Author: ishika-banerjee

  • Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় সাধারণ ছেলেদের মতোই কলেজ যাওয়া-আসা করছিল ২১ বছরের আয়ান শেখ (Ayan Sheikh)। কেউ ভাবেনি যে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে জঙ্গি সংগঠনের ছায়া। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে।

    কীভাবে জঙ্গিদের জালে

    এটিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে মুম্বইয়ের কুর্লা, গোভান্ডি এবং শিবাজী নগর এলাকায় কয়েকজন যুবক অনলাইনে জইশ এবং ইসলামিক স্টেট-এর প্রচারমূলক উপাদান ছড়াচ্ছে। গত ২ মার্চ রাতে এই তিন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়ান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলোয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জইশ এবং আইএসআইএস-এর প্রোপাগান্ডা শেয়ার করা হয়েছে।

    “স্লিপার সেল”-এর সক্রিয় সদস্য

    তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে সে মুম্বইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের একটি “স্লিপার সেল” হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা। এটিএস সূত্রে জানা যায়, আয়ান তার দুই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করেছিল। এমনকি তাদের ওপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে তারা বিদেশে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ওই দুই ছাত্রের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে এটিএস, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। অভিযানের সময় আয়ান ও অন্য দুই ছাত্রের একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের থেকে সাহায্য

    এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও পেত আয়ান। এই অর্থ ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এটিএস-এর দাবি, আয়ান টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জইশ ও আইএসআইএসের প্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়াত এবং বন্ধুদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী গ্রুপে যুক্ত করত। এসব গ্রুপে বিদেশি নাগরিক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হ্যান্ডলাররাও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও জানা গেছে, জইশ-ই-মহম্মদ ভবিষ্যতে মুম্বইয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য আয়ানকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। আয়ান শেখের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ধারা ৩৮ (জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র

    দুই যুবকের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনলাইন জগত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যুবকরা সহজেই জঙ্গি প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। আয়ান একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র যার জীবনের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে জঙ্গি আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিএস জানিয়েছে, তাঁর ডিভাইসে মাসুদ আজহারের বক্তৃতা, জেএম-এর প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং আইএসআইএস-এর ক্যালিফেটের প্রচার ছিল। এগুলো দেখে তিনি অন্যদেরও প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। মুম্বইয়ের এই গ্রেফতারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো এখন জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। এটিএস-এর এই অভিযান সময়মতো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না ধরা পড়ত, তাহলে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র জন্ম নিত।

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    T20 World Cup 2026: বজরংবলীর প্রার্থনা, এবার লক্ষ্য অলিম্পিক্স! অধিনায়ক হিসেবে প্রথম বিশ্বজয়ের পর কী বললেন সূর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসাবে প্রথম বার বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) নেমেই চ্যাম্পিয়ন। তবে এখনই থামতে রাজি নন তিনি। এবার লক্ষ্য অলিম্পিক ক্রিকেটে প্রথম সোনাজয়। বিশ্বজয়ের রাতেই নিজের পরের দুই লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিলেন সূর্য। বিশ্বকাপ জিতে সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতই চমক দেন সূর্য (Surya Kumar Yadav)। মহিলা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের শুভেচ্ছা জানান। তার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারত অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরের লক্ষ্য কী। তিনি বলেন, “সবে তো শুরু। এর পরের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জেতা। সেই বছরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেটাও জিততে নামব।” একইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন ঈশ্বরের প্রতি। মাঠ থেকেই সোজা গুরু গম্ভীর ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ-র সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিতে।

