Author: ishika-banerjee

  • NHAI Creates Record: বেঙ্গালুরু–বিজয়ওয়াড়া মহাসড়ক প্রকল্পে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের

    NHAI Creates Record: বেঙ্গালুরু–বিজয়ওয়াড়া মহাসড়ক প্রকল্পে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) বেঙ্গালুরু–কাড়াপা–বিজয়ওয়াড়া ইকোনমিক করিডর (NH-544G) নির্মাণে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এই প্রকল্পে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) সহযোগী সংস্থা রাজপথ ইনফ্রাকন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

    কী কী রেকর্ড গড়ল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ

    জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) জানিয়েছে, ৬ জানুয়ারি অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থির কাছে দুটি বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়। প্রথম রেকর্ডটি হলো—২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটানা ২৮.৮৯ কিলোমিটার রাস্তা বিটুমিনাস কংক্রিট পিচ ঢালাই করা হয়েছে। যা তিন লেনের ৯.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশ জুড়ে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় রেকর্ডটি হলো—২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১০,৬৫৫ মেট্রিক টন বিটুমিনাস কংক্রিট একটানা ঢালাই। ছয় লেনের জাতীয় সড়ক প্রকল্পে এই দুটি রেকর্ড। বিশ্বে প্রথমবার কোনও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এই কাজ করেছে। এরপর ১১ জানুয়ারি আরও দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে—একটানা ৫৭,৫০০ মেট্রিক টন বিটুমিনাস কংক্রিট ঢালাই এবং ১৫৬ লেন-কিলোমিটার বা তিন লেনের ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশে একটানা পেভিং। এর মাধ্যমে আগের বিশ্বরেকর্ড—৮৪.৪ লেন-কিলোমিটার (দুই লেনের ৪২.২ কিলোমিটার)—ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    বেঙ্গালুরু–কাড়াপা–বিজয়ওয়াড়া ইকোনমিক করিডরের গুরুত্ব

    এই রেকর্ড গড়া কাজগুলো বেঙ্গালুরু–কাড়াপা–বিজয়ওয়াড়া ইকোনমিক করিডরের প্যাকেজ-২ এবং প্যাকেজ-৩ জুড়ে সম্পন্ন হয়েছে। করিডরের একটি অংশ বনাঞ্চলের মধ্য দিয়েও গিয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বেঙ্গালুরু ও বিজয়ওয়াড়ার মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব ৬৩৫ কিলোমিটার থেকে কমে ৫৩৫ কিলোমিটারে নামবে। পাশাপাশি যাত্রার সময় প্রায় চার ঘণ্টা কমে ১২ ঘণ্টা থেকে ৮ ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI)। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই ভারত বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে বায়ো-বিটুমিন উৎপাদন করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতী এবং কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর মধ্যে সফরের সময় কমাতে ৬ লেনের এই গ্রিনফিল্ড জাতীয় মহাসড়কটি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ভারতমালা ফেজ ২-র অধীনে শুরু করা হয়। যার মাধ্যমে গ্রিনফিল্ড এবং ব্রাউনফিল্ড উভয় রাস্তাই তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে এই রুটে সফরকারীরা এবার যানজটপূর্ণ শহর এবং পুরনো মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত এড়াতে পারবেন। এই রাস্তাটি গুন্টুর থেকে শুরু করে প্রকাশম, কুর্নুল এবং কাড়াপা জেলার মধ্য দিয়ে যাবে।

     

     

  • BCB: বাংলাদেশের বাইশ গজেও গৃহযুদ্ধ! বোর্ড কর্তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা, পদত্যাগের দাবি

    BCB: বাংলাদেশের বাইশ গজেও গৃহযুদ্ধ! বোর্ড কর্তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা, পদত্যাগের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে যে কোনও ক্ষেত্রে অরাজকতা এখন নিত্যসঙ্গী। বাদ গেল না বাইশ গজও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে। অশান্তির কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) অন্যতম ডিরেক্টর এম নাজমুল ইসলাম। ক্রিকেটারদের সম্পর্কে তাঁর একের এক অবমাননাকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কোয়াবের সভাপতি মহম্মদ মিঠুন।

