীকরণ ও শাসনকার্যের মূল্যায়নকে। বিহারে ভোটের মুখে রাহুল গান্ধী তথা কংগ্রেস প্রচারের মূল ইস্যু হিসাবে তুলে এনেছিলেন এসআইআর-কে, ভোটচুরিকে। যা কোনওভাবেই বিহারের স্থানীয় ইস্যু নয়। তাছাড়া এসআইআর শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেশি বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যাওয়ায়, সেই ইস্যুও ধোপে টেকেনি। মাঝখান থেকে মূল যে ইস্যু সেই বেকারত্ব, দলিত নির্যাতন, দুর্নীতি, সেসব পিছনে পড়ে গিয়েছে। তাছাড়া শেষবেলায় এসে তেজস্বী যে সব পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন, সেটাও বিশেষ বিশ্বাসযোগ্য হয়নি আমজনতার।

    প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে কংগ্রেস

    একসময় জাতীয় ও প্রাদেশিক রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান থাকা কংগ্রেস এখন বিহারে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একাধিক আসনে দল তৃতীয় বা চতুর্থ অবস্থানে নেমে যাচ্ছে। রাজ্যে তাদের শেষ উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা গিয়েছিল ১৯৯০ সালে জগন্নাথ মিশ্রের নেতৃত্বে। তারপর থেকে বিহারে সংগঠন পুনর্গঠনে কংগ্রেস বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কংগ্রেসের খারাপ পারফরম্যান্স মহাগঠবন্ধনের প্রধান দল আরজেডি-র উপরও প্রভাব ফেলেছে। যদিও আরজেডি এখনও ৩০টির মতো আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং তাদের মূল ভোটব্যাঙ্ক বেশি। অপরদিকে, এনডিএ এগিয়ে চলেছে মসৃণ জয়ের দিকে। প্রাথমিক গণনায় এনডিএর আসন প্রায় ১৯০ ছুঁয়েছে—যা ২০১০ সালের ২০৬ আসনের রেকর্ডের কাছাকাছি। এনডিএর এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে জোটের নেতৃত্ব, সংগঠন ক্ষমতা এবং ভোটার আস্থার প্রভাব।

    জঙ্গল-রাজের আতঙ্ক

    ‘যব তক রহেগা সমোসে মে আলু, বিহার মে রহেগা লালু।’ অরণ্যের প্রাচীন এই প্রবাদ হয়তো এবার ‘জঙ্গলে’ ফেলার সময় এসে গিয়েছে। কারণ বিহারবাসী এখনও লালুর জঙ্গলরাজের আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। অন্তত ২০২৫ সালের বিহার ভোটের ফলাফলের (Bihar Election Result) ট্রেন্ড সে কথাই বলছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনও পর্যন্ত বিহারের ফলাফল বলছে, নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ দু’শোর কাছাকাছি আসন পেতে পারে। আর তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন ৫০ আসন পাওয়া নিয়েও সংশয়ে।

    কংগ্রেসের দুর্বলতায় চাপ বাড়ল মহাগঠবন্ধনের ওপর

    মহাগঠনন্ধনের শুরুটা ভালো হয়েছিল। রাহুল গান্ধীর ভোটার অধিকার যাত্রায় একসঙ্গে প্রচার শুরু করেছিলেন রাহুল-তেজস্বীরা। কিন্তু যাত্রা শেষ হতেই ছন্দপতন। আসন সমঝোতা নিয়ে রীতিমতো খেয়োখেয়ি করল বিরোধী শিবির। এমন পরিস্থিতি দাঁড়াল যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন পেরিয়ে গেলেও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হল না। তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসাবে ঘোষণা করা হল একেবারে শেষবেলায়। যে চক্করে মাসখানেক প্রচারে সেভাবে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা, এমনকী আরজেডির শীর্ষ নেতাদেরও প্রচারে দেখা গেল না। ততদিনে ঘর গুছিয়ে ফেলেছে এনডিএ। যার সুফল মিলল ভোটের ফলে।

