Author: ishika-banerjee

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

  • Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    Mohan Bhagwat in New York: নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত, জোর দিলেন ‘কৃষ্ণ চেতনা’য়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা সফরে গিয়ে নিউ ইয়র্কের ইসকন মন্দিরে (ISKCON) গেলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in New York)। শুক্রবার ২৬, সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে গিয়ে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। পাশাপাশি গৃহহীনদের জন্য খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। ইসকনের গভর্নিং বডি কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে জানান, ভাগবতের উপস্থিতিতে ‘জিরো হাঙ্গার নিউ ইয়র্ক’ উদ্যোগের আওতায় খাবার বিতরণ করা হয়। ১৯৬৬ সালে শ্রীল প্রভুপাদ এই স্থান থেকেই ইসকনের যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সনাতন ধর্ম

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে গৌরাঙ্গ দাস জানান, মোহন ভাগবতের এই সফর ‘ঐতিহাসিক’। তাঁর কথায়, বিশ্বজুড়ে ইসকনের (Mohan Bhagwat Visits ISKCON) প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ১২০টি দেশে ইসকনের প্রায় ১,৩০০টি মন্দির রয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরেই হিন্দু সনাতন ধর্ম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভাগবতের সঙ্গে সাক্ষাতে বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরএসএস এবং ইসকন কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান গৌরাঙ্গ দাস। ইসকনের যোগাযোগমন্ত্রী তথা গভর্নিং বডি কমিশনার অনুত্তম দাসও আরএসএস প্রধানের সফরকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও মেরুকরণের এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ঈশ্বরচেতনা ও কৃষ্ণচেতনার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কীভাবে আরও কাজ করা যায়, তা নিয়ে ইসকন ভাবনাচিন্তা করছে।

    কৃষ্ণ চেতনা-ই মানুষকে একত্রিত করে

    মন্দিরে নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে ভাগবত ইসকনকে একটি ‘অনুপ্রেরণাদায়ী স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকে ‘শ্রীকৃষ্ণ চেতনা’-র এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, সেখানে এসে তিনি ‘বিশুদ্ধ সাত্ত্বিক ভালোবাসা’-র অনুভূতিতে আপ্লুত হয়েছেন। মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, বিশ্বে মতপার্থক্য, সংঘাত ও বিভাজন থাকলেও মানুষকে একত্রিত করতে পারে চেতনা। তাঁর কথায়, “আজকের পৃথিবীতে এত সংঘাত, এত দ্বৈততা। একমাত্র যে জিনিস মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, তা হল চেতনা। সেই চেতনা হল কৃষ্ণ চেতনা।” উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোহন ভাগবত বর্তমানে তিন দেশ—আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেন সফর করছেন। আজ, শনিবার ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’-এর অংশ হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

  • PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    PM Modi Central Asia Tour: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে মোদি, নজরে এসসিও সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দিনের মধ্য এশিয়া সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Central Asia Tour)। শনিবার থেকে শুরু এই সফরে তিনি উজবেকিস্তান ও কিরঘিজস্তান যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করবেন মোদি। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের আমন্ত্রণে ২৯ ও ৩০ অগাস্ট উজবেকিস্তান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৩১ অগাস্ট কিরঘিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও (SCO Summit) সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।

    মোদি-পুতিন সাক্ষাৎ

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের (PM Modi Meet Putin) সঙ্গে মোদির বৈঠক হবে। বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারত ও রাশিয়ার দুই নেতার মধ্যে একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে।” তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সামগ্রিক পরিসর নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। সম্মেলনের ফাঁকে মোদির আরও কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেগুলির সূচি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে। মোদি পুতিন বৈঠকের আগে চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া সফর করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মস্কো সফরে তিনি পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

    এসসিও সম্মেলনের গুরুত্ব

    এবারের এসসিও সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই বিষয়গুলির উপর ভারতের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। সিবি জর্জ বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রপন্থার মোকাবিলা করাই এসসিও প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বর্তমানেও এই সমস্যাগুলি আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে ভারত এসসিও-র পূর্ণ সদস্য হয়।

