Author: ishika-banerjee

  • Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিলেন সোনার মেয়ে মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)। ফের দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের ভারোত্তোলন তারকা। রবিবার গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ম্যাজিক দেখালেন মণিপুরের মেয়ে। এই নিয়ে পরপর তিনবার কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026 Glasgow) সোনা জেতার অনন্য নজির গড়লেন ৩১ বছর বয়সি মীরাবাঈ (India first gold CWG 2026)। অন্যদিকে, মণিপুর থেকে সেনাছাউনি হয়ে গ্লাসগো, ভারতের হয়ে রুপো জিতে আবেগে ভাসলেন ঋষিকান্ত সিং চানামবাম (Rishikant Singh)। নিজের ঐতিহাসিক সাফল্য তিনি উৎসর্গ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং গোটা দেশকে। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই ভারতীয় ভারোত্তোলক।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু ও ঋষিকান্ত সিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ হল। প্রতিভাবান মীরাবাই চানু আবারও কমনওয়েলথ গেমসে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৪৮ কেজি বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি সোনার পদক জিতেছেন। টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং মোট চতুর্থ কমনওয়েলথ পদক জিতে তিনি প্রতিটি ভারতীয়র কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী ঋষিকান্ত সিংয়ের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক কমনওয়েলথ গেমসেই রুপোর পদক জিতে ঋষিকান্ত ভারতীয় ভারোত্তোলনের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মীরাবাঈ ম্যাজিকে মাত গ্লাসগো

    সোনা জেতার পাশাপাশি রবিবার নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন কমনওয়েলথ ও গেমস রেকর্ড গড়লেন মীরাবাঈ চানু। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে তিনি শীর্ষে। যার মধ্যে স্ন্যাচ বিভাগে ছিল ৮৫ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে ১০৫ কেজি। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন মীরাবাঈ। তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রতি পদক্ষেপে এগিয়েছেন তিনি। স্ন্যাচ রাউন্ডের প্রথম চেষ্টা নিখুঁত না হলেও, দ্বিতীয় চেষ্টায় ৮২ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড তৈরি করেন। এর পর নিজেরই গড়া গত বছরের ৮৪ কেজির রেকর্ড ভেঙে ৮৫ কেজি ওজন তুলে গড়ে তোলেন নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডেও খানিকটা নাটকীয়তা ছিল। মীরাবাঈয়ের প্রথম প্রচেষ্টাটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু মানসিকভাবে শক্ত থেকে দ্বিতীয়বার যখন তিনি মঞ্চে আসেন, তখন তাঁর চোখে ছিল শুধুই জয়ের জেদ। গর্জন করে নিখুঁত ছন্দ বজায় রেখে ১০৫ কেজি ওজন মাথার উপর তুলে ধরেন তিনি। বিচারকদের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে এবং মীরাবাঈয়ের মুখে ফিরে আসে তাঁর সেই পরিচিত হাসি।

    পরবর্তী লক্ষ্য এশিয়ান গেমস

    এই সাফল্যের পরও পা মাটিতেই রাখছেন মণিপুরের এই ভারোত্তোলক। মীরাবাঈ জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের এশিয়ান গেমস। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন। গ্লাসগো গেমসে নিজেকে খুব একটা চাপ না দিয়ে, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে মীরাবাঈয়ের রবিবারের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, আসন্ন এশিয়ান গেমসেও তাঁর গলায় সোনার পদক দেখা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এদিন সোনা জয়ের পরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩১ বছরের তারকা। মা এবং কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেঁদে ফেলেন মণিপুরের মেয়ে। ২০১৪ সালে ২০ বছরের এক তরুণী প্রতিভা গ্লাসগো থেকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, সেই মেয়েই ১২ বছর পরে ওই শহর ছাড়লেন কমনওয়েলথ গেমসের টানা চতুর্থ পদক নিয়ে। তার মধ্যে তিনটিই সোনার পদক। আর সেই রেকর্ড সোনা জয়ের পরে নিজের প্রজন্মের ভারতের সেরা ভারোত্তোলক বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমি খাইনি। আমার ওজন বজায় রাখার কাজটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমি পরিবারকে এই সোনার পদককে উৎসর্গ করতে চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পদক উৎসর্গ

