Author: pranabjyoti

  • PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি। আজ, বুধবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় গেল এই দুই চুক্তি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই দুই চুক্তির ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিষেবা ও দক্ষ পেশাজীবীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারত-ইউকে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এই চুক্তিগুলি আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেবে এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি এও বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতের কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন গতি এনে দেবে। ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ব্রিটেনের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, পেশাদার পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বিস্তৃত হবে।”

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী জানান, সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিটি বিশেষভাবে সেই সব ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কাজ করতে যান। তাঁর কথায়, “সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই চুক্তি ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াবে। এই পদক্ষেপ আমাদের দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনভিত্তিক ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন (PM Modi)।” প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার থেকে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কার্যকর হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত দ্বৈত অবদান সংক্রান্ত চুক্তিও। এই ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের একই সময়ে দুই দেশের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে। ফলে তাঁদের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পারবে (FTA)। ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হওয়া হাজার হাজার পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, পরিষেবা খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পেশাজীবীদের চলাচল, মেধাস্বত্ব এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ও এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (PM Modi)।

    কী কী সুবিধে মিলবে

    চুক্তি অনুযায়ী, মূল্যমানের নিরিখে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্য ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে দেশের বস্ত্রশিল্প, রেডিমেড পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতো শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক পণ্য, টেক-সামগ্রী, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিজ পণ্যের রফতানিতে বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (FTA)। অন্যদিকে, ভারত ধাপে ধাপে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া কিছু নির্বাচিত পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কচ হুইস্কি, জিন এবং কিছু বিলাসবহুল গাড়ি। এর ফলে আগামী দিনে ভারতীয় বাজারে এই পণ্যগুলির দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুল্ক হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তাই এর প্রভাবও পর্যায়ক্রমে দেখা যাবে (PM Modi)।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে শুধু পণ্য রফতানিই নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের আদানপ্রদানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেশাদার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির জন্য ব্রিটেনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রতিক্রিয়া

    ভারত ও ব্রিটেনের শিল্প ও বাণিজ্য মহলও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (PM Modi)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিষেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করবে। ফলে ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও (FTA) শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে আশা (PM Modi)।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে ভারত (PM Modi)। এবার সেই অবস্থানকে আরও একবার সামনে এনে পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বারতোশেভস্কি দাবি করেছেন, ২০২২ সালের শেষ দিকে (Nuclear Strike) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-পোল্যান্ড যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বারতোশেভস্কি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অত্যন্ত সম্মানিত নেতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদির পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন।

    বারতোশেভস্কির মুখে মোদি-স্তুতি (PM Modi)

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের এমন কয়েকজন নেতার অন্যতম, যাঁদের কথা প্রেসিডেন্ট পুতিন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে পুতিনকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী মোদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন নেতাদের মধ্যে মোদি অন্যতম। এই সংঘাত থামাতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।” এই মন্তব্যের জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উজবেকিস্তানে এসসিও (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, “আজকের যুগ যুদ্ধের নয়।” এরপর থেকেই ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমি দেশগুলির রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দিয়ে নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থানও বজায় রেখেছে।

    ভারত-প্রশস্তি শোনা গিয়েছে পুতিনের গলায়ও

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। ২০২৪ সালে তিনি কিয়েভ সফর করেন এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বৈঠকেও জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পশ্চিমি দেশগুলির চাপ সত্ত্বেও, ভারত রাশিয়া থেকে (Nuclear Strike) বিশেষ ছাড়ে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতকে ‘মহান দেশ বলে উল্লেখ করেছিলেন, প্রশংসা করেছিলেন ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতির।

    ‘ভারত গুরুত্বপূর্ণ দেশ’

    ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করেন বারতোশেভস্কি। তিনি জানান, ভারত যেমন (PM Modi) সংযম, আলোচনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, পোল্যান্ডও একই পথ অনুসরণ করছে। তাঁর কথায়, “আপনারা একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেক বেশি। পোল্যান্ডও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমরা তাদের জানিয়েছি, আমাদের পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। প্রধানমন্ত্রী মোদিও একই কাজ করছেন। আমরা যুক্তির কথা বলার চেষ্টা করছি, যদিও তার ফল সীমিত।” রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিও যে (Nuclear Strike) পোল্যান্ডের সমর্থন রয়েছে, এদিন তা-ও আরও (PM Modi) একবার জানিয়ে দেন বারতোশেভস্কি।

     

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    Neera Prash: মাত্র ১০ টাকায় মিলছে কলকাতার ৭০ বছরের ঐতিহ্য! ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি দিচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার বুকে এখনও টিকে রয়েছে এমন এক পানীয়, স্বাদে ও ঐতিহ্যে যার জুড়ি মেলা ভার। শহরের বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের পাশে (Old Heritage Drink) একটি সাধারণ ভ্যানে গরমের মরশুমে বিক্রি হচ্ছে ‘নীরা প্রাশ’ (Neera Prash)। প্রায় ৭০ বছরের পুরানো এই পানীয়টি বাজারে এসেছিল ১৯৫৫ সালে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রথিতযশা চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে। বিদেশি নরম পানীয়ের দেশীয় বিকল্প হিসেবেই বাজারে আনা হয়েছিল নীরা প্রাশ।