    কংগ্রেসের সামনে কঠিন পথ

    আরও একবার হতাশাজনক ফলাফলের পর বিহারে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ঘনিয়েছে। প্রচারকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থতা, গ্রাসরুটে পৌঁছতে না পারা এবং দুর্বল স্থানীয় নেতৃত্ব—এই সব মিলিয়ে দল ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। এনডিএ শক্তিশালী হচ্ছে, আঞ্চলিক দলগুলো নিজেদের ভিত্তি ধরে রাখছে—এ অবস্থায় বিহারে পুনর্জাগরণের জন্য কংগ্রেসকে জরুরি ভিত্তিতে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে নামতে হবে।

  • Delhi Blast: ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত পরিচয়, দিল্লি-হামলাকারী উমরের পুলওয়ামার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল নিরাপত্তা বাহিনী

    Delhi Blast: ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত পরিচয়, দিল্লি-হামলাকারী উমরের পুলওয়ামার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort blast) মামলায় বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী (security forces)। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়া হল সন্দেহভাজন চিকিৎসক উমর উন নবির (Umar Nabi) পুলওয়ামার বাড়ি (Pulwama house demolition)। বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে যে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়িটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গত সোমবার লাল কেল্লা বিস্ফোরণে জড়িত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটির সঙ্গে কাশ্মীরের একজন চিকিৎসক উমর-উন-নবির সম্পর্ক রয়েছে। সেই গাড়ি চালাচ্ছিল। উমরই ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে নিশ্চিত পরিচয়

    উমর নবি, যাঁকে এই সপ্তাহের শুরুতেই লালকেল্লায় ঘটা বিস্ফোরণের (Delhi Blast) মূল সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে, তাঁর বাড়ি ঘিরে আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছিল। সোমবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি সরাসরি যুক্ত হয়েছে উমর-উন-নাবির সঙ্গে। বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হন ২০–এর বেশি মানুষ। কাশ্মীরের এই চিকিৎসকই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। বিস্ফোরণে তাঁর ভূমিকা ঠিক কতটা, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ টানা রাতভর তল্লাশি চালায়। গ্রেফতার হয় মোট ছয়জন, যাদের মধ্যে তিনজন উমরের পরিবারের সদস্য। বিস্ফোরণস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা তাঁর মায়ের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে উমরের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে আটক করা হয়েছিল উমরের মাকে। দিল্লিতে বিস্ফোরণের পরেই সোমবার রাতে উমরের মা এবং দুই ভাইকে আটক করা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের এক কর্তা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “সন্দেহভাজনের মাকে আমরা ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহের জন্য আটক করেছিলাম। বিস্ফোরণস্থল থেকে পাওয়া দেহাংশের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়।”

    কেন গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বাড়ি

    পুলিশ জানিয়েছে, উমর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন আরও দুই কাশ্মীরি চিকিৎসকের সঙ্গে, যাঁদের ফরিদাবাদ সন্ত্রাস মডিউল ফাঁস হওয়ার পরে আটক করা হয়েছিল। সেই মডিউল থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক, যা তদন্তকে আরও গভীর করেছে। স্থানীয় মানুষের মতে, একসময়ে উমর ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, পড়াশোনায় মনোযোগী চিকিৎসক, সমাজেও তাঁর পরিচিতি ছিল ইতিবাচক। তদন্তকারীরা বলছেন, গত দুই বছরে তাঁর আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের একাধিক র‌্যাডিকাল গ্রুপে যোগ দেন তিনি, এবং ক্রমশ কঠোর মতাদর্শের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। উমরের সম্ভাব্য সহযোগী, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস – সব দিকেই নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি। পুলওয়ামার (Pulwama) বাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মূলত সম্ভাব্য বিস্ফোরক বা নথি উদ্ধার-ঝুঁকি এড়ানোর জন্য, এবং তদন্তের নির্দিষ্ট প্রোটোকলের অংশ হিসেবে।