    মীরাবাঈ চানুর পদক জয়ের ঠিক আগে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে রুপোর পদক জেতেন মণিপুরেরই ছেলে ঋষিকান্ত। জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রুপোর পদক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি গোটা দেশের। তিনি বলেন, “আমি এই রুপোর পদক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সমগ্র দেশকে উৎসর্গ করছি। আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভারত সরকার, ইন্ডিয়ান ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমার বন্ধুদের অবদান।” ২০২২ সালে বার্মিংহাম গেমসে প্রথমবার কমনওয়েলথ মঞ্চে অভিষেক হয় ঋষিকান্তের। সে বার ৫৫ কেজি বিভাগে নেমেছিলেন। কিন্তু পদক আসেনি। খালি হাতেই ফিরতে হয়। এরপর হতাশায় না ভুগে নিজেকে আরও ধারালো করেন। ওজন বাড়িয়ে লুফে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ। ৫৫ কেজি থেকে উঠে আসেন সদ্য চালু হওয়া ৬০ কেজি বিভাগে। আর এখানেই লুকিয়ে সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে আয়োজিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Weightlifting Championships) অনায়াসে সোনা জয়।

    সরকারের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা

    ঋষিকান্তের মতে, ভারতীয় ক্রীড়ার বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগই তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই নিজের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উৎসর্গ করাই তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মণিপুরের ইম্ফলের ছেলে ঋষিকান্ত। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান ভারতীয় সেনার (Indian Army)। স্পোর্টস সিস্টেম বা নির্দিষ্ট ক্রীড়া কর্মসূচির হাত ধরেই আসল প্রতিভার বিকাশ। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিখুঁত গাইডেন্স এবং লাগাতার সমর্থন—সবটাই পেয়েছিলেন সেনাশিবির থেকে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন। হালকা ওজনের ক্যাটেগরিতে দেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Indian Weightlifter)।

    গেমসে পদক তালিকায় ভারত

    চানুর সোনা এবং ঋষিকান্তের রুপো জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। একটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে। ১২টি সোনা, পাঁচটি রুপো এবং সাতটি ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া।

     

     

     

  • Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের আবহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নির্দেশ দিয়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে বোঝাতে হবে। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়োজন বিশ্বাস, স্নেহ এবং নিয়মিত সংলাপ। ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত বা দিশাহীন বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। বরং তাঁরা প্রশ্ন করতে শিখেছে এবং সেই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া বড়দের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের সময় ছিল নির্দেশ মানার যুগ। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম প্রশ্ন করে। তাই তাঁদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, সময় দিতে হবে, ভালোবাসা দিতে হবে এবং নিয়মিত কথা বলতে হবে।”

    আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ

    আরএসএস প্রধানের মতে, নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ। তাঁর কথায়, “নির্দেশ নয়, আলোচনা। আদেশ নয়, ঐকমত্য—এই পথেই এগোতে হবে।” যদিও মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি দিল্লির চলমান ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে। ২০ জুলাই সংসদ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এদিকে, আরএসএস প্রধানের নীরবতা নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরের ঘটনায় মোহন ভাগবতের নীরবতা তাঁর বক্তব্যের থেকেও বেশি অর্থবহ।

    আন্দোলনকারীদের দাবি কী?

    আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি শনিবার দুপুরেই ছাত্রদের ভবিষ্যত সুরক্ষার্থেই পদত্যাগ করেছেন। ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে এসেছে সমাধান সূত্র। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতের ‘আদেশ নয়, আলোচনা; নির্দেশ নয়, ঐকমত্য’ বার্তাকে বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) ভারতের পদক অভিযান শুরু হলো এক অনুপ্রেরণার গল্প দিয়ে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে প্রথম পদক যোগ করলেন বিহারের নালন্দার ২৯ বছরের ঝান্ডু কুমার। মোট ১৯০ কেজি ওয়েট তুলে তিনি পোডিয়ামে জায়গা করে নিয়েছেন। গ্লাসগো গেমসে প্রথম পদক জয়ের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ঝান্ডু কুমারের এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয় নয়, বরং তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলনের ফল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে ঝান্ডু কুমার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক তালিকার সূচনা করেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন এবং অসংখ্য ভারতীয়কে অনুপ্রাণিত করেছেন।”