    ক্রিকেটারদের অবমাননাকর মন্তব্য

    বুধবার বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুলকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের বিসিবি ক্ষতিপূরণ দেবে কি না। এর উত্তরে নাজমুল বলেন, ‘‘ওরা গিয়ে কিছুই করতে পারে না। তা-ও আমরা ওদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি। আমরা কি ওদের কাছে টাকা ফেরত চাই?’’ এ ছাড়াও তিনি বলেছেন, ‘‘বোর্ডই যদি না থাকে, তা হলে ক্রিকেট বা ক্রিকেটারেরা থাকবে কী করে?’’ তাঁর এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা। কোয়াব সভাপতি পরিষ্কার জানিয়েছেন, নাজমুলের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেছেন, ‘‘সকলেই জানেন কিছু দিন ধরে কী চলছে। প্রথমে একজনকে নিয়ে, এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যে ভাবে কথা বলা হচ্ছে, যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সব আশা করা যায় না। একজন পরিচালকের ভাষা সম্বন্ধে সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য গোটা ক্রিকেটমহলকে কষ্ট দিয়েছে।’’ এর পর হুঁশিয়ারির সুরে মিঠুন বলেছেন, ‘‘আমাদের সব ক্রিকেটারদের নিয়ে উনি যে ভাবে কথা বলছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। উনি বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।’’

    বিসিবি বনাম কোয়াব

    পরিস্থিতি সামলাতে তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নাজমুলের বক্তব্যের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে বিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘বোর্ডের কোনও পরিচালক বা সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্য বিসিবির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। সম্প্রতি কারও কোনও বক্তব্যে যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বোর্ড। এ ধরনের মন্তব্য বিসিবির মূল্যবোধ, নীতি কিংবা আচরণবিধির প্রতিফলন নয়।’’ ক্রিকেটাররা খেলা বর্জনের ডাক দেওয়ার পর বিসিবির তিন পরিচালক গতকাল গভীর রাতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং ক্রিকেটার কাজী নুরুল হাসান সোহানসহ একাধিক ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন। বিসিবির পক্ষ থেকে পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু, শাহনিয়ান তানিম ও ফায়াজুর রহমান মিতু উপস্থিত ছিলেন। বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম ক্রমাগত বিতর্কিত মন্তব্য করে যাওয়ার পরও বিসিবি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলা বিসিবি পরিচালক নাজমুল গতকাল ক্রিকেটারদের নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। যেখানে শুধু ক্রিকেটারদের তিনি ছোটই করেননি বরং তাদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পারফরম্যান্স নিয়ে করেছেন কটূক্তি। ক্রিকেটারদের নিয়ে তার করা অস্বাভাবিক মন্তব্যর জেরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন এখন সরগরম।

  • Calcutta High Court: আইপ্যাক-কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য! হাইকোর্টে খারিজ তৃণমূলের মামলা, ইডির দাবি মানল আদালত

    Calcutta High Court: আইপ্যাক-কাণ্ডে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য! হাইকোর্টে খারিজ তৃণমূলের মামলা, ইডির দাবি মানল আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টে ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ইডির বিরুদ্ধে করা তৃণমূলের মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তৃণমূলের যুক্তি টিকলই না আদালতে। হাইকোর্টে ইডি স্পষ্ট জানায়,কয়লা পাচার মামলার তল্লাশিতে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতর থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি তারা। বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলার শুনানিতে ইডির পক্ষে আইনজীবী তথা অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু জানান, যা নেওয়ার নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আইপ্যাক তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা৷ দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি।

    কেন মামলা খারিজ

    এদিন, অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু হাইকোর্টে যুক্তি দেন, তল্লাশি চালানো হয়েছে আইপ্যাক সংস্থার ডিরেক্টরের দফতর ও বাড়িতে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপত্তি জানিয়ে আদালতে এলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশীস চক্রবর্তী। অথচ তিনি তল্লাশির সময় ছিলেন না। তাহলে যে যে তথ্য তিনি আদালতে দিয়েছেন তা কীসের উপর ভিত্তি করে দিলেন? ফলে মিথ্যের উপর দাঁড়িয়ে থেকে কোনও মামলা করা যায় না। যাবতীয় জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তৃণমূলের উচিত মমতার বিরুদ্ধে মামলা করা। সেক্ষেত্রে ইডির আইনজীবীরা তাঁদের সমর্থন করবেন। এরপরই এই বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলা খারিজ করে দেন।

    ভয় পেয়েছে তৃণমূল!

