Author: pranabjyoti

  • Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    Asha Bhosle: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশা ভোঁসলের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে প্রকাশ্যে এল তাঁর শেষ ছবির গান ‘এই মেরি জিন্দেগি’। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গানটি রেকর্ড করেছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা। হরিশ ব্যাস পরিচালিত বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কাহিনি ‘ওম কা হরি’ ছবিতে গানটি (Final Film Song) ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে (Asha Bhosle) অভিনয় করেছেন রঘুবীর যাদব, অংশুমান ঝা এবং সোনি রাজদান। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর হলে মুক্তি পাওয়ার কথা ছবিটির।

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ছবির নির্মাতারা ইউটিউবে গানটি প্রকাশ করেছেন। প্রকাশিত গানের সঙ্গে থাকা ভিডিওতে স্টুডিয়োতে গান রেকর্ড করার সময় আশার বেশ কিছু মুহূর্ত ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছবির নির্মাতাদের এবং অভিনেতা অংশুমান ঝার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কিছু দৃশ্যও রয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র গান প্রকাশের ভিডিও নয়, বরং আশার শেষ ছবির গান তৈরির নেপথ্যের কিছু মুহূর্তও তুলে ধরেছে।

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ (Asha Bhosle)

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ গানটির সুর করেছেন রাজীব সারং। কথা লিখেছেন প্রদীপ শর্মা খুসরো। গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যেও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। ভিডিওতে আশা ভোঁসলেকে বলতে শোনা যায়, কীভাবে তিনি গানটি রেকর্ড করতে রাজি হয়েছিলেন।

    আশা ভোঁসলের কথায়, “ওঁরা যখন আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে গানটি পাঠাচ্ছেন, তখন আমি গানটি শুনেই হ্যাঁ বলে দিয়েছিলাম। আর কিছু জানতে চাইনি। গানটি আমার এতটাই ভালো লেগেছিল।”

    গানটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আশার অনুরাগীরা আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক অনুরাগী লিখেছেন, “স্বর্গ থেকে আরও একটি রত্ন! জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।” অন্য এক জন লিখেছেন, “সবসময়ই কানে মধু ঢালে। তাঁকে খুব মনে পড়ছে।” আরও অনেকে হার্টের চিহ্ন এবং প্রিয় গায়িকাকে স্মরণ করে নানা বার্তা দিয়েছেন (Asha Bhosle)।

    আশা ভোঁসলে ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে মারা যান। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

    ‘ওম কা হরি’

    ‘এই মেরি জিন্দেগি’ এখন হরিশ ব্যাস পরিচালিত ‘ওম কা হরি’ ছবির অংশ হয়ে উঠেছে। ছবিতে নামভূমিকায় রয়েছেন অংশুমান ঝা এবং রঘুবীর যাদব। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোনি রাজদান, সমতা সুদীক্ষা এবং আয়েশা কাপুর। ফার্স্ট রে ফিল্মস প্রযোজিত ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে বাবা ও ছেলের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

    আশার শেষ ছবির গান হিসেবে ‘এই মেরি জিন্দেগি’ প্রকাশ পাওয়ায় গানটি তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের একটি বিশেষ স্মারক হয়ে রইল (Final Film Song)। ১৮ সেপ্টেম্বর ছবিটি হলে মুক্তি পেলে বড় পর্দায় তাঁর কণ্ঠের এই শেষ উপহার শোনার সুযোগ পাবেন দর্শকরা (Asha Bhosle)।

     

  • ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে মসজিদ (Saharanpur Mosque) ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি পুরনো কাঠামো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের (ASI Probe) প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেটি পুরনো কুয়োর মতো বলে মনে করা হচ্ছে। কাঠামোটিতে ব্যবহৃত হয়েছে লখৌরি ইট, চুন-সুরকি ও চুন। ফলে এর বয়স, নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং ওই এলাকার অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ কাঠামোটির সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনার সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেনি।

    ৬ সেপ্টেম্বর এই কাঠামোটির সন্ধান মেলে। তার এক দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশের পর সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ভাঙার পর ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের নজরে আসে মাটির নীচে থাকা একটি শক্ত পাটাতনের মতো অংশ। সেটি কেটে সরানোর পর নীচে একটি গভীর কাঠামো চোখে পড়ে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ (ASI Probe)

    বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। কাঠামোটির প্রকৃতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ৭ সেপ্টেম্বর লখনউ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক আধিকারিক মনোজ কুমার যাদব ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একটি মই ব্যবহার করে তিনি মাটির নীচে থাকা কাঠামোটির ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তিনি ভিতরের অংশ, নির্মাণপ্রণালী এবং কাঠামোটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখেন।

    প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কাঠামোটিকে পুরনো কুয়োর মতো মনে হয়েছে। তবে আধিকারিকেরা এখনও চূড়ান্তভাবে একে কুয়ো বলে ঘোষণা করেননি। কারণ কাঠামোটির ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষ সম্পূর্ণভাবে সরানোর পরই এর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো

    প্রাথমিক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, কাঠামোটির গভীরতা প্রায় ২০ ফুট এবং ব্যাস প্রায় ৩ ফুট। নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে লখৌরি ইট। উত্তর ভারতে মধ্যযুগের শেষভাগ এবং প্রারম্ভিক আধুনিক যুগের বহু স্থাপনায় এই ধরনের পাতলা ইট ব্যবহারের নজির রয়েছে। কাঠামোটির ভিতরে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি গাঁথুনি এবং চুনের প্রলেপের চিহ্নও দেখা গিয়েছে।

    নির্মাণের ধরন দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আপাতত এটিকে পরবর্তী মধ্যযুগীয় সময়ের সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিছু প্রাথমিক মূল্যায়নে কাঠামোটির বয়স ২০০ থেকে ২৫০ বছর হতে পারে বলে অনুমান। তবে এই বয়স এখনও নিশ্চিত নয়। ইটের মাপ, গাঁথুনির ধরন, চুনের প্রলেপ, মাটির স্তর এবং আশপাশের অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা করার পরেই কাঠামোটির প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হবে (ASI Probe)।

    এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ কাঠামোটি মসজিদের নীচে এতদিন সম্পূর্ণভাবে আড়ালে ছিল। মসজিদটি ভেঙে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পরই সেটি প্রকাশ্যে আসে। ফলে মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় কী ছিল, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

    হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা!

    ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা বা মন্দির থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগও এখনও কাঠামোটিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করেনি। ফলে মন্দির থাকার দাবি এবং মাটির নীচে পাওয়া কাঠামোর মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় (Saharanpur Mosque)।

    কাঠামোটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা প্রাক্তন বজরং দলের আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর দাবি, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় একটি মন্দির থাকতে পারে। নতুন কাঠামো আবিষ্কারের পর তাঁর সেই দাবি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে প্রশাসন বা প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখনও ওই দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কাঠামোটিকে ঘিরে থাকা মাটির বিভিন্ন স্তর। মাটির স্তর বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে, কাঠামোটি কখন নির্মিত হয়েছিল, কতদিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কখন সেটি পরিত্যক্ত হয়। পরে সেটি মাটির নীচে চাপা পড়েছিল কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তার উপর কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে (ASI Probe)।

    যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের

    প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও জানতে চাইছেন, কাঠামোটি আদৌ একটি স্বতন্ত্র জলাধার বা কুয়ো হিসেবে নির্মিত হয়েছিল কি না। এটি কোনও পুরনো বসতির অংশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। আশপাশের মাটিতে পুরনো নির্মাণের চিহ্ন, ইট, গাঁথুনি বা অন্য কোনও অবশেষ পাওয়া গেলে কাঠামোটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

    কাঠামোটির নির্মাণপ্রণালীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লখৌরি ইট, চুন-সুরকি এবং চুনের প্রলেপ কোন সময়ের নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইটের আকার ও বিন্যাসের সঙ্গে ওই অঞ্চলের পুরনো স্থাপত্যের তুলনাও করা হতে পারে। এই ধরনের তথ্য কাঠামোটির আনুমানিক বয়স নির্ধারণে সাহায্য করবে।

    সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অননুমোদিত কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শহরের ম্যাজিস্ট্রেট। মসজিদ পরিচালন কমিটি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। পরে জেলা আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে (ASI Probe)।

    ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে নয়া মাত্রা

    এই জমি দখল এবং সরকারি জমি ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শহরের ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এখন মাটির নীচে পাওয়া নতুন কাঠামো ওই জায়গার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Saharanpur Mosque)।