    এক অনুপ্রেরণার গল্প

    বিহারের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম ঝান্ডু কুমারের। মাত্র ৫ বছর বয়সেই পোলিও আক্রান্ত হন তিনি। ছোটবেলা থেকে শারীরিক ও আর্থিক – দুই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা রাস্তার ধরে সবজি বিক্রি করেন। এমনকি, পরিবার চালাতে কোভিড ও কোভিড পরবর্তী সময়ে ই-রিক্সা চালিয়েছেন তিনি। আবার ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরেও নিয়মিত জিমে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন। সেই লড়াইয়ের ফল এই সাফল্য। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সফল হয়। তাঁর প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলুর। এরপর তিনি ঝান্ডুকে গান্ধীনগরের সাইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স অনুশীলনের সুযোগ করে দেন। এই সুযোগই তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ভাল ফল পেয়ে তিনি আরও উন্নতি করতে থাকেন। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক ভাল ফল করতে থাকেন ঝন্ডু।পদক জয়ের পর তিনি বললেন,”আমার মনে হচ্ছে আমি আকাশে উড়ছি। আমার মাথায় খালি একটাই কথা ঘুরছিল – যেভাবেই হোক আমাকে পদক জিততেই হবে। আমি খুব কৃতজ্ঞ সবার কাছে। সবাই আমাকে এত অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে ও ভালবাসা দিয়েছে ফলে আমি অভিভূত। ভবিষ্যতে আরও ভাল করার চেষ্টা করব। আমাকে সাইয়ের মতো জায়গায় অনুশীলন করতে দেওয়ার জন্য আমি ওদের কাছেও কৃতজ্ঞ। এই পদকটা শুধু আমার নয়, ওদেরও।”

  • NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    NEET Protest in Kolkata: ধর্মতলায় পুলিশ ও সাংবাদিকদর লক্ষ্য করে জুতো, বোতল! চিহ্নিত চার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সহ ৭০, গুন্ডাদমন আইনে মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ধর্মতলার মিছিল থেকে পুলিশের উপর আক্রমণের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকেরাও। শনিবার বিধানসভায় এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশকে বার বার প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। শুভেন্দু জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি এবং এন্টালিতে একটি— মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাতে গুন্ডাদমন আইন যোগ করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্য আইনসভায় সদ্য পাস হওয়া আইনটি এই প্রথম প্রয়োগ করল সরকার। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন শাস্তি দেওয়া হবে যে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

    কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

    শিক্ষায় দুর্নীতি, নিটের প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের আঁচ লেগেছে কলকাতাতেও। শুক্রবার ধর্মতলায় একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বাম ছাত্রসংগঠনগুলির সঙ্গে সিজেপি-র ডাকে বহু মানুষ জমায়েত করেছিলেন। মিছিলের ব্যাখা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই মিছিল শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছিল। পুলিশের হিসেবে ভিড় ছিল ৯ হাজার। তার মধ্যে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ভোটে পরাজিতরা খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজারহাট নিউটাউন, বেলগাছিয়া, বাগুইআটি থেকে লোক সাপ্লাই করেছে। পরবর্তীকালে যখন ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসে, প্রথমে জুতো, বোতল ছোড়া হয়। টার্গেট করে সাংবাদিকদের। ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি মারুক সেল ফাটাক যাতে নাটক জমে। কিন্তু পুলিশ সেই ফাঁদে পা দেননি। কলকাতা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।”

    কোনওরকম বলপ্রয়োগ নয়

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শনিবার শুভেন্দু বলেন, “আমি আক্রান্ত ও আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছি। …আমাদের পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া ছিল যে এটা গণতান্ত্রিক দেশ। যে কেউ গণতান্ত্রিক মত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয়। সরকারের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনওরকম বলপ্রয়োগ করা যাবে না বা পুলিশের দিক থেকে কিছু করা যাবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের তরফে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা একজনও ছাত্র নয়। ককরোচ পার্টির সদস্য নয়। যারা একজনও নিট সংক্রান্ত আন্দোলনকারীদের অংশ নয়।”

    রণক্ষেত্র ধর্মতলা চত্বর

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়ে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন কয়েক জন সাংবাদিকও। সেই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। একটি মামলা হয়েছে এন্টালি থানাতেও। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিকের অভিযোগের ভিত্তিতেও পাঁচটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এক ছাত্রনেতা বলেন, ‘‘এই নেগেটিভ পিআর এর আগেও ছড়ানো হয়েছে। যে পুলিশের তরফ থেকে হামলা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে আমরা স্বচক্ষে দেখেছি যে পুলিশের তরফে কোনও হামলা শুরু হয়নি। পুলিশ আটকাতে আসছিল। আর আমাদের এই ছাত্রসমাজের মাঝখান থেকে এক দু’জন উঠে কিছুটা তেড়ে যায় পুলিশের দিকে। তবে, তারা ছাত্রছাত্রী ছিল না অবশ্যই। তারা আমাদের ডাকে অবশ্যই আসেনি।’’