    ভারতের কৌশলগত দিক থেকে মধ্য এশিয়ার গুরুত্ব

    ভারতের কৌশলগত হিসেব-নিকাশে মধ্য এশিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। স্থলবেষ্টিত হলেও সম্পদে সমৃদ্ধ এই পাঁচটি প্রজাতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া, রাশিয়া এবং চিনের সংযোগস্থলে অবস্থিত। তাদের কাছে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং ক্রমবর্ধমানভাবে কাঙ্ক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দুর্লভ মৃত্তিকার বিপুল মজুদ রয়েছে। শিল্প আধুনিকীকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা অর্জনে সচেষ্ট জ্বালানি-আমদানিকারী ভারতের জন্য এই সম্পদগুলো মূল্যবান বৈচিত্র্য আনার সুযোগ করে দেয়। আফগানিস্তান পাকিস্তান অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং অস্থিতিশীলতা নিয়ে এই অঞ্চলটিও ভারতের উদ্বেগের অংশীদার। কিন্তু ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পৃক্ততাকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। পাকিস্তান সরাসরি স্থলপথে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ায়, ইরানের চাবাহার বন্দর এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর (INSTC)-এর মাধ্যমে দীর্ঘতর বহুমুখী সংযোগ পথের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে হয়।

    ভারতের সঙ্গে সখ্যতা-প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক সদিচ্ছা

    চিন ক্রমান্বয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, অন্যদিকে ইউক্রেন সংঘাত রাশিয়ার সক্ষমতাকে সংকুচিত করলেও দেশটি তার অবশিষ্ট নিরাপত্তা প্রভাব বজায় রেখেছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় অংশীদাররা তাদের নিজস্ব বহুমুখী যোগাযোগ প্রসারিত করেছে। মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো নিজেরা ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি অনুসরণ করে এবং এমন অংশীদার খোঁজে যাদের সাথে আধিপত্যবাদী বোঝা যুক্ত নেই। ভারত এই পছন্দের সঙ্গে খাপ খায়। এর বিরুদ্ধে কোনও ঐতিহাসিক হুমকির আশঙ্কা নেই এবং সভ্যতাগত সখ্যতাও রয়েছে। ভারত নিজেকে একটি বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং একটি উন্নয়নমূলক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে। ২০১৫ সালে মোদির পাঁচটি প্রজাতন্ত্র সফর, ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপ ও শীর্ষ সম্মেলনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং ২০১৭ সাল থেকে এসসিও-র পূর্ণ সদস্যপদ—এই সবকিছুই সম্পর্কটিকে ক্রমান্বয়ে উন্নত করেছে। এই সাম্প্রতিক সফরের লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে আরও বাস্তব কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপান্তরিত করা।

    উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশ্য

    উজবেকিস্তানে এটি মোদির চতুর্থ সফর। সেখানে প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। তাশখন্দে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি দুই দেশের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। উজবেকিস্তান এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং ভারতের অন্যতম সক্রিয় অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিরঘিজস্তান সফরে মোদি ষষ্ঠ বিশ্ব নোমাড গেমস (World Nomad Games)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন। মধ্য এশিয়ার যাযাবর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

  • Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেবে ভারত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা আছে, সেটার পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে (পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর)’ লিখতে হবে। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলতে হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার, রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari in Jadavpur)। পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকার যা করেছে, তাঁর সরকার সেই পথে হাঁটবে না। যাদবপুরে দাঁড়িয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, এ বার হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। তাঁর কথায়, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ভারতকে নিয়ে কোনও স্লোগান দেয় না। বদলে বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। তাঁরা সিঁদুর অভিযানের সময় পথে নেমে বলে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দাবি মানবে না, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    কোনও সমঝোতা নয়

    বাম সরকার ৩৪ বছর ধরে তাঁদের মদত দিয়েছে। তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে নিজের স্বার্থে ‘সমঝোতা’ করেছে। কিন্তু এবার হিসেব শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বামেদের পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মদত দিয়েছে তৃণমূল। পড়ুয়াদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তাঁর কথায়, ‘‘৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত।’’ কেন সমঝোতা করত, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়ারা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদি। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’’তার পরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না।

    কিসের আজাদি? প্রশ্ন শুভেন্দুর

    যাদবপুরের পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কিসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হাতে গীতা নিয়ে ক্ষুদিরাম বসুরাই আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, এক হাতে শঙ্খ নিয়ে তমলুকের বানপুকুরে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, আরও পিছিয়ে গেলে ঋষি অরবিন্দ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা কীসের আজাদি চান?’’