    প্রথম বারই অলিম্পিকে সোনা জয়

    ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রথম বারই সোনা জেতার লক্ষ্যে নামবেন সূর্য। পাশাপাশি দু’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও হতে চান তিনি। পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ২০২৮-এ। ততদিন নিজেকে ধরে রাখতে চান সূর্য। আমেদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে সূর্য বলেন, “এই গল্পটা ২০২৪ সালে শুরু হয়েছিল। জয় ভাই তখন সচিব ছিলেন। উনি আমার উপর ভরসা দেখিয়েছিলেন। রোহিত ভাইও আমার হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন। তার পর থেকে অনেক পরিকল্পনা করেছি। অনেক পরিশ্রম করেছি। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ের অভ্যাস এবারও ধরে রেখেছি।”

    গুরু গম্ভীরে আস্থা, বুমরা জাতীয় সম্পদ

    সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারত অধিনায়ক বলেন, “গৌতি ভাইয়ের অধীনে আমি চার বছর খেলেছি। ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। আমাদের ভাবনা মেলে। আমরা দু’জনেই দলের ভালোর কথাই ভাবি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। গৌতি ভাইকে আমি চোখ বন্ধ করে ভরসা করি।” বিশ্বকাপ জিতে বুমরার কথা শোনা গিয়েছে সূর্যের মুখে। আগের দিন সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছিলেন, এক প্রজন্মে বুমরার মতো ক্রিকেটার একজনই আসে। আরও খানিকটা এগিয়ে গেলেন সূর্য। তিনি বললেন, “সঞ্জু আগের দিন বলেছিল, বুমরার মতো বোলার এক প্রজন্মে একজনই আসে। আমি বলব, বুমরা জাতীয় সম্পদ। ও জানে ওকে কী করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। আমাকে কিছু বলতে হয় না।”

    সাজঘরে বাক্‌স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ

    সূর্যের মতে, দলের প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকের কথা আলাদা ভাবে শোনেন তিনি। অধিনায়ক বলেন, “গত দু’বছর ধরে এই কাজটাই করছি। একটা ভালো সাজঘর তৈরি করেছি। কারও কোনও সমস্যা থাকলে তাকে নৈশভোজে নিয়ে যাই। কথা শুনি। আমি প্রত্যেকের কথা শুনি। কারণ আমার মতে, প্রত্যেকের যদি বাক্‌স্বাধীনতা না থাকে, তা হলে সেই দল সফল হতে পারে না। তাই সকলের কথা শোনাটা জরুরি। সেই কারণেই ওরা আমার কথাও শোনে।” ক্রিকেটারের জীবনে সাফল্যের চেয়েও ব্যর্থতা বেশি আসে বলে মনে করেন সূর্য। তবে তার মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়। সূর্য বলেন, “জীবনে উত্থান-পতন হবেই। গত বছর একটাও অর্ধশতরান করতে পারিনি। আমারও কঠিন সময় গিয়েছে। কিন্তু নিজের উপর ভরসা রেখেছি। পরিশ্রম করেছি। সকলকেই সেটা করতে হবে। এটাই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র।”

    ট্রফি হাতে হনুমান মন্দিরে আরাধনা

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে হনুমান টেকরি মন্দির। সাংবাদিক বৈঠকের পর মাঠ থেকেই মন্দিরে বজরংবলীর আশীর্বাদ নিতে যান সূর্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরু গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ। তিন জন মিলে পুজো দেন। সূর্যের গলায় ছিল গাঁদা ফুলের মালা। পুজো দেওয়ার পর আবার স্টেডিয়ামে ফেরেন তাঁরা। সেখান থেকে দলের সঙ্গে হোটেল যান কোচ ও অধিনায়ক। ঈশ্বরের আশীষ নিয়েই আগামী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে চান ভারতীয় ক্রিকেটের নয়া সূর্য।