    পাঁচ জন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ জড়িত

    এদিন বিধানসভায় বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের নামও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “চারজন কুখ্যাত লোকের নাম বলছি আমি। যাদের আমরা ছাড়ব না। আরও বাকি নাম বলে এখানে সময় নষ্ট করব না। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানভীর, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচটা গুণ্ডার নাম এখানে ঘোষণা করলাম। গুণ্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুণ্ডাদমন আইন আনা হয়েছে। এর কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, মানুষ এখন বুঝতে পারবে। সমগ্র বিধানসভার তরফে সাংবাদিকদের উপরে শারীরিক নিগ্রহের নিন্দা করছি। বিজেপির বিধায়করা বিআর আদেম্বকর মূর্তির নিচে কর্মসূচি নিয়েছেন। সেখানেই কালো ব্যাজ পরে তাঁরা সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।”

    কেন আক্রান্ত সাংবাদিকরা?

    সিজেপি-র কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ বামেদের কিছু ছাত্র সংগঠন ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁরা আদৌ ছাত্র কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের অধিকাংশেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। সাংবাদিকদের উপর হামলার নিন্দা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবারের ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগই ছিল সংবাদমাধ্যমের তরফে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া, একটি মামলা রুজু করা হয়েছে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে। মূলত বেআইনি জমায়েত, হিংসা, জমায়েত থেকে অপরাধমূলক কাজ, সরকারি আধিকারিকের কাজে বাধা দেওয়া, অশান্তিতে উস্কানির ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    NEET Paper Leak: নিট-প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপগুলি দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ছাত্রছাত্রীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের আশ্বাসের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে এবিভিপি। সংগঠনটি ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথই সর্বাধিক ফলপ্রসূ।

    কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি

    এবিভিপির দাবি, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর সমস্যা রোধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার আনার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘদিন ধরেই কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের মতে, পরীক্ষা মাফিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কঠোর আইন ও নীতিগত সংস্কার বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তবে এবিভিপির মতে, এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। সংগঠনটি কেন্দ্রের কাছে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (হাই-লেভেল কমিটি) গঠনের দাবি জানিয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সুপারিশ পেশ করে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ছাত্রকেন্দ্রিক করে তুলতে কাজ করবে।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি

    এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ড. বিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বলেন, “ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং পরীক্ষার সততা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা ছাত্রসমাজের স্বার্থেই হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে এই উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে গভীর কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করতে হবে, যাতে দেশের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।”

  • PM Modi’s Instagram Reel: মধ্যরাতে জেন জি-র উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির এক রিল ছাপিয়ে গেল বিটিএস-এর বিশ্বরেকর্ড

    PM Modi’s Instagram Reel: মধ্যরাতে জেন জি-র উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির এক রিল ছাপিয়ে গেল বিটিএস-এর বিশ্বরেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi)। ইন্সটাগ্রামে (Instagram) এখন শুধু তাঁরই চর্চা। সকলের ইন্সটা ফিড জুড়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রিল। ২৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির রিলে ভিউ হয়েছে ৩২৮ মিলিয়ন! অর্থাৎ ৩২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি দেখেছেন। যা সর্বোচ্চ ভিউ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশিত এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বাধিক দেখা রিল হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু ভিউ-ই নয়, এই রিল প্রকাশের পর এক রাতের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, ভিডিওটি ১.৬ কোটিরও বেশি লাইক পেয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রায় ১৫ লক্ষ। যা এটিকে প্ল্যাটফর্মের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক পোস্টে পরিণত করেছে।

    আইশো স্পিড, বিটিএস কে ছাড়িয়ে রেকর্ড মোদির 

    এর আগে জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব আইশো স্পিড (IShowSpeed)-এর একটি রিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল। কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-র রিলেও ভিউ ছিল ৩০০ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন রিল সেই সংখ্যাকেও অতিক্রম করেছে। রেকর্ড গড়ার পর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভিডিওটির প্রতি আপনাদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং ইতিবাচক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’’

    কেন ইনস্টাগ্রামকেই বেছে নিলেন মোদি?