    ইডির দায়ের করা মামলা মুলতুবি করা হয়েছে হাইকোর্টে। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মিস্টার রাজু বলেছেন, তৃণমূলের কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত হয়নি। তাই বিচারপতি এই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন।” অপরদিকে, আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “ইডি পরিষ্কার বলেছে, তাঁরা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি কারণ তা ডাকাতি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল যে কাগজের দাবি করেছিল ইডি সেই প্রসঙ্গে বলেছেন আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করুন। কারণ, উনি সব নথি নিয়ে চলে গিয়েছেন। এই সব কথা শুনে ম্যাটার অন্য দিকে ঘুরে যাবে দেখে তৃণমূলের তরফে বলা হয় যদি কোনও নথি বাজেয়াপ্ত না করা হয়ে থাকে তাহলে মামলা পেনডিং রেখে লাভ নেই। তারপর মামলা খারিজ হয়।”

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম দুয়ারে শুনানি

    আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি (IPAC ED Raid) ঘিরে আইনি টানাপড়েনের জল আগেই গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। জানা গেল, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দায়ের করা মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার হবে শীর্ষ আদালতে। আইপ্যাকে ইডি অভিযানের (IPAC ED Raid) পর আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছিল রাজ্য সরকার। তার পরপরই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় ইডি। বুধবারই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।

  • SIR in Bengal: মাইক্রো অবজারভারদের জন্য কড়া বার্তা! নজরদারিতে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি কমিশনের

    SIR in Bengal: মাইক্রো অবজারভারদের জন্য কড়া বার্তা! নজরদারিতে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাইক্রো অবজারভারদের কঠোর নির্দেশ দিলেন রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার। দায়িত্বে উদাসীন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বলেও জানায় কমিশন। রাজ্যে প্রায় ৪,০০০ মাইক্রো অবজারভার নিযুক্ত করেছে কমিশন। এই অবজারভাররা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে আসে। সিইও অফিসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মাইক্রো অবজারভাররা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন না। তাদের কাজ হল সমস্ত শুনানি পর্যবেক্ষণ করা এবং যেকোনো ম্যানুয়াল ত্রুটি চিহ্নিত করা। এটি চূড়ান্ত নির্বাচনী তালিকাকে নিখুঁত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal)-এর শুনানি পর্বে কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গে আরও প্রায় দু’হাজার মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।

    মাইক্রো অবজারভারদের দায়িত্ব

    সিইও একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, “মাইক্রো অবজারভারদের নিযুক্তি কালে তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ সিইও-এর অধীনে থাকবে। নির্বাচনী শুনানি চলাকালীন উপস্থিতির স্বাক্ষরও সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। তাদেরকে তাদের নির্ধারিত কাজ খুবই গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মাইক্রো অবজারভারদের বুথ লেভেল অফিসার (BLO) দ্বারা ডিজিটাল করা এন্ট্রিগুলো যাচাই করতে হবে। মৃত্যুহার ও জন্মহারের সাথে নির্বাচনী তালিকার মিল যাচাই করতে হবে। নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা (ERO) এবং সহকারী ইআরও (AERO)-এর নোটিশ প্রাপ্তদের কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। নির্বাচনী শুনানি পর্যবেক্ষণ করা ও ইলেক্টরদের স্বাক্ষর এবং আঙুলের ছাপসহ ছবি তুলতে হবে। দিন দুয়েক আগেই মাইক্রো অবজারভারদের কাজে সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছিল কমিশন। নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়েছিল, শুনানি কেন্দ্রে মাইক্রো অবজারভারেরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছেন না। ভবিষ্যতে কাজে গাফিলতি হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।

    অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার

    কমিশন সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে নবনিযুক্ত মাইক্রো অবজারভারদের। কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকায় রয়েছে ৯৪ লক্ষ। এ ছাড়াও, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছে ৩২ লক্ষ। অর্থাৎ, এক কোটি ২৬ লক্ষ জনের শুনানি হওয়ার কথা। শুনানি পর্ব চলছে ১৫-২০ দিন। এখনও পর্যন্ত শুনানির জন্য ৭০ লক্ষ নোটিস তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৪ লক্ষ নোটিস পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে শুনানির কাজ। হাতে বাকি মাত্র ২৫-২৬ দিন। তার মধ্যে গোটা কাজ শেষ করতে আরও লোকের প্রয়োজন। সেই সব বিবেচনা করেই অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের প্রয়োজন। শুধু অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নয়, বাড়ানো হবে শুনানি কেন্দ্রও। শুনানির কাজ করছেন এইআরও-রা (সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক)। শুনানিকেন্দ্র বাড়লে এইআরও বৃদ্ধি করা হবে। সেই সব কেন্দ্রের জন্য মাইক্রো অবজারভারদের সংখ্যা বাড়বে।

  • Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Mamata: ‘আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন’, মানহানির নোটিসের জবাব না মেলায় মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata)। সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের জন্য গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত একটি মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। কিসের ভিত্তিতে মমতা ওই মন্তব্য করেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দেওয়া ওই সময়সীমা ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। কিন্তু সেই চিঠির উত্তর মেলেনি। এবার তাই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেন শুভেন্দু।

    ‘আদালতে দেখা হবে

    সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু (Suvendu Attacks Mamata) লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”

    কেন শুভেন্দুর আইনি চিঠি

    অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Mamata) জড়িয়ে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই এই আইনি চিঠি নন্দীগ্রামের বিধায়কের। চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আই প্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি তল্লাশি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে বাংলা তথা গোটা দেশ। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশির মাঝে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধে দাবি করেছিলেন, ইডি-র মাধ্যমে তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইডি বিবৃতি দিয়ে জানায়, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় এই তল্লাশি চলছিল। গোটা দেশের ১০ জায়গায় তল্লাশি চলছিল। তার মধ্যে ৬টি বাংলায় ও চারটি দিল্লিতে। ইডির বক্তব্য, এই তদন্তে হাওয়ালা-যোগও উঠে আসে। আর এখানেই উঠে আসে আইপ্যাকের নাম। ইডির দাবি, ইন্ডিয়ান প্যাক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড, অর্থাৎ আইপ্যাকের মাধ্যস্থতার হাওয়ালায় ১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনের বয়ানে এই প্রতীক জৈনের নাম উঠে এসেছে। সেই কারণেই তল্লাশি।

  • SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    SIR in Bengal: তথ্যে অসঙ্গতি রাজ্যের ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের! সবার কাছেই নোটিস পাঠাচ্ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের দেওয়া তথ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি। বাংলার এসআইআর পর্বে তথ্য বিভ্রাটের নজির জনসম্মুখে তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। কারওর বাবার নাম নেই, কারওর আবার বাবাই বদলে গিয়েছে। কারওর আবার বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্রাতিরিক্ত। কমিশন সূত্রে খবর, যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ধরা পড়েছে, সেই ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে । সেই মতো কাজও করছে সিইও দফতর (CEO West Bengal)।

    কাদের কোথায় গরমিল

    কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এসআইআর-এ (SIR in Bengal) অসঙ্গতিগুলি এক ধরনের নয়। তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল। হিসেব বলছে—বাবার নামের গরমিল রয়েছে ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের। মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের। মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর বা তার বেশি ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের। ঠাকুরদা ও নাতি–নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের। ‘প্রোজেনি ৬’ (একজন ভোটারের সঙ্গে ছয় জন উত্তরাধিকারীর নাম যুক্ত) ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের। সহজ কথায়, এসআইআর তালিকায় নিজের নাম তুলতে ছয় জনের নাম ব্যবহার করেছেন এই ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রের বক্তব্য, এই ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজারের মধ্যেই রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁদের বয়স ৪৫ হলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।

    লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল নয়

    কমিশন স্পষ্ট করেছে, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল, এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় শুরুতে নাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের। তবে সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা আর ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নেই। তা নেমে এসেছে ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজারে।

    এখনও পর্যন্ত অবৈধ কতজন

    এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর যে শুনানি হয়েছে, তাতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১১,৪৭২ জন ভোটারের নাম। এমনটাই বলছে কমিশনের সূত্র। সেই সূত্র অনুসারে, এখনও পর্যন্ত ৯,৩০,৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পরে তথ্য আপলোড করা হয়েছে। তার মধ্যে ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হয়েছেন ১১,৪৭২ জন ভোটার। কমিশন সূত্রে খবর, ইআরও-রা শুনানি ও নথি যাচাই করে দেখেছেন, ওই ভোটারেরা ‘অবৈধ’। ফলে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ‘অবৈধ’ ভোটার মিলেছে নদিয়ায়। এখনও পর্যন্ত শুনানির পরে দেখা গিয়েছে, সেখানে ‘অবৈধ’ ভোটারের সংখ্যা ৯,২২৮। এখনও পর্যন্ত যে শুনানি হয়েছে, কলকাতা দক্ষিণ এবং বাঁকুড়ায় এক জন ভোটারও ‘অবৈধ’ বলে চিহ্নিত হননি।

    ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর শুনানি

    এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে। এ ছাড়া, আরও লক্ষাধিক ভোটারকে সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদেরও শুনানিতে হাজির হতে হবে বলে জানায় কমিশন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে দেখে কমিশন। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুনানি শুরু হয়েছে এখনও পর্যন্ত ৯ লক্ষের উপর ভোটারের শুনানি হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁদের মধ্যে ১১,৪৭২ জন ভোটার ‘অবৈধ’। তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আনম্যাপড শুনানি পর্ব ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। এই পর্বে যাঁদের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, সেই ৩২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ব্যক্তি সরাসরি শুনানি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়েছেন। তবে বাকি প্রায় ৮ লক্ষ ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে এসআইআর (SIR in Bengal) শুনানি চলবে, বলে জানায় কমিশন।

    বাড়ছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়া

    শুনানি-পর্ব দ্রুত সারতে  রাজ্য়ে বাড়তে চলেছে মাইক্রো অবজার্ভারদের সংখ্য়াও। কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে রাজ্য়ে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মাইক্রো অবজার্ভার। এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াতে দিল্লি থেকে আরও দু’হাজার মাইক্রো অবজার্ভার আসবেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি হবে তাঁদের প্রশিক্ষণ। ফলত, মোট মাইক্রো অবজার্ভারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার ৬০০ জন।

  • Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    Jaishankar Rubio Talk: ফোনে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা জয়শঙ্কর–মার্কো রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই মঙ্গলবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। টেলিফোনে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একপ্রস্ত আলোচনা সারলেন তাঁরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাণিজ্য সংক্রান্ত মতপার্থক্যের কারণে ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই এই কথোপকথনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে ভাল কথোপকথন

    সমাজমাধ্যমে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লিখেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে একটি ভাল কথোপকথন হল। বাণিজ্য, বিরল খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’ উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলির পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় নিয়েও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই ফোনালাপের একদিন আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত-মনোনীত সার্জিও গোর জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও সক্রিয়ভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে এবং মঙ্গলবারই “পরবর্তী বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা” হওয়ার কথা। অন্যদিকে, সার্জিও গোর সামাজিক মাধ্যমে বলেন, রুবিও ও জয়শঙ্করের মধ্যে “ইতিবাচক” ফোনালাপ হয়েছে এবং দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও আগামী মাসে সম্ভাব্য বৈঠকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    উভয় দেশের কাছেই যোগাযোগ ইতিবাচক

    বিরল খনিজ (ক্রিটিকাল মিনারেলস) নিয়ে চিনের সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিমধ্যেই ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ওয়াশিংটনে জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিকে নিয়ে এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বিশেষ ‘ফিনান্স মিনিস্টার্স মিটিং’-এর আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ভারতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। সোমবার ভারতে পৌঁছে দেওয়া ভাষণে সার্জিও গোর বলেন, “প্রকৃত বন্ধু হিসেবে” ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সব সমস্যার সমাধান করে। তিনি স্বীকার করেন, বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ কাজ নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গোর আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী মাসে ভারতকে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবে। এটি সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্যে মার্কিন সরকারের একটি প্রধান উদ্যোগ। তারপরই জয়শঙ্কর ও রুবিও-র মধ্যে এই ফোনালাপ নিয়ে দুই দেশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েক মাস পর এই বিরল উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে উভয় দেশই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) অন্তর্গত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ফের উসকানিমূলক দাবি তুলল চিন। ১৯৬৩ সালে বেজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সীমান্ত চুক্তির উল্লেখ করে চিন দাবি করেছে যে শাকসগাম উপত্যকা তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকা (Shaksgam Valley) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ওই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তি মানে না।

    শাকসগাম উপত্যকা কোথায়?