    মসজিদ ভেঙে ফেলার পর যে জায়গাটি প্রথমে শুধুমাত্র একটি ধ্বংসস্থল বলে মনে হচ্ছিল, নতুন আবিষ্কারের ফলে সেটিই এখন সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কাঠামোটি শেষ পর্যন্ত শুধুই একটি পুরনো কুয়ো হিসেবে চিহ্নিত হয়, নাকি কোনও বৃহত্তর ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা পুরনো বসতির অংশ হিসেবে সামনে আসে, তা জানা যাবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই (ASI Probe)।

     

  • Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    Suvendu Adhikari: বাল্যবিবাহ-নাবালিকার সন্তান প্রসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্যের, গ্রেফতার থেকে ভাতা বন্ধ গুচ্ছের শাস্তির ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাল্যবিবাহ এবং ১৮ বছর বয়সের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে এই দুই সমস্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহে জড়িত ব্যক্তি, অভিভাবক এবং বিয়ে সম্পাদনে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হতে পারে।

    ‘১ নম্বরে রান করছি’ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছ’মাসের হিসাবেই রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি মেয়েদের সন্তান প্রসবের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। তাঁর কথায়, “আমরা দু’টো বিষয়ে ভারতবর্ষে এখন প্রথম। বিগত সরকারের কুফল। একটা হচ্ছে ১৮ বছরের নীচে বিবাহ। আর ১৮ বছরের নীচে সন্তান (Child Marriage) প্রসব। এটাতে আমরা এখন ১ নম্বরে রান করছি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু কেস তো করবই, গ্রেফতার তো করবই। থামাতে হবে তো, থামাতে হবে এবং পচা খাবারে যেমন অভিযান হচ্ছে, এটায় আরও বড় অভিযানে নামব, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনব।”

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ কিংবা ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসবের ঘটনায় দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের সরকারি ভাতা বন্ধ করা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “সব বন্ধ করব। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও ভাতা পাবে না। পকসো আইনে জেলে চলে যাবে।”

    তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে দেখা প্রয়োজন। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে মূল শাস্তির বিধান রয়েছে বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন, ২০০৬-এ। অন্যদিকে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন, ২০১২ প্রযোজ্য হতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতাও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য হতে পারে।

    বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে কী শাস্তি?

    আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ কোনও শিশুকে বিয়ে করলে তাঁর সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দু’টোই হতে পারে।

    শুধু বিয়ে করলেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পাদন, পরিচালনা, নির্দেশ দেওয়া কিংবা তাতে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। পুরোহিত, কাজি, মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করতে সাহায্য করলে তাঁরও সর্বোচ্চ দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

    শিশুর অভিভাবক বা দায়িত্বে থাকা কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে, অনুমতি দিলে অথবা তা আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে পকসো

    ১৮ বছরের কম বয়সি প্রত্যেকেই শিশু হিসেবে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়ে। ফলে কোনও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে, বিয়ে হয়েছে কি না—সেটি একমাত্র বিষয় নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী পকসো আইন প্রযোজ্য হতে পারে।

    অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ন্যূনতম ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে। আর ‘গুরুতর অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতনে’র ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে ন্যূনতম ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড থেকে আমৃত্যু যাবজ্জীবন, এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    বিশেষত ১২ বছরের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন, একাধিকবার যৌন নির্যাতন, নিকট আত্মীয় বা অভিভাবকসুলভ অবস্থানে থাকা ব্যক্তির দ্বারা নির্যাতন এবং শিশুকে জেনে যে সে গর্ভবতী, তার উপর যৌন নির্যাতন—আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসব হলে?