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরকারি প্রচারযন্ত্র বা আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও একই বার্তা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম এবং অনানুষ্ঠানিক ভাষা বেছে নেন, যাতে বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z)-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের সময় অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ও কর্মজীবী মানুষ মোবাইলে শর্ট ভিডিও দেখেন। সেই সময়কে লক্ষ্য করেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়, ফলে এটি সাধারণ সরকারি ঘোষণার বদলে ব্যক্তিগত ও সহজবোধ্য বার্তা হিসেবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়।

    টিভির পর্দা নয় ফেসবুক লাইভ

    অতীতে নোটবন্দি, করোনা, অপারেশন সিঁদুর-পর্বে সাজানো স্টুডিও থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু এ বার তাঁর ভিডিও বার্তা আম নেটাগরিকের ‘ফেসবুক লাইভ’ বা ‘ইনস্টাগ্রাম রিলস্‌’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ‘নিশানায় থাকা শ্রোতাগোষ্ঠী’ই হয়ে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর এই পরিবর্তনের অনুঘটক। যে জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে মোদি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, সেই জেন জি রাত ৮টার টেলিভিশন সম্প্রচার দেখার জন্য বসে থাকে না। তারা কয়েক সেকেন্ডের উল্লম্ব (ভার্টিক্যাল) ভিডিয়ো ক্লিপ, দ্রুতগতির ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং এবং অ্যালগরিদম-নির্বাচিত সমাজমাধ্যমের ‘ফিড’-এ পাওয়া তথ্য গ্রহণ করে। আর তাই নিট-কাণ্ড ঘিরে উত্তাল আন্দোলনের আবহে পরিবর্তনের পথে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী।

    পেপার লিক ইস্যুতেই মূল বার্তা

    ভিডিওটির মূল বিষয় ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি। যে ভিডিওটি এত ভাইরাল, তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের যুবসমাজের মনের কথা বুঝেই বলেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোনও সামান্য বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশ্নফাঁস রুখতে আনা হচ্ছে কঠোর আইনও, যেখানে ১০ বছরের সাজা ও ১ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

    তাৎপর্যপূর্ণ ভিডিও বার্তা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে বলেন, ‘‘এটি শুধু একটি সোশাল মিডিয়া রেকর্ড নয়। এটি প্রমাণ করে, প্রজন্ম ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি মানুষের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সংযোগ কতটা গভীর।’’ প্রধানমন্ত্রী জানেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশই ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সময় কাটায়। সরকারের উচিত সেই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো। সোশাল মিডিয়ার যুগে মানুষের মধ্যে যে কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সহজতম উপায়ই হল ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যম। তাই পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচলিত সরকারি বিবৃতির পরিবর্তে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের সঙ্গে আরও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। দর্শকদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় ভিডিও সেই যোগাযোগকে আরও আন্তরিক ও দ্বিমুখী করে তুলেছে।

  • CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভগুলো হয়তো সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ভিন্ন ছবি। এটি কোনো আকস্মিক আন্দোলন (CJP Protest) নয়। এর পিছনে রয়েছে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হওয়া এক সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ছক। এই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয় হয়েছিল ২০২২ সালে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর মধ্যে দিয়ে। নামটা দিয়েই শুরু করা যাক। কোন রাজনৈতিক নেতা দেশে পদযাত্রা করতেই পারে, কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে হঠাত ‘ভারত জোড়ো’ কেন? আর ভারতকে টুকরো করেছিল কারা? সে তো রাহুল গান্ধীরই দল আর পূর্ব পুরুষরা। তবে মাঝ রাস্তাতেই ফুস হয়ে গিয়েছিল ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ফানুস। তবে প্রশ্ন, এই ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর নামে মোচ্ছব, মানে এসি ভ্যান, এসি তাঁবু, আরও কত কি! সেসবের অর্থ জুটেছিল কথা থেকে?

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ব্যর্থতা নয়া পরিকল্পনা

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ আর তার পরে রাহুলের ভোট-চুরির ঢক্কা-নিনাদ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। নির্বাচনে জয় হয় মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র। বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বোঝে শুধু রাহুলকে দিয়ে হবে না। তখন তাদের নজর পড়ে দেশের অন্য সব গদ্দার হিন্দু-সনাতন বিরোধী গ্রুপগুলোর উপর। অর্থাৎ নানান বাম, অতিবাম আর নৈরাজ্যবাদী গ্রুপগুলোকে কংগ্রেসের সঙ্গে এক ছাতার তলায় এনে উৎপাত শুরু করার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা। তারা দুটো সময়সীমা তৈরি করে – একটা ২০২৭ থেকে ২০২৯
    আর একটা ২০৩০ থেকে ২০৩৪। কিন্তু মাঝে এই নিট পরীক্ষার প্রশ্ন লিকের ছুতোটা পেয়ে যাওয়ায়, তারা এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি। তড়িঘড়ি এজেন্টদের রাস্তায় নাবিয়ে দেয়।

    কীভাবে চলেছে তাদের প্রস্তুতি পর্ব?