    কারাকোরাম পর্বতমালার উত্তরে, সিয়াচেনের খুব কাছেই অবস্থিত শাকসগাম বা ট্রান্স-কারাকোরাম এলাকা। ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটারের এই উপত্যকাটি পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে চিনের হাতে তুলে দেয়। সেই চুক্তিতেই লেখা, কাশ্মীর প্রশ্ন মিটলে সীমান্ত আবার নতুন করে নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু ভারতের মতে, ওই চুক্তিটাই শুরু থেকেই অবৈধ। শাকসগাম উপত্যকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুনজা-গিলগিট অঞ্চলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চিনের পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

    শাকসগাম উপত্যকায় চিনের নির্মাণ

    পূর্ব কারাকোরাম পর্বতমালায় সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত শাকসগাম উপত্যকা, যা ট্রান্স কারাকোরাম ট্র্যাক্ট নামেও পরিচিত। এর উত্তরে চিনের জিনজিয়াং অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) রয়েছে। যে বিষয়টি ভারতকে সতর্ক করে তুলেছে, তা হল উপত্যকায় চিনের একটি অল-ওয়েদার রাস্তা নির্মাণ। প্রায় ১০ মিটার চওড়া এই সড়কটির প্রায় ৭৫ কিলোমিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারত কখনও ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি, যে চুক্তির মাধ্যমে ইসলামাবাদ কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকা থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫,১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বেজিংকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

    চিনের অদ্ভুত দাবি

    চিন ভারতের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, তাদের নির্মাণকাজ ন্যায়সঙ্গত। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মাও নিং ১২ জানুয়ারি বলেছেন, ওই এলাকাটি চিনের এবং সেখানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার বেজিংয়ের রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিজের ভূখণ্ডে পরিকাঠামো নির্মাণ করা চিনের অধিকার এবং ১৯৬০-এর দশকে চিন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ঘটনা ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ২০২৪ সালে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-তে উত্তেজনা কমানোর চুক্তি হয়েছিল, তবুও কাশ্মীর নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক বারবার দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। চিনের এই দৃঢ় অবস্থান অনেক বিশ্লেষকের মতে পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন।

    বিদেশ মন্ত্রক-এর বিরোধিতা

    চিনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করেছে যে ভারত কখনওই ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি যে তথাকথিত চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অবৈধ এবং অকার্যকর।” চিনের পাল্টা দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ভারত আরও জানিয়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর আসলে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড। ফলে পাকিস্তানের কোনও অধিকার নেই এই অঞ্চলের কোনও অংশ তৃতীয় কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করার। এই বিষয়টি একাধিকবার পাকিস্তান ও চিন—উভয় দেশকেই জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নয়া দিল্লি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ১৯৬৩ সালের পাক-চিন সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকার করি না। শাকসগাম উপত্যকায় যে কোনও ধরনের কার্যকলাপ আমরা অনুমোদন করি না।”

    শাকসগাম উপত্যকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভারতের জন্য শাকসগাম উপত্যকা দুটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ— আঞ্চলিক এবং সামরিক। উপত্যকাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও, এটি কারাকোরাম গিরিপথে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সিয়াচেন থেকে পাকিস্তানের ওপর সরাসরি নজর রাখতে পারে ভারতীয় সেনা। আবার কারাকোরাম গিরিপথ থেকে চিনা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারা যায়। সুতরাং, শাকসগাম উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের সরাসরি প্রভাব পড়বে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারতের সামরিক অবস্থানের উপর। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চিন ৪,৮০৫ মিটার উঁচু আগিল গিরিপথ পেরিয়ে নিম্ন শাকসগাম উপত্যকায় একটি রাস্তা তৈরি করেছে। যার ফলে ভারতীয় নিয়ন্ত্রিত সিয়াচেন হিমবাহের ইন্দিরা কলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে চিন সেনা। কল হল একটি পর্বতমালার সর্বনিম্ন বিন্দু। গত কয়েক দশক ধরে ভারত প্রধানত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিয়াচেন অঞ্চলকে রক্ষা করার উপর মনোযোগ দিয়েছে, যেখানে হুমকিটি মূলত দক্ষিণের দিক থেকে ছিল। এখন এই নতুন রাস্তার কারণে উত্তর দিক থেকে চাপ বাড়াতে পারবে চিন। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে দুই-মুখী সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