    কীভাবে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Blast) ঘটিয়েছিল উমরই। সেই ছিল সুইসাইড বম্বার বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী জৈশ-ই-মহম্মদের লজিস্টিক টিমের সদস্য ছিল উমর। ফরিদাবাদ, লখনউ এবং কাশ্মীরে কাজ করত তারা। এই চক্রের ৯-১০ জনের মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসক। সেই পরিচয়কে কাজে লাগিয়েই বিস্ফোরক এবং রাসায়নিক তৈরির উপকরণ জোগাড় করত উমর। কিন্তু ফরিদাবাদের একটি গুদাম থেকে ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরেই ভয় পেয়ে গা ঢাকা দেয় উমর। পুলিশ জানিয়েছে যে, দলটি ২৬ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ সংগ্রহ করেছিল। তদন্ত অনুসারে, গুরুগাঁও, নুহ্ এবং আশেপাশের এলাকার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার – যার মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা – কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্যান্য রাসায়নিকের সঙ্গে মিশ্রিত, এনপিকে হল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের একটি প্রধান উপাদান। প্রায় আটজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি জোড়ায় বিভক্ত হয়ে চারটি শহরে সমন্বিত বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

    প্রজাতন্ত্র দিবসে হামলার রেকি

    লালকেল্লার কাছে একটি সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ হয় সোমবার। তাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। ওই দিনই সকালে ফরিদাবাদে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দল। গ্রেফতার করা হয়েছিল মুজাম্মিল আহমেদ-সহ একাধিক ব্যক্তিকে। মুজাম্মিলের ফোন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে একাধিক বার তিনি লালকেল্লার সামনে গিয়েছিলেন। অনুমান, প্রজাতন্ত্র দিবসে হামলার রেকি করা হয়েছিল। শুধু মুজ়াম্মিল নন। আর এক চিকিৎসক উমর নবিও তাঁর সঙ্গে লালকেল্লার সামনে গিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

     

  • Bihar Polls: বিহারে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি! মগধভূমে ফের সিংহাসনে বসতে চলেছেন নীতীশ

    Bihar Polls: বিহারে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপি! মগধভূমে ফের সিংহাসনে বসতে চলেছেন নীতীশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণনা শুরু হতেই বিহারে (Bihar Polls) উঠল গেরুয়া ঝড়। প্রথম রাউন্ডেই আপাতত ১৩০ আসনে এগিয়ে এনডিএ, মহাগঠবন্ধন জোট এগিয়ে ৬৫ আসনে। একক দল হিসেবেও সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিজেপি সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিহারের ৪৬টি গণনাকেন্দ্রে চলছে ভোটগণনা। ২৪৩ আসনে লড়াই করা মোট ২,৬১৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজই। দুই দফায় ভোট গ্রহণ হয়েছে এবার বিহারে। সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ২৪৩ আসনের বিহার বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হল ১২২। বিহারের ভোট গণনার শুরুতেই এগিয়ে যাচ্ছে এনডিএ।

    কে কত আসনে এগিয়ে

    আজ, ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার, ভোট গণনা এবং দুপুরের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে উঠবে কার দখলে পাটনার মসনদ। ইতিমধ্যে ভোট গণনা যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোট। আগের বার ১২৫ আসনের থেকেও এবার অনেক বেশি আসন পেয়ে বিহারের (Bihar Polls) মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন নীতীশ কুমার। এনডিএ-র মধ্যে বিজেপি ৬৫টি ও জেডিইউ ৬৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যের ৩৮টি জেলায় মোট ৪৬টি ভোট গণনা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২২ জন রিটার্নিং অফিসার ও অবসার্ভারের তরফ থেকে এই প্রথমবার বিহারের কোনও বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। আরজেডি থেকে বহিষ্কারের পর আলাদা দল করে নির্বাচনে লড়ছেন লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব। গণনার শুরুতে সামান্য পিছিয়ে পড়লেও, ফের এগিয়ে গিয়েছেন তেজ প্রতাপ। রঘুপুর থেকে লড়ছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। ভোট গণনার শুরুতে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন তেজস্বী। মহাগঠবন্ধনে আরজেডি ৫৭টি আসনে এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস মাত্র ৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