    নীরা প্রাশের রসায়ন (Neera Prash)

    মূলত তালমিছরি দিয়ে তৈরি নীরা প্রাশে সামান্য সাইট্রিক অ্যাসিড মেশানো হয়, যা পানীয়টিকে হালকা টক স্বাদ দেয়। অল্প পরিমাণ খাদ্যোপযোগী সংরক্ষণকারী উপাদান থাকায় এটি প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকার উদ্যোগে তৈরি এই পানীয় আজও শহরের অন্যতম সস্তা ঐতিহ্যবাহী পানীয় হিসেবে পরিচিত। ২৫০ মিলিলিটারের কাচের বোতলের দাম মাত্র ১০ টাকা, আর ৪০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিকের বোতলের দাম ২০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় সমিতির প্রবীণ আধিকারিক তথা ক্যাশিয়ার প্রসেনজিৎ ধাড়া বলেন, “এই মুহূর্তে বিবাদী বাগেই আমাদের একমাত্র ভ্যান চলছে। দেশপ্রিয় পার্কে আমাদের দফতর থেকে বোতল পাওয়া যায়। খুব শীঘ্রই নিউ মার্কেট এবং আলিপুর এলাকায়ও ভ্যান পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

    নীরা প্রাশের কদর

    শুধু অফিসপাড়ার কর্মীরাই নন, বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠানেও নীরা প্রাশের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দেশপ্রিয় পার্ক লাগোয়া এলাকায় অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই একসঙ্গে অনেক নীরা প্রাশের অর্ডার দেন (Neera Prash)। তবে সপ্তাহের কাজের দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় অফিসকর্মীদের। ভ্যানচালক তথা নীরা প্রাশ বিক্রেতা তন্ময় দাস জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি বোতল বিক্রি হয়। ব্যবহারের পর কাচের বোতলগুলি সংগ্রহ করে জীবাণুমুক্ত করা হয়। তারপর সেগুলিতে পানীয় ভরে পরদিন আবারও বিক্রি করা হয়।” সোম থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিবাদী বাগে পূর্ব রেলের সদর দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে নীরা প্রাশের এই ভ্যান। বিমা সংস্থার কর্মী দেবকুমার সমাজদার বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে এই এলাকায় কাজ করছি। প্রায় প্রতিদিনই নীরা প্রাশ খাই। কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। গরমে দারুণ সতেজ লাগে।” নীরা প্রাশের আর এক ফ্যান বিশ্বনাথ কল্যাণ। তাঁর কথায়, “কলকাতায় এই পানীয় অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এটাই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এটি পুষ্টিকর, ক্যাফেইনমুক্ত, এবং স্বাদও অসাধারণ।” প্রসঙ্গত, নীরা প্রাশের (Neera Prash) পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ তালগুড় শিল্প সমবায়িকা তালগুড় থেকে (Old Heritage Drink) তৈরি করে আচার, সস এবং জ্যামও।

     

  • India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হত। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর (Global Energy Leader) নির্ভরশীলতাই ছিল ভারতের ভবিতব্য। সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। তবে গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকার আমূল বদল হয়েছে। এখন শুধু অপরিশোধিত তেল আমদানি নয়, সেই তেল পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বহু দেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নয়া মূল্য সংযোজন।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি খাতে ভারতের আয় (India)

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি থেকে ভারতের বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রোজগার হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি খাত। আগামী কয়েক বছরে এই রফতানি আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলেই আশা। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হল দেশের পরিশোধন পরিকাঠামো সম্প্রসারণ। দেশের বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড হরিয়ানার পানিপথ, গুজরাতের ভদোদরা এবং বিহারের বরৌনি শোধনাগার সম্প্রসারণে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট পরিশোধন ক্ষমতা বছরে হবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির পরিমাণও আরও বাড়বে (Global Energy Leader)।

    ভারতে রয়েছে অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার

    ভারত এখন অপরিশোধিত তেল নয়, বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, উচ্চগতির ডিজেল, বিমান জ্বালানি, সামুদ্রিক জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ন্যাফথা, পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্য। অপরিশোধিত তেলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করে ভারত (India) একদিকে যেমন রফতানি আয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশের পরিবহণ, শিল্প, বিমান চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তেল শোধনাগার ভারতের রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা ও দামের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব হয়, যা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি

    কম পরিচালন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ভারত মহাসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে (India)। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ভারতের এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তখনও ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে (Global Energy Leader)। এর ফলে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকায় আগামী দিনে ভারতের সম্প্রসারিত পরিশোধন নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতেও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, উৎপাদনভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্রমেই হচ্ছে মজবুত। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তাও (India)।