  • T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    T20 World Cup 2026: সবরমতীর তীরে শাপমোচন! প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা, ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বজয়, কোন পথে টি-২০ চ্যাম্পিয়ন ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিশপ্ত আমেদাবাদেই গৌরবের রাত। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (T20 World Cup 2026) টিম ইন্ডিয়া। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামেই তৈরি হল ইতিহাস। টি-২০ বিশ্বকাপে এর আগে কোনও দেশ পরপর দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ -পরপর দুবার বিশ্বসেরার মুকুট জিতে রেকর্ডবুক নতুন করে লিখল ভারত। গ্যালারির ভিআইপি বক্সে বসে যে গৌরব তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন টি-২০ বিশ্বকাপজয়ী আগের দুই ভারত অধিনায়ক – মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রোহিত শর্মা। উপভোগ করলেন ৮৩-বিশ্বকাপজয়ী নেতা কপিল দেব। যুদ্ধ জয়ের উচ্ছ্বাস ধরা পড়ল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চোখে। স্মিত হাসি আইসিসি সভাপতি জয় শাহের মুখেও। আসলে ক্রিকেট বিশ্বে ভারত যে কেন শেষ কথা বলে তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি। স্টেডিয়ামের মিউজিক সিস্টেমে কখনও বাজতে থাকল ‘চক দে ইন্ডিয়া’, কখনও ‘লেহরা দো’। সঙ্গে এ আর রহমানের বিখ্যাত ‘বন্দেমাতরম’। যে গান ভারতীয় দলের থিম সং হয়ে গিয়েছে কার্যত। গলা মেলালেন স্টেডিয়ামে হাজির ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ।

    দৃঢ় সংকল্প, দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন

    সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বাধীন ভারত কিউয়িদের হারাতেই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স! আইসিসি মেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভারতীয় দলকে অনেক অনেক অভিনন্দন! এই অসাধারণ জয় অসাধারণ দক্ষতা, দৃঢ় সংকল্প এবং দলগত চেষ্টারই প্রতিফলন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের সকলে অসামান্য ধৈর্য ও সাহসের প্রদর্শন করেছে। এই জয় প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়কে গর্ব ও আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। সাবাশ, টিম ইন্ডিয়া!’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে বরাবরই উন্নয়নের চেষ্টা করেন। ক্রীড়াবিদদের উদ্বুদ্ধও করেন। ভারতের অ্যাথলিটরা যখন কোনও মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্টে যান, তখনও পেপটক দেন মোদি। পাশাপাশি ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা বিশ্বমঞ্চে কোনও টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই মোদি তাঁদের সঙ্গে দেখাও করেন। এ বার তাঁর নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল, শীঘ্রই তাঁর বাসভবনে সাক্ষাতের জন্য ডাক পড়তে পারে স্কাই ব্রিগেডের।

    টসে জিতেও হেরে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড

    হওয়ার কথা ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কার্যত হয়ে দাঁড়াল একপেশে ম্যাচ। আমেদাবাদের পিচে টস জিতে যে কোনও অধিনায়ক চোখ বুজে ব্যাটিং নেবেন। ফাইনালের মতো ম্যাচে কে না রানের বোঝা বিপক্ষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায়! মিচেল স্যান্টনার করলেন ঠিক উল্টোটা। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যুক্তি দিলেন, পিচে অল্প ঘাস রয়েছে। পেসারদের দিয়ে তিনি ভারতের টপ অর্ডারকে বিপদে ফেলতে চান। তা তো হলই না। উল্টে ভারতের ওপেনারেরা এমন ভাবে শুরু থেকে কিউয়ি বোলারদের পেটাতে লাগলেন যে কয়েক ওভার যেতে না যেতে নিশ্চিত ভাবেই হাত কামড়াতে শুরু করেছিলেন স্যান্টনার। দিনের প্রথম ৬ ওভারের শেষের ভারতের স্কোর ছিল ৯২/০। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে যুগ্ম সর্বোচ্চ। তা-ও আবার ফাইনাল ম্যাচে। সেখানে নিউ জিল্যান্ড পাওয়ার প্লে-তে তুলল ৫২ রান। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, তারা হারায় তিন-তিনটি উইকেট। সাজঘরে ফিরে যান দলের তিন সেরা অস্ত্র ফিন অ্যালেন, রাচিন রবীন্দ্র এবং গ্লেন ফিলিপস। ওখান থেকে ম্যাচ বার করা নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে কার্যত অসম্ভব ছিল। ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা।