    কীভাবে চলছে গণনা

    বিহারের (Bihar Polls) ভোট গণনা সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা চলছে এবং ৯টা থেকে ইভিএম গণনা শুরু হয়েছে। ভোট গণনার সময়, প্রতিটি গণনা হলে ১৪+১ টেবিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৪টি টেবিলে ইভিএমের গণনা চলছে, আর একটি টেবিল সহকারী নির্বাচনী অফিসার পরিচালনা করছেন। প্রতিটি টেবিলে একজন কাউন্টিং সুপারভাইজার, একজন কাউন্টিং সহকারী এবং একজন মাইক্রো ওভসারভার রয়েছেন। ভোট গণনার ফলাফলের অফিসিয়াল তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে বিহারে প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন ৬৫.০৮ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ভোট দিয়েছেন ৬৮.৭৬ শতাংশ। দু’দফা মিলিয়ে বিহারে মোট ভোটদানের হার ৬৬.৯১ শতাংশ। যা গতবারের তুলনায় ৯.৬২ শতাংশ বেশি। অতীতে কখনই এই হারে বিহারের মানুষ ভোট দেননি। এর আগে বিহারে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, ৬২.৫৭ শতাংশ। ১৯৯৮ সালের লোকসভা ভোটে বিহারে ভোট দিয়েছিলেন ৬৪.৬০ শতাংশ ভোটার। ঐতিহ্য বজায় রেখে এবারেও বিহারে পুরুষদের অনুপাতে মহিলারা বেশি সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। প্রায় ৭১.৬ শতাংশ।

  • India vs South Africa: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ভারত

    India vs South Africa: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। ইডেনে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। তবে, দিল্লি বিস্ফোরণের পর দেশে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা তাই নিরাপত্তায় কোনওরকম ফাঁক রাখতে চায় না কলকাতা পুলিশ। গোটা ইডেনকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। খেলা চলাকালীন দর্শকদের ভিড়ের মধ্যেই থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশ, আর বাইরে–ভিতরে ফেন্সিং জুড়ে মোতায়েন থাকবে বিশাল বাহিনী। ক্লাবহাউস ও ভিভিআইপি জোনেও থাকবেন সিনিয়র অফিসাররা। এছাড়াও স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সহ একাধিক বিশেষ ইউনিট মোতায়েন থাকবে।

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য

    ছ’বছর পর আবার ইডেন গার্ডেনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। বহুপ্রতীক্ষিত ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্ৰিকা (India vs South Africa) ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে উন্মাদনা। কিন্তু ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল জানিয়ে দিলেন, এই ম্যাচ শুধু আবেগ নয়। বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পথে এক বড় পরীক্ষা। আর তাই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনি যেমন সমীহ করছেন, তেমনই চ্যালেঞ্জ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও জানালেন। গিল বলেন, “বুধবার পিচ যেমন দেখেছিলাম, আজ এসে দেখছি একটু আলাদা। কাল সকালে আবার দেখলেই নিশ্চিতভাবে বোঝা যাবে। আপাতত দেখে মনে হচ্ছে পিচ শুকনো, যেখানে রিভার্স সুইং ভূমিকা নিতে পারে।”