    হয় এরা থাকবে, নয় আমরা

    শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে ‘কমিউনিস্টদের সাফাই’ করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে ‘মাওবাদীদের সাফাই’ করা হয়েছে, সে ভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়া লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’’

    ভয় দেখিয়ে আন্দোলন নয়

    শুভেন্দুর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি।’’

    ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই বন্দে মাতরম

    এদিন, বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।’’ তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যজুড়ে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan Festival)। শুক্রবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে যেমন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সৌভাতৃত্ব ও সম্পর্কের বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্বাধীনতার এত বছর পরেও পরও ‘দেশবিরোধী’দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ লেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে রবি ঠাকুরের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় এই উৎসব ঘিরে পুনর্জাগরণের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দের (Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর (Grand Chess Tour) খেতাব জিতলেন ২১ বছরের এই তরুণ তুর্কি। পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন প্রজ্ঞানন্দ। ফাইনালে এক সময় ছ’পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর কারুয়ানাকে দু’টি র‌্যাপিড গেমে হারিয়ে দেন। তার পর ব্লিৎজ গেমে ১৫-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রমেশবাবু। ফাইনালে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টারকে। তবে, আগ্রাসী দাবা খেলে ফাইনাল জমিয়ে দেন তিনি।

    ভারতীয় দাবায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    ভারতীয় দাবাকে আরও একবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন প্রজ্ঞানন্দ।এই খেতাব জিতে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার পেলেন প্রজ্ঞানন্দ। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার সমান। প্রজ্ঞানন্দের কেরিয়ারে এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিরোপা। এদিন র‌্যাপিড রাউন্ডে চাপে ছিলেন দুই দাবাড়ুই। কারণ চার গেমের এই রাউন্ডই হয়ে ওঠে আসল ফাইনাল। সেখানেই চাপ সামলে কিস্তিমাত করেছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রথম গেমে কিছুটা চাপে পড়ে যান ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও সময়ের চাপে ভুল চাল দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেন। কারুয়ানাও ভুল করলে ম্যাচ ড্র হয়। পরের ম্যাচগুলি জিতে ১৫-১৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন প্রজ্ঞানন্দ।

    পরবর্তী লক্ষ্য দাবা অলিম্পিয়াড

    বছরের শুরুটা প্রজ্ঞানন্দের জন্য ভাল হয়নি। ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার নেমেই ব্যর্থ। কিন্তু এরপর স্বপ্নের ফর্মে ফেরেন। নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) দু’বার হারিয়ে শিরোপা জয়। জেতেন সেন্ট লুইস র‍্যাপিড ও ব্লিটজ খেতাবও। সিঙ্কফিল্ড কাপেও যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন। প্রজ্ঞানন্দের কথায়, ‘ক্যান্ডিডেটস জিতলে ভাল লাগত ঠিকই। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট জেতাও দারুণ একটা ব্যাপার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই এই টুর্নামেন্টের স্থান। এই স্তরের প্রতিযোগিতায় জিততে গেলে অনেক মানসিক দৃঢ়তা লাগে। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে পেরে খুশি।’টানা একমাস দাবার বোর্ডে মগ্ন থাকার পর প্রজ্ঞার পরবর্তী লক্ষ্য এখন দাবা অলিম্পিয়াড (Chess Olympiad)। আগামী ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে ভারতীয় দল। সেখানেও অন্যতম প্রধান ভরসা প্রজ্ঞানন্দ।

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিশাল একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash Floods) হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এই ভয়াবহ বন্যায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা!

    বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহ ধসের ঘটনা হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি অংশ প্রায় পরিষ্কারভাবে মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়া বরফের সেই বিশাল অংশ প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির ভূতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল শুগার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হিমবাহের ওই অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার উল্লম্ব দূরত্ব অতিক্রম করে উপত্যকায় পড়ে। প্রচণ্ড অভিঘাতে বরফ কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়ে জল, বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। শুগারের কথায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে “যেন একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”—ভেঙে যাওয়া হিমবাহের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

    কীভাবে বরফের ধস ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হল?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতা থেকে বিশাল বরফের খণ্ড নীচে পড়ায় প্রচুর সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সাইমন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচণ্ড আঘাতে বরফ গুঁড়িয়ে গিয়ে দ্রুতগতির জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হতে পারে। এই স্রোত উপত্যকা দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে লহেন্দে খোলা বা নদীতে গিয়ে পড়ে। পরে তা ভোটেকোশি নদী হয়ে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। আচমকা নেমে আসা সেই স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আরও একটি বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, লহেন্দে খোলার উজানে এখনও একটি বড় বাধা আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?

    বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বুধবার ভোরে ওই অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে ভূমিকম্পের সঙ্গে হিমবাহ ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বরফ-পাথরের ধস -এর ফলও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও একটি কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

    উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৪ মাসে লহেন্দে খোলা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের একটি আকস্মিক বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শশ্বত সান্যালের মতে, নেপালের দিকের একটি হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ার পর আচমকা সেই বাধা ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় এবং আকস্মিক জলস্রোতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে আটকে রয়েছেন তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরলের ৩৩ জন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন বাসিন্দা। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন ভারতীয়ও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যের ৩২ জন বাসিন্দার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকার ছ’জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার তিন বাসিন্দার এখনও খোঁজ নেই। কলকাতার চার বাসিন্দাও এই ৩২ জনের তালিকায় রয়েছেন।

    উদ্ধারকাজে বড় বাধা

    ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ এবং এখনও অস্থিতিশীল পাহাড়ি পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বিপর্যয় ফের প্রমাণ করে দিল—পাহাড়ের অনেক উপরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নীচের জনপদে জল, বরফ ও পাথরের ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি করতে পারে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার যে সমস্ত দক্ষ ও মেধাবী যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের কারণে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ কিংবা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতার নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে চালু হল লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং এলটিআইমাইন্ডট্রি (LTIMindtree)-র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্যাম্পাস ‘আনন্দ নিকেতন।’ বৃহস্পতিবার প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে এই অফিস। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিউটাউনের এই ক্যাম্পাসে প্রায় ৫৮০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে তাঁর কথায়, “দয়া করে ফিরে আসুন। এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

    বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল

    বদলের বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় দিশা দেখতে চলেছে বাংলা। এদিন এল অ্যান্ড টি-র প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ক্যাম্পাস নিউটাউন সিলিকন ভ্যালি হাবে তৈরি হয়েছে যেটা আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে দেবে। ৭ লক্ষের বেশি বর্গ ফুটের আয়তনের একটি অফিস তৈরি হয়েছে এখানে যেখানে হাই স্কিলের মানুষ আছেন। এই প্রজেক্ট এর পর যুব সমাজ তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাদের রাজ্যে ফিরে আসবেন বাইরে তাদের থাকতে হবে না। গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ এটা। এখন রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। সরকার নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে চলছে। আমাদের লক্ষ্য স্থির বাংলায় উন্নয়ন করা।” এদিন নিউটাউনে এল অ্যান্ড টির অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।

    যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “এই বাংলায় অনেক শিক্ষিত বেকার আছে। এখানে দরকার শিল্প। এখানে যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে। আগে এখানে কাজের পরিস্থিতি ছিল না। এখন সরকার রাজ্যকে নতুন ভাবে তৈরি করার কাজ করছে। আমাদের সরকার আগামীদিনে সাহায্য করবে ছোট বড় উদ্যোক্তাদের। এআই, তথ্য প্রযুক্তি , ডিজিটাল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে এই ধরনের উদ্যোগ। আগামী দিনে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। আমি আশা রাখি এই গ্রুপ আগামীদিনে আরও বেশি করে এখানে বিনিয়োগ করবে। রাজ্য সরকার কথা দিচ্ছে আপনাদের পাশে সরকার থাকবে।”

    রাখি বন্ধন বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,“এই বছর রাখি পূর্ণিমা শুধু একটা উৎসব না। এবছর সরকার রাখি বন্ধন পালন করবে যা বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে। আগামিকাল চার হাজারের বেশি কার্যক্রম হবে দেশ জুড়ে রাখি বন্ধন উৎসব এর জন্য। এবার বিজেপি সরকার দেশপ্রেমের বন্ধনে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আমার সকল ভাই বোনদের বলবো যারা চলে গেছিলেন বাইরের রাজ্যে দেশে তারা ফিরে আসুন। এরাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার কাজ করছে। আগামীদিনে কাজের সুযোগ বাড়বে আসবে। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে ফিরে আসুন। সকলকে শুভেচ্ছা। সকলে আসুন যার যা লাগবে সেটা দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আছে আপনাদের পাশে।”

LinkedIn
Share