    বাড়ছে বিনিয়োগও

    এছাড়া, বৃহৎ পরিসরে শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, পেট্রোরসায়ন শিল্প, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং বন্দর পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়নকে আরও গতি দিচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের গল্প এখন আর শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন মূল্য সংযোজন, রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছরে পৌঁছনোর পথে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভারত ধীরে ধীরে শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হচ্ছে।

    এই পরিবর্তন শুধু শিল্পোন্নয়নের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও পরিচয় বহন করে। আগামী দিনে পরিশোধন ক্ষমতা ও রফতানি আরও বাড়লে (Global Energy Leader) বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের গুরুত্ব যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য (India)।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিত শর্মা হত্যা (IB Officer Murder Verdict) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। তারপর মঙ্গলবার আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর দাবি, তাহির হুসেনের পাশাপাশি এই ঘটনার সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কারণ তিনি হুসেনকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতার বক্তব্য (IB Officer Murder Verdict)

    সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে গৌরব বলেন, “এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাহির হুসেন। ওই সময় তিনি আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৬৫ ধারায় অপহরণ এবং ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাহির হুসেনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।” ভাটিয়ার দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত প্রায় ৬০ জনের জন্য কিংবা অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেজরিওয়াল একটি কথাও বলেননি।

    জনতাকে উসকে দেন তাহির

    আদালতের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আদালত জানিয়েছে, অঙ্কিত যখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার সামনে এসেছিলেন, তখন তাহির জনতাকে উসকে দেন। আদালত আরও বলেছে, অভিযুক্তরা একটি ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দুদের হত্যা করতে চেয়েছিল এবং সেই কারণেই অঙ্কিত শর্মাকেও হত্যা করা হয়।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাহিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন? কেন তিনি অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি?” আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লা খানের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভাটিয়ার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে আম আদমি পার্টি। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের দেহে ৫১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, এত নৃশংস ঘটনার পরেও কেজরিওয়াল কখনও শর্মা পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

    আপ এবং কংগ্রেসকেও নিশানা

    কংগ্রেসকেও নিশানা করেন এই বিজেপি কর্তা। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি বলেন, “সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ আমি জানতে চাই, কতজন ভারতীয় মুসলিম তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? উত্তর একটিও নয়।” সোনিয়া গান্ধীর ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে (IB Officer Murder Verdict) ভাটিয়া বলেন, “যখন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন এই লড়াই কীসের জন্য ছিল?” রাহুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) দাঙ্গা কবলিত এলাকায় গিয়ে একটি মসজিদে গিয়েছিলেন, যদিও অঙ্কিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। এটি নিরাময়ের স্পর্শ নয়, বরং রক্তাক্ত করার স্পর্শ ছিল।”

    শেষে বিজেপির পক্ষ থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে দিল্লিবাসী ও দেশের মানুষের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আমানতুল্লা খান এবং ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (BJP) নেওয়ারও দাবি তোলেন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “যে-ই যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রত্যেক অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে (IB Officer Murder Verdict)।”

     

  • India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লর্ডসের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া মহিলাদের টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখল ভারত (India)। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই (Womens Test) ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতের প্রমীলা বাহিনী।

    টেস্ট ক্রিকেটে অটুট ভারতের দাপট (India)

    এই জয়ের ফলে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক দাপট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। শেষ ১১টি টেস্টে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি জয়, তিনটি ড্র এবং মাত্র একটি হার। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলা ১১টি মহিলাদের টেস্টেও এখনও অপরাজিত ভারত।ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির দেশের ‘দুর্গা’রা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলায় মাত্র ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে অনায়াসেই ২৭০ রানের জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন যাস্তিকা ভাটিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে দুরন্ত শতরান করে তিনি লর্ডসে টেস্টে শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। তাঁর অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের লিড থাকায় ভারতের মোট লিড দাঁড়ায় ৪৫৬ রান। স্মৃতি মন্ধনা ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

    ‘অপরাজিতা’…

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। স্মৃতি মন্ধনা ৮৩, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। জবাবে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। অভিষেক ম্যাচেই পেসার ক্রান্তি গাউড পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেন (India)। ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ট্যামি বিউমন্ট শূন্য রানে প্রথম বলেই আউট হন। অভিজ্ঞ হেদার নাইটও অল্প রান করে ফিরে যান (Womens Test)। এরপর অ্যামি জোনস ও সোফি একলস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একলস্টোন ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও লড়াই করেন। তবে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। শেষ দিনে দীপ্তি শর্মা চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন এবং ভারতের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। যাস্তিকার ঐতিহাসিক শতরান এবং ক্রান্তির অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব যেমন ভারতের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি (Womens Test) হয়ে রইল, তেমনই অভিজ্ঞ হেদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের বিদায়ী টেস্ট ইংল্যান্ডের কাছে (India) হতাশার স্মৃতি হয়ে রইল।

     

LinkedIn
Share