    ইডেনের পিচ নিয়ে চিন্তা

    ইডেনের কিউরেটরের কাছে ভারতীয় দল নাকি আবদার করেছে প্রথম দিন থেকেই বল টার্ন করানোর। তবে গিল এও মনে করিয়ে দেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার হাতেও মহারাজ, মুত্থুস্বামী, হারমারের মতো স্পিনার আছে। তাই লড়াই যে সমানে সমান হবে, সেটা বলাই যায়।” রঞ্জিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও মহম্মদ শামির বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই গিল স্পষ্টভাবে বলেন, “শামি ভাইয়ের মতো বোলারকে বাদ দেওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু সিরাজ, বুমরাহ, আকাশ প্রত্যেকেই দারুণ ফর্মে আছে। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের। আমাদের পেসাররা জানে, ভারতের পিচে কীভাবে সফল হতে হয়।” সিরিজের গুরুত্বের প্রসঙ্গে গিল বলেন, “বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে গেলে এই সিরিজে ভালো খেলতেই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা খুবই শক্তিশালী দল। কঠিন মুহূর্ত আসবে, কিন্তু আমরা জানি কীভাবে সেটা সামলাতে হয়। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আমরা।”

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ইডেন

    দিল্লি বিস্ফোরণের পর শুধু মাঠের ভিতরে নয়, ইডেনের চারপাশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হচ্ছে বাঙ্কার, যেখানে থাকবেন কমব্যাট ফোর্সের সদস্যরা। স্টেডিয়াম ঘিরে বেশ কয়েকটি রাস্তায় শুক্রবার থেকে যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। এছাড়াও স্টেডিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সহ একাধিক বিশেষ ইউনিট মোতায়েন থাকবে। ম্যাচের ৫ দিন ইডেন গার্ডেন সহ ময়দান এলাকায় সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সমস্ত রকম পণ্যবাহী যানচলাচল (Kolkata) বন্ধ রাখা হবে।

    দুরন্ত ফর্মে ভারত

    শুভমান গিলের (Shubman Gill) নেতৃত্বে ভারতীয় নতুন টেস্ট দল বর্তমানে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের (India vs England Test Series) বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল ব্লু ব্রিগেডরা। এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের (India vs West Indies Test Series) বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রভাব ফেলেছে তারা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa Test Series) বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামতে চলেছে ঋষভ পন্থরা (Rishabh Pant)। এই বছর প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালে পৌঁছেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা ফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার (AUS vs SA) বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল। গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে শক্তিশালী অজি বাহীনিদের ৫ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি (ICC) ট্রফি জয় করে প্রোটিয়ারা। ফলে ভারতের বিপক্ষে তাদের আসন্ন টেস্ট সিরিজ জমজমাট হয়ে উঠতে চলেছে।

     

  • Pakistan Espionage in Russia: এস-৪০০-এর প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা! রাশিয়ায় ধরা পড়ল আইএসআই গুপ্তচর চক্র

    Pakistan Espionage in Russia: এস-৪০০-এর প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা! রাশিয়ায় ধরা পড়ল আইএসআই গুপ্তচর চক্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর একটি গুপ্তচর চক্র ভেঙে দিল রাশিয়া। এই নেটওয়ার্কটি রাশিয়া থেকে উন্নতমানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তি পাচারের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তানের এই ষড়যন্ত্র আঁচ করেই প্রত্যাঘাত করে। রাশিয়ায় আইএসআই-এর এ ধরনের অভিযান এটাই প্রথম। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই ইসলামাবাদের এক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করল রাশিয়া। মস্কোর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুরি করতে তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলরা কাজে লাগান বলে প্রাথমিক তদন্তে খবর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিতে সক্ষম হয় ক্রেমলিন।

    সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ নাগরিক গ্রেফতার

    পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাক গুপ্তচরবাহিনী ‘ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স’ বা আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে মস্কোর পুলিশ। অভিযুক্ত রুশ নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পূর্ব ইউরোপের দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিজের শহর হল সেন্ট পিটার্সবার্গ। সেখানে বসে ক্রেমলিনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ইসলামাবাদে পাচারের চেষ্টার চক্রান্তের খবর প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। একটি কাউন্টার-এস্পিওনাজ (গুপ্তচরবিরোধী) অভিযানে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর থেকে ওই রুশ নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বেশ কিছু সংবেদনশীল নথি মেলে। অনুমান, তিনি ওই নথি পাচারের চেষ্টা করছিলেন। নথিগুলিতে রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও ছিল বলে জানা গিয়েছে। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন আইএসআই-এর ওই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও তথ্য পাচারের রুট খতিয়ে দেখছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সঙ্গে সম্পর্ক