    শুধু কোনও নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছে বা সন্তান প্রসব করেছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির প্রশ্ন ওঠে না। আইনের মূল লক্ষ্য শিশুটিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার সঙ্গে যৌন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হতে পারে।

    বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া অভিযান

    রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বাল্যবিবাহ শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। বাল্যবিবাহে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি বিয়ে সম্পাদনকারী বা সহযোগীদের বিরুদ্ধেও মামলা করার কথা বলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক—দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। বাল্যবিবাহের জন্য মূলত বাল্যবিবাহ নিষেধ আইন প্রযোজ্য হলেও, ১৮ বছরের কম (Child Marriage) বয়সি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে কার্যকর হতে পারে পকসো আইনের কঠোর বিধান।

     

  • Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair 2027) দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের আয়োজন (50th Kolkata Book Fair)। বই ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    কলকাতা বইমেলার দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা পা রাখছে ৫০তম বর্ষে। তাই সুবর্ণজয়ন্তীর এই বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

    সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে বইমেলা পরিচালনার জন্য গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ জনের ওই কমিটিতে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, এবারের বইমেলার আয়োজন যৌথভাবে করবে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পুস্তক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    স্টল বণ্টনে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার বই প্রকাশকদের স্টল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার স্টল বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় প্রদর্শনী ও মেলায় যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়, এবার কলকাতা বইমেলাতেও (Kolkata Book Fair 2027) সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে প্রকাশকেরা স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    থিমের কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েল, বিকল্প ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ

    সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলার থিমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইজরায়েলকে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকেই এবারের বইমেলার মূল থিম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

    এদিকে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এবারের কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair 2027) কি ফের দেখা যাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন? গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন বা স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

    বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজক কমিটি ও প্রকাশকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    আয়োজকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। দুই মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে।

    ভারতীয়ত্বের’ ছাপ রাখার দাবি

    কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সমস্ত প্রকাশক, মুদ্রাকর এবং বই বিক্রেতার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সাহিত্য মহলে।

    কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতা বইমেলা নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, বইমেলায় স্পষ্টভাবে ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সব মত ও পথের মানুষের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা বইমেলাকে গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি গত দু’বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় (50th Kolkata Book Fair) অংশ নিতে পারছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও প্রশাসনিক কমিটি ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের নির্দেশ এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Book Fair 2027)।

     

  • India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে ভারতের (India) গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি বছরের অগাস্টে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ভারতের শোধনাগারগুলি থেকে (Diesel Supplier)। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভারত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল পরিবহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ ছিল ভারতীয় জ্বালানি। ফলে ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    রাশিয়ার রফতানি কমতেই বাড়ল ভারতের গুরুত্ব (India)

    ভারত থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়ার রফতানিতে বড়সড় পতন। অগাস্টের প্রথম ২৫ দিনে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি নেমে এসেছে দৈনিক গড়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং পাঁচ বছরের ঋতুভিত্তিক গড়ের তুলনায় পতন হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

    এদিকে, ইউরোপের বাইরে থেকে ইউরোপে মার্কিন সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি অগাস্টে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ইউরোপের মোট আমদানিতে এর অংশও বেড়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলের শীর্ষে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

    ভারতের শোধনাগারগুলির সুবিধা

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধনকারী দেশ। দেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে।

    দেশের জটিল এবং রফতানিমুখী শোধনাগারগুলির অন্যতম সুবিধা হল, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের শোধনাগারের মতো বড় পরিশোধনাগারগুলিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যে বাজারে দাম বেশি, সেখানে দ্রুত পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত (India)।

    তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত তরল হাইড্রোকার্বন আমদানি কমেছে। এক বছর আগে যেখানে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল, অগাস্টে তা কমে প্রায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে। লোহিত সাগরের পথ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ

    বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ডিজেল ইউরোপে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ইউরোপের দিকে জ্বালানি পরিবহণের প্রচলিত পথগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী জ্বালানি পরিবহণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের গুরুত্ব বেড়েছে।

    তবে এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতীতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। ফলে এই জলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    ইউক্রেনের হামলায় চাপে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো

    রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ার পিছনে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার শোধনাগার এবং জ্বালানি রফতানির পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)।

    অগাস্টের ২১ তারিখে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পাম তেল শোধনাগারের প্রযুক্তিগত ইউনিটগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। এর পর শোধনাগারটির কার্যক্ষমতা কমে প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মে মাসে হামলার পর থেকে তুয়াপসে বন্দর থেকেও কোনও ডিজেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি।

    ফলে রাশিয়ার সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাচ্ছে (Diesel Supplier) ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং রাশিয়ার রফতানি সংকট যতদিন চলবে, ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে (India)।

     