    সূত্রের খবর, এই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে চারটি গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    • ১. রিজিওনাল লজিস্টিকস সামিট — ২ এপ্রিল, ২০২৪ (বাংলাদেশ) বাংলাদেশে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল এবং ভারতের বামপন্থী গ্রুপগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার মধ্যে ছিল,  ভারতের অভ্যন্তরীণ গোপন নেটওয়ার্কগুলোর জন্য বাংলাদেশে জমিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা। সেইসঙ্গে নানা শহরে “হিট স্কোয়াড” তৈরি করা এবং গোপন পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
    • ২. দ্য স্টুডেন্টস মোবিলাইজেশন হাব — ২৭ জুন, ২০২৬ (নয়াদিল্লি) নয়াদিল্লির সিপিএম-এর দফতর সুরজিৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয় মূলত স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকটিতে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলার মূল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
    • ৩. দ্য নারেটিভ স্ট্র্যাটেজি সেশন — তৃতীয় বৈঠকে সংযুক্ত করা হয় দেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে। ১৪ জুলাই, ২০২৬ (কোচি) ইসলামিক পণ্ডিত মাওলানা আরশাদ মাদানীর পক্ষ থেকে এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (SDPI)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিনিধি আর তথাকথিত সমাজকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল। একদম বাম জামাতি গেম প্ল্যান! এরপর জুলাই ২৩ তারিখে শ্রীলঙ্কায় মিলিত হল কয়েকটি দেশের বাম, অতিবাম নেতারা। উদ্দেশ্য? বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার সরকার বদলের কৌশল নিয়ে আলোচনা!
    • ৪. দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন লিঙ্ক — ২৩ জুলাই, ২০২৬ (শ্রীলঙ্কা) বিজয় প্রসাদ এবং বিকল্প সঙ্গমের আশিষ কোঠারি সহ অনেক বামপন্থী নেতাদের পাশাপাশি কিউবা, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক প্রতিবাদের কৌশলগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়; যার সাথে লাদাখ সংহতি অনশন ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত অ্যাক্টিভিস্টদের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল।

    আন্দোলনের পিছনে দেশীয় নেটওয়ার্ক

    এই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন হিসেবে কাজ করছে ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস’ (NAPM)। এতে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন (SFI, AISF, NSUI, FTII) এবং নাগরিক সমাজের নানা সংগঠন। আন্তর্জাতিক সমর্থন দিচ্ছে লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন এবং আমেরিকার ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’-এর মতো গ্রুপগুলো বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। এমনকি ১৫০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির সই করা খোলা চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলে বিদেশি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছাত্র ও কৃষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট। যাদের মূল উদ্দেশ্য ভারতবর্ষকে ভিতর থেকে দুর্বল করে ভারতের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করা।

  • National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমান করলে পেতে হবে শাস্তি। এ বার এমন আইনি বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। সংসদের বাদল অধিবেশনে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ বা ‘বন্দে মাতরম’ বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষে তিনি বিলটি উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বিলে জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১-এ সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দে মাতরম’ গানের জন্যও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিল পেশের সময়ই নিট-ইউ জি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা।

    নতুন বিলে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

    এই বিলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো, বাধা দেওয়া বা তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দু’টিরই বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। বর্তমান আইন মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-কে অসম্মান করা, গানে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো বিষয়ের উপর প্রযোজ্য। নতুন সংশোধনী বিলে সেই ধারার আওতা বাড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কেউ একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষার জন্য এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

    এ বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি।গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করে দিয়েছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ‘জনগণমন’-এর মতো সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর কথাও বলা হয় ওই নির্দেশিকায়।

    জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না

    পরে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। সূত্রের খবর, ওই দিনেই ১৯৭১ সালের আইনে সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মোদির মন্ত্রিসভা। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেরই বিধান আইনে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বা সংবিধানের অবমাননার জন্যও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা

    বিলটির বিরোধিতা করেন সিপিআই সাংসদ পি. সন্দোষ কুমার এবং জন ব্রিট্টাস। সন্দোষ কুমার বলেন, “আমি ‘বন্দে মাতরম’-কে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু এই বিলের বিরোধিতা করছি।” তাঁর অভিযোগ, এই আইন আনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই বিল আনা হয়েছে। যদিও সভার চেয়ারম্যান তাঁকে বিলের বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে “দেশপ্রেমকে আইনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়ার” চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে।

    রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি

    বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি পেশ হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাজ্যসভার অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। এর আগে দিনের প্রথমার্ধেও একই কারণে একবার অধিবেশন স্থগিত হয়েছিল। অন্যদিকে, লোকসভাতেও নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

    প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার নিট ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি বিরোধীদের শর্ত ছাড়াই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাবও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বাদল অধিবেশনের টানা পঞ্চম দিনও সংসদের দুই কক্ষেই অচলাবস্থা বজায় থাকল। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সংসদে আলোচনা ব্যহত হচ্ছে।

  • India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসিয়ান (ASEAN) আঞ্চলিক ফোরামের (ARF) বৈঠকে কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) স্থগিতের প্রসঙ্গ তোলায় পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে তাদের ভূমিকা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান-সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। ওই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ

    পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র-সমর্থিত ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।”

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ধারাবাহিক সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদতের জবাব হিসেবেই ভারত এই চুক্তি স্থগিত রেখেছে। বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জয়সওয়াল জানান, পারস্পরিক আস্থা, সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব। কিন্তু যখন একটি দেশ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সেই পরিবেশে স্বাভাবিক সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।”

    নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করুক পাকিস্তান

    এছাড়াও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলে ভারত। বিশেষ করে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ (Fitna al-Hindustan) শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তান যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার” বলে অভিহিত করেন জয়সওয়াল। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রচারের উদ্দেশ্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভূমিকা থেকে নজর ঘোরানো। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চের অপব্যবহার বা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের মাটিতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করা।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে দাবি করে আসছেন যে, ভারতের সমর্থনে কিছু জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। ভারত এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

    ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ কী

    বেশ কিছুদিন  ধরে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে ভারত সমর্থিত প্রক্সি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ইসলামাবাদ। এর গালভরা একটি নামও দিয়েছে শাহবাজ সরকার। তা হল, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের তরফে আগেই বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাকিস্তানের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আসলে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে না পেরে এইসব ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুরু থেকেই এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিভ্রান্ত করতে ও ভুয়ো তথ্য প্রচার করতে নানা চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। তবে, বারবারই পাকিস্তানের দাবিকে যুক্তি খণ্ডন করেছে ভারত।

    সন্ত্রাসী হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে

    এআরএফ বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসহাক দার দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতার মূল কারণ কাশ্মীর সমস্যা। রাষ্ট্রসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু জলচুক্তিকে ‘জলের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। এই বৈঠকেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতেই হবে।

  • PM On NEET: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মধ্যরাতে ভিডিয়ো বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, সরানো হল কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে

    PM On NEET: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মধ্যরাতে ভিডিয়ো বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, সরানো হল কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে (PM On NEET) কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ, শুক্রবারই ঘোষণা করা হবে সেই কথা। মধ্যরাতে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তা জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করা হবে।” তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার (ফাস্ট-ট্র্যাক) আদালত গঠন এবং আরও কঠোর শাস্তির বিধান থাকা একটি খসড়া আইন নিয়ে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। চলতি বাদল অধিবেশনেই যত দ্রুত সম্ভব সংসদে এই আইনটি পাস করাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিয়ো বার্তায় মোদি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের গভীর কষ্ট দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল যাতে কোনও শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। তিনি বলেন, “অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ১৯ জুলাই, ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের খবর আসছে।” ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।

    সরানো হল শিক্ষা সচিবকে

    নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভের মাঝেই বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষা সচিব পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত যোশীকে। তাঁর জায়গায় নয়া শিক্ষা সচিব (Education Secretary) হয়েছেন নরেশ গাঙ্গোয়ার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব নেন বিনীত যোশী। তাঁকে শিক্ষা দফতর থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে। অন্যদিকে, স্কুলশিক্ষা দফতরের সচিব হলেন টি কে অনিল কুমার। গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরেই শিক্ষা সচিবকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”

LinkedIn
Share