    ওস্তাদের মার শেষ রাতে

    গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই চর্চায় ছিল তাঁর ফর্ম। কিন্তু কথায় বলে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। তাই যেন প্রমাণ করলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর প্রতিটি ছয়, প্রতিটি চার এবং প্রতিটি উল্লাস ছিল নিন্দকদের প্রতি এক-একটি জবাব। জেকব ডাফিকে পর পর দু’টি চার মেরে শুরু। কী অবলীলায় একের পর এক শট খেললেন! লকি ফার্গুসনের মতো বোলারকে অনায়াসে পাঠিয়ে দিলেন মাঠের বাইরে। দেখে মনেই হয়নি তিনি এত দিন খারাপ ছন্দে ছিলেন। ২০২৩-এর এক দিনের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেননি অক্ষর। আগের ম্যাচে রান হজম করেছিলেন। অভিষেকের মতো ফাইনালে তিনিও যেন নেমেছিলেন সব কিছুর জবাব দিতে। দর্শকাসনে তাঁর পরিবার এবং পাড়াপড়শিদের অনেকে ছিলেন। প্রথম ওভারেই তিনি ফেরালেন অ্যালেনকে, যাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল ভারতীয় শিবিরে। পরের ওভারে তিনি ফেরালেন গ্লেন ফিলিপসকে। অক্ষরের হাত থেকে বেরোল ‘স্লাইডার’, যা বাইরের দিকে ঘোরার বদলে ঢুকে এল ভেতরে। সোজা শট খেলতে গিয়েছিলেন ফিলিপস। সম্পূর্ণ বোকা বনে গেলেন কিউয়ি ব্যাটার। বল এসে ভেঙে দিল লেগ স্টাম্প। দু’টি উইকেট নেওয়ার পরেই দর্শকাসনের দিকে তাকিয়ে বিশেষ একটি উৎসব করতে দেখা গেল অক্ষরকে। তৃতীয় উইকেটটি পেলেন তৃতীয় ওভারে।

    বুম বুম বুমরা, স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু

    তাঁকে নিয়ে আর নতুন করে কী-ই বা বলার আছে। বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন তিনি। রবিবার তাঁর সামনে মঞ্চ তৈরিই ছিল। সেটাকে কাজে লাগালেন পুরোদমে। অহমদাবাদ বুমরাহেরও ঘরের মাঠ। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে তাঁর বোলিং ফিগার ৪-০-১৫-৪। অর্থাৎ প্রতি ওভারে চারেরও কম রান দিয়েছেন। সঙ্গে চারটি উইকেট। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বুমরা ছিলেন প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট। ২০২৬-ফাইনালে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ। সুপার এইট থেকে স্বপ্নের ফর্মে সঞ্জু। টানা তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন। স্পর্শ করলেন শাহিদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির কীর্তি। আফ্রিদি ও কোহলি টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। সঞ্জুও সেই কীর্তিতে ভাগ বসালেন। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা মেরেছেন স্যামসন। সেটিও রেকর্ড। কোনও এক বিশ্বকাপে এত ছক্কা কেউ মারেননি। প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্টও সঞ্জু।

    ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, পরাস্ত ইতিহাস

    ২০২৬-এ এসে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল। একই সঙ্গে ইতিহাসকেও পরাস্ত করল ভারত। কোনও দেশ এখনও পর্যন্ত তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কোনও দলই বিশ্বকাপ ডিফেন্ড করতে পারেনি। কোনও আয়োজক দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনটি রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল সূর্যর ভারত। বিশ্বজয়ের উল্লাসের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারি থেকে আমেদাবাদের রাজপথে। এই উচ্ছ্বাস-উল্লাস খুবই সংক্রামক। তা নিমেষে ছড়িয়ে পড়ল গোটা দেশ।

     

     

     

     

  • Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র। ইজরায়েল-আমেরিকার (Iran-US Conflict) যৌথ অভিযানের প্রত্যাঘাত স্বরূপ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায় তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ওমান, বাহরিন… মুহুর্মুহু ইরানি মিসাইলে কেঁপে উঠেছে। তবে, এবার থেকে আর প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না ইরান। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জানালেন, ইরানের উপর মার্কিন বা ইজরায়েলি হামলায় মদত না দিলে আর কোনও প্রতিবেশী দেশকে তাঁরা আক্রমণ করবেন না। তবে একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

    হঠাৎ কেন সুর নরম

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,“আমি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চাইছি। অন্য দেশগুলির উপর আক্রমণের কোনও ইচ্ছা ছিল না আমাদের।” এরপর তাদের উপর আর কোনও হামলা না হলে, তাহলেও তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। শনিবার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কখন যুদ্ধ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রাথমিক ভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেছিল তেহরান। প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিলের হাতেই আপাতত রয়েছে দেশ চালানোর ভার। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই অন্তর্বর্তী কাউন্সিল প্রতিবেশীদের আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি

    মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল তেহরান। অনেক দেশ এই আচরণের সমালোচনা করেছে। বলা হয়েছে, অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইরান। তবে তেহরানও সিদ্ধান্তে এত দিন অনড় ছিল। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজরায়েল দায়ী। কারণ, যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। অবশেষে তেহরান কিছুটা সুর নরম করল। পেজেশকিয়ানের দাবি, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশীর উপর হামলা চালাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।

    ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন তিনি। তবে, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করবে না। পেজেশকিয়ান জানান, এই ধরনের প্রত্যাশা অবাস্তব। ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন তাঁদের স্বপ্নই থেকে যাবে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর কথায়, শত্রুরা যদি মনে করে ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে, সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও ইরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

  • Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    Delhi: দিল্লির উত্তম নগরে হোলির দিনে তরুণ কুমার হত্যাকাণ্ডে আরও ৪ জন গ্রেফতার, মোট ৮জন ধৃত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির (Delhi) উত্তম নগর এলাকায় হোলির দিন ২৬ বছর বয়সি তরুণ কুমারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার (৬ মার্চ) আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৮ । যার মধ্যে একজন নাবালকও রয়েছে। এদিকে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মাঝে দুটি গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (DFS) সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে উত্তম নগরের জে.জে. কলোনিতে একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    তরুণ কুমারের পরিবার তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৪ মার্চ) হোলি উৎসবের দিন। পুলিশ ও পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, তরুণের পরিবারের এক ১১ বছর বয়সি মেয়ে ছাদে দাঁড়িয়ে হোলি খেলছিল। সে একটি জলের বেলুন ছুড়েছিল, যা তার বাবার দিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলেও রাস্তায় পড়ে যায় এবং পাশ দিয়ে যাওয়া এক প্রতিবেশী মহিলার গায়ে জল পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সামান্য তর্কাতর্কি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে হোলি উদযাপন করে বাইকে বাড়ি ফেরার সময় তরুণকে পথেই আটকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল। অভিযোগ, ওই দলটি লোহার রড, ইট, পাথরসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে তরুণকে বেধড়ক মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে তার পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

    পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন

    নিহত তরুণের কাকা রমেশ বলেন, ‘১১ বছর বয়সি মেয়েটি ছাদ থেকে সবার ওপর জল বেলুন ফেলছিল। এই ঘটনায় বোরখা পরিহিত এক মহিলার ওপরেও বেলুন ফেলে দেয় ও। তাতে আমি নিজে গিয়ে ক্ষমা চাই। এমনকী ছোট মেয়েকে দিয়েও ক্ষমা চাওয়াই। এর থেকে বেশি কী করতে পারতাম আমরা। তারা আমাদের মারল। আমার মাথায় ডাক্তার ৮টি সেলাই দিয়েছে। ঘটনার আধঘণ্টা পরে তরুণ আসে। ও বাইক পার্ক করতে পারেনি, তার ওপর চড়াও হয় ওরা।’ এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তরুণ নির্দোষ ছিলেন। ছোটখাটো বিরোধের জেরে অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁকে লাঠি ও ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তরুণ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে এই ঘটনা যাতে সাম্প্রদায়িক হিংসার আকার ধারণ না করে, তার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। থানায় স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ। বৈঠকে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয় যে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: ইতিহাস গড়ার পথে সূর্যরা, আমেদাবাদেই বিশ্বকাপ জয় করে স্বপ্নপূরণ করতে চায় ভারত