  • West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার থেকেই বেড়ে গেল বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য দেয় দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ। আগের ঘোষণা অনুযায়ী (West Bengal Pension), এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে এই বর্ধিত হারে ভাতা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন এই প্রকল্পগুলির আওতায় ভাতা বাবদ মিলত ১০০০ টাকা। এদিন (Widow Old Age Allowance) থেকে সেই ভাতার পরিমাণ বেড়ে হল ১৫০০ টাকা।

    এদিনই রাজ্যের মোট ৮২ লাখের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ১৫০০ করে টাকা। আজকের মধ্যে সবার অ্যাকাউন্টে না পৌঁছলেও, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বাংলায় বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আপাতত সেই লক্ষ্যেই একধাপ এগোল নতুন সরকার। পরবর্তীতে এই টাকা ২০০০ টাকা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যাঁরা জুলাই মাস পর্যন্ত ১০০০ টাকা করে পেতেন। তাঁরা আজ থেকে অগাস্টের টাকা হিসেবে ১৫০০ করে টাকা পাবেন।” তিনি বলেন, “এই রাজ্য কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া অবস্থায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এখনও অবস্থা বেহাল রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগবে।”

    বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট (West Bengal Pension)

    পুরনো তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে যাবতীয় ওয়েটিং লিস্টে থাকা আবেদন আজ থেকে বাতিল করা হচ্ছে। এর পরে যাঁরা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন করে আগে টাকা দিতে হবে। এর বাইরে রাজ্য সরকারের চালু করা ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ সেখানে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভেরিফিকেশন করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত সরকারের ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করা হল। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রাপকদের ওয়েটিং লিস্টের তালিকা তৈরি করা হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ

    স্বামীহীনা প্রাপকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, যে স্বামীহীনারা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন, তাঁরা যদি এই প্রকল্প ছেড়ে দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা গ্রহণ করেন, তবে তাঁরা ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে সুবিধা হবে (West Bengal Pension)।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন প্রায় মোট ৮২ লাখ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হল। এই প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হবে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকার নিজেই বহন করবে বলে জানান তিনি।

    আর্থিক সংস্কারের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে এবং ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকে অন্যায়ভাবে ভাতা পাচ্ছিল। সেই সমস্ত ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য মানুষের হাতেই সামাজিক কল্যাণের টাকা পৌঁছয় (Widow Old Age Allowance)। তিনি মনে করিয়ে দেন, নতুন সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই রাজ্যের কোষাগারের আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (West Bengal Pension)।

     

  • India U20 Football: বাংলাদেশকে হারিয়ে ২০ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারত

    India U20 Football: বাংলাদেশকে হারিয়ে ২০ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ভারত (India U20 Football)। রবিবার তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে যোগ্যতা অর্জন পর্বের গ্রুপ-বি-র শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখান ভারতের তরুণ ফুটবলাররা (AFC Asian Cup)। দানি মিতেই লাইশরাম, বিশাল যাদব এবং পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা মহম্মদ আরবাসের গোলে অনায়াস জয় তুলে নেয় মহেশ গাউলির দল।

    এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-বি-তে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে ভারত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন উজবেকিস্তান তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তবে আটটি গ্রুপের সেরা সাত রানার্স-আপ দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় ভারত। ফলে ২০০৬ সালের পর এই প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে ভারত।

    প্রথমার্ধেই এগিয়ে ভারত (India U20 Football)

    ম্যাচের শুরুতে দু’দলই সমানে সমানে লড়াই করে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। ২৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের উপর প্রবল চাপ তৈরি করেন দানি মিতেই লাইশরাম। তাঁর চাপে বল পেয়ে যান হাতেম আলি। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ফাঁকায় থাকা দানির দিকে। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন তিনি।

    এরপরও একাধিক আক্রমণ তৈরি করে ভারত। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও এসেছিল। দানির ভাসানো ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরি। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলেই এগিয়ে থাকে ভারত।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের দাপট

    বিরতির পর আরও আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করে ভারত। ৬০ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। বক্সের মধ্যে লম্বা থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে তা মাথা ছুঁইয়ে বিশাল যাদবের দিকে পাঠান ঋষিকান্ত। শূন্যে শরীর ছুড়ে অ্যাক্রোব্যাটিক শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিশাল।