    এই গুপ্তচর নেটওয়ার্কটি ‘অপারেশন সিঁদুরের’ কয়েক মাস পরেই তৈরি হয়। সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে ব্যবহৃত উন্নত রুশ প্রযুক্তি, বিশেষ করে এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। ভারত নাকি রাশিয়া থেকে আরও পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। তার আগে ওই সিস্টেমের খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। তাই এই চক্রান্ত বলে অনুমান। এর প্রভাব রুশ-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

    এ ঘটনার মধ্যেই রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে রুশ দূতাবাস পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ‘ফ্রন্টিয়ার পোস্ট’-এর একটি নিবন্ধের তীব্র সমালোচনা করে, যেখানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে মস্কো। চলতি বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে রুশ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। তিনি মস্কো পৌঁছোনোর কয়েক দিন আগে আইএসআইয়ের চর গ্রেফতার হওয়ায় ইসলামাবাদের অস্বস্তি আরও বাড়ল। রাশিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানের কিছু প্রতিনিধি গোপন সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা নকশা সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। এই প্রযুক্তি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধা দেয়—এ কারণে রাশিয়া এই ধরনের তথ্য কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে রক্ষা করে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুরির বিষয়টি প্রেসিডেন্ট পুতিনের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের পদক্ষেপ, ক্ষুব্ধ রাশিয়া

    পাকিস্তান এখনও এই অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইসলামাবাদের তরফে সাধারণত এমন অভিযোগ অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যায়, এবং অনেক সময় “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত” বলে দাবি করা হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি প্রকাশ্যে না বলেও অভ্যন্তরীণভাবে এমন অভিযোগ তোলে, তাহলে তা দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন রাশিয়া চায় নিজের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক অবস্থানকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া যেভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা উন্নয়নে ব্যস্ত, সেই সময় পাকিস্তানের এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত “স্পর্শকাতর” বলে মনে করছে রুশ প্রশাসন।

    কেন রুশ প্রযুক্তি জানতে আগ্রহী ইসলামাবাদ

    সূত্রের খবর, অভিযুক্তের থেকে সামরিক হেলিকপ্টার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) প্রযুক্তি সংক্রান্ত একগুচ্ছ নথি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এগুলি রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দফতরে পাঠানোর কথা ছিল বলে জেরায় স্বীকার করেছেন ওই ব্যক্তি। তদন্তকারীদের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ‘এমআই-৮’ শ্রেণির দু’টি সামরিক পরিবহণ হেলিকপ্টার এবং ‘এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। মস্কোর ওই সামরিক কপ্টার ব্যবহার করে না এ দেশের ফৌজ। তবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ‘এস-৪০০’। গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং তাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে চলা চার দিনের সংঘাতে ‘পুরু বর্মে’ ভারতের আকাশকে ঢেকে দিয়েছিল ‘এস-৪০০’। শুধু তা-ই নয়, ইসলামাবাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক লড়াকু জেটকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে এই হাতিয়ার। এ দেশের গোয়েন্দাদের অনুমান, তার পরই সংশ্লিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটির প্রযুক্তি বুঝে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইএসআই। সেন্ট পিটার্সবার্গে ধৃত ব্যক্তি এ ব্যাপারে তাঁদের কতটা সাহায্য করেছেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

     

     

     

     

  • Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড শোপিয়ানের মৌলবি! পড়ুয়াদের সন্ত্রাসের পাঠ দিতেন ইরফান

    Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড শোপিয়ানের মৌলবি! পড়ুয়াদের সন্ত্রাসের পাঠ দিতেন ইরফান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফরিদাবাদ মডিউলের নেপথ্যে কাজ করছে কার মাথা? কার কথাতে প্ররোচিত হয়ে ডাক্তার, ডাক্তারি পড়ুয়া বা মেধাবী ছাত্ররা যুক্ত হত সন্ত্রাসের সঙ্গে? তার খোঁজেই ছিল তদন্তকারী সংস্থাগুলো। এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজরে আসে জম্মু-কাশ্মীরেরই এক বাসিন্দা। নাম ইরফান আহমেদ। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ইরফানই ডাক্তারি পড়ুয়াদের মগজধোলাই করত। পুলিশ সূত্রে খবর, হরিয়ানার ফরিদাবাদ মডিউল সংক্রান্ত ঘটনা ও দিল্লি বিস্ফোরণে ৯ জনের মৃত্যুর পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ যে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ইমাম ইরফান আহমেদ।

    মূল পরিকল্পনাকারী কে?

    দিল্লি বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদের বিস্ফোরক এবং অস্ত্র উদ্ধারের সঙ্গে যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বেশ কয়েকটি সূত্র ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যেই রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা ইরফান। পূর্ব শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন প্যারামেডিক্যাল কর্মী ছিল সে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই কারণে মেডিক্যাল পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই যোগাযোগ এবং সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই মগজধোলাইয়ের কাজ করত ইরফান! নানা ধরনের সন্ত্রাসমূলক কাজে প্ররোচিত করার চেষ্টা করত মেধাবী যুবকদের।

    কীভাবে চলত মগজধোলাই

    তদন্তকারীদের এক সূত্রের দাবি, নওগামের এক মসজিদে যে সব পড়ুয়ারা যেতেন, তাঁদের সঙ্গে প্রথমে আলাপচারিতার মাধ্যমে বন্ধুত্ব করত ইরফান। তার পর ধীরে ধীরে ওই সব পড়ুয়াদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নানা রকম পাঠ পড়াত। নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের বিভিন্ন ভিডিয়ো পড়ুয়াদের দেখাত। আর এ ভাবেই মগজধোলাই চলত বলে দাবি তদন্তকারীদের। সে তরুণ মেডিকেল ছাত্রদের ধীরে ধীরে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করত। মগজ ধোলাই করে তাদের চরমপন্থী কাজে টেনে আনত। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মৌলবী পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এগোচ্ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, ভিডিও কলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও যোগাযোগ করত সে। তার মূল উদ্দেশ্যে ছিল তরুণদের মৌলবাদে দীক্ষিত করা।

    পছন্দের ছাত্র কাশ্মীরের দুই চিকিৎসক

    তদন্তকারীরা মনে করছেন, ফরিদাবাদ মডিউলের অন্যতম দুই চক্রী— মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইরফানের। শুধু তা-ই নয়, দিল্লি বিস্ফোরণের মূল সন্দেহভাজন উমর নবির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ থাকার অনুমান করা হচ্ছে। এ-ও মনে করা হচ্ছে, ফরিদাবাদে বিস্ফোরক নিয়ে আসার নেপথ্যে থাকতে পারেন ইরফান। তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কোনও তদন্তকারী সংস্থাই। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, মেন্টর আহমেদের পছন্দের ছাত্র ছিল কাশ্মীরের দুই চিকিৎসক, ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ মহম্মদ উমর। তাদের একেবারে মগজ ধোলাই করে ফেলেছিল ইরফান। উভয় ডাক্তারই মৌলবীর দেখানো লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। তবে আসল মস্তিষ্ক ছিল ইরফানই। সূত্রের খবর, রবিবার তাঁর সহযোগী দুই চিকিৎসক – মুজাম্মিল শাকিল ও আদিল আহমেদ রাঠারকে গ্রেফতারের খবর জানার পরই ভয় পেয়ে উমর বিস্ফোরণ ঘটায়। তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল ইরফানের।

LinkedIn
Share