    T20 World Cup 2026: ইতিহাস গড়ার পথে সূর্যরা, আমেদাবাদেই বিশ্বকাপ জয় করে স্বপ্নপূরণ করতে চায় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন বছর আগে এখানেই মন ভেঙেছিল ১৪০কোটির। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের। তিন বছর পর আবার ফাইনাল। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ফাইনালে ফের ভারত। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফের স্বপ্নের ডালা নিয়ে মাঠে আসবেন ভারতের ক্রিকেট অুনুরাগীরা। স্টেডিয়াম উঠবে নীল ঢেউ। ভারত ও নিউজিল্যান্ড (IND vs NZ) দুই দলেরই এবারের বিশ্বকাপ সফরটা একেবারে মসৃণ হয়নি। বেশ খানিকটা চড়াই, উতরাই পার করেই তাঁরা ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। তবে দুই দলেই প্রতিভার অভাব নেই। তাই রবিবার এক টানটান ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

    মিশ্র-মাটির পিচে ফাইনাল

    আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি টিম ইন্ডিয়ার। দু’বছর আগে একদিনের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ভারতের। চলতি বিশ্বকাপের একমাত্র ম্যাচ আমেদাবাদে হারে ভারত। তবে এবার যাতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেকোনো ম্যাচের অন্যতম প্রধান অঙ্গ পিচ। মেগা ফাইনালের আগেও উইকেট ঘিরে বিশেষ আলোচনা। জানা গিয়েছে, রবিবার মিশ্র মাটির পিচে ফাইনাল খেলা হবে। অনেকটা মুম্বইয়ের সেমিফাইনালের উইকেটের মতো। অর্থাৎ, আরও একটি হাই-স্কোরিং ম্যাচ হবে। ওয়াংখেড়েতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। শোনা যাচ্ছে, আমেদাবাদের পিচও ব্যাটিং সহায়ক হবে। বিশেষ সুবিধা পাবে না বোলাররা।

    কালো মাটির পিচে হার রোহিতদের

    ফাইনালে সেন্টার পিচ ব্যবহার করা হবে। লাল এবং কালো মাটির মিশ্রণে পিচ তৈরি হচ্ছে। ব্যাটিং পিচ হলেও, বোলারদের জন্য বাউন্স থাকবে। তবে রান দুশোর কাছাকাছি হবে। এই পিচে চলতি বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ হয়েছে। ২১৩ রান করে কানাডাকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে কালো মাটির পিচে হারে রোহিত শর্মার ভারত। সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হার কালো মাটির পিচে। এই দুই হারে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের চোখ খুলে গিয়েছে। তাই ফাইনালের পিচ বদলে ফেলা হচ্ছে। এক সূত্র জানান, ‘ফাইনালে মিশ্র মাটির পিচ পাবে ভারত। স্পোর্টিং পিচ হবে। লাল মাটি বেশি থাকায় বাউন্স থাকলেও সুবিধা পাবে ব্যাটারররা। আমেদাবাদে নিউজিল্যান্ড একটি ম্যাচ খেলেছে। ভারত খেলেছে দুটি। তারমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্রী হার। উল্লেখ্য, ২০২৩ ফাইনালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারতের ভরাডুবি হয়েছিল। এবার একেবারে পাটা পিচ থাকছে আমেদাবাদে।