    দুই গোল হজম করার পর জোরালো আক্রমণের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের জমাট রক্ষণভাগের সামনে তাদের আক্রমণ বারবার থেমে যায়। বাংলাদেশের ফুটবলাররা কোনও পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি (India U20 Football)।

    মাঠে নেমেই গোল আরবাসের

    ম্যাচের ৭২ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন ভারতের কোচ মহেশ গাউলি। দানি ও বিশালের জায়গায় মাঠে নামেন মহম্মদ আরবাস ও প্রশান্ত জাজো। মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন আরবাস।

    ইয়াইফারেম্বা চিঙ্গাকহামের পা থেকে শুরু হওয়া আক্রমণ বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেদ করে পৌঁছে যায় আরবাসের কাছে। বাঁ পায়ের জোরালো শটে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ভারতের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ।

    শেষদিকে অনিকেত যাদব, ওমাং দোদুম এবং দানিয়াল মাকাকমায়ুমকে মাঠে নামিয়ে বাকি সময়টা নিয়ন্ত্রণে রাখে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মহেশ গাউলির দল।

    ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চিনে অনুষ্ঠিত (AFC Asian Cup) হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্ব। এই প্রতিযোগিতার প্রথম চারটি দল ২০২৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ (India U20 Football) বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

     

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Swaminarayan Temple)।

    রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিসের এই নতুন মন্দির দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক (Swaminarayan Temple)

    তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে আমরা দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।”

    প্রযুক্তি, এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স নতুন গতি ও শক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালকে দুই দেশ উদ্ভাবনের ভারত-ফ্রান্স বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত (Swaminarayan Temple)। ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা দুই দেশের সমাজকে আরও কাছাকাছি এনেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা

    তিনি আরও বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা অসংখ্য ভারতীয় ও ফরাসি সাধক-অনুসন্ধানীকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীও ফ্রান্স সফর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মাধ্যমে তাঁর সেই সফর ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বলে জানান মোদি।

    যোগও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আইফেল টাওয়ারের সামনে যোগচর্চার ছবি ফ্রান্সে যোগের বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই মন্দির ভারতে নির্মিত এবং ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত। এর বহু পাথর ভারতে খোদাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রাচীন কারুশিল্পের সঙ্গে ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের বার্তা

    নবনির্মিত এই মন্দির থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, তা সমগ্র ইউরোপের মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ হলে তিনি নিজে মন্দিরটি পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান মোদি।

    তিনি বলেন, “এই মহিমান্বিত বিএপিএস মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল।”

    স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি বরাবরই ভক্তির পাশাপাশি সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্যারিসের মন্দিরটিও একইভাবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বিএপিএসের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধও সেখানে পৌঁছে যায় (Swaminarayan Temple)।

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আজ ফ্রান্সে একটি মহিমান্বিত মন্দির প্রস্তুত হয়েছে। এটি শুধু ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে না, ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন শক্তি দেবে।”

     

  • Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।

    ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Suvendu Adhikari)

    এবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র (Gerua Samman Yatra) ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া হয়ে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছবে মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।

    রাখির দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি পূর্বতন বাম শাসনকেও নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্টদের আমলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি স্থান পেত না। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলা হয়েছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গেভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— ‘আজাদি’!”

    ফায়দা লোটার ধান্ধা!

    তৃণমূল জমানার সমালোচনা করতে গিয়ে যাদবপুরের বহুচর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান তুলে তার ফায়দা লোটা।”

    গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৩টেয় মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে গিয়ে।

    আয়োজকদের বক্তব্য, গেরুয়া শুধুমাত্র একটি রং নয়, এটি ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই গেরুয়া রঙের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তার তাৎপর্য নতুন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিন আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে দেওয়া হলে গেরুয়ার মাহাত্ম্যই খাটো করা হয়।

    তবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে যাদবপুরে শেষ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের মত।

    ‘প্রতিষ্ঠিত’ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদ

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধিতা’র সুরের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেখানে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার কথা আগেই বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। শনিবার ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাধিক স্লোগান মুছে তার জায়গায় রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লিখেছেন গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা।

    ফলে আগামী সপ্তাহে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) শুধুমাত্র একটি মিছিল নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share