    ভারতের যৌক্তিক দাবি

    উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান অবৈধভাবে প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দেয়। তবে যেহেতু কাশ্মীর ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসিত নয় এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই, তাই এই চুক্তির কোনও আইনগত ভিত্তি নেই বলে ভারতের দাবি। এছাড়াও, ভারত বারবার চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছে, কারণ এই প্রকল্প পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় জানিয়েছে, “আমরা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকেও স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, যা পাকিস্তানের জোরপূর্বক ও অবৈধ দখলে রয়েছে।” সব মিলিয়ে, শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই অঞ্চল ভারতেরই অংশ। এই অঞ্চল সুরক্ষিত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছে বলে ফের বার্তা দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। উল্টো দিক থেকে কোনও রকম দুঃসাহসিক পদক্ষেপ করা হলে, তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, চিনের সঙ্গে সীমান্ত-পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সেখানেও নিরন্তর সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান। সিঁদুরের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কৌশলগত দিকগুলি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হামলার ভয় দেখানোর কৌশল ভোঁতা করে দিয়েছে।” তাঁর দাবি, সেনা আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।

    তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    গত বছর পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। আর সেই অপারেশন সিঁদুরের অধীনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী অপারেশন সিঁদুরকে ভারতের তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। শত্রুপক্ষ অর্থাৎ পাকিস্তান যদি আগামীতে যে কোনও দুঃসাহস দেখায় তাহলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। সেনাপ্রধান জানান, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে কড়া জবাব দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

    পারমাণবিক হামলার ভয় আর নয়

    ভারতের আকাশে পাক ড্রোন! আর তারপরই বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সঙ্গে কথায় কথায় পাকিস্তানের যে পারমাণবিক হুমকি, তারও সমূলে আঘাত করা হয়েছে। ৯টি টার্গেটকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল ভারত। এই প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর ব্যাখ্যা, “৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত হানা হয়েছে, জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”

    ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, সেনার হিসেব অনুযায়ী, জম্মু–কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও অন্তত ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ জন স্থানীয়, বাকিরা পাকিস্তানের নাগরিক। ২০২৫ সালে মোট ১৩৯টি সংঘর্ষবিরতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২৪টি ঘটেছে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন। আইবি-র ওপারে দু’টি এবং লাইন অফ কন্ট্রোলের ওপারে ছ’টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির এখনও সক্রিয় বলে সেনার দাবি। ওই সব শিবিরে ন্যূনতম ১০০ জন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, শিবিরগুলির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন করে সাজছে সেনা

    অপারেশন সিঁদুরের পর সেনার কাঠামোয় বদল আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। নতুন করে একাধিক ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। ঘাতক প্ল্যাটুনের আদলে ২৫টি ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ ‘অশনী প্ল্যাটুন’ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, তৈরি হচ্ছে ৯টি ‘রুদ্র ব্রিগেড’। আর্টিলারির ক্ষেত্রেও শক্তিবৃদ্ধির কথা জানান সেনাপ্রধান। ১৫টি ‘শক্তিবান রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে ১০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৭৫০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার আধুনিক আর্টিলারি গান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে

    সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকে নজরদারির উদ্দেশ্যে কিছু ড্রোন পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জেনারেল দ্বিবেদী। ডিজিএমও স্তরের বৈঠকে এই ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার বার্তা পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল গ্রুপ’ গঠনের কথাও জানান তিনি। প্রতিটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসার। এক একটি গ্রুপে ১৬টি বা তার বেশি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করবে। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী আরও বলেন, মে মাসের ১০ তারিখের পর থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালে ৩১ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। আর এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তানি। এর ফলে, সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবেই।

    উত্তর দিকের বর্ডারের কী পরিস্থিতি?

    এই প্রশ্নের উত্তরে আশার কথা শোনান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি জানান, ভারতের উত্তর ভাগের চিনের দিকের বর্ডারে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তাই পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। যদিও নিরপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। বরং কঠোর নজর থাকবে সব দিকে। মণিপুর ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের চেষ্টায় শান্তি ফিরছে। এছাড়া মায়ানমারে ভোট হয়ে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে শাক্সগম উপত্যকা সংক্রান্ত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তিকেও অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি।

    ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। ব্রহ্মোস মিসাইল, উন্নত ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক আপগ্রেডেশন চলছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে ভারত ৯০ শতাংশ অ্যামুইনেশন দেশেই তৈরি করছে। সেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালকে ‘ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েথে। এর ফলে রিয়েল টাইম ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share