    ইতিহাস কাদের পক্ষে

    টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত কখনওই নিউজিল্যান্ডকে হারায়নি। ৩ বারে ৩ বারই পরাজিত হতে হয়েছে। আর সেই কারণেই চিন্তায় রয়েছেন ফ্যানেরা। সবাই প্রার্থনা জুড়ে দিয়েছেন যাতে এই ম্যাচে আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না হয়। প্রসঙ্গত, এই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ৩০টি টি২০ ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে ১৬টিতে জিতেছে ভারত। ১১টিতে জয় হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। আর ৩টি ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে। এই ৩টি অমীমাংসিত ম্যাচের মধ্যে ভারত দুটি জিতেছে সুপারওভারে। আর একটি ম্যাচ ভেস্তে যায়। তাই আপাতভাবে পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত।

    থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি!

    আশা করা হচ্ছে, দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা এই ফাইনাল ম্য়াচ দেখার জন্য স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। এমনকী, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (PM Narendra Modi) এই উপলক্ষ্যে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন। মাঠ থাকবে কানায় কানায় পূর্ণ। ফাইনাল ম্য়াচকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ দর্শক বাইরে থেকে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১.২ লাখ দর্শক একসঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু, তার থেকেও যে দর্শক সংখ্যা বেশি হবে, তেমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। আর সেকারণে হোটেল রুমের চাহিদাও অন্য দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন হোটেল মালিকরা। পাশাপাশি হসপিটালিটি সেক্টরেও ব্যবসা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

    ভারতকে হুঁশিয়ারি

    ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে চুপ করিয়ে দেবেন। বাস্তবেও সেটাই হয়। তারপর থেকে বহুবার ভারতকে ‘চুপ করিয়ে দেব’ হুমকি দিয়েছে বিপক্ষ। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক স্যান্টনার অবশ্য চুপ করানোর চেয়েও নির্দয় বার্তা দিলেন। ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, “ট্রফি জেতার জন্য ছোটখাট চেষ্টাগুলোও করন। ট্রফি জেতার জন্য কিছু হৃদয় ভাঙতে হলেও সমস্যা নেই।”

    কোথায় কোথায় উন্নতি দরকার

    বিশ্বকাপে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদ দিলে বাকি সাত ম্যাচে ভাল দেখিয়েছে ভারতকে। কয়েকটি ম্যাচ টান টান হলেও শেষ হাসি হেসেছেন গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদবেরা। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচ জিততে হলে অবশ্য তিনটি জায়গায় উন্নতি দরকার ভারতের। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ছয় ওভারেই জয়ের ভিত গড়ে ফেলতে চায় সব দল। কিন্তু অভিষেক রানে না থাকায় তাতে সমস্যায় হচ্ছে। সঞ্জু সব ম্যাচে খেলবেন না। ঈশানও ব্যর্থ হতে পারেন। যদি তেমনটা হয়, তা হলে কে সামলাবে দলের ব্যাটিং। সেই কারণেই অভিষেকের ফর্মে ফেরা খুব জরুরি। নইলে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় এক নম্বর ব্যাটারের পাশাপাশি এক নম্বর বোলারও ভারতের চিন্তার জায়গা। বিশ্বকাপে বরুণ চক্রবর্তী ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ উইকেট নিয়েছেন বটে, কিন্তু পুরনো বরুণ উধাও। ওভার প্রতি ৮.৮৫ রান দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে তা-ও কয়েকটি ম্যাচে ভাল বল করেছিলেন, কিন্তু সুপার এইট থেকে তাঁকে চেনা যাচ্ছে না। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল ফিল্ডিং করেছে ভারত। অক্ষর দু’টি ভাল ক্যাচ ধরেছেন। হার্দিক রান আউট করেছেন। কিন্তু সেমিফাইনাল বাদে বিশ্বকাপে ভারতের ফিল্ডিং ভাল হয়নি। তাই ফিল্ডিংয়ে নজর দিতে হবে।

    সম্ভাব্য ভারতীয় দল: অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পাণ্ডেয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, জসপ্রীত বুমরা, বরুণ চক্রবর্তী বা কুলদীপ যাদব

  • PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। মার্কিন এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “কৌশলগত তেল কূটনীতির” (PM Modi’s Oil Diplomacy) বড় সাফল্য বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শুক্রবার বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেন, “যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগোচ্ছে, তখন রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস ভারতের কৌশলগত সংযম ও স্পষ্টতার সঙ্গে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেখতে পারে না।”

    ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড়

    মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় দিচ্ছে।” বেসেন্ট আরও বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আমরা আশা করি নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কেনাও বাড়াবে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।” তিনি জানান, এই ছাড়টি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বল্পমেয়াদি রাখা হয়েছে এবং এটি মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান সংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেয়, ফলে রাশিয়ার সরকার এতে বড় ধরনের আর্থিক লাভ পাবে না।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস ‘তেলের ঘাটতি’ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে বড় ধাক্কা। ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল কিনছে এবং সরবরাহে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি।” একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বিজেপি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে “ডিম ছুঁড়ে মারার” মতো। ভান্ডারি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান থেকে তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছিল।

  • IRIS Lavan at Kochi: ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দিল ভারত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোচি বন্দরে নোঙর করেছে ‘আইরিস লাভান’

    IRIS Lavan at Kochi: ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দিল ভারত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোচি বন্দরে নোঙর করেছে ‘আইরিস লাভান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কোচিতে (Kerala Kochi) নোঙর করেছে ইরানি জাহাজ (Iranian Warship) আইরিস লাভান (IRIS Lavan at Kochi)। ওই জাহাজটির ১৮০জন নাবিক এখন কোচিতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) অতিথিশালায় রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফ্রিগেট (ছোট যুদ্ধজাহাজ) ‘আইআরআইএস ডেনা’কে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার আবহে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোচিতে আইরিস লাভানকে নোঙর করার অনুমোদন দেয় ভারত। প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই ওই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    তেহরানের অনুরোধে অনুমতি

    সরকারি সূত্রের খবর, কোচিতে ইরানের জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার আগে নৌসেনা দফতর সরাসরি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি চায় নৌবাহিনী। নয়াদিল্লি ইরানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রোটোকল মেনেই ইরানের জাহাজটিকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এর সঙ্গে আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।

    ‘আইআরআইএস ডেনা’ র উপর হামলা

    বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘ডেনা’-র উপরে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে দেয় তারা। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। মার্কিন টর্পেডোর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২ জনকে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবারের ওই হামলাটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে। শ্রীলঙ্কার নৌসেনাই ওই যুদ্ধজাহাজে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সেই যুদ্ধজাহাজের উদ্ধারকাজে ভারতীয় নৌসেনাও রণতরী পাঠিয়েছিল। যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা এখন ভর্তি রয়েছেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে বন্দর শহর গলের এক হাসপাতালে।

    আমেরিকার চাপ শ্রীলঙ্কাকে

    অন্যদিকে, আইরিস বুশের (Iris Bushehr) নামে একটি ইরানি জাহাজকে তাদের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দেশেনায়কে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন ইরানের জাহাজটিকে ত্রিঙ্কোমালি বন্দরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জাহাজটির ২০৮ জন নাবিক নিরাপদে আছেন। সূত্রের খবর, শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে। পাঁচ দিন আগে আইরিস ডেনা (Irish Dena Warship) নামে ইরানের একটি জাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন ধ্বংস করে। জাহাজের উদ্ধার হওয়া নাবিকদের আশ্রয় দেয় শ্রীলঙ্কা। আমেরিকা এরপর কলম্বোর উপর চাপ তৈরি করেছে ওই নাবিকদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। মার্কিন সেনারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি এখনও আমেরিকাকে সম্মতি দেননি।

LinkedIn
Share